ফিলিপাইনের কৌতুকজগতে পরিচিত এক কণ্ঠের বিদায়
অ্যাতে গে নামে পরিচিত ফিলিপিনো কৌতুকাভিনেতা ও গায়ক গিল আদুকাল মোরালেস ২০২৬ সালের ১ নভেম্বর ৫৫ বছর বয়সে মারা গেছেন বলে তাঁর পরিবার জানিয়েছে। মৃত্যুর মাত্র দুই সপ্তাহের কিছু বেশি আগে তিনি লাগুনার বিনিয়ান শহরের ফরেস্ট লেক মেমোরিয়াল পার্কে নিজের জীবদ্দশায় শেষকৃত্যের আয়োজন করেছিলেন। সেখানে বন্ধুবান্ধব ও স্বজনেরা তাঁর সামনে স্মৃতিচারণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, যাতে তিনি সেসব শুনতে পারেন।
সূচিপত্র
- ফিলিপাইনের কৌতুকজগতে পরিচিত এক কণ্ঠের বিদায়
- শেষ কয়েক সপ্তাহ: উদ্যাপন থেকে নিবিড় পরিচর্যা
- ক্যানসারের চিকিৎসা ও আগের স্বাস্থ্যসংকট
- নিজেই শুনে যাওয়ার সুযোগ পেলেন শ্রদ্ধার কথাগুলো
- গান গাওয়া রেস্তোরাঁকর্মী থেকে কৌতুকের মঞ্চে
- উদার অনুপ্রেরণা হিসেবে টিউসডে ভারগাসের স্মৃতিতে
- সহকর্মীদের স্মৃতিতে উৎসাহ ও একসঙ্গে মঞ্চে ওঠা
- চিকিৎসা ও বাড়তে থাকা বিল মেটাতে সহায়তা করেছিলেন সমর্থকেরা
- মূল বিষয়গুলো
প্রয়াত ন্যাশনাল আর্টিস্ট নোরা আউনরের অনুকরণ এবং গানকে কৌতুকপূর্ণ মিশ্র পরিবেশনায় রূপ দেওয়ার জন্য পরিচিত মোরালেস ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জানান, তাঁর স্টেজ ৪ মিউকোএপিডার্ময়েড কার্সিনোমা ধরা পড়েছে। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শেষবার হাসপাতালে ভর্তির সময় তাঁর নিউমোনিয়া, সেপটিক শক, শ্বাসপ্রশ্বাসে অকার্যকারিতা ও স্ট্রোক হয়েছিল।
পরিবার জানায়, প্রিয়জনদের পাশে নিয়ে তিনি শান্তিতে মারা গেছেন। মৃত্যুসংবাদে তাঁর অসুস্থতার শেষ সময়ের কথা এভাবে তুলে ধরে পরিবার:
জীবনের জন্য সাহসের সঙ্গে লড়াই করার পর, পরিবারের সদস্যদের ঘিরে থাকা অবস্থায় আমাদের প্রিয় অ্যাতে গে শান্তিতে চলে গেছেন।
টিউসডে ভারগাস, বিয়েন করতেজ, হার্ট ইভাঞ্জেলিস্তা, অ্যালান কে এবং বিনোদনজগতের আরও অনেকে ভক্তদের সঙ্গে শোক প্রকাশ করেন। তাঁদের স্মৃতিচারণে তাঁর পরিচিত মঞ্চ পরিবেশনার বাইরেও উঠে আসে তরুণ কৌতুকাভিনেতাদের উৎসাহ দেওয়া এবং চিকিৎসার সময়েও সদয় থাকার কথা।
ভারগাসের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল যখন তাঁর বয়স ১৯, তিনি মালাতের একটি কমেডি বারে কাজ করতেন। মিউজিক বক্সে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে মোরালেসের সহায়তার কথা স্মরণ করেন করতেজ। তাঁদের স্মৃতিচারণে এমন এক শিল্পীর ছবি উঠে আসে, যাঁর প্রভাব দর্শক থেকে শুরু করে মঞ্চে নিজের পালার অপেক্ষায় থাকা পরিবেশকদেরও ছুঁয়েছিল।
শেষ কয়েক সপ্তাহ: উদ্যাপন থেকে নিবিড় পরিচর্যা
মোরালেস ২০২৬ সালের ১৫ অক্টোবর নিজের জীবদ্দশায় শেষকৃত্যের আয়োজন করেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দিন পর, ১৭ অক্টোবর শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।
পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকেরা তাঁর সেপটিক শক ও নিউমোনিয়ার কারণে তীব্র শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত অকার্যকারিতা শনাক্ত করেন। নিউমোনিয়া হলো ফুসফুসের সংক্রমণ। গুরুতর ক্ষেত্রে এতে শরীরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরের বিপজ্জনক প্রতিক্রিয়া রক্তসঞ্চালন ব্যাহত করতে পারে।
পরিবার জানায়, প্রাথমিক সেপটিক শক থেকে তিনি বেঁচে গেলেও পরে মস্তিষ্কের ডান পাশে প্রভাব ফেলা স্ট্রোক হয়। পরিবার স্ট্রোকের তারিখ ২৯ অক্টোবর বলে জানায়; শুরুতে তারিখটি ৩০ অক্টোবর বলা হয়েছিল। পরে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সচল রাখতে তাঁকে যন্ত্রের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হয়।
প্রকাশ্যে দেওয়া ধারাবাহিক বিবৃতিতে তাঁর অবস্থার দ্রুত অবনতির চিত্র উঠে আসে:
- সেপ্টেম্বর ২০২৫: মোরালেস জানান, তাঁর স্টেজ ৪ মিউকোএপিডার্ময়েড কার্সিনোমা ধরা পড়েছে।
- ১৫ অক্টোবর ২০২৬: লাগুনার বিনিয়ানে তাঁর জীবদ্দশায় শেষকৃত্যে পরিবার ও বন্ধুরা অংশ নেন।
- ১৭ অক্টোবর: শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়ার পর তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয়।
- ২৯ অক্টোবর: পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মস্তিষ্কের ডান পাশে প্রভাব ফেলা স্ট্রোক হয় তাঁর।
- ৩১ অক্টোবর: মৃত্যুর মিথ্যা খবর ছড়ানো বন্ধ করতে সবার প্রতি আহ্বান জানায় তাঁর পরিবার।
- ১ নভেম্বর: ৫৫ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যুর খবর জানায় পরিবার।
৩১ অক্টোবরের আহ্বানটি জানানো হয়েছিল যখন মোরালেস তখনও বেঁচে ছিলেন এবং চিকিৎসাধীন ছিলেন। এর আগে তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন এবং জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল বলে জানানোর পর, পরদিন পরিবার তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে।
ক্যানসারের চিকিৎসা ও আগের স্বাস্থ্যসংকট
ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার আগেও গুরুতর অসুস্থতার মুখে পড়েছিলেন মোরালেস। ২০২১ সালে তীব্র নিউমোনিয়া নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে বিষাক্ত এপিডার্মাল নেক্রোলাইসিস নামে বিরল ও গুরুতর এক ত্বকের সমস্যার চিকিৎসা নেন।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি প্রকাশ্যে জানান, তাঁর স্টেজ ৪ মিউকোএপিডার্ময়েড কার্সিনোমা ধরা পড়েছে। এই বিরল ক্যানসার সাধারণত লালাগ্রন্থিতে দেখা দেয়, যেখান থেকে লালা তৈরি হয়। স্টেজ ৪ বলতে রোগের অগ্রসর পর্যায় বোঝায়, তবে এর সুনির্দিষ্ট অর্থ ক্যানসার কোথা থেকে শুরু হয়েছে এবং কতটা ছড়িয়েছে তার ওপর নির্ভর করে।
এশিয়ান হসপিটাল অ্যান্ড মেডিকেল সেন্টারে তাঁর কেমোথেরাপি ও রেডিয়েশন থেরাপি হয়। কেমোথেরাপিতে ক্যানসার কোষ ধ্বংসের ওষুধ ব্যবহার করা হয়, আর রেডিয়েশন থেরাপিতে চিকিৎসার প্রয়োজনীয় স্থানে শক্তি প্রয়োগ করা হয়।
রোগ শনাক্তের পরের নভেম্বরে মোরালেস জানান, তাঁর রেডিয়েশন ও কেমোথেরাপি শেষ হয়েছে। ২০২৬ সালের জুনে তিনি জানান, এমআরআই স্ক্যানে তাঁর ঘাড় ও নাকের গাঁটগুলো আর দেখা যায়নি। এমআরআই বা ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিংয়ে চৌম্বক ক্ষেত্র ও বেতার তরঙ্গ ব্যবহার করে শরীরের ভেতরের বিস্তারিত ছবি তৈরি করা হয়।
অসুস্থতার সময় এই খবরগুলো তাঁর সমর্থকদের আশার মুহূর্ত এনে দিয়েছিল। তবে শেষবার হাসপাতালে ভর্তির পর নতুন করে একের পর এক চিকিৎসা জরুরি অবস্থা দেখা দেয়। পরিবারের বর্ণনায় ছিল গুরুতর সংক্রমণ, শ্বাসপ্রশ্বাসে অকার্যকারিতা এবং এরপর স্ট্রোক।
নিজেই শুনে যাওয়ার সুযোগ পেলেন শ্রদ্ধার কথাগুলো
শেষবার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে মোরালেস ফরেস্ট লেক মেমোরিয়াল পার্কে জীবদ্দশায় শেষকৃত্যের আয়োজন করে প্রিয়জনদের একত্র করেছিলেন। ১৫ অক্টোবরের ওই অনুষ্ঠানে পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীরা সরাসরি তাঁকে ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার কথা জানানোর সুযোগ পান।
জীবদ্দশায় শেষকৃত্য হলো কাউকে সম্মান জানিয়ে তাঁর জীবিত অবস্থায় আয়োজিত একটি সমাবেশ। মোরালেসের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যটি ছিল ব্যক্তিগত ও সরল: মানুষ তাঁকে যে কথাগুলো বলতে চান, তা তিনি নিজে শুনতে চেয়েছিলেন।
এই আয়োজন তাঁর জনজীবনের দুটি দিককে একত্র করেছিল। তিনি ছিলেন এমন এক পরিবেশক, যিনি দর্শকদের সঙ্গে মিলিত মুহূর্ত তৈরি করতে অভ্যস্ত; পাশাপাশি দীর্ঘ অসুস্থতার মধ্য দিয়ে যাওয়া একজন মানুষও। এবার আশপাশের মানুষগুলো কথা বলছিলেন, আর তিনি শুনছিলেন।
তিন সপ্তাহেরও কম সময় পর তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশ্যে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে অনেকে সেই একই অনুভূতির কথা জানান। বন্ধুরা তাঁর গান, ক্ষিপ্র কৌতুকবোধ ও উদারতার কথা স্মরণ করেন; তাঁদের স্মৃতিতে ছিল মঞ্চের শিল্পী এবং পরিচিত সহকর্মী, দুজনই।
গান গাওয়া রেস্তোরাঁকর্মী থেকে কৌতুকের মঞ্চে
১৯৭১ সালের ১২ আগস্ট জন্ম নেওয়া মোরালেস কৌতুক পরিবেশনার জগতে আসার আগে ব্যারিও ফিয়েস্তার ‘সিঙ্গিং কুকস অ্যান্ড ওয়েটারস’ দলের সদস্য হিসেবে পরিবেশনার দক্ষতা গড়ে তোলেন। পরে যে পরিবেশনা তাঁকে দর্শকের কাছে পরিচিত করে তোলে, তাতে গানই ছিল প্রধান অংশ।
১৯৯৫ সালে মিউজিক বক্সসহ বিভিন্ন কমেডি বারে পরিবেশনা শুরু করেন তিনি। কৌতুকাভিনেতা অ্যালান কে প্রতিষ্ঠিত ক্লাউনজ ও জিরকোহতে নিয়মিত শিল্পী হয়ে ওঠেন। পরে সরাসরি মঞ্চে পরিবেশনার পাশাপাশি টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রেও কাজ করেন।
তাঁর মঞ্চনামটি নোরা আউনরের ডাকনাম ‘অ্যাতে গাই’-এর সঙ্গে মিলিয়ে রাখা। অভিনেত্রী ও গায়িকার অনুকরণ তাঁর স্বাক্ষর পরিবেশনাগুলোর একটি হয়ে ওঠে, যেখানে কণ্ঠের দক্ষতার সঙ্গে মিশেছিল কৌতুকের সময়জ্ঞান।
ম্যাশআপের জন্যও পরিচিতি পান মোরালেস—এ ধরনের পরিবেশনায় বিভিন্ন গানের অংশ একত্র করা হয়। পরিচিত সুর ও গানের কথার অপ্রত্যাশিত সংযোগ থেকেই তৈরি হতো কৌতুক; সেই সঙ্গে গানের সুর বদলের সঙ্গে তাল মেলাতে দরকার হতো তাঁর গায়কির দক্ষতা।
রেঞ্জ হারমোহেনেস তাঁদের শেষ দ্বৈত পরিবেশনার কথা স্মরণ করে মোরালেসকে ম্যাশআপের আসল রানি বলে বর্ণনা করেন। এই শ্রদ্ধার্ঘ্যে ধরা পড়ে তাঁর বিশেষ দক্ষতা: সরাসরি দর্শকের সামনে পরিচিত গানকেও আবার বিস্ময়কর করে তোলা।
উদার অনুপ্রেরণা হিসেবে টিউসডে ভারগাসের স্মৃতিতে
মালাতে পরিবেশনার শুরুর দিনগুলো থেকেই মোরালেসের স্মৃতি ধরে রেখেছেন টিউসডে ভারগাস। তিনি জানান, নিজের পরিবেশনা শেষ হওয়ার পরও মোরালেসের কাজ দেখার জন্য অনুষ্ঠানস্থলে থেকে যেতেন।
একজন নবীন শিল্পীর কাছে সেই সন্ধ্যাগুলো ছিল তাঁর বুদ্ধিদীপ্ত কৌতুক ও তাৎক্ষণিক পরিবেশনা কাছ থেকে দেখার সুযোগ। ভারগাস স্মরণ করেন, তাঁর সাফল্য কীভাবে তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছিল এবং কৌতুকজগতে অন্যদের জন্যও কীভাবে সুযোগ তৈরি করতে তাঁর কাজ সহায়তা করেছিল।
গায়িকা ও কৌতুকাভিনেতা ভারগাস অসুস্থতার সময় মোরালেসের মানুষের সঙ্গে আচরণের কথাও স্মরণ করেন। শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি লেখেন:
এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তুমি কঠিন লড়াই করেছ, তবু কোমল ও সদয় থেকেছ।
তাঁকে পথিকৃৎ এবং "কৌতুকের এক অবিসংবাদিত মহীরুহ" বলে অভিহিত করেন ভারগাস। তাঁর শ্রদ্ধার্ঘ্যে পেশাগত প্রভাবের পাশাপাশি এমন একজন মানুষের কাছের স্মৃতিও উঠে আসে, যিনি কঠিন চিকিৎসার মুখেও আশাবাদী ও উদার ছিলেন।
মোরালেসের মৃত্যুর খবর জানার পর তাৎক্ষণিক শূন্যতার কথাও লেখেন ভারগাস:
আজ ঘুম থেকে উঠে ভেতরে এক শূন্যতা অনুভব করছি।
তাঁর স্মৃতিচারণ থেকে বোঝা যায়, প্রতিক্রিয়া শুধু একজন সফল শিল্পীর প্রতি মুগ্ধতায় সীমাবদ্ধ ছিল না। মোরালেস অন্য বিনোদনকর্মীদের কর্মজীবনের অংশ ছিলেন; তাঁরা তাঁকে দেখেছেন, তাঁর কাছ থেকে শিখেছেন এবং নিজেদের শুরুর দিনগুলোর সঙ্গে তাঁকে জড়িয়ে রেখেছেন।
সহকর্মীদের স্মৃতিতে উৎসাহ ও একসঙ্গে মঞ্চে ওঠা
স্ট্যান্ড-আপ কৌতুকাভিনেতা বিয়েন করতেজ মিউজিক বক্সে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে মোরালেসের সহায়তার কথা বলেন। নোরা আউনরের অনুকরণে নিজের পরিবেশনাকেও মোরালেস উৎসাহ দিয়েছিলেন বলে স্মরণ করেন তিনি। ওই পরিবেশনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত একজন শিল্পীর কাছ থেকে পাওয়া সমর্থন ছিল সেটি।
মোরালেসের প্রতিভা, বুদ্ধিদীপ্ত কৌতুক ও তাৎক্ষণিক পরিবেশনার প্রশংসা করেন করতেজ। ডিজিটাল চলচ্চিত্র ‘জুপিট’-এ মোরালেসের ভূমিকার কথাও স্মরণ করে জানান, অভিনয়টি তাঁর ভালো লেগেছিল। তাঁর শ্রদ্ধার্ঘ্যে পরিচিত কৌতুকমঞ্চের পাশাপাশি অন্য মাধ্যমের কাজও উঠে আসে।
ইনস্টাগ্রাম স্টোরিজে সংক্ষিপ্ত বার্তা দেন হার্ট ইভাঞ্জেলিস্তা। অভিনেত্রী ও ফ্যাশন ব্যক্তিত্বটি লেখেন:
বিশ্রাম নাও, দেবদূত
কিকো মাতোস একটি ভিডিও পোস্ট করে বলেন, মোরালেসকে মিস করবেন তাঁরা। অ্যালান কে-ও তাঁর মৃত্যুসংবাদ জানান। শোক প্রকাশকারীদের মধ্যে ছিলেন ওগি আলকাসিদ, ডন জুলুয়েতা, চান্দা রোমেরো, লটলট দে লিওন, ওগি দিয়াজ, ইএ গুজমান ও রডজুন ক্রুজ।
পরিবেশক জশুয়া জামোরা স্মরণ করেন, মোরালেসের পরিবেশনা কীভাবে সবাইকে হাসাত। বার্তায় তিনি লেখেন:
সব মজার মুহূর্তের জন্য তোমাকে মিস করব; তোমার প্রতিটি পরিবেশনায় তুমি আমাদের হাসাতে কখনো ব্যর্থ হওনি।
চিকিৎসা ও বাড়তে থাকা বিল মেটাতে সহায়তা করেছিলেন সমর্থকেরা
মোরালেসের অসুস্থতার কারণে বড় ধরনের আর্থিক চাপও তৈরি হয়েছিল। তাঁর হাসপাতালের খরচ আনুমানিক ২৪ লাখ ফিলিপাইন পেসোতে পৌঁছেছিল বলে জানা যায়। বাকি বিল মেটাতে সহায়তার আবেদন জানায় তাঁর পরিবার।
বিভিন্নভাবে সহায়তা আসে। রেডিয়েশন থেরাপির খরচ মেটাতে মানুষ সাহায্য করেন, আর চিকিৎসার সময় থাকার জায়গা করে দিতে এক ভক্ত হাসপাতালের কাছে নিজের কনডোমিনিয়াম ব্যবহারের জন্য মোরালেসকে দেন।
পরে আরও আর্থিক সহায়তা চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে অনুদানের কিউআর কোড প্রকাশ করা হয়। বাকি খরচ মেটানোর কঠিন পরিস্থিতির কথা জানিয়ে তারা আবেদন করে:
ভারাক্রান্ত হৃদয়ে, আমাদের প্রিয় অ্যাতে গের হাসপাতালের বাকি বিল মেটানোর সংগ্রামে আর্থিক সহায়তার জন্য আবারও আপনাদের উদার হৃদয়ের দ্বারস্থ হচ্ছি,
মোরালেসের মৃত্যুর পর অসুস্থতার সময় প্রার্থনা, ভালোবাসা, অর্থ ও সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়ানো সবাইকে ধন্যবাদ জানায় পরিবার। তাদের বিবৃতিতে ব্যবহারিক সহায়তার পাশাপাশি পাওয়া সান্ত্বনার বার্তাগুলোর কথাও ছিল।
পরিবার তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করার সময় জানাজা ও শেষকৃত্যের আয়োজন জানানো হয়নি। তারা জানায়, আয়োজন চূড়ান্ত হলে বিস্তারিত জানানো হবে। মোরালেসের জন্য এবং শোকাহত স্বজনদের শক্তি ও সান্ত্বনার জন্য প্রার্থনাও চায় পরিবার।
মূল বিষয়গুলো
- অ্যাতে গে নামে পরিচিত গিল আদুকাল মোরালেস ২০২৬ সালের ১ নভেম্বর ৫৫ বছর বয়সে মারা গেছেন বলে তাঁর পরিবার জানায়।
- ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি জানান, তাঁর স্টেজ ৪ মিউকোএপিডার্ময়েড কার্সিনোমা ধরা পড়েছে; কেমোথেরাপি ও রেডিয়েশন থেরাপি নেন তিনি।
- শেষবার হাসপাতালে ভর্তির সময় তাঁর নিউমোনিয়া, সেপটিক শক, শ্বাসপ্রশ্বাসে অকার্যকারিতা ও স্ট্রোক হয়।
- ১৫ অক্টোবর লাগুনার বিনিয়ানের ফরেস্ট লেক মেমোরিয়াল পার্কে জীবদ্দশায় শেষকৃত্যের আয়োজন করেন তিনি।
- টিউসডে ভারগাস ও বিয়েন করতেজ সহশিল্পীদের প্রতি তাঁর উৎসাহ, সদয় আচরণ ও প্রভাবের কথা স্মরণ করেন।
- সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে পরিবার বলেছে, জানাজা ও শেষকৃত্যের বিস্তারিত পরে জানানো হবে।






