টোকিওতে জয় কাজাখস্তানের প্রথম বছরশেষের এক নম্বর স্থান নিশ্চিত করল
টোকিওতে তোরে প্যান প্যাসিফিক ওপেনে স্বদেশি ইউলিয়া পুতিনসেভাকে হারিয়ে ২০২৬ সালের ডব্লিউটিএ বছরশেষের এক নম্বর র্যাঙ্কিং নিশ্চিত করেন এলেনা রিবাকিনা। এরপর ঘাড়ে প্রদাহ ও ব্যথার কারণে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। ২৯ অক্টোবরের এই জয়ে আরিনা সাবালেঙ্কার পক্ষে বাকি টুর্নামেন্টগুলোর ফল যা-ই হোক, রিবাকিনাকে টপকানো অসম্ভব হয়ে পড়ে।
সূচিপত্র
- টোকিওতে জয় কাজাখস্তানের প্রথম বছরশেষের এক নম্বর স্থান নিশ্চিত করল
- টোকিওতে এক জয়ই কেন যথেষ্ট ছিল
- পুতিনসেভা ধৈর্য ও আক্রমণাত্মক খেলার পরীক্ষা নেন
- সাবালেঙ্কার বিপক্ষে দুই বড় ফাইনাল গড়ে দেয় মৌসুম
- গ্র্যান্ড স্ল্যামের বাইরেও চার শিরোপায় সমৃদ্ধ মৌসুম
- ঘাড়ের ব্যথায় টোকিও টুর্নামেন্ট শেষ
- পরবর্তী লক্ষ্য ইন্ডিয়ান ওয়েলস
- মূল তথ্য
২৭ বছর বয়সী রিবাকিনা পুরুষ ও নারী একক এবং দ্বৈত মিলিয়ে কাজাখস্তানের প্রতিনিধিত্বকারী প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থেকে মৌসুম শেষ করতে যাচ্ছেন। সেপ্টেম্বরে এরই মধ্যে এক নম্বরে উঠেছিলেন তিনি। টোকিওতে নিশ্চিত হলো আরেকটি মাইলফলক: মৌসুম শেষেও ওই স্থানটি ধরে রাখবেন তিনি।
ডব্লিউটিএর হিসাবে, এ মৌসুমে রিবাকিনা ৫৪টি ম্যাচ জিতেছেন এবং চারটি শিরোপা পেয়েছেন: অস্ট্রেলিয়ান ওপেন, স্টুটগার্ট, ইউএস ওপেন ও নিংবো। গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে সাবালেঙ্কার বিপক্ষে দুটি জয় ছিল মৌসুমের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এর মধ্য দিয়ে তিনি বড় শিরোপা এবং শীর্ষ র্যাঙ্কিং—দুটিই অর্জন করেছেন।
এখন তাঁর তাৎক্ষণিক মনোযোগ ৮ থেকে ১৫ নভেম্বর ইন্ডিয়ান ওয়েলসে নির্ধারিত ডব্লিউটিএ ফাইনালসের আগে সুস্থ হয়ে ওঠার দিকে। সেখানে শিরোপা ধরে রাখার কথা তাঁর, আর শীর্ষস্থান ইতিমধ্যেই নিশ্চিত।
টোকিওতে এক জয়ই কেন যথেষ্ট ছিল
বছর শেষে এক নম্বরে থাকা নিশ্চিত করতে টোকিওর ডব্লিউটিএ ৫০০ টুর্নামেন্টে রিবাকিনার একটি জয়ই যথেষ্ট ছিল। শেষ ষোলোতে পুতিনসেভাকে হারানোর পর দ্বিতীয় স্থানে থাকা সাবালেঙ্কার পক্ষে বাকি আসরগুলোতে তাঁকে টপকানো আর সম্ভব ছিল না।
টেনিস র্যাঙ্কিং নির্ধারিত হয় টুর্নামেন্টের ফলাফলে অর্জিত পয়েন্টের ভিত্তিতে, কোনো একক চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচের ভিত্তিতে নয়। বছরশেষের র্যাঙ্কিং নিশ্চিত হওয়ার অর্থ, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর বাকি সব সম্ভাব্য ফলের পরও টিকে থাকার মতো বড় ব্যবধান গড়েছেন রিবাকিনা। তাই টোকিও থেকে তাঁর সরে দাঁড়ালেও এই অর্জন অটুট রয়েছে।
মৌসুমজুড়ে নিজের মান ধরে রাখার পুরস্কার হিসেবে এই র্যাঙ্কিংকে বর্ণনা করেছেন রিবাকিনা। পিআইএফ ডব্লিউটিএ র্যাঙ্কিংয়ে প্রথম স্থান থেকে বছর শেষ করা প্রসঙ্গে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন:
পিআইএফ ডব্লিউটিএ র্যাঙ্কিংয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্ব এক নম্বর হিসেবে বছর শেষ করা আমার জন্য অবিশ্বাস্যভাবে বিশেষ এক মুহূর্ত। এই মৌসুমে যা অর্জন করেছি এবং সারা বছর যে ধারাবাহিকতা দেখিয়েছি, তা নিয়ে আমি সত্যিই গর্বিত। আমার দল, স্পনসর, পরিবার এবং পুরো পথজুড়ে যারা আমাকে সমর্থন করেছেন, তাঁদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। এখন ডব্লিউটিএ ফাইনালসে খেলার অপেক্ষায় আছি, আশা করি মৌসুমটা দারুণভাবে শেষ করতে পারব।
পুতিনসেভা ধৈর্য ও আক্রমণাত্মক খেলার পরীক্ষা নেন
র্যাঙ্কিংয়ে নিশ্চয়তা পাওয়ার পথে রিবাকিনার সামনে ছিলেন পুতিনসেভা। কাজাখস্তানের শীর্ষ খেলোয়াড়ের সঙ্গে তাঁর স্বদেশির এই লড়াইয়ে পুতিনসেভার গতির পরিবর্তনের জবাব দিতে দরকার ছিল মনোযোগের পাশাপাশি শক্তিশালী শট।
কোর্টে সাক্ষাৎকারে রিবাকিনা জানান, দীর্ঘ র্যালি এবং ম্যাচের ছন্দে পুতিনসেভার বিঘ্ন ঘটানোর জন্য তিনি প্রস্তুতি নিয়েছিলেন:
ইউলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ সব সময়ই কঠিন। আমি দীর্ঘ র্যালির জন্য প্রস্তুত ছিলাম। সে অনেক ড্রপ শট খেলে এবং খেলার ছন্দ বদলে দেয়। তাই আমি মনোযোগ ধরে রাখতে পেরেছি, আক্রমণাত্মক থেকেছি এবং আজ অনেক কিছুই আমার পক্ষে কাজ করেছে—এতে আমি খুশি।
ড্রপ শট হলো নরমভাবে মারা এমন বল, যা নেটের কাছাকাছি পড়ে এবং প্রতিপক্ষকে সামনে ছুটে যেতে বাধ্য করে। দীর্ঘ র্যালির সঙ্গে এটি মিললে খেলোয়াড়কে বারবার অবস্থান ও গতি বদলাতে হয়। রিবাকিনার কথায় বোঝা যায়, এই পরিবর্তনের জবাব দিতে গিয়ে আক্রমণাত্মক থাকা তাঁর কৌশলের মূল অংশ ছিল।
এই জয়ের গুরুত্ব টোকিওর ড্রয়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত। কোর্ট ছাড়ার সময় রিবাকিনা জানতেন, বিশ্ব এক নম্বর হিসেবে তাঁর প্রথম মৌসুম যেমন শেষ হবে, তেমনি বছর শেষেও ওই অবস্থানে থাকবেন।
সাবালেঙ্কার বিপক্ষে দুই বড় ফাইনাল গড়ে দেয় মৌসুম
গ্র্যান্ড স্ল্যাম অভিযানের শুরুতেই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে সাবালেঙ্কাকে ৬-৪, ৪-৬, ৬-৪ সেটে হারান রিবাকিনা। দুজনই একটি করে সেট জেতার পর নির্ণায়ক সেটে জয় পান রিবাকিনা। ২০২৬ সালে তাঁর দুটি বড় শিরোপার প্রথমটি ছিল এটি।
নিউইয়র্কের আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে ইউএস ওপেনের ফাইনালেও একই প্রতিপক্ষকে হারান তিনি; জয় পান ৬-৪, ৫-৭, ৬-২ সেটে। তাঁর ইউএস ওপেনের শিরোপা জয় ক্যারিয়ারে গ্র্যান্ড স্ল্যাম এককের শিরোপা সংখ্যা তিনে উন্নীত করে। এর আগে ২০২২ সালে উইম্বলডন এবং চলতি বছরের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতেছিলেন তিনি।
নিউইয়র্কের ফাইনাল চলে দুই ঘণ্টা ২১ মিনিট; রিবাকিনার ১২তম এসের মাধ্যমে ম্যাচের সমাপ্তি ঘটে। অস্ট্রেলিয়ার মতো এবারও সাবালেঙ্কা নির্ণায়ক সেটে নিয়ে যান ম্যাচ, তবে শেষ পর্যন্ত রিবাকিনাই বেশি শক্তিশালী ছিলেন। র্যাঙ্কিংয়ে তাঁর সবচেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠা খেলোয়াড়ের বিপক্ষে দুই ফাইনালেই জয় পাওয়ায় ম্যাচ দুটির গুরুত্ব ছিল বিশেষ।
ইউএস ওপেনের পর ১৪ সেপ্টেম্বর র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ওঠেন রিবাকিনা। ওই সময় তাঁর পয়েন্ট ছিল ৯,৯০১, আর সাবালেঙ্কার ৭,৮৭৫—ব্যবধান ২,০২৬ পয়েন্ট। পরে টোকিওর ফলই মৌসুমের বাকি সময়ে তাঁর ব্যবধানকে ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যায়।
গ্র্যান্ড স্ল্যামের বাইরেও চার শিরোপায় সমৃদ্ধ মৌসুম
স্টুটগার্ট ও নিংবো জিতে ২০২৬ সালে রিবাকিনার চার শিরোপার সংগ্রহ পূর্ণ হয়। নিংবোর শিরোপাটি ছিল তাঁর পেশাদার ক্যারিয়ারের ১৫তম। টোকিওতে র্যাঙ্কিংয়ের কৃতিত্ব অর্জনের কিছুদিন আগেই আরেকটি মাইলফলক যোগ হয় তাঁর ঝুলিতে।
চারটি শিরোপার দুটি এসেছে গ্র্যান্ড স্ল্যাম টুর্নামেন্টে, যা টেনিসের চারটি বড় আসর। বাকি দুটি শিরোপা এমন এক মৌসুমে আরও দুটি জয়ের ধারা এনে দেয়, যাতে ডব্লিউটিএর হিসাবে তিনি ৫৪টি ম্যাচ জিতেছেন। তাই তাঁর শিরোপার তালিকায় ট্যুরের সবচেয়ে বড় আসরের পাশাপাশি অন্যান্য টুর্নামেন্টেও সাফল্য ফুটে উঠেছে।
মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ও সামনের তারিখগুলো হলো:
- জানুয়ারি: অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে সাবালেঙ্কাকে হারান রিবাকিনা।
- মৌসুমজুড়ে: স্টুটগার্টের শিরোপাও জেতেন তিনি।
- ১৪ সেপ্টেম্বর: ইউএস ওপেন জয়ের পর এক নম্বর র্যাঙ্কিংয়ে ওঠেন তিনি।
- অক্টোবর: নিংবোর শিরোপায় তাঁর ক্যারিয়ারের মোট শিরোপা ১৫টিতে পৌঁছায়।
- ২৯ অক্টোবর: টোকিওতে পুতিনসেভাকে হারিয়ে বছরশেষের এক নম্বর র্যাঙ্কিং নিশ্চিত করেন।
- ৩০ অক্টোবর: লেইলা ফার্নান্দেজের বিপক্ষে টোকিও কোয়ার্টার ফাইনালের আগে সরে দাঁড়ান তিনি।
- ৮ থেকে ১৫ নভেম্বর: ইন্ডিয়ান ওয়েলসে ডব্লিউটিএ ফাইনালস নির্ধারিত রয়েছে।
ঘাড়ের ব্যথায় টোকিও টুর্নামেন্ট শেষ
৩০ অক্টোবর টোকিও কোয়ার্টার ফাইনালে কানাডার ২৩তম র্যাঙ্কিংধারী লেইলা ফার্নান্দেজের বিপক্ষে খেলার কথা ছিল রিবাকিনার। ম্যাচের আগে সরে দাঁড়ান তিনি। ডব্লিউটিএর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে তাঁর সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
প্রাথমিক প্রত্যাহার বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট করে কোনো চোটের কথা বলা হয়নি। ডব্লিউটিএর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত রিবাকিনার বিবৃতিতে বলা হয়, ঘাড়ে প্রদাহ ও ব্যথার কারণে তিনি খেলতে পারছেন না।
শারীরিক সমস্যার কথা জানিয়ে এবং টোকিওতে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করে সমর্থকদের উদ্দেশে রিবাকিনা বলেন:
প্রিয় সমর্থকেরা, পরের ম্যাচ থেকে সরে দাঁড়াতে হচ্ছে বলে আমি দুঃখিত। দুর্ভাগ্যবশত, ঘাড়ে প্রদাহ ও ব্যথা অনুভব করছি, যা নিজের সেরাটা দিয়ে খেলতে বাধা দিচ্ছে। সিদ্ধান্তটি নেওয়া খুব কঠিন, কারণ এখানে খেলতে আমি ভালোবাসি এবং সমর্থকদের অসাধারণ সমর্থন সব সময়ই আমার কাছে মূল্যবান। আশা করি আগামী বছর আবার ফিরব। আপনাদের সবার বোঝাপড়া ও সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ।
কোয়ার্টার ফাইনালে না খেলেই সেমিফাইনালে ওঠেন ফার্নান্দেজ। সেখানে তাঁর প্রতিপক্ষ হওয়ার কথা ছিল উজবেকিস্তানের ৬৬তম র্যাঙ্কিংধারী কামিলা রাখিমোভার। টোকিওর দর্শকদের জন্য এই প্রত্যাহারে সদ্য বছরশেষের এক নম্বর নিশ্চিত করা খেলোয়াড়কে নিয়ে একটি ম্যাচ বাতিল হলো; আর রিবাকিনার জন্য শেষ হলো এ মৌসুমে পঞ্চম শিরোপা জয়ের চেষ্টা।
পরবর্তী লক্ষ্য ইন্ডিয়ান ওয়েলস
ডব্লিউটিএ ফাইনালসের জন্য প্রস্তুত থাকতে চান রিবাকিনা। সেখানে গত বছর জেতা শিরোপা ধরে রাখার কথা তাঁর। ৮ নভেম্বর আসর শুরুর তারিখটি টোকিও থেকে তাঁর সরে দাঁড়ানোর নয় দিন পর। সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাব্য সময়সীমা বা চিকিৎসকের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের চূড়ান্ত অনুমতি সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি।
ফাইনালসে জয়ের জন্য আরেকটি শিরোপা থাকবে, তবে এর ফল ২০২৬ সালে কে এক নম্বরে থাকবেন তা বদলাবে না। ফলে রিবাকিনার সামনে দুটি আলাদা অগ্রাধিকার: প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো যথেষ্ট সুস্থ হয়ে ওঠা এবং মৌসুমশেষের বড় শিরোপা ধরে রাখার চেষ্টা করা।
নারীদের আসর ১৫ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা, যেদিন ইতালির তুরিনে এটিপি ফাইনালস শুরু হবে। রিবাকিনার বাকি প্রতিযোগিতামূলক লক্ষ্য ইন্ডিয়ান ওয়েলসে, আর টোকিও সফরের মূল অর্জন—র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান—ইতিমধ্যে নিশ্চিত।
মূল তথ্য
- ২৯ অক্টোবর টোকিওতে পুতিনসেভাকে হারিয়ে ২০২৬ সালের ডব্লিউটিএ বছরশেষের এক নম্বর র্যাঙ্কিং নিশ্চিত করেন রিবাকিনা।
- পুরুষ ও নারী একক এবং দ্বৈত মিলিয়ে কাজাখস্তানের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে তিনি বিশ্ব এক নম্বরে থেকে মৌসুম শেষ করতে যাচ্ছেন।
- এ মৌসুমে তাঁর চার শিরোপার মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ও ইউএস ওপেন; দুটির ফাইনালেই সাবালেঙ্কাকে হারান তিনি।
- ৩০ অক্টোবর ফার্নান্দেজের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে ঘাড়ে প্রদাহ ও ব্যথার কারণে সরে দাঁড়াতে হয় তাঁকে।
- বছরশেষের র্যাঙ্কিং নিশ্চিত হওয়ায়, ৮ থেকে ১৫ নভেম্বর ইন্ডিয়ান ওয়েলসে ডব্লিউটিএ ফাইনালসের শিরোপা ধরে রাখাই এখন তাঁর লক্ষ্য।






