অব্যাহতির হার ১৬% থেকে কমে ৮% হওয়ার পূর্বাভাস
সামরিক সেবা কারা করবেন, তা নির্ধারণে ব্যবহৃত চিকিৎসা-মানদণ্ড কঠোর করেছে তাইওয়ান। অব্যাহতির জন্য ওজনের সীমা বাড়ানো হয়েছে এবং কিছু অসুস্থতার ক্ষেত্রে আরও জোরালো প্রমাণ চাওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২৮ অক্টোবর সংশোধিত শারীরিক শ্রেণিবিন্যাস মানদণ্ড কার্যকর করেছে। এতে অব্যাহতির হার ১৬% থেকে কমে ৮% হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সূচিপত্র
- অব্যাহতির হার ১৬% থেকে কমে ৮% হওয়ার পূর্বাভাস
- অব্যাহতির হার অর্ধেক হলে কী বোঝায়
- ওজন ও উচ্চতার নিয়মে পরিবর্তন
- উচ্চ রক্তচাপের ক্ষেত্রে অঙ্গের ক্ষতির প্রমাণ আবশ্যক
- অব্যাহতির সিদ্ধান্তে ক্যানসার, গাউট ও যক্ষ্মা
- বিকল্প সেবায় দুটি চিকিৎসা-শ্রেণি
- চিকিৎসা-রেকর্ড এখন অপরিহার্য
- কেন মানদণ্ড সংশোধন করল মন্ত্রণালয়গুলো
- মূল বিষয়গুলো
উচ্চতা ১৭০ সেন্টিমিটার এমন একজন সম্ভাব্য বাধ্যতামূলক সেনাসদস্যের ক্ষেত্রে অব্যাহতির নির্ধারিত ওজনসীমা প্রায় ১০১.৩ কেজি থেকে বেড়ে ১৩০.২ কেজি হয়েছে। মাঝারি বা তার চেয়ে গুরুতর উচ্চ রক্তচাপের কারণে অব্যাহতি চাইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কোনো অঙ্গের ক্ষতি হয়েছে—এমন প্রমাণও থাকতে হবে এবং হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা ধরে রক্তচাপ পর্যবেক্ষণ করাতে হবে।
পরিবর্তনগুলো প্রাথমিক বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা পরীক্ষার বাইরেও বিস্তৃত। ক্যানসার, গাউট ও নিষ্ক্রিয় যক্ষ্মাসংক্রান্ত শর্তসহ চিকিৎসাজনিত কারণে অব্যাহতির নিয়মও সংশোধন করা হয়েছে। বিকল্প সেবার ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের অনুমোদিত হাসপাতালের নথি জমা দিতে হবে এবং পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা-রেকর্ড দিতে হবে।
বাস্তবে এর অর্থ হলো, যোগ্যতা নির্ধারণে নির্দিষ্ট রোগের তীব্রতা, শারীরিক সক্ষমতা এবং সহায়ক পরীক্ষার ফল আরও গুরুত্ব পাবে। কোনো রোগ শনাক্ত হলে নিয়মে উল্লেখিত ক্ষতি বা অক্ষমতার প্রমাণও তার সঙ্গে জমা দিতে হতে পারে।
অব্যাহতির হার অর্ধেক হলে কী বোঝায়
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঐতিহাসিক তথ্যের ভিত্তিতে সংশোধনীগুলো করা হয়েছে। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, অব্যাহতির হার ১৬% থেকে ৮%-এ নামলে মূল্যায়ন করা প্রতি ১০০ জন সম্ভাব্য বাধ্যতামূলক সেনাসদস্যের মধ্যে আটজন কম অব্যাহতি পাবেন—যদি নতুন হারটি অর্জিত হয়। অন্যভাবে বললে, অব্যাহতি পাওয়া মানুষের অনুপাত অর্ধেক হবে।
৮% একটি পূর্বাভাস, নিয়ম কার্যকরের পর মাপা ফল নয়। এই হার কবে নাগাদ অর্জিত হতে পারে বা পরিবর্তনগুলোর মূল্যায়ন কবে প্রকাশ করা হবে, সে বিষয়ে কোনো তারিখ জানানো হয়নি।
মূল তুলনায় দক্ষিণ কোরিয়ার অব্যাহতির হার ৫% এবং সিঙ্গাপুরের ৩% বলা হয়েছে। এই হিসাব অনুযায়ী, তাইওয়ানের পূর্বাভাসিত ৮% হার দক্ষিণ কোরিয়ার চেয়ে ৩ শতাংশ পয়েন্ট এবং সিঙ্গাপুরের চেয়ে ৫ শতাংশ পয়েন্ট বেশি থাকবে।
বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা আছে—এমন অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও প্রায় ৫% হার উল্লেখ করেছে। এসব পরিসংখ্যান তাইওয়ানের অব্যাহতির হার বেশি—সরকারের এই উদ্বেগের ব্যাখ্যা দেয়। তবে ব্যক্তিগত আবেদনকারীদের মূল্যায়ন কীভাবে হবে, তা নির্ধারণ করবে নতুন নিয়ম।
ওজন ও উচ্চতার নিয়মে পরিবর্তন
সংশোধিত ওজনের মানদণ্ডে বডি মাস ইনডেক্স বা বিএমআই ব্যবহার করা হয়। মিটারে উচ্চতার বর্গ দিয়ে কিলোগ্রামে ওজন ভাগ করে এই সংখ্যা হিসাব করা হয়। হিসাবটিতে উচ্চতা অন্তর্ভুক্ত থাকায় অব্যাহতির সীমার সঙ্গে মেলে এমন ওজন ব্যক্তিভেদে আলাদা হয়।
আগে বিএমআইয়ের সীমা ছিল ১৫-এর নিচে বা ৩৫-এর ওপরে। সংশোধিত মানদণ্ডে অব্যাহতির সংশ্লিষ্ট সীমা হয়েছে ১৪-এর নিচে বা ৪৫-এর ওপরে। দুই দিকের সীমাই আরও দূরে সরানো হয়েছে, ফলে এই ভিত্তিতে অব্যাহতি পাওয়ার যোগ্যতা সংকুচিত হয়েছে।
উচ্চতা ১৭০ সেন্টিমিটার হলে বিএমআই ৩৫-এর সমান ওজন প্রায় ১০১.২ কেজি, আর বিএমআই ৪৫-এর সমান ওজন প্রায় ১৩০.১ কেজি। অব্যাহতির জন্য উল্লেখ করা ১০১.৩ ও ১৩০.২ কেজি ওজনের অর্থ হলো, বিএমআইয়ের সীমা অতিক্রম করতে হবে। ওজনের এই বৃদ্ধি প্রায় ২৮.৯ কেজি।
মূল্যায়নে উচ্চতাও বিবেচনায় নেওয়া হয়। সীমাটি ১৪৪ সেন্টিমিটারের কম বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও অন্য একটি বিবরণে ঠিক ১৪৪ সেন্টিমিটার উচ্চতার ব্যক্তিদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই সীমান্তবর্তী উচ্চতার ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক মানদণ্ডের তালিকা ও পরীক্ষার প্রক্রিয়া থেকে নিশ্চিত হতে হবে।
কারও উচ্চতা ১৪৫ সেন্টিমিটার হলে তিনি উল্লিখিত যেকোনো উচ্চতার সীমার চেয়ে লম্বা। তাই তার শ্রেণিবিন্যাস নির্ভর করবে প্রযোজ্য অন্যান্য চিকিৎসা ও শারীরিক মানদণ্ডের ওপর।
উচ্চ রক্তচাপের ক্ষেত্রে অঙ্গের ক্ষতির প্রমাণ আবশ্যক
সংশোধিত নিয়মে উচ্চ রক্তচাপের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মাঝারি বা তার চেয়ে গুরুতর উচ্চ রক্তচাপ থাকলে নির্দিষ্ট অব্যাহতির শর্তে যোগ্য হতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অঙ্গের প্রকৃত ক্ষতির প্রমাণ থাকতে হবে।
রক্তনালির দেয়ালে রক্তের চাপের পরিমাপই রক্তচাপ। দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপ থাকলে হৃদ্যন্ত্র ও কিডনিসহ বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সংশোধিত মানদণ্ডে রোগের তীব্রতার সঙ্গে সেই ক্ষতির প্রমাণকে যুক্ত করা হয়েছে।
আবেদনকারীদের হাসপাতালে টানা ২৪ ঘণ্টা রক্তচাপ পর্যবেক্ষণ করাতে হবে। পরীক্ষার শর্তে এক থেকে তিন দিন হাসপাতালে থাকার কথা বলা হয়েছে। এ সময় ২৪ ঘণ্টাজুড়ে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
বারবার মাপলে চিকিৎসকেরা ঘুমসহ দিনের বিভিন্ন সময় ও কাজের সময়কার রক্তচাপের নথি পান; একটি মাত্র মাপের ওপর নির্ভর করতে হয় না। তাই শ্রেণিবিন্যাসের জন্য ব্যবহৃত প্রমাণে হাসপাতালের এই মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সামরিক সেবা এড়াতে উচ্চ রক্তচাপের জাল নথি ব্যবহারের অভিযোগে বিনোদনজগতের কয়েকজনের ঘটনা নিয়ে যাচাই-বাছাইয়ের মধ্যেই এই পরিবর্তন এসেছে। আবেদনকারীদের জন্য তাৎক্ষণিক পরিণতি হলো আরও কঠোর পরীক্ষা-প্রক্রিয়া; সিদ্ধান্তে রক্তচাপের নথি এবং অঙ্গের ক্ষতির প্রমাণ—দুটিই প্রাসঙ্গিক হবে।
অব্যাহতির সিদ্ধান্তে ক্যানসার, গাউট ও যক্ষ্মা
সংশোধিত চিকিৎসাজনিত অব্যাহতির শর্তে কয়েকটি রোগের বিষয় আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয়েছে। নির্ধারিত অব্যাহতির মানদণ্ডে ক্যানসার শনাক্ত হলে তা যোগ্য বলে গণ্য হবে। গাউটের ক্ষেত্রে অস্থিসন্ধির ক্ষতি বা টোফাই থাকলে যোগ্যতা মিলবে। নিষ্ক্রিয় যক্ষ্মার ক্ষেত্রে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা অন্তত সামান্য কমেছে—এমন প্রমাণ থাকতে হবে।
গাউট এমন একটি রোগ, যাতে ইউরেট স্ফটিক অস্থিসন্ধি ও শরীরের অন্যান্য টিস্যুতে জমে ব্যথাযুক্ত প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। টোফাই হলো এসব স্ফটিকের জমাট, যা গুটির মতো আকার নেয় এবং প্রায়ই অস্থিসন্ধির আশপাশে তৈরি হয়। তাই সংশোধিত শর্তে স্থায়ী ক্ষতি বা স্ফটিক জমার প্রমাণ খোঁজা হবে।
নিষ্ক্রিয় যক্ষ্মা বলতে বোঝায়, রোগটি আর সক্রিয় নেই। ফুসফুসের কার্যক্ষমতার পরীক্ষায় একজন ব্যক্তি কতটা ভালোভাবে শ্বাস নিতে পারেন, সেই সঙ্গে ফুসফুস কতটা বাতাস চলাচল করাতে পারে, তা মাপা হয়। সংশোধিত অব্যাহতির মানদণ্ডে নিষ্ক্রিয় যক্ষ্মার ইতিহাসের সঙ্গে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা অন্তত সামান্য কমার প্রমাণও থাকতে হবে।
প্রাথমিক বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার শ্রেণিবিন্যাস ও চিকিৎসাজনিত অব্যাহতি সেবার ভিন্ন ভিন্ন পর্যায় নিয়ে কাজ করে। প্রথমটি সম্ভাব্য বাধ্যতামূলক সেনাসদস্যের সেবার শ্রেণি নির্ধারণ করে; দ্বিতীয়টি নির্ধারণ করে, কোনো চিকিৎসাজনিত সমস্যা সেবা শেষ করার শর্ত পূরণ করে কি না। আবেদনকারীদের নিজের পর্যায় ও শারীরিক অবস্থার জন্য প্রযোজ্য মানদণ্ড জানতে হবে।
বিকল্প সেবায় দুটি চিকিৎসা-শ্রেণি
সংশোধিত শ্রেণিবিন্যাস ব্যবস্থায় পরীক্ষার পর সম্ভাব্য বাধ্যতামূলক সেনাসদস্যদের নিয়মিত সামরিক সেবা, বিকল্প সেবা অথবা অব্যাহতির শ্রেণিতে রাখা হয়। বিকল্প সেবার শ্রেণিবিন্যাস আবার এ ও বি—এই দুই স্তরে ভাগ করা হয়েছে।
নিয়মিত সামরিক সেবা থেকে আলাদা বাধ্যতামূলক সেবার ধরন হলো বিকল্প সেবা। নতুন এ ও বি শ্রেণি এই সেবার আওতায় দুটি চিকিৎসা-শ্রেণি নির্ধারণ করেছে। প্রযোজ্য মানদণ্ড ও পরীক্ষার ফলের ওপর শ্রেণি নির্ধারণ নির্ভর করবে।
পরীক্ষার ভিত্তিতে শ্রেণি নির্ধারণ করা না গেলে আবেদনকারীর শারীরিক অবস্থা অনির্ধারিত বলে চিহ্নিত করা হবে এবং তাকে আবার পরীক্ষা করাতে হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে আরও চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রমাণ সংগ্রহের সুযোগ এতে কর্তৃপক্ষ পাবে।
নির্দিষ্ট কোনো নিয়মে ভিন্ন কিছু বলা না থাকলে, প্রাথমিক পরীক্ষা বা পুনঃপরীক্ষার সময়কার স্বাস্থ্য ও কার্যক্ষমতার সীমাবদ্ধতা মূল্যায়ন করাই মূলনীতি। কার্যক্ষমতার সীমাবদ্ধতা বলতে কোনো শারীরিক সমস্যা একজনের শারীরিক কাজ করার সক্ষমতাকে কতটা কমিয়ে দেয়, তা বোঝায়।
চিকিৎসা-রেকর্ড এখন অপরিহার্য
বিকল্প সেবার ক্ষেত্রে চিকিৎসাজনিত অব্যাহতির মানদণ্ডও হালনাগাদ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আবেদনকারীদের অনুমোদিত হাসপাতালের নথির সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা-রেকর্ড দিতে হবে, যাতে মূল্যায়নকারীরা রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার ইতিহাস পর্যালোচনা করতে পারেন।
আবেদনকারী পুনঃপরীক্ষা করাতে অস্বীকৃতি জানালে বা প্রয়োজনীয় নথি জমা না দিলে, এবং তাতে মূল্যায়ন ব্যাহত হলে, সংশ্লিষ্ট শারীরিক অবস্থাকে স্বাভাবিক বলে গণ্য করা হবে। চিকিৎসাজনিত অব্যাহতি চাইছেন—এমন যেকোনো ব্যক্তির জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াগত নিয়ম।
অতিরিক্ত পরীক্ষা প্রয়োজন হলে আবেদনকারীকে তা সম্পন্ন করে চাওয়া নথি জমা দিতে হবে, যাতে তার শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করা যায়। অসুস্থতার পাশাপাশি কাগজপত্র ও পরীক্ষার শর্তও সিদ্ধান্তের অংশ।
কেন মানদণ্ড সংশোধন করল মন্ত্রণালয়গুলো
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, তাইওয়ানে অব্যাহতির হার এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির কথা বিবেচনায় নিয়ে এই পর্যালোচনা করা হয়েছে। কিছু রোগ এখন আরও কার্যকরভাবে চিকিৎসা বা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। সে কারণে শারীরিক শ্রেণিবিন্যাসের মানদণ্ডও বিস্তৃতভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আলোচনায় স্বাস্থ্য ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, চিকিৎসক সমিতি, পুনঃপরীক্ষার দায়িত্বে থাকা হাসপাতাল এবং সামরিক ইউনিটগুলো অংশ নিয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় বিতর্কিত বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়েছে। সিদ্ধান্তে আরও ধারাবাহিকতা, বাধ্যতামূলক সেবায় ন্যায্যতা এবং সামরিক জনবলের চাহিদা পূরণ—এসবই ঘোষিত লক্ষ্য।
মূল পর্যায়গুলো হলো:
- সংশোধনের আগে অব্যাহতির জন্য প্রাসঙ্গিক বিএমআইয়ের সীমা ছিল ১৫-এর নিচে বা ৩৫-এর ওপরে, আর অব্যাহতির হার ছিল প্রায় ১৬%।
- ২৮ অক্টোবর সংশোধিত শারীরিক শ্রেণিবিন্যাস মানদণ্ড কার্যকর হয়। এতে বেশ কয়েকটি চিকিৎসা-মানদণ্ড কঠোর করা হয় এবং বিকল্প সেবার শ্রেণিবিন্যাস এ ও বি—এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়।
- নিয়ম কার্যকরের পর অব্যাহতির হার প্রায় ৮%-এ নেমে আসবে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যাশা করছে।
সম্ভাব্য বাধ্যতামূলক সেনাসদস্যদের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক প্রভাব হলো ওজনের মানদণ্ড সংকুচিত হওয়া, উচ্চ রক্তচাপের জন্য আরও বিস্তৃত প্রমাণের প্রয়োজন এবং কিছু রোগের কার্যগত প্রভাবের প্রতি বাড়তি নজর। বিকল্প সেবা থেকে চিকিৎসাজনিত অব্যাহতি চাইলে এখন পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড দেওয়া এবং পুনঃপরীক্ষায় অংশ নেওয়া বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
মূল বিষয়গুলো
- তাইওয়ানের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার সংশোধিত চিকিৎসা-মানদণ্ড ২৮ অক্টোবর কার্যকর হয়েছে।
- অব্যাহতির হার ১৬% থেকে কমে ৮% হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
- অব্যাহতির জন্য প্রাসঙ্গিক বিএমআইয়ের সীমা ১৫-এর নিচে বা ৩৫-এর ওপরে থেকে বদলে ১৪-এর নিচে বা ৪৫-এর ওপরে হয়েছে।
- মাঝারি বা তার চেয়ে গুরুতর উচ্চ রক্তচাপের ক্ষেত্রে অঙ্গের ক্ষতি এবং হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা ধরে রক্তচাপ পর্যবেক্ষণের প্রমাণ প্রয়োজন।
- সংশোধিত অব্যাহতির মানদণ্ডে ক্যানসার, অস্থিসন্ধির ক্ষতি বা টোফাইসহ গাউট এবং ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া নিষ্ক্রিয় যক্ষ্মা অন্তর্ভুক্ত।
- বিকল্প সেবার শ্রেণিবিন্যাসে এখন এ ও বি স্তর রয়েছে; অনির্ধারিত অবস্থার ক্ষেত্রে পুনঃপরীক্ষা হবে।
- প্রয়োজনীয় প্রমাণ জমা দিতে বা পুনঃপরীক্ষায় অংশ নিতে ব্যর্থ হলে, মূল্যায়ন ব্যাহত হওয়ার ক্ষেত্রে শারীরিক অবস্থাকে স্বাভাবিক বলে গণ্য করা হতে পারে।






