তাইওয়ানের শেষ চুল্লি বন্ধ হওয়ার পর নভেম্বরে আবার বিতর্কে গণভোট
তাইওয়ান ২০২৬ সালের ২৮ নভেম্বর ভোট দেবে—দেশটি পারমাণবিকমুক্ত স্বদেশ নীতি পরিত্যাগ করবে কি না। শেষ চালু থাকা পারমাণবিক চুল্লি বন্ধের এক বছরেরও বেশি সময় পর জ্বালানি নিয়ে বিতর্ক আবার সামনে এসেছে। প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের মুখপাত্র ক্যারেন কুও ২২ অক্টোবর বলেন, তাইওয়ান ২০২৫ সালেই নীতিটির লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং বর্তমানে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই।
সূচিপত্র
- তাইওয়ানের শেষ চুল্লি বন্ধ হওয়ার পর নভেম্বরে আবার বিতর্কে গণভোট
- ভোটারদের কাছে যে সিদ্ধান্ত জানতে চাওয়া হবে
- সম্পন্ন নীতি বলতে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় যা বোঝায়
- তিনটি শর্ত ও দুটি আবশ্যক ধাপ
- অধিকাংশ ভোট পেলেও কেন প্রস্তাব পাস নাও হতে পারে
- পারমাণবিক শক্তি নিয়ে চার গণভোট, সিদ্ধান্ত ভিন্ন
- শিল্পের বিদ্যুৎ চাহিদা ও প্রেসিডেন্টের সরবরাহ নিশ্চিতের বক্তব্য
- আমদানি করা জ্বালানিতে নিরাপত্তার পৃথক উদ্বেগ
- নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বর্জ্য এখনো সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে
- মূল বিষয়গুলো
জাতীয় গণভোট নম্বর ২২ হিসেবে নির্ধারিত এই ভোট মেয়র, কাউন্টি প্রধান, স্থানীয় পরিষদ ও অন্যান্য সরকারি পদের নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে। আইনপ্রণেতারা ওই মাসের শুরুতে প্রস্তাবটির পক্ষে সমর্থন দেওয়ার পর কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন ২৮ আগস্ট এটি অনুমোদন করে।
কুও বলেন, প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে বিভিন্ন জ্বালানি বিকল্প বিবেচনায় নিতে আগ্রহী। তবে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আবার চালুর জন্য তাঁর প্রশাসন তিনটি শর্ত রেখেছে: নিরাপদ পরিচালনা, পারমাণবিক বর্জ্যের স্পষ্ট সমাধান এবং জনসম্মতি। তিনি আরও বলেন, স্বল্পমেয়াদি সুবিধার জন্য পরিবেশগত টেকসইতাকে বিসর্জন দেওয়া উচিত নয়।
রাজনৈতিকভাবে এই ভোটের গুরুত্ব পারমাণবিক বিদ্যুতের পক্ষে ভোটারদের অবস্থানের বাইরেও বিস্তৃত। গণভোটের প্রস্তাবক কুওমিনতাং (কেএমটি) বলছে, পারমাণবিক শক্তি শিল্প ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে। প্রেসিডেন্টের কার্যালয় বলছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরাপদ; তবে যেকোনো পুনরায় চালুর আগে কারিগরি ও নিয়ন্ত্রক যাচাই সম্পন্ন করতে হবে।
পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য এই বিতর্কে কয়েকটি বাস্তব উদ্বেগ একসঙ্গে উঠে এসেছে: নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ, দাম, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা এবং তেজস্ক্রিয় বর্জ্য সংরক্ষণের নিরাপত্তা। ভোটারদের নীতির দিকনির্দেশনা বেছে নিতে বলছে এই গণভোট। এরপর কোনো নির্দিষ্ট চুল্লি নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আরও কাজ করতে হবে।
ভোটারদের কাছে যে সিদ্ধান্ত জানতে চাওয়া হবে
চূড়ান্ত গণভোটের প্রশ্নে ভোটারদের কাছে জানতে চাওয়া হবে, অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং পারমাণবিকমুক্ত স্বদেশ জ্বালানি নীতি বাতিল করতে সরকারের পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের পক্ষে তাঁরা কি না। প্রশ্নটির পরিধি ২০২৫ সালের আগস্টের গণভোটের তুলনায় বিস্তৃত। ওই গণভোটে নিরাপত্তা ছাড়পত্র পাওয়ার পর তৃতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া নিয়ে নির্দিষ্টভাবে প্রশ্ন করা হয়েছিল।
কেএমটির আগের প্রস্তাবে জনস্বাস্থ্য, স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ, সস্তা বিদ্যুৎ, জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নকে নীতি পরিত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। প্রস্তাব অনুমোদনের আগে আইনপ্রণেতারা ওই ভাষা সংশোধন করেন; চূড়ান্ত প্রশ্নে পারমাণবিক শক্তি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বিষয়টিই রাখা হয়।
আইনসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনের অধিকারী কেএমটি ও তাইওয়ান পিপলস পার্টির (টিপিপি) আইনপ্রণেতারা কমিটির পর্যালোচনা এড়িয়ে ১৪ জুলাই প্রস্তাবটি সরাসরি দ্বিতীয় পাঠে তোলেন। আইনসভা ১৪ আগস্ট পারমাণবিক শক্তি-সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন করে এবং ১৮ আগস্ট তা নির্বাচন কমিশনে পাঠায়।
বিরোধী দলগুলো প্রথমে পারমাণবিক নীতি ও আরও কয়েকটি বিষয়ে ছয়টি গণভোটের প্রস্তাব দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত শুধু পারমাণবিক শক্তি-সংক্রান্ত প্রস্তাবটিই নভেম্বরে ভোটের জন্য যোগ্যতা পায়। ভোট দেওয়ার যোগ্য ব্যক্তিরা স্থানীয় নির্বাচনে তাঁদের যোগ্যতার ভিত্তিতে যে ব্যালট পাবেন, তার পাশাপাশি আলাদা গণভোটের ব্যালটও পাবেন। ভোটগ্রহণের সময় সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
সম্পন্ন নীতি বলতে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় যা বোঝায়
পিংতুং কাউন্টির মাংশান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, যা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নম্বর ৩ নামেও পরিচিত, ১৭ মে ২০২৫-এ দ্বিতীয় চুল্লির পরিচালন লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করে। চুল্লিটি ৪০ বছর সেবা দিয়েছিল এবং সেটিই ছিল তাইওয়ানের শেষ চালু পারমাণবিক চুল্লি।
কুও এই বন্ধ হওয়াকে তাইওয়ানের পারমাণবিকমুক্ত স্বদেশের লক্ষ্য আনুষ্ঠানিকভাবে অর্জনের মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেন। বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হওয়ার পর শুরু হয় অনেক দীর্ঘ অবসায়ন প্রক্রিয়া, যার মধ্যে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা, সরঞ্জাম খুলে ফেলা এবং তেজস্ক্রিয় পদার্থের নিষ্পত্তি রয়েছে।
২০০২ সালে প্রণীত মৌলিক পরিবেশ আইনে সরকারকে ধাপে ধাপে পারমাণবিকমুক্ত স্বদেশ অর্জনের পরিকল্পনা করতে বলা হয়েছে। কুও বলেন, নীতিটি শুরুতে দলমত-নির্বিশেষে সম্মত হয়েছিল; এটি শুধু ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টির (ডিপিপি) নীতি ছিল না।
তিনি কেএমটি নেতা মা ইং-জিউয়ের প্রেসিডেন্ট থাকাকালে চতুর্থ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প স্থগিত করার কথাও উল্লেখ করেন। ওই অসমাপ্ত কেন্দ্র ও মাংশান আলাদা স্থাপনা। এ পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আগের গণভোটগুলোতে ভিন্ন প্রকল্প ও আইনি প্রশ্ন ছিল।
তিনটি শর্ত ও দুটি আবশ্যক ধাপ
মাংশান আবার চালুর বিষয়টি বিবেচনায় লাইয়ের প্রশাসন রাজনৈতিক শর্ত এবং কারিগরি প্রক্রিয়া—দুটিই নির্ধারণ করেছে। তিনটি শর্ত হলো পারমাণবিক নিরাপত্তা, তেজস্ক্রিয় বর্জ্যের সমাধান এবং সামাজিক ঐকমত্য। প্রতিটি শর্ত আলাদা সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পর্কিত: চুল্লি নিরাপদে চালানো যাবে কি না, বর্জ্য কোথায় রাখা হবে এবং সমাজ সেই ব্যবস্থায় সম্মত কি না।
৭ নভেম্বর ২০২৫-এ কুও বিষয়টি আরও বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন। আইন অনুযায়ী, পারমাণবিক নিরাপত্তা কমিশনকে নিরাপত্তা পর্যালোচনার পদ্ধতি নির্ধারণ করতে হবে। এরপর রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ সরবরাহকারী তাইওয়ান পাওয়ার কোম্পানিকে, যা তাইপাওয়ার নামে পরিচিত, ওই পদ্ধতি অনুসারে নিজস্ব নিরাপত্তা যাচাই করতে হবে।
তাইপাওয়ারের মূল্যায়নে পুনরায় চালুর শর্ত, প্রয়োজনীয় সময় এবং ব্যয় ও সুবিধা খতিয়ে দেখা হবে। কুও বলেন, কোম্পানি আইনি প্রক্রিয়ায় পরিকল্পনা জমা দিলে সরকার পেশাদার পর্যালোচনাকে সম্মান করবে।
ওই সময় মুখপাত্র লাই সবুজ বিদ্যুৎ পরিত্যাগ করতে বা ২০২৭ সালের আগে মাংশান পুনরায় চালুর বিষয়টি মীমাংসা করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন—এমন দাবিও নাকচ করেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট পুনরায় চালুর কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করেননি। এখানে আলোচিত বিবৃতিগুলোতে পুনরায় চালুর কোনো নিশ্চিত তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
তাই কোনো নির্দিষ্ট কেন্দ্রের ক্ষেত্রে গণভোটে ইতিবাচক ফলের পরও সরঞ্জাম, নিরাপত্তা পরিদর্শন, পরিচালনার অনুমতি এবং নিয়ন্ত্রক অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন থাকবে। জাতীয় নীতির সিদ্ধান্ত এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের অনুমতি একই বিতর্কের পৃথক ধাপ।
অধিকাংশ ভোট পেলেও কেন প্রস্তাব পাস নাও হতে পারে
তাইওয়ানের গণভোটের নিয়ম অনুযায়ী, প্রস্তাব পাসের জন্য বৈধ ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পক্ষে থাকতে হবে এবং একই সঙ্গে ন্যূনতমসংখ্যক ‘হ্যাঁ’ ভোটও পেতে হবে। ২০২৬ সালের ভোটের প্রকাশিত কাঠামো অনুযায়ী, এই ন্যূনতম সংখ্যা ৪,৮৮৭,১৩৩। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটারসংখ্যা ছিল ১৯,৫৪৮,৫৩১; তার এক-চতুর্থাংশ হিসাব করে পূর্ণসংখ্যায় ঊর্ধ্বমুখী করে এই সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই ন্যূনতম সীমার কারণে ভোটার উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘হ্যাঁ’ ভোট ‘না’ ভোটের চেয়ে বেশি হলেও পক্ষে ভোটের মোট সংখ্যা নির্ধারিত সীমার নিচে থাকলে প্রস্তাবটি ব্যর্থ হবে। আবার ন্যূনতম সংখ্যা পূরণ হলেও বিপক্ষে ভোট বেশি হলে প্রস্তাবটি পাস হবে না।
২০২৫ সালের ২৩ আগস্টের গণভোটে এই নিয়মের প্রয়োগ দেখা গেছে। কানাডার এশিয়া প্যাসিফিক ফাউন্ডেশন তাদের ৫ সেপ্টেম্বরের গণভোট বিশ্লেষণে জানায়, মাংশান আবার চালুর পক্ষে প্রায় ৪৩ লাখ এবং বিপক্ষে ১৫ লাখ ভোট পড়েছিল। পক্ষে ভোটের সংখ্যা প্রয়োজনীয় প্রায় ৫০ লাখের চেয়ে কম ছিল।
এই আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী, ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেওয়া ব্যক্তিদের প্রায় ৭৪ শতাংশ প্রস্তাবটির পক্ষে ছিলেন: ৫৮ লাখ ভোটের মধ্যে ৪৩ লাখ। তবু ফলটি ব্যর্থ হয়, কারণ আইনে সমর্থনের পরিমাপ বিপক্ষের ভোটের পাশাপাশি ভোটারসংখ্যার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ন্যূনতম সীমার ভিত্তিতেও করা হয়।
গণভোট আইনে বলা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ নীতি নিয়ে গণভোটে সফল প্রস্তাব বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে এবং সাধারণত দুই বছর পর্যন্ত প্রশাসনিকভাবে নীতি উল্টে দেওয়া যাবে না। একই বিষয় আবার গণভোটে তোলার ক্ষেত্রেও দুই বছরের বিধিনিষেধ রয়েছে। ২০২৬ সালের অনুমোদিত প্রশ্নে বিস্তৃত জ্বালানি নীতি নিয়ে বলা হয়েছে, আর ২০২৫ সালের প্রশ্নটি ছিল নির্দিষ্ট একটি কেন্দ্র নিয়ে।
পারমাণবিক শক্তি নিয়ে চার গণভোট, সিদ্ধান্ত ভিন্ন
নভেম্বরের গণভোটটি হবে ২০১৮ সালের পর তাইওয়ানের চতুর্থ পারমাণবিক শক্তি-সংক্রান্ত গণভোট। আগের ভোটগুলো থেকে বোঝা যায় কেন বিষয়টি বারবার ফিরে আসছে: ভোটারদের কাছে আইনে নির্ধারিত সময়সীমা, অসমাপ্ত একটি কেন্দ্র, চালু থাকা একটি কেন্দ্র এবং এবার বিস্তৃত জাতীয় নীতি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে।
প্রধান ঘটনাগুলো হলো:
- ২০১৮: ভোটাররা বিদ্যুৎ আইনের সেই শর্ত বাতিলের পক্ষে রায় দেন, যাতে ২০২৫ সালের মধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করার কথা ছিল। প্রায় ৬০ শতাংশ প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন।
- ২০২১: ভোটাররা চতুর্থ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প আবার শুরু করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
- ১৭ মে ২০২৫: ৪০ বছর সেবা দেওয়ার পর মাংশানের শেষ চুল্লিটি কার্যক্রম বন্ধ করে।
- ২৩ আগস্ট ২০২৫: মাংশান-সংক্রান্ত গণভোটে প্রয়োজনীয়সংখ্যক ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েনি।
- ১৪ জুলাই ২০২৬: বিরোধী আইনপ্রণেতারা কমিটির পর্যালোচনা ছাড়াই পারমাণবিক নীতি নিয়ে বিস্তৃত প্রস্তাবটি এগিয়ে নেন।
- ২৮ আগস্ট ২০২৬: নির্বাচন কমিশন গণভোট নম্বর ২২ অনুমোদন করে।
- ২৮ নভেম্বর ২০২৬: স্থানীয় নির্বাচনের পাশাপাশি ভোটারদের প্রস্তাবটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে।
২০১৮ সালের ফলের পর বিদ্যুৎ আইনে কেন্দ্র বন্ধের সময়সীমা তুলে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হলে তাইওয়ানের চুল্লিগুলো একে একে বন্ধ হয়ে যায়। মৌলিক পরিবেশ আইনের আলাদা পারমাণবিকমুক্ত স্বদেশের বিধান নীতিকাঠামোর অংশ হিসেবে বহাল থাকে।
স্থানীয় নির্বাচনের সঙ্গে সর্বশেষ ভোট হওয়ায় সেটি বৃহত্তর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের দিনের অংশ হবে। স্থানীয় প্রার্থীদের ভোট থেকে গণভোটের ফল আলাদাভাবে গণনা করা হবে এবং পাসের জন্য এর নিজস্ব আইনি শর্ত থাকবে।
শিল্পের বিদ্যুৎ চাহিদা ও প্রেসিডেন্টের সরবরাহ নিশ্চিতের বক্তব্য
কেএমটির আইনপ্রণেতা কো জু-চুনের যুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ডেটা সেন্টার, সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন ও অন্যান্য উন্নত শিল্পের জন্য নির্ভরযোগ্য ও পূর্বানুমানযোগ্য বিদ্যুৎ দরকার। গণভোটের সমর্থকেরা চান, জাতীয় নীতির মাধ্যমে বাদ না দিয়ে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের পাশাপাশি পারমাণবিক শক্তিকেও বিবেচনা করা হোক।
কানাডার এশিয়া প্যাসিফিক ফাউন্ডেশন ২০৩০ সালের মধ্যে তাইওয়ানের বিদ্যুৎ চাহিদা ১২ থেকে ১৩ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস উল্লেখ করেছে। তাদের বিশ্লেষণে তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির বিদ্যুৎ ব্যবহার দ্বীপটির মোট উৎপাদনের প্রায় ৯ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে শিল্প উৎপাদন ও জ্বালানি পরিকল্পনার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্পষ্ট হয়।
২২ অক্টোবরের বিবৃতিতে কুও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, তাইওয়ানে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরাপদ এবং কোনো ঘাটতি নেই। শিল্পের যুক্তিটি হলো, ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কী পরিমাণ উৎপাদন সক্ষমতা দরকার। বর্তমান সরবরাহ ও ভবিষ্যৎ চাহিদা—দুটিই নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানি কেনা এবং বিদ্যুৎ গ্রিডে বিনিয়োগের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে।
পারমাণবিক শক্তির অবদান এরই মধ্যে অনেক বদলেছে। পারমাণবিক শক্তি নিয়ে বিতর্কে উদ্ধৃত তাইপাওয়ারের ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৫ সালে সর্বোচ্চ পর্যায়ে তাইওয়ানের বিদ্যুতের প্রায় ৫২ শতাংশ আসত পারমাণবিক শক্তি থেকে। ২০২৪ সালে এর অংশ ৫ শতাংশের নিচে নেমে আসে। তাই পুরোনো কোনো চুল্লি চালু করা হলে তা বৃহত্তর বিদ্যুৎ ব্যবস্থার একটি অংশ নিয়েই হবে।
আমদানি করা জ্বালানিতে নিরাপত্তার পৃথক উদ্বেগ
ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তাইওয়ান তার জ্বালানির ৯৫ শতাংশের বেশি আমদানি করে। জাহাজে পরিবহনের জন্য তরল করা প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ২০২৪ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৪০ শতাংশের বেশি জুগিয়েছিল।
ফাউন্ডেশন এমন একটি হিসাব উল্লেখ করেছে, যাতে বলা হয়েছে অবরোধের পরিস্থিতিতে প্রায় ১০ দিনের মধ্যে এলএনজির মজুত ফুরিয়ে যেতে পারে। এ পরিস্থিতি বিদ্যুৎ পরিকল্পনার সঙ্গে বন্দরে প্রবেশাধিকার, জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি মজুতের পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সরঞ্জামের পরিমাণকেও যুক্ত করে।
পারমাণবিক শক্তির সমর্থকদের যুক্তি, চুল্লি আবার চালু করলে ঘন ঘন জ্বালানি সরবরাহের ওপর নির্ভরতা কমতে পারে। কেএমটির আইনপ্রণেতা ওয়েং শিয়াও-লিংয়ের যুক্তি, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বায়ুদূষণ কম হয়।
২০২৫ সালের পুনরায় চালুর প্রস্তাবের বিরোধিতা করা ন্যাশনাল তাইওয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিন জে-লুন পুরোনো সরঞ্জাম, বিদেশ থেকে যন্ত্রাংশ আনানোর প্রয়োজন, ভূমিকম্প এবং পারমাণবিক স্থাপনা সামরিক হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার আশঙ্কা তুলেছেন। পাল্টাপাল্টি যুক্তিগুলো ভিন্ন ধরনের ঝুঁকিতে জোর দেয়: জ্বালানি আমদানিতে বিঘ্ন এবং নির্দিষ্ট স্থানে থাকা বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের নিরাপত্তা।
নো নিউকস অ্যাকশন প্ল্যাটফর্ম বলেছে, শেষ চুল্লিটি বন্ধ হওয়ার পরও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল ছিল এবং বায়ুর মান উন্নত হয়েছে। পারমাণবিক শক্তি ছাড়াই উন্নয়ন চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে তাদের অবস্থান। অন্যদিকে বিরোধী দল শিল্প ও নিরাপত্তার ঝুঁকি মোকাবিলায় পারমাণবিক শক্তিকে আরেকটি বিকল্প হিসেবে তুলে ধরছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বর্জ্য এখনো সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে
লাইয়ের প্রশাসন নবায়নযোগ্য জ্বালানির পক্ষে অবস্থান ধরে রেখেছে এবং পারমাণবিক শক্তির বিকল্পগুলোকে শর্তসাপেক্ষ রেখেছে। কুও ২০২৫ সালের নভেম্বরে বলেন, সবুজ জ্বালানি ও জ্বালানি রূপান্তরের অন্যান্য উদ্যোগ ত্বরান্বিত করতে সরকার ২০৩০ সালের আগে ৯০০ বিলিয়ন তাইওয়ানি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে।
এই দিকনির্দেশনার উদাহরণ হিসেবে তিনি ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর ক্ষুদ্র জলবিদ্যুৎ শিল্প ফোরামে লাইয়ের ভাষণ এবং ৬ নভেম্বর জাপানের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথা উল্লেখ করেন। লাই তাইওয়ানের সবুজ জ্বালানি-সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তির সঙ্গে জাপানের সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন সরকারের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি মিলিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
ফাউন্ডেশনের হিসাবে, ২০২৪ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ১৩ শতাংশ এসেছে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে, যা সরকারের ২০ শতাংশ লক্ষ্যের নিচে। ব্যবধান ৭ শতাংশ-বিন্দু। গণভোটের ফল যা-ই হোক, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো, গ্রিড উন্নত করা এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানো বাস্তব কাজ হিসেবে থেকেই যাবে।
তেজস্ক্রিয় বর্জ্য আরেকটি দীর্ঘস্থায়ী দায়বদ্ধতা। পরিবেশ আন্দোলনকর্মী সাই চুং-ইয়েহ যুক্তি দিয়েছেন, চূড়ান্ত নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত বারবার পিছিয়ে দেওয়া যায় না। ডিপিপির আইনপ্রণেতা চুয়াং রুই-শিয়ুংও নিরাপত্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পূর্ণাঙ্গ প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
কুওর তিনটি শর্তে চুল্লির নিরাপত্তা ও জনসম্মতির পাশাপাশি বর্জ্যের বিষয়টিও রয়েছে; পুনরায় চালুর পর সমাধানের জন্য এটি ফেলে রাখা হয়নি। গণভোটের সমর্থক ন্যাশনাল সিং হুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইয়ে সুং-কুয়াংয়ের যুক্তি, জনভোট পারমাণবিক শক্তির প্রতি জনসমর্থনের মাত্রা বুঝতে সরকারকে সহায়তা করতে পারে।
নভেম্বরের ভোটে জ্বালানি নীতির রূপরেখা নির্ধারণে ভোটাররা আরেকটি সুযোগ পাবেন। প্রস্তাব পাস হলে তার দিকনির্দেশনা বাস্তবায়নে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। কোনো নির্দিষ্ট চুল্লির ক্ষেত্রে এর পরে প্রয়োজন হবে আইনি ও কারিগরি সিদ্ধান্ত। প্রস্তাব ব্যর্থ হলেও ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানো, ঝুঁকিপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং বিদ্যমান পারমাণবিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বাস্তব কাজগুলো সরকারের সামনে থাকবে।
মূল বিষয়গুলো
- স্থানীয় নির্বাচনের পাশাপাশি ২০২৬ সালের ২৮ নভেম্বর পারমাণবিকমুক্ত স্বদেশ নীতি বাতিলের বিষয়ে গণভোট নম্বর ২২ অনুষ্ঠিত হবে তাইওয়ানে।
- প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের মুখপাত্র ক্যারেন কুও বলেন, তাইওয়ান ২০২৫ সালের মে মাসে নীতিটির লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং বর্তমানে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই।
- পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আবার চালুর আগে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় পারমাণবিক নিরাপত্তা, তেজস্ক্রিয় বর্জ্যের সমাধান এবং সামাজিক ঐকমত্যের শর্ত দিয়েছে।
- প্রকাশিত নিয়ম অনুযায়ী, প্রস্তাব পাসে কমপক্ষে ৪,৮৮৭,১৩৩টি ‘হ্যাঁ’ ভোট লাগবে এবং ‘হ্যাঁ’ ভোট ‘না’ ভোটের চেয়েও বেশি হতে হবে।
- ২০২৫ সালের আগস্টে মাংশান নিয়ে গণভোটে প্রায় ৪৩ লাখ ‘হ্যাঁ’ এবং ১৫ লাখ ‘না’ ভোট পড়লেও প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সীমা পূরণ হয়নি।
- নীতিগত গণভোটে প্রস্তাব পাস হলে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে; তবে নির্দিষ্ট কোনো চুল্লির জন্য নিরাপত্তা, সরঞ্জাম ও লাইসেন্স পর্যালোচনা এখনো প্রয়োজন হবে।






