তিন বিচারকের স্কোর ২৯-২৭, শেষ হলো আলিয়েভের অপরাজিত থাকার রেকর্ড
আবুধাবিতে UFC 333-তে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে নুরুল্লো আলিয়েভকে হারিয়েছেন গ্র্যান্ট ডসন। তিন বিচারকই লাইটওয়েট লড়াইয়ের স্কোর দেন ২৯-২৭। UFC-তে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তাজিকিস্তানের প্রথম যোদ্ধা আলিয়েভ পেশাদার ক্যারিয়ারে প্রথমবার হারলেন। বাঁ পায়ে চোট পাওয়ার পর তাঁকে হুইলচেয়ারে করে নিয়ে যেতে হয়।
সূচিপত্র
- তিন বিচারকের স্কোর ২৯-২৭, শেষ হলো আলিয়েভের অপরাজিত থাকার রেকর্ড
- দ্রুত শুরুতে ডসনকে চাপে ফেলেন আলিয়েভ
- পয়েন্ট কাটা বদলে দিল প্রথম রাউন্ডের হিসাব
- দ্বিতীয় রাউন্ডে লড়াইয়ের নিয়ন্ত্রণ নেন ডসন
- পায়ের চোটে শেষ রাউন্ড আরও কঠিন হয়ে ওঠে
- পরিসংখ্যানে স্পষ্ট, কীভাবে বদলে যায় লড়াই
- তিন রাউন্ডে যেভাবে এগিয়েছে লড়াই
- র্যাঙ্কিংয়ের কাছাকাছি ডসন
- দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলা এক প্রিলিমিনারি লড়াই
- মূল বিষয়গুলো
এই জয়ে পেশাদার মিক্সড মার্শাল আর্টে ডসনের রেকর্ড দাঁড়াল ২৫ জয়, ৩ হার ও ১ ড্র। UFC-তে তাঁর রেকর্ড ১৩-২-১। আলিয়েভের পেশাদার রেকর্ড হলো ১২-১, আর এই প্রমোশনে ৪-১। শুরুতে ভালো করলেও পয়েন্ট কাটা, ডসনের অব্যাহত চাপ এবং ক্রমে চলাফেরায় অসুবিধার কারণে আলিয়েভের অবস্থার অবনতি হয়।
UFC-র প্রিলিমিনারি ফলাফলে বলা হয়েছে, ডসন তাঁর উন্নত স্ট্রাইকিংয়ের সঙ্গে পরিচিত গ্র্যাপলিং দক্ষতা কাজে লাগিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় নিশ্চিত করেছেন। জয়ের পরও তিনি লাইটওয়েট বিভাগের শীর্ষ ১৫-এর বাইরে রয়েছেন।
আলিয়েভের শারীরিক অবস্থা নিয়ে তাৎক্ষণিক উদ্বেগ দেখা দেয়। ক্রীড়া সাংবাদিক ইগর লাজোরিন ২০২৬ সালের ২৪ অক্টোবর গুরুতর ঊরুর চোটের খবর জানান। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় কোনো চিকিৎসা-নির্ণয়, চিকিৎসার পরিকল্পনা বা সেরে ওঠার সময়সীমা জানা যায়নি।
দ্রুত শুরুতে ডসনকে চাপে ফেলেন আলিয়েভ
১২টি পেশাদার লড়াইয়ে ১২ জয়, যার মধ্যে UFC-তে চারটি জয় নিয়ে লড়াইয়ে নামেন আলিয়েভ। প্রমোশনে ডসনের অভিজ্ঞতা ছিল অনেক বেশি: এর আগে UFC-তে ১৫টি লড়াই এবং আগের পাঁচ বাউটের মধ্যে চারটিতে জয়।
UFC-র তরুণ প্রতিযোগী শুরুতে বেশি প্রভাব ফেলেন। ঘুষি মারতে মারতে এগিয়ে এসে তিনি ডসনকে খাঁচার বেড়ার দিকে ঠেলে দেন এবং শুরুর দিকের রেসলিংয়ের চেষ্টা থামিয়ে দেন। ডসন টেকডাউন করে লড়াইয়ের গতিপথ পাল্টাতে চাইলে আলিয়েভ অবস্থান উল্টে ওপর থেকে লড়তে থাকেন।
এরপর আলিয়েভের জোরালো বাঁ হাতের ঘুষিতে ডসন বেশ বিপাকে পড়েন। তাঁকে মাটির দিকে অনুসরণ করে আরও ঘুষি মারেন আলিয়েভ, যা ছিল মার্কিন যোদ্ধার জন্য শুরুর দিকের সবচেয়ে বিপজ্জনক মুহূর্ত। তবে ডসনের মাথার পেছনে অবৈধ আঘাতের কারণে রেফারি মার্ক গডার্ড হস্তক্ষেপ করলে পরিস্থিতি হঠাৎ বদলে যায়।
পয়েন্ট কাটা বদলে দিল প্রথম রাউন্ডের হিসাব
গডার্ড লড়াই থামিয়ে মাথার পেছনে আঘাত করার জন্য আলিয়েভের এক পয়েন্ট কেটে নেন। ওই আঘাত নিষিদ্ধ; এই শাস্তির ফলে রাউন্ডে আলিয়েভের লড়াইকে বিচারকেরা যেভাবেই মূল্যায়ন করুন না কেন, তাঁর স্কোর আলাদাভাবে কমে যায়।
বিরতিতে আলিয়েভের আক্রমণের গতিও ভেঙে যায়। লড়াই আবার শুরু হলে ডসন কিক ও ঘুষি মারেন, শেষ মুহূর্তে টেকডাউন সম্পন্ন করেন এবং রাউন্ড শেষ হওয়ার সময় গիլোটিন চোকের হুমকি তৈরি করেন। গিলোটিন হলো এমন সাবমিশন হোল্ড, যেখানে যোদ্ধা প্রতিপক্ষের মুখোমুখি থেকে তার গলায় এক হাত পেঁচিয়ে ধরেন।
প্রথম রাউন্ডের পরিসংখ্যান দেখায়, লড়াইটি কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল। আলিয়েভ ডসনের ৩২টির বিপরীতে ৩৩টি উল্লেখযোগ্য আঘাত হানেন এবং ১ মিনিট ২০ সেকেন্ড নিয়ন্ত্রণে রাখেন; ডসনের নিয়ন্ত্রণে থাকার সময় ছিল ৪১ সেকেন্ড। দুজনই একটি করে টেকডাউন সম্পন্ন করেন, যদিও ডসনের তিনটি চেষ্টা লাগে, আর আলিয়েভ তাঁর একমাত্র চেষ্টাতেই সফল হন।
পয়েন্ট কাটা চূড়ান্ত ২৯-২৭ স্কোরের ব্যাখ্যা দেয়। পয়েন্ট কাটা না হলে আলিয়েভের পক্ষে ১০-৯ স্কোর হতো এমন একটি রাউন্ড শাস্তির পর হয় ৯-৯। এরপর ডসনের পক্ষে দুটি ১০-৯ রাউন্ড যোগ হয়ে ফল দাঁড়ায় ২৯-২৭। রিংসাইডে করা রাউন্ডভিত্তিক মূল্যায়নও এই হিসাবের সঙ্গে মেলে; প্রকাশিত সরকারি ফলে তিন বিচারকের স্কোর একই।
দ্বিতীয় রাউন্ডে লড়াইয়ের নিয়ন্ত্রণ নেন ডসন
ডসন লড়াইকে রেসলিংয়ের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে নিয়ে যান, যে কারণে তাঁকে লাইটওয়েট বিভাগের কঠিন প্রতিপক্ষ মনে করা হয়। দ্বিতীয় রাউন্ডের শুরুতে আলিয়েভ এগিয়ে আসতে থাকেন, তবে মাটিতে নামানোর আগে ডসন ক্রমেই বেশি ঘুষি ও কিক লাগান।
খাঁচার বেড়ার কাছে ডসন আলিয়েভের পা আটকে রেখে তাঁর শরীরের ওপরের অংশে চাপ বজায় রাখেন। তিনি হাফ গার্ডে যান—এমন একটি অবস্থান, যেখানে নিচে থাকা যোদ্ধা ওপরের যোদ্ধার একটি পা নিয়ন্ত্রণে রাখেন—এবং ছোট ঘুষি ও কনুইয়ের আঘাত করেন। আলিয়েভ গার্ড ফিরে পান; ডসনের চলাচল সীমিত করতে তাঁর পা দিয়ে ডসনকে ঘিরে ধরেন। তবে অব্যাহত চাপ থেকে বেরিয়ে আসতে তিনি হিমশিম খান।
একপর্যায়ে আলিয়েভ উঠে দাঁড়িয়ে নিজেই টেকডাউনের চেষ্টা করেন। ডসন সেই চেষ্টা ঠেকিয়ে ঘণ্টা বাজার আগ পর্যন্ত আক্রমণ চালিয়ে যান। রাউন্ড শেষে ডসন তাঁর দুই টেকডাউন চেষ্টাই সফলভাবে সম্পন্ন করেন এবং ২ মিনিট ৩৫ সেকেন্ড নিয়ন্ত্রণে থাকেন।
একই রাউন্ডে আলিয়েভের নিয়ন্ত্রণে থাকার সময় ছিল মাত্র তিন সেকেন্ড। প্রথম রাউন্ডে ৩৩টি উল্লেখযোগ্য আঘাতের পর দ্বিতীয় রাউন্ডে তাঁর আঘাতের সংখ্যা নেমে আসে ১৮-তে; ডসন হানেন ৩৩টি। শুরুতে আলিয়েভ যেখানে নকআউটের হুমকি তৈরি করেছিলেন, লড়াই ক্রমে সেখান থেকে ডসনের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
পায়ের চোটে শেষ রাউন্ড আরও কঠিন হয়ে ওঠে
লড়াইয়ের সময় বাঁ পায়ে চোট পান আলিয়েভ; শেষ রাউন্ডে তিনি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ফেরেন। পরে লাজোরিনের প্রতিবেদনে চোটটি ঊরুতে বলে উল্লেখ করা হয় এবং গুরুতর হিসেবে বর্ণনা করা হয়। লড়াই শেষে আলিয়েভের চিকিৎসা-সহায়তা ও হুইলচেয়ার প্রয়োজন হয়।
তৃতীয় রাউন্ডে আলিয়েভ এগিয়ে আসার চেষ্টা করলে ডসন নিচের দিকে কিক মারেন। আলিয়েভ বাঁ হাতের ঘুষি মারতে পারলেও তাঁর চলাফেরা ক্রমে কষ্টকর হয়ে ওঠে, আর ডসন বারবার তাঁকে রেসলিংয়ের লড়াইয়ে নিয়ে যান। এসব অবস্থানে ভারসাম্য, পায়ের জোর এবং দ্রুত দিক বদলানোর সামর্থ্য দরকার হয়।
ডসন আরও দুটি টেকডাউন সম্পন্ন করে লড়াই শেষ করেন ফুল মাউন্ট অবস্থানে—আলিয়েভের ধড়ের ওপর বসে, তাঁর দুই পাশে একটি করে পা রেখে। সেখান থেকে ডসন নিচের দিকে আঘাত করতে পারেন, আর আলিয়েভকে বাকি সময় আত্মরক্ষা ও বেরিয়ে আসার চেষ্টায় ব্যয় করতে হয়।
শেষ রাউন্ড পুরো পাঁচ মিনিট চলে। ডসন ৩ মিনিট ২ সেকেন্ড নিয়ন্ত্রণে রাখেন, ফলে টানা আক্রমণ গড়ে তোলার জন্য আলিয়েভের সময় খুব কম ছিল। অপরাজিত রেকর্ড হারানোর পাশাপাশি চোটটিও চিকিৎসাগত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
পরিসংখ্যানে স্পষ্ট, কীভাবে বদলে যায় লড়াই
সরকারি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সাতবারের চেষ্টায় ডসন পাঁচটি টেকডাউন সম্পন্ন করেন; আলিয়েভ দুইবারের চেষ্টায় একটি। ডসন মোট ৬ মিনিট ১৮ সেকেন্ড নিয়ন্ত্রণে ছিলেন, আলিয়েভ ছিলেন ১ মিনিট ২৬ সেকেন্ড।
১৫ মিনিটের লড়াইয়ে ডসন ৪২% সময় নিয়ন্ত্রণে ছিলেন। আলিয়েভের ক্ষেত্রে তা প্রায় ১০%। ডসনের নিয়ন্ত্রণে থাকার সময় আলিয়েভের তুলনায় চার গুণেরও বেশি; এর বেশির ভাগ ব্যবধান তৈরি হয় শেষ দুই রাউন্ডে।
উল্লেখযোগ্য আঘাতের ক্ষেত্রে আলিয়েভের সফলতার হার বেশি: ১০৬টি চেষ্টায় ৬৫টি, অর্থাৎ ৬১%। ডসন ১৮৮টি চেষ্টায় ৯৫টি আঘাত হানেন, সফলতার হার ৫০%। তবে ডসন উল্লেখযোগ্য আঘাতের চেষ্টা অনেক বেশি করায় মোট আঘাতের সংখ্যায় ৩০টি এগিয়ে ছিলেন।
আঘাতের স্থানও লড়াইয়ের গতিপথ বোঝায়। মাটিতে থেকে ডসন ১৬টি উল্লেখযোগ্য আঘাত করেন; ওই পরিসংখ্যান বিভাগে আলিয়েভের কোনো আঘাত ছিল না। উল্লেখযোগ্য আঘাতের বাইরের ছোট আঘাতসহ সব আঘাত ধরলে ডসন ১৪৭-৯৬ ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন।
লড়াই যত এগিয়েছে, ডসনের রেসলিং তত নির্ভরযোগ্য হয়েছে। প্রথম রাউন্ডে তিন চেষ্টার একটিতে টেকডাউন সম্পন্ন করেন তিনি; এরপর দ্বিতীয় ও তৃতীয় রাউন্ড মিলিয়ে চারটি চেষ্টার চারটিই সফল হয়। শুরুতে ডসনের টেকডাউন ঠেকাতে পারলেও লড়াই যত এগোয়, তা ধরে রাখা আলিয়েভের জন্য তত কঠিন হয়ে পড়ে।
তিন রাউন্ডে যেভাবে এগিয়েছে লড়াই
প্রথম পাঁচ মিনিটের মধ্যেই লড়াইয়ের গতিপথ বদলে যায়। এরপর ডসন আঘাত ও টেকডাউন মিলিয়ে লড়াইয়ের নিয়ন্ত্রণ নেন। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো ছিল:
- রাউন্ড ১: ঘুষিতে ডসনকে বিপাকে ফেলেন আলিয়েভ, তবে মাথার পেছনে আঘাতের জন্য গডার্ড তাঁর এক পয়েন্ট কেটে নেন। ডসন সামলে উঠে শেষ দিকে টেকডাউন করেন এবং গিলোটিন চোকের চেষ্টা করেন।
- রাউন্ড ২: ডসন দুটি টেকডাউন সম্পন্ন করেন, ওপর থেকে ঘুষি ও কনুইয়ের আঘাত করেন এবং ২ মিনিট ৩৫ সেকেন্ড আলিয়েভকে নিয়ন্ত্রণে রাখেন।
- রাউন্ড ৩: বাঁ পায়ে চোট নিয়েও লড়াই চালিয়ে যান আলিয়েভ। ডসন আরও দুটি টেকডাউন সম্পন্ন করেন, ফুল মাউন্ট অবস্থানে যান এবং রাউন্ডের তিন মিনিটেরও বেশি সময় নিয়ন্ত্রণে থাকেন।
- শেষ ঘণ্টার পর: তিন বিচারকই ডসনকে ২৯-২৭ স্কোরে জয়ী ঘোষণা করেন। আলিয়েভকে হুইলচেয়ারে করে নিয়ে যেতে হয়।
UFC-র সরকারি স্কোরকার্ডে সর্বসম্মত ফল নিশ্চিত করা হয়েছে। বিচারক টলি প্লেস্টেড, জ্যাকব মন্টালভো ও ক্লেমেন্স ওয়ার্নার—তিনজনই ডসনের পক্ষে একই স্কোর দেন।
র্যাঙ্কিংয়ের কাছাকাছি ডসন
পেশাদার ক্যারিয়ারের ২৫তম জয় লাইটওয়েট র্যাঙ্কিংয়ের কাছাকাছি ডসনের অবস্থান আরও শক্ত করেছে। UFC-র মূল্যায়নে তিনি শীর্ষ ১৫-এর ঠিক বাইরে। অপরাজিত প্রতিপক্ষকে হারানোয় র্যাঙ্কিংয়ে থাকা প্রতিদ্বন্দ্বীদের মুখোমুখি হওয়ার পথে এই জয় কাজে আসতে পারে।
এই পারফরম্যান্সে পরিচিত রেসলিং দক্ষতার পাশাপাশি ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্যও দরকার হয়েছে। শুরুতে আলিয়েভ তাঁকে গুরুতর বিপদে ফেলেছিলেন, কিন্তু ডসন কার্যকর স্ট্রাইকিংয়ে ফিরতে, টেকডাউন সম্পন্ন করতে এবং শেষ ঘণ্টা পর্যন্ত চাপ বজায় রাখতে সক্ষম হন।
লড়াই শেষে ডসন জানান, তাঁর পরিবারে সন্তান আসছে; জয়টি তিনি পরিবার ও ধর্মকে উৎসর্গ করেন। টানা দ্বিতীয় জয়ের সঙ্গে এই ব্যক্তিগত মুহূর্তে যোগ হলো খেলাধুলার এক মাইলফলক: প্রতিপক্ষের পেশাদার ক্যারিয়ারের অপরাজিত রেকর্ডের অবসান।
আবুধাবি থেকে ভিন্ন এক চ্যালেঞ্জ নিয়ে ফিরছেন আলিয়েভ। তাঁর শুরুর আক্রমণ দেখিয়েছে, অভিজ্ঞ UFC লাইটওয়েটকে তিনি বিপদে ফেলতে পারেন। তবে ডসন ধারাবাহিকভাবে টেকডাউন করতে শুরু করার পর তাঁর নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে আসার দুর্বলতাও সামনে এসেছে। এখন তাঁর অগ্রাধিকার চোট পাওয়া পায়ের চিকিৎসা, এরপর প্রথম হারের পর আবার লড়াইয়ের প্রস্তুতি।
দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলা এক প্রিলিমিনারি লড়াই
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে UFC 333-এর প্রিলিমিনারি পর্বে লড়েন ডসন ও আলিয়েভ। ইভেন্টের প্রধান আকর্ষণ ছিল নির্ধারিত ফেদারওয়েট শিরোপার লড়াই, যেখানে চ্যাম্পিয়ন আলেক্সান্ডার ভলকানোভস্কির মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল অপরাজিত চ্যালেঞ্জার মোভসার এভলোয়েভের।
UFC-তে তাজিকিস্তানের প্রথম যোদ্ধা আলিয়েভের জন্য প্রিলিমিনারি লড়াইটিরও বড় প্রভাব ছিল। অপরাজিত রেকর্ড ও UFC-তে চার জয় নিয়ে তিনি লড়াইয়ে নামেন। প্রথম হার, স্কোরে প্রভাব ফেলা পয়েন্ট কর্তন এবং লড়াই শেষে সহায়তা প্রয়োজন হওয়ার মতো চোট নিয়ে তাঁকে ফিরতে হয়।
আরও কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার পক্ষে যুক্তি জোরালো করলেন ডসন। তাঁর জয়ের পথ ছিল স্পষ্ট: আলিয়েভের শুরুর ঝড় সামলানো, স্ট্রাইকিং বাড়ানো এবং শেষ দুই রাউন্ডে একবারও ব্যর্থ না হয়ে চারটি টেকডাউন সম্পন্ন করা।
মূল বিষয়গুলো
- আবুধাবিতে UFC 333-তে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে নুরুল্লো আলিয়েভকে হারিয়েছেন গ্র্যান্ট ডসন; তিন বিচারকই স্কোর দেন ২৯-২৭।
- পেশাদার ক্যারিয়ারে ডসনের রেকর্ড ২৫-৩-১ এবং UFC-তে ১৩-২-১ হলো। আলিয়েভের রেকর্ড যথাক্রমে ১২-১ ও ৪-১।
- প্রথম রাউন্ডে ডসনের মাথার পেছনে আঘাত করার জন্য রেফারি মার্ক গডার্ড আলিয়েভের এক পয়েন্ট কেটে নেন।
- ডসন সাতবারের চেষ্টায় পাঁচটি টেকডাউন সম্পন্ন করেন এবং ৬ মিনিট ১৮ সেকেন্ড নিয়ন্ত্রণে থাকেন।
- বাঁ পায়ে চোট পেয়ে হুইলচেয়ারে করে ফিরেছেন আলিয়েভ। গুরুতর ঊরুর চোটের খবর প্রকাশিত হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় কোনো রোগনির্ণয় বা সেরে ওঠার সময়সীমা জানা যায়নি।






