১২ গোল করে শুরু করা চ্যাম্পিয়নদের থামাল ফ্ল্যামিঙ্গোরা
২৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মরক্কোর সালে শহরের মোহাম্মদ ষষ্ঠ ফুটবল কমপ্লেক্সে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ডিপিআর কোরিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ নারী বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে নাইজেরিয়া। ওলুওয়াকেমি আদেগবুই, ওলুয়েবুবে উমেজিয়াকু ও কানইনসোলা ইউসুফ গোল করেন। প্রথম দুই ম্যাচে ১২ গোল করা প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তিন গোলের লিড গড়ে তোলে ফ্ল্যামিঙ্গোরা।
সূচিপত্র
- ১২ গোল করে শুরু করা চ্যাম্পিয়নদের থামাল ফ্ল্যামিঙ্গোরা
- যেভাবে তিন গোলের লিড গড়ে নাইজেরিয়া
- কেন এই ম্যাচ ছিল কঠিন চ্যালেঞ্জ
- বল দখলে ডিপিআর কোরিয়া, গোল করায় এগিয়ে নাইজেরিয়া
- ছয় পয়েন্ট নিয়ে তিন দল, তিন দলেরই পরের পর্ব নিশ্চিত
- তিন ম্যাচে নাইজেরিয়ার ঘুরে দাঁড়ানো
- উদযাপন ওদুনতানের, আরও শক্তি চান জি
- ২৯ অক্টোবর অপেক্ষায় নতুন পরীক্ষা
- মূল তথ্য
কোচ আকিম বুসারির দল ছয় পয়েন্ট নিয়ে ‘বি’ গ্রুপে দ্বিতীয় হয়েছে। ডিপিআর কোরিয়া ও পোল্যান্ডও ছয় পয়েন্ট পেয়েছে। গোল ব্যবধানে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নরা প্রথম এবং পোল্যান্ড তৃতীয় হয়েছে। তিন দলই পরের পর্বে উঠেছে; তৃতীয় স্থান পাওয়া দলগুলোর জন্য নির্ধারিত পথ ধরে জায়গা নিশ্চিত করেছে পোল্যান্ড।
ফিফার ২৩ অক্টোবরের সারসংক্ষেপে নাইজেরিয়ার জয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে, ইউসুফকে ম্যাচসেরা বলা হয়েছে এবং ইউ জং-হিয়াংয়ের শেষ দিকের গোলটি পেনাল্টি থেকে হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। টানা তৃতীয় শিরোপার লক্ষ্যে থাকা ডিপিআর কোরিয়ার জয়ের ধারাও এই ফলে থেমেছে।
পোল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল নাইজেরিয়া। এরপর পুয়ের্তো রিকোর বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে সেই প্রত্যাবর্তনকে গ্রুপ পর্বের সেরা ফলে রূপ দেয় ফ্ল্যামিঙ্গোরা; এক ম্যাচেই তারা ডিপিআর কোরিয়ার আগের দুই ম্যাচে হজম করা গোলের চেয়ে বেশি গোল করে।
যেভাবে তিন গোলের লিড গড়ে নাইজেরিয়া
১৫তম মিনিটে গোলের সূচনা করেন আদেগবুই। বাঁ দিকে বল পেয়ে ডিফেন্ডারকে সামলে ডান পায়ে শট নেন ১৬ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়। টুর্নামেন্টে এর আগে মাত্র এক গোল হজম করা রক্ষণভাগের বিপক্ষে শুরুতেই এগিয়ে যায় নাইজেরিয়া।
৩৮তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উমেজিয়াকু। তসিন রাফিউয়ের পাস পেয়ে ডিপিআর কোরিয়ার অর্ধে এগিয়ে যান তিনি এবং গোলরক্ষক কিম সন-গিয়ংকে পরাস্ত করে গোল করেন। বিরতিতে ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল নাইজেরিয়া। গ্রুপ পর্বে প্রথমবারের মতো পিছিয়ে পড়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জে পড়ে চ্যাম্পিয়নরা।
ফিফার ম্যাচ বিবরণ অনুযায়ী, দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আরও তীব্রভাবে আক্রমণে যায় ডিপিআর কোরিয়া। চাপ সামলে ৫৬তম মিনিটে আবারও গোল করে নাইজেরিয়া। ফ্রি কিক থেকে গোল করেন ইউসুফ। ৩-০ গোলে এগিয়ে গিয়ে বাকি আধা ঘণ্টারও বেশি সময়ের জন্য বড় ব্যবধানের নিরাপত্তা পায় ফ্ল্যামিঙ্গোরা।
গোলদাতাকে ফিফা কানইনসোলা ইউসুফ হিসেবে উল্লেখ করলেও ম্যাচের পরিসংখ্যানে তাঁর নাম রোদিয়াত ইউসুফ লেখা হয়েছে। ফিফার বিবরণে ম্যাচসেরার পুরস্কারপ্রাপ্ত হিসেবেও কানইনসোলা ইউসুফের নাম রয়েছে।
৮২তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান কমান ইউ জং-হিয়াং। ৮৮তম মিনিটে আদেগবুইয়ের গোল নাইজেরিয়ার ব্যবধান আরও বাড়িয়েছে বলে মনে হয়েছিল, কিন্তু ভিডিও পর্যালোচনার পর আক্রমণের শুরুতে ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল হয়। ৩-১ ব্যবধানেই শেষ হয় ম্যাচ।
কেন এই ম্যাচ ছিল কঠিন চ্যালেঞ্জ
ম্যাচের আগে পুয়ের্তো রিকোকে ৬-০ এবং পোল্যান্ডকে ৬-১ গোলে হারিয়েছিল ডিপিআর কোরিয়া। দুই জয়ে তারা ১২ গোল করে মাত্র একটি হজম করেছিল। এমন দাপুটে শুরু প্রতিপক্ষকে হারানোর কাজটি বিশেষ কঠিন করে তোলে, বিশেষ করে পোল্যান্ডের কাছে নিজেরা হারের পর নাইজেরিয়ার জন্য।
শুরুর ওই দুই জয়ে ইউ ও কিম ওন-সিম—দুজনই চারটি করে গোল করেছিলেন। একসঙ্গে তারা ডিপিআর কোরিয়ার ১২ গোলের আটটি, অর্থাৎ মোট গোলের দুই-তৃতীয়াংশ করেন। রি ই-রিমও দুই প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই গোল করেছিলেন। ফলে নাইজেরিয়াকে সামলাতে হয়েছিল একাধিক প্রতিষ্ঠিত গোলদাতাকে।
বর্তমান ফর্মের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সম্মাননাও নিয়ে এসেছিলেন ইউ। ২০২৫ সালের টুর্নামেন্টে তিনি জিতেছিলেন গোল্ডেন বল ও গোল্ডেন বুট। যথাক্রমে প্রতিযোগিতার সেরা খেলোয়াড় ও সর্বোচ্চ গোলদাতাকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করে চলতি গ্রুপ পর্বে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়ায় পাঁচে।
তারপরও ডিপিআর কোরিয়াকে এক গোলেই আটকে রেখে নিজেরা তিন গোল করে নাইজেরিয়া। পুয়ের্তো রিকো ও পোল্যান্ডের বিপক্ষে ১৮০ মিনিটে মাত্র একবার গোল হজম করেছিল চ্যাম্পিয়নরা; ফ্ল্যামিঙ্গোরা বিরতির আগেই গোলরক্ষককে দুবার পরাস্ত করে। বুসারির খেলোয়াড়েরা কতটা বদলে দিয়েছিলেন ম্যাচের চিত্র, তা এই তুলনাতেই স্পষ্ট।
বল দখলে ডিপিআর কোরিয়া, গোল করায় এগিয়ে নাইজেরিয়া
নাইজেরিয়ার ৪১ শতাংশের বিপরীতে ডিপিআর কোরিয়ার বল দখলে ছিল ৫৯ শতাংশ। গোলের লক্ষ্যে নেওয়া শটের হিসাবেও ৭-৫ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল চ্যাম্পিয়নরা। বল কম সময় নিজেদের দখলে রেখেও এবং গোলরক্ষকের সেভ দরকার হয়েছে বা গোলে পরিণত হয়েছে—এমন শট কম নিয়েও জয় পায় নাইজেরিয়া।
গোলের লক্ষ্যে নেওয়া পাঁচটি শটের তিনটিতেই গোল করে নাইজেরিয়া; বিপরীতে ডিপিআর কোরিয়ার সাতটি শটের একটি থেকে গোল আসে। সহজভাবে বললে, ফ্ল্যামিঙ্গোরা নিজেদের লক্ষ্যে থাকা শটের বেশি অংশকে কাজে লাগিয়েছে।
৪১৯টি পাসের চেষ্টায় ২৭১টি সম্পন্ন করে ডিপিআর কোরিয়া; নাইজেরিয়ার ক্ষেত্রে ২৮২টির মধ্যে সম্পন্ন পাস ১৪৯টি। পাসের নির্ভুলতা ছিল চ্যাম্পিয়নদের ৬৫ শতাংশ, নাইজেরিয়ার ৫৩ শতাংশ। বল আদান-প্রদানে চ্যাম্পিয়নরা বেশি সফল হলেও নাইজেরিয়ার গোলের আক্রমণগুলো ও ফ্রি কিকই এনে দেয় নির্ণায়ক সুবিধা।
ফিফার বিবরণে নাইজেরিয়ার প্রথম দুই গোলের ধরন আলাদা করে তুলে ধরা হয়েছে: বাঁ দিকে ডিফেন্ডারকে শক্তিতে সামলে গোল করেন আদেগবুই, আর উমেজিয়াকু প্রতিপক্ষের অর্ধ দিয়ে এগিয়ে গোল করেন। এরপর ফ্রি কিক থেকে গোল করেন ইউসুফ। খোলা খেলায় এবং ফাউলের কারণে খেলা থেমে যাওয়ার পর—দুইভাবেই গোলের পথ খুঁজে পায় নাইজেরিয়া।
ছয় পয়েন্ট নিয়ে তিন দল, তিন দলেরই পরের পর্ব নিশ্চিত
‘বি’ গ্রুপে ডিপিআর কোরিয়া, নাইজেরিয়া ও পোল্যান্ড—প্রতিটি দলই দুটি জয় ও একটি হার নিয়ে পর্ব শেষ করে। গোল ব্যবধান, অর্থাৎ করা গোল থেকে হজম করা গোল বাদ দিয়ে, চূড়ান্ত অবস্থানে তাদের আলাদা করে।
ডিপিআর কোরিয়ার গোল ব্যবধান ছিল প্লাস ৯, নাইজেরিয়ার প্লাস ৩ এবং পোল্যান্ডের শূন্য। তিন ম্যাচে ছয় গোল করার পাশাপাশি তিনটি হজম করে নাইজেরিয়া। আগের দুই জয়ে পাওয়া বড় ব্যবধানের সুবিধায় ফ্ল্যামিঙ্গোদের কাছে হারলেও প্রথম স্থান ধরে রাখে ডিপিআর কোরিয়া।
গ্রুপের অন্য শেষ ম্যাচে পুয়ের্তো রিকোকে ৬-২ গোলে হারিয়ে তৃতীয় হয় পোল্যান্ড। তাদের ছয় পয়েন্টও পরের পর্বে ওঠার জন্য যথেষ্ট হয়। ফলে নাইজেরিয়ার জয়ে শীর্ষ দলগুলোর অবস্থান বদলালেও পোল্যান্ডের টুর্নামেন্ট শেষ হয়নি।
পোল্যান্ডের হয়ে গোল করেন মায়া লেশকিয়েভিচ, জোফিয়া শভিতালা এবং দুটি করে গোল করেন জোফিয়া বুরজান ও উইক্টোরিয়া শ্ক্রিপচাক। পুয়ের্তো রিকোর আলেয়া ওলমো দলের দুটি গোলই করেন; ফিফা বিশ্বকাপে দেশটির এটাই প্রথম গোল। পয়েন্ট ছাড়াই গ্রুপ শেষ করে পুয়ের্তো রিকো, তবে ওলমোর গোল দেশটির অভিষেক অভিযানে একটি স্মরণীয় মাইলফলক এনে দেয়।
তিন ম্যাচে নাইজেরিয়ার ঘুরে দাঁড়ানো
দুটি ভিন্ন ফল নিয়ে শেষ গ্রুপ ম্যাচে পৌঁছেছিল বুসারির দল। পোল্যান্ডের কাছে হার তাদের জবাব দেওয়ার প্রয়োজন তৈরি করে। পুয়ের্তো রিকোর বিপক্ষে জয় চ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হওয়ার আগে পরের পর্বে ওঠার সুযোগ ফিরিয়ে আনে।
- উদ্বোধনী ম্যাচ: পোল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলে হারে নাইজেরিয়া।
- ২০ অক্টোবর: পুয়ের্তো রিকোর বিপক্ষে ২৫তম মিনিটে গোল করেন আদেগবুই। বদলি খেলোয়াড় প্রেশাস অস্কার যোগ করা সময়ে গোল করে ২-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন।
- ২৩ অক্টোবর: ডিপিআর কোরিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ‘বি’ গ্রুপে দ্বিতীয় হয় নাইজেরিয়া।
- ২৯ অক্টোবর: ‘এফ’ গ্রুপে দ্বিতীয় হওয়া দলের বিপক্ষে নাইজেরিয়ার শেষ ষোলোর ম্যাচ নির্ধারিত ছিল।
নাইজেরিয়ার দুই জয়েই গোল করেন আদেগবুই; পুয়ের্তো রিকোর বিপক্ষে ম্যাচসেরার পুরস্কারও পান তিনি। ওই ম্যাচে অস্কারের শেষ দিকের গোল নাইজেরিয়াকে আরেকজন গোলদাতা দেয় এবং কঠিন শেষ গ্রুপ ম্যাচের আগে জয়ের ব্যবধানও বাড়ায়।
এক গোলের হার এবং এরপর দুই গোলের ব্যবধানে দুটি জয়—এই ফলেই গ্রুপ পর্বে নাইজেরিয়ার গোল ব্যবধান দাঁড়ায় প্লাস ৩। ফলে তাদের প্রত্যাবর্তনে পয়েন্ট বাড়ার পাশাপাশি গোল ব্যবধানও উন্নত হয়, যা শেষ পর্যন্ত পোল্যান্ডের ওপরে থাকতে সহায়তা করে।
উদযাপন ওদুনতানের, আরও শক্তি চান জি
পরের পর্বে ওঠার পর সতীর্থদের প্রশংসা করেন নাইজেরিয়ার অধিনায়ক আজিজাত ওদুনতান; তবে সামনে নকআউট পর্বের কথাও মনে করিয়ে দেন তিনি। ফিফায় তাঁর প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা হয়েছে:
আমার সতীর্থদের নিয়ে আমি ভীষণ গর্বিত, কারণ তারা সবাই মাঠে নেমে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমাদের এগিয়ে যেতে হবে, লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। আমি রোমাঞ্চিত, কিন্তু আমরা এখনো লক্ষ্যে পৌঁছাইনি, কারণ মাত্র পরের রাউন্ডে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছি।
ওদুনতানের বার্তায় উদযাপনের পাশাপাশি অবিলম্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফেরার তাগিদও ছিল। শুরুতে হারের পর ঘুরে দাঁড়িয়ে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের হারিয়েছে নাইজেরিয়া; তবে শেষ ষোলোর ম্যাচই ঠিক করবে তাদের অভিযান কোয়ার্টার ফাইনালের পথে এগোবে কি না।
ডিপিআর কোরিয়ার কোচ জি ইউন-নাম খেলোয়াড়দের শারীরিক চ্যালেঞ্জের দিকটিতে নজর দেন। নাইজেরিয়ার শক্তির কাছে তাঁর দলের দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে এবং মাঠে ফেরার আগে এ জায়গায় উন্নতি দরকার বলে জানান তিনি:
নাইজেরিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলে বুঝেছি, বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কতটা কঠিন। আফ্রিকান একটি দলের মুখোমুখি হয়ে এটাও বুঝেছি যে শক্তির দিক থেকে আমাদের আরও ভালো প্রস্তুতি নেওয়া দরকার। শেষ ষোলোর জন্য আমরা ভালোভাবে প্রস্তুতি নেব এবং আরও ভালো ফলের লক্ষ্য রাখব।
২৯ অক্টোবর অপেক্ষায় নতুন পরীক্ষা
২৯ অক্টোবর ‘এফ’ গ্রুপে দ্বিতীয় হওয়া দলের বিপক্ষে নাইজেরিয়ার পরের ম্যাচ নির্ধারিত ছিল। ওই গ্রুপে ছিল স্পেন, চিলি, অস্ট্রেলিয়া ও মেক্সিকো। প্রতিপক্ষ তখনও নিশ্চিত হয়নি।
নকআউট পর্বে প্রতিটি ফলের গুরুত্ব বদলে যায়। গ্রুপ ম্যাচে পোল্যান্ডের কাছে হারের পরও ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ ছিল নাইজেরিয়ার; শেষ ষোলোয় হারলেই টুর্নামেন্ট শেষ। ২০২২ সালের ব্রোঞ্জজয়ী ফ্ল্যামিঙ্গোদের সামনে এখন শেষ দিকের পর্বগুলোতে এগিয়ে যাওয়ার আরেকটি সুযোগ।
বুসারির দল ডিপিআর কোরিয়ার বিপক্ষে তিন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে তিনটি গোল পেয়েছে। পুয়ের্তো রিকোর বিপক্ষেও গোল করেছিলেন আদেগবুই, উমেজিয়াকু খোলা খেলায় গোল যোগ করেন, আর ইউসুফের ফ্রি কিকেই শেষ গ্রুপ ম্যাচে চ্যাম্পিয়নদের শেষ দিকের প্রত্যাবর্তনের সুযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
ডিপিআর কোরিয়াও পরের পর্বে উঠেছে এবং তারাও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে। প্রথম দুই জয় তাদের ‘বি’ গ্রুপের শীর্ষে রেখেছে; তবে নাইজেরিয়া পরের পর্বে যাচ্ছে এই প্রমাণ নিয়ে যে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদেরও হারানো যায়।
মূল তথ্য
- ২৩ অক্টোবর ২০২৬ সালে সালে শহরে ডিপিআর কোরিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছে নাইজেরিয়া।
- আদেগবুই, উমেজিয়াকু ও ইউসুফ গোল করেন; পরে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান কমান ইউ জং-হিয়াং।
- কানইনসোলা ইউসুফকে ম্যাচসেরা ঘোষণা করে ফিফা।
- ডিপিআর কোরিয়া, নাইজেরিয়া ও পোল্যান্ড ছয় পয়েন্ট নিয়ে পরের পর্বে উঠেছে।
- গোল ব্যবধানে ডিপিআর কোরিয়া প্রথম, নাইজেরিয়া দ্বিতীয় এবং পোল্যান্ড তৃতীয় হয়েছে।
- ‘এফ’ গ্রুপের দ্বিতীয় হওয়া দলের বিপক্ষে ২৯ অক্টোবর নাইজেরিয়ার পরের ম্যাচ নির্ধারিত ছিল।






