দুই আয়োজক দেশে ২৩ দিনের টুর্নামেন্ট
২০২৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত যৌথভাবে ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ আয়োজন করবে আজারবাইজান ও উজবেকিস্তান। ২৪টি জাতীয় দল নিয়ে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো অংশ নেবে আজারবাইজান; উজবেকিস্তানের জন্য এটি হবে সপ্তমবারের মতো অংশগ্রহণ।
সূচিপত্র
আজারবাইজান ফুটবল ফেডারেশনস অ্যাসোসিয়েশন (AFFA) এবং উজবেকিস্তান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সূত্রে দেওয়া ঘোষণায় বলা হয়েছে, ২২ অক্টোবরের সভায় ফিফা কাউন্সিলের ব্যুরো তারিখগুলো অনুমোদন করেছে। উদ্বোধন ও সমাপনী—দুই দিনসহ টুর্নামেন্টটি চলবে ২৩ দিন।
২০২৫ সালের ২ অক্টোবর জুরিখে ফিফা কাউন্সিল দুই দেশকে আয়োজক হিসেবে নির্বাচিত করার পর এই সিদ্ধান্তে টুর্নামেন্টের নির্দিষ্ট সময়সূচি চূড়ান্ত হলো। ওই সভায় যৌথ আয়োজক হিসেবে তাদের নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল ফিফা কাউন্সিলের ঘোষণা। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলের দুই ভিন্ন শাখার দেশ একসঙ্গে আয়োজক হচ্ছে: ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার সদস্য আজারবাইজান, আর উজবেকিস্তান এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সদস্য।
২০২৭ সালের আসর হবে ভিন্ন মহাদেশীয় কনফেডারেশনের দেশগুলোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত প্রথম ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ। আয়োজক দুই দলই স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ্যতা অর্জন করবে, ফলে তাদের তরুণ খেলোয়াড়েরা টুর্নামেন্টে খেলার নিশ্চয়তা পাবেন। বর্তমানে এ প্রতিযোগিতার শিরোপাধারী মরক্কো, যারা ২০২৫ সালে চিলিতে অনুষ্ঠিত আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
দল ও সমর্থকদের জন্য তারিখগুলোর তাৎপর্য
টুর্নামেন্টের সূচনার তারিখ এখন ১৭ সেপ্টেম্বর, আর প্রতিযোগিতা শেষ হবে ৯ অক্টোবর। জাতীয় দলগুলোর জন্য এই তারিখগুলো প্রস্তুতির লক্ষ্য নির্ধারণ করে দিচ্ছে। সমর্থকদের জন্যও এগুলো জানিয়ে দিচ্ছে, দুই দেশের কোথায় ও কখন ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে।
আয়োজক শহর, স্টেডিয়াম, দুই দেশের মধ্যে ম্যাচ বণ্টন, বিস্তারিত সূচি এবং টিকিট বিক্রির তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। কোন দল কোথায় খেলবে এবং সমর্থকদের কোথায় যাতায়াত করতে হবে, তা এসব তথ্যের ওপর নির্ভর করবে।
তাই আজারবাইজান ও উজবেকিস্তানের সামনে দুটি পরস্পর-সম্পর্কিত কাজ রয়েছে: সফরকারী দলগুলোকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি এবং জাতীয় ও কনফেডারেশন সীমানা পেরিয়ে একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন। তারিখগুলো টুর্নামেন্টের সময়কাল নির্ধারণ করেছে; ভেন্যু ও ম্যাচসংক্রান্ত ঘোষণা খেলোয়াড় ও দর্শকদের জন্য সেই সময়সূচিকে বাস্তব রূপ দেবে।
২৪টি জায়গা যেভাবে পূরণ হবে
আয়োজক হওয়ার সুবাদে ২৪টি জায়গার মধ্যে দুটি পাবে আজারবাইজান ও উজবেকিস্তান। বাকি ২২টি জায়গা অন্য জাতীয় দলগুলোর জন্য থাকবে; অর্থাৎ মোট দলের এক-দ্বাদশাংশ হবে আয়োজক দুই দেশ।
ছয়টি মহাদেশীয় কনফেডারেশনের দলগুলোই অংশ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এসব সংস্থা আফ্রিকা, এশিয়া, ইউরোপ, ওশেনিয়া, উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চল, আর দক্ষিণ আমেরিকায় ফুটবল পরিচালনা করে। তারা আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে, যার মাধ্যমে ফিফা টুর্নামেন্টে কোন জাতীয় দলগুলো যাবে তা নির্ধারিত হয়।
ঘোষণার সঙ্গে দেওয়া যোগ্যতা অর্জনের বিবরণ অনুযায়ী, বাকি জায়গাগুলো মহাদেশীয় যুব চ্যাম্পিয়নশিপের মাধ্যমে পূরণ হবে; শেষ জায়গাটি নির্ধারিত হবে আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফে। প্লে-অফ হলো অবশিষ্ট কোনো জায়গার জন্য নির্ধারক ম্যাচ; আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফে ভিন্ন কনফেডারেশনের দলগুলো মুখোমুখি হয়।
অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ তরুণ খেলোয়াড়দের জাতীয় দলের প্রতিযোগিতা, পেশাদার ক্লাবের টুর্নামেন্ট নয়। খেলোয়াড়েরা নিজেদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন, তাই অনেকের বেড়ে ওঠার ঘরোয়া লিগ থেকে এই আসরের পরিবেশ ভিন্ন। আয়োজক দুই দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন নিজেদের দল প্রস্তুত করার পাশাপাশি আয়োজনের কাজেও সহায়তা করবে।
আজারবাইজানের প্রথম অংশগ্রহণ, উজবেকিস্তানের প্রত্যাবর্তন
পুরুষদের কোনো ফিফা বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট প্রথমবার আয়োজন করবে আজারবাইজান। স্বয়ংক্রিয় যোগ্যতা অর্জনের ফলে দেশটির অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় দলও প্রথমবারের মতো চূড়ান্ত পর্বে খেলবে। আয়োজক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এটি দেশটির জন্য একটি ক্রীড়া-অর্জন।
এই প্রতিযোগিতায় উজবেকিস্তানের অভিজ্ঞতা বেশি। ২০২৭ সালের টুর্নামেন্টে দেশটি সপ্তমবার অংশ নেবে। ২০১৩ ও ২০১৫ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠাই তাদের সেরা ফল। ওই দুই আসরে উজবেকিস্তান শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছিল।
এই পার্থক্য দুই দেশের অংশীদারত্বকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য দিয়েছে। আজারবাইজান এই পর্যায়ে প্রথমবার খেলবে, আর উজবেকিস্তান আগের আসরগুলোতে পরের রাউন্ডে ওঠার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে। দুই দেশই যে টুর্নামেন্ট আয়োজনে সহায়তা করছে, তাতে খেলার সুযোগ পাবে।
২০২৪ সালে ফিফা ফুটসাল বিশ্বকাপও আয়োজন করেছিল উজবেকিস্তান। ফুটসাল ফুটবলের আলাদা একটি ধরন, যা সাধারণত ইনডোরে ছোট কোর্টে খেলা হয়; প্রতিটি দলে থাকেন পাঁচজন খেলোয়াড়। ফিফার বিশ্ব আসরে জাতীয় দলগুলোকে স্বাগত জানানোর সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা পেয়েছে দেশটি, যদিও ২০২৭ সালের টুর্নামেন্ট হবে মাঠের ফুটবল।
মরক্কো শিরোপাধারী, সামনে নতুন আসর
২০২৭ সালের প্রতিযোগিতাটি হবে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের ২৫তম আসর। ১৯৭৭ সালে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্ট সাধারণত প্রতি দুই বছর পরপর অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ ইতিহাসের কারণে সিনিয়র জাতীয় দলে খেলার কাছাকাছি পর্যায়ে থাকা খেলোয়াড়দের জন্য এটি প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মঞ্চ।
চিলিতে ২০২৫ সালের আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়ে শিরোপা জিতেছে মরক্কো। এখন প্রস্তুতি এগোচ্ছে আজারবাইজান ও উজবেকিস্তানকে ঘিরে। পরবর্তী আসরটি হবে ভিন্ন আঞ্চলিক পরিবেশে: দক্ষিণ আমেরিকা থেকে সরে উয়েফার সদস্য এক দেশ ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সদস্য আরেক দেশের যৌথ আয়োজনে।
উজবেকিস্তান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপকে সিনিয়র বিশ্বকাপের পর ফিফার দ্বিতীয় মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় দলীয় টুর্নামেন্ট হিসেবে বর্ণনা করেছে। আয়োজক দেশগুলোর জন্য এর তাৎক্ষণিক গুরুত্ব স্পষ্ট: তাদের তরুণ জাতীয় দলগুলো নিজ দেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে এবং স্থানীয় দর্শকেরা নিজেদের দেশেই বিশ্বব্যাপী যুব প্রতিযোগিতা দেখার সুযোগ পাবেন।
বাকুজুড়ে ইতিমধ্যে দেখা গেছে টুর্নামেন্টের পরিচিতি
খেলার তারিখ ঘোষণার আগে ১৬ অক্টোবর টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক ব্র্যান্ড উন্মোচন করা হয়। আজারবাইজানি স্লোগান "Bu oyun sənlikdir"-এর অর্থ "এই খেলা তোমার জন্য"; এটি তরুণ ফুটবলার ও তাদের অনুসরণ করা সমর্থকদের উদ্দেশে বলা হয়েছে।
বাকুর দুটি উল্লেখযোগ্য স্থাপনায় প্রক্ষেপণের মাধ্যমে ব্র্যান্ডটি উন্মোচন করা হয়: মেইডেন টাওয়ার ও বাকু অলিম্পিক স্টেডিয়াম। এসব আলোকচিত্রে আজারবাইজানের রাজধানীতে টুর্নামেন্টের দৃশ্যমান পরিচিতি তুলে ধরা হয়, যেখানে ঐতিহাসিক নগর স্থাপনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বড় ক্রীড়া ভেন্যু।
টিকিট বিক্রির বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য পেতে সমর্থকেরা ফিফার টিকিট-সংক্রান্ত তথ্য পৃষ্ঠায় নিবন্ধন করতে পারেন। ম্যাচের স্থান ও টিকিটের ব্যবস্থা চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় আগ্রহী সমর্থকদের পরবর্তী ঘোষণা অনুসরণ করার সুযোগ দেবে এই নিবন্ধন।
টুর্নামেন্ট আয়োজনের গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলো
আয়োজক নির্বাচনের সিদ্ধান্ত এবং খেলার সময়কাল চূড়ান্ত করা আলাদা দুটি পদক্ষেপ। ২০২৫ সালে ফিফা কাউন্সিল দেশ দুটি নির্বাচন করে; পরে ফিফা কাউন্সিলের ব্যুরো প্রতিযোগিতার তারিখ নির্ধারণ করে।
- ২ অক্টোবর, ২০২৫: জুরিখে সভায় আজারবাইজান ও উজবেকিস্তানকে যৌথ আয়োজক হিসেবে নির্বাচন করে ফিফা কাউন্সিল।
- ১৬ অক্টোবর: মেইডেন টাওয়ার ও বাকু অলিম্পিক স্টেডিয়ামে প্রক্ষেপণসহ টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক ব্র্যান্ড উন্মোচন করা হয়।
- ২২ অক্টোবর: আয়োজক অ্যাসোসিয়েশনগুলোর ঘোষণা অনুযায়ী, ফিফা কাউন্সিলের ব্যুরো টুর্নামেন্টের তারিখ অনুমোদন করে।
- ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৭: অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ শুরু হবে।
- ৯ অক্টোবর, ২০২৭: টুর্নামেন্ট শেষ হবে।
পরবর্তী ব্যবহারিক ঘোষণাগুলোতে জানানো হবে ম্যাচ কোথায় হবে, দুই আয়োজক দেশের মধ্যে কীভাবে তা বণ্টিত হবে এবং সমর্থকেরা কবে টিকিট কিনতে পারবেন। এসব সিদ্ধান্ত নিশ্চিত আন্তর্জাতিক সূচিকে প্রতিটি ম্যাচের পরিকল্পনায় রূপ দেবে।
মূল বিষয়গুলো
- ২০২৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ আয়োজন করবে আজারবাইজান ও উজবেকিস্তান।
- টুর্নামেন্টে থাকবে ২৪টি জাতীয় দল, যার মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ্যতা পাওয়া আয়োজক দুই দলও রয়েছে।
- আজারবাইজান প্রথমবার অংশ নেবে; উজবেকিস্তান খেলবে সপ্তমবারের মতো।
- আয়োজক দেশ দুটি ভিন্ন কনফেডারেশনের সদস্য: উয়েফা ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন।
- চিলিতে ২০২৫ সালের টুর্নামেন্ট জিতে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মরক্কো।
- আয়োজক শহর, স্টেডিয়াম, নির্দিষ্ট ম্যাচের সূচি এবং টিকিট বিক্রির তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।






