টানা ৪৯তম জয়ে ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালে আন সে-ইয়ং, মুখোমুখি হবেন সিন্ধুর

পড়তে 8 মিনিট
An Se-young reaches French Open final with 49th straight win, sets up Sindhu showdown

দশম শিরোপা থেকে এক জয় দূরে

জাপানের নোজোমি ওকুহারাকে ২১-১২, ২১-১৯ গেমে হারিয়ে ২০২৬ সালের ২৪ অক্টোবর ফ্রেঞ্চ ওপেনের সেমিফাইনালে টানা জয়ের সংখ্যা ৪৯-এ নিয়ে গেছেন আন সে-ইয়ং। ফ্রান্সের ত্রঁবলে-আঁ-ফ্রঁসের আরেনা গ্রঁ পারিতে ৪৫ মিনিট খেলেই বিশ্ব এক নম্বর এই খেলোয়াড় মৌসুমের দশম শিরোপা থেকে এক জয় দূরে পৌঁছান।

সূচিপত্র
  1. দশম শিরোপা থেকে এক জয় দূরে
  2. সেমিফাইনালে সাত পয়েন্টের মোড়
  3. একটি ম্যাচ থেকে সরে দাঁড়ানোসহ জয়ের মৌসুম
  4. চার রাউন্ডে একটি গেমও হারেননি
  5. জয়ের ধারার পেছনে শারীরিক চাপ
  6. আনের বিপক্ষে আরেকটি সুযোগ পেলেন সিন্ধু
  7. হাতের নাগালে ফ্রেঞ্চ ওপেনের শিরোপা ও মৌসুমি রেকর্ড
  8. ফাইনালের পেছনের তারিখগুলো
  9. মূল বিষয়গুলো

২৫ অক্টোবরের ফাইনালে নেটের ওপারে থাকবেন ভারতের পি. ভি. সিন্ধু। ৭৩ মিনিটের লড়াইয়ে জাপানের হিনা আকেচিকে ২১-১০, ২০-২২, ২১-১৬ গেমে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছেন তিনি। সিন্ধুর সঙ্গে আগের ১০টি সাক্ষাতের সব কটিতেই জিতেছেন আন। জাপান ওপেনের শিরোপা নিয়ে ফাইনালে আসছেন সিন্ধু, সামনে আনকে হারিয়ে সেই পরাজয়ের ধারা ভাঙার আরেকটি সুযোগ।

মৌসুমে আন এখন পর্যন্ত ৬৫টি জয় ও একটি হার পেয়েছেন, জয়ের হার প্রায় ৯৮.৫ শতাংশ। মার্চে অল ইংল্যান্ড ওপেনের ফাইনালে চীনের ওয়াং ঝি ইয়ের কাছে হারটাই তার একমাত্র পরাজয়। এরপর শেষ হওয়া প্রতিটি ম্যাচেই জয় পেয়েছেন তিনি।

২৪ বছর বয়সী দক্ষিণ কোরীয় খেলোয়াড়ের লক্ষ্য চতুর্থ ফ্রেঞ্চ ওপেন শিরোপা এবং টুর্নামেন্টে টানা তৃতীয় শিরোপা। এক সপ্তাহ আগে ডেনমার্ক ওপেনের ফাইনালে অ্যাকিলিস টেন্ডনে ব্যথা নিয়েও খেলেছেন তিনি। পরে স্বীকার করেছেন, খেলা চালিয়ে যাওয়া শারীরিকভাবে কঠিন হয়ে পড়েছে।

সেমিফাইনালে সাত পয়েন্টের মোড়

বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে নবম স্থানে থাকা ওকুহারার বিপক্ষে এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বার খেলতে নেমেছিলেন আন। ১৭ অক্টোবর ডেনমার্ক ওপেনের সেমিফাইনালে ২১-১৬, ২১-৮ গেমে জিতেছিলেন আন। ফ্রান্সেও প্রথম গেমে নিয়ন্ত্রণ ছিল তার হাতে। বিরতিতে ১১-৫ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শেষ পর্যন্ত ২১-১২ ব্যবধানে গেমটি জেতেন তিনি।

দ্বিতীয় গেমে জয়ের জন্য আরও কঠিন লড়াই করতে হয়। ওকুহারা ৭-৩ ব্যবধানে এগিয়ে চার পয়েন্টের ব্যবধান গড়ে ম্যাচ দীর্ঘ করার সুযোগ তৈরি করেন। টানা সাত পয়েন্ট জিতে জবাব দেন আন, ঘাটতি মিটিয়ে ১০-৭ ব্যবধানে এগিয়ে যান তিনি।

বিজ্ঞাপন

তবে লড়াই ছাড়েননি ওকুহারা। বিরতিতে আন ১১-৯ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও জাপানি খেলোয়াড় ১১-১১-তে সমতা ফেরান। পরে ব্যবধান কমিয়ে আনেন ২০-১৯-এ। আন যখন ম্যাচ পয়েন্টে, তখন ওকুহারার একটি ভুলে শেষ হয় লড়াই।

শেষ দিকের লড়াইয়ের বিবরণ থেকে বোঝা যায়, সরাসরি দুই গেমে জয়ের হিসাবেই পুরো গল্প ধরা পড়ে না। প্রথম গেমে নয় পয়েন্টের ব্যবধানে জিতলেও দ্বিতীয় গেমে ব্যবধান ছিল মাত্র দুই পয়েন্ট। শুরুতে পিছিয়ে পড়ার পর ঘুরে দাঁড়াতে হয়েছে আনকে, এরপর শেষ মুহূর্তে সামান্য ব্যবধান ধরে রাখতে হয়েছে।

ওকুহারার বিপক্ষে আন এখন ৭-০ ব্যবধানে এগিয়ে। টানা দুই সপ্তাহে তাদের দুটি সেমিফাইনাল দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে ব্যবধানও দেখায়: ডেনমার্কে দ্বিতীয় গেমে ওকুহারা করেছিলেন আট পয়েন্ট, ফ্রান্সে করেছেন ১৯।

একটি ম্যাচ থেকে সরে দাঁড়ানোসহ জয়ের মৌসুম

শেষ হওয়া ৬৬টি ম্যাচে আন ৬৫টি জয় পেয়েছেন, জয়ের হার ৯৮.৪৮ শতাংশ, округ করে ৯৮.৫ শতাংশ। টানা ৪৯ জয় মৌসুমের মোট জয়ের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ। মার্চের পর থেকে কত দীর্ঘ সময় ধরে তিনি এই ধারা বজায় রেখেছেন, তা এতে স্পষ্ট।

ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালে ওঠার আগে তার শিরোপা সংখ্যা ছিল নয়। এসব জয়ের মধ্যে রয়েছে মালয়েশিয়া ওপেন, ইন্ডিয়া ওপেন, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ ও এশিয়ান গেমস। ২৫ অক্টোবর জিতলে মৌসুমে তার শিরোপা হবে ১০টি।

মৌসুমে এমন একটি টুর্নামেন্টও আছে, যেখানে শেষ পর্যন্ত খেলতে পারেননি আন। জুলাইয়ে জাপান ওপেনের শেষ ষোলো থেকে চোটের কারণে সরে দাঁড়ান তিনি। ফ্রান্সের আগে ১১টি আন্তর্জাতিক ব্যক্তিগত টুর্নামেন্টে তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব হলো—নয়টি শিরোপা, অল ইংল্যান্ডে রানার্সআপ হওয়া এবং জাপান ওপেন থেকে সরে দাঁড়ানো; প্রাথমিক হিসাবটিতে তার শিরোপা জয়ের ধারার বর্ণনার সময় অংশগ্রহণের সংখ্যা নয়টি বলা হয়েছিল।

সরে দাঁড়ানোর হিসাব সম্পন্ন ম্যাচে পরাজয় থেকে আলাদা করে রাখা হয়। এ কারণেই মাঝপথে থেমে যাওয়া টুর্নামেন্টের পাশাপাশি ৬৫-১ ম্যাচ রেকর্ড থাকতে পারে। ওই জাপান ওপেনেই পরে চ্যাম্পিয়ন হন সিন্ধু, যা ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালে তাদের মৌসুমের মধ্যে আরেকটি যোগসূত্র তৈরি করেছে।

চার রাউন্ডে একটি গেমও হারেননি

চার রাউন্ডে খেলা আটটি গেমই জিতে ফাইনালে উঠেছেন আন। ডেনমার্কের আমালি শুলৎসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটি মাত্র ২৫ মিনিট স্থায়ী হয়। জয় আসে ২১-৬, ২১-৪ গেমে।

শেষ ষোলোতে ভারতের তানভি শর্মা বেশি প্রতিরোধ গড়েন, তবে আন জেতেন ২১-১১, ২১-১৪ ব্যবধানে। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে চীনের হান ইউয়েকে ২১-১৩, ২১-১৬ গেমে হারিয়ে ওকুহারাকে পরাস্ত করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

চার ম্যাচে আন করেছেন ১৬৮ পয়েন্ট, প্রতিপক্ষকে দিয়েছেন ৯৫ পয়েন্ট; ব্যবধান ৭৩। এই জয়ধারায় কোনো প্রতিপক্ষই ওকুহারার মতো কাছাকাছি যেতে পারেনি।

শীর্ষ দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়াং ঝি ইয়ে ও আকানে ইয়ামাগুচি শেষ ষোলোতেই বিদায় নিয়েছেন। তাদের বিদায় সম্ভাব্য বাধা সরিয়ে দেয়, অন্যদিকে নির্ণায়ক গেম না খেলেই ড্রয়ের একের পর এক রাউন্ড পেরিয়েছেন আন।

ব্যাডমিন্টন ওয়ার্ল্ড ফেডারেশনের ওয়ার্ল্ড ট্যুরের সুপার ৭৫০ পর্যায়ের টুর্নামেন্ট ফ্রেঞ্চ ওপেন, যা সার্কিটের শীর্ষ প্রতিযোগিতাগুলোর একটি। ফাইনালে ওঠার পথে শুরুতে স্বল্পস্থায়ী ম্যাচ খেললেও শেষ চারে আনকে অনেক বেশি কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছে।

জয়ের ধারার পেছনে শারীরিক চাপ

১৮ অক্টোবর ডেনমার্ক ওপেনের ফাইনালে অ্যাকিলিস টেন্ডনে ব্যথার কথা জানান আন। অ্যাকিলিস টেন্ডন পায়ের পেছনের পেশিকে গোড়ালির সঙ্গে যুক্ত করে এবং খেলোয়াড়কে পা ঠেলে এগোতে, লাফ দিতে ও দিক বদলাতে সাহায্য করে। ব্যাডমিন্টন ম্যাচজুড়ে এসব নড়াচড়া বারবার করতে হয়।

স্যামসাং লাইফ ইন্স্যুরেন্সের হয়ে খেলা আন ২৩ অক্টোবর ফ্রেঞ্চ ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালের পর নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেন। খেলা চালিয়ে যাওয়ার কষ্ট এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে থাকার সংকল্প, দুটোই তুলে ধরেন তিনি।

খেলার সুযোগ পাচ্ছি বলে আমি খুব কৃতজ্ঞ। শারীরিক অবস্থা নিয়ে বেশি চিন্তা না করার চেষ্টা করি, তবে বেশ কঠিন লাগছে।

এরপর কোর্টে থেকে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন আন।

তবে খেলা ও ভালো করার ইচ্ছাটা আরও বেশি শক্তিশালী,

কোনো বিস্তারিত চিকিৎসাগত রোগনির্ণয় বা সেরে ওঠার সময়সীমা জানানো হয়নি। তার বক্তব্য সেমিফাইনালের প্রেক্ষাপটকে নতুনভাবে তুলে ধরে: জয়ের ধারা ধরে রেখে আরেকটি ফাইনালে ওঠার চেষ্টা করতে গিয়ে শারীরিক অস্বস্তিও সামলাতে হচ্ছিল তাকে।

সেমিফাইনালে দুই ফাইনালিস্টের কোর্টে কাটানো সাম্প্রতিক সময়েও পার্থক্য ছিল। সিন্ধু খেলেছেন ৭৩ মিনিট, আন-এর ৪৫ মিনিটের ম্যাচের চেয়ে ২৮ মিনিট বেশি। আন-এর সেমিফাইনাল তুলনামূলক কম সময়ের হওয়ায় ম্যাচের ধকল থেকে সেরে ওঠার চাপও কম, যদিও টেন্ডনের অস্বস্তি তার প্রস্তুতির অংশ হয়েই আছে।

আনের বিপক্ষে আরেকটি সুযোগ পেলেন সিন্ধু

বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে ১১ নম্বরে থাকা সিন্ধু আকেচির বিপক্ষে পালাবদল ও ক্রমেই কঠিন হয়ে ওঠা লড়াই পেরিয়ে ফাইনালে উঠেছেন। টুর্নামেন্টে এর আগেই বিশ্বের শীর্ষ ১০-এর দুই খেলোয়াড়কে হারিয়েছিলেন জাপানি খেলোয়াড়টি।

প্রথম গেম ২১-১০ ব্যবধানে জেতেন সিন্ধু, তবে কোর্টের বেশি অংশে ছুটতে বাধ্য করে জবাব দেন আকেচি। শেষ পর্যায় পর্যন্ত কাছাকাছি ছিল দ্বিতীয় গেমের স্কোর। পরে ২২-২০ ব্যবধানে গেমটি জিতে ম্যাচে নির্ণায়ক গেম বাধ্য করেন আকেচি।

বিজ্ঞাপন

ব্যাডমিন্টনে সাধারণত ২১ পয়েন্টে গেম শেষ হয়, তবে জিততে দুই পয়েন্টের ব্যবধান দরকার। সে কারণেই দ্বিতীয় গেম ২০-২০-এর পরও চলেছে। পরের দুই পয়েন্ট জিতে টুর্নামেন্টে টিকে থাকার আশা বজায় রাখেন আকেচি।

নির্ণায়ক গেমের বিরতিতে সিন্ধু ১১-৯ ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। পরে পাঁচ পয়েন্টের ঘাটতি মিটিয়ে ১৪-১৪-তে সমতা ফেরান আকেচি। তবে আবারও ব্যবধান বাড়িয়ে ম্যাচ ২১-১৬-তে শেষ করেন সিন্ধু।

এই জয়ে জুলাইয়ে জাপান ওপেনের পর ২০২৬ সালে দ্বিতীয় সুপার ৭৫০ ফাইনালে উঠলেন সিন্ধু। সমতল গতির স্ম্যাশ এবং নেটের কাছে নরম শটসহ নানা ধরনের আক্রমণে বারবার র‌্যালি দীর্ঘ করা প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সুযোগ তৈরি করেছেন তিনি।

আনের চ্যালেঞ্জ অবশ্য ভিন্ন। তার বিপক্ষে সিন্ধুর রেকর্ড ০-১০, আর এই টুর্নামেন্টে এখনও কোনো গেম হারেননি দক্ষিণ কোরীয় খেলোয়াড়টি। এই মৌসুমে আরেকটি শিরোপা জয়ের আত্মবিশ্বাস এবং কঠিন সেমিফাইনাল জয় নিয়ে আসছেন সিন্ধু। তবে এখন পর্যন্ত পুরোপুরি আনের পক্ষে থাকা রেকর্ড বদলাতে হবে তাকে।

হাতের নাগালে ফ্রেঞ্চ ওপেনের শিরোপা ও মৌসুমি রেকর্ড

২০১৯ সালে প্রথমবার ফ্রেঞ্চ ওপেন জেতেন আন। এরপর ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও শিরোপা জেতেন। চোটের কারণে ২০২৩ সালের আসর থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। সর্বশেষ জয়ে টানা তৃতীয় আসরে ফাইনালে উঠলেন আন।

সিন্ধুর বিপক্ষে জিতলে একসঙ্গে তিনটি অর্জন হবে তার: মৌসুমের দশম শিরোপা, চতুর্থ ফ্রেঞ্চ ওপেন মুকুট এবং এই আসরে টানা তৃতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ। এগুলো আলাদা মাইলফলক; প্রথমটি মৌসুমে তার সাফল্য মাপে, অন্য দুটি ফ্রান্সে তার অর্জন।

গত মৌসুমে ১১টি শিরোপা জিতেছিলেন আন, যা এক মৌসুমে সর্বাধিক সিঙ্গেলস শিরোপার রেকর্ডে জাপানের কেন্তো মোমোতার সমান। দশম শিরোপা জিতলে সেই রেকর্ড থেকে এক ধাপ দূরে থাকবেন, আর ছাড়িয়ে যেতে লাগবে আরও দুটি শিরোপা।

ক্যারিয়ারে আন্তর্জাতিক সিঙ্গেলসে ৪৭টি শিরোপা জয়ের কৃতিত্বও দেওয়া হয় তাকে। ইন্দোনেশিয়ার কিংবদন্তি সুসি সুসান্তির ৪৬ শিরোপার সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছেন আন। এই ক্যারিয়ার-হিসাব বর্তমান মৌসুমের শিরোপা বা ফ্রেঞ্চ ওপেনের রেকর্ডের চেয়ে দীর্ঘ সময়ের সাফল্যকে ধরে।

ফাইনালের পেছনের তারিখগুলো

মার্চে মৌসুমের একমাত্র সম্পন্ন পরাজয় থেকে ইউরোপে পরপর দুটি টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া পর্যন্ত বিস্তৃত আনের ফাইনালে ওঠার পথ। গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলোতে দেখা যায়, জয়ের ধারা, চোটের উদ্বেগ এবং শিরোপার লক্ষ্য কীভাবে এক বিন্দুতে এসে মিলেছে।

  • মার্চ ২০২৬: অল ইংল্যান্ড ওপেনের ফাইনালে ওয়াং ঝি ইয়ের কাছে হারেন আন। মৌসুমে সম্পন্ন ম্যাচে এটিই তার একমাত্র পরাজয়।
  • জুলাই ২০২৬: জাপান ওপেনের শেষ ষোলো থেকে চোটের কারণে সরে দাঁড়ান আন। টুর্নামেন্ট জেতেন সিন্ধু।
  • ১৭ অক্টোবর: ডেনমার্ক ওপেনের সেমিফাইনালে ওকুহারাকে ২১-১৬, ২১-৮ গেমে হারান আন।
  • ১৮ অক্টোবর: ডেনমার্ক ওপেনের ফাইনালে অ্যাকিলিস টেন্ডনে ব্যথা অনুভব করেন আন, তবে শিরোপা জেতেন।
  • ২৩ অক্টোবর: ফ্রেঞ্চ ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনাল পেরিয়ে শারীরিক অস্বস্তির কথা জানান আন।
  • ২৪ অক্টোবর: ৪৫ মিনিটে ওকুহারাকে হারান আন। অন্যদিকে, আকেচিকে ৭৩ মিনিটে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেন সিন্ধু।
  • ২৫ অক্টোবর: ফ্রেঞ্চ ওপেনের নারী সিঙ্গেলস ফাইনালে আন ও সিন্ধুর মুখোমুখি হওয়ার কথা।
বিজ্ঞাপন

ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছেন টানা ৫০তম জয়ের লক্ষ্যে থাকা একজন খেলোয়াড় এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রথম জয় খুঁজছেন তার প্রতিপক্ষ। আনের তাৎক্ষণিক লক্ষ্য হলো, শুরুর রাউন্ডগুলোতে আরেকটি অপরাজিত দৌড়কে ট্রফিতে রূপ দেওয়া এবং একই সঙ্গে শারীরিক অবস্থা সামলানো।

সিন্ধুর কাজও স্পষ্ট: তিন গেমের কঠিন লড়াই থেকে সেরে উঠে এমন এক খেলোয়াড়কে হারানোর পথ খুঁজে বের করা, যিনি আগের ১০টি সাক্ষাতেই তাকে হারিয়েছেন। ২৫ অক্টোবরের ম্যাচে নির্ধারিত হবে, আন মৌসুমে দুই অঙ্কের শিরোপা সংখ্যায় পৌঁছাবেন, নাকি জাপান ওপেনের সাফল্যের সঙ্গে ফ্রেঞ্চ ওপেনও যোগ করবেন সিন্ধু।

মূল বিষয়গুলো

  • নোজোমি ওকুহারাকে ৪৫ মিনিটে ২১-১২, ২১-১৯ গেমে হারিয়ে ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালে উঠেছেন আন সে-ইয়ং।
  • তার টানা জয়ের সংখ্যা ৪৯-এ পৌঁছেছে; মৌসুমে জয়-হারের রেকর্ড ৬৫-১।
  • হিনা আকেচিকে ২১-১০, ২০-২২, ২১-১৬ গেমে হারিয়ে ফাইনালের অন্য স্থানটি নিশ্চিত করেছেন পি. ভি. সিন্ধু।
  • আগের সাক্ষাতে সিন্ধুর বিপক্ষে আন ১০-০ ব্যবধানে এগিয়ে।
  • মৌসুমের দশম শিরোপা, চতুর্থ ফ্রেঞ্চ ওপেন শিরোপা এবং ফ্রান্সে টানা তৃতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের লক্ষ্য আনের।
  • ফাইনালটি ২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে