তালেবান প্রতিনিধিদের সঙ্গে ব্রাসেলসের আলোচনার পর সতর্কবার্তা
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, আফগানদের জোর করে এমন জায়গায় ফেরত পাঠানো বন্ধ করতে, যেখানে তারা গুরুতর ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। তারা সতর্ক করে বলেছেন, তালেবানের সঙ্গে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হলে নিপীড়ন, নির্যাতন ও অন্যান্য গুরুতর নির্যাতন থেকে সুরক্ষার আন্তর্জাতিক বিধান মানতে হবে।
সূচিপত্র
২০২৬ সালের জুনে আফগান নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে আলোচনার জন্য ইউরোপীয় কমিশন ব্রাসেলসে তালেবান প্রতিনিধিদলকে আতিথ্য দেওয়ার পর এই সতর্কবার্তা এসেছে। কমিশন বৈঠকটিকে কারিগরি আলোচনা বলে বর্ণনা করেছিল, আর প্রতিনিধিদলের নেতা সফরটিকে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেন। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, কঠোর মানবাধিকার শর্ত ছাড়াই যোগাযোগ করলে ব্যাপক নির্যাতন চলতে থাকা সত্ত্বেও তালেবান শাসনকে স্বাভাবিক হিসেবে প্রতিষ্ঠায় সহায়তা হতে পারে।
আফগানিস্তানে মানবাধিকারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক রিচার্ড বেনেট অন্যান্য স্বাধীন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগ দিয়ে বলেছেন, কাউকে ফেরত পাঠানোর আগে তার ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে হবে। ২০২৬ সালের ২২ অক্টোবর প্রকাশিত তাঁদের বিবৃতিতে নির্বাসনের মুখে থাকা আফগানদের প্রতি আচরণ এবং তালেবান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইউরোপের যোগাযোগের শর্ত, দুই বিষয়ই তুলে ধরা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মূল উদ্বেগটি সুনির্দিষ্ট: ফেরত পাঠানো ব্যক্তিরা তাঁদের পরিচয়, আগের কাজ কিংবা তালেবান নীতির বিরোধিতা করার কারণে শাস্তির মুখে পড়তে পারেন। নারী ও মেয়েরা ব্যাপক নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। সাবেক নিরাপত্তাকর্মী, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর সদস্যরাও গুরুতর নির্যাতনের ঝুঁকিতে রয়েছেন।
আফগানিস্তানে কারা ঝুঁকির মুখে?
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তার কেন্দ্রে ছিলেন নারী ও মেয়েরা। তাঁদের বর্ণনায়, নিপীড়ন ব্যাপক ও সুসংগঠিত; এর মাত্রা মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে। বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে ব্যাপক বা পদ্ধতিগত হামলার অংশ হিসেবে সংঘটিত কিছু গুরুতর অপরাধকে মানবতাবিরোধী অপরাধ বলা হয়।
বেনেট এবং নারী ও মেয়েদের প্রতি বৈষম্যবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপের সদস্যসহ জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা যৌথ বিবৃতিতে পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়েছেন:
বিশেষজ্ঞরা বলেন, "আফগানিস্তানের মানবাধিকার পরিস্থিতি এখনো ভয়াবহ। নারী ও মেয়েরা এত ব্যাপক ও পদ্ধতিগতভাবে লিঙ্গভিত্তিক নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন যে তা মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে।"
"জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু, মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক, লেসবিয়ান, গে, উভকামী, ট্রান্সজেন্ডার ও অন্যান্য লিঙ্গবৈচিত্র্যময় ব্যক্তি, আফগান ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড ডিফেন্স ফোর্সেসের সাবেক সদস্য এবং নির্দিষ্ট কিছু সরকারি কর্মীর ওপর নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ গুরুতর অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে।"
জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু, মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক, লেসবিয়ান, গে, উভকামী, ট্রান্সজেন্ডার ও অন্যান্য লিঙ্গবৈচিত্র্যময় ব্যক্তি, আফগানিস্তানের সাবেক নিরাপত্তাকর্মী এবং কিছু সাবেক সরকারি কর্মচারীকেও নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ রয়েছে। এসব গোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন, বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াই হত্যাকাণ্ড এবং অন্যান্য গুরুতর অধিকার লঙ্ঘনের খবরের কথাও তাঁরা উল্লেখ করেন।
তাই কাউকে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্তে তাঁর আগের কাজের ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। আফগান ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড ডিফেন্স ফোর্সেসে চাকরি, মানবাধিকার রক্ষায় কাজের রেকর্ড বা সাংবাদিকতা করার কারণে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে খতিয়ে দেখতে হবে। আফগানিস্তানের পরিস্থিতির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব অবস্থাও মূল্যায়নে বিবেচনা করতে হবে।
ফেরত পাঠানো থেকে সুরক্ষা পেতে যা জরুরি
ইউরোপীয় সরকারগুলো ‘নন-রিফাউলমঁ’ নীতি মেনে চলতে বাধ্য। সহজ কথায়, এই নীতি কাউকে এমন দেশে পাঠানো নিষিদ্ধ করে, যেখানে তিনি নিপীড়ন বা নির্দিষ্ট ধরনের গুরুতর ক্ষতির প্রকৃত ঝুঁকিতে থাকবেন।
বিশেষজ্ঞরা ঝুঁকির মধ্যে নির্বিচার প্রাণহানি, নির্যাতন বা অন্যান্য নিষ্ঠুর আচরণ, গুম, নির্বিচারে আটক এবং ন্যায়বিচার থেকে স্পষ্টভাবে বঞ্চিত হওয়ার বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন। গুম বলতে কাউকে আটক বা তুলে নেওয়ার পর কর্তৃপক্ষ তার পরিণতি বা অবস্থান গোপন করাকে বোঝায়। নির্বিচারে আটক বলতে যথাযথ আইনি ভিত্তি বা আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ছাড়াই কারাবন্দি করাকে বোঝায়।
বিশেষজ্ঞদের উল্লেখ করা বাধ্যবাধকতার ভিত্তি চারটি চুক্তি: নির্যাতনবিরোধী কনভেনশন, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি, শরণার্থী কনভেনশন এবং ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদ। সীমান্ত পেরিয়ে মানুষকে পাঠানোর সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে এসব চুক্তিতে প্রাসঙ্গিক সুরক্ষার বিধান রয়েছে।
ইউরোপের ফেরত পাঠানোর উদ্যোগগুলো মূলত সেই আফগানদের নিয়ে, যাঁদের আশ্রয়ের আবেদন নাকচ হয়েছে, যাঁদের অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান অনিয়মিত, কিংবা যাঁদের নিরাপত্তাঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তায় এসব সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে রয়েছে প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য অপেক্ষমাণ বিপদ। কাউকে সরিয়ে দেওয়ার পেছনে সরকারের যুক্তির পাশাপাশি গুরুতর ক্ষতির মুখে ফেরত না পাঠানোর বাধ্যতামূলক দায়িত্বও বিবেচনা করতে হবে।
প্রত্যেকের জন্য প্রয়োজন পৃথক মূল্যায়ন
কাউকে ফেরত পাঠানোর আগে অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে তাঁর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে হবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এর জন্য ব্যক্তিটি কে, তিনি কী করেছেন এবং আফগানিস্তানে পৌঁছানোর পর কেন তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে, সেদিকে নজর দিতে হবে।
যৌথ বিবৃতিতে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা প্রক্রিয়াগত শর্তটি তুলে ধরেন:
বিশেষজ্ঞরা বলেন, "ফেরত পাঠানোর আগে রাষ্ট্রগুলোকে প্রত্যেক ব্যক্তির ঝুঁকি আলাদাভাবে মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে।" তাঁরা বলেন, "অনিচ্ছাকৃতভাবে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। গন্তব্য রাষ্ট্রের কূটনৈতিক আশ্বাস আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা থেকে রাষ্ট্রগুলোকে অব্যাহতি দেয় না; নন-রিফাউলমঁ নীতিকে দুর্বল করার ফাঁক হিসেবেও তা ব্যবহার করা উচিত নয়।"
অনিচ্ছাকৃতভাবে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করার কথাও বলেছে বিশেষজ্ঞদের দলটি। এর অর্থ, সরকার পদক্ষেপ নেওয়ার আগে এমন বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা, যাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তাঁর পরিস্থিতি বিবেচনার জন্য অর্থবহ সুযোগ পান। কাউকে সরিয়ে দেওয়ার মুখে থাকলে, তাঁর হুমকি, নিপীড়ন বা সরকারি চাকরির ইতিহাস সময়মতো খতিয়ে দেখা হবে কি না, তা এই প্রক্রিয়াই নির্ধারণ করতে পারে।
কূটনৈতিক আশ্বাস নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। কোনো গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষ ফেরত পাঠানো ব্যক্তির নিরাপদ আচরণের প্রতিশ্রুতি দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এমন প্রতিশ্রুতি ইউরোপীয় সরকারগুলোকে তাদের আন্তর্জাতিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয় না, কিংবা মানুষকে বিপদের মুখে ফেরত পাঠানোর নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর উপায়ও নয়।
তাই কাউকে সরিয়ে পাঠানোর দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সরকারেরই থাকে। বিমানের ব্যবস্থা করা বা আফগানিস্তানের কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ফেরত পাঠানো ব্যক্তির ঝুঁকি নিয়ে আইনসম্মত সিদ্ধান্তও নিতে হবে।
ব্রাসেলস সফরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
২০২৬ সালের জুনের সফরটি ছিল তালেবান প্রতিনিধিদলের ব্রাসেলসে প্রথম সরকারি সফর। এর উদ্দেশ্য ইউরোপের ফেরত পাঠানোর উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ফলে অভিবাসন নিয়ে বাস্তবভিত্তিক আলোচনার পাশাপাশি তালেবান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পর্কের বৃহত্তর প্রশ্নও সামনে আসে।
কমিশন বৈঠকটিকে কারিগরি আলোচনা বলেছিল, যা এর বাস্তবভিত্তিক উদ্দেশ্যের ওপর জোর দেয়। প্রতিনিধিদলের নেতা একে ঐতিহাসিক বলেছিলেন, যা সফরটিকে বড় রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে তুলে ধরে। এই ভিন্ন বর্ণনা থেকেই বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের কারণ বোঝা যায়: নির্বাসন নিয়ে সহযোগিতা তালেবানকে আরও বেশি গ্রহণযোগ্যতা এনে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের যৌথ বিবৃতিতে "কারিগরি" শব্দটি কমিশনের মুখপাত্র এবং "ঐতিহাসিক" শব্দটি তালেবান প্রতিনিধিদলের নেতার বর্ণনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
কিছু ইউরোপীয় দেশ ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতে তালেবান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কারিগরি যোগাযোগ বাড়িয়েছে। ইইউর কয়েকটি সদস্যদেশ তালেবানের কনস্যুলার কর্মকর্তাদের নিজেদের ভূখণ্ডে গ্রহণ করেছে, পাশাপাশি নির্বাসন নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, এ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কনস্যুলার কর্মকর্তারা কোনো দেশের নাগরিকদের নথিপত্র ও প্রশাসনিক সেবাসহ বিভিন্ন বিষয় দেখভাল করেন।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতির শর্ত স্পষ্টভাবে যুক্ত করেই ইউরোপের যোগাযোগ চালাতে হবে। তাঁদের উদ্বেগ শুধু বৈঠক নিয়ে নয়, বরং বিধিনিষেধ ও নির্যাতন বহাল থাকা অবস্থায় তালেবান কর্তৃপক্ষ এসব যোগাযোগ থেকে কী সুবিধা পাচ্ছে, তা নিয়েও।
যৌথ বিবৃতিতে জাতিসংঘের দলটি তাদের উদ্বেগের ব্যাখ্যা দিয়েছে:
বিশেষজ্ঞরা বলেন, "মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে স্পষ্ট সীমারেখা ছাড়াই এ ধরনের যোগাযোগ চললে তালেবানের গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন, যার মধ্যে লিঙ্গভিত্তিক নিপীড়নও রয়েছে, স্বাভাবিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে বলে আমরা এখনো উদ্বিগ্ন। তা সত্ত্বেও, কয়েকটি ইউরোপীয় সদস্যদেশ নির্বাসনের ব্যবস্থা ও প্রস্তুতির জন্য এ ধরনের 'কারিগরি আলোচনা' চালিয়ে যাচ্ছে এবং নিজেদের ভূখণ্ডে তালেবানের কনস্যুলার কর্মকর্তাদের গ্রহণ করেছে।"
মেয়েদের শিক্ষা একটি সুনির্দিষ্ট পরীক্ষা
ইউরোপীয় সরকারগুলোর যে নির্দিষ্ট পরিবর্তনের দাবি জানানো উচিত, তা চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা: ষষ্ঠ শ্রেণির পর মেয়েদের শিক্ষা নিষিদ্ধ করার বিধান তুলে নেওয়া। তাঁদের এ আহ্বান কূটনৈতিক যোগাযোগকে আফগানিস্তানের মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে এমন একটি পদক্ষেপের সঙ্গে যুক্ত করে।
এর পর থেকে শ্রেণিকক্ষে যেতে না পারা মেয়েদের জন্য নীতিটি বদলানোর অর্থ হবে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ। ইউরোপীয় সরকারগুলোর জন্য এটি এমন একটি সুনির্দিষ্ট শর্ত, যার ভিত্তিতে তালেবান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্পর্কের পাশাপাশি অধিকার পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে কি না, তা বিচার করা যাবে।
সম্পর্ক স্বাভাবিক করা ও শিক্ষার বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা তাঁদের অবস্থান একসঙ্গেই তুলে ধরেন:
মানবাধিকারে সুনির্দিষ্ট উন্নতি না হলে তালেবানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক বা বৈধতা দেওয়া যাবে না। এর মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণির পর মেয়েদের শিক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়াও থাকতে হবে।
আফগানিস্তানের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতিতে চাপ বাড়ানোর জন্য ইইউর সদস্যদেশগুলোর প্রতিও আহ্বান জানিয়েছে দলটি। তাঁদের দাবি ইউরোপে থাকা আফগানদের সুরক্ষার সঙ্গে তালেবান শাসনের অধীনে বসবাসকারী মানুষের প্রতি আচরণকে যুক্ত করে।
তাঁরা বলেন, "আফগানিস্তানের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতির লক্ষ্যে ইইউর সদস্যদেশগুলোর প্রতি তাদের প্রচার ও উদ্যোগ জোরদার করার আহ্বান জানাই।"
আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা, জবাবের অপেক্ষা
বেনেট এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, আফগানদের বিপদের মুখে থাকা জায়গায় ফেরত না পাঠানোর আহ্বান জানাতে তিনি জাতিসংঘের অন্যান্য ম্যান্ডেটধারীর সঙ্গে ইইউ ও অন্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ইইউ ও কয়েকটি দেশের কাছে পাঠানো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের জবাবের অপেক্ষায় আছেন। জবাব দেওয়ার কোনো সময়সীমা বা পরবর্তী বৈঠকের তারিখ জানানো হয়নি।
২২ অক্টোবরের যৌথ বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়, বিষয়টি নিয়ে বিশেষজ্ঞরা আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইইউর কয়েকটি সদস্যদেশের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মধ্যে রয়েছেন মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক সংহতিবিষয়ক স্বাধীন বিশেষজ্ঞ সিসিলিয়া এম. বেলিয়ে; অভিবাসীদের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক গেহাদ মাদি; এবং সন্ত্রাসবাদ দমনের সময় মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক বেন সল। নারী ও মেয়েদের প্রতি বৈষম্যবিষয়ক জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপের সদস্যরাও এতে অংশ নেন।
ওয়ার্কিং গ্রুপের অংশগ্রহণকারী সদস্যরা হলেন এর চেয়ার ইভানা ক্রস্তিচ, ভাইস-চেয়ার হাইনা লু, ডরোথি এসত্রাদা-তাঙ্ক, ক্লদিয়া ফ্লোরেস এবং লরা নিয়িরিনকিন্দি।
ব্রাসেলসের আলোচনা, প্রকাশ্য সতর্কবার্তা এবং সরকারগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ, এই তিন পর্বে মূল ঘটনাগুলো ঘটেছে:
- জুন ২০২৬: আফগান নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে আলোচনার জন্য ইউরোপীয় কমিশন তালেবান প্রতিনিধিদলের প্রথম সরকারি ব্রাসেলস সফরের আয়োজন করে।
- ২২ অক্টোবর ২০২৬: নির্বাসন, ব্যক্তিভিত্তিক ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং তালেবান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইউরোপের যোগাযোগ নিয়ে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা সতর্কবার্তা প্রকাশ করেন।
- সতর্কবার্তার পর: ইইউ ও কয়েকটি দেশের কাছে পাঠানো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের জবাব এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানান বেনেট।
ফেরত পাঠানোর মুখে থাকা আফগানদের জন্য তাৎক্ষণিক প্রশ্ন হলো, ফেরত পাঠানোর আগে কর্তৃপক্ষ বিপদটি পুরোপুরি মূল্যায়ন করছে কি না। ইউরোপীয় সরকারগুলোর ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের দাবি ব্যক্তির নির্বাসনের বৈধতা এবং তালেবানের সঙ্গে সহযোগিতার সঙ্গে যুক্ত মানবাধিকার—উভয় বিষয় নিয়ে।
মূল বিষয়গুলো
- নিপীড়ন বা অন্যান্য গুরুতর ক্ষতির ঝুঁকি থাকলে আফগানদের ফেরত না পাঠাতে ইইউ সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা।
- অনিচ্ছাকৃতভাবে ফেরত পাঠানোর আগে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়াসহ প্রত্যেক ব্যক্তির ঝুঁকি আলাদাভাবে মূল্যায়ন করতে হবে।
- নারী ও মেয়ে, সংখ্যালঘু, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী এবং কিছু সাবেক নিরাপত্তাকর্মী ও সরকারি কর্মীর গুরুতর ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
- কূটনৈতিক আশ্বাস ফেরত পাঠানো সরকারের আন্তর্জাতিক আইনি দায়িত্ব দূর করে না।
- তালেবানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আগে ষষ্ঠ শ্রেণির পর শিক্ষার সুযোগসহ মানবাধিকারে সুনির্দিষ্ট উন্নতির আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
- ইইউ ও কয়েকটি দেশের কাছে পাঠানো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের জবাব এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন বেনেট।






