মূলধন সংগ্রহের পরিকল্পনার মুখে নগদ সংকট আরও তীব্র
ভিয়েতনামের আবাসন উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠান নোভাল্যান্ড প্রায় ৮০০.৭ মিলিয়ন নতুন শেয়ার বিক্রি করে প্রায় ৮.০০৭ ট্রিলিয়ন ভিয়েতনামি ডং সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে। এ অর্থ কোম্পানিটির এবং এর দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের বন্ড পরিশোধে ব্যয় করা হবে। ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির ঋণ ছিল ৭২.৯ ট্রিলিয়ন ডং, যার মধ্যে ১৬.৭ ট্রিলিয়ন ডংয়ের বেশি মূলধন পরিশোধের মেয়াদ পেরিয়ে গেছে।
সূচিপত্র
- মূলধন সংগ্রহের পরিকল্পনার মুখে নগদ সংকট আরও তীব্র
- ৮.০০৭ ট্রিলিয়ন ডং কোথায় ব্যয় হবে
- শেয়ারহোল্ডারদের কাছে কী কেনার প্রস্তাব
- ব্যাপক লেনদেন ও প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের বিপরীতমুখী শেয়ার লেনদেন
- শেয়ার বিক্রির বাইরেও চলছে ঋণ নিয়ে আলোচনা
- মুনাফা বাড়লেও নতুন বিক্রির গতি কমেছে
- বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকের কাছাকাছি বাড়ি হস্তান্তর
- পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনায় অ্যাকোয়া সিটি ও অন্যান্য প্রকল্প
- যে তারিখ ও অর্থায়নের ধাপগুলো নজরে রাখা দরকার
- মূল বিষয়
শেয়ারহোল্ডারদের সাবস্ক্রিপশন অধিকার হস্তান্তরের শেষ সময় ২০২৬ সালের ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত এবং শেয়ার কেনার নিবন্ধন ও অর্থ পরিশোধের শেষ সময় ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে কোম্পানিটি। বন্ডধারীদের অর্থ পরিশোধের পরিকল্পনা ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিক থেকে ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিক পর্যন্ত।
এক মাসে প্রায় ৫৭০ মিলিয়ন এনভিএল শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যা হো চি মিন স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ২.৪ বিলিয়নের বেশি শেয়ারের প্রায় ২৪ শতাংশ। ব্যাপক লেনদেনের সঙ্গে ছিল দামের তীব্র পতন, মাঝেমধ্যে পুনরুদ্ধার এবং প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শেয়ারহোল্ডারদের বিপরীতমুখী লেনদেন পরিকল্পনা।
নোভাল্যান্ডের কার্যক্রমসংক্রান্ত পরিসংখ্যান দেখায়, কেন এ অর্থ সংগ্রহ জরুরি। কোম্পানিটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে কর-পরবর্তী মুনাফা ২.৮ ট্রিলিয়ন ডং ছাড়িয়েছে, যেখানে এক বছর আগে একই সময়ে লোকসান হয়েছিল। তবে ওই নয় মাসে নতুন বাড়ি বিক্রি হয়েছে মাত্র ২১৮টি, যার মধ্যে তৃতীয় প্রান্তিকে ১৯টি। বছরের প্রথমার্ধে পরিচালন কার্যক্রমে নগদ প্রবাহ ছিল প্রায় ৩.৬ ট্রিলিয়ন ডং ঋণাত্মক।
তাই পুনরুদ্ধারের জন্য একাধিক বিষয় একসঙ্গে এগোতে হবে: প্রকল্প থেকে অর্থ আদায়, বাড়ি নির্মাণ শেষ করা, ঋণ পরিশোধের সময় বাড়ানোর আলোচনা এবং নতুন মূলধন দিতে শেয়ারহোল্ডারদের রাজি করানো। পরিকল্পিত শেয়ার বিক্রি থেকে জুনের মোট ঋণের প্রায় ১১ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থ আসবে। ফলে কোম্পানির আর্থিক অবস্থায় প্রকল্পের আয় ও অন্যান্য পুনর্গঠনমূলক পদক্ষেপও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।
৮.০০৭ ট্রিলিয়ন ডং কোথায় ব্যয় হবে
নোভাল্যান্ডের বিস্তারিত মূলধন বরাদ্দ পরিকল্পনা অনুযায়ী, মূল কোম্পানির ইস্যু করা ১৩টি বন্ডের মূলধনের আংশিক বা পুরোটা পরিশোধে ৫,৯৫৩.৩ বিলিয়ন ডং ব্যয় হবে। মূলধন হলো সুদ বাদে ঋণের আসল অর্থ। প্রত্যাশিত আয়ের প্রায় ৭৪ শতাংশ যাবে এসব পরিশোধে।
আরও ৯১৬.৩ বিলিয়ন ডং দেওয়া হবে নোভা সাইগন রয়্যালকে, যাতে তারা এনএসআরসিএইচ২২২৩০০১ বন্ডের মূলধন পরিশোধ করতে পারে। এনটিডিসিএইচ২২২৭০০১ বন্ডের মূলধন পরিশোধের জন্য নো ভা থাও দিয়েনে ১,১৩৭.৩ বিলিয়ন ডং দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে নোভাল্যান্ড। দুই সহযোগী প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দের মোট পরিমাণ ২,০৫৩.৬ বিলিয়ন ডং।
তিনটি বরাদ্দের যোগফল ৮,০০৬.৯ বিলিয়ন ডং, যা প্রত্যাশিত অর্থ সংগ্রহের মোট পরিমাণের প্রায় সমান। অর্থাৎ, এ প্রস্তাবের লক্ষ্য হলো ঋণের বদলে শেয়ারহোল্ডারদের মূলধন ব্যবহার করা। অর্থটি বিস্তৃত নির্মাণ ব্যয় কর্মসূচির বদলে বিদ্যমান বন্ডের দায় পরিশোধে নির্দিষ্ট করা হয়েছে।
মূল কোম্পানির ১৩টি বন্ড কোড হলো NVLH2224006, NVLH2123010, NVLH2123014, NVLH2123009, NVLH2123007, NVLH2123011, NVLH2223008, NVLH2123013, NVLH2123003, NVLH2124002, NVLH2123006, NVLH2223007 এবং NVLH2224005। বন্ডধারীদের সঙ্গে সমঝোতার ওপর নির্ভর করবে প্রতিটি বন্ডে পরিশোধের পরিমাণ।
নোভাল্যান্ড জানিয়েছে, বাজার পরিস্থিতি, অর্থায়নের ব্যবস্থা এবং আলোচনার ওপর নির্ভর করে অর্থ ছাড়ের সময় ও পরিমাণ বদলাতে পারে। পরিকল্পনার চেয়ে কম অর্থ উঠলে প্রথমে মূল কোম্পানির মেয়াদোত্তীর্ণ দায়, এরপর নোভা সাইগন রয়্যাল ও নো ভা থাও দিয়েনের দায় পরিশোধকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
শেয়ারহোল্ডারদের কাছে কী কেনার প্রস্তাব
প্রতি শেয়ারের প্রস্তাবিত মূল্য ১০,০০০ ডং। বিস্তারিত শর্ত অনুযায়ী, যোগ্য শেয়ারহোল্ডার আগে থেকে থাকা প্রতি তিনটি শেয়ারের বিপরীতে একটি নতুন শেয়ার কেনার অধিকার পাবেন। উদাহরণস্বরূপ, কারও কাছে ৩,০০০ শেয়ার থাকলে তিনি ১ কোটি ডং দিয়ে আরও ১,০০০ শেয়ার কিনতে পারবেন।
অধিকারভিত্তিক শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে বিদ্যমান মালিকেরা আরও অর্থ বিনিয়োগ করে কোম্পানিতে নিজেদের মালিকানার অনুপাত ধরে রাখার সুযোগ পান। পুরো শেয়ার ইস্যু বিক্রি হলে, একই সংখ্যক শেয়ার ধরে রাখা শেয়ারহোল্ডারের মালিকানার অনুপাত বাড়তি মোট শেয়ারের তুলনায় কমে যাবে। নতুন শেয়ার হস্তান্তরে কোনো বিধিনিষেধ থাকবে না।
২১ অক্টোবর এনভিএল শেয়ারের সমাপনী দাম ছিল ১০,৭৫০ ডং, যা সাবস্ক্রিপশন মূল্যের চেয়ে ৭.৫ শতাংশ বেশি। এ দামে সাবস্ক্রিপশনের মূল্য-সুবিধা তুলনামূলক কম। তাই আরও নগদ বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় বাজারে শেয়ারের দামের ওঠানামা শেয়ারহোল্ডারদের জন্য প্রাসঙ্গিক।
২০২৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর স্টেট সিকিউরিটিজ কমিশন ইস্যু করা 431/GCN-UBCK সনদের অধীনে শেয়ার বিক্রির নিবন্ধন করা হয়। প্রস্তাবটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে নোভাল্যান্ডের নিবন্ধিত শেয়ার মূলধন প্রায় ২৪.০২১ ট্রিলিয়ন ডং থেকে বেড়ে প্রায় ৩২.০২৮ ট্রিলিয়ন ডং হবে। নিবন্ধিত শেয়ারের অভিহিত মূল্যের ভিত্তিতে শেয়ার মূলধন নির্ধারিত হয়, আর শেয়ারের দাম অনুযায়ী কোম্পানির বাজারমূল্য পরিবর্তিত হয়।
ব্যাপক লেনদেন ও প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের বিপরীতমুখী শেয়ার লেনদেন
৩০ সেপ্টেম্বর ৯৭ মিলিয়নের বেশি এনভিএল শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যার লেনদেনমূল্য প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডং। এর আগে টানা দুই সেশনে শেয়ারদর দিনের সর্বনিম্ন সীমায় নেমেছিল। আগের দিন ওই সীমায় ৬৫ মিলিয়নের বেশি শেয়ার বিক্রির জন্য অপেক্ষমাণ ছিল। এটি ছিল ওই সেশনে অনুমোদিত সর্বনিম্ন দাম।
৩০ সেপ্টেম্বর ছিল রাইটস-সমন্বয়হীন লেনদেনের দিন। এ দিন থেকে শেয়ার কেনা ব্যক্তিরা শেয়ার বিক্রির সঙ্গে যুক্ত সাবস্ক্রিপশন অধিকার পাননি। এরপরও লেনদেন সক্রিয় ছিল: ২ অক্টোবর ৫১.৩ মিলিয়ন এবং ৯ অক্টোবর ৭৩ মিলিয়নের বেশি শেয়ার লেনদেন হয়।
ডায়মন্ড প্রপার্টিজ ২৬ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত এক্সচেঞ্জে বা সমঝোতার মাধ্যমে ৭ মিলিয়ন এনভিএল শেয়ার কেনার নিবন্ধন করেছে। তারা জানিয়েছে, পোর্টফোলিওর ভারসাম্য ফেরাতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। লেনদেন সম্পন্ন হলে তাদের হাতে থাকা শেয়ারের সংখ্যা প্রায় ১৭৮.৪ মিলিয়ন বা ৭.৪২৩ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ১৮৫.৪ মিলিয়ন বা ৭.৭১৫ শতাংশ হবে। প্রতি শেয়ারের দাম ১০,৭৫০ ডং ধরে এ কেনাকাটায় খরচ হবে প্রায় ৭৫.২৫ বিলিয়ন ডং।
পরিকল্পনায় পরিবর্তনের কথা জানিয়ে ডায়মন্ড প্রপার্টিজ ৬ অক্টোবর বিক্রির জন্য নিবন্ধিত ২.৭ মিলিয়ন শেয়ারের মধ্যে ২.৫৮ মিলিয়ন বিক্রি করেছিল। নোভাল্যান্ডের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান বুই কাও নাত কোয়ান ডায়মন্ড প্রপার্টিজেও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আছেন। ব্যক্তিগতভাবে তার কাছে প্রায় ৮১ মিলিয়ন এনভিএল শেয়ার রয়েছে, যা মোট শেয়ারের ৩.৩৬৮ শতাংশ।
কোয়ানের মা এবং প্রতিষ্ঠাতা বুই থান ননের স্ত্রী কাও থি নক সুয়ং ব্যক্তিগত আর্থিক প্রয়োজনে ২৬ থেকে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে ৬.৩ মিলিয়ন শেয়ার বিক্রির নিবন্ধন করেছেন। বিক্রি সম্পন্ন হলে তার শেয়ার ৫১.৮ মিলিয়নের বেশি বা ২.১৫৬ শতাংশ থেকে কমে ৪৫.৫ মিলিয়নের বেশি বা ১.৮৯৪ শতাংশ হবে। নিবন্ধিত কেনাবেচা সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা জানাতে হবে; তাতেই লেনদেনের পর শেয়ারধারণের অবস্থা নিশ্চিত হবে।
শেয়ার বিক্রির বাইরেও চলছে ঋণ নিয়ে আলোচনা
৩০ জুন পর্যন্ত নোভাল্যান্ডের প্রায় ৩০.৫ ট্রিলিয়ন ডং ঋণ পরবর্তী ১২ মাসে পরিশোধযোগ্য ছিল, যার মধ্যে প্রায় ১৩.২ ট্রিলিয়ন ডং ছিল বন্ড। অর্থাৎ মোট ঋণের প্রায় ৪২ শতাংশ আগামী বছরের পরিশোধ সূচির আওতায় পড়ে।
কোম্পানির ঋণ ও বন্ডের ১৬.৭১৬ ট্রিলিয়ন ডং মূলধন মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। নোভাল্যান্ড জানিয়েছে, ঋণদাতারা ৩.২৪৪ ট্রিলিয়ন ডং পরিশোধের মেয়াদ বাড়াতে রাজি হয়েছেন। অন্যান্য দায় নিয়ে আলোচনা চলছে। পর্যাপ্ত অর্থের ব্যবস্থা করতে অসুবিধা হওয়ায় পরিশোধে দেরি হয়েছে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।
সম্পদ বিক্রি পুনর্গঠনের আরেকটি অংশ। প্রায় ১৫.৬১৭ ট্রিলিয়ন ডং মূল্যের সম্পদ বিক্রির পরিকল্পনা দিয়েছে নোভাল্যান্ড। কোম্পানিটি জানিয়েছে, মোট ১১.২৬৬ ট্রিলিয়ন ডং মূল্যের চারটি সম্পদ বিক্রি হয়েছে এবং আরও পাঁচটি বিক্রির জন্য বাজারজাত করা হচ্ছে। সম্পন্ন বিক্রির ঘোষিত মূল্য সম্পদ বিক্রি কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৭২ শতাংশ।
২০২৬ সালের প্রথমার্ধের পর্যালোচিত আর্থিক বিবরণীতে নোভাল্যান্ডের চলমান প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা নিয়ে উল্লেখযোগ্য অনিশ্চয়তার কথা বলা হয়েছে। সহজ ভাষায়, বড় অর্থায়ন ও ঋণ পরিশোধের চাপ সামাল দিতে পারার ওপর কোম্পানিটির কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া নির্ভর করছে।
৬ অক্টোবর নোভাল্যান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত কোম্পানি দেউলিয়া বা কার্যক্রম চালাতে অক্ষম—এমন দাবি নাকচ করে। কোম্পানির ভাষ্য, এসব দাবি তার আইনি অবস্থান ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের ভুল বর্ণনা দিয়েছে। কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখা, বাড়ি হস্তান্তর, নতুন মূলধন সংগ্রহ এবং ঋণদাতাদের সঙ্গে আলোচনা।
মুনাফা বাড়লেও নতুন বিক্রির গতি কমেছে
নোভাল্যান্ডের হিসাব অনুযায়ী, তৃতীয় প্রান্তিকে নিট আয় ৫ ট্রিলিয়ন ডং ছাড়িয়েছে, যা এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২০০ শতাংশ বেশি। কর-পরবর্তী মুনাফা ছিল ১.১ ট্রিলিয়ন ডংয়ের বেশি। প্রথম নয় মাসে আয় ১০ ট্রিলিয়ন ডং ছাড়িয়েছে এবং কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ২.৮ ট্রিলিয়ন ডংয়ের বেশি। ২০২৫ সালের একই সময়ে ১.৮২ ট্রিলিয়ন ডং লোকসান হয়েছিল।
নয় মাসের আনুমানিক মুনাফা পুরো বছরের প্রায় ১.৮৫ ট্রিলিয়ন ডং লক্ষ্যমাত্রার দেড় গুণ। বিপরীতে, প্রায় ২২.৭ ট্রিলিয়ন ডংয়ের বার্ষিক আয় লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৪৪ শতাংশের কিছু বেশি অর্জিত হয়েছে। মুনাফার লক্ষ্যমাত্রায় এগিয়ে থাকলেও পরিকল্পিত আয়ের তুলনায় নোভাল্যান্ডের অর্জন এখনো অনেক কম।
তৃতীয় প্রান্তিকে নতুন বিক্রির গতি কমেছে। মে মাসের শেষে ১৫২টি বাড়ির ক্রমপুঞ্জীভূত বিক্রির সংখ্যা জুনের শেষে বেড়ে ১৯৯টিতে পৌঁছায়, অর্থাৎ শুধু জুনেই বিক্রি হয় ৪৭টি। জুলাইয়ে বিক্রি হয় সাতটি, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে ছয়টি করে। ফলে নয় মাসে মোট বিক্রি দাঁড়ায় ২১৮টিতে।
তৃতীয় প্রান্তিকে নতুন বিক্রি হয়েছে ১৯টি, যা জুনের ৪৭টির অর্ধেকেরও কম। এদিকে আগের সময়ে বিক্রি হওয়া বাড়িগুলো নির্মাণ শেষ করে হস্তান্তরের পর্যায়ে এগোচ্ছিল। তাই চলতি বিক্রির কার্যক্রম ও প্রতিবেদনে দেখানো আয় ভিন্ন গতিতে পরিবর্তিত হতে পারে।
চুক্তি ও হস্তান্তরের শর্ত পূরণ হলে আবাসন উন্নয়নকারীরা আয় স্বীকৃতি দিতে পারেন, তবে গ্রাহকের অর্থ পরিশোধ ও নির্মাণ ব্যয়ের সময়সূচি আলাদা। বছরের প্রথমার্ধে নোভাল্যান্ডের পরিচালন কার্যক্রমে প্রায় ৩.৬ ট্রিলিয়ন ডং ঋণাত্মক নগদ প্রবাহ দেখায়, ওই সময়ে পরিচালন কার্যক্রম থেকে আসা অর্থের চেয়ে ব্যয় হয়েছে বেশি। বন্ড পরিশোধে নগদ অর্থ লাগে, তাই হিসাবের মুনাফার মতোই অর্থ আদায়ও গুরুত্বপূর্ণ।
বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকের কাছাকাছি বাড়ি হস্তান্তর
নোভাল্যান্ড জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তারা ১,৩১৮টি বাড়ি হস্তান্তর করেছে। ২০২৬ সালের লক্ষ্যমাত্রা ২,৬৫১টি; অর্থাৎ পরিকল্পনার ৪৯.৭ শতাংশ পূরণ হয়েছে। তৃতীয় প্রান্তিকে হস্তান্তর করা হয়েছে ৯৭৭টি বাড়ি। বার্ষিক লক্ষ্য পূরণে শেষ প্রান্তিকে আরও ১,৩৩৩টি বাড়ি হস্তান্তর করতে হবে।
সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ ৯২০টির বেশি অ্যাপার্টমেন্ট হস্তান্তর করে ভিক্টোরিয়া ভিলেজ কোম্পানির হস্তান্তর কার্যক্রমে বড় অবদান রেখেছে। বিভিন্ন প্রকল্পে ১,৩৮৭টি সম্পত্তির মালিকানা সনদও ইস্যু হয়েছে। এর মধ্যে তৃতীয় প্রান্তিকে যোগ হয়েছে ৩৫৭টি।
ভিয়েতনামে এসব সনদকে সাধারণত ‘পিঙ্ক বুক’ বলা হয়। এগুলো জমির ব্যবহারের অধিকার এবং জমির সঙ্গে যুক্ত বাড়ি বা অন্য সম্পত্তির মালিকানা আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করে। ক্রেতাদের জন্য তৈরি বাড়ি বুঝে পাওয়া এবং মালিকানার কাগজপত্র পাওয়া দুটি পৃথক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
নোভাল্যান্ডের বার্ষিক সনদ লক্ষ্যমাত্রায় হো চি মিন সিটির ৪,৩৪৭টি সম্পত্তি অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে, ঘোষিত ১,৩৮৭টি সনদ কোম্পানির বিভিন্ন প্রকল্পের। দুই পরিসংখ্যানের ভৌগোলিক আওতা আলাদা। ঘোষিত বার্ষিক হস্তান্তর লক্ষ্যমাত্রার অগ্রগতি সরাসরি বোঝার মাপকাঠি হলো বাড়ি হস্তান্তরের হিসাব।
পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনায় অ্যাকোয়া সিটি ও অন্যান্য প্রকল্প
ডং নাইয়ে ১,০০০ হেক্টরের বেশি এলাকাজুড়ে গড়ে ওঠা অ্যাকোয়া সিটিতে দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা নিরসনের পর ৩১ অক্টোবর থেকে আবার বিক্রি শুরু হওয়ার কথা। নোভাল্যান্ড জানিয়েছে, প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট অংশে বিক্রয় চুক্তি সই করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
প্রকল্পটিতে ১,০০০টির বেশি বাড়ি নির্মাণ এবং ২০২৬ সালে ৫০০টির বেশি হস্তান্তরের লক্ষ্য রয়েছে। রিভার পার্ক ১, রিভার পার্ক ২, এভার গ্রিন ও ফিনিক্স আইল্যান্ডে নির্মাণ, অবকাঠামোর কাজ এবং শেষ পর্যায়ের কাজ চলছে।
হো চি মিন সিটিতে দ্য গ্র্যান্ড ম্যানহাটনে শেষ পর্যায়ের কাজ চলছে। কিছু সুবিধা চতুর্থ প্রান্তিকে হস্তান্তরের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ভিক্টোরিয়া ভিলেজে নির্মাণ শেষ করা ও অ্যাপার্টমেন্ট হস্তান্তরের কাজ চলছে। দ্য পার্ক অ্যাভিনিউতে নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে। নোভাওয়ার্ল্ড ফান থিয়েটে নভোটেল হোটেলটি ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে চালু হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
নোভাগ্রুপের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া বার্তায় প্রতিষ্ঠাতা বুই থান নন বলেন, পণ্য সম্পন্ন করা, বাড়ি হস্তান্তর, মালিকানা সনদ পাওয়া এবং গ্রাহকদের প্রতি অঙ্গীকার পূরণ করাই এখনকার দায়িত্ব। এসব কাজে অগ্রগতির সঙ্গে আয়, নগদ প্রবাহ ও গ্রাহকের আস্থা পুনর্গড়ার যোগসূত্র রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
হো চি মিন সিটিতে ১৬৬ হেক্টরের বেশি কৌশলগত জমির কথাও জানিয়েছে নোভাল্যান্ড। সেখানে প্রায় ১৪,৫০০ অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের সম্ভাবনা রয়েছে। কোম্পানির ভাষ্য, কৃষি ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় বিন খান (দ্য ওয়াটার বে নামেও পরিচিত) এবং থান মি লয় বি প্রকল্পে বাধা পর্যালোচনা করতে নগর কর্তৃপক্ষকে বলেছে। কাছাকাছি সময়ে অগ্রগতির বাস্তব সূচক হলো বাড়ি নির্মাণ সম্পন্ন হওয়া, চুক্তি সই এবং নগদ অর্থ আদায়।
যে তারিখ ও অর্থায়নের ধাপগুলো নজরে রাখা দরকার
শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদিত তিনটি মূলধন সংগ্রহ পরিকল্পনার মধ্যে নোভাল্যান্ডের অধিকারভিত্তিক শেয়ার বিক্রিই প্রথম। অন্য দুটি পরিকল্পনা হলো সর্বোচ্চ ২০ জন পেশাদার সিকিউরিটিজ বিনিয়োগকারীর কাছে সর্বোচ্চ ৮০০ মিলিয়ন শেয়ার ব্যক্তিগতভাবে বিক্রি এবং কর্মীদের জন্য ১১১.৭ মিলিয়নের বেশি শেয়ার মালিকানা কর্মসূচি।
বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের কাছে শেয়ার বিক্রির পর ওই দুটি ইস্যু বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে কোম্পানিটির। বর্তমান বিক্রি থেকে শেষ পর্যন্ত কত অর্থ উঠবে, তা এখনো জানা যায়নি। বন্ড পরিশোধের পরিকল্পনা সাবস্ক্রিপশন এবং ঋণদাতাদের সঙ্গে সমঝোতার ওপর নির্ভর করছে।
- ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: স্টেট সিকিউরিটিজ কমিশন 431/GCN-UBCK নিবন্ধন সনদ ইস্যু করে।
- ৩০ সেপ্টেম্বর ও ১ অক্টোবর: শেয়ার রাইটস-সমন্বয়হীন লেনদেন হয়েছে। এরপর যোগ্য শেয়ারহোল্ডার নির্ধারণের রেকর্ড ডেট ছিল।
- ১৯ অক্টোবর: অধিকার হস্তান্তর ও সাবস্ক্রিপশনের সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দেয় নোভাল্যান্ড।
- ২৬ থেকে ৩০ অক্টোবর: ডায়মন্ড প্রপার্টিজ ও কাও থি নক সুয়ং নিবন্ধিত শেয়ার লেনদেনের সময় নির্ধারণ করেন।
- ৩১ অক্টোবর: অ্যাকোয়া সিটিতে আবার বিক্রি শুরু হওয়ার কথা।
- ২৩ নভেম্বর: সাবস্ক্রিপশন অধিকার হস্তান্তরের বর্ধিত সময়সীমা।
- ২৬ নভেম্বর: নতুন শেয়ার কেনার নিবন্ধন ও অর্থ পরিশোধের বর্ধিত সময়সীমা।
- ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিক থেকে ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিক: বিক্রির অর্থ দিয়ে বন্ডের মূলধন পরিশোধের পরিকল্পিত সময়।
মূল বিষয়
- প্রতি শেয়ার ১০,০০০ ডং দরে প্রায় ৮০০.৭ মিলিয়ন নতুন শেয়ার বিক্রি করে প্রায় ৮.০০৭ ট্রিলিয়ন ডং সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে নোভাল্যান্ড।
- মূল কোম্পানির ১৩টি বন্ড পরিশোধে ৫,৯৫৩.৩ বিলিয়ন ডং এবং দুই সহযোগী প্রতিষ্ঠানের বন্ড পরিশোধে আরও ২,০৫৩.৬ বিলিয়ন ডং বরাদ্দ করা হয়েছে।
- জুনে মোট ঋণ ছিল ৭২.৯ ট্রিলিয়ন ডং। এর মধ্যে ৩০.৫ ট্রিলিয়ন ডং পরবর্তী ১২ মাসে পরিশোধযোগ্য এবং ১৬.৭ ট্রিলিয়ন ডংয়ের বেশি মূলধন মেয়াদোত্তীর্ণ।
- নয় মাসে আনুমানিক কর-পরবর্তী মুনাফা ২.৮ ট্রিলিয়ন ডং ছাড়িয়েছে। তবে বছরের প্রথমার্ধে পরিচালন নগদ প্রবাহ প্রায় ৩.৬ ট্রিলিয়ন ডং ঋণাত্মক ছিল।
- ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নোভাল্যান্ড ২১৮টি নতুন বিক্রি এবং ১,৩১৮টি বাড়ি হস্তান্তরের কথা জানিয়েছে, যা বার্ষিক হস্তান্তর লক্ষ্যমাত্রার ৪৯.৭ শতাংশ।
- শেয়ার কেনার নিবন্ধন ও অর্থ পরিশোধের শেষ সময় ২৬ নভেম্বর। পরিকল্পিত বন্ড পরিশোধ চলবে ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিক পর্যন্ত।






