তাইওয়ানের গণ্ডি ছাড়িয়ে প্রভাব ফেলবে যে অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত
তাইওয়ান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রস্তাবিত ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির মাধ্যমে দেশটির পরিকল্পিত ‘টি-ডোম’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র, স্বয়ংক্রিয় কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং চারদিকের আকাশ নজরদারির রাডার।
সূচিপত্র
- তাইওয়ানের গণ্ডি ছাড়িয়ে প্রভাব ফেলবে যে অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত
- টি-ডোমের জন্য তাইওয়ান কী চায়
- তাইপে অর্থ অনুমোদন করেছে, তবে বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করছে ওয়াশিংটন
- বাণিজ্য আলোচনা তাইওয়ানকে কূটনীতির কেন্দ্রে এনেছে
- মার্কিন অস্ত্রের মজুতও একটি সীমাবদ্ধতা
- একটি প্যাকেজ ভাগ হয়ে একাধিক বিক্রিতে রূপ নিতে পারে
- অস্ত্রকে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখে তাইপে
- প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের পরও অপেক্ষা চলবে
- মূল বিষয়গুলো
ওয়াশিংটন বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক এবং ইরানে অভিযানের জন্য মার্কিন অস্ত্রের প্রাপ্যতা বিবেচনা করায় প্রস্তাবটি কয়েক মাস ধরে ঝুলে আছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জুনে বলেন, প্যাকেজটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সিদ্ধান্তের কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি, আর বিক্রির প্রস্তাবটি ছোট ছোট কয়েকটি প্যাকেজে ভাগ করা হতে পারে।
তাইপের কাছে এর গুরুত্ব সামরিক সরঞ্জাম ও রাজনৈতিক সমর্থন, দুই দিক থেকেই। চীনের হামলা নিরুৎসাহিত করতে এবং আত্মরক্ষার সক্ষমতা জোরদার করতে অস্ত্র চায় তাইওয়ান। বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে, দ্বীপটিতে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির বিরোধিতা করে এবং বলপ্রয়োগে দখলের হুমকি দিয়েছে।
প্রস্তাবিত কেনাকাটার পরিমাণ গত ডিসেম্বরে ওয়াশিংটনের অনুমোদিত রেকর্ড ১১.১ বিলিয়ন ডলারের প্যাকেজের চেয়ে বেশি। ১৪ বিলিয়ন ডলারের এই প্যাকেজটি ২.৯ বিলিয়ন ডলার বড়, অর্থাৎ প্রায় ২৬ শতাংশ বেশি। ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বাণিজ্য উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করায় প্যাকেজটির আকার সিদ্ধান্তটিকে বিশেষভাবে স্পর্শকাতর করে তুলেছে।
টি-ডোমের জন্য তাইওয়ান কী চায়
বিভিন্ন স্তরের আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক হিসেবে টি-ডোম তৈরি করছে তাইওয়ান। লক্ষ্য হলো বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে একত্র করা, যাতে সেগুলো হুমকি শনাক্ত করতে, সমন্বিত সাড়া দিতে এবং ধেয়ে আসা হামলা প্রতিহত করতে পারে।
প্রস্তাবিত মার্কিন প্যাকেজের চিহ্নিত তিনটি উপাদানের কাজ আলাদা। রাডার এগিয়ে আসা হুমকি শনাক্ত ও অনুসরণে সহায়তা করে। স্বয়ংক্রিয় কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সেই তথ্যকে সমন্বিত সাড়ায় রূপ দিতে সাহায্য করে। প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার উপায় দেয়। ৩৬০ ডিগ্রি নজরদারির রাডার নিজের অবস্থানের চারপাশে সব দিকে নজর রাখতে পারে।
প্যাকেজে প্যাট্রিয়ট পিএসি-৩ ইন্টারসেপ্টর এবং উন্নত ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা রয়েছে।
তাইপের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি রিসার্চের সামরিক বিশেষজ্ঞ সু জু-ইউন এসব সরঞ্জাম একত্র করার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেছেন:
এই ব্যবস্থাগুলো একসঙ্গে তাইওয়ানের কৌশলগত আকাশ প্রতিরক্ষার সক্ষমতা ও স্থিতিস্থাপকতা জোরদার করতে পারে।
স্থিতিস্থাপকতা বলতে চাপের মধ্যেও কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া বা বিঘ্নের পর আবার সচল হওয়ার সক্ষমতা বোঝায়। তাইওয়ানের লক্ষ্য এমন একটি আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক, যার উপাদানগুলো হামলার সময় একসঙ্গে কাজ করবে। সরঞ্জাম কেনা একটি ধাপ; কার্যকর হওয়ার আগে সেগুলোকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করা এবং পরিচালনার জন্য কর্মীদের প্রস্তুত করাও জরুরি।
তাইপে অর্থ অনুমোদন করেছে, তবে বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করছে ওয়াশিংটন
মাসের পর মাস রাজনৈতিক বিরোধের পর মে মাসে তাইওয়ানের পার্লামেন্ট ২৫ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা ব্যয় বিল পাস করে। প্রস্তাবিত মার্কিন অস্ত্র কেনার অর্থ ওই বিল থেকে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পুরো কেনাকাটার অর্থ ওই বিল থেকে দেওয়া হলে ১৪ বিলিয়ন ডলারের প্যাকেজটি বিলের মোট মূল্যের ৫৬ শতাংশ হবে। এ তুলনা তাইওয়ানের ব্যয় পরিকল্পনায় প্রস্তাবিত কেনাকাটার ব্যাপকতা দেখায়, যদিও চূড়ান্ত প্যাকেজ ও অর্থায়নের ব্যবস্থা এখনো ঠিক হয়নি।
তাইওয়ান সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন এবং দেশীয় অস্ত্র উৎপাদনও বাড়াচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনাকাটার পাশাপাশি এসব উদ্যোগ চলছে। যুক্তরাষ্ট্র এখনো তাইওয়ানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা-সমর্থক।
পার্লামেন্টের ভোটে তাইওয়ানের অভ্যন্তরীণ বড় একটি অর্থায়ন-সংক্রান্ত বিরোধের নিষ্পত্তি হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্তটি এখন ওয়াশিংটনের হাতে। সেখানে ট্রাম্প নিজের রিপাবলিকান দলের সদস্যদের চাপসহ প্যাকেজটি অনুমোদনের চাপের মুখেও তা করতে দ্বিধা করেছেন। তাইপের অর্থ দিতে প্রস্তুত থাকা এবং ওয়াশিংটনের বিক্রির অনুমতি দেওয়া, অস্ত্রগুলো কার্যকর করতে—এ দুটি পৃথক ধাপ।
বাণিজ্য আলোচনা তাইওয়ানকে কূটনীতির কেন্দ্রে এনেছে
বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা কমানোর চেষ্টার অংশ হিসেবে মে মাসে বেইজিংয়ে সাক্ষাৎ করেন ট্রাম্প ও শি। ২০২৬ সালে দুই নেতার মধ্যে প্রত্যাশিত চারটি বৈঠকের মধ্যে এটিই ছিল প্রথম।
শি ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, তাইওয়ান নিয়ে ভুল পদক্ষেপ চীন ও যুক্তরাষ্ট্রকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। ফলে ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন তাদের বাণিজ্যিক যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার প্রচেষ্টার এক স্পর্শকাতর সময়ে আসবে।
মে মাসে ট্রাম্প বলেন, চীনের সঙ্গে দর-কষাকষিতে তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। এ সম্ভাবনায় উদ্বিগ্ন হয় তাইপে। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা করতে সহায়তার অঙ্গীকারের কথা ওয়াশিংটনকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে তারা।
শির সঙ্গে বন্ধুত্বের প্রশংসাও করেছেন ট্রাম্প। বেইজিং সম্মেলনের পর অস্ত্র বিক্রি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সিদ্ধান্ত খোলা রেখেছিলেন:
আমি সিদ্ধান্ত নেব। বিষয়টি দেখব।
প্রেসিডেন্টের মন্তব্যে প্রস্তাবিত বিক্রিটি বাণিজ্য এবং ওয়াশিংটন-বেইজিং সম্পর্ক নিয়ে বৃহত্তর আলোচনার অংশ হয়ে উঠেছে। তবে তাইওয়ানের তাৎক্ষণিক উদ্বেগ আরও সুনির্দিষ্ট: অনুমোদন কবে আসতে পারে, এতে কোন অস্ত্র থাকবে এবং সেগুলো কত দ্রুত ব্যবহারযোগ্য হবে।
মার্কিন অস্ত্রের মজুতও একটি সীমাবদ্ধতা
মার্কিন কর্মকর্তারা মে মাসে বলেন, ইরানে অভিযানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত যথেষ্ট কি না, তা মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এই পর্যালোচনা তাইওয়ান প্যাকেজ ঘিরে কূটনৈতিক হিসাবের সঙ্গে সামরিক সরবরাহের উদ্বেগও যুক্ত করেছে।
সামরিক বাহিনী ব্যবহারের জন্য যে অস্ত্র মজুত রাখে, সেটিই অস্ত্রের মজুত। কোনো নিরাপত্তা-অংশীদারকে কী সরঞ্জাম দেওয়া সম্ভব, তা নির্ধারণের সময় ওয়াশিংটনকে নিজেদের অভিযানের প্রয়োজনও বিবেচনা করতে হয়। অনুমোদন, উৎপাদন ও সরবরাহ—প্রতিটি ধাপই কেনাকাটা কত দ্রুত এগোবে, তা প্রভাবিত করে।
জুনে রুবিওর বক্তব্য—প্যাকেজটি এখনো পর্যালোচনাধীন—এসেছিল ওই মূল্যায়নের পর। যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন ও তাইওয়ানের প্রস্তাবিত কেনাকাটার মধ্যে অস্ত্র কীভাবে ভাগ করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
পর্যালোচনার ব্যাখ্যা দিতে নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের রুবিও বলেন, বিদেশে অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক-শিল্প সক্ষমতার সঙ্গে মিলিয়ে বিবেচনা করতে হবে:
এটি বিশেষভাবে তাইওয়ানকে নিয়ে নয়, তবে আমরা কোনো কিছু বিক্রি করলে সেটি আর আমাদের কাছে থাকে না,” তিনি বলেন। “ভবিষ্যতে আমরা তা পেতে পারি, কিন্তু এখন আমাদের হাতে থাকে না।
তিনি বলেন, ১৪ বিলিয়ন ডলারের প্যাকেজটি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনের ভারসাম্য এবং “আমরা কিছু বিক্রি করতে পারব কি না, কারণ সেটি আমাদের নিজেদের প্রয়োজন হতে পারে”—তা বিবেচনা করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তাইওয়ানের জন্য এতে শির সঙ্গে ট্রাম্পের আলোচনার বাইরেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিক্রিতে সমর্থন জানিয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এলেও সরঞ্জাম উৎপাদন, সরবরাহ ও পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। সময়সূচি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাইওয়ান শুধু আলাদা আলাদা অস্ত্র কেনার অনুমতি নয়, একটি কার্যকর প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে চাইছে।
একটি প্যাকেজ ভাগ হয়ে একাধিক বিক্রিতে রূপ নিতে পারে
এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, প্রস্তাবটি ছোট ছোট বিক্রিতে ভাগ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে। এতে অনুমোদনের ধরন বদলাবে: ১৪ বিলিয়ন ডলারের একক লেনদেনের বদলে আলাদা প্যাকেজ হিসেবে অস্ত্রগুলো বিবেচনা করা যাবে।
তাইওয়ানের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেছেন, দুই ব্যবস্থার যেকোনোটি তারা মেনে নিতে প্রস্তুত। ওয়াশিংটন একসঙ্গে অনুমোদন দিক বা কয়েক দফা সিদ্ধান্তে—সরঞ্জাম পাওয়াই তাদের অগ্রাধিকার।
তখন বাস্তব প্রশ্ন হবে প্রতিটি বিক্রিতে কী কী থাকবে এবং কখন তা হবে। বৃহত্তর আকাশ প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় কাজে লাগবে—এমন রাডার, কমান্ড ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র চায় তাইওয়ান। আলাদা অনুমোদন হলে কোন উপাদান আগে এগোয় এবং বাকিগুলো কখন আসে, তা নজরে রাখতে হবে তাইপেকে।
প্রস্তাবটির চূড়ান্ত কাঠামো এখনো ঘোষণা করেনি ওয়াশিংটন। প্যাকেজ, সামরিক সরবরাহের প্রয়োজন এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বিবেচনা করার সময় প্রশাসনের কাছে এটি ভাগ করার সম্ভাবনা রয়েছে।
অস্ত্রকে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখে তাইপে
১৯৭৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক স্বীকৃতি তাইপে থেকে বেইজিংয়ে সরিয়ে নেয়। এরপর থেকে তাইওয়ান রিলেশনস অ্যাক্টের মাধ্যমে তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র সরবরাহের মার্কিন অঙ্গীকারের কাঠামো নির্ধারিত হয়েছে।
তাইওয়ান রিলেশনস অ্যাক্ট-এর ২ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি হলো “তাইওয়ানকে প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র সরবরাহ করা”। ৩ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত আত্মরক্ষার সক্ষমতা বজায় রাখতে তাইওয়ানের প্রয়োজনীয় পরিমাণে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও সেবা যুক্তরাষ্ট্র সরবরাহ করবে। তাইওয়ানের প্রয়োজন সম্পর্কে নিজেদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রেসিডেন্ট ও কংগ্রেস এ সহায়তার ধরন ও পরিমাণ নির্ধারণ করবেন; এ ক্ষেত্রে মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষের পর্যালোচনা থাকবে।
নতুন বিক্রির জন্য চাপ দিতে গিয়ে তাইপে এসব অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেছে। ট্রাম্পের বেইজিংয়ের সঙ্গে দর-কষাকষির মন্তব্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও রুবিও ও যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কর্মকর্তারা বলেছেন, তাইওয়ান নিয়ে মার্কিন নীতির পরিবর্তন হয়নি।
প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টির জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা ওয়াং তিং-ইউ বলেন, অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের বার্তা দেবে এবং বেইজিংকে জানাবে যে হামলা করলে শুধু তাইওয়ান নয়, আরও পক্ষের মোকাবিলা করতে হবে।
ওয়াংয়ের যুক্তি প্রতিরোধ নিয়ে: হামলার সম্ভাব্য জটিলতা ও খরচ বাড়িয়ে তা নিরুৎসাহিত করা। প্রস্তাবিত অস্ত্র সামরিক সক্ষমতা বাড়াবে, আর অনুমোদন তাইওয়ানের প্রতিরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন অব্যাহত রাখার বার্তাও দেবে। দ্বীপটির ওপর চীনের দাবি বজায় থাকায় তাইপে দুই ধরনের প্রভাবই চায়।
প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের পরও অপেক্ষা চলবে
তাইওয়ানের অস্ত্র সংগ্রহের উদ্যোগ এখন কয়েকটি সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে—আগের মার্কিন প্যাকেজ, তাইওয়ানের নিজস্ব ব্যয় আইন এবং ওয়াশিংটনে চলমান পর্যালোচনা:
- ডিসেম্বর: তাইওয়ানের জন্য রেকর্ড ১১.১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদন করে ওয়াশিংটন।
- মে ২০২৬: মাসের পর মাস রাজনৈতিক বিরোধের পর তাইওয়ানের পার্লামেন্ট ২৫ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা ব্যয় বিল পাস করে।
- মে ২০২৬: বেইজিংয়ে সাক্ষাৎ করেন ট্রাম্প ও শি; একই সময়ে ইরানে অভিযানের জন্য অস্ত্রের মজুত মূল্যায়ন করেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
- জুন ২০২৬: প্রস্তাবিত ১৪ বিলিয়ন ডলারের প্যাকেজটি এখনো পর্যালোচনাধীন বলে জানান রুবিও।
- ২০২৬ সালে: মে মাসের সম্মেলন দিয়ে শুরু করে ট্রাম্প-শির মধ্যে চারটি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল।
তাইপের প্রতিরক্ষা গবেষক সু সতর্ক করে বলেন, অনুমোদিত কেনাকাটাকে কার্যকর ব্যবস্থায় রূপ দিতে যে সময় লাগে, তাতে বিলম্বের তাৎপর্য রয়েছে। আদেশ দেওয়ার পরের ধাপগুলো তিনি এভাবে ব্যাখ্যা করেন:
অস্ত্র সংগ্রহ ড্রাইভ-থ্রুতে খাবার অর্ডার দেওয়ার মতো নয়। উৎপাদন, সরবরাহ ও প্রশিক্ষণে সময় লাগে; এরপরই ব্যবস্থাগুলো কার্যকর হতে পারে।
টি-ডোমের জন্য মার্কিন ব্যবস্থা চাওয়ার পাশাপাশি অর্থায়ন ও দেশীয় উৎপাদনের কাজ এগিয়ে নিয়েছে তাইওয়ান। এখন তাদের অগ্রাধিকার এমন একটি সিদ্ধান্ত, যা অস্ত্র সংগ্রহ এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেবে। এরপর কারখানা, সরবরাহের সময়সূচি ও প্রশিক্ষণই নির্ধারণ করবে প্রস্তাবিত সরঞ্জামগুলো কবে দ্বীপটির প্রতিরক্ষায় কাজে লাগবে।
মূল বিষয়গুলো
- তাইওয়ানের কাছে প্রস্তাবিত ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রিতে এখনো অনুমোদন দেননি ট্রাম্প।
- প্যাকেজে রয়েছে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র, স্বয়ংক্রিয় কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম এবং পরিকল্পিত টি-ডোম আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের জন্য রাডার।
- মে মাসে পাস হওয়া ২৫ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা ব্যয় বিল থেকে অর্থ আসবে বলে আশা করছে তাইওয়ান।
- চীনের সঙ্গে সম্পর্ক এবং ইরানে অভিযানের জন্য মার্কিন অস্ত্রের প্রয়োজন—দুই বিষয়ই বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন।
- প্রস্তাবটি ছোট ছোট বিক্রিতে ভাগ হতে পারে; সিদ্ধান্তের কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
- অনুমোদনের পরও উৎপাদন, সরবরাহ ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হবে।






