ভাড়া নেওয়া ছয়টি কার্যালয় নিয়ে নির্বাচনী ব্যয়ের ওপর নজরদারি
২০২৪ সালের অক্টোবরে জাপানের প্রতিনিধি পরিষদ নির্বাচনে যোগাযোগ কার্যালয় হিসেবে বর্ণিত চারটি স্থান নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহৃত হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে গশি হোসোনো। তাঁর নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবে ছয়টি স্থানের ভাড়া দেওয়ার কথা রয়েছে বলে জানা গেছে। শিজুওকা প্রিফেকচারের এক নির্বাচন কর্মকর্তা বলেছেন, অনুমোদিত ব্যবস্থা হলো প্রার্থীর জন্য একটি এবং নিবন্ধিত দলের জন্য একটি নির্বাচনী কার্যালয়।
সূচিপত্র
আইনে অনুমোদিত সংখ্যার বেশি নির্বাচনী কার্যালয় পরিচালনার অভিযোগ অস্বীকার করেছে হোসোনোর কার্যালয়। পরে তারা জানায়, প্রশাসনিক ভুলে যোগাযোগ কার্যালয়গুলোর ব্যয় নির্বাচনী হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং তা তাঁর রাজনৈতিক তহবিল ব্যবস্থাপনা সংস্থার হিসাবে স্থানান্তর করা হবে।
বিতর্কের মূল প্রশ্ন হলো, ওই চারটি স্থানে কী ঘটেছিল। স্থানীয় পরিষদের এক সদস্য, যিনি একটি যোগাযোগ কার্যালয়ে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেছিলেন, নামের তালিকা ব্যবহার করে ফোনে নির্বাচনী প্রচারের কথা বর্ণনা করেছেন। হোসোনোর কার্যালয় বলেছে, সেখানে কোনো নির্বাচনী প্রচার চালানো হয়নি। পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নিয়ম নির্ভর করে স্থানগুলো কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে তার ওপর, সেগুলোকে কী নামে ডাকা হয়েছে তার ওপর নয়।
অভিযোগগুলো শিজুওকার পঞ্চম নির্বাচনী এলাকায় হোসোনোর প্রচারকে কেন্দ্র করে। পাশাপাশি, ২০২৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির অধীনে পুনর্গঠনমন্ত্রী হিসেবে তাঁর মন্ত্রিসভায় ফেরার একটি বিবরণও রয়েছে। সেই বিবরণে বিতর্কটিকে নির্বাচনী ব্যয় নিয়ে বর্তমান প্রশ্নের তুলনায় পরবর্তী সময়ের ঘটনা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
ভোটারদের জন্য তাৎক্ষণিক প্রশ্নটি সুনির্দিষ্ট: প্রচারকর্মীরা সরকারি পদ নির্বাচন আইনে নির্ধারিত কার্যালয়সংক্রান্ত সীমার মধ্যে কাজ করেছিলেন কি না এবং ওই স্থানগুলোর পেছনে ব্যয় করা অর্থ সঠিক হিসাবে নথিভুক্ত হয়েছিল কি না।
ছয়টি ঠিকানা কী কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল
হোসোনোর নির্বাচনী ব্যয়ের প্রতিবেদনে মিশিমায় প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় এবং ফুজিতে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির শাখা নির্বাচনী কার্যালয়ের ভাড়া উল্লেখ ছিল বলে জানা গেছে। গোটেম্বা ও সুসোনোর স্থানসহ আরও চারটি ভাড়া করা স্থানের নাম যোগাযোগ কার্যালয় হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিল।
শিজুওকা প্রিফেকচারের নির্বাচন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা ব্যাখ্যা করেছেন, প্রার্থী ও নিবন্ধিত দল প্রত্যেকে একটি করে নির্বাচনী কার্যালয় রাখতে পারে। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অতিরিক্ত স্থান থেকে ফোনে প্রচার চালানো হলে তা বিধিনিষেধ লঙ্ঘন হবে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, “একজন প্রার্থী ব্যক্তিগত নির্বাচনী কার্যালয় একটি এবং নিবন্ধিত দলের (এলডিপি) জন্য একটি, মোট দুটি কার্যালয় রাখতে পারেন। অন্য স্থানে ফোন করা, অর্থাৎ নির্বাচনী প্রচারের মতো কাজ নিষিদ্ধ।” এই ব্যাখ্যায় সাধারণ বিধিনিষেধের কথা বলা হয়েছে; হোসোনোর চারটি যোগাযোগ কার্যালয়ে কী কাজ হয়েছে, তা এতে প্রমাণিত হয় না।
যোগাযোগ কার্যালয়ের উদ্দেশ্য ভিন্ন হতে পারে। ভৌগোলিকভাবে বড় নির্বাচনী এলাকায় সমর্থকদের তথ্য আদান-প্রদান বা বাসিন্দাদের সঠিক স্থানে যাওয়ার দিকনির্দেশ দিতে এমন জায়গার প্রয়োজন হতে পারে। এসব স্থান অতিরিক্ত নির্বাচনী কার্যালয়ে পরিণত হয় কি না, তা নির্ভর করে সেখানে কী কাজ করা হয়েছে তার ওপর।
হোসোনোর একটি যোগাযোগ কার্যালয়ে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করা স্থানীয় পরিষদের এক সদস্যের বর্ণনা অনুযায়ী, সমর্থক সংগঠনের নারীরা টেলিফোন ধার নিয়ে তালিকা দেখে লোকজনকে ফোন করতেন। পরিষদ সদস্য আরও স্মরণ করেন, হোসোনো সেখানে এক বা দুবার গিয়েছিলেন। এই সাক্ষ্যেই কার্যালয়ের ভেতরে কী কাজ হয়েছে, তা বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে।
রাজনৈতিক অর্থায়ন নিয়ে গবেষণাকারী কোবে গাকুইন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিরোশি কামিওয়াকি বলেন, নির্বাচনী কার্যালয়সংক্রান্ত বিধিনিষেধের উদ্দেশ্য নির্বাচনের ন্যায্যতা রক্ষা করা। তাঁর মূল্যায়নে, নির্বাচনী সময়ে ভাড়া নেওয়া এবং ফোনে প্রচারের জন্য ব্যবহৃত স্থান যোগাযোগ কার্যালয় নামে পরিচিত হলেও নির্বাচনী কার্যালয়ের সংজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে।
প্রচারের অভিযোগ অস্বীকার, হিসাব সংশোধনের আশ্বাস হোসোনোর
২০ অক্টোবর দুপুরে হোসোনোর কার্যালয় প্রথমে জানায়, তাদের নির্বাচনী কার্যালয়গুলো আইন মেনেই স্থাপন করা হয়েছিল। অনুমোদিত সংখ্যার বাইরে কার্যালয় খোলা বা অন্য স্থানকে নির্বাচনী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ তারা অস্বীকার করে। সমর্থকেরা যোগাযোগ কার্যালয়ের অনুরোধ জানিয়েছিলেন, তবে সেখানে কোনো নির্বাচনী প্রচার চালানো হয়নি বলে তারা জানায়।
পরে কার্যালয়টি ঘোষণা করে, যোগাযোগ কার্যালয়গুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যয় ২০২৪ ও ২০২৬ সালের নির্বাচনী হিসাবে সংশোধন করা হবে। সেগুলো হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে প্রশাসনিক ভুল হিসেবে বর্ণনা করে তারা জানায়, ওই ব্যয় বরং তাঁর রাজনৈতিক তহবিল ব্যবস্থাপনা সংস্থার ব্যয় হিসেবে জমা দেওয়া হবে।
হোসোনোর কার্যালয় জানায়, ২১ অক্টোবর সংশোধন করা হবে। তাদের প্রতিশ্রুতিতে বলা হয়:
প্রতিবেদন সংশোধন করা হবে
বিবৃতিটির অর্থ হলো প্রতিবেদনগুলো সংশোধন করা হবে। প্রতিশ্রুত পরিবর্তনটি ব্যয় কোন সংস্থার হিসাবে নথিভুক্ত হবে, তা নিয়ে: নির্বাচনী প্রচার নাকি হোসোনোর রাজনৈতিক তহবিল পরিচালনাকারী সংস্থা।
মূল আইনি প্রশ্নটি হলো, স্থানগুলো কী কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল। সেখানে সাধারণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চললে অন্য হিসাবের খাত প্রযোজ্য হতে পারে। নির্বাচনের সময় কর্মীরা সেখানে ভোট চাইলে নির্বাচনী কার্যালয়সংক্রান্ত বিধি মুখ্য হয়ে উঠবে। প্রতিশ্রুত সংশোধনের অবস্থা এবং কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা আইনি সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা প্রতিষ্ঠিত নয়।
সরকারি প্রকাশনা ব্যবস্থা থেকে কী জানা যায়
জাপানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় ২০২৪ সালের বর্ষপঞ্জিভিত্তিক রাজনৈতিক তহবিলের আয়-ব্যয়ের প্রতিবেদন নিয়মিতভাবে ২০২৫ সালের ২৮ নভেম্বর প্রকাশ করেছে। মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক তহবিল প্রকাশনা পৃষ্ঠা রাজনৈতিক সংগঠনের ধরন অনুযায়ী নথিগুলো সাজিয়েছে।
এই শ্রেণিগুলোর মধ্যে রয়েছে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, দলীয় শাখা, সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংগঠন, রাজনৈতিক তহবিল ব্যবস্থাপনা সংস্থা এবং অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠী। সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর প্রতিবেদন প্রার্থীদের নামের জাপানি বর্ণানুক্রম অনুযায়ী সাজানো হয়েছে।
হোসোনোর ক্ষেত্রে এই বিন্যাসটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাঁর কার্যালয় দুই ধরনের হিসাবের মধ্যে ব্যয় স্থানান্তরের প্রস্তাব দিয়েছে। নির্বাচনী ব্যয়ের প্রতিবেদনে একটি নির্দিষ্ট নির্বাচনী প্রচার-সংশ্লিষ্ট অর্থের হিসাব থাকে। বার্ষিক রাজনৈতিক তহবিল প্রতিবেদনে প্রতিবেদনকালজুড়ে একটি রাজনৈতিক সংগঠনের আয় ও ব্যয়ের হিসাব থাকে।
তাই যোগাযোগ কার্যালয়ের ভাড়ার খরচ অনুসরণ করতে পাঠককে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী হিসাবের পাশাপাশি যে সংস্থায় ব্যয় স্থানান্তর করার কথা, তার হিসাবও পরীক্ষা করতে হবে। মন্ত্রণালয়ের প্রকাশনা পৃষ্ঠায় বার্ষিক রাজনৈতিক অর্থায়নের তথ্য পাওয়া যায়; ভাড়ার নির্দিষ্ট খাত এবং প্রতিশ্রুত সংশোধন যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট নথিগুলো আলাদাভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
প্রকাশের তারিখগুলোও সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার। সরকারি প্রকাশনায় ২০২৪ সালের কার্যক্রমের তথ্য রয়েছে, যা ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত হয়েছে। হোসোনোর হিসাব সংশোধনের প্রতিশ্রুতির কথা ২০২৪ ও ২০২৬—দুই বছরের জন্যই বলা হয়েছে। এগুলো পৃথক প্রতিবেদনকাল, আর পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় আগের নির্বাচনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
দল বদলের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পথচলা
২০০০ সালে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে হোসোনো প্রথম প্রতিনিধি পরিষদের আসনে জয়ী হন। পরে তিনি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও পরিবেশমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং দলীয় পরিচয় বদলানোর আগে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি গড়ে তোলেন।
২০১৭ সালে তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টির উত্তরসূরি সংগঠন ছেড়ে টোকিওর গভর্নর ইউরিকো কোইকে-সহ কয়েকজন নেতার সঙ্গে পার্টি অব হোপ গঠনে সহায়তা করেন। পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০২১ সালে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিতে যোগ দেন।
ফলে ২০২৪ সালের অক্টোবরের নির্বাচন ছিল এলডিপি সদস্য হিসেবে তাঁর প্রথম প্রতিনিধি পরিষদ নির্বাচন। এখন যে হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তা শিজুওকার পঞ্চম নির্বাচনী এলাকায় ওই প্রচারের সঙ্গে সম্পর্কিত।
২০২৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর পুনর্গঠনমন্ত্রী হিসেবে তাঁর নিয়োগের কথা জানানো হয়। প্রায় ১৪ বছর পর মন্ত্রিসভায় ফেরাকে তাঁর রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ব্যয়সংক্রান্ত অভিযোগ কেন এত মনোযোগ পাচ্ছে, তা এই রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন ব্যাখ্যা করে: স্থানীয় নির্বাচনী প্রচার পরিচালনা নিয়ে বিরোধ এখন এমন এক রাজনীতিককে ঘিরে, যাঁর জাতীয় পর্যায়ে পুনর্গঠনের দায়িত্ব রয়েছে বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
বিতর্কের পেছনের তারিখগুলো
বিবরণে হোসোনোর দলবদল, নির্বাচনী ব্যয় এবং পরবর্তী মন্ত্রিসভায় নিয়োগ—এসবের সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক বছর উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাগুলো আলাদা করে দেখলে ধারাবাহিকতা বোঝা সহজ হয়।
- ২০০০: ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে হোসোনো প্রথম প্রতিনিধি পরিষদ নির্বাচনে জয়ী হন।
- ২০১৭: তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টির উত্তরসূরি সংগঠন ছেড়ে পার্টি অব হোপ গঠনে সহায়তা করেন।
- ২০২১: স্বতন্ত্র হিসেবে এক সময় থাকার পর তিনি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিতে যোগ দেন।
- অক্টোবর ২০২৪: এলডিপি সদস্য হিসেবে প্রতিনিধি পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেন। তাঁর প্রচার-হিসাবে ছয়টি স্থানের ভাড়ার খরচ ছিল বলে জানা গেছে।
- ২৮ নভেম্বর ২০২৫: অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ২০২৪ সালের রাজনৈতিক তহবিলের প্রতিবেদন নিয়ে নিয়মিত প্রকাশনা প্রকাশ করে।
- ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬: তাঁর মন্ত্রিসভায় ফেরার বিবরণে এই দিনটিকে পুনর্গঠনমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের তারিখ বলা হয়েছে।
- নিয়োগের পর ১৭ অক্টোবর: মিশিমার এক বক্তৃতায় সরাসরি উপস্থিত না হয়ে ভিডিও বার্তা পাঠান হোসোনো এবং তত্তোরি প্রিফেকচারের কুরায়োশিতে দুর্যোগ প্রস্তুতি সম্মেলনে যোগ দেন।
- ২০ ও ২১ অক্টোবর: তাঁর কার্যালয় ২০২৪ ও ২০২৬ সালের নির্বাচনী হিসাব সংশোধনের ঘোষণা দেয় এবং পরদিন সংশোধনের প্রতিশ্রুতি দেয়।
অক্টোবরের প্রতিক্রিয়ার তারিখগুলো তাঁর মন্ত্রিসভায় ফেরার বিবরণের অন্তর্ভুক্ত। তবে বিস্তারিত অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা নির্বাচনটি হয়েছিল ২০২৪ সালের অক্টোবরে।
জাতীয় দায়িত্ব ও স্থানীয় জবাবদিহি
১৭ অক্টোবর মিশিমার বক্তৃতায় হোসোনোর অনুপস্থিতি জাতীয় দায়িত্ব ও নির্বাচনী এলাকার মানুষের প্রত্যাশার মধ্যকার টানাপোড়েনের একটি সুনির্দিষ্ট উদাহরণ। উপস্থিত ব্যক্তিরা একটি ভিডিও বার্তা পান, যাতে তিনি বলেন, ১৭ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়ার পর থেকে তিনি মিশিমায় ফেরেননি এবং বাড়ি যেতে চান।
একই দিন তিনি কুরায়োশিতে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে প্রচারের জাতীয় সম্মেলনে যোগ দেন। স্থানীয় এক প্রভাবশালী সমর্থক বলেন, তাকাইচি তাঁকে মিশিমায় ফেরার পরিবর্তে সংসদীয় বাসভবন, ডায়েট এবং পুনর্গঠন পরিদর্শন সফরের কাজে মনোযোগ দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই বিবরণটি ওই সমর্থকের কাছ থেকে এসেছে।
তাঁর স্থানীয় রাজনৈতিক সংগঠন কীভাবে কাজ করে, তাতে নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দাদের সরাসরি স্বার্থ রয়েছে। বিতর্কিত চারটি যোগাযোগ কার্যালয় ছিল সেই স্থানীয় কাঠামোর অংশ, আর অভিযোগের জবাব নির্ভর করছে সেখানে কী কাজ হয়েছে তার নথি ও হিসাবের ওপর।
হোসোনোকে ঘিরে বৃহত্তর অভিযোগে ৫০ মিলিয়ন ইয়েনের একটি অঘোষিত অর্থ এবং মোট ২০০ মিলিয়ন ইয়েনের তহবিল সংগ্রহের নৈশভোজের কথাও উল্লেখ রয়েছে। এসব দাবির পক্ষে নির্দিষ্ট লেনদেন, তারিখ ও অনুসন্ধানের ফল বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়নি। কার্যালয় নিয়ে বিরোধটিই সবচেয়ে সুনির্দিষ্ট বিষয় সামনে আনে: ভাড়ার ছয়টি স্থান, চারটি যোগাযোগ কার্যালয়, সেখানে ফোনে প্রচারের বিষয়ে এক স্বেচ্ছাসেবকের বর্ণনা এবং হিসাব পরিবর্তনের ঘোষণা।
মূল কথা
- হোসোনোর ২০২৪ সালের অক্টোবরের নির্বাচনী হিসাবে চারটি যোগাযোগ কার্যালয়সহ ছয়টি স্থানের ভাড়া দেওয়ার কথা রয়েছে বলে জানা গেছে।
- শিজুওকার এক নির্বাচন কর্মকর্তা বলেছেন, অনুমোদিত ব্যবস্থা হলো প্রার্থীর জন্য একটি এবং নিবন্ধিত দলের জন্য একটি নির্বাচনী কার্যালয়।
- স্থানীয় পরিষদের এক সদস্য একটি যোগাযোগ কার্যালয়ে ফোনে প্রচারের কথা বর্ণনা করেছেন। হোসোনোর কার্যালয় সেখানে নির্বাচনী প্রচারের কথা অস্বীকার করেছে।
- হোসোনোর কার্যালয় ২০২৪ ও ২০২৬ সালের নির্বাচনী হিসাব সংশোধন এবং যোগাযোগ কার্যালয়ের খরচ তাঁর রাজনৈতিক তহবিল ব্যবস্থাপনা সংস্থার হিসাবে নথিভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
- অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ২০২৪ সালের বার্ষিক রাজনৈতিক তহবিলের প্রতিবেদন ২০২৫ সালের ২৮ নভেম্বর প্রকাশ করেছে।
- মূল প্রশ্ন হলো, চারটি স্থান বাস্তবে কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল এবং সেগুলোর ব্যয় কীভাবে নথিভুক্ত করা উচিত।






