গুরুত্বপূর্ণ ভোটের আগে একটি জোটের নিবন্ধন বাতিল
জোটের নেতৃত্বের একটি বৈঠকে বেরসাতুকে বাদ দেওয়া হয়েছে—দলটির অভিযোগের পর মালয়েশিয়ার সোসাইটিজ রেজিস্ট্রার ২০২৬ সালের ২০ অক্টোবর পেরিকাতান ন্যাসিওনালের (পিএন) নিবন্ধন বাতিল করে। হাইকোর্টে নির্ধারিত শুনানির দুই দিন আগে এবং মেলাকা রাজ্য নির্বাচনের মনোনয়ন জমার ১১ দিন আগে এ সিদ্ধান্ত আসে।
সূচিপত্র
- গুরুত্বপূর্ণ ভোটের আগে একটি জোটের নিবন্ধন বাতিল
- রেজিস্ট্রারের সিদ্ধান্তের পেছনে কী ছিল?
- যেভাবে বিরোধ এ পর্যায়ে পৌঁছাল
- সময় নিয়ে পিএন কেন আপত্তি জানাচ্ছে
- প্রার্থী ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ক্ষেত্রে কী বদলাবে?
- কেন পিএস এখন কেন্দ্রীয় ভূমিকায়
- কৃতিত্ব, অর্থ ও কর্তৃত্ব নিয়ে টানাপোড়েন
- ছোট দলগুলোর সমর্থনেরও পরীক্ষা
- সম্ভাব্য নতুন জোটের পরীক্ষা নেবে মেলাকা
- নিবন্ধন বাতিলের পেছনে পিকেআরের ভূমিকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান
- মূল বিষয়গুলো
রেজিস্ট্রার জানিয়েছে, ২২ সেপ্টেম্বর জারি করা নোটিশের জবাবে ১২ অক্টোবর পিএন যে ব্যাখ্যা দিয়েছিল, তাতে নিবন্ধন বাতিলের কারণগুলো খণ্ডন করা যায়নি বা জোটের নিবন্ধন বহাল রাখার যথেষ্ট যুক্তি দেওয়া হয়নি। সোসাইটিজ অ্যাক্ট ১৯৬৬-এর উপঅনুচ্ছেদ ১৩(১)(c)(iv) অনুসারে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পিএনের মহাসচিব তাকিউদ্দিন হাসান বলেছেন, জোটটি এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানাবে এবং স্থগিতাদেশ চাইবে—অর্থাৎ আদালতের এমন আদেশ, যা সাময়িকভাবে সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন বন্ধ রাখে। এদিকে, প্রার্থীদের নাম, আসন বণ্টন এবং ব্যালট পেপারে ভোটাররা যে নির্বাচনী প্রতীক দেখবেন, তা নিয়ে জোটের রাজনৈতিক অংশীদারদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
পিএসের সভাপতি আবদুল হাদি আওয়াং বলেছেন, তাঁর দল মেলাকায় পিএনের সঙ্গে সমমনা দলগুলোকে নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবে এবং যৌথভাবে আদালতে চ্যালেঞ্জ জানানোর প্রস্তুতি নেবে। যে বেরসাতুর অভিযোগ থেকে নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, সেই দলটি এ পরিণতির জন্য পিএসের নেতৃত্বাধীন জোটকে দায়ী করেছে।
বিরোধটি কাগজপত্রের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে। ভিন্ন শক্তি ও ভোটারভিত্তির দলগুলোর জন্য পিএন একটি অভিন্ন পরিচয় তৈরি করেছিল। এখন নির্বাচনের ঠিক আগে তাদের একসঙ্গে কাজ করার উপায় নিয়ে আলোচনা করতে হচ্ছে। একই সময়ে, পিএস ভাবছে নিজেদের সংগঠন ও প্রতীক দিয়ে বিরোধী দলের নির্বাচনী প্রচারকে একত্রে ধরে রাখা যাবে কি না।
রেজিস্ট্রারের সিদ্ধান্তের পেছনে কী ছিল?
বেরসাতু ১১ আগস্ট আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করে। দলটির অভিযোগ, ১৬ জুলাই পিএনের সুপ্রিম কাউন্সিলের বৈঠকে উপস্থিত থাকা, কথা বলা ও ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করা হয়েছিল। অভিযোগে জোটে বেরসাতুর সদস্যপদ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
বেরসাতুর মহাসচিব মোহাম্মদ আজমিন আলি বলেন, দলটিকে বাদ দেওয়া পিএনের সংবিধানের ৭.১ ধারা লঙ্ঘন করেছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বৈধ শরিক দল হিসেবে বেরসাতুকে সরিয়ে দিতে দলটি হুমকি ও চাপের মুখে পড়েছিল।
এরপর রেজিস্ট্রার সোসাইটিজ অ্যাক্টের উপধারা ১৩(২) অনুসারে একটি নোটিশ জারি করে পিএনকে ব্যাখ্যা ও বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেয়। জবাব ও এর সঙ্গে জমা দেওয়া নথিপত্র বিবেচনার পর বিভাগটি সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে নিবন্ধন বাতিল যথার্থ।
সোসাইটিজ রেজিস্ট্রার এভাবে সিদ্ধান্তটি জানায়:
এ বিষয়ে সোসাইটিজ রেজিস্ট্রার সোসাইটিজ অ্যাক্ট ১৯৬৬-এর উপঅনুচ্ছেদ ১৩(১)(c)(iv) অনুসারে পিএনের নিবন্ধন বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিভাগটি জানায়, নিবন্ধিত সংগঠনগুলোকে আইন এবং নিজেদের গঠনতন্ত্র—উভয়ই মেনে চলতে হবে। তারা আরও বলেছে, নিয়ন্ত্রণ ও আইন প্রয়োগের কাজ দৃঢ়ভাবে, ন্যায্যতার সঙ্গে এবং আইন মেনে চলবে।
আজমিন বলেন, বেরসাতু পুরো সিদ্ধান্তটি পর্যালোচনা করবে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে সুপ্রিম কাউন্সিলের বৈঠকে আলোচনা করবে। তিনি অভিযোগটিকে পিএনের জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার চেষ্টা হিসেবে তুলে ধরেন। আবদুল হাদি এর বিপরীত মূল্যায়ন দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, পিএনের প্রশাসন গঠনতন্ত্র মেনেই পরিচালিত হয়েছে এবং একটি দল দূরে সরে যাওয়া ছাড়া সদস্য দলগুলোর মধ্যে সম্পর্ক দৃঢ় রয়েছে।
যেভাবে বিরোধ এ পর্যায়ে পৌঁছাল
পিএনের কার্যক্রম স্থগিতের আগের একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে আদালতের কার্যক্রম চলার সময়েই প্রশাসনিক প্রক্রিয়াটি এগিয়েছে। এ সময়ক্রম গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পিএনের যুক্তি—নিবন্ধন বাতিলের আগে নির্ধারিত আদালত-শুনানি পর্যন্ত রেজিস্ট্রারের অপেক্ষা করা উচিত ছিল।
- ১৬ জুলাই: পিএনের সুপ্রিম কাউন্সিলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখান থেকে বেরসাতুকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
- ১১ আগস্ট: বেরসাতু রেজিস্ট্রারের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয়।
- ২২ সেপ্টেম্বর: রেজিস্ট্রার পিএনের ব্যাখ্যা চেয়ে নোটিশ জারি করে। তাকিউদ্দিনের ভাষ্য, পরদিন পিএনের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।
- ১২ অক্টোবর: পিএন জবাব জমা দেয়।
- ১৩ অক্টোবর: কুয়ালালামপুর হাইকোর্ট কার্যক্রম স্থগিতের সিদ্ধান্তের বিচারিক পর্যালোচনার অনুমতি দেয়, অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ প্রত্যাখ্যান করে এবং উভয় পক্ষকে নিয়ে শুনানির দিন ধার্য করে।
- ২০ অক্টোবর: রেজিস্ট্রার পিএনের নিবন্ধন বাতিল করে।
- ২২ অক্টোবর: স্থগিতাদেশের আবেদনের শুনানি হাইকোর্টে হওয়ার কথা ছিল; সেখানে পিএন নিবন্ধন বাতিলের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ তোলার পরিকল্পনা করে।
- ৩১ অক্টোবর: মেলাকা নির্বাচনের মনোনয়ন জমার কথা। এরপর ১০ নভেম্বর আগাম ভোট এবং ১৪ নভেম্বর ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা।
বিচারপতি আজিজান এমডি আরশাদ বিচারিক পর্যালোচনার অনুমতি দিয়েছেন। এ প্রক্রিয়ায় কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষ আইনসম্মতভাবে কাজ করেছে কি না, তা আদালত পরীক্ষা করতে পারে। স্থগিতাদেশের উদ্দেশ্য আলাদা: আদালত বিরোধটি বিবেচনা করার সময় কোনো আদেশের কার্যকারিতা সাময়িকভাবে থামিয়ে রাখা।
সময় নিয়ে পিএন কেন আপত্তি জানাচ্ছে
তাকিউদ্দিন বলেন, ২০ অক্টোবর সকালে ইমেইলে তিনি নিবন্ধন বাতিলের আদেশ পেয়েছেন। ২২ অক্টোবরের শুনানির আগে রেজিস্ট্রার কেন পদক্ষেপ নিল, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন এবং সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অসৎ উদ্দেশ্যে কাজ করার অভিযোগ করেন।
পিএনের মহাসচিব জোটের পরিকল্পিত আইনি পদক্ষেপ ব্যাখ্যা করে বলেন:
আমরা প্রত্যাহার আদেশের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানাব এবং আদালতের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এর বাস্তবায়ন ও সব ধরনের প্রভাব স্থগিত রাখার আবেদন করব।
তাকিউদ্দিন বলেন, শুনানি পর্যন্ত আর কোনো পদক্ষেপ না নিতে রেজিস্ট্রারকে অনুরোধ করে ১৪ অক্টোবর লিখিত আবেদন করা হলেও কোনো জবাব আসেনি। তিনি আরও বলেন, ১৯ অক্টোবর অ্যাটর্নি জেনারেলের চেম্বারের দাখিল করা বক্তব্যে নিবন্ধন বাতিলকে চলমান প্রক্রিয়া বলা হয়েছিল, কিন্তু পরদিনই সিদ্ধান্ত আসবে এমন ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি।
আবদুল হাদিও আদালতের সিদ্ধান্তের আগেই নিবন্ধন বাতিল করায় এবং গণতান্ত্রিক অধিকার সীমিত করায় সমালোচনা করেছেন। রেজিস্ট্রারের বক্তব্য, পিএনের ব্যাখ্যায় নিবন্ধন বাতিলের কারণগুলোর জবাব দেওয়া যায়নি।
তাকিউদ্দিন সোসাইটিজ অ্যাক্টে থাকা প্রশাসনিক আপিলের পথের কথাও উল্লেখ করেন। ১৮ ও ৮ ধারার কথা বলে তিনি জানান, ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেজিস্ট্রারের সিদ্ধান্ত বহাল রাখতে, প্রত্যাখ্যান করতে বা পরিবর্তন করতে পারেন; এ প্রক্রিয়ায় মন্ত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
নিবন্ধন বাতিলের সঙ্গে প্রকাশিত বিবৃতিতে ২২ অক্টোবরের শুনানির ফল বা নির্বাচনে ব্যবহারের জন্য চূড়ান্ত প্রতীকের সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। মনোনয়নের আগে এসব সিদ্ধান্ত দলগুলোর প্রস্তুতিকে প্রভাবিত করবে।
প্রার্থী ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ক্ষেত্রে কী বদলাবে?
পিএনের নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় দলগুলোর নির্বাচনী কৌশল, সম্পদ ও আসন নিয়ে দর-কষাকষি সমন্বয়ের আনুষ্ঠানিক জোটমঞ্চটি আর থাকছে না। এখন প্রার্থী ও নির্বাচনী প্রচারকর্মীরা অনুসরণ করতে পারবেন, এমন সমঝোতার মাধ্যমে ওই অভিন্ন কাঠামোর বিকল্প তৈরি করতে হবে।
পিএনের ব্যানারে নির্বাচিত সাংসদরা জোটের নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে আসন হারান না। তাঁদের দলীয় সদস্যপদ পিএস বা বেরসাতুর মতো দলেই থাকে। ওই প্রতিনিধিদের সংসদীয় অবস্থান এবং জোটের নিবন্ধন—দুটি আলাদা বিষয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক জি. মণিমারন বলেন, দলগুলো অবিলম্বে আরেকটি নিবন্ধিত জোট গঠনের বদলে অনানুষ্ঠানিকভাবে সহযোগিতা চালিয়ে যেতে পারে। তবে কোন দল কোন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে এবং প্রার্থীরা কোন প্রতীক ব্যবহার করবেন, তা ঠিক করতে হবে।
তাকিউদ্দিন মেলাকার ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনায় অংশ নিতে পারে এমন দল হিসেবে পিএস, ওয়াওয়াসান, জেরাকান, মালয়েশিয়ান ইন্ডিয়ান পিপলস পার্টি এবং পেজুয়াংয়ের নাম বলেন। তাঁর তালিকায় বেরসাতু ছিল না, যা জোটের নেতৃত্ব ও সদস্যপদ নিয়ে বিভেদের গভীরতা তুলে ধরে।
তাকিউদ্দিন ২০১৮ সালের সাধারণ নির্বাচনের উদাহরণ দেন। সে সময় পাকাতান হারাপানের দলগুলো পিকেআরের প্রতীক ব্যবহার করেছিল। অংশীদার দলের প্রতীকের অধীনে প্রচারের এমন ব্যবস্থায় মেলাকার প্রস্তুতি নেওয়া দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা দরকার হবে।
কেন পিএস এখন কেন্দ্রীয় ভূমিকায়
বিকল্প নির্বাচনী ব্যবস্থাকে সমর্থন দেওয়ার মতো সংগঠন পিএসেরই সবচেয়ে প্রস্তুত। মালয়েশিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক লাউ ঝে ওয়েই দলটিকে পিএনের নির্বাচনী সমর্থন ও তৃণমূল পর্যায়ে জনবল সংগঠনের প্রধান উৎস হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
পিএসের প্রতীক কেন বাস্তবসম্মত বিকল্প হতে পারে, তা ব্যাখ্যা করে লাউ বলেন:
পিএসই জোটের নির্বাচনী সমর্থন ও তৃণমূল পর্যায়ে জনবল সংগঠনের প্রধান উৎস। তাই অন্য শরিক দলগুলোর জন্য দলটির প্রতীক একটি বাস্তবসম্মত বিকল্প।
লাউ বলেন, যেসব এলাকায় পিএসের প্রতীক কম আকর্ষণীয় হতে পারে, সেখানে ওয়াওয়াসানের প্রতীক বিকল্প হতে পারে; তবে ভোটারদের সেটির সঙ্গে পরিচিত হতে হবে। ফলে কোনো আসনে বেশি মানানসই হতে পারে এমন প্রতীক এবং পরিচিত প্রতীকের মধ্যে প্রচারের সুবিধা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
ইউনিভার্সিটি টেকনোলজি মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাজলান আলি বলেন, পিএসের শক্তিশালী তৃণমূল নেটওয়ার্ক এবং উত্তর ও পূর্ব উপকূলীয় রাজ্যগুলোতে অনুগত সমর্থন দলটিকে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বেশি সক্ষমতা দেয়। তাঁর যুক্তি, বেরসাতু ঐক্যবদ্ধ বিরোধী মোর্চা ও পিএনের প্রতিষ্ঠিত পরিচয়ের ওপর বেশি নির্ভরশীল।
একাডেমি নুসান্তারার বিশ্লেষক আজমি হাসান ভিন্ন একটি ঝুঁকির কথা বলেছেন: পিএনের পরিচিতি কিছু অমালয় ভোটারের কাছে পিএসের নিজস্ব প্রতীকের চেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য ছিল। পিএসের প্রতীক ব্যবহার করলে সংগঠন সহজ হতে পারে, তবে দলের প্রচলিত সমর্থকভিত্তির বাইরের ভোটারদের কাছে পৌঁছানো কঠিন হতে পারে।
ইউনিভার্সিটি মালয়ার বিশ্লেষক মোহাম্মদ তাওফিক ইয়াকুব বলেন, নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় নির্বাচনী প্রচারের কাঠামো, অভিন্ন পরিচয় এবং জোট হিসেবে কাজ করার সক্ষমতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছালে আলাদা প্রতীক ব্যবহার করেও দলগুলো সমন্বয় করতে পারে।
কৃতিত্ব, অর্থ ও কর্তৃত্ব নিয়ে টানাপোড়েন
পিএসের সমালোচনা করে বেরসাতু জোটের শরিকদের মধ্যে ক্ষমতা কীভাবে ভাগ হবে, সে প্রশ্নও তুলছে। বেরসাতুর সহযোগী প্রধান আর. শ্রী সঞ্জীবন পিএসের কথিত মাসিক ৪৩ হাজার রিঙ্গিতের অনুদান অন্য দলগুলোর ভূমিকা খাটো করার অধিকার দেয়—এমন দাবিকে চ্যালেঞ্জ করেছেন।
জোটের সহযোগিতায় পিএস লাভবান হয়েছে—এর প্রমাণ হিসেবে সঞ্জীবন দলটির সংসদীয় আসনসংখ্যা উল্লেখ করেন। ১৪তম সাধারণ নির্বাচনে পিএস ১৮টি সংসদীয় আসন জিতেছিল। ১৫তম নির্বাচনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মুহিউদ্দিন ইয়াসিনের নেতৃত্বে পিএনের অংশ হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দলটি ৪৩টি আসন পায়।
এ হিসাবে আসন বেড়েছে ২৫টি, অর্থাৎ পিএসের আসনসংখ্যা আগের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। জোটের অন্য অংশীদারদেরও এ ফল অর্জনে অবদানের স্বীকৃতি প্রাপ্য—এই যুক্তিতে সঞ্জীবন তুলনাটি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, আহমদ সামসুরি মোকতার জোটের নেতৃত্ব নেওয়ার আট মাসেরও কম সময়ের মধ্যে পিএনের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে। সুপ্রিম কাউন্সিলের কার্যক্রমে বেরসাতুকে বাদ দেওয়ার বিষয়টিকেও তিনি মূল অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
রেজিস্ট্রারের কাছে জমা দেওয়া ব্যাখ্যা ও প্রমাণে আইন মেনে চলার বিষয়টি প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য আজমিন পিএসকে দায়ী করেন। আবদুল হাদি বলেন, পিএন যথাযথভাবে পরিচালিত হয়েছে। তাঁদের পরস্পরবিরোধী অবস্থান দেখায়, শুধু নতুন নির্বাচনী প্রতীক বেছে নিলেই কর্তৃত্ব নিয়ে বৃহত্তর বিরোধের মীমাংসা হবে না।
ছোট দলগুলোর সমর্থনেরও পরীক্ষা
পিএনের অভিন্ন পরিচয় ছাড়া ভোটার টানতে জেরাকান ও এমআইপিপির সক্ষমতা এখন কঠিন পরীক্ষার মুখে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক অনবুমণি বালান বলেন, অমালয় ভোটারদের কাছে জোটের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর কথা ছিল দল দুটির। কিন্তু সাম্প্রতিক জোহর ও নেগেরি সেম্বিলান নির্বাচনে কোনো দলই আসন পায়নি।
জেরাকানের একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি আছেন: কেদাহর কুলিমের বিধানসভা সদস্য ওং চিয়া ঝেন। জোহরে প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে এমআইপিপি পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, সব কটিতেই হারে এবং দলটির প্রতিটি প্রার্থী জামানত হারান। নির্বাচনে অংশ নিতে প্রার্থীর জমা দেওয়া অর্থকে জামানত বলে। ভোটের খুব কম অংশ পেলে সেই অর্থ বাজেয়াপ্ত হতে পারে।
অনবুমণি বলেন, দলগুলোর শক্তি মূল্যায়নে নির্বাচনী ফলকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত:
রাজনৈতিক বাস্তবতা বোঝার সময় এসেছে ভোটের ফল দেখে, ধারণা, বক্তৃতা কিংবা জোটে অবস্থান দেখে নয়।
সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীলতার একই ইঙ্গিত মেলে পেজুয়াংয়ের অভিজ্ঞতায়। দলটির সভাপতি মুখরিজ মাহাথির বলেন, পিএন সদস্যপদ গ্রহণের আগে তাঁদের দল দুবার আবেদন করেছিল। তাঁর ভাষ্য, পেজুয়াং একা এগোতে পারবে না; তাদের একটি জোট দরকার।
জোহরে পিএনের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে পেজুয়াং একজন প্রার্থী দিয়েছিল। নেগেরি সেম্বিলানে নির্বাচনে না দাঁড়ালেও অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করেছে। মুখরিজ বলেন, দলটি মেলাকায় নির্বাচনে অংশ নিতে চায়, বড় আসন বণ্টন চায় না এবং জোটের নেতৃত্বের আসন বণ্টনের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে প্রস্তুত।
সম্ভাব্য নতুন জোটের পরীক্ষা নেবে মেলাকা
মেলাকার ১৪ নভেম্বরের নির্বাচনের আগে মতবিরোধ মেটাতে দলগুলোর হাতে বেশি সময় নেই। ৩১ অক্টোবর প্রার্থীদের মনোনয়ন জমার দিন প্রতীক ও নির্বাচনী এলাকা নিয়ে আলোচনা বাস্তব অঙ্গীকারে রূপ নেবে।
ইউনিভার্সিটি টুনকু আবদুল রহমানের বিশ্লেষক লিউ উয়ি চের্ন বলেন, পিএস পিএনকে ধরে রাখার চেষ্টা করতে পারে, অবশিষ্ট দলগুলোকে নিজেদের ঘিরে আরও ঘনিষ্ঠভাবে জড়ো করতে পারে, অথবা উম্নো ও বারিসান ন্যাসিওনালের দিকে যেতে পারে। বৃহত্তর সহযোগিতা কঠিন হলে পিএস ও উম্নোর মধ্যে সীমিত নির্বাচনী সমঝোতাও সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বারিসান ন্যাসিওনাল ও পিএস বলেছে, তারা মেলাকায় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করছে। এমন সমঝোতা বিদ্যমান ফেডারেল রাজনৈতিক অবস্থানকে অতিক্রম করবে: বারিসান, পাকাতান হারাপানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সরকারে রয়েছে, আর পিএস বিরোধী দলে।
লিউ বলেন, আসন বণ্টন স্পষ্ট না হলে এবং প্রতীক নিয়ে প্রতিযোগিতা থাকলে একই আসনে একাধিক প্রার্থী দাঁড়াতে পারেন। কিছু নির্বাচনী এলাকায় পিএস ও বেরসাতু একই ধরনের ভোটারের সমর্থন পাওয়ার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। বারিসান ও পাকাতান হারাপানের প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে আলাদা প্রচার ব্যয়বহুল হতে পারে।
প্রচারের বাস্তব ঝুঁকির ব্যাখ্যা দিয়ে লিউ বলেন:
বড় ঝুঁকিটা শুধু ভোট ভাগ হয়ে যাওয়া নয়, ভোটারদের বিভ্রান্ত হওয়াও।
চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রচারকর্মীদের জানাবে কাকে সমর্থন করতে হবে এবং ভোটারদের কাছে সহযোগী দলগুলো সম্পর্কে একরকম বার্তা পৌঁছাবে। তা না হলে বিরোধী দলগুলোর অভ্যন্তরীণ দর-কষাকষির প্রভাব সরাসরি ব্যালট পেপারে পড়তে পারে।
নিবন্ধন বাতিলের পেছনে পিকেআরের ভূমিকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান
পিকেআরের মহাসচিব ফুজিয়া সালেহ রেজিস্ট্রারের সিদ্ধান্তে তাঁর দলের কোনো ভূমিকা ছিল বলে অস্বীকার করেছেন। মুখরিজ অভিযোগ করেছিলেন, নিবন্ধন বাতিলের সুপারিশ পিকেআর করেছিল। মুখরিজ এমন কিছু স্লাইড প্রকাশ করেন, যেগুলো তাঁর দাবি অনুযায়ী আগস্টে মেলাকায় পিকেআরের ২০২৬ সালের জাতীয় কংগ্রেসে উপস্থাপন করা হয়েছিল।
ফুজিয়া বলেন, স্লাইডগুলো কখনোই উপস্থাপন করা হয়নি এবং অভিযোগটিকে মানহানিকর বলে আখ্যা দেন। তিনি অভিযোগ প্রত্যাহার ও ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। তাঁর ভাষ্য, রেজিস্ট্রারের পদক্ষেপের সূত্রপাত করা অভিযোগটি পিএনের নিজস্ব শরিক দলগুলোর মধ্যকার বিরোধ নিয়ে ছিল।
ফেসবুক পোস্টে ফুজিয়া তাঁর অবস্থান জানান:
তাই আমি মুখরিজকে অভিযোগটি প্রত্যাহার করে পিকেআরের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানাচ্ছি। রাজনৈতিক মতপার্থক্য মানহানিকর অভিযোগ ছড়ানোর কোনো ছাড়পত্র নয়।
এখন রাজনৈতিক অভিযোগের পাশাপাশি সামনে রয়েছে দুটি তাৎক্ষণিক কাজ: রেজিস্ট্রারের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে পিএনের আইনি চ্যালেঞ্জ এবং কার্যকর মেলাকা নির্বাচনী প্রচারের জন্য দলগুলোর প্রস্তুতি। ২২ অক্টোবরের আদালত-শুনানি ও ৩১ অক্টোবরের মনোনয়ন জমার সময়সীমা হলো পরবর্তী নির্ধারিত পর্যায়, যেখানে এই প্রচেষ্টা বাস্তব পরীক্ষার মুখে পড়বে।
মূল বিষয়গুলো
- ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যানের পর সোসাইটিজ রেজিস্ট্রার ২০২৬ সালের ২০ অক্টোবর পিএনের নিবন্ধন বাতিল করে।
- ১৬ জুলাইয়ের নেতৃত্বের বৈঠকে বেরসাতুকে বাদ দেওয়া এবং জোটে দলটির সদস্যপদ নিয়ে অভিযোগের পর এ প্রক্রিয়া শুরু হয়।
- পিএন নিবন্ধন বাতিলের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে স্থগিতাদেশ চাইবে; ২২ অক্টোবর হাইকোর্টে শুনানি নির্ধারিত ছিল।
- নির্বাচনে পিএসের প্রতীক একটি সম্ভাব্য বিকল্প; এদিকে দলগুলো প্রার্থী ও আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা করছে।
- নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় পিএনের ব্যানারে নির্বাচিত সাংসদরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংসদ থেকে বাদ পড়েন না।
- মেলাকায় ৩১ অক্টোবর মনোনয়ন জমা, ১০ নভেম্বর আগাম ভোট এবং ১৪ নভেম্বর ভোটগ্রহণের কথা।
- সিদ্ধান্তে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে পিকেআর এবং মুখরিজকে অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।






