ভোর ৫টা থেকে বাড়ছে জ্বালানির দাম
থাইল্যান্ডের ফুয়েল ফান্ড নির্বাহী কমিটি বি৭ ডিজেল, পেট্রল এবং ই১০ গ্যাসোহল ৯৫ ও ৯১-এর দাম প্রতি লিটারে ০.৬০ বাত (৬০ সাতাং) বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে। ২০২৬ সালের ২১ অক্টোবর ভোর ৫টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে। বি৭ ডিজেলের দাম হবে প্রতি লিটার ৪৩.৫৪ বাত, আর পেট্রলের দাম হবে ৫১.০৩ বাত।
সূচিপত্র
২০ অক্টোবর নেওয়া এ সিদ্ধান্তে বেশি ভর্তুকির মাধ্যমে বি২০ ডিজেল, ই২০ ও ই৮৫-এর দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। পিটিটি স্টেশনও তাদের প্রিমিয়াম পেট্রল ও ডিজেল পণ্যের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে। ফলে পাম্পে বহুল ব্যবহৃত কয়েক ধরনের জ্বালানির দাম বাড়লেও সব গ্রেডের দাম বাড়ছে না।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ায় অয়েল ফুয়েল ফান্ডকে প্রতিদিন প্রায় ২২ কোটি ৯০ লাখ বাত ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। কমিটি কয়েকটি জ্বালানির জন্য সহায়তা বাড়াচ্ছে এবং পেট্রলের ওপর ধার্য লেভি কমাচ্ছে; একই সঙ্গে বাড়তি খরচের একটি অংশ চালকদের ওপর পড়তে দিচ্ছে।
কোনো চালক দাম বাড়া জ্বালানির ৪০ লিটার কিনলে বিল ২৪ বাত বাড়বে। কোনো পরিবার বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মাসে ২০০ লিটার কিনলে, ব্যবহার একই থাকলে, অতিরিক্ত ১২০ বাত দিতে হবে।
কোন জ্বালানির দাম বাড়বে?
অনুমোদিত দামবৃদ্ধি চারটি নির্ধারিত গ্রেডের প্রতি লিটারে ৬০ সাতাং বা ০.৬০ বাত। নতুন দাম থেকে এই বৃদ্ধির পরিমাণ বাদ দিলে আগের দাম পাওয়া যায়:
- বি৭ ডিজেল: প্রতি লিটার ৪২.৯৪ থেকে বেড়ে ৪৩.৫৪ বাত।
- ই১০ গ্যাসোহল ৯৫: প্রতি লিটার ৪১.৪৪ থেকে বেড়ে ৪২.০৪ বাত।
- ই১০ গ্যাসোহল ৯১: প্রতি লিটার ৪১.০৭ থেকে বেড়ে ৪১.৬৭ বাত।
- পেট্রল: প্রতি লিটার ৫০.৪৩ থেকে বেড়ে ৫১.০৩ বাত।
গ্যাসোহল হলো ইথানল মেশানো পেট্রল। ই১০ বলতে ১০ শতাংশ ইথানলযুক্ত মিশ্রণ বোঝায়। আর ৯৫ ও ৯১ হলো অকটেন গ্রেড, যা ইঞ্জিনের ভেতরে সময়ের আগে জ্বলে ওঠা ঠেকানোর সক্ষমতা নির্দেশ করে।
নগদে একই পরিমাণ দাম বাড়লেও শতকরা হিসাবে বৃদ্ধির হার কিছুটা আলাদা। ৪২.৯৪ বাত থেকে বি৭ ডিজেলের দাম প্রায় ১.৪ শতাংশ বাড়ছে, আর ৫০.৪৩ বাত থেকে পেট্রলের দাম বাড়ছে প্রায় ১.২ শতাংশ।
কোন জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত থাকবে?
পিটিটি স্টেশনের তালিকাভুক্ত দামে বি২০ ডিজেল প্রতি লিটার ৩৭.১৯ বাত, ই২০ ৩৫.৬৯ বাত এবং ই৮৫ ৩১.৬৩ বাতেই থাকছে। ব্যাংচাকও এই তিন গ্রেডের একই দাম তালিকাভুক্ত করেছে।
ফলে সাধারণ বি৭ ডিজেল ও বি২০-এর দামের ব্যবধান প্রতি লিটারে ৫.৭৫ বাত থেকে বেড়ে ৬.৩৫ বাত হবে। গ্যাসোহল ৯৫-এর চেয়ে ই২০ প্রতি লিটারে ৬.৩৫ বাত সস্তা হবে; দাম বাড়ার আগে ব্যবধান ছিল ৫.৭৫ বাত।
যেসব চালকের গাড়িতে সস্তা মিশ্রণগুলো ব্যবহার করা যায়, তাদের জন্য এই ব্যবধান গুরুত্বপূর্ণ। ই২০ ও ই৮৫-এ ই১০-এর চেয়ে বেশি ইথানল থাকে, আর বি২০-তে বি৭-এর চেয়ে বেশি বায়োডিজেল থাকে। চালকদের ইঞ্জিনের জন্য অনুমোদিত জ্বালানি ব্যবহার করতে হবে; বিভিন্ন গ্রেড বিভিন্ন ধরনের গাড়ির চাহিদা অনুযায়ী তৈরি।
পিটিটি স্টেশনে প্রিমিয়াম গ্যাসোহল ৯৫-এর দাম প্রতি লিটার ৪৭.৭৯ বাত, প্রিমিয়াম গ্যাসোহল ৯৯-এর দাম ৪৯.৭৯ বাত এবং প্রিমিয়াম ডিজেলের দাম ৫০.০৫ বাতই থাকছে। ব্যাংচাকে প্রিমিয়াম ডিজেলের দাম ৫০.০৫ বাত এবং প্রিমিয়াম গ্যাসোহল ৯৮-এর দাম ৪৯.২৯ বাত। পিটিটি স্টেশনের তালিকাভুক্ত দামে ব্যাংককের পৌরকর অন্তর্ভুক্ত নয়।
আন্তর্জাতিক বাজারে খরচ বাড়ছে কেন
তেলের দাম আবার বাড়ার বড় কারণ হিসেবে কমিটি সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো এবং পারস্য উপসাগরে জাহাজে হুথিদের হামলার কথা উল্লেখ করেছে। আফ্রিকা ঘুরে দীর্ঘ পথ দিয়ে জাহাজ চলাচলের কথাও বলা হয়েছে, এতে পরিবহন খরচ বাড়ছে।
সিদ্ধান্তের সঙ্গে দেওয়া ব্যাখ্যা অনুযায়ী, দীর্ঘ পথের কারণে সিঙ্গাপুরে তেল আমদানি কমেছে এবং সরবরাহে টান পড়েছে। জাহাজে পণ্য পৌঁছাতে বেশি সময় লাগলে পরিবহন ব্যয় বাড়ে এবং জ্বালানি ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাতেও দেরি হয়।
২০ অক্টোবর সিঙ্গাপুরের বাজারে ডিজেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১৭৮ মার্কিন ডলার, আর পেট্রলের দাম প্রায় ১৩৬ ডলার। ফলে ডিজেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৪২ ডলার বেশি ছিল। এগুলো পরিশোধিত জ্বালানির দাম—অপরিশোধিত তেল থেকে তৈরি হয়ে যানবাহনে ব্যবহৃত পণ্য।
যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত ৩২ লাখ ব্যারেল কমে যাওয়াও দামের ওপর বাড়তি ঊর্ধ্বমুখী চাপ সৃষ্টি করেছে। মজুত বলতে সংরক্ষণাগারে রাখা তেল বোঝায়। প্রত্যাশার চেয়ে বেশি এই পতন জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি অবকাঠামোয় বিঘ্নের পাশাপাশি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
পাম্পের দাম বাড়লেও ভর্তুকি বাড়ছে কেন
অয়েল ফুয়েল ফান্ড দেশীয় জ্বালানির দাম সামলাতে লেভি ও ভর্তুকি ব্যবহার করে। প্রতি লিটার বিক্রির ওপর লেভি ধার্য করে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। আর ভর্তুকি দিয়ে বিক্রয়মূল্য অন্যথায় যত হতো, তার চেয়ে কম রাখা হয়।
জ্বালানির খরচ যতটা বেড়েছে, ভর্তুকি তার কেবল একটি অংশ সামলায়। তাই কমিটি ভর্তুকি বাড়ানোর পাশাপাশি পাম্পের দামও বাড়াতে পারে। বি৭ ডিজেলের ক্ষেত্রে সহায়তা ০.৬৯ বাত বেড়ে প্রতি লিটারে ২.৪১ বাত হচ্ছে, তারপরও চালকদের অতিরিক্ত ০.৬০ বাত দিতে হবে।
গ্যাসোহল ৯৫ ও ৯১—দুটির ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত ০.২২ বাত ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে, ফলে সহায়তার পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে প্রতি লিটারে ০.২৮ বাত। অর্থাৎ আগে ভর্তুকি ছিল প্রতি লিটারে ০.০৬ বাত। দুই গ্রেডেরই পাম্পের দাম তবু ০.৬০ বাত বাড়ছে।
পেট্রলের ক্ষেত্রে ভর্তুকি না দিয়ে লেভি কমিয়ে স্বস্তি দেওয়া হচ্ছে। ফান্ডে এর অবদান প্রতি লিটারে ০.২৯ বাত কমে ৬.৯০ থেকে ৬.৬১ বাত হচ্ছে। এই হ্রাসের পরও খুচরা দাম বেড়ে ৫১.০৩ বাত হচ্ছে।
বি২০, ই২০ ও ই৮৫-এ বাড়তি সহায়তা
তালিকাভুক্ত জ্বালানিগুলোর মধ্যে বি২০-এর ভর্তুকিই সবচেয়ে বেশি বাড়ছে। সহায়তা প্রতি লিটারে ১.০৮ বাত বেড়ে ৬.৫৫ থেকে ৭.৬৩ বাত হচ্ছে, ফলে খুচরা দাম ৩৭.১৯ বাতেই থাকছে।
ই২০-এর ভর্তুকি প্রতি লিটারে ০.৬৯ বাত বেড়ে ৪.২২ থেকে ৪.৯১ বাত হচ্ছে। ই৮৫-এর ভর্তুকি ০.২২ বাত বেড়ে ১.৪০ থেকে ১.৬২ বাত হচ্ছে। দুই ক্ষেত্রেই পাম্পের বর্তমান দাম অপরিবর্তিত থাকছে।
বি২০-এর নতুন ভর্তুকি প্রতি লিটারে ৭.৬৩ বাত, বি৭-এর ২.৪১ বাত ভর্তুকির চেয়ে ৫.২২ বাত বেশি। গ্যাসোহলের ক্ষেত্রে ই২০ প্রতি লিটারে যেকোনো ই১০ গ্রেডের চেয়ে ৪.৬৩ বাত বেশি সহায়তা পাচ্ছে। অর্থাৎ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানিতে ফান্ডের সহায়তার পরিমাণে বড় পার্থক্য রয়েছে।
প্রিমিয়াম ডিজেলের ওপর প্রতি লিটারে ১.৫০ বাত লেভি রয়েছে। পিটিটি স্টেশনে প্রিমিয়াম ডিজেলের তালিকাভুক্ত দাম অপরিবর্তিত, আর সাধারণ বি৭-এর দাম বাড়ছে। এতে দেখা যায়, ফান্ডের সমন্বয় ও খুচরা দামের পরিবর্তন পণ্যভেদে আলাদা।
প্রতিদিন ভর্তুকিতে ২২ কোটি ৯০ লাখ বাত ব্যয়
কমিটি বলেছে, ফান্ডের নগদ অর্থের সক্ষমতা ধরে রাখা, দেশীয় জ্বালানির দাম সামলানো, সময়ের সঙ্গে দামের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বৈশ্বিক জ্বালানির দামের ওঠানামায় সাড়া দিতে এই পরিবর্তন প্রয়োজন ছিল। নগদ অর্থের সক্ষমতা বলতে প্রয়োজনের সময় পরিশোধ করার মতো অর্থ হাতে থাকা বোঝায়।
প্রতিদিন ২২ কোটি ৯০ লাখ বাত হিসাবে ভর্তুকির ব্যয় সাত দিনে প্রায় ১৬০ কোটি বাত এবং ৩০ দিনে ৬৮৭ কোটি বাত হবে, যদি দৈনিক ব্যয়ের হার একই থাকে। এই হিসাব ঘোষিত ব্যয়ের ব্যাপ্তি বোঝায়; প্রকৃত ব্যয় নির্ভর করবে জ্বালানি বিক্রি ও ভবিষ্যতের খরচের ওপর।
পরবর্তী দাম সমন্বয়ের কোনো তারিখ কমিটি জানায়নি। তাৎক্ষণিক এই সিদ্ধান্তে চাপ ভাগ হয়েছে ভোক্তা ও ফান্ডের মধ্যে: কয়েক ধরনের জ্বালানির দাম বাড়ছে, আর বাড়তি ভর্তুকিতে অন্যগুলোর দাম স্থির রাখা হচ্ছে।
সময়সূচি ও ফান্ডের আহ্বান
অনুমোদনের পর রাত পেরোলেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলো হলো:
- ২০ অক্টোবর ২০২৬: ফুয়েল ফান্ড নির্বাহী কমিটি খুচরা দাম বৃদ্ধি এবং সংশোধিত লেভি ও ভর্তুকি অনুমোদন করে।
- ২০ অক্টোবর ২০২৬: সিঙ্গাপুরের বাজারে ডিজেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১৭৮ মার্কিন ডলার এবং পেট্রলের দাম প্রায় ১৩৬ ডলার।
- ২১ অক্টোবর ২০২৬, ভোর ৫টা: সংশোধিত ফান্ড হারসহ নতুন পাম্পের দাম কার্যকর হবে।
অয়েল ফুয়েল ফান্ড সব খাতের মানুষকে দক্ষতার সঙ্গে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে। ফান্ডের মতে, ব্যবহার কমালে পরিবারের খরচ ও থাইল্যান্ডের অপরিশোধিত তেল আমদানি কমতে পারে, পাশাপাশি দেশীয় দাম সমর্থনে ফান্ডের সক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা হবে।
বি৭, পেট্রল বা ই১০ গ্যাসোহল ব্যবহারকারী চালকদের জন্য তাৎক্ষণিক পরিবর্তন হলো—একই পরিমাণ জ্বালানির জন্য বেশি বিল দিতে হবে। বি২০, ই২০ ও ই৮৫ ব্যবহারকারীদের পাম্পের দাম স্থির থাকবে, কারণ প্রতি লিটারে ফান্ডের সহায়তা বাড়ছে।
মূল তথ্য
- ২০২৬ সালের ২১ অক্টোবর ভোর ৫টা থেকে বি৭ ডিজেল, পেট্রল এবং ই১০ গ্যাসোহল ৯৫ ও ৯১-এর দাম প্রতি লিটারে ০.৬০ বাত বাড়ছে।
- নতুন দাম: বি৭ প্রতি লিটার ৪৩.৫৪ বাত, পেট্রল ৫১.০৩ বাত, গ্যাসোহল ৯৫ ৪২.০৪ বাত এবং গ্যাসোহল ৯১ ৪১.৬৭ বাত।
- বি২০, ই২০ ও ই৮৫-এর তালিকাভুক্ত দাম অপরিবর্তিত—প্রতি লিটার যথাক্রমে ৩৭.১৯, ৩৫.৬৯ ও ৩১.৬৩ বাত।
- অয়েল ফুয়েল ফান্ডকে প্রতিদিন প্রায় ২২ কোটি ৯০ লাখ বাত ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।
- কমিটি জ্বালানি অবকাঠামো ও জাহাজে হামলা, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত কমে যাওয়াকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
- দাম বাড়া জ্বালানির ৪০ লিটার কিনলে অতিরিক্ত ২৪ বাত খরচ হবে।






