শিবিরের বাইরে প্রথম পদক্ষেপ নিলেন ৬,৮০০ কর্মী
থাইল্যান্ডের ভাষ্য, ১ অক্টোবর ২০২৫-এ শুরু হওয়া কর্মসূচির প্রথম বছরে মিয়ানমারের ৬,৮০০ শরণার্থী দেশটির কর্মশক্তিতে যুক্ত হয়েছেন। কয়েক দশকের বিধিনিষেধের পর নয়টি সীমান্তশিবিরের বাইরে কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ৩১ বছর বয়সী রে বোয়ের মতো কর্মীদের কাছে এই পরিবর্তনের অর্থ ব্যাংককের একটি নির্মাণস্থলে দিনে ৪০০ বাথ আয় করা। অন্যদের ক্ষেত্রে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অপ্রত্যাশিত বেতন কর্তন, প্রতিশ্রুত কাজের বদলে ভিন্ন কাজ এবং শিবিরে ফেরার ব্যয়বহুল যাত্রা।
সূচিপত্র
- শিবিরের বাইরে প্রথম পদক্ষেপ নিলেন ৬,৮০০ কর্মী
- কী বদলেছে, কারা আবেদন করতে পারবেন?
- সুযোগটি কত বড়?
- সহায়তা কমায় আয় জরুরি হয়ে উঠল কেন
- কাজের প্রস্তাব থেকে অনুমতিপত্র
- ভালো কর্মসংস্থানে কী পাওয়া যায়
- প্রতিশ্রুত কাজ বদলে গেলে
- বেতন থেকে কর্তনে পরিবারের জন্য রাখা টাকা কমে যায়
- চুক্তি, প্রশিক্ষণ ও পরিবারের বিচ্ছেদই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে
- মূল বিষয়গুলো
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, সরকার ২৬ আগস্ট ২০২৫-এ এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব গ্রহণ করে। শুরুতে নিবন্ধিত কর্মক্ষম বয়সী শরণার্থীদের সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য বৈধভাবে কাজের অনুমতি দেওয়া হয়। দুটি চাপ এই সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখে: বিদেশি সহায়তা কমে যাওয়ায় খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা সংকুচিত হচ্ছিল, আর কম্বোডীয় অভিবাসী শ্রমিকেরা দেশে ফিরে যাওয়ায় থাই নিয়োগকর্তারা বিকল্প কর্মী খুঁজছিলেন।
রে বোয়ে ব্যাংককের কেন্দ্রে পরিকল্পিত ১২ তলা একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের জন্য কংক্রিট ঢালাই ও ভারা নির্মাণের কাজ করেন। কাজ পাওয়ার আগে সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি ও তাঁর মা-বাবা প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ধার করেছিলেন এবং খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি আশা করেন, শিগগিরই তাঁর আয় দিয়ে খাবার ও মা-বাবার চিকিৎসার খরচ মেটানো যাবে।
মা-বাবার ভরণপোষণের দায়িত্ব নেওয়া শরণার্থী নির্মাণশ্রমিক রে বোয়ে তাঁদের পরিবারের কাছে মজুরি আয়ের তাৎপর্য তুলে ধরেন:
আগে শিবিরে যেভাবে থাকতাম, তার তুলনায় নিজের আয় করা এবং অন্যের ওপর নির্ভর না করে পরিবারকে সহায়তা করতে পারা অনেক বড় পরিবর্তন। প্রতিদিন আমাদের সহায়তার জন্য অন্যদের অপেক্ষা করতে হবে না।
থাইল্যান্ডে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ সহায়তার ওপর নির্ভরতা থেকে মজুরিভিত্তিক কাজের পথ তৈরি করেছে। প্রথম বছরের অভিজ্ঞতা দেখায়, সেই পথ কতটা নির্ভর করে কী ধরনের কাজ দেওয়া হচ্ছে, কী খরচ নেওয়া হচ্ছে এবং কাজের ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে কর্মীরা সহায়তা পাচ্ছেন কি না—তার ওপর।
কী বদলেছে, কারা আবেদন করতে পারবেন?
ইউএনএইচসিআরের নীতিটির বিবরণে, যা ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ প্রকাশিত হয়, বলা হয়েছে যে প্রস্তাবটি নয়টি শিবিরে বসবাসকারী নিবন্ধিত কর্মক্ষম বয়সী শরণার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আইনে শুধু থাই নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত পেশা বাদে ৪৩টি প্রদেশের অধিকাংশ খাতে কাজের অনুমতি রয়েছে।
শিবিরগুলো মায়ে হং সন, তাক, রাতচাবুরি ও কাঞ্চনাবুরি প্রদেশে অবস্থিত। কিছু বাসিন্দা ১৯৮০-এর দশকে সেখানে এসেছিলেন; অন্যরা জীবনের প্রায় পুরোটা সময় সেখানেই কাটিয়েছেন। থা সং ইয়াং জেলার প্রশাসনিক বিষয়ক প্রধান ও উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা থানাকর্ন খানসাই বলেন, আগে চিকিৎসা বা আইনি কাজে উপস্থিতির মতো সীমিত কারণেই শিবিরের বাইরে যাওয়া যেত।
কয়েক দশকের বিধিনিষেধের পর দ্রুত নীতিগত পরিবর্তনের প্রধান তারিখগুলো হলো:
- ২৬ আগস্ট ২০২৫: শিবিরের যোগ্য বাসিন্দাদের বাইরে কাজের অনুমতি দিতে থাই সরকার প্রস্তাবটি গ্রহণ করে।
- ১ অক্টোবর ২০২৫: কর্মসূচি কার্যকর হয়; সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য কাজের অনুমতিপত্র দেওয়া হয়।
- নভেম্বর ২০২৫: কর্মসূচি নিয়ে প্রকাশিত বিবরণে উল্লেখিত কয়েকজন কর্মী নির্মাণ, কারখানা ও কৃষিকাজের জন্য শিবির ছাড়েন।
- ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: ইউএনএইচসিআর প্রথম দিকের অংশগ্রহণকারীদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে; তাঁদের মধ্যে মধ্য থাইল্যান্ডে কাজ করা এক দম্পতিও ছিলেন।
- সেপ্টেম্বর ২০২৬: প্রথম বছরের অভিজ্ঞতার বিবরণে টানা কাজ পাওয়া এবং কঠিন কর্মস্থলে কাজের পর শিবিরে ফিরে আসা—দুই ধরনের অভিজ্ঞতাই উঠে আসে।
প্রাথমিক অনুমতি ছিল সাময়িক। প্রথম বছরের পর কী ব্যবস্থা হবে, তা নির্দিষ্ট করা হয়নি। তাই মজুরি ও কাজের পরিবেশের পাশাপাশি নিয়োগকর্তা ও পরিবারের জন্য বাস্তবিক একটি প্রশ্ন রয়ে গেছে: কর্মীরা শিবিরের বাইরে কত দিন আয়ের পরিকল্পনা করতে পারবেন?
সুযোগটি কত বড়?
কর্মসংস্থান বিভাগের মহাপরিচালক পিচিত থংফান কর্মসূচি শুরুর সময় বলেন, ১৮ থেকে ৫৯ বছর বয়সী ৪২,৬০১ জন বাসিন্দা কর্মক্ষম বয়সী; ১২,০০০ জন কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং নিয়োগকর্তারা ৬,১৫২ জন কর্মী খুঁজছেন। নির্মাণ খাতে চাহিদা সবচেয়ে বেশি, এরপর ইলেকট্রনিকস উৎপাদন ও বিক্রির কাজ।
প্রথম বছরে কর্মসূচিতে ৬,৮০০ জন যুক্ত হওয়ার সরকারি হিসাব প্রাথমিকভাবে কর্মক্ষম হিসেবে চিহ্নিত ৪২,৬০১ জনের প্রায় ১৬ শতাংশের সমান। নিবন্ধন, নিয়োগ এবং বাস্তবে কাজে যোগ দেওয়া আলাদা ধাপ; প্রতিটি ধাপেই সিদ্ধান্ত ও কাগজপত্রের প্রক্রিয়া রয়েছে।
জনসংখ্যার হিসাব আরও বিস্তৃত পরিসরে ওঠানামা করে: অর্থায়ন সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৮০,০০০ মানুষের কথা বলেছে ইউএনএইচসিআর; অন্যদিকে বৃহত্তর হিসাব অনুযায়ী নয়টি শিবিরের মোট জনসংখ্যা ১ লাখের বেশি। সীমান্তে বসবাসকারীর মোট সংখ্যা নয়, বরং নিবন্ধন ও ব্যক্তির পরিস্থিতির ওপর যোগ্যতা নির্ভর করে।
সহায়তা কমায় আয় জরুরি হয়ে উঠল কেন
পরিবারগুলোর ওপর চাপের চিত্র তুলে ধরে সবচেয়ে বড় শিবির মায়ে লা। সীমান্ত এলাকায় সহায়তার সমন্বয়কারী বর্ডার কনসোর্টিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, শিবিরটির ৮০ শতাংশের বেশি বাসিন্দা আর খাদ্যসহায়তা পান না। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক লিওঁ দ্য রিডমাটেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁদের পক্ষে এখন শুধু সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের সহায়তা করা সম্ভব।
অর্থায়ন কমে যাওয়ার পর ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটিও শিবিরের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দেয়। কাজ খুঁজতে যাওয়া পরিবারগুলো তাই শুধু বেশি আয়ের সম্ভাবনার জন্য নয়, খাবার ও চিকিৎসাসেবা হারানোর কারণেও কাজ খুঁজছিল। বয়স্ক বাসিন্দা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ যাঁরা কাজ করতে অক্ষম, তাঁদের এখনো মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।
একই সময়ে থাইল্যান্ডে শ্রমিকের ঘাটতি দেখা দেয়। কম্বোডিয়া সীমান্তের বিতর্কিত ভূখণ্ড নিয়ে সংঘর্ষের পর কয়েক লাখ কম্বোডীয় শ্রমিক দেশে ফিরে যান। সেন্টার ফর গ্লোবাল ডেভেলপমেন্টের কর্মসংস্থানের অধিকার নিয়ে বিশ্লেষণে ৭ লাখ ৮০ হাজারের বেশি শ্রমিকের চলে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে; এতে কৃষি, উৎপাদন ও নির্মাণ খাতে কর্মীর ঘাটতি তৈরি হয়।
সরকার মধ্যাঞ্চলের ১৮টি, উত্তরের ১৭টি এবং পূর্বাঞ্চলের আটটি প্রদেশে কাজের সুযোগ খুলে দেয়। এর মধ্যে ব্যাংককও রয়েছে। কর্মসূচিটি আয়ের প্রয়োজন থাকা মানুষকে শ্রমিকের প্রয়োজন থাকা নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যুক্ত করছে। তবে শিবিরজীবনে অভ্যস্ত বাসিন্দাদের জন্য এসব কাজের অবস্থান ও ধরন মানিয়ে নিতে বড় পরিবর্তন দাবি করতে পারে।
কাজের প্রস্তাব থেকে অনুমতিপত্র
কর্মী নিয়োগে নিয়োগকর্তাদের কেন্দ্রীয় ভূমিকা রয়েছে। সরকারি অনুমতি নিয়ে কোম্পানিগুলো শিবিরে গিয়ে আগ্রহী কর্মী বাছাই করতে পারে এবং তাঁদের নাম, কর্মস্থল ও প্রস্তাবিত কর্মকাল সংশ্লিষ্ট প্রাদেশিক কর্মসংস্থান দপ্তরে জমা দিতে পারে।
কর্মসূচি শুরুর সময় ঘোষিত প্রক্রিয়ায় ছয়টি ধাপ রয়েছে: কর্মী বাছাই, কর্মসংস্থান কর্তৃপক্ষকে জানানো, শিবির ছাড়ার অনুমতি নেওয়া, গন্তব্যে পৌঁছে রিপোর্ট করা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও বিমা সম্পন্ন করা এবং কাজের অনুমতিপত্রের আবেদন করা। পৌঁছানোর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কর্মীদের নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করতে হবে। স্বাস্থ্যবিমার মেয়াদ অবশ্যই চাওয়া কর্মকাল অন্তত পুরোটা জুড়ে থাকতে হবে।
শুরুতে আবেদনের ফি নির্ধারণ করা হয় ১০০ বাথ। পরবর্তী আবেদনের ক্ষেত্রে বছরে ৯০০ বাথ অনুমতিপত্র ফি এবং ১০০ বাথ আবেদন ফি দেওয়ার কথা ছিল। স্বাস্থ্য পরীক্ষা, যাতায়াত ও আবাসনের খরচ এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
কারেন শরণার্থী কমিটির সম্পাদক সাও পওয়ে সে বলেন, আবেদনকারীদের মন্ত্রণালয়ের দেওয়া ১৩ অঙ্কের পরিচয় নম্বর প্রয়োজন। যোগ্য শরণার্থীরা মিয়ানমার ডিসপ্লেসড পারসনস কার্ডও পাচ্ছেন, যা ব্যাংকিং ও টেলিযোগাযোগের মতো সেবায় প্রবেশাধিকার দেয়। ব্যাংকিং গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অনেক কর্মী নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের পেছনে রেখে যান এবং বাড়িতে টাকা পাঠানোর নির্ভরযোগ্য উপায় তাঁদের দরকার।
তাক প্রাদেশিক কর্মসংস্থান বিভাগের জ্যেষ্ঠ শ্রম বিশেষজ্ঞ ক্রিউউত তান্তিকানেদি বলেন, নিয়োগের আগে নিয়োগকর্তা ও শরণার্থীদের মধ্যে বৈঠকে বেতন, আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ থাকে। তিনি আরও বলেন, থাই আইন, শ্রমিকের অধিকার ও শিবিরের বাইরে দৈনন্দিন জীবন নিয়ে ব্যাখ্যাসহ একটি নির্দেশিকা তৈরিতে জেলা কর্তৃপক্ষ, মন্ত্রণালয়, সহায়তা সংস্থা ও ইউএনএইচসিআর কাজ করছে।
ভালো কর্মসংস্থানে কী পাওয়া যায়
৩৩ বছর বয়সী জা মার ও ৪৭ বছর বয়সী নো জান দেখিয়েছেন, সহায়তাপূর্ণ কর্মসংস্থান কী সুফল আনতে পারে। ইউএনএইচসিআর মধ্য থাইল্যান্ডের একটি নির্মাণস্থলে এই দম্পতির অভিজ্ঞতা অনুসরণ করেছে। সেখানে প্রায় ২,০০০ অন্য কর্মীর সঙ্গে প্রায় ৬০ জন শরণার্থী কর্মীও কাজ করছিলেন।
জা মার ভারা খুলে ফেলার একটি দলের নেতৃত্ব দেন, আর নো জান একটি পরিচ্ছন্নতা দলের প্রধান। তাঁরা প্রত্যেকে দিনে ৩৭৫ বাথ পান। কর্মসূচির আগে তাঁদের অনিয়মিত যৌথ আয় কখনো কখনো দিনে মাত্র ১৫০ বাথ হতো। এখন তাঁদের দৈনিক মোট মজুরি ৭৫০ বাথ, যা আগের আয়ের পাঁচ গুণ; সাধারণত সপ্তাহে ছয় দিন কাজ পাওয়া যায়।
কোম্পানি তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করে, আর খাবারের খরচ দম্পতিকে দিতে হয়। জা মার বলেন, ব্যবস্থাপকেরা কর্মস্থল ও আবাসিক ভবনের নিয়ম বুঝিয়ে দিয়েছেন এবং থাই সহকর্মীরা কাজ শিখতে সাহায্য করেছেন। ইউএনএইচসিআর জানায়, আইনসম্মতভাবে কর্মরত অন্য শ্রমিকদের মতো তাঁরাও মজুরি, স্বাস্থ্যসুরক্ষা ও কর্মস্থলের নিরাপত্তাসহ সমান শ্রম অধিকার পান।
নির্মাণদলের নেতা ও সন্তানদের থেকে দূরে থাকা বাবা জা মার কাজের জন্য আবেদন করার কারণ ব্যাখ্যা করেন:
কাজ করার প্রেরণা হলো, আমাদের বড় পরিবার। শিবিরে সংসার চালানো কঠিন ছিল। আমাদের লক্ষ্য পরিবারের জীবিকা চালানো এবং সন্তানদের শিক্ষার খরচ জোগানো।
তাঁদের পাঁচ সন্তান মায়ে লায় ৬০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে রয়ে গেছে। ১৯ বছর বয়সী মেয়ে হা সে নার ছোট ভাইবোনদের এবং নিজের ছেলেকে দেখাশোনা করেন। আয় বাড়ায় খাবার ও স্কুলের সামগ্রী কেনা সহজ হয়েছে, তবে পরিবারের দৈনন্দিন দেখাশোনার বড় অংশ এখন তাঁর কাঁধে।
প্রতিশ্রুত কাজ বদলে গেলে
দুই সন্তানের বাবা আকওয়াহ সম্পূর্ণ ভিন্ন এক কর্মস্থলের অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ২০ জন শরণার্থীর সঙ্গে তিনি শিবির ছাড়েন। তাঁদের বোঝানো হয়েছিল, দিনে ২৫০ বাথ মজুরিতে আখ কাটার কাজ হবে। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁদের দিনে ২০০ বাথ মজুরিতে ইউক্যালিপটাস গাছ কাটার কাজে দেওয়া হয় বলে তিনি জানান।
তাঁর ভাষ্য, প্রস্তাবিত মজুরি ৫০ বাথ বা ২০ শতাংশ কমে যায়, অথচ কাজটি ছিল আরও কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ। দলটি বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় বাইরে ঘুমাত এবং পানির জন্য কাছের একটি পুকুরের ওপর নির্ভর করত। তিন মাস পর তারা সেখান থেকে চলে যায়।
কাজ বদলে যাওয়ার প্রতিবাদে দলটি কী বলেছিল, তা ব্যাখ্যা করে আকওয়াহ নিয়োগকর্তার জবাব স্মরণ করেন:
আমরা বসের সঙ্গে কথা বলেছিলাম, কিন্তু তিনি পাত্তা দেননি। তিনি বলেছিলেন, 'তোমরা যেহেতু এখানে এসেই গেছ, কাজ করে যাও।' কিন্তু আমরা বলেছিলাম, এটা আমাদের পক্ষে করা সম্ভব নয়।
ইন্টারন্যাশনাল ডিটেনশন কোয়ালিশনের থাইল্যান্ড প্রকল্প সমন্বয়ক সিওয়াওং সুকতাউই এবং কারেন উইমেনস অর্গানাইজেশনের সাধারণ সম্পাদক কন্যাও পওয়ে বলেন, কিছু নিয়োগকর্তা কর্মীদের কোনো চাকরির চুক্তিই দেন না। অন্যরা কর্মস্থলে পৌঁছে আগে বর্ণনা করা কাজের চাপ, পরিবেশ বা বেতনের সঙ্গে অমিল দেখতে পান। দুই সংগঠনই বৈধ কর্মসংস্থানকে সমর্থন করে, তবে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় আরও জোরালো সুরক্ষা চায়।
এসব অভিযোগ নিয়ে মন্তব্য চেয়ে পররাষ্ট্র, শ্রম ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা সাড়া দেয়নি। নিয়োগকর্তার দুর্ব্যবহারের কারণে শরণার্থীদের শিবিরে ফিরে আসার ঘটনাও ইউএনএইচসিআর স্বীকার করেছে।
বেতন থেকে কর্তনে পরিবারের জন্য রাখা টাকা কমে যায়
ছদ্মনাম ব্যবহার করা ৪০ বছর বয়সী সাও হ্তু সামুত প্রাকানের একটি কারখানায় তিন মাসের কিছু বেশি কাজ করার পর মায়ে লায় ফিরে আসেন। তিনি দিনে ৩৭০ বাথ মজুরি পেতেন, কিন্তু ভাড়া, বিদ্যুৎ ও পানির জন্য মাসে ৪,৫০০ থেকে ৫,০০০ বাথ কেটে নেওয়ায় বাড়িতে পাঠানোর মতো অল্পই থাকত বলে জানান।
এই কর্তনের পরিমাণ তাঁর উল্লেখ করা দৈনিক মজুরির প্রায় ১২ থেকে ১৪ দিনের আয়ের সমান। ইস্পাত কাটা, বাঁকানো ও ওয়েল্ডিংয়ের কাজ তাঁর কাছে অপরিচিত ছিল। তাঁর ভাষ্য, ভুল হলে কাজ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হতে পারত। শেষ পর্যন্ত ২৩ জন অন্য কর্মীর সঙ্গে একটি বাসে চড়ে তিনি শিবিরে ফেরেন; প্রত্যেকে ১,৫০০ বাথ করে ভাড়া দেন।
সিওয়াওং ও কন্যাও পওয়ে বলেন, কিছু নিয়োগকর্তা চিকিৎসা পরীক্ষা, অনুমতিপত্র ও যাতায়াতের খরচও মজুরি থেকে কেটে নেন। ফলে শরণার্থীরা কখনো কখনো আগে থেকে এসব খরচ না জেনেই ঋণের বোঝা নিয়ে কাজে যোগ দেন। পরে কর্মীর ফেরার খরচ দিতে পরিবারগুলোকে আবার ধার করতে হতে পারে।
অসুস্থ হয়ে পড়ার পর মু দাহ হসিত কাজ ছেড়ে দেন। তাঁর ভাষ্য, কর্মসূচিতে যে স্বাস্থ্যবিমা নিশ্চিত করার কথা ছিল, নিয়োগকর্তা তা দিতে অস্বীকার করেন। অসুস্থ বাবা ও ভাইবোনেরা তাঁর ওপর নির্ভরশীল হলেও তিনি আবার অন্য কর্মস্থলে যেতে চান।
পরিবারের সদস্যদের দেখাশোনা করা শরণার্থী কর্মী মু দাহ হসিত আবার চেষ্টা করার চাপের কথা ব্যাখ্যা করেন:
আমার অভিজ্ঞতা ভালো ছিল না, তবু আবার যেতে চাই, কারণ শিবিরে খাবারের সমস্যা রয়েছে।
চুক্তি, প্রশিক্ষণ ও পরিবারের বিচ্ছেদই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে
সিওয়াওং ও কন্যাও চান, প্রয়োজনে বার্মিজ, কারেন বা কারেন্নি ভাষায় অনুবাদসহ বিস্তারিত চুক্তি, অভিযোগ দায়ের ও নিষ্পত্তির সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া এবং শিবিরে নিয়োগ দেওয়া দালালদের যাচাইয়ের ব্যবস্থা থাকুক। সহায়তার ফোন নম্বর-সংবলিত কার্ড কর্মীদের দেওয়া হয়, তবে বিরোধ দেখা দিলে সিদ্ধান্ত পাওয়ার জন্য সহজে ব্যবহারযোগ্য ব্যবস্থাও দরকার বলে অধিকারকর্মীরা মনে করেন।
প্রশিক্ষণের ঘাটতিও রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, শিবিরের ভেতরে পেশাগত প্রস্তুতি উন্নত হয়েছে। সাও হ্তুয়ের অভিজ্ঞতা দেখায়, বাস্তবে যে কাজের শূন্যপদ রয়েছে, প্রশিক্ষণ তার সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া প্রয়োজন: শিবিরে বেকিং বা থাই ভাষার কোর্স অপরিচিত ইস্পাতের কাজের জন্য সামান্যই প্রস্তুত করে।
দ্য রিডমাটেন বলেন, যাতায়াতের খরচে ছোট ও দূরবর্তী শিবিরের অংশগ্রহণ কমেছে। তিনি আতিথেয়তা খাতসহ আরও বিভিন্ন ধরনের কাজ এবং ছোট নিয়োগকর্তাদের জন্য সহজ নিয়োগপ্রক্রিয়া চান। শরণার্থীদের কর্মশক্তিতে যুক্ত করার অর্থনৈতিক প্রভাব পরিমাপে ইউএনএইচসিআর বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে কাজ করছে।
এই কর্মসূচিতে কর্মীরা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেন না। ২৯ বছর বয়সী কো ছিত লোপবুরির একটি মুরগি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার কক্ষে মুরগির মাংস প্যাকেটজাত করে দিনে ৩৬৫ বাথ পান। তাঁর স্ত্রী ও পাঁচ ও তিন বছর বয়সী দুই সন্তান মায়ে লায় রয়ে গেছে। জা মার ও নো জানের মতো তিনিও পরিবারের সঙ্গে আলাদা থাকার বিনিময়ে আয় করার সুযোগ পেয়েছেন।
প্রথম বছরে একসময় শিবিরের মধ্যে সীমাবদ্ধ হাজারো মানুষের জন্য মজুরিভিত্তিক কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখন এই সুযোগকে নির্ভরযোগ্য করতে দরকার বাস্তব কিছু ব্যবস্থা: সহজবোধ্য চুক্তি, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, খরচের আগাম তথ্য, কার্যকর স্বাস্থ্যসুরক্ষা এবং কর্মস্থলে সমস্যা হলে সহায়তা। যাঁরা মজুরির কাজ করতে পারেন না, তাঁদের জন্য সহায়তা অব্যাহত রাখাও জরুরি।
মূল বিষয়গুলো
- থাইল্যান্ডের ভাষ্য, কর্মসূচির প্রথম বছরে মিয়ানমারের ৬,৮০০ শরণার্থী দেশটির কর্মশক্তিতে যুক্ত হয়েছেন।
- নীতিটি ১ অক্টোবর ২০২৫-এ কার্যকর হয়; যোগ্য ও নিবন্ধিত শিবিরবাসীরা ৪৩টি প্রদেশে কাজ করতে পারেন।
- কর্মীরা খাদ্যনিরাপত্তা, শিক্ষা ব্যয় ও স্বাধীনতার ক্ষেত্রে উন্নতির কথা বলেছেন; পাশাপাশি দীর্ঘ সময় পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার কথাও জানিয়েছেন।
- অভিযোগের মধ্যে রয়েছে কাজ বদলে দেওয়া, চুক্তি না থাকা, অপ্রত্যাশিত কর্তন এবং স্বাস্থ্যসুরক্ষা না পাওয়া।
- অধিকারকর্মীরা অনূদিত চুক্তি, উন্নত কর্মপ্রশিক্ষণ, যাচাই করা নিয়োগকারী এবং অভিযোগ জানানোর সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া চান।
- খাদ্য ও চিকিৎসাসহায়তা কমে যাওয়ায় কাজ করতে অক্ষম বাসিন্দারা এখনো মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।






