সেপাংয়ে সমর্থন আছে, তবে মালয়েশিয়াকে এখনও সিদ্ধান্ত নিতে হবে
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২ থেকে ৪ অক্টোবর সেপাংয়ে অনুষ্ঠিত বাহরাইন গ্রাঁ প্রি থেকে আনুমানিক ৯৫ কোটি রিঙ্গিতের কাছাকাছি অর্থনৈতিক প্রভাব তৈরি হয়েছে। এরপর নিয়মিতভাবে ফর্মুলা ওয়ান আয়োজন করে ফেরার বিষয়টি বিবেচনা করছে মালয়েশিয়া। মার্সিডিজ আবার সেখানে রেস করতে চায়, আলোকসজ্জা কোম্পানিগুলো বলছে রাতে রেস আয়োজন প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব, আর সরকারের একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন নভেম্বরের মধ্যে মন্ত্রিসভায় পৌঁছানোর কথা।
সূচিপত্র
- সেপাংয়ে সমর্থন আছে, তবে মালয়েশিয়াকে এখনও সিদ্ধান্ত নিতে হবে
- বাহরাইনের রেস যেভাবে এফ১-কে ফিরিয়ে আনল
- মার্সিডিজ কেন আরেকবার সেখানে যেতে চায়
- রাতের রেস আয়োজন করতে যা লাগবে
- নিয়মিত রেস আয়োজন করলে আর্থিক শর্ত বদলাবে
- অর্থনীতি ও দর্শকসংখ্যার হিসাব কী বলছে
- সমর্থকদের বাড়ি ফেরার যাত্রা ছিল কঠিন
- মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর কি দুপক্ষই লাভবান হতে পারে?
- এশিয়ার প্রতিযোগিতায় মালয়েশিয়ার সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ
- মূল বিষয়গুলো
সিদ্ধান্তটি শুধু জনপ্রিয় একটি সার্কিটে আবার গাড়ি নামানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। স্থানান্তরিত রেসটির আয়োজক-স্বত্ব ফি দিয়েছিল বাহরাইন। স্থায়ী ব্যবস্থায় এই আর্থিক শর্ত বদলে যাবে। মন্ত্রীরা প্রতিবছর রেস আয়োজন করা, কয়েক বছর পরপর রেস আয়োজন করা, অথবা সম্ভাব্যভাবে অন্য কোনো দেশের সঙ্গে অংশীদারত্বের কথা বিবেচনা করছেন।
কুয়ালালামপুরের পেট্রোনাস টুইন টাওয়ারে দলের এক অনুষ্ঠানে হাজারো সমর্থকের উপস্থিতির পর মালয়েশিয়ায় ফেরার সম্ভাবনাকে স্বাগত জানান মার্সিডিজের ডেপুটি টিম প্রিন্সিপাল ব্র্যাডলি লর্ড। সিঙ্গাপুর গ্রাঁ প্রি সপ্তাহান্তে তিনি বলেন, পেট্রোনাসের সঙ্গে শিরোপা ও প্রযুক্তিগত অংশীদারত্ব থাকা দলটির কাছে মালয়েশিয়ায় রেস করাটা কিছুটা ঘরের মাঠে খেলার মতো লাগে।
"আমাদের কাছে মালয়েশিয়ায় রেস করাটা কিছুটা ঘরের মাঠে খেলার মতো মনে হয়। আমরা সেখানে ফিরতে চাই। সার্কিটটি নতুন করে পিচ ঢালাই করার কথাও বলতে পারি। সেখানে ফিরে যাওয়াটা দারুণ হবে," তিনি বলেন।
মালয়েশিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ হলো ব্যয়, অবকাঠামো এবং নিয়মিত অর্থনৈতিক সুফল নিয়ে সরকারি পর্যালোচনা। রাতের রেসের সম্ভাবনা সেই বৃহত্তর সিদ্ধান্তেরই অংশ: আয়োজকদের আগে ঠিক করতে হবে, তারা কী ধরনের ইভেন্ট আয়োজন করতে চান এবং এর খরচ কীভাবে মেটাবেন।
বাহরাইনের রেস যেভাবে এফ১-কে ফিরিয়ে আনল
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের পর ২০২৬ সালের ২৬ জুলাই ফর্মুলা ওয়ান ও এফআইএ রেসটি স্থানান্তরের ঘোষণা দেয়। তাদের যৌথ ক্যালেন্ডার ঘোষণায় বলা হয়, আজারবাইজান ও সিঙ্গাপুরের রাউন্ডের মাঝখানে মালয়েশিয়ায় ফর্মুলা ওয়ান গালফ এয়ার বাহরাইন গ্রাঁ প্রি অনুষ্ঠিত হবে; বাকি সূচিতে কোনো পরিবর্তন হবে না।
জুলাইয়ের ঘোষণায় বলা হয়, ইভেন্টটি চূড়ান্ত চুক্তি ও আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল, যার মধ্যে ওয়ার্ল্ড মোটর স্পোর্ট কাউন্সিলের অনুমোদনও রয়েছে। ঘোষণায় ফর্মুলা ওয়ান, এফআইএ এবং বাহরাইন ও মালয়েশিয়া সরকারের মধ্যে এমন এক ব্যবস্থার কথা বলা হয়, যার লক্ষ্য ছিল অন্যথায় অনুষ্ঠিত না হওয়া একটি রেসকে ক্যালেন্ডারে রাখা।
বাহরাইনের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী প্রিন্স সালমান বিন হামাদ আল খলিফা বলেন, এই পদক্ষেপ খেলাটির প্রতি তাঁর দেশের দীর্ঘস্থায়ী অঙ্গীকারের প্রতিফলন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম দেশটির অবকাঠামো, পরিচালন সক্ষমতা এবং দল ও সমর্থকদের স্বাগত জানানোর প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেন।
প্রতিস্থাপনমূলক ইভেন্টটি কীভাবে দীর্ঘমেয়াদে ফিরে আসার আলোচনা তৈরি করল, তা প্রধান তারিখগুলো থেকে বোঝা যায়:
- ১৯৯৯ থেকে ২০১৭: সেপাংয়ে টানা ১৯টি মালয়েশিয়ান গ্রাঁ প্রি অনুষ্ঠিত হয়।
- ২৬ জুলাই, ২০২৬: বাহরাইন গ্রাঁ প্রির বিকল্প আয়োজক ভেন্যু হিসেবে মালয়েশিয়ার নাম ঘোষণা করে ফর্মুলা ওয়ান ও এফআইএ।
- ২ থেকে ৪ অক্টোবর, ২০২৬: স্থানান্তরিত রেসের সপ্তাহান্ত সেপাংয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
- ৯ থেকে ১১ অক্টোবর, ২০২৬: পরবর্তী গ্রাঁ প্রি সপ্তাহান্তের আয়োজন করে সিঙ্গাপুর।
- ১৫ অক্টোবর, ২০২৬: নিয়মিত আয়োজনের আলোচনা প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে সংসদকে জানান মালয়েশিয়ার ক্রীড়ামন্ত্রী।
- নভেম্বর ২০২৬: সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে সিদ্ধান্তের আগে সরকারি মূল্যায়ন প্রতিবেদন মন্ত্রিসভায় পেশ হওয়ার কথা।
মার্সিডিজ কেন আরেকবার সেখানে যেতে চায়
ফল হতাশাজনক হলেও মালয়েশিয়ায় সপ্তাহান্তটি উপভোগ্য ছিল বলে জানান লর্ড। কুয়ালালামপুরে মানুষের উষ্ণ অভ্যর্থনা তাঁর বিশেষভাবে মনে ধরেছে। পেট্রোনাসের সহকর্মীরা তাঁকে বলেছিলেন, দলটির উপস্থিতিতে শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থমকে গিয়েছিল।
সেপাংয়ে মার্সিডিজের খেলাধুলাসংক্রান্ত ইতিহাসও রয়েছে। তাদের সেপাং রেসের ঘোষণায় ২০১৪ সালে পোল পজিশন থেকে লুইস হ্যামিল্টনের জয় এবং ২০১০ সালে নিকো রসবের্গের তৃতীয় স্থান অর্জনের কথা তুলে ধরা হয়েছে। ওই বছর ফর্মুলা ওয়ানে ফেরার পর সেটিই ছিল দলের প্রথম পডিয়াম।
ক্যালেন্ডার থেকে সেপাং বাদ পড়ার আগে সেখানে মার্সিডিজের আটটি মালয়েশিয়ান গ্রাঁ প্রি-তে একটি জয় ছিল। ২০১৬ সালে সেপাংয়ে শিরোপা-লড়াইয়ের এক বেদনাদায়ক মুহূর্তও আসে: ১৫ ল্যাপ বাকি থাকতে নেতৃত্বে থাকা অবস্থায় হ্যামিল্টনের ইঞ্জিন বিকল হয়। ওই মৌসুমে চালকদের শিরোপা জেতেন রসবের্গ।
জর্জ রাসেল সেপাংকে সিমুলেটরে চালানোর জন্য তাঁর প্রিয় সার্কিটগুলোর একটি বলেছেন, আর কিমি আন্তোনেলি সেখানে রেস করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের উৎসাহ নতুন প্রজন্মের চালকদের এমন এক ভেন্যুর সঙ্গে যুক্ত করছে, যেখানে ২০১৭ সালে ম্যাক্স ভার্স্টাপেন জেতা শেষ গ্রাঁ প্রি-টি অনুষ্ঠিত হয়েছিল—তখনও তাঁদের কেউ এফ১ গ্রিডে যোগ দেননি।
রাতের রেস আয়োজন করতে যা লাগবে
সিগনিফাইয়ের প্রধান নির্বাহী আস টেম্পেলম্যান বলেন, আলোকসজ্জা প্রযুক্তি মালয়েশিয়ায় রাতের রেস আয়োজনে সহায়তা করতে পারে। তবে তাঁর মতে, প্রথমে আয়োজক ও কর্তৃপক্ষকে ঠিক করতে হবে, ইভেন্টটি থেকে তারা কী চান।
মালয়েশিয়া এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে উপযুক্ত ব্যবস্থা তৈরি করতে পারবে বলে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন টেম্পেলম্যান।
"আমি বলব, প্রযুক্তি কোনো বাধা হবে না। তাই মালয়েশিয়ায় রাতের রেস হলে আমরা নিশ্চয়ই সমাধান খুঁজে পাব। এ নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই," তিনি বলেন।
ডিজেড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মহাব্যবস্থাপক রবার্তো গ্রিলিও সিগনিফাইয়ের প্রযুক্তি ব্যবহার করে সমাধানের প্রস্তাব দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ২০০৮ সালে সিঙ্গাপুরে ফর্মুলা ওয়ানের প্রথম রাতের রেসের পর থেকে মোটরস্পোর্টে আলোকসজ্জা নিয়ে কোম্পানি দুটি একসঙ্গে কাজ করেছে। তাদের প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে লাস ভেগাস এবং দিরিয়া ও লন্ডনে ফর্মুলা ই-র ইভেন্ট।
সিঙ্গাপুরে একটি উন্নয়নের নির্দিষ্ট উদাহরণ রয়েছে: ২০২৩ সালে মেরিনা বে-তে চালু হওয়া ফিলিপস অ্যারেনাভিশন এলইডি ফ্লাডলাইট আগের মেটাল হ্যালাইড ব্যবস্থার তুলনায় আলোকসজ্জায় বিদ্যুতের ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমিয়েছে। সহজভাবে বললে, নতুন ব্যবস্থায় আগের আলোর প্রতি ১০০ ইউনিটের বিপরীতে প্রায় ৭০ ইউনিট বিদ্যুৎ লেগেছে।
সেপাংয়ের জন্য আলাদা নকশা ও বাজেট প্রয়োজন হবে। অনুমোদিত আলোকসজ্জা প্রকল্প, ব্যয় বা নির্মাণের সময়সূচি সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি। সার্কিটে নতুন করে পিচ ঢালাইয়ের প্রয়োজন হতে পারে বলে লর্ডের মন্তব্য অবকাঠামো মূল্যায়নে আরেকটি সম্ভাব্য বিষয় যোগ করেছে।
নিয়মিত রেস আয়োজন করলে আর্থিক শর্ত বদলাবে
মালয়েশিয়ার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সেপাং ইন্টারন্যাশনাল সার্কিটের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে অক্টোবরের ইভেন্টটির আয়োজক-স্বত্ব ফি দিয়েছিল বাহরাইন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ফি প্রায় ৫ কোটি মার্কিন ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে; এর বেশির ভাগ বা পুরো অর্থই দিয়েছে বাহরাইন।
বিকল্প রেসটির জন্য ভেন্যু উন্নয়নে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ রিঙ্গিত ব্যয় করেছে মালয়েশিয়া। অতীতে বার্ষিক আয়োজক-স্বত্ব ফি ৩০ কোটি রিঙ্গিত ছাড়িয়েছিল, যা ওই উন্নয়ন ব্যয়ের ১৮ গুণেরও বেশি। ভবিষ্যতে মালয়েশিয়ার সঙ্গে কোনো চুক্তি হলে তাতে আয়োজক-স্বত্বের পাশাপাশি সার্কিটের কাজ ও ইভেন্ট পরিচালনার বাজেটও রাখতে হবে।
যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী মোহাম্মদ তৌফিক জোহারি সংসদকে বলেন, ব্যয়ের পরিমাণ এবং একই ধরনের অর্থনৈতিক সুফল বারবার পাওয়ার সম্ভাবনা—দুটিই সরকারকে খতিয়ে দেখতে হবে।
"এফ১ আয়োজন সস্তা নয়। এতে বেশ উল্লেখযোগ্য ব্যয় হয়, আর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমাদের মূল্যায়ন করতে হবে," তিনি বলেন।
সব মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং সরকারের মুখ্য সচিবকে নিয়ে গঠিত একটি কমিটি প্রস্তাবটি মূল্যায়ন করছে। তৌফিক বলেন, এর দায়িত্ব শুধু যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও সেপাংয়ের ওপর থাকা উচিত নয়, কারণ সুফল অর্থনীতির অন্যান্য খাতেও পৌঁছায়।
মালয়েশিয়ার বিকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রতিবছর আয়োজন করা অথবা এমন ব্যবস্থা ভাগাভাগি করা, যার আওতায় কয়েক বছর পরপর একটি রেস হবে। নভেম্বরের মধ্যে প্রত্যাশিত প্রতিবেদনটি মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে সহায়তা করবে। সেপাংয়ে সপ্তাহান্তের রেসের পর আনোয়ারও জানান, ফর্মুলা ওয়ানের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী স্তেফানো দোমেনিকালির সঙ্গে তিনি স্থায়ীভাবে ফেরার বিষয়ে আলোচনা করেছেন; পাশাপাশি স্বীকার করেছেন, ক্যালেন্ডারে আগে থেকেই নানা প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
অর্থনীতি ও দর্শকসংখ্যার হিসাব কী বলছে
ইভেন্টের পর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় অর্থনৈতিক প্রভাব প্রায় ৯৫ কোটি রিঙ্গিত বলে অনুমান করেছে। এর আগে হং লিয়ং ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক সর্বোচ্চ ১৩০ কোটি রিঙ্গিতের পূর্বাভাস দিয়েছিল। অর্থাৎ মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী হিসাব সেই পূর্বাভাসের চেয়ে প্রায় ৩৫ কোটি রিঙ্গিত কম।
অর্থনৈতিক প্রভাব বলতে আবাসন, পরিবহন, রেস্তোরাঁ ও সরবরাহকারীদের মতো ব্যবসায়িক খাতজুড়ে তৈরি হওয়া কার্যক্রমকে বোঝায়। সরকারি রাজস্ব এবং ইভেন্ট আয়োজকের আর্থিক হিসাব বাজেট মূল্যায়নের আলাদা অংশ। মন্ত্রীদের বাস্তব কাজ হলো, জনসাধারণের ব্যয়ের বিপরীতে বিভিন্ন ব্যবসা ও কর্মীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়া সুফল বিচার করা।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সপ্তাহান্তে দর্শকদের মোট আগমন ছিল প্রায় ২ লাখ ৬১ হাজার; এর মধ্যে রেসের দিন আনুমানিক ১ লাখ ৩ হাজার। অন্য প্রতিবেদনে রেসের দিনের দর্শকসংখ্যা ১ লাখ ১০ হাজারের বেশি বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ৯৭ হাজারের বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে; আন্তর্জাতিক পর্যটক এসেছেন ৫০ হাজারের বেশি এবং ইভেন্টের জন্য বিদেশি কর্মী এসেছেন প্রায় ৫ হাজার।
একজন দর্শক কয়েক দিন এলে সপ্তাহান্তের মোট হিসাবে তাঁর উপস্থিতি কয়েকবার গণনা হয়। তাই টিকিট বিক্রি, দৈনিক দর্শকসংখ্যা এবং আন্তর্জাতিক আগমনের হিসাব ইভেন্টটির প্রভাবের ভিন্ন ভিন্ন দিক পরিমাপ করে।
মন্ত্রণালয় ফর্মুলা ওয়ান ম্যানেজমেন্টের হিসাবও উল্লেখ করেছে, যেখানে চ্যাম্পিয়নশিপটির বিশ্বজুড়ে সম্প্রচারের দর্শকসংখ্যা ৮২ কোটি ৭০ লাখ বলা হয়েছে। মূল্যায়নে আন্তর্জাতিক আগমনে উপকৃত খাতের মধ্যে পর্যটন, আতিথেয়তা, বিমান পরিবহন এবং মালয়েশিয়ার ক্ষুদ্র ব্যবসার কথা রয়েছে।
সমর্থকদের বাড়ি ফেরার যাত্রা ছিল কঠিন
সেপাংয়ে বিপুল দর্শকসমাগম এমন কিছু সমস্যাও সামনে এনেছে, যেগুলো ভবিষ্যৎ আয়োজকদের সমাধান করতে হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শাটল পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সমর্থকদের ১১ কিলোমিটার পর্যন্ত হাঁটতে হয়েছে। রাইডশেয়ার পরিষেবার জন্য নির্ধারিত নিষিদ্ধ এলাকাগুলোর কারণে বিকল্প পরিবহনের ব্যবস্থাও কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানান্তরিত ইভেন্টটির পরিচালনার দায়িত্বে ছিল বাহরাইনের আয়োজকেরা। তাদের নিজস্ব ভেন্যুতে প্রতিদিন প্রায় ৫৫ হাজার দর্শকের ব্যবস্থা করা হয়, যেখানে সেপাংয়ে রেসের দিন দর্শকসংখ্যা ছিল ১ লাখের বেশি। মালয়েশিয়ার ইভেন্টে পরিচিত দর্শকসংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ, পাশাপাশি ভিন্ন সড়ক ও প্রবেশব্যবস্থা সামলাতে হয়েছে।
প্রতিবেদনে পানির জন্য দীর্ঘ সারি, পানি ভরার স্টেশন শুকিয়ে যাওয়া এবং শুক্রবার সার্কিটে ৫০টি পর্যন্ত অ্যাম্বুলেন্স পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। প্রায় ১০ হাজার মানুষের জন্য তৈরি কনসার্ট এলাকায় ৫০ হাজারের বেশি মানুষ জড়ো হওয়ায় ভিড়ের চাপ মারাত্মক হয়ে ওঠে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
আবার রেস দেখতে আসা দর্শকের কাছে আরেকটি গ্রাঁ প্রির আকর্ষণ কিছুটা নির্ভর করবে নিরাপদে ভেন্যুতে পৌঁছানো, পানীয় জল পাওয়া এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনিশ্চয়তা ছাড়া সেখান থেকে বেরিয়ে আসার ওপর। রেস দিনের আলোয় হোক বা ফ্লাডলাইটের নিচে, এসব পরিষেবা গুরুত্বপূর্ণই থাকবে।
মালয়েশিয়ায় নিয়মিতভাবে মোটোজিপি অনুষ্ঠিত হলেও একই ধরনের বিঘ্নের খবর পাওয়া যায়নি। জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প ইভেন্ট পরিচালনাকারীদের তুলনায় ভবিষ্যতে মালয়েশিয়ার আয়োজকদের স্থানীয় সড়ক, পরিবহন সংস্থা এবং সার্কিটের প্রকৃত ধারণক্ষমতা বিবেচনা করে পরিকল্পনা করার সুযোগ বেশি থাকবে।
মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর কি দুপক্ষই লাভবান হতে পারে?
অক্টোবরের ক্যালেন্ডারে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের রেস পরপর দুই সপ্তাহান্তে রাখা হয়েছিল। এতে একই আঞ্চলিক সফরে দুটি ইভেন্ট দেখার সুযোগ তৈরি হয়, যদিও যাতায়াত ও টিকিটের খরচের কারণে কতজন সমর্থক দুটিতেই যেতে পারবেন তা সীমিত হতে পারে।
ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর বিজনেস স্কুলের মার্কেটিং বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক সামের এলহাজ্জার বলেন, দুই রেস একসঙ্গে এই অঞ্চলের দর্শকগোষ্ঠী বাড়াতে পারে। সিঙ্গাপুরের ইভেন্ট রাতে শহরের কেন্দ্র দিয়ে চলে; সেপাংয়ে রয়েছে দ্রুতগতির বাঁক, জোরে ব্রেক করার অংশ এবং গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আবহাওয়াসহ একটি স্থায়ী সার্কিট।
পেমেন্ট কোম্পানি অ্যাডিয়েনের ২০২৫ সালের সিঙ্গাপুর রেস-সপ্তাহের তথ্য বাণিজ্যিক সম্ভাবনার একটি ধারণা দেয়। হোটেলের আয়ের ৭৬ শতাংশ এসেছে বিদেশি দর্শনার্থীদের কাছ থেকে, আর বছরের দ্বিতীয়ার্ধের একটি সাধারণ সপ্তাহের তুলনায় হোটেলের আয় ছিল ২৪ শতাংশ বেশি। রেসের সপ্তাহান্তে খুচরা বিক্রি বেড়েছে ২৭ শতাংশ এবং খাবার ও পানীয় খাতের আয় বেড়েছে সর্বোচ্চ ৩১ শতাংশ।
মার্কেটিং সংস্থা এমকেটিজির এফ১ বিভাগের প্রধান উইলিয়াম সন্ডার্স স্পনসরদের বাজেট নিয়ে প্রতিযোগিতার কথাও বলেছেন। দুটি ইভেন্ট কাছাকাছি সময়ে হলে কুয়ালালামপুর ও সিঙ্গাপুরে প্রচারমূলক ব্যয়ের মধ্যে কোম্পানিগুলোকে বেছে নিতে হতে পারে। তাঁর মতে, মার্চে রেস হলে বছরের বিভিন্ন সময়ে এই ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি ভাগ হয়ে যাওয়ায় মালয়েশিয়া আরও আকর্ষণীয় হতে পারে।
ইডিজে মোটরস্পোর্টের প্রতিষ্ঠাতা ম্যাথিউ মার্শের মতে, মালয়েশিয়ার আগের পদ্ধতিতে দেশের বৃহত্তর পরিচিতির চেয়ে টিকিট বিক্রির আয়ের ওপর অতিরিক্ত জোর দেওয়া হয়েছিল। স্থায়ীভাবে ফেরার বিষয়ে তিনি সন্দিহান। কারণ পূর্ণ ক্যালেন্ডার এবং উল্লেখযোগ্য ফি দিতে আগ্রহী অন্য দেশগুলো বাণিজ্যিক শর্তকে কঠিন করে তুলবে।
এশিয়ার প্রতিযোগিতায় মালয়েশিয়ার সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ
মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ কোরিয়ার আগ্রহ বিবেচনা করছে ফর্মুলা ওয়ান। ২০২৫ সালে ব্যাংককে ২০২৮ সালের রেস আয়োজনের লক্ষ্যে ৪ হাজার কোটি বাহতের, অর্থাৎ প্রায় ১২০ কোটি মার্কিন ডলারের, একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দেয় থাইল্যান্ডের মন্ত্রিসভা।
তুর্কি গ্রাঁ প্রি ফিরে আসায় ২০২৭ সালে এশিয়ায় নয়টি রেস হওয়ার কথা, যেখানে ইউরোপে হবে আটটি। ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য আগ্রহ ও বিনিয়োগ আকর্ষণ করছে এমন একটি অঞ্চলে জায়গা পেতে চাইবে মালয়েশিয়া।
ক্যালেন্ডার-সংক্রান্ত আলোচনার সঙ্গে পরিচিত একজনের মতে, বিদ্যমান চুক্তির আওতায় নিয়মিতভাবে সেপাংয়ে রেস ফিরিয়ে আনার সম্ভাব্য প্রথম বছর ২০৩০। মালয়েশিয়া সরকার ফেরার কোনো বছর ঘোষণা করেনি। দোমেনিকালির সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে আনোয়ারের বক্তব্যেও ব্যস্ত সূচি ও বর্তমান আয়োজকদের সঙ্গে চুক্তিকে বাধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
থাইল্যান্ডের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছেন লর্ড, পাশাপাশি এর জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ ও অঙ্গীকারের কথাও স্বীকার করেছেন। তিনি ২০২৮ সালে নয়াদিল্লির কাছে বুদ্ধ ইন্টারন্যাশনাল সার্কিটে ফেরার জন্য ভারতের প্রচেষ্টাকেও সমর্থন করেছেন। তাঁর মতে, দেশটির আগের ভেন্যুটি ছিল চমৎকার একটি সার্কিট ও সুবিধাকেন্দ্র।
২০১৩ সালের আসরের পর গ্রাঁ প্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারত কর ও নিয়ন্ত্রকসংক্রান্ত সমস্যাগুলো সমাধানের কাজ করছে। আয়োজক চুক্তির সিদ্ধান্ত নেয় ফর্মুলা ওয়ান ম্যানেজমেন্ট। তাই দলগুলোর উৎসাহ একটি প্রস্তাবকে সমর্থন জোগায়, আর সরকার ও আয়োজকেরা বাস্তব শর্ত নিয়ে আলোচনা করেন।
মালয়েশিয়ার জন্য নভেম্বরের মূল্যায়নই পরবর্তী সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ। দর্শকদের ব্যয়, জনস্বার্থ ও আন্তর্জাতিক পরিচিতি নিয়মিত আয়োজনের অঙ্গীকারকে ন্যায্যতা দেয় কি না, আর বিনিময়ে সমর্থকেরা কী ধরনের উন্নতি পাবেন, তা মন্ত্রিসভাকে বিচার করতে হবে।
মূল বিষয়গুলো
- ২০২৬ সালের ২ থেকে ৪ অক্টোবর স্থানান্তরিত বাহরাইন গ্রাঁ প্রি আয়োজনের পর সেপাংয়ে আরেকটি রেসের পক্ষে রয়েছে মার্সিডিজ।
- মালয়েশিয়া প্রতিবছর আয়োজন করা অথবা কয়েক বছর পরপর রেস আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করছে; নভেম্বরের মধ্যে মন্ত্রিসভার মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রত্যাশিত।
- যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের হিসাবে অর্থনৈতিক প্রভাব প্রায় ৯৫ কোটি রিঙ্গিত এবং সপ্তাহান্তে দর্শকদের মোট আগমন প্রায় ২ লাখ ৬১ হাজার।
- বিকল্প ইভেন্টটির আয়োজক-স্বত্ব ফি দিয়েছিল বাহরাইন; নিয়মিত মালয়েশিয়ান রেসের আর্থিক শর্ত হবে ভিন্ন।
- সম্ভাব্য রাতের রেসে আলো দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সিগনিফাই ও ডিজেড ইঞ্জিনিয়ারিং; তবে কোনো অনুমোদিত প্রকল্প বা বাজেট ঘোষণা করা হয়নি।
- ভবিষ্যতের যেকোনো ইভেন্টে পরিবহন সমস্যা, পানির প্রাপ্যতা এবং ভিড় সামলানো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
- বিদ্যমান ক্যালেন্ডার চুক্তি ও এশিয়ার অন্য দেশগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রস্তাব নিয়মিতভাবে ফেরার চেষ্টাকে জটিল করে তুলেছে।






