এক ঘণ্টায় প্রায় ১০ হাজার যাত্রীর বহির্গমন, নতুন সীমান্ত পারাপারব্যবস্থার পরীক্ষা
২০২৬ সালের ১৮ অক্টোবর দুপুর ১টা থেকে ২টার মধ্যে হংকংয়ের পুনর্নির্মিত হুয়াংগাং বন্দর দিয়ে ৯,৭২৮ জন যাত্রী বহির্গমন করেন। চালুর পর প্রথম রবিবারটি চুং ইয়েং উৎসবের ছুটির সঙ্গে মিলে যাওয়ায় এ ভিড় তৈরি হয়। নিরাপত্তা ব্যুরো সর্বোচ্চ অপেক্ষার সময় ৭৫ মিনিট বলে জানিয়েছে। তবে এক যাত্রী বলেন, সকাল ১১টার দিকে শিশুসন্তানকে নিয়ে পৌঁছানোর পরও প্রায় দুই ঘণ্টা পেরিয়ে তিনি কর্মী পরিচালিত বহির্গমন কাউন্টারে অপেক্ষা করছিলেন।
সূচিপত্র
- এক ঘণ্টায় প্রায় ১০ হাজার যাত্রীর বহির্গমন, নতুন সীমান্ত পারাপারব্যবস্থার পরীক্ষা
- চালুর প্রথম সপ্তাহে কীভাবে ছুটির দিনের প্রথম ভিড় তৈরি হলো
- রবিবার যাত্রীরা কোথায় সময় হারিয়েছেন
- পাঁচ মিনিটে ছাড়পত্রের ব্যবস্থা আসলে যেভাবে কাজ করে
- পরিবারগুলোর জন্য বয়স ও নিবন্ধন কেন গুরুত্বপূর্ণ
- কর্মকর্তাদের প্রতিশ্রুতি এবং আইনপ্রণেতাদের পরিবর্তনের দাবি
- পরিবহন সংযোগে সুবিধার পাশাপাশি তৈরি হয়েছে নতুন bottleneck
- নতুন ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত তথ্য যেভাবে ব্যবহৃত হয়
- সক্ষমতা বাড়লেও প্রথম সপ্তাহান্তে অভিজ্ঞতা ছিল অসম
- মূল বিষয়গুলো
অভিবাসন ছাড়পত্রের সময় প্রায় ৩০ মিনিট থেকে কমিয়ে আনুমানিক পাঁচ মিনিট করার লক্ষ্যে তৈরি ব্যবস্থা চালুর ছয় দিন পর এ যানজট দেখা দেয়। বহির্গমন হল ছাড়িয়ে গণপরিবহন তলাতেও ভিড় জমে; সেখানে এসকেলেটরে ওঠার প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণ করে পুলিশ। যাত্রীরা বলেন, কোথা থেকে সারি শুরু হয়েছে তা স্পষ্ট ছিল না, লাইনের শেষ খুঁজে পাওয়া কঠিন ছিল এবং স্বয়ংক্রিয় গেট ব্যবহার করা যাবে না বুঝতে পেরে পরিবারগুলোকে সারি বদলাতে হয়েছে।
অভিবাসন বিভাগের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে ৩০ হাজারের বেশি যাত্রী বহির্গমন করেছেন। নিরাপত্তা ব্যুরো জানায়, সবচেয়ে ব্যস্ত ঘণ্টায় যাত্রীর সংখ্যা আগের হুয়াংগাং ও লোক মা চাউ পারাপারের একই সময়ের তুলনায় ৮৯৯ শতাংশ বেশি ছিল, অর্থাৎ আগের পরিমাণের প্রায় ১০ গুণ।
চুং ইয়েং উৎসব, যা চোংইয়াং নামেও পরিচিত, এমন এক উপলক্ষ যখন পরিবারগুলো পূর্বপুরুষদের সমাধিতে গিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। ছুটির দিনে এসব যাত্রার পাশাপাশি অবকাশযাপনে অনেকে উত্তরে শেনচেনে যান। হুয়াংগাংয়ের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, পরিচয় যাচাই দ্রুত হলেও পরিবহন সংযোগ, এসকেলেটর ও হাতে পরিচালিত কাউন্টারে সারি জমলে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে।
চালুর প্রথম সপ্তাহে কীভাবে ছুটির দিনের প্রথম ভিড় তৈরি হলো
নতুন পারাপারকেন্দ্রে ১২ অক্টোবর সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে অভিবাসনসেবা শুরু হয়। প্রথম দুই ঘণ্টায় প্রায় ৫,১০০ যাত্রী ও ৯৫৩টি যানবাহন পারাপার হয়। এরপর লোক মা চাউ সড়ক পারাপারে যাত্রীদের তল্লাশি সেবা বন্ধ হয়ে যায়; তবে পৃথক লোক মা চাউ স্পার লাইন রেল পারাপার চালু থাকে।
সরকারের ১০ অক্টোবরের উদ্বোধনী বিজ্ঞপ্তিতে কাছাকাছি সড়কে ব্যস্ততার আশঙ্কার কথা জানিয়ে যাত্রীদের হাতে সময় নিয়ে বের হতে বলা হয়েছিল। এতে যৌথ কমান্ডের ব্যবস্থা, অতিরিক্ত পরিবহন প্রস্তুতি ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে কর্মী মোতায়েনের কথা উল্লেখ করা হয়।
- ১২ অক্টোবর: সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে হুয়াংগাং চালু হয়, লোক মা চাউ সড়ক পারাপারে যাত্রীদের ছাড়পত্র দেওয়ার কাজ এর হাতে যায়।
- ১৭ অক্টোবর: তিন দিনের ছুটির প্রথম দিনে হুয়াংগাং দিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি যাত্রী পারাপার করেন।
- ১৮ অক্টোবর: সকাল ১১টার পর বহির্গমন দ্রুত বাড়ে; দুপুর ১টা থেকে ২টার মধ্যে সংখ্যা দাঁড়ায় ৯,৭২৮-এ।
শনিবারের যাত্রীদের মধ্যে প্রায় ৫৫ হাজার আগমনকারী এবং ৭৪ হাজার বহির্গমনকারী ছিলেন; বহির্গমনকারীদের মধ্যে হংকংয়ের বাসিন্দা ছিলেন প্রায় ৬১ হাজার। সেদিন হংকংয়ের স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথের নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রগুলো মিলিয়ে অভিবাসন বিভাগ ১৩ লাখ ৫৩ হাজার আগমন ও বহির্গমন নথিভুক্ত করে।
অর্থাৎ শনিবার হংকংয়ে নথিভুক্ত মোট যাত্রী চলাচলের প্রায় ১০ ভাগের এক ভাগ সামলেছে হুয়াংগাং। সেখানে বহির্গমনকারীর সংখ্যা প্রায় ৭৪ হাজার হলেও লো উ-তে ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি এবং লোক মা চাউ স্পার লাইনে ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি ছিল। অন্য বড় পারাপারকেন্দ্রগুলোও ব্যস্ত থাকার মধ্যে নতুন স্থাপনাটি উল্লেখযোগ্য চাহিদা সামলাচ্ছিল।
রবিবার যাত্রীরা কোথায় সময় হারিয়েছেন
রবিবার নিরাপত্তা ব্যুরোর অনলাইন পরিস্থিতি সূচকে হলুদ রঙের ব্যস্ততার সতর্কতা দেখানো হয়; বহির্গমনে গড় অপেক্ষা ছিল ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট। হাতে পরিচালিত কাউন্টারে কিছু যাত্রীকে আরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। বিপরীতমুখী যাত্রীসংখ্যা কম ছিল এবং অভিবাসন ছাড়পত্র পেতে সাধারণত পাঁচ মিনিটেরও কম সময় লেগেছে।
দুপুর ১টার দিকে সময় মেপে দেখা যায়, হংকং অংশে বাস থেকে নামার পর শেনচেনে প্রবেশের ছাড়পত্র পেতে মোট ৫০ মিনিট লাগে। পরিবহন সংযোগস্থলের দ্বিতীয় তলা থেকে পঞ্চম তলার বহির্গমন হলে পৌঁছাতে প্রায় ৩০ মিনিট ব্যয় হয়। উদ্বোধনের দিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে একই পথে যেতে প্রায় দুই মিনিট লেগেছিল।
স্বয়ংক্রিয় চ্যানেলে অপেক্ষায় আরও প্রায় ১৫ মিনিট কাটে। টুপি না খোলায় কিছু যাত্রীর মুখমণ্ডল শনাক্ত করতে সমস্যা হয়। ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের অনুমতি চাওয়া পর্দাটিও কারও কারও জন্য বিভ্রান্তিকর ছিল।
হাতে পরিচালিত কাউন্টারে যাত্রীরা অভিযোগ করেন, প্রবেশপথ সরু এবং লাইনের শেষ চেনা কঠিন ছিল। কেউ কেউ বলেন, অন্যদিকে পাঠানোর আগে তাঁরা একাধিকবার সারির সম্ভাব্য শেষ মাথায় দাঁড়িয়েছিলেন। লাইনে আগে দাঁড়ানো নিয়ে তর্ক হলে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
এনগ পদবির এক নারী বলেন, বাড়ি থেকে বেরিয়ে অভিবাসন ছাড়পত্র পেতে তাঁর আড়াই ঘণ্টা লেগেছে; লিয়ানথাং ব্যবহার করলে সময় লাগত প্রায় এক ঘণ্টা। এই তুলনায় পারাপারকেন্দ্রে পৌঁছানোর যাত্রার সময়ও অন্তর্ভুক্ত। শিশু বা বয়স্ক আত্মীয়দের সঙ্গে থাকা পরিবারগুলোর জন্য লাইন বদলানো এবং এক তলা থেকে অন্য তলায় যাওয়া চাপ আরও বাড়িয়েছে।
পাঁচ মিনিটে ছাড়পত্রের ব্যবস্থা আসলে যেভাবে কাজ করে
নিরাপত্তা ব্যুরোর যৌথ ছাড়পত্র নির্দেশিকায় ১৩৪টি স্বয়ংক্রিয় যৌথ পরিদর্শন চ্যানেল, ৬৮টি প্রচলিত হাতে পরিচালিত কাউন্টার এবং ব্যক্তিগত গাড়ি ও কোচের জন্য ২৬টি ছাড়পত্র কিয়স্কের কথা বলা হয়েছে। ভবনের ভেতরে সীমান্তের দুই পাশে হংকং ও মূল ভূখণ্ডের অভিবাসন দপ্তর পাশাপাশি রয়েছে।
যাত্রীরা একবারই সারিতে দাঁড়িয়ে দুই এখতিয়ারের অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। স্বয়ংক্রিয় চ্যানেলে তিনটি গেট রয়েছে: প্রথম গেটে গ্রহণযোগ্য নথি বা মুখমণ্ডল স্ক্যানের মাধ্যমে যাত্রীর পরিচয় শনাক্ত করা হয়; দ্বিতীয় গেটে বহির্গমনের যাচাই হয়, যার মধ্যে মুখমণ্ডল ও আঙুলের ছাপ মেলানো রয়েছে; তৃতীয় গেটে গন্তব্যে প্রবেশের যাচাই সম্পন্ন হয়।
হাতে পরিচালিত কাউন্টারেও দুই পক্ষের ব্যবস্থা এক জায়গায় আনা হয়েছে, তবে যাত্রীদের বহির্গমন ও আগমনের কর্তৃপক্ষের কাছে আলাদাভাবে নথি দেখাতে হয়। এ পরিবর্তনে অভিবাসন ছাড়পত্রের জন্য দুটি পৃথক সারিতে দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান সচিব এরিক চ্যান বলেন, স্বয়ংক্রিয় চ্যানেলে প্রক্রিয়াকরণে প্রায় ২০ সেকেন্ড লাগে। ব্যুরোর সামগ্রিক হিসাব অনুযায়ী, ছাড়পত্র পেতে সময় লাগে প্রায় পাঁচ মিনিট; আগের ব্যবস্থায় লাগত প্রায় ৩০ মিনিট। তবে যাত্রীর মোট সময়ের মধ্যে বাসস্টপ থেকে হলে যাওয়া, চ্যানেলের জন্য অপেক্ষা এবং পরবর্তী পরিবহনে পৌঁছানোর সময়ও রয়েছে।
রবিবারের ৫০ মিনিটের যাত্রার সময় এ পার্থক্য তুলে ধরে: যাত্রী বহির্গমন হলে পৌঁছানোর আগেই প্রায় আধা ঘণ্টা কেটে যায়। কাউন্টার বাড়ালে অভিবাসন-সংক্রান্ত সারি সামলানো যায়; আর প্রবেশপথ ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভর করে যাত্রীরা কত দ্রুত সেখানে পৌঁছাবেন।
পরিবারগুলোর জন্য বয়স ও নিবন্ধন কেন গুরুত্বপূর্ণ
স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় বয়সের দুটি আলাদা সীমা রয়েছে। যোগ্য যাত্রীরা সাত বছর বয়স থেকে নথি পাঠের মাধ্যমে ছাড়পত্র নিতে পারেন। প্রথম গেটে নথি না দেখিয়ে মুখমণ্ডল স্ক্যানের মাধ্যমে প্রবেশের সুযোগ রয়েছে ১৪ বছর বা তার বেশি বয়সী যোগ্য যাত্রীদের। দুই পদ্ধতিতেই প্রত্যেকের কাছে উভয় পক্ষের গ্রহণযোগ্য বৈধ ভ্রমণ নথি থাকা বাধ্যতামূলক।
যোগ্যতা নির্ভর করে যাত্রীর কাছে থাকা নথি এবং প্রয়োজনীয় নিবন্ধনের ওপরও। অনেক হংকংবাসীর ক্ষেত্রে এর মধ্যে রয়েছে পরিচয়পত্র ও মেইনল্যান্ড ট্রাভেল পারমিট, যা সাধারণত হোম রিটার্ন পারমিট নামে পরিচিত; পাশাপাশি মূল ভূখণ্ডের স্বয়ংক্রিয় ছাড়পত্র ব্যবহারের নিবন্ধন। হংকংয়ের স্পর্শবিহীন ই-চ্যানেলে ব্যবহৃত বিদ্যমান কিউআর কোড নতুন যৌথ চ্যানেলে সরাসরি ব্যবহার করা যায়নি বলে যাত্রীরা জানিয়েছেন।
শনিবার লেউং পদবির সাত বছর বয়সী এক বালক এ সমস্যায় পড়ে। বাবা-মা ও দুই ছোট বোনের সঙ্গে যাত্রাকালে তার আঙুলের ছাপ নিবন্ধিত না থাকায় তাকে হাতে পরিচালিত কাউন্টারে যেতে হয়। সেদিন তার পরিবার দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পেরেছিল, কিন্তু রবিবারের ভিড়ে একইভাবে সারি বদলানো আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
সাত বছরের কম বয়সী শিশুদের হাতে পরিচালিত প্রক্রিয়ায় ছাড়পত্র নিতে হয়। রাউন্ডটেবিলের আইনপ্রণেতা চং হো-ফুং বলেন, কিছু অভিভাবক এ নিয়ম সম্পর্কে জানতেন না; আবার প্রয়োজনীয় বায়োমেট্রিক নিবন্ধন না থাকায় অন্য যাত্রীরাও গেটে গিয়ে আটকে পড়েন। পরিবারের একজন সদস্য এগোতে না পারলে প্রায়ই পুরো পরিবার কর্মী পরিচালিত সারিতে চলে যায়।
যোগ্য হংকংবাসীদের আগেভাগে এইচকে ই-চ্যানেল অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে অভিবাসন বিভাগ উৎসাহিত করেছিল। ব্যুরোর তালিকায় হংকং থেকে বহির্গমনের সময় যোগ্য চ্যানেল, স্বয়ংসেবা কিয়স্ক এবং নিবন্ধন কার্যালয়ের মাধ্যমে নিবন্ধনের ব্যবস্থাও রয়েছে। রবিবারের ভিড়ে গেটে এসে যাত্রীদের এসব ধাপ শিখতে হলে কী ধরনের বাস্তব অসুবিধা হয়, তা স্পষ্ট হয়েছে।
কর্মকর্তাদের প্রতিশ্রুতি এবং আইনপ্রণেতাদের পরিবর্তনের দাবি
নিরাপত্তাসচিব ক্রিস তাং বলেন, চালুর প্রথম সপ্তাহ ও ছুটির দিনের জন্য কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্ত কর্মী রেখেছিল এবং যাত্রী চলাচলের চাপ যাচাইয়ে পরীক্ষা চালিয়েছিল। অপেক্ষা ১৫ মিনিটে পৌঁছালে সব কাউন্টার খোলার কথা ছিল, যাতে অপেক্ষার সময় আবার পাঁচ মিনিটের কাছাকাছি নামিয়ে আনা যায়।
তবে যাত্রীরা জানান, ভিড় বাড়লেও হাতে পরিচালিত কিছু চ্যানেল বন্ধ ছিল। সরকারের নথিভুক্ত সর্বোচ্চ ৭৫ মিনিট অপেক্ষা এবং শিশুসন্তানসহ এক পরিবারের প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষার বিবরণ এ পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
চং বলেন, সরকার বড় ধরনের মহড়ায় ২০ হাজার সরকারি কর্মচারীকে কাজে লাগিয়েছিল। তবে অল্পবয়সী শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে পরীক্ষা না হওয়ায় ছুটির দিনে নানা বয়সের যাত্রী নিয়ে যে সমস্যা দেখা দিতে পারে, তা বাদ পড়ে গেছে বলে তিনি মনে করেন। গেটে পৌঁছানোর আগেই যাত্রীদের সহায়তায় আরও কর্মী নিয়োগ এবং স্পষ্টতর ঘোষণা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রাউন্ডটেবিলের আহ্বায়ক মাইকেল তিয়েন ৩০টি হাতে পরিচালিত চ্যানেলকে নথির ধরন অনুযায়ী ভাগ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁর প্রস্তাবে প্রায় পাঁচটি চ্যানেল বিদেশি বা হংকং বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল (এসএআর) পাসপোর্টধারীদের জন্য এবং প্রায় ২৫টি কেবল হংকং এসএআর পাসপোর্টধারীদের জন্য রাখার কথা বলা হয়েছে। তিনি বলেন, মূল ভূখণ্ডে প্রক্রিয়াকরণের সময়ের পার্থক্যের কারণে বিদেশি পাসপোর্টধারীদের সঙ্গে একই সারিতে থাকা পরিবারগুলোর সময় বেশি লাগছে।
তিয়েন জানান, সরকার প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করতে রাজি হয়েছে। এটি কবে বাস্তবায়িত হবে তা জানানো হয়নি। তাঁর পরিকল্পনাটি ৩০টি হাতে পরিচালিত চ্যানেলের বণ্টন নিয়ে; আর নিরাপত্তা ব্যুরোর হিসাবে পুরো স্থাপনাটিতে প্রচলিত হাতে পরিচালিত কাউন্টার রয়েছে ৬৮টি।
পরিবহন সংযোগে সুবিধার পাশাপাশি তৈরি হয়েছে নতুন bottleneck
হুয়াংগাং ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে এবং কিছু যাত্রী সরাসরি বাসে সেখানে পৌঁছানোর সুবিধার কথা বলেছেন। শনিবারের যাত্রী চেউং বলেন, বাস থেকে ট্রেনে বদল করতে না হওয়ায় সময় বেঁচেছে এবং প্রতিবার যাতায়াতে ২০ হংকং ডলারেরও বেশি খরচ কমেছে।
বন্ধুদের সঙ্গে উত্তরে যাওয়া চ্যান পদবির আরেক নারী ইউয়েন লং প্লাজা থেকে সহজ যাত্রার কথা বলেন:
"আমরা ইউয়েন লং প্লাজা থেকে এসেছি। যাত্রায় ২০ থেকে ২৫ মিনিট লেগেছে। খুবই সুবিধাজনক," তিনি বলেন।
চ্যান আরও বলেন, শনিবার পারাপার ছিল নির্বিঘ্ন এবং ভিড়ও তেমন ছিল না। কোয়াই ফং থেকে আসা অন্য যাত্রীরা জানান, বাসে প্রায় ৪০ মিনিট লেগেছে এবং অভিবাসন ছাড়পত্র পেতে সময় লেগেছে মাত্র কয়েক মিনিট। সেদিন সকালে কাস্টমস অ্যান্ড এক্সাইজ কমিশনার চ্যান চি-তাত কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং যাত্রীদের সহায়তায় কর্মকর্তা মোতায়েন ছিলেন।
পরিবহন বিভাগ চালুর জন্য পাঁচটি ফ্র্যাঞ্চাইজড বাসরুট ও তিনটি সবুজ মিনিবাস রুটের ব্যবস্থা সমন্বয় করেছিল। সিটিবাসের বি১৩ রুটে চালুর প্রথম দিনের যাত্রা শুরু হয় ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটে; অন্য রুটগুলোর প্রথম বাস ছাড়ে সকাল ৫টা ৩০ মিনিট থেকে ৬টার মধ্যে। মং কক, ইয়াউ চিম, কুন টং, ওয়ান চাই ও ছুয়েন ওয়ানগামী পাঁচটি স্বল্প দূরত্বের কোচ রুটও নতুন বন্দরে স্থানান্তরিত হয়।
যাত্রীদের অভিযোগ শুধু অভিবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে ছিল না। তাঁরা দীর্ঘ এসকেলেটরপথ, তখনও না খোলা দোকান ও রেস্তোরাঁ, আশপাশে কম পার্কিংয়ের জায়গা, রাইড-হেইলিং গাড়ি ওঠানামার সীমিত ব্যবস্থা এবং শাটলের ভাড়া না কমার কথা বলেন।
রবিবার শেনচেন মেট্রোর হুয়াংগাং চেকপয়েন্ট স্টেশনেও ভিড় অব্যাহত ছিল। মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল থাকায় কিছু যাত্রী ভাড়ার কিউআর কোড খুলতে পারেননি। সংযোগ পেতে বাইরে গিয়ে ফিরে এসে তাঁদের আবার নিরাপত্তা তল্লাশি দিতে হয়; টিকিট গেটে পৌঁছানোর আগেই কারও কারও কোডের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।
নতুন ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত তথ্য যেভাবে ব্যবহৃত হয়
যৌথ ব্যবস্থায় ভ্রমণ নথির বিবরণ, মুখমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য ও আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করা হয়। পরিচয় যাচাইয়ে সহায়তার জন্য ব্যবহৃত পরিমাপই এসব বায়োমেট্রিক তথ্য। নিরাপত্তা ব্যুরোর প্রকাশিত ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী, বহির্গমন কর্তৃপক্ষ তথ্য সংগ্রহ করে এবং যাত্রীর সম্মতিতে প্রবেশ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠায়, যাতে প্রবেশের যাচাই করা যায়।
প্রতিটি অভিবাসন কর্তৃপক্ষ সংগৃহীত তথ্য নিজেদের ডেটাবেসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে। ব্যুরো বলছে, দুই পক্ষ নিজেদের ডেটাবেস বা তল্লাশির ফলাফল বিনিময় করে না। তাদের আরও বক্তব্য, স্বাধীন পরামর্শকেরা গোপনীয়তার ঝুঁকি মূল্যায়ন করেছেন এবং হংকংয়ের ব্যক্তিগত তথ্য (গোপনীয়তা) অধ্যাদেশ অনুযায়ী বিভাগগুলো স্বাধীন প্রযুক্তি নিরাপত্তা মূল্যায়ন ও নিরীক্ষা করে।
তাং ২০২৫ সালের জুলাইয়ে বলেছিলেন, হংকংবাসীর তথ্য মূল ভূখণ্ডের কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে না। ব্যুরোর বর্তমান নির্দেশিকায় সংগৃহীত যাত্রীর তথ্য সম্মতির ভিত্তিতে প্রবেশ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। এতে উল্লেখিত সুরক্ষাব্যবস্থার মূল ভিত্তি হলো পৃথক ডেটাবেস ও পৃথক তল্লাশি-ফলাফল।
যানবাহনের লেন দিয়ে চালকদের জন্যও একই ধরনের তিন গেটের প্রক্রিয়া রয়েছে। সমন্বিত যন্ত্রে তাপমাত্রা, নথির তথ্য, মুখমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য ও আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে অভিবাসন, শুল্ক ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের যাচাই করা হয়। ব্যক্তিগত গাড়ি ও কোচে থাকা সাধারণ যাত্রীদের যাত্রী-ছাড়পত্রের জন্য গাড়ি থেকে নেমে নিজেদের জিনিসপত্র সঙ্গে নিতে হয়।
সক্ষমতা বাড়লেও প্রথম সপ্তাহান্তে অভিজ্ঞতা ছিল অসম
তাংয়ের হিসাব অনুযায়ী, চালুর পর থেকে ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার যাত্রী হুয়াংগাংয়ে যাতায়াত শুরু করেছেন; কাছের লো উ ও লোক মা চাউয়ে যান চলাচল কমেছে ৩ থেকে ৭ শতাংশ। অন্য চেকপয়েন্টগুলো আপাতত বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই জানিয়ে তিনি নতুন বন্দরকে হংকংয়ের পারাপার সক্ষমতার সংযোজন হিসেবে বর্ণনা করেন।
এরিক চ্যান বলেন, হুয়াংগাংয়ে ব্যবস্থা সফলভাবে চালু হলে ধাপে ধাপে অন্যান্য সীমান্ত নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রেও যৌথ ছাড়পত্রব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। ছুটির প্রথম সপ্তাহান্তে যেমন দ্রুত পারাপার হয়েছে, তেমনি দীর্ঘ সারিও দেখা গেছে; সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল রবিবার উত্তরে যাওয়ার ব্যস্ত সময়ে।
করণীয়গুলো স্পষ্ট: যাত্রীরা গেটে পৌঁছানোর আগেই পরিবারগুলোকে সঠিক সারিতে পাঠানো, যোগ্য যাত্রীদের নিবন্ধন সম্পন্ন করতে সহায়তা করা, সারির শেষ মাথা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা এবং বাস থেকে অভিবাসন প্রক্রিয়া হয়ে পরবর্তী পরিবহন পর্যন্ত যাত্রীর চলাচল সমন্বয় করা। শনিবার সন্তুষ্ট যাত্রী এবং রবিবার দেরিতে পৌঁছানো পরিবারগুলোর অভিজ্ঞতা দেখায়, ফলাফল কতটা নির্ভর করে যাত্রীর চাহিদা, যাত্রার দিক এবং নতুন যাচাইব্যবস্থা ব্যবহারের প্রস্তুতির ওপর।
মূল বিষয়গুলো
- হুয়াংগাং ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর চালু হয় এবং ১৭ অক্টোবর ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি যাত্রী পারাপার করে।
- ১৮ অক্টোবর দুপুর ১টা থেকে ২টার মধ্যে বহির্গমনকারীর সংখ্যা ৯,৭২৮-এ পৌঁছায়, যা আগের পারাপারকেন্দ্রের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ।
- নিরাপত্তা ব্যুরোর হিসাবে সর্বোচ্চ অপেক্ষা ছিল ৭৫ মিনিট; শিশুসন্তানসহ এক যাত্রী প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষার কথা জানান।
- যোগ্য যাত্রীদের জন্য নথি পাঠ করে স্বয়ংক্রিয় ছাড়পত্রের ন্যূনতম বয়স সাত বছর; মুখমণ্ডল স্ক্যান করে প্রবেশের ন্যূনতম বয়স ১৪।
- মুখমণ্ডল স্ক্যানের ছাড়পত্র ব্যবহার করলেও বৈধ ভ্রমণ নথি সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক।
- অপেক্ষার সময় ১৫ মিনিটে পৌঁছালে সব কাউন্টার খোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কর্মকর্তারা। আইনপ্রণেতারা আরও স্পষ্ট নির্দেশনা ও হাতে পরিচালিত সারিতে পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন।
- পৃথক লোক মা চাউ স্পার লাইন রেল পারাপার চালু রয়েছে।






