এক হারেই ৫৭তম জয়
ওডেন্সে ইউক্রেনের পোলিনা বুহরোভাকে ২১-১৩, ২১-১১ ব্যবধানে হারিয়ে ডেনমার্ক ওপেনের শেষ ষোলোতে পৌঁছেছেন আন সে-ইয়ং। ২০২৬ সালে ৫৮ ম্যাচে এটি তার ৫৭তম জয় বলে প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার এই বিশ্ব এক নম্বর খেলোয়াড় আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে সোনা জয়ের পর বছরের নবম শিরোপার লক্ষ্যে খেলছেন।
সূচিপত্র
কোরীয় সময় ১৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী ম্যাচটি এসজেএফ ব্যাংক অ্যারেনায় ৩৬ মিনিটে জিতেছেন বলে জানানো হয়েছে। স্যামসাং লাইফ ইনস্যুরেন্সের ২৪ বছর বয়সী আন টানা পয়েন্টের কয়েকটি ধারায় নিয়ন্ত্রণ নেন এবং নির্ণায়ক গেমের প্রয়োজন ছাড়াই ম্যাচ শেষ করেন।
তবে উদ্বোধনী ম্যাচের প্রতিপক্ষ এবং টুর্নামেন্টে এগিয়ে যাওয়ার পথ নিয়ে বড় ধরনের অসংগতি রয়েছে। ব্যাডমিন্টন ওয়ার্ল্ড ফেডারেশনের সরকারি টুর্নামেন্ট ড্রয়ে প্রথম রাউন্ডে আন-এর প্রতিপক্ষ হিসেবে ভারতের পি.ভি. সিন্ধুর নাম রয়েছে, অথচ ম্যাচের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বুহরোভার কথা। প্রকাশিত ড্রতে সম্ভাব্য কয়েকজন প্রতিপক্ষের অবস্থানও ম্যাচের প্রতিবেদনে বর্ণিত অবস্থানের সঙ্গে মেলে না।
বিডব্লিউএফের নথিতে টুর্নামেন্টের তারিখ ১৩-১৮ অক্টোবর এবং ভেন্যু ওডেন্সে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে আন শীর্ষ বাছাই; বিপরীত অর্ধে দ্বিতীয় বাছাই হিসেবে রয়েছেন চীনের ওয়াং ঝি ই। হালনাগাদ সরকারি ড্র বা ফলাফলের নথি ছাড়া এই অসংগতি মেটানো সম্ভব নয়; ভিন্ন প্রতিপক্ষের কারণও জানানো হয়নি।
প্রতিবেদনে বর্ণিত উদ্বোধনী জয়ের চিত্র
৪১তম র্যাঙ্কধারী বুহরোভার বিপক্ষে আন-এর জয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই গেমেই একই ছক দেখা গেছে: শুরুতে এগিয়ে যাওয়া, এরপর পয়েন্টের ধারায় ব্যবধান বাড়ানো। ব্যাডমিন্টনে সাধারণত দুই গেম জিতলে ম্যাচ জয় নিশ্চিত হয়। প্রতিটি গেম ২১ পয়েন্টে খেলা হয়; তবে শেষের দিকে ব্যবধান কম থাকলে বিশেষ নিয়ম প্রযোজ্য হয়।
প্রথম গেমে শুরুতেই টানা চার পয়েন্ট করেন আন। স্কোর ১৩-১০ হলে জবাবে কোনো পয়েন্ট না দিয়ে তিনি আরও চার পয়েন্ট তুলে ১৭-১০ এগিয়ে যান, এরপর ২১-১৩-তে গেম জেতেন।
দ্বিতীয় গেমে ১১-৭ স্কোরের পর ম্যাচের মোড় আরও স্পষ্টভাবে ঘুরে যায়। পরের পাঁচ পয়েন্ট জিতে ১৬-৭ এগিয়ে যান আন, শেষে গেমটি জেতেন ২১-১১-তে। দুই গেম মিলিয়ে প্রতিবেদনে তার পয়েন্ট ৪২, আর বুহরোভার ২৪; ব্যবধান ১৮।
৩৬ মিনিটের এই ম্যাচ টুর্নামেন্টে আন-এর তুলনামূলক সংক্ষিপ্ত সূচনা। নারী এককে শিরোপা জিততে পাঁচটি ম্যাচ জিততে হবে। পরের সপ্তাহে ফ্রেঞ্চ ওপেন শুরু হওয়ায় কোর্টে সময় কম লাগলে অক্টোবরের ব্যস্ত সূচি সামলাতে সুবিধা হতে পারে।
সরকারি ড্রয়ে যা রয়েছে
বিডব্লিউএফের ড্রয়ে প্রথম ম্যাচে আন-এর প্রতিপক্ষ সিন্ধু। পরের জুটিতে রয়েছেন মালয়েশিয়ার কে. লেতশানা ও ডেনমার্কের লাইন ক্রিস্টোফারসেন। ফলে ড্রয়ে আন-এর প্রথম ম্যাচের বিজয়ীর দ্বিতীয় প্রতিপক্ষ হতে পারেন তাঁদের যেকোনো একজন। টুর্নামেন্টের পূর্বরূপেও আন-এর প্রথম প্রতিপক্ষ হিসেবে সিন্ধুর নাম ছিল। সেখানে বলা হয়, আগের ১০ বারের মুখোমুখিতেই জিতেছেন আন।
অন্যদিকে ম্যাচের প্রতিবেদনে আন-এর পরবর্তী নিশ্চিত প্রতিপক্ষ হিসেবে ১২তম র্যাঙ্কধারী ক্রিস্টোফারসেনের কথা বলা হয়েছে। এরপর সম্ভাব্য কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির ইয়োভনে লি বা ভারতের তানভি শর্মার মুখোমুখি হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি নথিতে ইয়োভনে লির নাম নেই; আর শর্মা রয়েছেন জাপানের তোমোকা মিয়াজাকি, নোজোমি ওকুহারা ও নাটসুকি নিদাইরাকে নিয়ে গঠিত অংশে।
এই অবস্থানগুলো গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ড্র থেকে বোঝা যায় কোন রাউন্ডে কারা মুখোমুখি হতে পারেন। প্রকাশিত ড্র অনুযায়ী, কোয়ার্টার ফাইনালে আন-এর সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ মিয়াজাকি। কিন্তু ম্যাচের প্রতিবেদনে তাঁদের সম্ভাব্য মুখোমুখি হওয়ার রাউন্ড হিসেবে সেমিফাইনালের কথা বলা হয়েছে।
আন-এর অর্ধে রয়েছেন থাইল্যান্ডের রাচানক ইন্তানন ও চীনের হান ইউয়ে; তাঁরা যথাক্রমে চতুর্থ ও সপ্তম বাছাই। অন্য অর্ধে রয়েছেন জাপানের আকানে ইয়ামাগুচি, ইন্দোনেশিয়ার পুত্রি কুসুমা ওয়ারদানি ও ওয়াং। তাঁদের কেউ আন-এর মুখোমুখি হলে তা হবে ফাইনালে, যদি দুজনই সেখানে পৌঁছান।
আট শিরোপা এবং ৯৮.২৮ শতাংশ জয়ের হার
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন-এর মৌসুমের ৫৭ জয় ও এক হারে জয়ের হার ৯৮.২৮ শতাংশ। সহজ করে বললে, এই হারে প্রতি ১০০ ম্যাচে তিনি প্রায় ৯৮টিতে জিতেছেন। মার্চে অল ইংল্যান্ড ওপেনের ফাইনালে বিশ্ব দুই নম্বর ওয়াংয়ের কাছে হারই এ মৌসুমে তার একমাত্র পরাজয় বলে জানানো হয়েছে।
মৌসুমের বিবরণ অনুযায়ী, সেই ফাইনালের পর থেকে অপরাজিত রয়েছেন আন। অল ইংল্যান্ডে হারের পর টানা জয়ের সঠিক সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। তার ৫৭ জয়ের হিসাবে ওই হারের আগের ম্যাচগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
২০২৬ সালে নারী এককে এরই মধ্যে আটটি শিরোপা জিতেছেন আন। আগের মৌসুমে তিনি ১১টি শিরোপা নিয়ে শেষ করেন, যা ম্যাচের প্রতিবেদনে নারী এককের রেকর্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আরেকটি ডেনমার্ক ওপেন শিরোপা জিতলে তার শিরোপা হবে নয়টি, ওই সংখ্যার চেয়ে দুটি কম।
ডেনমার্ক ও ফ্রেঞ্চ ওপেন দুটিই জিতলে তার শিরোপা হবে ১০টি। তাতে ইউরোপের এই পর্বটি মৌসুমে সুনির্দিষ্ট গুরুত্ব পাবে: দুই টুর্নামেন্টে জিতলে গত বছরের মোট শিরোপা সংখ্যার এক ধাপ দূরে থাকবেন তিনি। তবে দুই প্রতিযোগিতাতেই নিজ নিজ ড্র পেরিয়ে এগোতে হবে।
ওডেন্সে চোট, হার ও সাফল্যের স্মৃতি
গত বছরের ফাইনালে ওয়াংকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো টুর্নামেন্ট জিতে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ডেনমার্কে ফিরেছেন আন। এর আগে দুটি ফাইনালে উঠেও হতাশ হতে হয়েছিল তাকে।
২০২১ সালে ইয়ামাগুচির বিপক্ষে ফাইনালে চোট পেয়ে অবসর নেন আন। ২০২৪ সালে আবার শিরোপার লড়াইয়ে উঠলেও দুই গেমে ওয়াংয়ের কাছে হারেন। ২০২৫ সালে ওয়াংকে হারিয়ে আগের ফাইনালের ফল উল্টে দেন এবং প্রথম ডেনমার্ক ওপেন ট্রফি জেতেন।
এই টুর্নামেন্টে তার সাম্প্রতিক ইতিহাস এ বছরের অভিযানকে প্রেক্ষাপট দেয়:
- ২০২১: আকানে ইয়ামাগুচির বিপক্ষে ফাইনালে চোট পেয়ে অবসর নেন আন।
- ২০২৪: ওয়াং ঝি ইর কাছে হেরে রানার্সআপ হন।
- ২০২৫: ফাইনালে ওয়াংকে হারিয়ে ডেনমার্ক ওপেন চ্যাম্পিয়ন হন।
- মার্চ ২০২৬: অল ইংল্যান্ড ওপেনের ফাইনালে ওয়াং আনকে হারান; এ মৌসুমে এটিই তার একমাত্র পরাজয় বলে জানানো হয়েছে।
- ১৩-১৮ অক্টোবর ২০২৬: ওডেন্সে অনুষ্ঠিত হবে ডেনমার্ক ওপেন।
- ২০ অক্টোবর ২০২৬: শুরু হওয়ার কথা ফ্রেঞ্চ ওপেনের।
আন-এর সঙ্গে আরেকবার মুখোমুখি হতে চান মিয়াজাকি
বিশ্ব সাত নম্বর ও ডেনমার্ক ওপেনের ষষ্ঠ বাছাই মিয়াজাকি ১৩ অক্টোবর ভিয়েতনামের নগুয়েন থুই লিনকে ২১-১৭, ২১-১৭ ব্যবধানে হারিয়েছেন বলে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে তার পরবর্তী প্রতিপক্ষ হিসেবে স্বদেশি হিনা আকেচির নাম রয়েছে। এরপর সম্ভাব্য কোয়ার্টার ফাইনালে ওকুহারা বা তাইওয়ানের চিউ পিন-চিয়ানের মুখোমুখি হতে পারেন তিনি।
ডেনমার্ক ওপেনে তাঁদের আগের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা আন-এর সঙ্গে সম্ভাব্য ম্যাচটিকে বিশেষ আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ২০২৫ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে প্রথম গেম ২১-১৬-তে জেতেন মিয়াজাকি। এরপর ঘুরে দাঁড়িয়ে পরের দুই গেম ২১-৯ ও ২১-৬-এ জেতেন আন। প্রথম গেম হারার পর বাকি দুই গেমে মাত্র ১৫ পয়েন্ট দেন তিনি।
টুর্নামেন্টের পূর্বরূপে মিয়াজাকির বিপক্ষে আন-এর ক্যারিয়ার রেকর্ড ৮-০ উল্লেখ করা হয়েছে। ইন্তাননের বিপক্ষে ১৫-১ এবং হানের বিপক্ষে ১০-২ ব্যবধানের সুবিধার কথাও সেখানে রয়েছে। আন-এর অর্ধে তিনজনই বাছাই খেলোয়াড়; তাই শিরোপার শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে তার অবস্থানের ব্যাখ্যা মেলে এসব রেকর্ডে।
আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে নারী দলের ফাইনালে চীনের চেন ইউফেইয়ের কাছে হেরে ডেনমার্কে এসেছেন মিয়াজাকি। ওডেন্সে তার উদ্বোধনী জয় সেই হতাশার পর ছন্দ ফিরে পাওয়ার সুযোগ এনে দিয়েছে। তবে আন-এর সঙ্গে সম্ভাব্য ম্যাচটি কোন রাউন্ডে হবে, তা নির্ভর করছে টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত ড্রয়ের ওপর।
টুর্নামেন্টের মানোন্নয়নের আগে ব্যস্ত ইউরোপ সফর
এশিয়ান গেমসের জন্য ওয়ার্ল্ড ট্যুর সূচিতে বিরতির পর শুরু হচ্ছে ডেনমার্ক ওপেন। ইউরোপ সফরে আন আসছেন বর্তমান অলিম্পিক ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে; এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সদ্য জেতা এশিয়ান গেমসের শিরোপা। আরেকটি শিরোপার লক্ষ্যে তার অভিযানে তাই বাড়তি নজর রয়েছে।
অক্টোবরে টানা চারটি ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার মধ্যে ওডেন্স দ্বিতীয়, এর আগে ফিনল্যান্ডে আর্কটিক ওপেন এবং পরে ফ্রেঞ্চ ওপেন। এক টুর্নামেন্ট থেকে অন্যটিতে যাতায়াতকারী খেলোয়াড়দের জন্য এই সূচিতে টানা প্রতিযোগিতার পাশাপাশি ইভেন্টগুলোর মাঝে বিশ্রামের সময়ও সীমিত।
পুরুষ এককের শীর্ষ বাছাই, থাইল্যান্ডের কুনলাভুত ভিতিদসার্নও এশিয়ান গেমস চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এসেছেন। আর্কটিক ওপেনে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে তিনি ওয়ার্ল্ড ট্যুরে ফিরেছেন। ওডেন্সে ড্র অনুযায়ী তার প্রতিপক্ষ ডেনমার্কের রাসমুস গেমকে। আগের সাত মুখোমুখিতে চারবার জিতেছিলেন কুনলাভুত।
এ মৌসুমে ডেনমার্ক ওপেন একটি সুপার ৭৫০ টুর্নামেন্ট। বিডব্লিউএফ ওয়ার্ল্ড ট্যুরের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে ইভেন্টটির অবস্থান বোঝায় এই মর্যাদা। ২০২৭ সালে এটি সুপার ১০০০ টুর্নামেন্টে উন্নীত হওয়ার কথা; তখন ওয়ার্ল্ড ট্যুরের পাঁচটি বৃহত্তম আসরের সঙ্গে যুক্ত হবে এটি।
আন-এর তাৎক্ষণিক লক্ষ্য গত বছর প্রথম জেতা শিরোপাটি ধরে রাখা। প্রতিবেদনে উল্লেখিত উদ্বোধনী ম্যাচের স্কোর ও মৌসুমের রেকর্ড অসাধারণ ধারাবাহিকতার ছবি তুলে ধরে। তবে সরকারি ড্রয়ে শিরোপা ধরে রেখে আরেকটি ফাইনালে পৌঁছানোর পথে থাকা প্রতিপক্ষদের ভিন্ন চিত্র দেখা যায়।
মূল বিষয়গুলো
- ৩৬ মিনিটে পোলিনা বুহরোভাকে ২১-১৩, ২১-১১ ব্যবধানে হারিয়ে ডেনমার্ক ওপেনের শেষ ষোলোতে উঠেছেন বলে জানানো হয়েছে আন সে-ইয়ংয়ের বিষয়ে।
- বিডব্লিউএফের সরকারি ড্রয়ে আন-এর প্রথম প্রতিপক্ষ হিসেবে পি.ভি. সিন্ধুর নাম রয়েছে; পরের ম্যাচের জুটির ক্ষেত্রেও ম্যাচের প্রতিবেদনের সঙ্গে অমিল আছে।
- প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে আন-এর জয়-পরাজয়ের রেকর্ড ৫৭-১, জয়ের হার ৯৮.২৮ শতাংশ।
- এ মৌসুমে আটটি শিরোপা জিতেছেন তিনি। ২০২৫ সালে প্রথম জেতা ডেনমার্ক ওপেন শিরোপা এবার ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।
- ওডেন্সে ১৩-১৮ অক্টোবর হবে টুর্নামেন্টটি; ২০ অক্টোবর শুরু হওয়ার কথা ফ্রেঞ্চ ওপেনের।
- ২০২৭ সালে ডেনমার্ক ওপেনের মর্যাদা সুপার ৭৫০ থেকে সুপার ১০০০-তে উন্নীত হওয়ার কথা।






