তিন জেলায় বিতরণ ১৮৪.৮৬ মিলিয়ন রুপি
রাসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিংয়ে ভোতেকোশি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪,১০৮ পরিবারকে ৪৫ হাজার রুপি করে দিয়েছে নেপাল। আরও প্রায় ১,৪০০ পরিবারের তথ্য যাচাই চলছে; তাদের অর্থ দেওয়ার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির দেওয়া সহায়তার আওতায় এ পর্যন্ত মোট ১৮৪.৮৬ মিলিয়ন রুপি বিতরণ করা হয়েছে।
সূচিপত্র
- তিন জেলায় বিতরণ ১৮৪.৮৬ মিলিয়ন রুপি
- সহায়তার আওতায় যা রয়েছে
- পরিবারের তথ্য যাচাই কেন জরুরি
- আগস্ট থেকে অক্টোবরে গড়ানো পুনরুদ্ধার কার্যক্রম
- সহায়তার পেছনে ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপ্তি
- তাঁবুতে থাকা পরিবারগুলোর কাছে আশ্রয়ই প্রথম
- চার জেলায় আবাসন পরিকল্পনা
- শিক্ষা, শোক ও ত্রাণ পাওয়ার সুযোগ
- নগদ সহায়তার বাইরেও রেড ক্রসের সহায়তা
- মূল বিষয়গুলো
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রিপরিষদ জানিয়েছে, স্থানীয় সরকারগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে একক জানালা পদ্ধতিতে অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, একই সহায়তা যেন দুবার দেওয়া না হয় এবং অন্য কোনো যোগ্য পরিবার যেন বঞ্চিত না থাকে, তা নিশ্চিত করতে সংস্থাগুলো একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিবার শনাক্ত ও অর্থ বিতরণে সমন্বয় করছে।
এ বিতরণ ১১টি স্থানীয় সরকার এলাকায় করা হয়েছে: রাসুয়ায় পাঁচটি, নুয়াকোটে চারটি এবং ধাদিংয়ে দুটি। কর্মকর্তারা বলেছেন, যাচাই শেষ হলে ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে বাকি পরিবারগুলোকে অর্থ দেওয়ার লক্ষ্য ছিল তাঁদের।
বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো যখন আবাসনের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার মুখে, তখন এই নগদ সহায়তা পৌঁছেছে। জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রধান ধর্ম রাজ উপ্রেতি ছয় মাসের মধ্যে অস্থায়ী আশ্রয় এবং তিন বছরের মধ্যে স্থায়ী ঘর নির্মাণের লক্ষ্য জানিয়েছেন। নুয়াকোটে দশাইন উৎসব এলেও পরিবারগুলো তাঁবুতেই ছিল; তাদের কেউ কেউ বলেছেন, খাবারের চেয়ে আশ্রয়ই এখন সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন।
সহায়তার আওতায় যা রয়েছে
উপ্রেতি বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পাঁচ মাসের জন্য মাসে ১৫ হাজার রুপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তিনি আগামী তিন মাসের জন্য ৪৫ হাজার রুপির সহায়তার কথাও উল্লেখ করেছেন। ঘোষিত মাসিক হার অনুযায়ী, ৪৫ হাজার রুপি হলো তিন মাসের মৌলিক সহায়তা।
পাঁচ মাসের পুরো সময় মৌলিক সহায়তা পাওয়া একটি পরিবার মোট ৭৫ হাজার রুপি পাবে। ঘোষিত ব্যবস্থায় চারজনের বেশি সদস্য থাকা পরিবারগুলো অতিরিক্ত প্রত্যেক সদস্যের জন্য আরও ২,০০০ রুপি পাবে।
প্রায় ১,৪০০ পরিবারকে বাকি অর্থ দিতে হলে প্রত্যেককে ৪৫ হাজার রুপি হিসাবে আরও ৬৩ মিলিয়ন রুপি প্রয়োজন হবে। ইতিমধ্যে বিতরণ করা অর্থের সঙ্গে তা যোগ হলে এ দফায় প্রায় ৫,৫০৮ পরিবারকে মোট আনুমানিক ২৪৭.৮৬ মিলিয়ন রুপি দেওয়া হবে।
তাই তাৎক্ষণিক কাজটি বেশ বড়: বাকি পরিবারগুলোর নথি যাচাই করে অর্থ পৌঁছে দেওয়া। বৃহত্তর পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে আবাসন, স্কুল ও স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার এবং বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী নিরাপদে কোথায় বসবাস করতে পারে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্তও প্রয়োজন।
পরিবারের তথ্য যাচাই কেন জরুরি
৯ অক্টোবর কেন্দ্রীয় ও জেলা বর্ষা প্রতিক্রিয়া কমান্ড পোস্টগুলোর যৌথ সভায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার শনাক্ত ও যাচাইয়ের কাজ দ্রুত করার সিদ্ধান্ত হয়। নগদ বিতরণের আওতাভুক্ত তিন জেলার কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সাড়াদান কাঠামোর প্রতিনিধিরাও সভায় অংশ নেন।
সরকার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে ২০২৪ সালের দুর্যোগ-সংবেদনশীল সামাজিক নিরাপত্তা ও ত্রাণ বিতরণ মানদণ্ড অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে; নেপালি বর্ষপঞ্জিতে এটি ২০৮১ সালের মানদণ্ড হিসেবে চিহ্নিত। একই অর্থ যেন একাধিকবার দেওয়া না হয় এবং যোগ্য প্রতিটি পরিবার যেন সহায়তা পায়, তা নিশ্চিত করাই এ নির্দেশনার লক্ষ্য।
রেড ক্রস ও অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীরাও নগদ সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ জানিয়েছে। সমন্বয় জরুরি, কারণ একই এলাকায় একাধিক সংস্থা পরিবারগুলোকে সহায়তা দিতে পারে, আর বাস্তুচ্যুত বাসিন্দারা এখন নিজ জেলার বাইরেও বসবাস করতে পারেন।
নুয়াকোটে প্রশাসনিক এই চ্যালেঞ্জটি স্পষ্ট। রাসুয়া থেকে বাস্তুচ্যুত লোকজন সেখানে থাকছেন, তবে নুয়াকোটের প্রধান জেলা কর্মকর্তা শম্ভু প্রসাদ রেগমি বলেছেন, তাঁদের সরকারি নথিপত্রের কাজ দেখছে রাসুয়া প্রশাসন। তাঁদের সমস্যার সমাধানে এলাকায় রাসুয়ার একটি যোগাযোগ কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে।
আগস্ট থেকে অক্টোবরে গড়ানো পুনরুদ্ধার কার্যক্রম
বন্যা মোকাবিলার কাজ উদ্ধার ও জরুরি আশ্রয় থেকে নগদ সহায়তা এবং পুনর্বাসন পরিকল্পনার দিকে এগিয়েছে। প্রধান তারিখগুলো থেকে বোঝা যায়, কিছু পরিবার কত দীর্ঘ সময় ধরে বাড়ির বাইরে রয়েছে:
- ২৬ আগস্ট: বন্যায় বাসিন্দারা বাস্তুচ্যুত হন। তাঁদের মধ্যে বেত্রাবতীর পরিবারগুলোও ছিল, যারা পরে স্বরদণ্ডায় তাঁবুতে আশ্রয় নেয়।
- ২৬ সেপ্টেম্বর, নেপালি বর্ষপঞ্জিতে আশোজ ১০: সরকারি এক হালনাগাদ তথ্যে উদ্ধার, ত্রাণ ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের প্রথম মাসের বিবরণ দেওয়া হয়।
- ৯ অক্টোবর, নেপালি বর্ষপঞ্জিতে আশোজ ২৩: কেন্দ্রীয় ও জেলা বর্ষা প্রতিক্রিয়া কমান্ড পোস্টগুলো পরিবার শনাক্ত, যাচাই ও পুনরুদ্ধারের কাজ দ্রুত করার বিষয়ে একমত হয়।
- ১৪ অক্টোবর: বেত্রাবতীর প্রায় ২৫টি পরিবার তখনও তাঁবুতে ছিল; কর্মকর্তারা জানান, আবাসনের ব্যবস্থা করার প্রক্রিয়া চলছিল।
অস্থায়ী আবাসনের জন্য ছয় মাস এবং স্থায়ী ঘরের জন্য তিন বছরের লক্ষ্য ঘোষণা করেছে সরকার। এসব স্থানান্তরের কাজ শেষ করার কোনো নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার তারিখ জানানো হয়নি।
সহায়তার পেছনে ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপ্তি
সরকারের সেপ্টেম্বরের ত্রাণ হালনাগাদ তথ্যে ব্যক্তিগত বাড়িঘরের বাইরেও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের বিবরণ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য উদ্ধৃত করে এতে উদ্ধার কার্যক্রমের ওই পর্যায়ে ১,৪৫৩ জনের মৃত্যু, ৫,৫৫০ জন নিখোঁজ এবং ১৩,৭৯৫ জনকে উদ্ধারের কথা জানানো হয়।
একই হালনাগাদ তথ্যে বলা হয়, অনুসন্ধান, উদ্ধার, ত্রাণ ও সংশ্লিষ্ট সেবায় ২০,৪৭৭ জন নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি ও প্রয়োজন নিরূপণে ক্ষতি ও লোকসানের পরিমাণ ৪০৮.২৮ বিলিয়ন রুপির বেশি বলে হিসাব করা হয়। পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনের প্রয়োজন ধরা হয় ৭২৩.৩১৫২ বিলিয়ন রুপি।
দুর্যোগে কী কী ধ্বংস হয়েছে এবং পুনরুদ্ধারে কী প্রয়োজন, তা নিরূপণ করে দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি ও প্রয়োজন মূল্যায়ন। এখানে সরকারের উল্লেখ করা দুটি অঙ্ক অনুযায়ী, আনুমানিক পুনরুদ্ধার ব্যয় নথিভুক্ত ক্ষতি ও লোকসানের প্রায় ১.৭৭ গুণ।
হালনাগাদ তথ্যে ৭,৫৭০টি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিগত বাড়ি, ৪৮টি সরকারি ভবন, ১৮টি স্কুল, সাতটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং ৩০টি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যস্থলের কথা বলা হয়েছে। এতে ৬৯ কিলোমিটার সড়ক, যানবাহন চলাচলের ৩৭টি সেতু—যার মধ্যে ৩৩টি ভেসে গেছে—এবং ৬৮টি ঝুলন্ত সেতুর ক্ষতির কথাও রয়েছে।
মোট ৭৫৯ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার ১৩টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং ২৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার পাঁচটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১,৮০৬ হেক্টর ফসলি জমি, গবাদিপশু ও মাছচাষ, ১৭টি ব্যাংক শাখা এবং ৪,৮০০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জীবন নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা করা পরিবারগুলো তাই আবাসন হারানোর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সেবা ও জীবিকার সংকটেও পড়েছে।
তাঁবুতে থাকা পরিবারগুলোর কাছে আশ্রয়ই প্রথম
১৪ অক্টোবর নুয়াকোটের স্বরদণ্ডায় বেত্রাবতীর প্রায় ২৫টি পরিবার তখনও তাঁবুতে বাস করছিল। বাসিন্দারা খাবার, বাসনপত্র ও রান্নার ব্যবস্থা ভাগাভাগি করে নিচ্ছিলেন। পরিবারের কেউ কেউ স্বরদণ্ডা, বাটার ও কাঠমান্ডুর মধ্যে যাতায়াত করছিলেন।
বিদুর পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বেত্রাবতীর বাসিন্দা নারায়ণমান ডাঙ্গোল ২৬ আগস্ট বাড়ি ছাড়ার পরের পরিস্থিতি বর্ণনা করে বলেন:
দশাইন এসেছে, কিন্তু আমরা এখনও তাঁবুতে। দিনে ভেতরে খুব গরম থাকে, আর রাতে শিশির পড়ে।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা শশী ডাঙ্গোল বলেন, মজুত খাবার প্রায় ছয় মাস চলতে পারে। পরিবারের সদস্যরা যেন বাড়ি ও জমির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে পারেন, এমন একটি থাকার জায়গাই ছিল তাঁর অগ্রাধিকার।
নগদ সহায়তা সবার আবাসন সমস্যার সমাধান করেনি কেন, তা ব্যাখ্যা করে শশী ডাঙ্গোল বলেন:
আমরা গ্রাম ছেড়ে যেতে পারি না, আর আত্মীয়দের কাছে গিয়ে থাকার মতো জায়গাও নেই। যাঁরা ১৫ হাজার রুপি দিয়ে ঘর ভাড়া নিতে পারেন না, তাঁরা এখনও তাঁবুতে থাকছেন।
রেগমি নিশ্চিত করেছেন, বেত্রাবতীর প্রায় ২৫টি পরিবার তখনও তাঁবুতে ছিল। তিনি বলেন, রাসুয়া থেকে বাস্তুচ্যুত ৩৮০ জনের বেশি মানুষও বিদুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে তাঁবুতে থাকছিলেন। সেখানে কর্তৃপক্ষ ত্রাণসামগ্রী ও আশ্রয়ের উপকরণের ব্যবস্থা করেছিল।
জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, ১৫ হাজার রুপি সহায়তা পাওয়া বেশির ভাগ মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে নিজেদের মতো থাকার ব্যবস্থা করেছেন। পুনর্বাসন প্যাকেজের অপেক্ষায় বেত্রাবতীর কিছু বাসিন্দা ওই অর্থ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
চার জেলায় আবাসন পরিকল্পনা
উপ্রেতি বলেছেন, স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করার আগে রাসুয়া, নুয়াকোট, গোরখা ও ধাদিংয়ের ৫,১১৬টি পরিবারের জন্য অস্থায়ী আবাসন তৈরি করা হবে। এ আবাসন কর্মসূচি চার জেলা জুড়ে, আর ঘোষিত ৪৫ হাজার রুপি বিতরণ তিন জেলায়।
পরিবারগুলো কোথায় থাকবে এবং রাসুয়া থেকে বাস্তুচ্যুত লোকজন সেখানে ফিরবেন নাকি নুয়াকোটেই থাকবেন, তা বাস্তব বিবেচনার বিষয়। রেগমি বলেন, এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। রাসুয়ার প্রধান জেলা কর্মকর্তা কমল প্রসাদ পাণ্ডে বলেন, স্থানীয় সরকারগুলো সম্ভাব্য পুনর্বাসনস্থানের প্রস্তাব দিয়েছে এবং অস্থায়ী ও স্থায়ী আবাসনের প্রক্রিয়া চলছে।
রাসুয়ার পাঁচটি আশ্রয়কেন্দ্রে তখনও ২১৮ জন ছিলেন। কেন্দ্রগুলো ছিল সিডস, ভিমসেনস্থান মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কোমেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, লিংলিং কানিগ ছোলিং মঠ এবং গণেশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।
প্রকৌশল ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সঞ্জয় উপ্রেতি বলেন, পুনর্বাসনে প্রকৌশল ও দুর্যোগের ঝুঁকির পাশাপাশি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রয়োজনও বিবেচনায় নিতে হবে। বেত্রাবতীর বাসিন্দাদের উদ্বেগে বিষয়টি স্পষ্ট: নতুন বাড়ি এমন হতে হবে, যা পরিবারের জীবিকা নির্বাহ এবং সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার উপযোগী।
শিক্ষা, শোক ও ত্রাণ পাওয়ার সুযোগ
টিমুরের নেপাল রাষ্ট্রীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফুরবু দর্জে বলেন, স্কুলটির ১০ জন শিক্ষার্থী নিখোঁজ এবং ভবনটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। কীভাবে ক্লাস চলবে এবং শিক্ষার পরিবেশ কেমন হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তার কথাও তিনি জানান।
পাণ্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, নীলকণ্ঠ মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে শিক্ষার্থীদের হোস্টেলে রূপান্তর করা হয়েছে; তাদের মধ্যে বন্যায় বাস্তুচ্যুত শিশুরাও রয়েছে। দশাইনের পর বাস্তুচ্যুত বাসিন্দারা কোথায় থাকবেন, সে বিষয়ে তিনি যখন ব্যবস্থার কথা জানান, তখনও আলোচনা চলছিল।
টিমুরের বাসিন্দা ছেদিন দোলমা বলেন, বন্যার পরও মানুষ আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছেন। আরেক বাসিন্দা নামগিয়াল ঘালে পুরোপুরি বাস্তুচ্যুত হওয়া এবং কোথায় যাবেন তা নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানান। রাসুয়ার সাংবাদিক নিরাজন পৌডেল বলেন, তাঁর মা-বাবাসহ পরিবারের পাঁচজন সদস্যকে তিনি হারিয়েছেন; দুর্যোগের ৫০ দিন পরও কোনো ত্রাণ পাননি।
নিখোঁজ স্বজন থাকা পরিবারগুলো আইনি ও আর্থিক বাধারও মুখে পড়ছে। প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের মুখপাত্রের তথ্য অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর জারি করা নেপালের মৃত্যু ঘোষণা-সংক্রান্ত সংস্কার দুর্যোগের ক্ষেত্রে অপেক্ষার সময় কমিয়ে ৪৫ দিন করার লক্ষ্য নিয়েছে। এ পরিবর্তন নিয়ে পরবর্তী প্রতিবেদনে নিখোঁজের সংখ্যা ৫,২৮৫ বলা হয়েছে, যা সরকারের সেপ্টেম্বরের হালনাগাদ তথ্যে উল্লেখ করা ৫,৫৫০ জনের চেয়ে কম।
মৃত্যু সনদ থাকলে স্বজনেরা শোককালীন ভাতা চাইতে, বিমার অর্থ দাবি করতে, পেনশন পেতে বা সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন। বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা পেতে নাগরিক নিবন্ধন ও পরিবারের তথ্য যাচাই, দুটিই প্রয়োজনীয় কাজের অংশ।
নগদ সহায়তার বাইরেও রেড ক্রসের সহায়তা
সরকারের সেপ্টেম্বরের হালনাগাদ তথ্যে বলা হয়, নেপাল রেড ক্রস ধাদিংয়ের ১৯৮টি এবং নুয়াকোটের ২৬২টি পরিবারকে নগদ সহায়তা দিয়েছে; মোট ৪৬০টি পরিবার এ সহায়তা পেয়েছে। এতে আরও বলা হয়, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজের দুর্যোগ সাড়াদান জরুরি তহবিল থেকে ১.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুমোদন করা হয়েছে। সংস্থাটির মহাসচিব ও প্রধান নির্বাহী জগন চাপাগাইনের সমন্বয়ের পর এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
তহবিলটি উদ্ধার, আশ্রয়ের উপকরণ, পানীয় জল, স্বাস্থ্যসেবা ও স্যানিটেশনের সামগ্রীসহ তাৎক্ষণিক সাড়াদান কার্যক্রমে সহায়তা করে। রেড ক্রসের দেওয়া পরিসংখ্যান দেখায়, এসব প্রয়োজন বর্তমান নগদ সহায়তার বাইরেও বিস্তৃত।
হালনাগাদ তথ্যে বলা হয়েছে, রেড ক্রসের পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি-সংক্রান্ত সহায়তা পেয়েছে ২,২০০টি পরিবার। মানসিক স্বাস্থ্য বা মনোসামাজিক সহায়তা পেয়েছেন ১,৭১০ জন, আর জরুরি ক্লিনিক সেবা পেয়েছেন ১,২৩৯ জন। দুর্যোগের পর মানসিক চাপ, শোক ও বিপর্যয় সামলাতে মনোসামাজিক সহায়তা মানুষকে সাহায্য করে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, প্রায় ২,০০০ পরিবার খাদ্যসহায়তা পেয়েছে, নিরাপদ স্থানে ১,১৮৯টি শিশুকে সেবা দেওয়া হয়েছে এবং ১৭টি তথ্য ও সহায়তা ডেস্ক চালু করা হয়েছে। বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে প্রায় ৩৫০টি অভিযোগ, প্রশ্ন, অনুরোধ ও পরামর্শ সংগ্রহ করা হয়েছে।
নেপালের পরবর্তী তাৎক্ষণিক অঙ্গীকার হলো যাচাই শেষ করে বাকি প্রায় ১,৪০০ পরিবারকে অর্থ দেওয়া। দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে পরিবারগুলোকে জরুরি আশ্রয় থেকে সরানো, শিক্ষা ও সেবা পুনরুদ্ধার করা এবং ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী আবাসন নিশ্চিত করা।
মূল বিষয়গুলো
- বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সহায়তায় ৪,১০৮টি পরিবারকে ৪৫ হাজার রুপি করে দেওয়া হয়েছে; মোট অর্থের পরিমাণ ১৮৪.৮৬ মিলিয়ন রুপি।
- আরও প্রায় ১,৪০০ পরিবার যাচাই ও অর্থ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
- নগদ সহায়তা বিতরণ রাসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিংয়ের ১১টি স্থানীয় সরকার এলাকায় করা হয়েছে।
- চার জেলার ৫,১১৬টি পরিবারের কর্মসূচির আওতায় সরকার ছয় মাসের মধ্যে অস্থায়ী আবাসন এবং তিন বছরের মধ্যে স্থায়ী ঘরের পরিকল্পনা করেছে।
- নুয়াকোটে বেত্রাবতীর প্রায় ২৫টি পরিবার এবং রাসুয়া থেকে বাস্তুচ্যুত ৩৮০ জনের বেশি মানুষ তাঁবুতে ছিল।
- স্কুল ধ্বংস হওয়া, স্বজন নিখোঁজ এবং জীবিকা ব্যাহত হওয়া পরিবারগুলোর পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনকে এখনও প্রভাবিত করছে।






