নিখোঁজ ৫,২৮৫ জনের পরিবারের জন্য আইনি পরিবর্তন
নেপাল একটি দুর্যোগ অধ্যাদেশ জারি করেছে, যার লক্ষ্য সাধারণত নিখোঁজ ব্যক্তির ক্ষেত্রে মৃত্যুর অনুমান করতে ১২ বছর অপেক্ষার পরিবর্তে ৪৫ দিন পর পরিবারগুলোকে মৃত্যুর আইনি স্বীকৃতি চাওয়ার সুযোগ দেওয়া। ২০২৬ সালের ২৬ আগস্ট ভোতেকোশি ও ত্রিশূলি বন্যায় বিপর্যস্ত সম্প্রদায়গুলোর কয়েক সপ্তাহের আবেদনের পর এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশোধিত হিসাব অনুযায়ী, এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৫,২৮৫ জন।
সূচিপত্র
- নিখোঁজ ৫,২৮৫ জনের পরিবারের জন্য আইনি পরিবর্তন
- অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া করেও মেলেনি আর্থিক সহায়তা
- বিদ্যমান আইন আসলে কী অনুমোদন করে
- স্থানীয় আবেদন থেকে অধ্যাদেশ
- নিবন্ধনের সঙ্গে একাধিক আইন জড়িত
- পরিবারগুলো কী পেতে পারে
- শনাক্তকরণ এখনো আলাদা কাজ
- উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়া নিয়ে পরিবারগুলোর মধ্যে মতভেদ
- পুনরুদ্ধারের ব্যয় ও অমীমাংসিত সিদ্ধান্ত
- মূল বিষয়গুলো
রাসুয়া, নুয়াকোট ও অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত জেলার পরিবারগুলোর জন্য মৃত্যু সনদ নির্ধারণ করতে পারে তারা শোকজনিত সহায়তা পাবে কি না, বিমার দাবি করতে পারবে কি না, পেনশন পাবে কি না অথবা সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারবে কি না। কেউ কেউ পবিত্র কুশ ঘাস দিয়ে প্রতীকী দেহ তৈরি করে এরই মধ্যে হিন্দু অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। তবে শনাক্ত করা দেহ বা অন্য কোনো স্বীকৃত আইনি ভিত্তি ছাড়া মৃত্যুর নিবন্ধন করার ক্ষমতা নেই বলে জানিয়েছে ওয়ার্ড কার্যালয়গুলো।
সর্বশেষ বিবরণে অধ্যাদেশ জারির তারিখ ১০ অক্টোবর বলা হয়েছে এবং এ তথ্যের নিশ্চয়তা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের মুখপাত্র কৃষ্ণ বাহাদুর শাহী। অন্য একটি প্রতিবেদনে রাষ্ট্রপতির ঘোষণার তারিখ ৯ অক্টোবর বলা হয়েছে। উভয় প্রতিবেদনেই অপেক্ষার সময় কমিয়ে প্রায় ৪৫ দিন করার কথা বলা হয়েছে, তবে তাতে এমনটা প্রতিষ্ঠিত হয় না যে সব নিখোঁজ ব্যক্তিকে ইতিমধ্যে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে বা সনদ দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যমান আদালতি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি এই সংস্কারটি বুঝতে হবে। জাতীয় দেওয়ানি বিধি, ২০১৭-এর ৪০(৪) ধারায় দুর্যোগ বা দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ১২ বছর অপেক্ষা না করেও আদালতের মাধ্যমে কাউকে মৃত ঘোষণা করার সুযোগ রয়েছে। তাৎক্ষণিক সমস্যা হলো, শোকে বিপর্যস্ত ও বাস্তুচ্যুত পরিবার এবং স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, এই মাত্রার দুর্যোগে মৃত্যুর স্বীকৃতি পাওয়ার প্রক্রিয়াটি অতিরিক্ত জটিল।
তাই অধ্যাদেশটি অপেক্ষার সময়ের পাশাপাশি প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতাও দূর করার উদ্যোগ। নিবন্ধন কার্যালয়গুলো কীভাবে এটি প্রয়োগ করবে, কী প্রমাণ চাইবে এবং যেসব পরিবার এখনো তাদের স্বজনদের নিখোঁজ হিসেবেই রাখতে চায় তাদের সঙ্গে কীভাবে কাজ করবে, তার ওপর এর বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে।
অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া করেও মেলেনি আর্থিক সহায়তা
রাসুয়ার খালতে এলাকার বন্যা থেকে বেঁচে যাওয়া পূর্ণ ঘালে জানান, তার বাড়ি হারিয়েছে এবং তার বাবা, বড় ছেলে, পুত্রবধূ, ছোট ভাই, দুই নাতনি ও তিন জামাইসহ বহু স্বজন নিখোঁজ রয়েছেন। দেহ উদ্ধার ও মৃত্যু সনদ না থাকায় তিনি সহায়তা পাননি বা যে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া করতে চেয়েছিলেন, তার খরচও জোগাড় করতে পারেননি বলে জানান।
এই আচার কেন তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ, তা ব্যাখ্যা করে ঘালে বলেন:
অন্তত আমাদের ধর্মবিশ্বাস ও ঐতিহ্য অনুযায়ী আচারগুলো পালন করতে চাই। হয়তো এতে তাদের আত্মা শান্তি পাবে।
দেহ উদ্ধার করা সম্ভব না হলে কুশ ঘাস দিয়ে পরিবারগুলো ধর্মীয় আচার পালন করতে পারে। তবে এতে নিজে থেকে দেওয়ানি নিবন্ধনের জন্য মৃত্যুর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয় না। এই পার্থক্যের কারণে কিছু পরিবার ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী শোক পালন করতে পারলেও নিখোঁজ স্বজনদের আর্থিক ও আইনি বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করতে পারছে না।
নুয়াকোটের আঙ্গিতারের সাবিত্রী তামাংয়ের বর্ণনায় বাধাটি ছিল ভিন্ন: তিনি আচার পালন করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সামর্থ্য ছিল না। তার ওয়ার্ড কার্যালয় জানায়, আইনি জটিলতা থাকায় মৃত্যু সনদ ছাড়া আর্থিক সহায়তা দেওয়া সম্ভব নয়।
যেসব পরিবার আচার পালনের খরচ জোগাড় করতে পেরেছে এবং যারা পারেনি, তাদের মধ্যকার ব্যবধান বর্ণনা করে তামাং বলেন:
যাদের কিছু অবশিষ্ট ছিল, তারা ইতিমধ্যে আচার সম্পন্ন করেছে। আমাদের কিছুই নেই।
বিদ্যমান আইন আসলে কী অনুমোদন করে
জাতীয় দেওয়ানি বিধির ৪০ ধারায় বলা হয়েছে, কেউ টানা ১২ বছর অনুপস্থিত থাকলে বা তার কোনো খবর না পাওয়া গেলে, তিনি জীবিত থাকার প্রমাণ না থাকলে তাকে মৃত বলে অনুমান করা যায়। এতে কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে। তাই প্রত্যেক বন্যাদুর্গতকে অনিবার্যভাবে ১২ বছর অপেক্ষা করতে হবে—এমন ধারণা বিভ্রান্তিকর হবে।
৪০(৪) ধারা অনুযায়ী, কেউ নিখোঁজ হওয়ার পর তার কোনো খবর না থাকলে, অথবা দুর্যোগ বা দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে বিশ্বাস করার কারণ থাকলে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আদালতে তাকে মৃত ঘোষণার আবেদন করতে পারেন। অনুমিত মৃত্যুর তারিখ, স্থান, পরিস্থিতি ও ভিত্তিসংক্রান্ত প্রমাণ আদালত পর্যালোচনা করে। দেওয়ানি কার্যবিধিমালা, ২০১৮-এর ৬০ বিধিতে আবেদনের প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রাজু খাডকা ব্যাখ্যা করেন, নিখোঁজ ব্যক্তির সঙ্গে ঘটনাটির যোগসূত্র দেখানো প্রমাণসহ স্বজনেরা জেলা আদালতে আবেদন করতে পারেন। কাজে লাগতে পারে এমন নথির মধ্যে রয়েছে পুলিশি প্রতিবেদন, প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ, ভ্রমণসংক্রান্ত রেকর্ড, সিসিটিভি ফুটেজ ও ফোনের রেকর্ড। কোন প্রমাণ যথেষ্ট বলে বিবেচিত হবে, তা প্রতিটি ঘটনার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।
এরপর আদালতের ঘোষণা সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কার্যালয়ে মৃত্যু নিবন্ধন এবং পরবর্তী সম্পত্তি বা উত্তরাধিকারসংক্রান্ত প্রক্রিয়ার ভিত্তি হতে পারে। ব্যক্তি জীবিত অবস্থায় ফিরে এলে ঘোষণাটি বাতিল করা যায়। সম্পত্তি হস্তান্তর বা অন্যান্য লেনদেনের ফলে সৃষ্ট বিষয়গুলো তখন প্রাসঙ্গিক আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি করতে হবে।
দুর্যোগসংক্রান্ত বিধানের ব্যাখ্যায় প্রতিবেদনগুলোর মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে। সংবিধানবিষয়ক আইন বিশেষজ্ঞ বিপিন অধিকারী বলেন, এই বন্যার মতো দুর্যোগের ক্ষেত্রে ৪০ ধারায় কোনো বিধান নেই। অন্য আইনি ব্যাখ্যায়, ৪০(৪) ধারার বিবরণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, দুর্যোগ ও দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান আদালতি পথের কথা বলা হয়েছে। পার্থক্যটি হলো, আদালতের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ থাকা আর হাজারো ঘটনার ক্ষেত্রে স্থানীয় কার্যালয়গুলো ব্যবহার করতে পারে এমন সরল নিবন্ধনব্যবস্থা থাকা এক বিষয় নয়।
যেসব পরিবার ঘরবাড়ি, নথিপত্র এবং সম্ভাব্য সাক্ষী হারিয়েছে, তাদের জন্য প্রমাণ সংগ্রহ করে আলাদা আলাদা আদালতি আবেদন করাও বড় বোঝা হতে পারে। স্থানীয় কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রতিটি পরিবারকে একা এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে না দিয়ে সরকারকে স্বজনদের অবস্থা প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করা উচিত।
স্থানীয় আবেদন থেকে অধ্যাদেশ
রাসুয়া ও নুয়াকোটের স্থানীয় সরকারগুলো ৯ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখে মৃত্যু নিশ্চিত ও নিবন্ধনের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা চায়। ধাদিং, গোরখা ও অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত জেলার কর্তৃপক্ষও বিষয়টি উত্থাপন করে। তাদের আবেদনে বিমার দাবি এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের সরকারি স্বীকৃতি পাওয়ার জটিলতার কথা বলা হয়।
উত্তরগয়া গ্রামীণ পৌরসভার চেয়ারম্যান মাধব প্রসাদ আরিয়াল বলেন, প্রতিনিধিরা বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীর কাছে তুলেছিলেন। তারা মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অথবা অবিলম্বে আইনি সংশোধন চেয়েছিলেন। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনন্দ কাফলে জানান, চিঠিগুলো পাওয়া গেছে এবং আইনি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলছে।
সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে প্রতিবেদনগুলোতে বর্ণিত ঘটনাক্রমে দেখা যায়, আলোচনা থেকে আইনি পদক্ষেপে কীভাবে অগ্রগতি হয়েছে:
- ২৬ আগস্ট, ২০২৬: রাসুয়া, নুয়াকোট ও আশপাশের এলাকায় বন্যা আঘাত হানে।
- ৯ সেপ্টেম্বর: রাসুয়া ও নুয়াকোটের স্থানীয় সরকারগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ পাঠায়।
- ৫ অক্টোবর: সরকার ৪০ দিনের অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শেষ করে এবং পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনের দিকে মনোযোগ দেওয়ার ঘোষণা দেয়।
- ৬ অক্টোবর: সংসদীয় বিশেষ কমিটির বৈঠকে আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা দ্রুত সংশোধনী আনার বিষয়ে আলোচনা করেন।
- ৭ অক্টোবর: দুর্যোগ অধ্যাদেশের সুপারিশ মন্ত্রিসভায় তোলার খবর প্রকাশিত হয়; প্রস্তাবে অপেক্ষার সময় প্রায় ৪৫ দিন করার কথা ছিল।
- ৯ বা ১০ অক্টোবর: বিভিন্ন প্রতিবেদনে রাষ্ট্রপতির ঘোষণা বা অধ্যাদেশ জারির তারিখ হিসেবে এই দুই তারিখের কথা বলা হয়েছে।
মন্ত্রিসভার সুপারিশ ঘোষণার সময় প্রস্তাবিত পরিবর্তনের ব্যাখ্যা দেন সরকারের মুখপাত্র অস্মিত পোখরেল:
পরিবর্তনটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ১২ বছরের সময় কমিয়ে প্রায় ৪৫ দিন করা হচ্ছে।
সর্বশেষ বিবরণে বলা হয়েছে, অধ্যাদেশটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত নেপালের কয়েকটি আইন, ২০৮৩ বি.এস.-এ সংশোধনী আনছে এবং তা বাস্তবায়ন শুরু হবে। ভূমি ও বনসংক্রান্ত আলাদা প্রস্তাবিত অধ্যাদেশগুলো তখনো রাষ্ট্রপতির বিবেচনাধীন ছিল।
নিবন্ধনের সঙ্গে একাধিক আইন জড়িত
আইন, বিচার ও সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রণালয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা আইন এবং জাতীয় পরিচয়পত্র ও নিবন্ধন আইনকে সংশোধনের অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছে। যুগ্ম সচিব সুভাষ কুমার ভট্টরাই বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের আইনি অবস্থান ও মৃত্যুনিবন্ধনের বিষয়টি সমাধানে মন্ত্রণালয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করছে।
সংসদীয় কমিটিকে ভট্টরাই বলেন, পরিবর্তন আনার কাজ শুরু হয়েছে:
নিখোঁজ নাগরিকদের মৃত্যু ঘোষণা ও নিবন্ধনের জন্য বিদ্যমান আইনি বিধান এখন অপর্যাপ্ত। তাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
আইনমন্ত্রী সোবিতা গৌতমও বলেন, তার মন্ত্রণালয় জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মৃত্যুঘোষণা ও নিবন্ধন নিয়ে আলোচনা করছে। আইনি কাঠামোর প্রাসঙ্গিক অংশ হিসেবে তিনি দেওয়ানি বিধি ও নিবন্ধন আইনকে চিহ্নিত করেন।
এই আলোচনায় দুটি পৃথক ধাপের প্রতিফলন রয়েছে: একজন ব্যক্তি আইনত মৃত কি না তা প্রতিষ্ঠা করা এবং দেওয়ানি নিবন্ধনব্যবস্থায় সেই মৃত্যু নথিভুক্ত করা। অপেক্ষার সময় কমানোর পাশাপাশি ওয়ার্ড কার্যালয়গুলোর জন্য ব্যবহারযোগ্য প্রক্রিয়া থাকতে হবে, তাহলেই পরিবারগুলো সনদ পাবে।
নিজ জেলার বাইরে নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তি কিংবা পুরো পরিবার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাও কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন। নুয়াকোটের প্রধান জেলা কর্মকর্তা শম্ভু প্রসাদ রেগমি বলেন, নিখোঁজের খবর দেওয়ার মতো পরিবারের কোনো নিকট সদস্য না থাকলে কার তথ্যকে নির্ভরযোগ্য ধরা হবে, তা স্পষ্ট নয়। অপেক্ষার সময় বদলালেও এসব প্রশ্নের প্রশাসনিক সমাধান দরকার হবে।
পরিবারগুলো কী পেতে পারে
প্রতিবেদনে উল্লেখিত ত্রাণনীতিতে একটি পরিবারের বন্যায় প্রথম মৃত্যুর জন্য ২ লাখ রুপি এবং একই পরিবারের প্রতিটি অতিরিক্ত মৃত্যুর জন্য ১ লাখ রুপি দেওয়া হয়। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সহায়তা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার রুপি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একটি বিবরণে প্রথম অর্থপ্রদানের পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ৫ রুপি বলা হয়েছে, যা অন্যত্র উল্লেখিত ২ লাখ রুপির অঙ্ক থেকে সামান্য আলাদা।
২ লাখ ও ১ লাখ রুপির অঙ্ক ধরে হিসাব করলে, স্বীকৃত পাঁচটি মৃত্যুর জন্য একটি পরিবার ৬ লাখ রুপি শোকজনিত ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য হবে; এর সঙ্গে আলাদাভাবে প্রযোজ্য অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সহায়তা যুক্ত হতে পারে। নিবন্ধন কেন গুরুত্বপূর্ণ, এই হিসাব তা বোঝায়; তবে কোনো নির্দিষ্ট পরিবারের যোগ্যতা বা অর্থপ্রাপ্তির অবস্থা এটি প্রতিষ্ঠা করে না।
এই অঙ্কগুলো আগের দুর্যোগ-সহায়তার চেয়েও আলাদা। ঘালে স্মরণ করেন, ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের পর সরকার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য প্রতি ক্ষতিগ্রস্তকে ৪০ হাজার রুপি এবং অতিরিক্ত ১ লাখ রুপি ত্রাণ দিয়েছিল। এটি অতীতের অর্থপ্রদান সম্পর্কে তার বর্ণনা, বর্তমান বন্যা-সহায়তার নীতি নয়।
মৃত্যু নিবন্ধনের সঙ্গে পেনশন, সামাজিক সুরক্ষা, বিমা, বিধবা হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি এবং স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির মালিকানার বিষয়ও জড়িত। নিখোঁজ সেনা ও পুলিশ সদস্যদের পরিবারও পেনশন ও বিমা নিয়ে একই ধরনের সমস্যায় পড়েছে। একটি প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, এক বছরের মধ্যে দাবি না জানালে বিমার দাবি করা কঠিন হতে পারে; তবে বিমার শর্ত ও প্রযোজ্য নিয়ম ভিন্ন হতে পারে।
শনাক্তকরণ এখনো আলাদা কাজ
বন্যার পর কয়েক সপ্তাহে হতাহতের হিসাব বদলেছে। আগের একটি বিবরণে ১,৩৯৭টি দেহ উদ্ধারের এবং ৫,১৩০ জনের কোনো খোঁজ না পাওয়ার কথা বলা হয়েছিল। ১৮ সেপ্টেম্বরের এক বিবরণে জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বরাতে ১,৪০৩টি দেহ উদ্ধারের এবং ১০৫টি দেহ পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার হিসাব উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তী হিসাবে নিখোঁজের সংখ্যা ৫,২৮৫। একটি বিবরণে কর্তৃপক্ষের বরাতে অন্তত ১,৪৫৫ জনের মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে, অন্যটিতে ১,৪৫৫টি দেহ উদ্ধারের কথা রয়েছে। পরবর্তী এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ১১২টি দেহ শনাক্ত করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই হিসাবগুলো ভিন্ন ভিন্ন সময়ের এবং কখনো ভিন্ন শ্রেণিতে দেওয়া হয়েছে, তাই এগুলোকে পরস্পরের বদলে ব্যবহার করা উচিত নয়।
একটি প্রতিবেদনে পুলিশ মোট ৩,১৩৯টি ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছিল: দেহ ও দেহাবশেষ থেকে ১,২৮৬টি এবং নিখোঁজদের স্বজনদের কাছ থেকে ১,৮৫৩টি। দেহাবশেষের জিনগত উপাদানের সঙ্গে স্বজনদের নমুনা তুলনা করে পরিচয় শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষা সহায়তা করে। নমুনা সংগ্রহ মানেই মিল শনাক্তের কাজ সম্পন্ন হওয়া নয়।
জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা নেপাল পুলিশের কেন্দ্রীয় ফরেনসিক বিজ্ঞান পরীক্ষাগারকে ৪৮০টি পর্যন্ত নমুনা প্রক্রিয়াকরণে সক্ষম নমুনা নিষ্কাশন কিট দিয়েছে। মহারাজগঞ্জের নেপাল পুলিশ একাডেমিতে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনমন্ত্রী মহাবীর পুনের কাছে কিটগুলো হস্তান্তর করেন জাপানের রাষ্ট্রদূত মায়েদা তোরু। নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পরীক্ষাগারের অনুরোধের পর এই সহায়তা দেওয়া হয়।
দেহ উদ্ধার না হলেও আইনি স্বীকৃতির মাধ্যমে পরিবার জরুরি বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করতে পারে। ফরেনসিক শনাক্তকরণের উদ্দেশ্য আলাদা: কার দেহাবশেষ পাওয়া গেছে তা প্রতিষ্ঠা করা এবং সম্ভব হলে তা স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া।
উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়া নিয়ে পরিবারগুলোর মধ্যে মতভেদ
সরকার ৫ অক্টোবর মূল অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শেষ করে পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনে মনোযোগ দেয়। জাতীয় জরুরি পরিচালনা কেন্দ্রের প্রধান ফনিন্দ্র পাওদেল বলেন, অনুসন্ধান ও পুনর্গঠনের পর্যায়ে যাওয়া হচ্ছে। এর অর্থ, উদ্ধার অভিযান শেষ হলেও দেহাবশেষ খুঁজে পাওয়ার সব চেষ্টা বন্ধ হবে, এমনটা নয়।
আরও জোরালো অনুসন্ধানের দাবিতে পরিবারগুলো বিক্ষোভ ও প্রহর কর্মসূচি পালন করেছিল। আগের উদ্ধার অভিযানে আশা জেগেছিল: ৪ সেপ্টেম্বর ত্রিশূলি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গ থেকে দুই নেপালি শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়, এর দুই দিন পর এক চীনা নাগরিককে পাওয়া যায়।
নদীসংলগ্ন শহরগুলোতে স্বামীর খোঁজ করছিলেন এবং উদ্ধার হওয়া দেহের ছবি দেখছিলেন ঊষা খাত্রী। আরও জোরালো প্রমাণ ছাড়া তাকে মৃত ঘোষণা করার বিরোধিতা করে তিনি বলেন:
হয় তাদের দেহ দিতে হবে, নয়তো আমার স্বামী আর নেই, তার শক্ত প্রমাণ দেখাতে হবে। তারপরই তাকে মৃত ঘোষণা করা যাবে।
পরিবারের পাঁচ সদস্যকে হারানো নিরঞ্জন পাওদেল ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরে বলেন:
এত দিন ও সপ্তাহ পার হওয়ার পর কাউকে জীবিত পাওয়ার আশা সামান্যই, হয়তো একেবারেই নেই। আমরা নিশ্চিত, পরিবারের কেউ বেঁচে নেই। আমরা শুধু এই অধ্যায়ের সমাপ্তি চাই।
নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। রাসুয়ার আপার ত্রিশুলি-১ নির্মাণস্থলে নয়জন দক্ষিণ কোরীয় কর্মীর খোঁজ চলছিল। জনবল সীমিত থাকায় দশাইনের সময় করপোরেট অনুসন্ধান কমিয়ে আনা হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল, তবে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে কিছু খননকাজ চলতে পারে। দেহ, শনাক্তকরণ বা কী ঘটেছে তার পূর্ণ বিবরণ পাওয়ার প্রতিটি পরিবারের প্রয়োজন অধ্যাদেশটি মেটায় না।
পুনরুদ্ধারের ব্যয় ও অমীমাংসিত সিদ্ধান্ত
নেপালের প্রকাশিত ক্ষয়ক্ষতির হিসাবে ৭,৫৭০টি ব্যক্তিগত ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে এবং এতে প্রায় ৩৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিদুর পৌরসভা ৩ হাজারের বেশি ভবনের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব দিয়েছে। বাস্তুচ্যুত হাজারো বাসিন্দা ৩৭টি অস্থায়ী কেন্দ্রে ছিলেন; সেখানে পানীয় জল, পয়োনিষ্কাশন ও রোগের ঝুঁকি তাদের তাৎক্ষণিক দুর্ভোগ আরও বাড়ায়।
পুনর্নির্মাণে ৭২৩ বিলিয়ন রুপি খরচ হবে বলে সরকার হিসাব করেছে। অন্য প্রতিবেদনে পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনের ব্যয় প্রায় ৪.৭৭ বিলিয়ন ডলার বা সর্বোচ্চ ৩.৬ বিলিয়ন পাউন্ড বলা হয়েছে। এগুলো ভিন্ন মুদ্রায় প্রকাশিত অনুমান, যোগ করে হিসাব করার মতো আলাদা ব্যয় নয়।
অক্টোবরে সংসদীয় আলোচনায় নিরাপদ পুনর্গঠন, নিখোঁজদের পরিবারের জন্য আইনি ও আর্থিক সহায়তা, স্বজন হারানো শিশুদের সুরক্ষা এবং আরও নির্ভরযোগ্য বন্যা সতর্কবার্তার বিষয়ও আলোচিত হয়। আইনপ্রণেতারা সড়ক, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের আগে একাধিক ঝুঁকি মূল্যায়নের আহ্বান জানান এবং সম্ভব হলে নদীতীরে নির্মাণের বিকল্প বিবেচনা করতে বলেন।
আগের দুর্যোগে সরকারি পদক্ষেপের নজির রয়েছে। ২০১৪ সালের ২ আগস্ট সিন্ধুপালচকের জুরে ভূমিধসের পর ১৪৫ জন নিখোঁজ বলে জানানো হয়েছিল, আর মাত্র ৩৩টি দেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সরকার বাকি নিখোঁজ ব্যক্তিদের মৃত ঘোষণা করে। ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের পরও প্রায় ১৯৮ জন নিখোঁজ ছিলেন বলে জানানো হয়েছিল।
এখনো তাৎক্ষণিকভাবে অমীমাংসিত বিষয় হলো নতুন অধ্যাদেশটি কীভাবে কার্যকর হবে। সম্পূর্ণ আবেদন-তালিকা, প্রতিটি ঘটনা কে যাচাই করবে, স্বীকৃতির জন্য পরিবারের আবেদন লাগবে কি না, অথবা আন্তজেলা ও বিদেশি নাগরিকদের ঘটনা কীভাবে সামলানো হবে—প্রতিবেদনগুলোতে এসব নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। ওয়ার্ড কার্যালয়গুলো কবে থেকে সনদ দেওয়া শুরু করবে, সেই নির্দিষ্ট তারিখও নেই। অপেক্ষার সময় কমানো একটি বাস্তব পরিবর্তন, তবে আর্থিক সহায়তা বা প্রতিষ্ঠিত আইনি অধিকার পাওয়ার আগে পরিবারগুলোর নিবন্ধনসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত দরকার হবে।
মূল বিষয়গুলো
- নেপাল একটি দুর্যোগ অধ্যাদেশ জারি করেছে; প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এতে মৃত্যুঘোষণার অপেক্ষার সময় ৪৫ দিনে নামবে।
- সংশোধিত হিসাবে ২০২৬ সালের ২৬ আগস্টের বন্যার পর ৫,২৮৫ জন এখনো নিখোঁজ।
- ৪০(৪) ধারায় ১২ বছর স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপেক্ষা না করেও দুর্যোগ ও দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে আদালতের পথ রয়েছে।
- প্রতিবেদনে উল্লেখিত শোকজনিত সহায়তা, বিমার দাবি, পেনশন ও সম্পত্তিসংক্রান্ত প্রক্রিয়ার জন্য মৃত্যু সনদ প্রয়োজন।
- মৃত্যুর আইনি স্বীকৃতির পাশাপাশি ডিএনএ-ভিত্তিক শনাক্তকরণের কাজও চলছে।
- রাষ্ট্রপতির ঘোষণা বা অধ্যাদেশ জারি ৯ অক্টোবর, নাকি ১০ অক্টোবর হয়েছিল, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে ভিন্নতা রয়েছে।
- নিবন্ধনের বিস্তারিত শর্ত এবং বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।






