নতুন সেতুর উদ্বোধনের তারিখ অবশেষে নির্ধারিত
ইয়ালু নদীর ওপর ৩,০২৬ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর চালু হওয়ার কথা রয়েছে। এক দশকেরও বেশি বিলম্বের পর এটি চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে ট্রাক চলাচলের নতুন পথ খুলে দেবে। চার লেনের সেতুটি চীনের লিয়াওনিং প্রদেশের দানদংয়ের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার উত্তর পিয়ংগান প্রদেশের সিনুইজুকে যুক্ত করেছে। প্রতিবেশী দুই দেশের বাণিজ্যে শহর দুটি আগে থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সূচিপত্র
- নতুন সেতুর উদ্বোধনের তারিখ অবশেষে নির্ধারিত
- ২০১৪ সাল থেকে তৈরি সেতুটি কেন অপেক্ষায় ছিল
- চার লেনে পুরোনো পথের চাপ কমতে পারে
- বাণিজ্যিক সুফল আসতে পারে ধীরে ধীরে
- নিষেধাজ্ঞা এখনো বিনিয়োগে বাধা
- যাত্রী চলাচল শুরু হতে পারে ধীরগতিতে
- আরেকটি নতুন সেতু আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়াচ্ছে
- বৃহস্পতিবারের আগে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ
- মূল বিষয়গুলো
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বুধবার জানান, দুই দেশ নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ চালুর বিষয়ে একমত হয়েছে এবং যৌথভাবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করবে। প্রকল্পটিতে চীন প্রায় ২২০ কোটি ইউয়ান বিনিয়োগ করেছে। ২০১৪ সালে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হলেও উত্তর কোরিয়ার অংশে সংযোগ সড়ক ও সীমান্ত অবকাঠামো পিছিয়ে থাকায় এটি অব্যবহৃত ছিল।
মাও বলেন, এই সেতু দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও জনগণের যোগাযোগ বাড়াতে এবং উভয় দেশের বাসিন্দাদের কল্যাণে সহায়তা করবে। উত্তর কোরিয়ার সরকারি নাম গণতান্ত্রিক গণপ্রজাতন্ত্রী কোরিয়ার সঙ্গে চীনের সম্পর্ক বর্ণনা করে তিনি বলেন:
চীন ও ডিপিআরকে নদী ও পর্বত দিয়ে যুক্ত বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী।
শুরুতে সেতুটির প্রধান ব্যবহার হবে পণ্য পরিবহন। উত্তর কোরিয়ায় চীনা পর্যটক দলের ভ্রমণ এবং স্বাভাবিক ভিসা প্রক্রিয়া এখনো চালু হয়নি। ফলে যাত্রী চলাচলের তাৎক্ষণিক সম্ভাবনা সীমিত, যদিও বেইজিং আশা করে, শেষ পর্যন্ত এই সেতু এমন চলাচলেও সহায়তা করবে।
২০১৪ সাল থেকে তৈরি সেতুটি কেন অপেক্ষায় ছিল
২০১৪ সালে সেতুটি চালুর পরিকল্পনা করে চীন নিজেদের অংশে সেতু নির্মাণের পাশাপাশি সংযোগ সড়ক, শুল্ক অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাও তৈরি করেছিল। উত্তর কোরিয়া নির্ধারিত সময়ে এর সঙ্গে যুক্ত সড়ক ও স্থাপনাগুলোর কাজ শেষ করতে পারেনি। ফলে বারবার উদ্বোধন পিছিয়ে যায়।
একটি সীমান্ত সেতুর জন্য নদীর ওপর দিয়ে সড়ক নির্মাণই যথেষ্ট নয়। দুই দেশের দিক থেকেই ট্রাককে সেতুতে পৌঁছানোর ব্যবস্থা থাকতে হয়। পাশাপাশি পণ্য পরীক্ষা, প্রযোজ্য শুল্ক আদায় এবং পারাপারের অনুমতি প্রক্রিয়াকরণের জন্য কর্মকর্তাদের উপযুক্ত স্থান দরকার। দুই প্রান্তে এসব ব্যবস্থা না থাকলে তৈরি সেতুও যে বাণিজ্য বহনের জন্য নির্মিত, তার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে না।
দানদংয়ের বাসিন্দারা আশা করেছিলেন, প্রকল্পটি তাঁদের শহরে ব্যবসা বাড়াবে। দীর্ঘ বিলম্বে জনমনে হতাশা তৈরি হয়। সেতুটি এখন চালুর পথে, যদিও মূল লক্ষ্যমাত্রার ১২ বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে।
দীর্ঘ বিলম্বের পূর্ণ কারণ প্রকাশ করা হয়নি। বছরের পর বছর ধরে আলোচিত সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে সেতুর অবস্থান নিয়ে মতবিরোধ, জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞায় চীনের সমর্থন নিয়ে উত্তেজনা এবং কোভিড-১৯ মহামারির সময় উত্তর কোরিয়ার সীমান্ত বন্ধ রাখা। প্রকল্পটি দীর্ঘদিন আটকে থাকার সময় অসমাপ্ত সড়ক ও সীমান্ত অবকাঠামোকেই বাস্তব বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
চার লেনে পুরোনো পথের চাপ কমতে পারে
দানদং ও সিনুইজুর মধ্যে আগে থেকেই একটি পারাপারের পথ রয়েছে, চীন-কোরিয়া মৈত্রী সেতু। এটি রেল ও সড়ক, দুই ধরনের যান চলাচল বহন করে। তবে সেতুটির সড়ক অংশে একবারে এক দিকের যানবাহনই চলতে পারে। তাই বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাকগুলোকে পালা করে সেতু ব্যবহার করতে হয়।
প্রচলিত হিসাবে, বিদ্যমান সেতু দিয়ে দুই দেশের সরকারি বাণিজ্যের ৭০ শতাংশের বেশি পণ্য পরিবহন হয়। অন্য একটি প্রকাশিত হিসাবে এই অংশ ৯০ শতাংশেরও বেশি। সেতুটির বয়স নিয়েও বিভিন্ন বিবরণ রয়েছে; কোথাও নির্মাণের বছর ১৯৩৭, কোথাও ১৯৪৩ বলা হয়েছে। উভয় হিসাবই ইঙ্গিত দেয়, বিপুল বাণিজ্যের ভার বহন করছে একটি পুরোনো পারাপারের পথ।
নতুন সেতুতে দুই দিকের যান চলাচলের জন্য চারটি সড়ক লেন রয়েছে। পণ্য পরিবহন এই পথে সরিয়ে নিলে পুরোনো সেতুর ওপর চাপ কমতে পারে এবং যান চলাচলের দিক পালা করে বদলানোর প্রয়োজনও হ্রাস পেতে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়ার ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশনের বিশ্লেষক জং উন-ই বলেন, নতুন সেতুটি সম্ভবত কনটেইনার ও ভারী পণ্যবাহী ট্রাকসহ উভয় দিকে সার্বক্ষণিক যান চলাচল সামলাতে সক্ষম। পণ্য কত দ্রুত চলাচল করবে, তা শুল্ক পরীক্ষা ও সংযোগ সড়কগুলোর কার্যক্রমের ওপরও নির্ভর করবে।
দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের উদ্ধৃত পরিসংখ্যানে বৃহত্তর সীমান্ত এলাকায় ১,৪০০ কিলোমিটারের বেশি বিস্তৃত অন্তত ১৭টি সচল সড়ক ও রেল সংযোগের কথা বলা হয়েছে। অন্য প্রকাশিত হিসাবে ১,৩০০ কিলোমিটারের বেশি এলাকাজুড়ে অন্তত ১৫টি সংযোগ রয়েছে। অন্য পথ থাকলেও সেতু উদ্বোধনের বিবরণগুলোতে দানদং ও সিনুইজুকেই প্রধান বাণিজ্যদ্বার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাণিজ্যিক সুফল আসতে পারে ধীরে ধীরে
গত বছর উত্তর কোরিয়ার বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৯৮ শতাংশই ছিল চীনের সঙ্গে। সহজ করে বললে, নথিভুক্ত বাণিজ্যের প্রতি ১০০ এককের মধ্যে প্রায় ৯৮ একক চীনের সঙ্গে বিনিময় হয়েছে; বাকি প্রায় দুই একক গেছে অন্য সব বাণিজ্য অংশীদারের কাছে। তাই এই পথে আরও কার্যকর পারাপারের ব্যবস্থা উত্তর কোরিয়ার বৈদেশিক বাণিজ্যের বড় একটি অংশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সিউলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজির বিশেষজ্ঞ গিউবম কিমের ধারণা, সেতুটি পরিবহন দক্ষতা বাড়াবে এবং ধীরে ধীরে বাণিজ্যকে সহায়তা করবে। তাঁর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, শুরুতে উত্তর কোরিয়ায় চীনা রপ্তানি হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। এর একটি কারণ হতে পারে, বেইজিং পিয়ংইয়ংয়ের স্বার্থ বিবেচনায় রাখবে।
কিম প্রক্রিয়াজাত পণ্য, খাদ্যপণ্য, প্রসাধনী এবং মদ্যপ পানীয়কে উত্তর কোরিয়ার এমন রপ্তানি পণ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যেগুলোর চীনে বিক্রি বাড়তে পারে। বাণিজ্য বাড়ার সাধারণ আশাবাদের তুলনায় এই পণ্যশ্রেণিগুলো সম্ভাব্য ব্যবসার আরও নির্দিষ্ট চিত্র তুলে ধরে।
উত্তর কোরিয়ার উৎপাদকরা তাদের বৃহত্তম বাজারে যাওয়ার জন্য সড়কপথের আরেকটি বিকল্প থেকে লাভবান হতে পারেন। নদীর ওপারের ক্রেতাদের কাছে পণ্য পৌঁছাতে চীনা সরবরাহকারীরাও কম যানজটের একটি পথ পেতে পারেন। ট্রাক চলাচলের সুযোগের পাশাপাশি চাহিদা ও সীমান্ত কার্যক্রমের ওপর বাণিজ্য বৃদ্ধির গতি নির্ভর করবে।
নিষেধাজ্ঞা এখনো বিনিয়োগে বাধা
পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির কারণে উত্তর কোরিয়ার ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা এখনো বলবৎ রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি আগস্টের শেষ দিকে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলেছে, এসব নিষেধাজ্ঞা বড় শিল্প বিনিয়োগের সম্ভাবনা সীমিত করে।
বাণিজ্যের ক্ষেত্রে পরিবহন সক্ষমতা ও বিনিয়োগের অনুমতি আলাদা বিষয়। সেতুটি পণ্য চলাচলের বাস্তব পথ তৈরি করছে, আর নিষেধাজ্ঞা নির্ধারণ করছে কোন লেনদেন ও বিনিয়োগ অনুমোদিত। উত্তর কোরিয়ায় প্রকল্পের কথা ভাবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এখনো এসব বিধিনিষেধের মুখে পড়তে হবে।
ইনস্টিটিউটটির মূল্যায়ন থেকে বোঝা যায়, প্রথম সুফল হিসেবে দ্রুত নতুন কারখানা বা বড় শিল্প প্রকল্প গড়ে ওঠার বদলে বিদ্যমান পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি দেখা যেতে পারে। প্রশস্ত সড়ক পরিচিত যাত্রাকে সহজ করতে পারে, কিন্তু বিনিয়োগের জন্য অর্থায়ন, অনুমতি ও বাণিজ্যিক চাহিদা প্রয়োজন।
যাত্রী চলাচল শুরু হতে পারে ধীরগতিতে
মাওয়ের ঘোষণায় বাণিজ্যের পাশাপাশি জনগণের মধ্যে যোগাযোগের কথাও ছিল। দানদং ও সিনুইজুর মধ্যে সড়ক সেতুটি চালু হলে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক যাত্রার পাশাপাশি ভ্রমণেরও সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে উত্তর কোরিয়ায় চীনা পর্যটক দলের ভ্রমণ এবং ভিসা প্রক্রিয়া এখনো স্বাভাবিক হয়নি। তাই সেতুটি চালুর পরপরই পণ্য পরিবহনই এর বেশি তাৎক্ষণিক ব্যবহার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সড়ক খোলা থাকলেও কোনো দেশে প্রবেশের জন্য ভ্রমণকারীদের অনুমতি লাগে। পর্যটকদের কাছ থেকে লাভের আশায় থাকা দানদংয়ের ব্যবসার জন্য এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ: পণ্য পরিবহনের পথ চালু হলে পরিবহন ও বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানগুলো আগে উপকৃত হতে পারে, পর্যটন ব্যবসায় একই সুযোগ আসবে পরে।
আরেকটি নতুন সেতু আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়াচ্ছে
পরিকল্পিত ইয়ালু নদী সেতু চালুর প্রায় এক মাস আগে তুমেন নদীর ওপর সড়ক সেতু খুলেছে উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়া। রুশ সরকার জানিয়েছে, নতুন সীমান্ত পারাপার পথটি দিনে সর্বোচ্চ ৩০০টি যানবাহন চলাচল সামলাতে পারবে।
তুমেন নদীর সেতুটি প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ; চীনের সঙ্গে নতুন সেতুটির দৈর্ঘ্য তিন কিলোমিটারের একটু বেশি। অর্থাৎ ইয়ালু নদীর সেতুটি প্রায় তিন গুণ দীর্ঘ। রাশিয়ার দেওয়া হিসাবটি দৈনিক যানবাহন ধারণক্ষমতা বোঝায়, আর দৈর্ঘ্যের তুলনা সেতু দুটির আকার তুলে ধরে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিম জং উন রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করেছেন। ইউক্রেনে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধকে সমর্থন করতে তিনি হাজার হাজার সেনা ও প্রচলিত অস্ত্র পাঠিয়েছেন; বিনিময়ে সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা পাওয়ার খবর রয়েছে। নতুন সড়ক সংযোগটি এই সম্পর্কের আরেকটি বাস্তব যোগসূত্র তৈরি করছে।
মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হলেও উত্তর কোরিয়ার প্রধান বাণিজ্য অংশীদার এখনো চীন। ইয়ালু নদীর সেতু চালু হলে এমন একটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগপথ আরও শক্তিশালী হবে, যার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার নথিভুক্ত বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় পুরোটাই হয়। আর তুমেন সেতু রাশিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বাড়াচ্ছে।
কিম বেইজিংয়ের সঙ্গেও উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ নতুন করে জোরদার করেছেন। তিনি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে চীন সফর করেন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ২০২৬ সালের জুনে পিয়ংইয়ং সফর করেন। জুনের শীর্ষ বৈঠকে শি বাণিজ্য, কৃষি, নির্মাণ ও প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিম চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে শীর্ষ কৌশলগত অগ্রাধিকার বলে বর্ণনা করেন।
বৃহস্পতিবারের আগে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ
সীমান্ত সংযোগ অসম্পূর্ণ থাকার বহু বছরের পর এবং সাম্প্রতিক সময়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ নতুন করে জোরদার হওয়ার পর এই উদ্বোধন হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো হলো:
- ২০১৪: নতুন ইয়ালু নদী সেতুর নির্মাণ শেষ হয়, তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী এটি চালু হয়নি।
- সেপ্টেম্বর ২০২৫: কিম জং উন বেইজিং সফর করেন।
- জুন ২০২৬: শি চিনপিং পিয়ংইয়ং সফর করেন এবং কিমের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেন।
- ইয়ালু সেতু চালুর প্রায় এক মাস আগে: উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়া তুমেন নদীর সড়ক সেতু চালু করে।
- বুধবার, ১৪ অক্টোবর: মাও নিং চীন ও উত্তর কোরিয়ার নতুন সীমান্ত পারাপার পথ চালুর সমঝোতার কথা জানান।
- বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর: দুই দেশের যৌথ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করার এবং সেতুটি চালু করার কথা রয়েছে।
প্রথম বাস্তব পরিবর্তন হবে দানদং ও সিনুইজুর মধ্যে আরেকটি সড়কপথ। এর তাৎক্ষণিক গুরুত্ব হলো এমন এক সীমান্ত দিয়ে পণ্য পরিবহনের নতুন সুযোগ তৈরি করা, যেখানে বিদ্যমান সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বাণিজ্যের বেশির ভাগ বহন করছে। তবে শুধু সেতু সম্পন্ন হলেই যাত্রী চলাচল ও বড় বিনিয়োগের বাধাগুলো দূর হবে না।
মূল বিষয়গুলো
- নতুন ইয়ালু নদী সেতু ২০১৪ সালের মূল লক্ষ্যমাত্রার পর ১৫ অক্টোবর চালু হওয়ার কথা রয়েছে।
- ৩,০২৬ মিটার দীর্ঘ সেতুটির চারটি লেন দানদং ও সিনুইজুকে যুক্ত করেছে।
- নির্মাণে চীন প্রায় ২২০ কোটি ইউয়ান বিনিয়োগ করেছে।
- উত্তর কোরিয়ার অংশে অসমাপ্ত সংযোগ সড়ক ও সীমান্ত অবকাঠামোর কারণে সেতুটির ব্যবহার বারবার পিছিয়েছে।
- পুরোনো চীন-কোরিয়া মৈত্রী সেতুর ওপর পণ্য পরিবহনের চাপ কমাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
- গত বছর উত্তর কোরিয়ার বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৯৮ শতাংশ ছিল চীনের সঙ্গে।
- বাণিজ্য ধীরে ধীরে বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে; একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা বড় শিল্প বিনিয়োগ সীমিত করছে।
- চীনা পর্যটক দলের ভ্রমণ ও ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক না হওয়ায় শুরুতে পণ্য পরিবহনই প্রধান হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।






