খরা ত্রাণের আওতায় আরও ৪০ তালুকা
মহারাষ্ট্র সরকার দীপাবলির আগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ব্যাংক হিসাবে সরাসরি ৫,০০০ রুপি পাঠাবে বলে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ। ২০২৬ সালের ১৪ অক্টোবর মুম্বাইয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন। এর আগে সরকার রাজ্যের ৩৫৮টি তালুকার মধ্যে খরাকবলিত তালুকার সংখ্যা বাড়িয়ে ৩০৫ করেছে। ফসলের ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলার মধ্যেই কৃষকদের কাছে অর্থ পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে, কেন্দ্রীয় সহায়তা পাওয়ার প্রত্যাশায় এই অগ্রিম অর্থ দেওয়া হবে।
সূচিপত্র
- খরা ত্রাণের আওতায় আরও ৪০ তালুকা
- ৫,০০০ রুপির অর্থসহায়তার তাৎপর্য
- খরা মোকাবিলার পদক্ষেপ যেভাবে এগিয়েছে
- মাঠপর্যায়ের পরিদর্শনেই নির্ধারিত হবে পরবর্তী ক্ষতিপূরণ
- ত্রাণের ১২টি ব্যবস্থায় যা রয়েছে
- ঋণ আদায়ে বিধিনিষেধ ও শিক্ষার ফিতে ছাড়
- পানীয় জল ও পশুখাদ্যে জরুরি পদক্ষেপ
- কৃষক ও বিরোধী নেতারা কেন আরও সহায়তা চান
- ক্ষতিপূরণের দাবি ও পরবর্তী বিক্ষোভের তারিখ
- মূল তথ্য
আরও ৪০টি তালুকা যুক্ত হওয়ায় খরা ঘোষণার আওতায় এসেছে মোট তালুকার প্রায় ৮৫.২ শতাংশ। আগে ২৬৫টি তালুকা তালিকাভুক্ত থাকায় এই হার ছিল ৭৪ শতাংশ। তালুকা হলো একটি জেলার প্রশাসনিক উপবিভাগ। নতুন করে অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলোতেও এখন রাজ্যের প্রচলিত খরা ত্রাণের ১২টি ব্যবস্থাই কার্যকর হবে। এর আওতায় রয়েছে ফসলি ঋণ পুনর্গঠন, ভূমি রাজস্বে ছাড়, বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত সুবিধা এবং পানীয় জল ও গবাদিপশুর জন্য সহায়তা।
ফড়নবীশ বলেন, আগের ঘোষণায় বাদ পড়া এলাকাগুলোর বিষয়ে অভিযোগ খতিয়ে দেখার পর সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে আনুষ্ঠানিক আদেশ—সম্পূরক সরকারি প্রস্তাব—জারি করা হয়েছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন:
প্রথমে ২৬৫টি তালুকায় খরা ঘোষণা করা হয়েছিল। অভিযোগ মূল্যায়নের পর আরও ৪০টি তালুকা যুক্ত হয়েছে, ফলে মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০৫। রাজ্যের প্রচলিত খরা ত্রাণের ১২টি ব্যবস্থাই এখন এই তালুকাগুলোতে প্রযোজ্য হবে।
ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ এবং আরও বেশি সহায়তার দাবির মধ্যে এ ঘোষণা এল। কেন্দ্রীয় মূল্যায়নকারী ১১ সদস্যের একটি দল ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখেছে; কিছু এলাকায় ফলন একেবারেই হয়নি। কৃষক সংগঠন ও বিরোধী নেতাদের বক্তব্য, চাষের খরচ, পরিবারের প্রয়োজন এবং বকেয়া ঋণ মেটাতে ৫,০০০ রুপি যথেষ্ট নয়।
৫,০০০ রুপির অর্থসহায়তার তাৎপর্য
ফড়নবীশ এই অর্থকে উৎসবের আগে তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কেন্দ্রীয় সহায়তা এলে আরও সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক মূল্যায়ন ও কেন্দ্রীয় মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় সময় লাগবে এবং আইনগতভাবে দীপাবলির আগে তা শেষ করা সম্ভব নয়।
তাই সরকার দুটি পথে এগোচ্ছে: জরুরি প্রয়োজন মেটাতে প্রাথমিকভাবে ব্যাংকে অর্থ পাঠানো এবং ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন ও পরবর্তী সহায়তা নির্ধারণের দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। মহারাষ্ট্রের অন্তর্বর্তী আবেদনে কেন্দ্রের কাছে খরা ত্রাণ হিসেবে ১৭,৫০০ কোটি রুপি চাওয়া হয়েছে। এটি চাওয়া অর্থের পরিমাণ; পরবর্তী ধাপে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি, পশুখাদ্যের ঘাটতি ও সম্ভাব্য পানির সংকটের বিবরণসহ একটি বিস্তারিত স্মারকলিপি তৈরি করা হবে।
আগের ঘোষণাগুলোতে হেক্টরপ্রতি হিসাব করে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, অর্থাৎ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজমির পরিমাণের ভিত্তিতে অর্থ দেওয়ার কথা ছিল। ১৪ অক্টোবরের ঘোষণায় পরিবর্তে প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট ৫,০০০ রুপির কথা বলা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন ও জরিপের পর সরকারের পৃথক সিদ্ধান্তে ফসলের ক্ষয়ক্ষতির সহায়তা নির্ধারণ করা হবে।
অর্থ পাঠানোর নির্দিষ্ট তারিখ, ফসলের ক্ষতিপূরণের চূড়ান্ত হার বা কেন্দ্রীয় সহায়তা পাওয়ার নিশ্চিত তারিখ সরকার জানায়নি। তাৎক্ষণিক লক্ষ্য দীপাবলির আগে অর্থ পাঠানো। কর্মকর্তারা মূল্যায়ন শেষ করার লক্ষ্য হিসেবে ২০ অক্টোবর এবং চূড়ান্ত স্মারকলিপি জমা দেওয়ার লক্ষ্য হিসেবে ২৩ অক্টোবর নির্ধারণ করেছেন।
খরা মোকাবিলার পদক্ষেপ যেভাবে এগিয়েছে
খরিফ মৌসুমে বৃষ্টির ঘাটতির পর মহারাষ্ট্রের ৩৬টি জেলার মধ্যে ৩২টির ২৬৫টি তালুকায় প্রথমে খরা ঘোষণা করা হয়। খরিফ ফসল সাধারণত বর্ষা শুরুর সময় বোনা হয় এবং বেড়ে ওঠার মাসগুলোতে বৃষ্টির ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে বৃষ্টিতে দীর্ঘ বিরতির কারণে অনেক এলাকায় মাঠের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ফড়নবীশ ওয়াশিম জেলার মঙ্গরুলপির তালুকার মোহাগভান গ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত খেত পরিদর্শন করেন। সেখানে কৃষক অনিল ভাগরে ও আবদুল নাঈম শেখ রহিমের খেতও ছিল। সেপ্টেম্বরে ওই সফরে তিনি বলেন, খরার প্রথম আদেশে ‘ট্রিগার-১’ নামের মূল্যায়ন পর্যায় ব্যবহার করা হবে; শুরুতে বাদ পড়া এলাকাগুলো পরে ‘ট্রিগার-৩’ প্রক্রিয়ায় বিবেচিত হতে পারবে।
- ২৪ সেপ্টেম্বর: ফড়নবীশ ওয়াশিমে ক্ষতিগ্রস্ত ফসল পরিদর্শন করেন এবং দীপাবলির আগে সরাসরি সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।
- ২৫ সেপ্টেম্বর: তিনি বলেন, খরা ঘোষণার প্রথম আদেশ সেদিনই জারি করা হবে।
- ১২ অক্টোবর: ক্ষতিগ্রস্ত তালুকা ও গ্রামের ফসলহারা কৃষকেরা সহায়তা পাবেন বলে জানান ফড়নবীশ; প্রতিক্রিয়ার কেন্দ্রে ছিল ফসলের ক্ষয়ক্ষতি।
- ১৪ অক্টোবর: সরকার ৫,০০০ রুপির অগ্রিম অর্থের ঘোষণা দেয় এবং তালুকার সংখ্যা ২৬৫ থেকে বাড়িয়ে ৩০৫ করার বিষয়টি নিশ্চিত করে।
- ২০ অক্টোবর ও ২৩ অক্টোবরের আগে: কর্মকর্তারা যথাক্রমে ফসলের ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন শেষ করা এবং কেন্দ্রের কাছে চূড়ান্ত স্মারকলিপি জমা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেন।
ফড়নবীশ বলেন, অক্টোবরের বিজ্ঞপ্তির ফলে সাধারণ সময়সূচির তুলনায় ত্রাণ এগিয়ে আনা হয়েছে। সাধারণত নভেম্বরের শেষ দিকে খরা ঘোষণা এবং ডিসেম্বরে সহায়তা দেওয়া হয়। সেপ্টেম্বরে প্রাথমিক ঘোষণা দিয়ে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হয়েছিল; অক্টোবরে এর আওতা বাড়ানো হলো।
মাঠপর্যায়ের পরিদর্শনেই নির্ধারিত হবে পরবর্তী ক্ষতিপূরণ
জেলা প্রশাসকদের ক্ষতিগ্রস্ত খেত পরিদর্শনের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। পরিদর্শনে তোলা ছবি এবং নির্ভুল জিপিএস স্থানাঙ্কও দিতে হবে। এসব পরিদর্শনের ভিত্তিতে পঞ্চনামা তৈরি হয়, যা ঘটনাস্থলে কর্মকর্তারা কী পেয়েছেন তার আনুষ্ঠানিক নথি। কৃষি কমিশনারের মাধ্যমে প্রতিবেদন সরকারের কাছে পাঠাতে হবে।
কেন্দ্রীয় দলটি তিন দিন ধরে জরিপ চালায়। এর নেতৃত্বে ছিলেন কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষককল্যাণ দপ্তরের যুগ্ম সচিব মুক্তানন্দ আগরওয়াল। দলের সদস্যরা মারাঠওয়াড়া, বিদর্ভ এবং পশ্চিম মহারাষ্ট্রের কিছু অংশ, যার মধ্যে আহিল্যানগর ও সোলাপুর জেলা রয়েছে, সেখানকার ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাম পরিদর্শন করেন। দলের এক সদস্য জানান, কিছু এলাকায় ফলন একেবারেই হয়নি। পানির উৎসও কমে গেছে এবং গবাদিপশুর পানীয় জল নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
ফড়নবীশ বলেন, প্রায় দুই মাস বৃষ্টির বিরতির পর অনেক জায়গায় সয়াবিনের ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে। তুলা, তুর ও আখও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তুর একটি ডালজাতীয় ফসল, যা থেকে ডাল তৈরি হয়; ভারতের বহু পরিবারের প্রধান খাদ্য এটি।
পানির সংকটে রবি বা গ্রীষ্মকালীন ফসল ফলিয়ে কৃষকদের আয় পুনরুদ্ধারের সুযোগও সীমিত হতে পারে বলে সতর্ক করেন ফড়নবীশ। বর্ষার পরের ফসলি মৌসুমকে রবি বলা হয়। খরিফ ফসল হারানো কৃষক সাধারণত পরের ফসল থেকে আয়ের চেষ্টা করতে পারেন, তবে তা নির্ভর করে পর্যাপ্ত সংরক্ষিত পানি বা সেচের ওপর।
ত্রাণের ১২টি ব্যবস্থায় যা রয়েছে
মহারাষ্ট্রের প্রচলিত খরা ত্রাণের ব্যবস্থাগুলো একসঙ্গে বিভিন্ন চাপ মোকাবিলা করে: কৃষিঋণ, সরকারি খরচ, শিক্ষাব্যয়, কর্মসংস্থান, খাদ্য, পানি ও পশুখাদ্য। ৩০৫টি তালুকায় এসব ব্যবস্থা সম্প্রসারিত হওয়ায় প্রথম ঘোষণায় অন্তর্ভুক্ত এলাকার বাইরের কৃষকেরাও সুবিধা পাবেন।
খরা ঘোষণার প্রথম আদেশের সঙ্গে যেসব ব্যবস্থা জানানো হয়েছিল, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- ভূমি রাজস্বে ছাড়, ফসলি ঋণ পুনর্গঠন এবং কৃষিসংক্রান্ত ঋণ আদায় স্থগিত রাখা।
- বিদ্যুৎ বিল ছাড় এবং পানির সংকট ঘোষণা করা গ্রামে কৃষিপাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার সুরক্ষা।
- স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফি মওকুফ।
- আরও বেশি কাজ শুরু করার সুযোগ দিতে কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্পের নিয়ম শিথিল করা।
- প্রয়োজন অনুযায়ী পানীয় জলের ট্যাংকার, কৃষক ও কৃষিশ্রমিকদের জন্য খাদ্যশস্য সরবরাহ এবং পশুখাদ্যের ব্যবস্থা।
- পানি সংরক্ষণের কাজ এবং পানীয় জল ও গবাদিপশুর পানির জন্য পরিকল্পনা।
ফসলি ঋণ পুনর্গঠনের মাধ্যমে ঋণ পরিশোধের সময়সূচি বদলে ঋণগ্রহীতাকে পরিশোধের জন্য বেশি সময় দেওয়া হয়। কৃষি আয় চাপে থাকলে রাজস্ব ও ফিতে ছাড় অন্য খরচ কমায়। চাষাবাদে কাজ কমে গেলে কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্পের কাজ মজুরির সুযোগ দিতে পারে; তাই জমির মালিকের পাশাপাশি কৃষিশ্রমিকেরাও এ প্যাকেজের সুবিধা পেতে পারেন।
রাজস্বমন্ত্রী চন্দ্রশেখর বাওয়ানকুলে বলেন, প্রয়োজনে অবকাঠামো ও জেলা পরিকল্পনার জন্য বরাদ্দ অর্থ খরা ত্রাণে পুনর্ব্যবহার করা যেতে পারে। গ্রীষ্মের আগে পানির সংরক্ষণাগার শক্তিশালী করা এবং পানির সরবরাহ সুরক্ষিত রাখার কাজের কথাও তিনি জানান।
ঋণ আদায়ে বিধিনিষেধ ও শিক্ষার ফিতে ছাড়
ফড়নবীশ বলেন, জেলা কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক ও ঋণ সমিতিগুলোকে কৃষকের কাছ থেকে জোর করে ঋণ আদায়, হয়রানি বা অতিরিক্ত চাপ দেওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও একই ধরনের সুরক্ষা সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে।
আরও ৩.৫ লাখ কৃষকের, অর্থাৎ ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষের, যাচাইকৃত তালিকা ঋণ ত্রাণের নির্ধারিত কিস্তি দেওয়ার জন্য প্রক্রিয়াকরণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। খরা ত্রাণের পাশাপাশি ওই অর্থপ্রদানও করা হচ্ছে। তালিকার আকারের কারণে প্রশাসনিক কাজের জরুরিতা বেড়েছে, কারণ পরবর্তী বপন মৌসুমের জন্য কৃষকদের ঋণ পাওয়া প্রয়োজন।
কৃষকদের সন্তানদের শিক্ষার ফি মওকুফে বাধা তৈরি করা ১৯৯২ সালের একটি প্রস্তাবের শর্ত সরকার তুলে নিয়েছে। ফড়নবীশ বলেন, এখন ক্ষতিগ্রস্ত সব এলাকায় এই ছাড় প্রযোজ্য হবে। প্রাথমিক ত্রাণ প্যাকেজে স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফি মওকুফের কথাও ছিল।
বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের জন্য জবরদস্তিমূলক আদায় থেকেও কৃষকদের সুরক্ষা দেওয়া হবে। বিদ্যমান রাজ্য নীতিতে সর্বোচ্চ ৭.৫ হর্সপাওয়ার ক্ষমতার কৃষিপাম্পে বিনা মূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়া হয়। প্রাথমিক খরা ত্রাণ ব্যবস্থায় এর চেয়ে বেশি ক্ষমতার পাম্পের জন্যও ছাড় রাখা হয়েছিল। হর্সপাওয়ার দিয়ে পাম্পের মোটরের ক্ষমতা বোঝানো হয়।
পানীয় জল ও পশুখাদ্যে জরুরি পদক্ষেপ
মারাঠওয়াড়ায় পানির সংকট বাড়ছে। ফড়নবীশ বলেন, পর্যবেক্ষণ কূপগুলোতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর তিন মিটারের নিচে নেমে গেছে। এ কারণে অক্টোবর ও নভেম্বরে আগেভাগে ট্যাংকার পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ট্যাংকারের চলাচল পর্যবেক্ষণে জিপিএস ব্যবহার করা হবে।
পানীয় জলের সরবরাহ রক্ষায় প্রায় ১৬ হাজার অবৈধ পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, অননুমোদিতভাবে পানি উত্তোলনের বিরুদ্ধে সরকার কোনো ছাড় দেবে না। পানি সংকটে থাকা এলাকায় সরবরাহ পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যমান পানির উৎস সুরক্ষায়ও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আঞ্চলিক পশুখাদ্যের মজুত ৯০ দিন থেকে সাত মাস পর্যন্ত রয়েছে বলে জানান ফড়নবীশ। কেন্দ্রীয় দলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেছিলেন, বিভিন্ন জেলায় মজুত দিয়ে ৯০ থেকে ১২০ দিন চলে যাবে। এই পরিসংখ্যান বিভিন্ন অঞ্চলে সংকটের মাত্রার পার্থক্য তুলে ধরে; কিছু জেলায় মজুতের সময়সীমা অনেক কম।
সেচ বা বাঁধের পানির সুবিধা আছে এমন কৃষকদের রবি জোয়ার ও পশুখাদ্যের ফসল বপনের আহ্বান জানানো হয়েছে। জোয়ার, যা সরগম নামেও পরিচিত, থেকে শস্য এবং গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত উপকরণ পাওয়া যায়। কাটা পশুখাদ্য ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বা এমএসপিতে কেনার অঙ্গীকার করেছে সরকার। এটি সরকারের নির্ধারিত ক্রয়মূল্য।
পানির সুবিধা আছে এমন এলাকায় পশুখাদ্য উৎপাদন বাড়ানো, তা কিনে মজুত করা এবং প্রয়োজন হলে অন্য রাজ্য থেকে পশুখাদ্য আনার পরিকল্পনার কথাও জানান ফড়নবীশ। এসব ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ফসল নষ্ট হয়ে পরিবারের আয় কমে গেলেও গবাদিপশুর প্রতিদিনের খাবার প্রয়োজন।
কৃষক ও বিরোধী নেতারা কেন আরও সহায়তা চান
৫,০০০ রুপির অগ্রিম অর্থ ঘোষণার পর হিঙ্গোলির গোরেগাঁও অতিরিক্ত তহসিল কার্যালয়ের বাইরে বিক্ষোভ করেন কৃষকেরা। তাঁরা মোট ৫,০০০ রুপির নোট ছড়িয়ে দেন এবং সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। ঘোষিত অর্থের সঙ্গে কৃষকদের বলা খরচের ব্যবধান নিয়ে ক্ষোভের প্রতিফলন ছিল এই বিক্ষোভে।
শিবসেনা (ইউবিটি) বিধায়ক কৈলাস পাতিল এই অর্থকে "অপমান ও উপহাস" বলে আখ্যা দেন। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল দেশমুখ ব্যাপক সহায়তার আগের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার জন্য সরকারের সমালোচনা করেন। কংগ্রেস বিধায়ক বিজয় ওয়াডেট্টিওয়ার কুম্ভ মেলা ও শক্তিপীঠ এক্সপ্রেসওয়েসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
বিধায়ক রোহিত পাওয়ার কৃষকদের হেক্টরপ্রতি অন্তত ১ লাখ রুপি এবং কৃষিশ্রমিকদের ২৫ হাজার রুপি দেওয়ার দাবি জানান। তিনি কৃষকদের অবিলম্বে ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার রুপি এবং শ্রমিক পরিবারের জন্য ১০ হাজার রুপি অগ্রিম দেওয়ার আহ্বান জানান।
পাওয়ারের হিসাবে প্রতি হেক্টরে চাষের খরচ ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার রুপি। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, এক হেক্টর জমিতে চাষ করেন এমন কৃষকের জন্য ৫,০০০ রুপির অগ্রিম অর্থ চাষের খরচের প্রায় ১০ থেকে ১৬.৭ শতাংশ মেটাবে। তাঁর হিসাবটি উৎপাদন খরচের; আর সরকারের অর্থপ্রদান হলো পরবর্তী সহায়তা নির্ধারণের আগে দেওয়া নির্দিষ্ট অগ্রিম অর্থ।
সাবেক মন্ত্রী হর্ষবর্ধন পাতিলও হেক্টরপ্রতি ১ লাখ রুপির দাবি জানান এবং সরাসরি সহায়তা দিতে রাজ্যকে ঋণ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাৎক্ষণিক সহায়তার পরিমাণ এবং পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ কত দ্রুত পরিবারের কাছে পৌঁছাবে, এ দুই বিষয়েই মতবিরোধ রয়েছে।
ক্ষতিপূরণের দাবি ও পরবর্তী বিক্ষোভের তারিখ
অল ইন্ডিয়া কিষান সভা প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা (পিএমএফবিওয়াই), জাতীয় ফসল বিমা প্রকল্পে বিমাকৃত অঙ্কের সমান ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। বিমাকৃত অঙ্ক হলো বিমা পলিসিতে ফসলের জন্য নির্ধারিত সুরক্ষার মূল্য। সংগঠনটি ছোট অঙ্কের নির্দিষ্ট অর্থপ্রদানের বদলে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে ওই অঙ্ককে ভিত্তি হিসেবে নিতে চায়।
অশোক ধাওয়ালে, জে.পি. গাভিত, অজিত নাভলে, যশবন্ত ঝাড়ে ও উমেশ দেশমুখসহ নেতারা যৌথ বিবৃতিতে বলেন, বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মৌলিক খরচ মেটাতে ৫,০০০ রুপি যথেষ্ট হবে না। তাঁরা আরও বলেন, বকেয়া ঋণ ত্রাণ না পাওয়ায় নতুন মৌসুমি ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে কৃষকদের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
সংগঠনটি নমো শেতকারি মহাসম্মান নিধি প্রকল্পের নবম ও দশম কিস্তি অবিলম্বে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৮৯ লাখ যোগ্য কৃষক পরিবারের জন্য ৩,৫৯০ কোটি রুপি বকেয়া রয়েছে। এই অর্থপ্রদানের সময়সূচিও কৃষক নেতাদের সমালোচনার আরেকটি বিষয় হয়ে উঠেছে।
কৃষকেরা ২৬ অক্টোবর থেকে আহিল্যানগরের আকোল থেকে মুম্বাইয়ের উদ্দেশে যানবাহনের বহর নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। এরপর ২৭ অক্টোবর থেকে আজাদ ময়দানে অনির্দিষ্টকালের সত্যাগ্রহ শুরু হবে। সত্যাগ্রহ হলো অহিংস প্রতিবাদের একটি ধরন। তাঁদের দাবির মধ্যে রয়েছে খরা ক্ষতিপূরণ, ঋণ মওকুফ, ফসল বিমা ও বনাধিকার।
সরকারের তাৎক্ষণিক পরীক্ষা হলো দীপাবলির আগে প্রতিশ্রুত অগ্রিম অর্থ দেওয়া; এরপর আরও ত্রাণের জন্য প্রয়োজনীয় মূল্যায়ন ও অর্থায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া। ১৪ অক্টোবরের বৈঠকে মন্ত্রিসভা ২৫ বছর ধরে সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানিয়ে পৃথক একটি প্রস্তাবও পাস করে। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের মধ্য দিয়ে তাঁর এই পথচলা শুরু হয়।
মূল তথ্য
- মহারাষ্ট্রের ৩৫৮টি তালুকার মধ্যে ৩০৫টিকে খরাকবলিত ঘোষণা করা হয়েছে, যা মোট সংখ্যার প্রায় ৮৫.২ শতাংশ।
- কেন্দ্রীয় সহায়তা পাওয়ার প্রত্যাশায় অগ্রিম হিসেবে দীপাবলির আগে প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে ৫,০০০ রুপি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ফড়নবীশ।
- নতুন যুক্ত হওয়া ৪০টি তালুকাসহ এখন খরা ত্রাণের প্রচলিত ১২টি ব্যবস্থাই কার্যকর হবে।
- রাজ্য কেন্দ্রের কাছে ১৭,৫০০ কোটি রুপি চেয়েছে এবং ২০ অক্টোবরের মধ্যে ফসলের মূল্যায়ন শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
- ত্রাণের মধ্যে রয়েছে ঋণ আদায়ে সুরক্ষা, শিক্ষার ফিতে ছাড়, বিদ্যুতের সুবিধা, পানির ট্যাংকার ও পশুখাদ্যের ব্যবস্থা।
- কৃষক সংগঠনগুলো আরও বেশি ক্ষতিপূরণ চাইছে এবং ২৬ অক্টোবর থেকে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেছে; ২৭ অক্টোবর থেকে শুরু হবে সত্যাগ্রহ।






