আলাদা হারে সমন্বয়ের আগেই অক্টোবরে বিল বাড়ছে
তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, পেসোর দুর্বল হয়ে পড়া এবং স্পট মার্কেটে বেশি দামের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বেড়েছে। এতে মেরালকোর গ্রাহকদের জন্য ২০২৬ সালের অক্টোবরে বিদ্যুতের হার দাঁড়িয়েছে প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় P15.0615, যা সেপ্টেম্বরে চেয়ে P0.3191 বেশি। মাসে ২০০ কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ ব্যবহার করা একটি পরিবারের বিলে এ সমন্বয়ে প্রায় P64 যোগ হবে।
সূচিপত্র
- আলাদা হারে সমন্বয়ের আগেই অক্টোবরে বিল বাড়ছে
- পরিবারগুলোকে কত দিতে হবে
- এলএনজি ও পেসোর কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে
- গড় সরবরাহ বাড়লেও স্পট মার্কেটের দাম বেড়েছে
- সঞ্চালন ও কর কমায় বৃদ্ধির চাপ কিছুটা কমেছে
- মেরালকোর নেটওয়ার্কের জন্য ERC-র অনুমোদন
- P2.64 বিলিয়ন ফেরতের প্রক্রিয়া
- নেটওয়ার্ক বিনিয়োগের পরিকল্পনার কিছু বিষয় এখনো অনির্ধারিত
- নভেম্বরের বিল সামনে রেখে এল নিনোর বাড়তি চাপ
- মূল বিষয়গুলো
১৩ অক্টোবর ঘোষিত এই বৃদ্ধির মধ্যে মেরালকোর বিতরণ হারে সদ্য অনুমোদিত পরিবর্তন কিংবা এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (ERC) নির্দেশে গ্রাহকদের P2.64 বিলিয়ন ফেরত দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত নয়। কোম্পানির কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই পৃথক সমন্বয়গুলো নভেম্বরে বিলের সঙ্গে যুক্ত হবে। তবে মেরালকো তখনো সিদ্ধান্তগুলো হাতে পায়নি এবং আবাসিক গ্রাহকদের ওপর সুনির্দিষ্ট প্রভাব নিশ্চিত করতে পারেনি।
পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ: অক্টোবরে দাম বাড়ার কারণ মূলত বিদ্যুৎ সরবরাহকারীদের মেরালকোর দেওয়া অর্থ বৃদ্ধি; অন্যদিকে বিতরণ হারে যে সমন্বয় বাকি আছে, তা কোম্পানির নিজস্ব নেটওয়ার্ক পরিচালনার সঙ্গে সম্পর্কিত। ফেরত দেওয়া অর্থ হলো আগের সময়ে বিতরণ বাবদ অতিরিক্ত আদায়। এগুলো বিলের ভিন্ন অংশে প্রভাব ফেলে, তাই একটিমাত্র বৃদ্ধি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
মেরালকো মেট্রো ম্যানিলা, বুলাকান, কাভিতে ও রিজালের ৮৩ লাখের বেশি গ্রাহককে সেবা দেয়; পাশাপাশি লাগুনা, বাতাঙ্গাস, পাম্পাঙ্গা ও কেজনের কিছু অংশেও সেবা দেয়। ২০২৬ সালের শেষ দিকে এবং ২০২৭ সালের শুরুতে এল নিনোর কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়তে পারে এবং সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে বলে জ্বালানি কর্মকর্তারা সতর্ক করার সময়েই অক্টোবরে এ ঘোষণা এসেছে।
পরিবারগুলোকে কত দিতে হবে
সেপ্টেম্বরে প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় P14.7424 থেকে অক্টোবরে P15.0615 হওয়ায় দাম বেড়েছে প্রায় ২.১৬%। প্রকাশিত হার অনুযায়ী ২০০ কিলোওয়াট-ঘণ্টা ব্যবহারে অক্টোবরে আনুমানিক বিল হবে P3,012.30; সেপ্টেম্বরে হারে তা হতো P2,948.48। পার্থক্য P63.82, যে কারণে বহুল প্রচারিত আনুমানিক বৃদ্ধির অঙ্ক P64।
অন্যান্য ব্যবহারের মাত্রায় আনুমানিক বিল বৃদ্ধি:
- ২০০ কিলোওয়াট-ঘণ্টা: প্রায় P64।
- ৩০০ কিলোওয়াট-ঘণ্টা: প্রায় P96।
- ৪০০ কিলোওয়াট-ঘণ্টা: প্রায় P128।
- ৫০০ কিলোওয়াট-ঘণ্টা: প্রায় P160।
এই হিসাবগুলোতে বিদ্যুতের ব্যবহার অপরিবর্তিত থাকবে বলে ধরে নেওয়া হয়েছে। অক্টোবরে কোনো পরিবার বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে, হারের সমন্বয়ের বাইরে অতিরিক্ত ব্যবহৃত ইউনিটের খরচও যোগ হবে।
২০০ কিলোওয়াট-ঘণ্টার উদাহরণে বিভিন্ন প্রতিবেদনে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। একটিতে বৃদ্ধির পরিমাণ প্রায় P62 বলা হয়েছে, অন্যগুলোতে P64। ঘোষিত P0.3191 সমন্বয়কে ২০০ দিয়ে গুণ করলে হয় P63.82, যা P64-এর হিসাবকে সমর্থন করে। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের হার একই।
এলএনজি ও পেসোর কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে
বিদ্যুৎ উৎপাদকদের কাছ থেকে কেনা বিদ্যুতের দাম মেটাতে ব্যবহৃত উৎপাদন চার্জ প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় P0.4973 বেড়েছে। এটি পরিবারের বিদ্যুৎ হারে শেষ পর্যন্ত হওয়া P0.3191 বৃদ্ধির চেয়ে বেশি, কারণ বিলের অন্য কিছু অংশে খরচ কমায় বৃদ্ধির একাংশ পুষিয়ে গেছে।
সেপ্টেম্বরের সরবরাহের জন্য প্ল্যান্টগুলো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ব্যবহার করায় ফার্স্ট গ্যাস ও প্রাইম কোরজেনের চার্জ প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় P3.2206 বেড়েছে। এলএনজি হলো পরিবহনের সুবিধার জন্য তরল করা প্রাকৃতিক গ্যাস, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের আগে আবার গ্যাসে রূপান্তর করা হয়।
মেরালকোর ভাষ্য, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের মধ্যে এলএনজির দাম উঁচু থাকায় জ্বালানির খরচ বেড়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে পেসোর অবমূল্যায়নও খরচের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে: ফার্স্ট গ্যাস ও প্রাইম কোরজেনের খরচের প্রায় ৮৯% ডলারে নির্ধারিত ছিল। পেসো দুর্বল হলে একই অঙ্কের ডলারের দায় মেটাতে আরও বেশি ফিলিপাইন মুদ্রা লাগে।
অন্য চুক্তিভিত্তিক বিদ্যুতের দাম কমেছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ চুক্তির আওতায় চার্জ প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় P0.7567 কমেছে। মালাম্পায়া থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারের পর জ্বালানি খরচ কমায় সাউথ প্রিমিয়ার পাওয়ার করপোরেশন এতে লাভবান হয়েছে। দেশীয় গ্যাসের ব্যবহার পেসোর অবমূল্যায়নের প্রভাব কমাতে সাহায্য করেছে।
ফার্স্ট গ্যাস ও প্রাইম কোরজেনের ক্ষেত্রে P3.2206 বৃদ্ধি ওই সরবরাহকারী শ্রেণির চার্জের পরিবর্তন; পরিবারের বিলের প্রতিটি ইউনিটে অতিরিক্ত P3.2206 যোগ করা নয়। বিভিন্ন উৎস থেকে কেনা বিদ্যুতের চার্জ মিলিয়ে মেরালকোর উৎপাদন চার্জ নির্ধারিত হয়, আর প্রতিটি উৎসের অংশ চূড়ান্ত প্রভাব ঠিক করে।
গড় সরবরাহ বাড়লেও স্পট মার্কেটের দাম বেড়েছে
হোলসেল ইলেকট্রিসিটি স্পট মার্কেট (WESM) থেকে কেনা বিদ্যুতের জন্য মেরালকোর চার্জ প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় P3.5167 বেড়েছে। কোম্পানি এর কারণ হিসেবে লুজনের সরবরাহ পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়ার কথা জানিয়েছে; একটি প্রতিবেদনে বিলিং সমন্বয়ের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। মেরালকোর ভাষ্য, তাদের সরবরাহের সামান্য অংশই স্পট মার্কেট থেকে কেনা হয়েছিল।
ইন্ডিপেনডেন্ট ইলেকট্রিসিটি মার্কেট অপারেটর অব দ্য ফিলিপাইনস (IEMOP) জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরে WESM-এর গড় দাম ছিল প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় P7.43, যা আগস্টের P7.21 থেকে ৩.১% বেশি। গড় সরবরাহ ২.৪% বেড়ে ২০,২০৯ মেগাওয়াট হয়েছে; অন্যদিকে গড় চাহিদা ১.৮% বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪,১৮৮ মেগাওয়াটে।
মাসিক এই গড়ের অর্থ এই নয় যে প্রতিটি অঞ্চলে বা লেনদেনের প্রতিটি সময়ে সমানভাবে বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে। জাতীয় পর্যায়ে গড় সরবরাহ বেড়েছে বলে বাজারের পরিসংখ্যানে দেখা যায়; আর মেরালকোর ব্যাখ্যায় তাদের কেনাকাটায় প্রভাব ফেলা লুজনের কঠিন পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছে। এগুলো ভিন্ন পরিমাপ, গ্রিডের প্রতিটি অংশে একই ধরনের ঘাটতি ছিল—এমন প্রমাণ নয়।
অঞ্চলভেদে দামও ভিন্নভাবে পরিবর্তিত হয়েছে:
- লুজন: প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় P5.18, বেড়েছে ৫.৭%।
- ভিসায়াস: প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় P12.42, বেড়েছে ৫.২%।
- মিন্দানাও: প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় P12.61, কমেছে ১.৪%।
মিন্দানাওয়ে দাম কমলেও ভিসায়াস ও মিন্দানাওয়ের দাম সেপ্টেম্বরে লুজনের গড়ের দ্বিগুণেরও বেশি ছিল। এই বাজারদরগুলো মেরালকোর স্পট থেকে কেনা বিদ্যুতের চার্জে P3.5167 পরিবর্তন থেকে আলাদা। ওই পরিবর্তন শুধু দেশজুড়ে দামের ওঠানামা নয়, বরং মেরালকোর নিজস্ব বিল হিসাবের প্রতিফলন।
সঞ্চালন ও কর কমায় বৃদ্ধির চাপ কিছুটা কমেছে
ন্যাশনাল গ্রিড করপোরেশন অব দ্য ফিলিপাইনসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চার্জ প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় P0.1384 কমেছে। বিস্তারিত হিসাবে আনুষঙ্গিক সেবা চার্জ কমেছে P0.1321 এবং সঞ্চালন হার কমেছে P0.0063। দুটো মিলিয়ে হয় P0.1384।
গ্রিড স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যাকআপ সক্ষমতা ও অন্যান্য সহায়তা দেয় আনুষঙ্গিক সেবা। এসবের খরচ কমায় উৎপাদন চার্জ বৃদ্ধির চাপ কিছুটা সামলানো গেছে। প্রধান আন্তঃসংযুক্ত গ্রিডের বাইরের এলাকায় বিদ্যুৎ সেবায় সহায়তাকারী বিলের একটি অংশ, সর্বজনীন চার্জ ফর মিশনারি ইলেকট্রিফিকেশন, উল্টো বেড়েছে—প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় P0.0634।
কর কমার অঙ্ক বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্নভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। একটিতে কর ও অন্যান্য চার্জে নিট হ্রাস প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় 3.398 সেন্টাভোস বলা হয়েছে; অন্যটিতে P0.0398 এবং আরেকটিতে P0.1436। অঙ্কগুলো ভিন্ন, এবং এগুলোর মধ্যে মিল দেখানোর মতো অভিন্ন হিসাব প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।
তবে কর ছাড়ের কারণগুলো উল্লেখ করা হয়েছে: অভ্যন্তরীণ প্রাকৃতিক গ্যাসের অংশ বৃদ্ধি, যা মূল্য সংযোজন করমুক্ত; এবং অনুমোদিত সিস্টেম লস চার্জের ওপর ১২% ভ্যাট প্রত্যাহার। সিস্টেম লস বলতে বিতরণ নেটওয়ার্কে বিদ্যুৎ সরবরাহের পর থেকে গ্রাহকের মিটারে নথিভুক্ত ব্যবহার পর্যন্ত মাঝপথে হারিয়ে যাওয়া বিদ্যুৎ বোঝায়। এর মধ্যে প্রযুক্তিগত ক্ষতি এবং অন্য কারণে হওয়া ক্ষতিও রয়েছে।
রিজার্ভ মার্কেট স্থগিত করার ERC-র সিদ্ধান্তের পর একটি পৃথক পরিবর্তনের কথাও জানিয়েছে IEMOP। সংস্থাটির ট্রেডিং অপারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসিদ্রো কাচো জুনিয়র বলেন, স্পট রিজার্ভের সময়সূচি নির্ধারণ, সরবরাহ এবং মূল্য নির্ধারণ বন্ধ হবে; তবে আনুষঙ্গিক সেবা সংগ্রহ চুক্তির আওতায় থাকা রিজার্ভ চালু থাকবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৪ অক্টোবর থেকে এটি কার্যকর হওয়ার কথা। এই আসন্ন পরিবর্তনকে অক্টোবরে হারে ইতিমধ্যে অন্তর্ভুক্ত সঞ্চালন ব্যয় হ্রাসের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়।
মেরালকোর নেটওয়ার্কের জন্য ERC-র অনুমোদন
২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত সময়ের জন্য ERC, কেস নম্বর 2026-016 RC-এর আওতায় মেরালকোর নিয়ন্ত্রক হারের পুনর্নির্ধারণ অনুমোদন করেছে। আগেরবার এ হার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০১১ সালে। পর্যালোচনায় ঠিক করা হয়, বিদ্যুৎ উৎপাদকদের কাছ থেকে কেনা বিদ্যুতের দাম নয়, বরং খুঁটি, তার ও সাবস্টেশনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিতরণের জন্য মেরালকো কত আয় সংগ্রহ করতে পারবে।
চার বছরে অনুমোদিত রাজস্বের প্রয়োজন প্রায় P342 বিলিয়ন, যেখানে মেরালকো চেয়েছিল P532 বিলিয়ন। চাওয়া অঙ্কের তুলনায় P190 বিলিয়ন কমানো হয়েছে, যা প্রায় ৩৬%। অনুমোদিত গড় বিতরণ হার প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় P1.48; মেরালকোর প্রস্তাব ছিল P2.34, আর বর্তমান গড় প্রায় P1.35।
P1.35 ও P1.48-এর পার্থক্য প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় P0.13, অর্থাৎ প্রায় ৯.৬%। এটি গড় বিতরণ হারের তুলনা, আবাসিক গ্রাহকদের বিলে নিশ্চিত বৃদ্ধির অঙ্ক নয়। আবাসিক গ্রাহকদের ওপর সুনির্দিষ্ট প্রভাব তখনো নির্ধারণ করেনি মেরালকো।
ERC জানায়, ২০২৫ সালের নভেম্বরে জারি করা বিতরণ হুইলিং হার নির্ধারণের যুক্তিসংগত নিয়মের আওতায় ২০২৬ সালের মার্চ থেকে মে পর্যন্ত শুনানির পর পর্যালোচনাটি করা হয়েছে। কমিশনের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী ফ্রান্সিস স্যাটার্নিনো জুয়ান অনুরোধ করা রাজস্ব কমানোর কারণ ব্যাখ্যা করেন:
আমরা যেসব মূলধনি প্রকল্পের ন্যায্যতা তখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি, সেগুলো ছেঁটে দিয়েছি; অতিরিক্ত পরিচালন ব্যয় ও অনাদায়ী ঋণের সংস্থান অনুমোদন করিনি; সম্পদভিত্তি থেকে আপৎকালীন ব্যয় ও একই সম্পদের পুনরাবৃত্তি বাদ দিয়েছি; আর মেরালকোর প্রস্তাবের তুলনায় মূলধনের ওপর কম মুনাফার হার ধরেছি। অনুমোদিত প্রতিটি পেসো হতে হবে বিচক্ষণ, দক্ষ ও প্রয়োজনীয়, কারণ এর খরচ গ্রাহকেরাই দেন।
সময় নিয়ে একটি পার্থক্য এখনো মেটানো বাকি। ERC-র ঘোষণার বিস্তারিত দেওয়া প্রতিবেদনে P1.48-কে ২০২৭ সালের জন্য অনুমোদিত গড় হার বলা হয়েছে; আর মেরালকোর কর্মকর্তারা আশা করছেন, বিতরণ হারের সমন্বয় ২০২৬ সালের নভেম্বরে শুরু হবে। সিদ্ধান্তের নথি হাতে না থাকায় অনুমোদিত সময়সূচি গ্রাহকদের বিলে কীভাবে প্রতিফলিত হবে, তা কোম্পানি পুরোপুরি ব্যাখ্যা করতে পারেনি।
P2.64 বিলিয়ন ফেরতের প্রক্রিয়া
২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বিতরণ বাবদ আদায় পুনর্গণনার পর ছয় মাসে P2.64 বিলিয়ন ফেরত দিতে মেরালকোকে নির্দেশ দিয়েছে ERC। ওই সময়ের জন্য অনুমোদিত চূড়ান্ত বিতরণ হার ছিল প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় P1.3522; গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা প্রকৃত ভারিত গড় হার ছিল P1.5537।
পর্যালোচিত সময়ের জন্য পার্থক্য প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় P0.2015। এই ঐতিহাসিক পার্থক্য ভবিষ্যৎ ব্যবহারের ওপর প্রযোজ্য ফেরতের হারের সমান নয়। ERC গ্রাহকপ্রতি গড় ফেরত নির্ধারণ করেছে প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় P0.1020 এবং আবাসিক গ্রাহকদের জন্য P0.1733।
মাসে ২০০ কিলোওয়াট-ঘণ্টা ব্যবহার করা কোনো পরিবার যে মাসে এ ফেরত কার্যকর হবে, সে মাসে প্রায় P34.66 বিল ছাড় পাবে। পুরো অর্থ ফেরত দেওয়া না হওয়া পর্যন্ত, অথবা ছয় মাস—যেটি আগে হয়—ফেরত দেওয়ার কথা। একটি প্রতিবেদনে মোট অর্থ P2.6 বিলিয়ন বলে গোল করে উল্লেখ করা হয়েছে; অন্যত্র বারবার দেওয়া তুলনামূলক নির্ভুল অঙ্ক P2.64 বিলিয়ন।
মেরালকো ১২ মাসে প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় গড়ে P0.0487 ফেরতের প্রস্তাব দিয়েছিল। দ্রুত ফেরত নিশ্চিত করতে ERC সময় কমিয়ে দিয়েছে। জুয়ান কমিশনের সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করে বলেন:
মেরালকো প্রাপ্যের চেয়ে বেশি আদায় করলে, ERC নিশ্চিত করবে যে তা ফেরত দেওয়া হয়, এবং দ্রুতই ফেরত দেওয়া হয়। ফেরতের সময় ছয় মাসে নামিয়ে এনে আমরা এমন সময়ে গ্রাহকদের দ্রুত স্বস্তি দিচ্ছি, যখন বিদ্যুতের দাম এখনো চড়া,
আগের দুটি আবাসিক ফেরত বাবদ মোট প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় P1.0139 ক্রেডিট দেওয়াও চালিয়ে যাচ্ছে মেরালকো। এই বিদ্যমান ক্রেডিটগুলো সদ্য অনুমোদিত P0.1733 ফেরত থেকে আলাদা।
কোম্পানির মুখপাত্র জো জালদারিয়াগা বলেন, নতুন ফেরত ও বিতরণ হারের সমন্বয়ে মোট বিল সামান্য কমতে পারে। ERC-ও একইভাবে দুটো একসঙ্গে কার্যকর হলে প্রায় কোনো পরিবর্তন হবে না বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। তবে কোনো বক্তব্যই মোট বিদ্যুৎ বিল কমার নিশ্চয়তা দেয় না, কারণ উৎপাদন, সঞ্চালন ও অন্যান্য চার্জ প্রতি মাসে বদলাতে পারে।
নেটওয়ার্ক বিনিয়োগের পরিকল্পনার কিছু বিষয় এখনো অনির্ধারিত
মেরালকোর জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও রেগুলেটরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রধান হোসে রোনাল্ড ভালেস বলেন, অনুমোদিত বিতরণ হারের সমন্বয় নেটওয়ার্ক আধুনিকীকরণ ও সেবা উন্নয়নে বিনিয়োগে সহায়তা করবে। ERC জানায়, অনুমোদিত ব্যয়ের লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে নতুন সাবস্টেশন ও লাইন স্থাপন, মিটার আধুনিকীকরণ এবং সিস্টেম লস কমানোর ব্যবস্থা।
অক্টোবরের ব্রিফিংয়ে নির্দিষ্ট প্রকল্প নিয়ে সিদ্ধান্তগুলো তখনো স্পষ্ট ছিল না। মেরালকোর ইউটিলিটি ইকোনমিকস বিভাগের প্রধান ল্যারি ফার্নান্দেজ বলেন, সিস্টেম লস কমানোর প্রস্তাবগুলো আবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তবে নিয়ন্ত্রকেরা কোন প্রকল্প অনুমোদন, কমানো বা প্রত্যাখ্যান করেছেন, তা কোম্পানি তখনো জানাতে পারেনি। ক্ষতি কমানোর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা বা কাজ শেষের তারিখও দেওয়া হয়নি।
হারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন করবে কি না, তা মেরালকো এখনো ঠিক করেনি। প্রকৃত আদেশ পর্যালোচনার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে তারা; বিশেষত প্রস্তাবিত গড় বিতরণ হার P2.34 এবং অনুমোদিত P1.48-এর মধ্যে ব্যবধান বিবেচনায়।
শুল্কের সময়সূচি এবং এর পেছনের বিনিয়োগ—দুটো নিয়েই অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। অনুমোদিত রাজস্বের মোট অঙ্ক ব্যয়ের একটি কাঠামো নির্ধারণ করে, কিন্তু গ্রাহকেরা নেটওয়ার্কের প্রতিটি প্রকল্প কখন বা কোন পরিসরে বাস্তবায়িত হবে, তা নিজে থেকে স্পষ্ট করে না।
নভেম্বরের বিল সামনে রেখে এল নিনোর বাড়তি চাপ
জ্বালানিমন্ত্রী শ্যারন গারিন সতর্ক করেছেন, আসন্ন এল নিনো চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্যে চাপ তৈরি করে বিদ্যুতের হার বাড়াতে এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটাতে পারে। ফিলিপাইন অ্যাটমসফেরিক, জিওফিজিক্যাল অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সার্ভিসেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (PAGASA) ধারণা, ২০২৬ সালের শেষ দিকে এ পরিস্থিতি তীব্র হবে এবং ২০২৭ সালের শুরু পর্যন্ত থাকবে।
মেরালকো জানিয়েছে, তাদের ৮৩ লাখের বেশি গ্রাহকের জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ চুক্তিবদ্ধ করা হয়েছে এবং স্থাপনাগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ চলছে। এতে সরবরাহের প্রস্তুতির কথা বলা হয়েছে, তবে জ্বালানির খরচ বা মাসিক হার অপরিবর্তিত থাকবে—এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি।
যেসব পদক্ষেপ সম্পন্ন হয়েছে এবং যেসব পরিবর্তন এখনো প্রত্যাশিত, সেগুলোর গুরুত্বপূর্ণ তারিখ আলাদা করে দেখানো হলো:
- নভেম্বর ২০২৫: বিতরণ হারবিষয়ক সংশোধিত নিয়ম জারি করে ERC।
- মার্চ থেকে মে ২০২৬: মেরালকোর হার পুনর্নির্ধারণ নিয়ে শুনানি হয়।
- জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩০: অনুমোদিত নিয়ন্ত্রক হার পুনর্নির্ধারণের আওতাভুক্ত সময়কাল।
- ১৩ অক্টোবর ২০২৬: প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় P15.0615 হারে অক্টোবরের বৃদ্ধি ঘোষণা করে মেরালকো।
- ১৪ অক্টোবর ২০২৬: রিজার্ভ মার্কেট স্থগিতের বাস্তবায়ন শুরুর নির্ধারিত তারিখ জানায় IEMOP।
- নভেম্বর ২০২৬-এর বিল: ERC-র সিদ্ধান্ত হাতে পাওয়া ও পর্যালোচনা সাপেক্ষে নতুন বিতরণ সমন্বয় এবং ফেরত কার্যকর হওয়ার কথা বলে মেরালকো।
- ২০২৬ সালের শেষ থেকে ২০২৭ সালের শুরু: এ সময় এল নিনো তীব্র হবে এবং স্থায়ী হবে বলে PAGASA-র পূর্বাভাস।
তাই পরবর্তী বিলিং চক্র শুধু নতুন বিতরণ হারের ওপর নির্ভর করবে না। আবাসিক গ্রাহকদের জন্য শুল্কের বিস্তারিত, ফেরত কার্যকর হওয়া এবং নতুন উৎপাদন খরচ ঠিক করবে গ্রাহকেরা কর্মকর্তাদের বলা সামান্য নিট হ্রাস পাবেন, নাকি আবারও বিল বাড়বে।
মূল বিষয়গুলো
- অক্টোবরে মেরালকোর বিদ্যুতের হার P0.3191 বেড়ে প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় P15.0615 হয়েছে; ২০০ কিলোওয়াট-ঘণ্টা ব্যবহার করা পরিবারের বিল বাড়বে প্রায় P64।
- এলএনজির খরচ বৃদ্ধি, পেসোর অবমূল্যায়ন ও স্পট মার্কেট থেকে কেনা বিদ্যুতের চার্জ এ বৃদ্ধির কারণ।
- ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বিতরণ বাবদ প্রায় P342 বিলিয়ন রাজস্ব অনুমোদন করেছে ERC, যা মেরালকোর চাওয়া P532 বিলিয়নের চেয়ে কম।
- অনুমোদিত গড় বিতরণ হার P1.48; এটি অক্টোবরে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধিজনিত হার থেকে আলাদা।
- নতুন P2.64 বিলিয়ন ফেরতের আওতায় ছয় মাসে প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় P0.1733 হারে আবাসিক গ্রাহকেরা বিল ছাড় পাবেন।
- নভেম্বরে বিতরণ হারের সমন্বয় ও ফেরত কার্যকর হবে বলে মেরালকো আশা করছে; তবে আবাসিক গ্রাহকদের ওপর সুনির্দিষ্ট প্রভাব ও শুল্কের সময়সূচি এখনো নিশ্চিত হওয়া বাকি।
- ২০২৬ সালের শেষ দিক থেকে ২০২৭ সালের শুরুর সময় পর্যন্ত এল নিনো চাহিদা ও সরবরাহে বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।






