ইঁদুরে নকশা করা জিকা টিকা ভ্রূণের সংক্রমণ ও ডেঙ্গু সংক্রমণ বৃদ্ধি ঠেকিয়েছে, রিসাস বানরে নয়

পড়তে 10 মিনিট
Engineered Zika Vaccines Blocked Fetal Infection and Dengue Enhancement in Mice, Not Rhesus Monkeys

দুটি টিকার নকশায় সুরক্ষা ও নিরাপত্তাকে একসঙ্গে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে

পরীক্ষামূলক দুটি জিকা টিকা, MutB ও MutC, একবার টিকা দেওয়ার পর ইঁদুরকে জিকা ভাইরাস থেকে সুরক্ষা দিয়েছে, গর্ভবতী ইঁদুর থেকে তাদের ভ্রূণে ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকিয়েছে এবং এমন রোগপ্রতিরোধী সিরাম তৈরি করেছে, যা পরীক্ষায় ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি সেরোটাইপের কোনোটিরই সংক্রমণ বাড়ায়নি। ২০২১ সালের ১৫ জুলাই Nature Immunology-তে প্রকাশিত গবেষণাটিতে টিকা তৈরির একটি কঠিন সমস্যার সমাধান খোঁজা হয়েছে: একটি ভাইরাসের বিরুদ্ধে তৈরি অ্যান্টিবডি কখনো কখনো সম্পর্কিত আরেকটি ভাইরাসের সংক্রমণ আরও খারাপ করতে পারে।

সূচিপত্র
  1. দুটি টিকার নকশায় সুরক্ষা ও নিরাপত্তাকে একসঙ্গে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে
  2. অ্যান্টিবডি কেন নিরাপত্তার উদ্বেগ তৈরি করতে পারে
  3. সংক্রমণের ক্রম গুরুত্বপূর্ণ
  4. প্রোটিনের ক্ষতি না করে লক্ষ্য বদলানো
  5. ইঁদুরের পরীক্ষায় কী দেখা গেছে
  6. ডেঙ্গুর চারটি সেরোটাইপই পরীক্ষা
  7. রোগপ্রতিরোধী প্রতিক্রিয়া যেভাবে বদলেছে
  8. সময়রেখা ও প্রমাণের সীমা
  9. মূল তথ্য

এই গবেষণার ফল আর রিসাস বানরে এমআরএনএ টিকা নিয়ে করা গবেষণার দাবির পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। MutB ও MutC গবেষণায় AdC7 নামে চিহ্নিত শিম্পাঞ্জি অ্যাডেনোভাইরাস ভেক্টর এবং ইঁদুরের মডেল ব্যবহার করা হয়েছে। এটি এমআরএনএ টিকার গবেষণা ছিল না, এবং এতে রিসাস বানরের ওপর পরীক্ষার কোনো প্রতিবেদনও নেই। ফলাফলগুলো নিরাপদতর অ্যান্টিজেন নকশার একটি পদ্ধতির পক্ষে প্রমাণ দেয়; প্রাইমেট বা মানুষের ক্ষেত্রে এমআরএনএ টিকা এই ঝুঁকি কমিয়েছে, এমন সিদ্ধান্তের পক্ষে নয়।

চীনের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র তাদের ২০২১ সালের গবেষণা-সারাংশে জানিয়েছে, গবেষকেরা জিকা ভাইরাসের এনভেলপ প্রোটিনের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যামিনো অ্যাসিড পরিবর্তন করেছেন। লক্ষ্য ছিল ডেঙ্গুর সংক্রমণ বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত অ্যান্টিবডি-লক্ষ্য থেকে রোগপ্রতিরোধী প্রতিক্রিয়াকে সরিয়ে নেওয়া, একই সঙ্গে জিকার বিরুদ্ধে সুরক্ষা তৈরি করে এমন লক্ষ্যগুলো অক্ষুণ্ণ রাখা।

চাইনিজ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেসের ইনস্টিটিউট অব মাইক্রোবায়োলজির গাও ফু, দাই লিয়ানপান ও ইয়ান জিংহুয়া গবেষণাটির সংশ্লিষ্ট লেখক ছিলেন। দাই, হাইনান মেডিকেল ইউনিভার্সিটির শু কুন এবং বেইজিং ইনস্টিটিউটস অব লাইফ সায়েন্সের লি জিনহে যৌথভাবে প্রথম লেখক ছিলেন। তাঁদের গবেষণাপত্রের শিরোনাম ছিল Protective Zika vaccines engineered to eliminate enhancement of dengue infection via immunodominance switch।

বিজ্ঞাপন

অ্যান্টিবডি কেন নিরাপত্তার উদ্বেগ তৈরি করতে পারে

অ্যান্টিবডি-নির্ভর সংক্রমণ বৃদ্ধি বা ADE ঘটে যখন অ্যান্টিবডি কোনো ভাইরাসের সঙ্গে যুক্ত হলেও তাকে কার্যকরভাবে নিষ্ক্রিয় করতে পারে না, বরং ভাইরাসটিকে নির্দিষ্ট কিছু রোগপ্রতিরোধী কোষে প্রবেশে সহায়তা করে। ওই কোষগুলোর রিসেপ্টর ভাইরাসের সঙ্গে যুক্ত অ্যান্টিবডিকে শনাক্ত করে। সংক্রমণ ঠেকানোর বদলে এই মিথস্ক্রিয়ায় সংবেদনশীল কোষে সংক্রমণ বেড়ে যেতে পারে।

জিকা ও ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে এই উদ্বেগ বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক, কারণ ভাইরাস দুটির পৃষ্ঠের প্রোটিনে অ্যান্টিবডির লক্ষ্য একই রকম। উভয় ভাইরাসই এডিস ইজিপ্টাই মশার মাধ্যমে ছড়াতে পারে, এবং এদের বিস্তারের এলাকাও পরস্পরের সঙ্গে মিলে যায়। তাই জিকা প্রতিরোধের টিকাকে পরবর্তী ডেঙ্গু সংক্রমণে সম্ভাব্য প্রভাবের দিক থেকেও মূল্যায়ন করা দরকার।

২০১৮ সালে প্রকাশিত এবং PubMed Central-এ থাকা একাডেমিক পর্যালোচনা Zika Virus Vaccines-এ ডেংভ্যাক্সিয়া থেকে পাওয়া একটি বাস্তব সতর্কতার কথা বলা হয়েছে। আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়নি, এমন যেসব শিশু এই ডেঙ্গু টিকা পেয়েছিল, টিকা না নেওয়া শিশুদের তুলনায় তাদের গুরুতর ডেঙ্গু জটিলতার ঝুঁকি বেশি ছিল; ফলে ফিলিপাইনে টিকাটির ব্যবহার বন্ধ করা হয়। এই অভিজ্ঞতা দেখায়, টিকার নিরাপত্তা মূল্যায়নে আগে সংক্রমণ হয়েছিল কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

এর অর্থ এই নয় যে ফ্ল্যাভিভাইরাসের বিরুদ্ধে তৈরি সব টিকাতেই একই বিপদ রয়েছে। ইয়েলো ফিভার ও জাপানিজ এনসেফালাইটিস একই বৃহত্তর ভাইরাস-গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত হলেও, এখানে আলোচিত প্রমাণ নির্দিষ্ট কিছু অ্যান্টিবডি প্রতিক্রিয়া, টিকার নকশা এবং সংক্রমণের ধারাবাহিকতা নিয়ে। এই ফলাফলের বাইরে গিয়ে এই পরিবারভুক্ত সব টিকার ক্ষেত্রে ADE-কে সর্বজনীন বাধা হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।

সংক্রমণের ক্রম গুরুত্বপূর্ণ

২০১৮ সালের পর্যালোচনায় আগে ডেঙ্গুতে রোগপ্রতিরোধ তৈরি হওয়ার পর জিকা সংক্রমণ এবং আগে জিকায় রোগপ্রতিরোধ তৈরি হওয়ার পর ডেঙ্গু সংক্রমণের মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছিল। এ দুটি ভিন্ন জৈবিক পরিস্থিতি; একটির ফল অন্যটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাখ্যা করে না।

তখন পর্যন্ত আগে ডেঙ্গুতে রোগপ্রতিরোধ তৈরি হওয়া রিসাস বানরকে জিকা ভাইরাসের সংস্পর্শে আনার পরীক্ষায় জিকার ভাইরাল মাত্রা বা রোগের তীব্রতা বাড়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক মানব-তথ্যেও আগে ডেঙ্গুতে রোগপ্রতিরোধ তৈরি হওয়া মানুষের জিকা রোগ আরও গুরুতর হওয়ার ইঙ্গিত ছিল না। তবে বিপরীত ক্রমে, আগে জিকায় আক্রান্ত অমানব প্রাইমেটদের ডেঙ্গু সেরোটাইপ ২-এর সংস্পর্শে আনার পর ভাইরাসের মাত্রা ও প্রদাহজনিত সংকেত বেড়েছে বলে গবেষণায় দেখা গিয়েছিল।

২০২১ সালের মধ্যে চীনের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের সারাংশে ২০২০ সালে Science-এ প্রকাশিত একটি মানব-কোহর্ট গবেষণার কথা উদ্ধৃত করা হয়, যেখানে দেখা গেছে, আগে জিকায় সংক্রমণ পরবর্তী ডেঙ্গু সংক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়েছে। এই পরবর্তী ফল জিকা টিকা তৈরির সময় ডেঙ্গু-সংক্রান্ত নিরাপত্তা যাচাইয়ের যুক্তি আরও জোরালো করেছে। তবে শুধু এই ফল থেকেই প্রমাণ হয় না যে কোনো নির্দিষ্ট জিকা টিকা গুরুতর ডেঙ্গু ঘটাবে।

বিজ্ঞাপন

প্রোটিনের ক্ষতি না করে লক্ষ্য বদলানো

গবেষকেরা জিকা ভাইরাসের এনভেলপ প্রোটিনের একটি অংশ, যাকে E প্রোটিনও বলা হয়, সেই ফিউশন লুপের ওপর নজর দেন। এপিটোপ হলো অণুর এমন একটি নির্দিষ্ট অংশ, যা অ্যান্টিবডি শনাক্ত করে। ফিউশন লুপে এমন একটি এপিটোপ রয়েছে, যা এমন অ্যান্টিবডিকে আকৃষ্ট করতে পারে, যেগুলো সম্পর্কিত ভাইরাসের সঙ্গে যুক্ত হলেও নির্ভরযোগ্যভাবে সেগুলোকে নিষ্ক্রিয় করে না।

এই অংশে সরাসরি পরিবর্তন আনলে আরেকটি সমস্যা তৈরি হতে পারে। সম্পর্কিত ভাইরাসগুলোর মধ্যে ফিউশন লুপের গঠন প্রায় একই রকম; অর্থাৎ বিবর্তনের ধারায় এর অনুক্রমে খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি। অসতর্কভাবে এতে পরিবর্তন আনলে প্রোটিনের গঠন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং কার্যকর রোগপ্রতিরোধ তৈরি করার টিকার সক্ষমতা কমে যেতে পারে।

এর বদলে গবেষকেরা জিকার ফিউশন লুপের অনুক্রমের জায়গায় বিবর্তনগতভাবে দূরবর্তী, পোকামাকড়-নির্দিষ্ট একটি ফ্ল্যাভিভাইরাসের সংশ্লিষ্ট অনুক্রম বসান। এই প্রতিস্থাপনে ADE-র সঙ্গে সম্পর্কিত অ্যান্টিবডির বাঁধার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তিনটি অ্যামিনো অ্যাসিড বদলে যায়। এরপর গবেষকেরা পরিবর্তিত প্রোটিনগুলোকে সুরক্ষাদায়ী অ্যান্টিবডি এবং সংক্রমণ বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত অ্যান্টিবডি দিয়ে যাচাই করেন, যাতে কাঙ্ক্ষিত শনাক্তকরণ অক্ষুণ্ণ রেখে অনাকাঙ্ক্ষিত শনাক্তকরণ বাদ দেওয়ার উপযোগী নকশা খুঁজে পাওয়া যায়।

বাছাই করা দুটি নকশা, MutB ও MutC, AdC7 টিকায় যুক্ত করা হয়। অ্যাডেনোভাইরাস ভেক্টর হলো অ্যান্টিজেন তৈরির জিনগত নির্দেশ বহনের একটি মাধ্যম। এমআরএনএ টিকায় ওই নির্দেশ বহন করে মেসেঞ্জার আরএনএ। দুটি পদ্ধতিই রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার সামনে পরিকল্পিত অ্যান্টিজেন উপস্থাপন করতে পারে, তবে এগুলো স্বতন্ত্র টিকা-প্ল্যাটফর্ম। এক প্ল্যাটফর্মের ফল অন্যটির কার্যকারিতা প্রমাণ করে না।

ইঁদুরের পরীক্ষায় কী দেখা গেছে

একবার টিকা দেওয়ার পর MutB ও MutC, দুই টিকাই পরীক্ষামূলকভাবে জিকা ভাইরাসের সংস্পর্শে আসা ইঁদুরকে সুরক্ষা দিয়েছে। চীনের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের সারাংশ অনুযায়ী, পরীক্ষা করা লক্ষ্য টিস্যুতে ভাইরাস শনাক্ত হয়নি। সারাংশে এই প্রতিক্রিয়াকে জীবাণুমুক্তিমূলক রোগপ্রতিরোধ বলা হয়েছে; অর্থাৎ শুধু উপসর্গ কমানো নয়, শনাক্তযোগ্য সংক্রমণ ঠেকানোর মতো শক্তিশালী সুরক্ষা।

গর্ভবতী ইঁদুরের ক্ষেত্রে টিকাগুলো ভ্রূণে ভাইরাসের সংক্রমণও ঠেকিয়েছে। পরীক্ষা করা গর্ভফুল বা ভ্রূণের মস্তিষ্কে ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়নি। এটি ছিল কেন্দ্রীয় ফলগুলোর একটি, কারণ গর্ভাবস্থায় জিকা সংক্রমণের সবচেয়ে গুরুতর পরিণতির মধ্যে রয়েছে মাইক্রোসেফালি ও অন্যান্য জন্মগত ত্রুটি।

এই ফলাফলগুলোকে পরীক্ষার নিজস্ব প্রেক্ষাপটের মধ্যেই বিবেচনা করতে হবে। পরীক্ষা করা ইঁদুরের টিস্যুতে শনাক্তযোগ্য ভাইরাস না পাওয়া প্রমাণ করে না যে মানুষের ক্ষেত্রে টিকা সব ভ্রূণের সংক্রমণ ঠেকাবে। প্রভাবের মাত্রা ও স্থায়িত্ব ভালোভাবে মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাণীর সংখ্যা, শনাক্তকরণের বিস্তারিত সীমা বা সুরক্ষার স্থায়িত্বের তথ্য সারাংশে দেওয়া হয়নি।

বিজ্ঞাপন

গর্ভাবস্থার ফলটি রক্তে ভাইরাসের মাত্রা কমানোর চেয়ে আরও কঠিন একটি প্রশ্নের উত্তর দেয়। ২০১৮ সালের পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয়েছিল, আগের কিছু টিকা ও অ্যান্টিবডি-সংক্রান্ত পরীক্ষায় সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও কিছু গর্ভফুল বা ভ্রূণের টিস্যুতে জিকার আরএনএ শনাক্ত হয়েছিল। মায়ের সুরক্ষা এবং ভ্রূণের সংস্পর্শ সম্পূর্ণ ঠেকানো সম্পর্কিত ফল হলেও, এক নয়।

ডেঙ্গুর চারটি সেরোটাইপই পরীক্ষা

টিকা নেওয়া প্রাণীদের সিরাম ডেঙ্গু সংক্রমণ বাড়াতে পারে কি না, তা পরীক্ষাগার ও প্রাণী—দুই ধরনের পরীক্ষাতেই যাচাই করেছে দলটি। ডেঙ্গুর চারটি সেরোটাইপ রয়েছে; নিরাপত্তা মূল্যায়নে ভাইরাসের এই স্বতন্ত্র ধরনগুলোকে আলাদাভাবে বিবেচনা করা দরকার। প্রকাশিত MutB ও MutC ফলাফলে চারটিই অন্তর্ভুক্ত ছিল।

পরিবর্তিত টিকা পাওয়া প্রাণীদের সিরামে বর্ণিত পরীক্ষাগুলোতে ডেঙ্গু ADE দেখা যায়নি। সিরাম স্থানান্তর পরীক্ষায়—যেখানে টিকা নেওয়া প্রাণীর সিরাম অন্য প্রাণীকে দেওয়া হয়—MutB বা MutC-র সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো সংক্রমণ বৃদ্ধিও পাওয়া যায়নি। এ ধরনের পরীক্ষা টিকার প্রতিক্রিয়ার অন্য অংশ থেকে সঞ্চালনশীল অ্যান্টিবডির অবদান আলাদা করে বুঝতে সহায়তা করে।

পরিবর্তনহীন বা ওয়াইল্ড-টাইপ গঠনের সঙ্গে তুলনাটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। প্রাণী-পরীক্ষায় ওই গঠনের সঙ্গে সম্পর্কিত সিরাম রোগকে আরও গুরুতর করেছে এবং মৃত্যু ত্বরান্বিত করেছে। এই পার্থক্য এ ধারণাকে সমর্থন করে যে অ্যান্টিজেনের নকশা অ্যান্টিবডি প্রতিক্রিয়ার ধরন বদলেছে; শুধু এমন একটি টিকা তৈরি করেনি, যা জিকা থেকে সুরক্ষা দেয়।

পরীক্ষিত পরিস্থিতিতে ADE শনাক্ত না হওয়া মানে সব পরিস্থিতিতে ADE হওয়ার সম্ভাবনা নেই, এমন নয়। পরবর্তী গবেষণায় অ্যান্টিবডির ঘনত্ব, আগে সংক্রমণ হয়েছিল কি না এবং টিকা দেওয়ার পর কত সময় পেরিয়েছে, তা বিবেচনা করতে হবে। ২০১৮ সালের পর্যালোচনায় প্রাইমেট-সংক্রান্ত গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে আগে থেকে থাকা ফ্ল্যাভিভাইরাসের অ্যান্টিবডি সতর্কতার সঙ্গে পরিমাপ করার ওপর বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছিল।

রোগপ্রতিরোধী প্রতিক্রিয়া যেভাবে বদলেছে

পরিবর্তিত নকশাগুলো কেন ভিন্নভাবে কাজ করেছে তা জানতে গবেষকেরা ইঁদুরের লিম্ফ নোডের অ্যান্টিজেন-নির্দিষ্ট কোষ থেকে পৃথক B কোষের রিসেপ্টরের অনুক্রম বিশ্লেষণ করেন। B কোষ অ্যান্টিবডি তৈরি করে, আর তাদের রিসেপ্টর থেকে বোঝা যায় অ্যান্টিজেনের কোন অংশগুলো রোগপ্রতিরোধী প্রতিক্রিয়ায় প্রাধান্য পাচ্ছে।

ওয়াইল্ড-টাইপ টিকায় বিশ্লেষণ করা B কোষের রিসেপ্টরের ৬০ শতাংশের বেশি তিনটি গ্রুপের জার্মলাইন জিন ব্যবহার করেছিল। এই উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জিনের খণ্ডগুলো অ্যান্টিবডির শনাক্তকরণ অঞ্চল তৈরিতে সহায়তা করে। MutB ও MutC-তে জিন ব্যবহারের বিন্যাস ছিল আরও বিস্তৃত; পরিবর্তনহীন অ্যান্টিজেনে দেখা ঘনীভবন আর ছিল না।

বিজ্ঞাপন

এরপর দলটি প্রাধান্য পাওয়া গ্রুপগুলো থেকে নমুনা অ্যান্টিবডি তৈরি করে। ওয়াইল্ড-টাইপ টিকায় তৈরি অ্যান্টিবডিগুলো ফিউশন লুপকে লক্ষ্য করেছিল, ডেঙ্গুর চারটি সেরোটাইপের সঙ্গেই যুক্ত হয়েছিল এবং উল্লেখযোগ্য ADE দেখিয়েছিল। MutB ও MutC-তে তৈরি প্রাধান্যশীল অ্যান্টিবডিগুলো ডেঙ্গু সেরোটাইপগুলোর সঙ্গে সামান্য যুক্ত হয়েছিল এবং প্রকাশিত পরীক্ষাগুলোতে ADE দেখায়নি।

MutC-র গাঠনিক বিশ্লেষণ এর একটি ভৌত ব্যাখ্যা দিয়েছে। পরিবর্তিত প্রোটিনটি E প্রোটিনের জোড়াবদ্ধ বিন্যাস অক্ষুণ্ণ রেখেছিল, যা সুরক্ষাদায়ী অ্যান্টিবডির শনাক্তকরণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পরিবর্তিত ফিউশন লুপে অণুর আকৃতি ও বৈদ্যুতিক আধানের পরিবর্তন সংক্রমণ বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত অ্যান্টিবডির বাঁধায় বাধা দিয়েছিল। রিসেপ্টর বিশ্লেষণ, অ্যান্টিবডি পরীক্ষা ও গাঠনিক গবেষণা একসঙ্গে প্রবন্ধের শিরোনামে থাকা ইমিউনোডমিন্যান্স সুইচের ব্যাখ্যা দেয়: আগে প্রাধান্য পাওয়া একটি লক্ষ্য থেকে রোগপ্রতিরোধী প্রতিক্রিয়া সরে গিয়েছিল।

সময়রেখা ও প্রমাণের সীমা

এই ফল কয়েক বছর ধরে চলা গবেষণার ধারার অংশ। তারিখগুলো আলাদা করে রাখলে আগের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তথ্য বা পরের ইঁদুর-পরীক্ষার ফলকে নতুন কোনো প্রাইমেট টিকা-সাফল্য হিসেবে উপস্থাপনের ঝুঁকি এড়ানো যায়।

  • ২০১৫ থেকে ২০১৬: জিকা মহামারি আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থায় রূপ নেয়; ভ্রূণের ক্ষতি ছিল কেন্দ্রীয় উদ্বেগ।
  • ২০১৬ সাল থেকে: চীনা গবেষক দল জিকা E প্রোটিনের গঠন ও সুরক্ষাদায়ী অ্যান্টিবডি নিয়ে গবেষণা করে, যা অ্যান্টিজেন নতুন করে নকশা করার ভিত্তি গড়ে দেয়।
  • ২০১৮: একাডেমিক পর্যালোচনায় টিকার ট্রায়াল, প্রাণীর ওপর সুরক্ষা-সংক্রান্ত গবেষণা এবং ডেঙ্গু সংক্রমণ বৃদ্ধি ও ভ্রূণের সুরক্ষা নিয়ে অমীমাংসিত উদ্বেগের বিবরণ দেওয়া হয়।
  • ২০২০: চীনের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের সারাংশে উদ্ধৃত একটি মানব-কোহর্ট গবেষণায় আগে জিকা সংক্রমণের সঙ্গে পরবর্তী ডেঙ্গুর বেশি তীব্রতার যোগসূত্র পাওয়া যায়।
  • ১৫ জুলাই ২০২১: MutB ও MutC গবেষণা Nature Immunology-তে অনলাইনে প্রকাশিত হয়।

২০১৮ সালের পর্যালোচনায় এমআরএনএ, ডিএনএ ও নিষ্ক্রিয় ভাইরাসের টিকাসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে চলমান জিকা টিকার ১৩টি ট্রায়ালের কথা বলা হয়েছিল। এই সংখ্যা সে সময়কার গবেষণাক্ষেত্রের চিত্র, বর্তমান ট্রায়ালের অবস্থার নয়। একইভাবে, ২০২১ সালের বিবরণে বলা হয়েছিল তখন পর্যন্ত কোনো জিকা টিকা অনুমোদিত হয়নি; তা দিয়ে আজকের নিয়ন্ত্রক অবস্থান নির্ধারণ করা যায় না।

MutB ও MutC-র ফলাফলে মানুষের ক্ষেত্রে কার্যকারিতার ফল, মানুষের গর্ভাবস্থায় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্য বা ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার সময়সূচি নেই। ভবিষ্যতে শুনানি, নিয়ন্ত্রক সিদ্ধান্ত বা ট্রায়াল শুরুর কোনো তারিখও উল্লেখ করা হয়নি। পরবর্তী মূল্যায়নে সুরক্ষার স্থায়িত্ব, আগে ডেঙ্গুতে সংস্পর্শে আসার প্রভাব, গর্ভাবস্থায় সুরক্ষা এবং সময়ের সঙ্গে অ্যান্টিবডির মাত্রা বদলালেও প্রতিক্রিয়া অনুকূল থাকে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে হবে।

অতএব অগ্রগতিটি নির্দিষ্ট: অ্যান্টিজেনে পরিকল্পিত পরিবর্তন ইঁদুরের পরীক্ষায় জিকার বিরুদ্ধে সুরক্ষা অক্ষুণ্ণ রেখেছে এবং শনাক্তযোগ্য ডেঙ্গু সংক্রমণ বৃদ্ধি দূর করেছে। এটি নকশার একটি কৌশলের পক্ষে প্রমাণ দেয়; তবে প্রাইমেটে মূল্যায়ন, ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রক পর্যালোচনার পৃথক ধাপগুলো এখনো বাকি।

মূল তথ্য

  • MutB ও MutC ছিল AdC7 ভেক্টরের টিকা, যা ইঁদুরে পরীক্ষা করা হয়েছে; রিসাস বানরে পরীক্ষা করা এমআরএনএ টিকা নয়।
  • প্রতিবেদিত পরীক্ষায় একবার টিকা ইঁদুরকে জিকা থেকে সুরক্ষা দিয়েছে এবং ভ্রূণের টিস্যুতে শনাক্তযোগ্য সংক্রমণ ঠেকিয়েছে।
  • পরীক্ষিত পরিস্থিতিতে রোগপ্রতিরোধী সিরামে ডেঙ্গুর চারটি সেরোটাইপের কোনোটির বিরুদ্ধেই ADE দেখা যায়নি।
  • সুরক্ষাদায়ী অ্যান্টিবডির লক্ষ্য অক্ষুণ্ণ রেখে E প্রোটিনের ফিউশন লুপে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যামিনো অ্যাসিড বদলানো হয়েছিল।
  • B কোষ ও গাঠনিক বিশ্লেষণে ডেঙ্গু সংক্রমণ বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত অ্যান্টিবডি থেকে প্রতিক্রিয়া সরে যাওয়ার পক্ষে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
  • গবেষণাটি ২০২১ সালের ১৫ জুলাই প্রকাশিত হয়; এতে মানুষের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বা কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে