চীনে ১ কোটির বেশি চালান কমলেও হুয়াওয়ের প্রবৃদ্ধি
ইন্টারন্যাশনাল ডেটা করপোরেশনের (আইডিসি) ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত প্রাথমিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে চীনের স্মার্টফোন বাজারে প্রায় ৫ কোটি ৭৯ লাখ ডিভাইস চালান হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫.৪% কম। এই পতনের বিপরীতে এগিয়েছে হুয়াওয়ে। প্রতিষ্ঠানটি ১ কোটি ২২ লাখ ফোন চালান করেছে, বাজারের ২১.১% হিস্যা দখল করেছে। শিল্পজুড়ে যন্ত্রাংশের ব্যয় বাড়ায় দামও বেড়েছে।
সূচিপত্র
- চীনে ১ কোটির বেশি চালান কমলেও হুয়াওয়ের প্রবৃদ্ধি
- হুয়াওয়ের এগিয়ে থাকা কেন গুরুত্বপূর্ণ
- নতুন আইফোনের জোরালো সূচনাও পতন ঠেকাতে পারেনি
- প্রতিদ্বন্দ্বীদের ক্ষতির মাত্রা এক নয়
- মেমোরির বাড়তি ব্যয় ক্রেতাদের পকেটে চাপ ফেলছে
- ক্রেতারা ফোন বেশি দিন ব্যবহার করছেন
- চীনের মন্দা বৃহত্তর বৈশ্বিক সংকোচনের অংশ
- নির্মাতারা চালানের সংখ্যার চেয়ে মুনাফাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন
- পরবর্তী প্রান্তিকগুলোতে যা যাচাই হবে
- মূল বিষয়গুলো
পরিসংখ্যানে বছরের প্রথমার্ধে নথিভুক্ত প্রায় ৪% পতনের তুলনায় বাজারের আরও তীব্র সংকোচনের চিত্র উঠে এসেছে। সর্বশেষ চালানের মোট সংখ্যা ও বার্ষিক পতনের হার ধরে হিসাব করলে, ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে চীনের বাজারে প্রায় ৬ কোটি ৮৪ লাখ স্মার্টফোন চালান হয়েছিল। অর্থাৎ, এ প্রান্তিকে বাজারে প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ কম ডিভাইস এসেছে। তবে প্রকাশিত পরিসংখ্যানগুলো পূর্ণসংখ্যায় গোল করে দেওয়ায় হিসাবটি আনুমানিক।
বড় নির্মাতাদের মধ্যে শুধু হুয়াওয়েই বার্ষিক চালান প্রবৃদ্ধি ১০% বা তার বেশি অর্জন করেছে। চালান ৪.৩% কমলেও ১৭.৮% বাজার হিস্যা নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিল অ্যাপল। অপো, ভিভো ও শাওমির চালান অনেক বেশি কমেছে। আগের প্রান্তিকের তুলনায় বেশি ফোন চালান করতে পেরেছে শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে শুধু অনার।
বাজারের ওপর মূল চাপ এসেছে দাম বৃদ্ধি ও কেনাকাটা পিছিয়ে দেওয়ার সম্মিলিত প্রভাবে। আইডিসি জানিয়েছে, সংরক্ষণক্ষমতা ও অন্যান্য যন্ত্রাংশের বাড়তি ব্যয় নির্মাতারা ক্রেতাদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে; কোনো কোনো ক্ষেত্রে পণ্যের বৈশিষ্ট্যও বদলাচ্ছে। ক্রেতারা ফোন বদলাতে আগের চেয়ে বেশি সময় নিচ্ছেন। ফলে ডিভাইসের দাম বাড়লেও বাজারে চালানের সংখ্যা কমছে।
হুয়াওয়ের এগিয়ে থাকা কেন গুরুত্বপূর্ণ
আইডিসির মতে, হুয়াওয়ের ভালো ফলের পেছনে রয়েছে পণ্যের বিস্তৃত তালিকা এবং তুলনামূলক সংযত মূল্যবৃদ্ধি। এতে প্রতিদ্বন্দ্বী ডিভাইসগুলোর মতো দামের ধাক্কা না দিয়ে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানোর আরও সুযোগ পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তাই এর প্রবৃদ্ধি শুধু সংকুচিত বাজারে বাজার হিস্যা বেড়ে যাওয়ার ফল নয়; চালানের সংখ্যাও বেড়েছে।
হুয়াওয়ের ২১.১% বাজার হিস্যা অ্যাপলের চেয়ে ৩.৩ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। দুই প্রতিষ্ঠান মিলে চীনের স্মার্টফোন চালানের ৩৮.৯% দখল করেছে। অ্যাপলের বাজার হিস্যা অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির চালান ছিল আনুমানিক ১ কোটি ৩ লাখ ইউনিট। ফলে চালানের সংখ্যায় হুয়াওয়ে প্রায় ১৯ লাখ ফোনে এগিয়ে ছিল।
কিছু প্রতিবেদনে হুয়াওয়ের বাজার হিস্যা ২১% বলা হয়েছে, তবে আরও নির্দিষ্ট হিসাবটি ২১.১%। দুই হিসাবই ৫ কোটি ৭৯ লাখের বাজারে ১ কোটি ২২ লাখ চালানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। হুয়াওয়ের সুনির্দিষ্ট বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার বা পৃথক মডেলগুলোর অবদান পরিসংখ্যানে দেওয়া হয়নি। তাই কোন ডিভাইসগুলো এর প্রবৃদ্ধির বেশির ভাগ এনে দিয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না।
নতুন আইফোনের জোরালো সূচনাও পতন ঠেকাতে পারেনি
অ্যাপলের নতুন আইফোনগুলো আইডিসির প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সাড়া পেলেও, চীনে প্রতিষ্ঠানটির চালান আগের বছরের তুলনায় ৪.৩% কমেছে। আইডিসি এই পতনের কারণ হিসেবে এ বছর কমসংখ্যক মডেল উন্মোচনের কথা বলেছে। নির্দিষ্ট কিছু ফোনের জোরালো চাহিদা সীমিত পণ্যতালিকার প্রভাব পুরোপুরি পুষিয়ে দিতে পারেনি।
তবু সামগ্রিক চীনা বাজারের তুলনায় অ্যাপলের ফল ভালো ছিল। প্রতিষ্ঠানটির চালান কমেছে বাজারের ১৫.৪% সংকোচনের চেয়ে ১১.১ শতাংশ পয়েন্ট কম হারে। এটি চালানের পরিবর্তনের তুলনা; অ্যাপলের বিক্রয় আয় বা মুনাফা বেড়েছে—এমন প্রমাণ নয়।
কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের বৈশ্বিক মূল্যায়নে নতুন ফোন উন্মোচনের আরও বিস্তারিত চিত্র পাওয়া যায়। তাদের মতে, বেস মডেলের আইফোন ১৮ না থাকায় উন্মোচনের মাসে আগের বছর আইফোন ১৭-এর পুরো পণ্যতালিকার তুলনায় বিতরণ চ্যানেলে পাঠানো ডিভাইসের সংখ্যা কমেছে। আইফোন ১৮ প্রো মডেলগুলোর সূচনা আগের মডেলগুলোর চেয়ে জোরালো ছিল, বিশেষ করে চীন ও ভারতে। আইফোন ১৭ সিরিজের অব্যাহত চাহিদাও পতনের মাত্রা কমিয়েছে।
এই ফলাফলগুলো ব্যাখ্যা করে, কেন সফল প্রিমিয়াম ফোন উন্মোচনের পাশাপাশি মোট চালান কমতে পারে। তবে চীনের ক্রেতারা কতটি আইফোন ১৮ প্রো কিনেছেন, বা অ্যাপলের চীনা বাজারে পতনের কতটা কোন মডেলের কারণে—তা থেকে জানা যায় না।
প্রতিদ্বন্দ্বীদের ক্ষতির মাত্রা এক নয়
হুয়াওয়ের দেশীয় প্রতিদ্বন্দ্বীদের চালান কমার হার ছিল বিভিন্ন। ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের তুলনায় অপোর চালান ১৭.৬%, শাওমির ২০.৪% এবং ভিভোর ২৪.৯% কমেছে। তিন প্রতিষ্ঠানেরই সংকোচনের হার চীনের সামগ্রিক স্মার্টফোন বাজারের চেয়ে বেশি।
উল্লেখিত ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে ভিভোর পতন ছিল সবচেয়ে বড়, যা বাজারের গড় পতনের চেয়ে ৯.৫ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। শাওমির পতন গড়ের চেয়ে ৫ শতাংশ পয়েন্ট বেশি, আর অপোর ক্ষেত্রে ব্যবধান ২.২ পয়েন্ট। এই পার্থক্য দেখায়, বাজারের মন্দার প্রভাব সব নির্মাতার ওপর সমানভাবে পড়েনি।
অনার থেকে এসেছে সীমিত ইতিবাচক ইঙ্গিত: দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় চালান বেড়েছে শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে শুধু তাদের। আইডিসির মতে, এই উন্নতি সম্ভাব্য ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয়। তবে আগের প্রান্তিকের তুলনায় প্রবৃদ্ধি বার্ষিক প্রবৃদ্ধি বা পুরো শিল্পের পুনরুদ্ধার প্রমাণ করে না। অনারের চালানের মোট সংখ্যা বা প্রবৃদ্ধির হার জানানো হয়নি।
মেমোরির বাড়তি ব্যয় ক্রেতাদের পকেটে চাপ ফেলছে
আইডিসির জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক আর্থার গুও বলেন, যন্ত্রাংশের বাড়তি ব্যয় নির্মাতারা ক্রেতাদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছেন। এতে চালানের পরিমাণ কমলেও খুচরা দাম বাড়ছে। আইডিসি আরও জানিয়েছে, কিছু প্রতিষ্ঠান পণ্যের বৈশিষ্ট্য বদলেছে, যা ক্রেতাদের ফোন হালনাগাদ করার আগ্রহ আরও কমিয়ে দিচ্ছে।
চীনসংক্রান্ত তথ্য থেকে বোঝা যায়, যন্ত্রাংশের ব্যয় খুচরা দামে প্রভাব ফেলছে। তবে দাম কতটা বেড়েছে বা বাড়তি ব্যয়ের কত অংশ ক্রেতাদের ওপর চাপানো হয়েছে, তার পরিমাণ দেওয়া হয়নি। হুয়াওয়ের তুলনামূলক সংযত মূল্যবৃদ্ধি ইঙ্গিত দেয়, নির্মাতাভেদে প্রতিক্রিয়াও ভিন্ন ছিল।
১২ অক্টোবর প্রকাশিত তাদের বৈশ্বিক চালান মূল্যায়নে কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ চাপের বড় কারণ হিসেবে ডিআরএএম ও ন্যান্ডের দাম বৃদ্ধির কথা বলেছে। চালু অ্যাপ্লিকেশনগুলো যে কার্যকরী মেমোরি ব্যবহার করে, তা ডিআরএএম; আর ছবি, সফটওয়্যার ও অন্যান্য ফাইল সংরক্ষিত থাকে ন্যান্ডে। এসব যন্ত্রাংশের দাম বাড়লে ফোন তৈরির ব্যয়ও বাড়ে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, মেমোরির ঘাটতিও সরবরাহে বাধা দিচ্ছে। ফলে নির্মাতারা একই সঙ্গে দুটি সমস্যার মুখে: যন্ত্রাংশের দাম বেশি, আর পর্যাপ্ত যন্ত্রাংশ জোগাড় করাও কঠিন হতে পারে। কাউন্টারপয়েন্টের অনুমান, ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোনের খুচরা দাম ২০% বেড়েছে। এটি বৈশ্বিক হিসাব, চীনে ২০% মূল্যবৃদ্ধির পরিমাপ নয়।
২০% বৃদ্ধির হিসাবটি খুচরা দামের, গড় বিক্রয়মূল্যের নয়। কাউন্টারপয়েন্ট জানিয়েছে, গড় বিক্রয়মূল্যও বেড়েছে, তবে সেই পরিবর্তনের কোনো হার দেয়নি।
ক্রেতাদের ওপর প্রভাব শুধু দামের ট্যাগে সীমিত নয়। ব্যয় সামাল দিতে নির্মাতা পণ্যের বৈশিষ্ট্য বদলালে, ক্রেতার কাছে নিজের বর্তমান ফোনের তুলনায় নতুন ফোনটি কম আকর্ষণীয় মনে হতে পারে। আইডিসির তথ্য বলছে, দাম বৃদ্ধি ও পণ্যের বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন—দুটিই ফোন বদলানোর সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছে।
ক্রেতারা ফোন বেশি দিন ব্যবহার করছেন
বাজারের পুনরুদ্ধার কঠিন হওয়ার একটি কারণ হলো ফোন বদলানোর সময়সীমা দীর্ঘ হওয়া। আইডিসি বলেছে, বাড়তি দামের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে ক্রেতাদের সময় লাগবে। কাউন্টারপয়েন্টও জানিয়েছে, ক্রেতারা ডিভাইস বেশি দিন ব্যবহার করছেন এবং সংস্কার করা পুরোনো ফোন কেনার কথা ক্রমে বেশি ভাবছেন। অন্যদিকে, সস্তা ফোনের তুলনায় প্রিমিয়াম ডিভাইসের চাহিদা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে।
কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক শিলপি জৈন বলেন, মেমোরির ঘাটতি কীভাবে ক্রেতাদের কেনাকাটার সিদ্ধান্ত ও নির্মাতাদের কৌশল বদলে দিচ্ছে:
তৃতীয় প্রান্তিকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো মেমোরি সংকটের পূর্ণ অভিঘাত পড়েছে। মেমোরির তীব্র ঘাটতি স্মার্টফোন বাজারকে আরও বাছাইনির্ভর পর্যায়ে ঠেলে দিচ্ছে; এতে নির্মাতাদের কৌশল, এমনকি ক্রেতাদের আচরণও বদলে যাচ্ছে।
এখানে ‘ওইএম’ বলতে মূল সরঞ্জাম নির্মাতাকে বোঝানো হয়েছে, অর্থাৎ যে প্রতিষ্ঠানগুলো স্মার্টফোন তৈরি ও বিক্রি করে। জৈনের মূল্যায়নে ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে পণ্যের ধরন ও মূল্য নির্ধারণে পরিবর্তনের যোগসূত্র তুলে ধরা হয়েছে। কম ফোন চালান করলেও মুনাফা রক্ষায় কোনো নির্মাতা বেশি দামের ডিভাইসে মনোযোগ দিতে পারে।
এতে আরও বোঝা যায়, চালানের সংখ্যা কমলেই গড় দাম কমে যায় না। বাজেট ফোনের ক্রেতারা কেনাকাটা পিছিয়ে দিলে এবং চালানে প্রিমিয়াম মডেলের অংশ বাড়লে গড় বিক্রয়মূল্য বেড়ে যেতে পারে। শিল্পের আয়ে এর ফলে কী পরিবর্তন হয়েছে, তা হিসাব করার মতো আর্থিক তথ্য আইডিসির চীনের পরিসংখ্যান বা কাউন্টারপয়েন্টের বৈশ্বিক মূল্যায়ন—কোনোটিতেই নেই।
চীনের মন্দা বৃহত্তর বৈশ্বিক সংকোচনের অংশ
কাউন্টারপয়েন্টের অনুমান, ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোন চালান ২০% কমেছে এবং ২০১২ সালের পর তৃতীয় প্রান্তিকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। চীনে ১৫.৪% পতন এই হারের চেয়ে ৪.৬ শতাংশ পয়েন্ট কম। তবে হিসাব দুটি ভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের এবং ভিন্ন ভৌগোলিক বাজারের।
কাউন্টারপয়েন্টের পরিসংখ্যান তাদের মার্কেট মনিটর সেবার প্রাথমিক হিসাব। বাজার হিস্যায় গণনা করা হয়েছে বিতরণ চ্যানেলে পাঠানো চালান, ক্রেতাদের কেনাকাটা নয়।
বৈশ্বিক বাজারের শীর্ষস্থানীয়দের তালিকাও চীনের চেয়ে আলাদা। ২৩% বাজার হিস্যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চালানে এগিয়ে ছিল স্যামসাং, এরপর ২২% নিয়ে অ্যাপল। স্যামসাংয়ের চালান ৩% কমলেও বাজার হিস্যা বেড়েছে, কারণ সামগ্রিক বাজারের তুলনায় তাদের পতন কম ছিল। কাউন্টারপয়েন্ট এর পেছনে স্থিতিশীল যন্ত্রাংশ সরবরাহ এবং গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড৮ সিরিজের শুরুতে জোরালো চাহিদার কথা বলেছে।
বৈশ্বিকভাবে ১০% বাজার হিস্যা নিয়ে তৃতীয় স্থানে ছিল শাওমি। এরপর অপো—যার মধ্যে ওয়ানপ্লাস ও রিয়েলমি অন্তর্ভুক্ত—৯% এবং ভিভো ৮% নিয়ে রয়েছে।
চালানের পরিমাণ কমলেও তৃতীয় প্রান্তিকে প্রথমবারের মতো অ্যাপলের বৈশ্বিক বাজার হিস্যা ২০% ছাড়িয়েছে। এতে চীনের ক্ষেত্রেও প্রাসঙ্গিক একটি বিষয় স্পষ্ট হয়: বাজার হিস্যা হলো মোট বাজারে কোনো প্রতিষ্ঠানের অংশ। তাই কোনো প্রতিষ্ঠান কম ডিভাইস চালান করলেও তার বাজার হিস্যা বাড়তে পারে।
তাই চীনে হুয়াওয়ের এগিয়ে থাকাকে বৈশ্বিক অবস্থান হিসেবে দেখা উচিত নয়। দেশীয় ফলাফল চীনে প্রতিষ্ঠানটির পারফরম্যান্স তুলে ধরে, আর কাউন্টারপয়েন্টের তথ্য বিশ্বজুড়ে চালান ও ভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতির চিত্র দেয়।
নির্মাতারা চালানের সংখ্যার চেয়ে মুনাফাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন
কাউন্টারপয়েন্টের মূল্যায়ন বলছে, দুর্বল চাহিদার পাশাপাশি বাণিজ্যিক কৌশলগত সিদ্ধান্তের কারণেও কিছু প্রতিষ্ঠানের চালান কমেছে। চীনে শাওমির চালান ২০.৪% কমলেও বিশ্বজুড়ে কমেছে ৩০%-এর বেশি। নিজেদের প্রধান অগ্রাধিকারের বাইরে সস্তা ডিভাইস ও বিদেশি বাজারে শাওমির নির্ভরতা কমেছে। কম লাভজনক দামে বিক্রি এড়াতে প্রতিষ্ঠানটি চালানের পরিকল্পনাও কঠোর করেছে।
একই সময়ে, কাউন্টারপয়েন্ট জানিয়েছে, চীনের উচ্চ-মধ্যম ও প্রিমিয়াম বাজারে নিজেদের অবস্থান জোরদার করছে শাওমি। তাদের শাওমি ১৮ সিরিজ ও ভাঁজযোগ্য ফোনগুলো ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। পাশাপাশি, এক্সরিং ও৩ চিপসেট প্রিমিয়াম ডিভাইসগুলোকে স্বতন্ত্র করেছে। এসব বিভাগে ভালো ফল করলেও চীনে শাওমির মোট চালান কমেছে।
অপো ও ভিভোর বৈশ্বিক চালান—দুটিই ২০%-এর বেশি কমেছে। কাউন্টারপয়েন্টের মতে, পণ্যের তালিকা ও কার্যক্রমে পুনর্বিন্যাস করে অপো, রিয়েলমি ও ওয়ানপ্লাসের মধ্যে পুনরাবৃত্তি এবং ব্যয় কমিয়েছে অপো। ভিভো ভারত ও চীনের বাজারকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। তবে দাম বাড়ায় কিছু বাজেট ফোন গুরুত্বপূর্ণ মূল্যসীমার বাইরে চলে যায়, আর মজুতের ঘাটতিও চালানে বাধা দেয়।
এই বৈশ্বিক তথ্য থেকে চীনে আইডিসির বর্ণনা করা ব্যয়ের চাপের আরও বিস্তারিত চিত্র পাওয়া যায়। তবে দেশীয় বাজারে চালান কমার পেছনে প্রতিটি কৌশলের সুনির্দিষ্ট অবদান এতে নির্ধারিত হয়নি। তা সত্ত্বেও, কম লাভে বেশি ফোন বিক্রির বদলে নির্মাতারা কেন কম চালান মেনে নিতে পারে, তা এতে স্পষ্ট হয়।
পরবর্তী প্রান্তিকগুলোতে যা যাচাই হবে
আইডিসির পূর্বাভাস, সংরক্ষণক্ষমতা ও অন্যান্য উপকরণের ব্যয় আগামী কয়েক প্রান্তিকেও বেশি থাকবে, ফলে ফোনের দাম আবারও বাড়তে পারে। চতুর্থ প্রান্তিকে বহু নতুন মডেল আসার কথা থাকলেও, চীনের স্মার্টফোন বাজারে উল্লেখযোগ্য পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা কম বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি। ব্যয়ের চাপ ২০২৭ সাল পর্যন্ত চলতে পারে।
ঘটনাপ্রবাহে দেখা যাচ্ছে, মন্দা কত দ্রুত তীব্র হয়েছে:
- ২০২৬ সালের প্রথমার্ধ: চীনে স্মার্টফোন চালান আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪% কমেছে।
- ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিক: চালান ১৫.৪% কমে প্রায় ৫ কোটি ৭৯ লাখ ইউনিটে দাঁড়িয়েছে।
- ১২ অক্টোবর ২০২৬: কাউন্টারপয়েন্ট বৈশ্বিক চালান ২০% কমার প্রাথমিক হিসাব প্রকাশ করেছে।
- ১৩ অক্টোবর ২০২৬: আইডিসির চীনের প্রাথমিক পরিসংখ্যানে ১ কোটি ২২ লাখ চালান নিয়ে হুয়াওয়ে শীর্ষে ছিল।
- ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিক ও ২০২৭ সাল: নতুন পণ্য উন্মোচন সত্ত্বেও আইডিসি যন্ত্রাংশের ব্যয়ের চাপ অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে।
কাউন্টারপয়েন্ট আরও বলেছে, যন্ত্রাংশের ব্যয় ও সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত বৈশ্বিক চালানে অর্থবহ পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা কম। ক্রেতারা ডিভাইস কিনতে না পারলে বা নির্মাতারা সাশ্রয়ী দামে পর্যাপ্ত যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করতে না পারলে, শুধু নতুন পণ্য উন্মোচনে পরিস্থিতি বদলানো কঠিন হতে পারে।
এখনও যেসব বিষয় অনিশ্চিত, তার মধ্যে রয়েছে খুচরা দাম আরও কতটা বাড়বে, অনার আগের প্রান্তিকের উন্নতি ধরে রাখতে পারবে কি না, এবং প্রতিদ্বন্দ্বীরা চালান কমানোর মধ্যেও হুয়াওয়ে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারবে কি না। হিসাবগুলো এখনো প্রাথমিক; হালনাগাদ পরিসংখ্যান বা পরবর্তী প্রান্তিকের তথ্য প্রকাশের নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি।
মূল বিষয়গুলো
- ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে চীনে প্রায় ৫ কোটি ৭৯ লাখ স্মার্টফোন চালান হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫.৪% কম।
- হুয়াওয়ে ১ কোটি ২২ লাখ ফোন চালান করে ২১.১% বাজার হিস্যা নিয়ে শীর্ষে ছিল; পণ্যের বিস্তৃত তালিকা ও সংযত মূল্যবৃদ্ধি এতে সহায়তা করেছে।
- অ্যাপলের বাজার হিস্যা ছিল ১৭.৮%; প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সাড়া পেলেও প্রতিষ্ঠানটির চালান ৪.৩% কমেছে।
- অপো, শাওমি ও ভিভোর বার্ষিক চালান যথাক্রমে ১৭.৬%, ২০.৪% ও ২৪.৯% কমেছে।
- শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে শুধু অনারের চালান আগের প্রান্তিকের তুলনায় বেড়েছে।
- মেমোরির বাড়তি ব্যয়, দাম বৃদ্ধি এবং ফোন বদলানোর দীর্ঘতর সময়সীমা চাহিদার ওপর চাপ ফেলছে।
- আইডিসির পূর্বাভাস, চতুর্থ প্রান্তিকে পুনরুদ্ধার দুর্বল থাকবে; ব্যয়ের চাপ ২০২৭ সাল পর্যন্ত চলতে পারে।






