সম্ভাব্য রেকর্ড দামের বিক্রির আগে বিরল জনসমক্ষে প্রদর্শনী
২০২৬ সালের ১৩ অক্টোবর হংকংয়ে শত শত মানুষ সারি বেঁধেছিলেন ভিনসেন্ট ভ্যান গঘের Chestnut Trees in Blossom দেখতে। ছবিটি সর্বশেষ জনসমক্ষে প্রদর্শিত হয়েছিল ১৯৬৪ সালে নিউইয়র্কের সলোমন আর. গুগেনহাইম জাদুঘরে। জনসাধারণের সামনে ছবিটির প্রত্যাবর্তন ঘটছে ১৮ নভেম্বর নিউইয়র্কে সোথেবির নিলামের আগে। সেখানে ফি ছাড়া এর সম্ভাব্য দাম প্রায় ১৮ কোটি ডলার।
সূচিপত্র
- সম্ভাব্য রেকর্ড দামের বিক্রির আগে বিরল জনসমক্ষে প্রদর্শনী
- ১৮ কোটি ডলারের হিসাবটি আসলে কী বোঝায়
- ভ্যান গঘের ছবির মধ্যেও কেন এটি বিরল
- পরিচিত রাস্তা রঙে বদলে গেল
- আশাবাদী রং, নাকি আরও অস্বস্তিকর দৃশ্য?
- ভ্যান গঘ পরিবার থেকে ব্যক্তিগত সংগ্রাহকদের কাছে
- সংগ্রহ ও এর আইনি ইতিহাস
- লন্ডন থেকে নিউইয়র্কের পথে
- নিলাম থেকে যা জানা যাবে
- মূল তথ্য
ভ্যান গঘের জীবনের শেষ দুই মাসে, ১৮৯০ সালের মে মাসে, আভের-সুর-ওয়াজে আঁকা ছবিটি প্রয়াত আর্জেন্টাইন সংগ্রাহক নেলি আরিয়েতা দে ব্লাকিয়ের ও কার্লোস পেদ্রো ব্লাকিয়েরের সংগ্রহের ১২টি ছবির একটি। এ সংগ্রহ থেকে প্রায় ৪৫ কোটি ডলার উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ক্লদ মনে, পল সেজান, কামিল পিসারো, পিয়ের-অগুস্ত রেনোয়া, এদগার দেগা ও পল গগ্যাঁর কাজও রয়েছে।
ছবিটির ফরাসি শিরোনাম Châtaigniers en fleurs। ইংরেজি শিরোনাম হিসেবে Blossoming Chestnut Trees-ও ব্যবহৃত হয়। দৃশ্যজুড়ে রয়েছে ফুলে ভরা গাছের বিস্তৃত ছাউনি, তার নিচে একা এক পুরুষ ও ছাতা হাতে তিন নারী। পুরু রঙের প্রলেপ এবং রঙের তীব্র বৈপরীত্য ছবিটির আবহ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যার জন্ম দিয়েছে—নতুন আশাবাদ থেকে নিঃসঙ্গতা পর্যন্ত।
দর্শনার্থীদের কাছে তাৎক্ষণিক আকর্ষণ ছিল নিলামের অঙ্ক নয়, বরং সচরাচর দেখা যায় না এমন একটি ভ্যান গঘের সামনে দাঁড়ানোর সুযোগ। শেনঝেনের ৫০ বছর বয়সী শিল্পানুরাগী লি শানশান ছবিটি দেখতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা পথ পাড়ি দিয়ে এসেছেন। কেন তিনি এ যাত্রা করেছেন, তা ব্যাখ্যা করে বলেন:
এই ছবির কথা আগে কখনো শুনিনি, তাই নিজের চোখে দেখতে চেয়েছিলাম।
সারিতে মানুষের উপস্থিতি জনসাধারণের আগ্রহের প্রমাণ দিয়েছে। সেই আগ্রহ প্রত্যাশিত দামে দর হাঁকায় রূপ নেবে কি না, তা ঠিক হবে নিউইয়র্কে।
১৮ কোটি ডলারের হিসাবটি আসলে কী বোঝায়
প্রত্যাশিত ১৮ কোটি ডলারের অঙ্কটি হলো হাতুড়ি-দাম—নিলাম পরিচালকের বিজয়ী দর গ্রহণের সময় যে দাম দাঁড়ায়। ক্রেতার প্রিমিয়াম, অর্থাৎ ওই দরের সঙ্গে নিলামঘরের নেওয়া ফি যোগ হলে, ঘোষিত মোট দাম দাঁড়াবে আনুমানিক ২০ কোটি ৭০ লাখ ডলার।
ভ্যান গঘের বিদ্যমান নিলাম-রেকর্ডের সঙ্গে তুলনার ক্ষেত্রে এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। ২০২২ সালে নিউইয়র্কে ক্রিস্টিজের নিলামে Orchard with Cypresses ফিসহ ১১ কোটি ৭২ লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছিল। Chestnut Trees in Blossom-এর মোট দাম ২০ কোটি ৭০ লাখ ডলারে পৌঁছালে তা ওই রেকর্ড ৮ কোটি ৯৮ লাখ ডলার, বা প্রায় ৭৭ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। তবে এটি পূর্বাভাস, অর্জিত বিক্রয়মূল্য নয়।
সোথেবি অপ্রকাশিত অঙ্কে ছবিটির জন্য বিক্রয়-নিশ্চয়তা দিয়েছে। বিক্রয়-চুক্তির অধীনে এমন নিশ্চয়তা বিক্রেতার কাছে একটি আর্থিক অঙ্গীকার স্থির করে, কিন্তু দরদাতারা প্রত্যাশিত দামে পৌঁছাবেন—তা নিশ্চিত করে না। নিশ্চয়তার অঙ্ক বা শেষ পর্যন্ত কে ছবিটি কিনবেন, কোনোটিই জানা নেই।
নিলামের রেকর্ড ব্যক্তিগত বিক্রয়মূল্য থেকেও আলাদা। পরিবারের সংগ্রহে থাকা ভ্যান গঘের আরেকটি ছবি, Seated Zouave, ২০২৫ সালের নভেম্বরে ক্রিস্টিজের মাধ্যমে ব্যক্তিগতভাবে ১৯ কোটি ডলারে বিক্রি হয়েছিল বলে খবর পাওয়া যায়। সম্ভবত ওই অঙ্কে ফিও অন্তর্ভুক্ত ছিল, যদিও শর্তাবলি জনসমক্ষে নিশ্চিত করা হয়নি। এই যোগ্যতাটি উল্লেখ না করে ওই দামকে নিলামের ফল হিসেবে ধরা বা হাতুড়ি-দামের পূর্বাভাসের সঙ্গে তুলনা করা যায় না।
ভ্যান গঘের ছবির মধ্যেও কেন এটি বিরল
Chestnut Trees in Blossom ভ্যান গঘের এক ব্যতিক্রমী সৃষ্টিশীল সময়ের ছবি। The Starry Night আঁকা সাঁ-রেমি-দ্য-প্রোভঁসের মানসিক চিকিৎসাকেন্দ্র ছেড়ে আসার পর, আভের-সুর-ওয়াজে জীবনের শেষ কয়েক সপ্তাহে ভ্যান গঘ প্রায় ৭০টি কাজ তৈরি করেন। বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি দিনে প্রায় একটি ছবি আঁকতেন; কিছু হিসাবে এই হার আরও বেশি ছিল।
এই প্রায় ৭০টি কাজ শুধু প্রাকৃতিক দৃশ্য নয়। আভের পর্বের ৫০টি ভূদৃশ্যের মধ্যে মাত্র আটটি ব্যক্তিগত মালিকানায় রয়েছে বলে জানা যায়। অর্থাৎ ওই গোষ্ঠীর ১৬ শতাংশ। তাই গুরুত্বপূর্ণ একটি ছবি নিলামে উঠলে সংগ্রাহক ও প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টি আকর্ষণের কারণ বোঝা যায়।
চেস্টনাট গাছের বিষয় নিয়ে ভ্যান গঘের আঁকা চারটি কাজের একটিও এই ক্যানভাস। তাঁর শেষ দিকের সৃষ্টিকর্মে ছবিটির অবস্থান, দীর্ঘদিন প্রদর্শনীর বাইরে থাকা এবং রঙের প্রলেপ—এসবই এর গুরুত্ব নির্ধারণ করে; শুধু শিল্পীর নাম নয়।
নিউইয়র্কে সোথেবির আধুনিক ও সমকালীন শিল্প বিভাগে কাজ করা প্রতিষ্ঠানটির ভাইস চেয়ারম্যান স্কট নিকেল ছবিটিকে সৃষ্টিশীল শক্তির প্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন:
শিল্পীর সামগ্রিক কাজের ভেতর এটি অসাধারণ আশাবাদ, উন্মত্ত প্রাণশক্তি, উদ্দীপনা, আবেগ ও রঙের এক মুহূর্ত।
পরিচিত রাস্তা রঙে বদলে গেল
ভ্যান গঘ দৃশ্যটি এঁকেছিলেন প্যারিসের প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমের গ্রাম আভের-সুর-ওয়াজে। ১৮৯০ সালের ২৫ মে তিনি ভাই থিওকে লিখেছিলেন, সদ্য "চেস্টনাট গাছের একটি স্টাডি" শেষ করেছেন। তাঁর সেখানে পৌঁছানোর প্রথম দিনগুলোর সঙ্গে কাজটিকে মেলাতে এই সংক্ষিপ্ত উল্লেখটি সহায়তা করে।
চিত্রবিন্যাসে চেনা স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে প্রকৃতির অত্যন্ত অভিব্যক্তিপূর্ণ উপস্থাপনা মিলেছে। আকাশের গাঢ় নীল অংশের বিপরীতে ফুল বোঝাতে কমলা, হলুদ ও ক্রিম রঙের আঁচড় রয়েছে। গাছের নিচে ফুলে ভরা ছাউনির তুলনায় মানুষগুলো ছোট; আর একটি ভবন রাস্তার দৃশ্যটিকে ভিত্তি দিয়েছে।
ভ্যান গঘ-বিশেষজ্ঞ মার্টিন বেইলির মতে, ভবনটি শিল্পীর থাকার সরাইখানার কাছের একটি পানশালা। ভ্যান গঘ জায়গাটি ভালো চিনতেন কেন, তা ব্যাখ্যা করে বেইলি বলেন:
ভ্যান গঘ যে সরাইখানায় থাকতেন, সেখান থেকে মাত্র দুই মিনিটের হাঁটা পথ হওয়ায় তিনি সম্ভবত নিয়মিত এখানে আসতেন। বিশেষ করে, এখানে তামাক বিক্রি হতো—পাইপের জন্য যা তাঁর প্রায়ই প্রয়োজন পড়ত।
ভবনটি এখনো পানশালা ও তামাকের দোকান হিসেবে চালু আছে; নাম লে বালতো, ঠিকানা ১৯ রু দ্য জেনেরাল দ্য গোল। ১৯২০ সালের কাছাকাছি সময়ের একটি পোস্টকার্ডে জায়গাটির প্রায় একই রকম দৃশ্য দেখা যায়। ১৯০০ সালের দিকে ডাকঘর নির্মাণের জন্য অধিকাংশ হর্স চেস্টনাট গাছ সরিয়ে ফেলা হয়। ফলে ছবিটিতে শিগগির বদলে যাওয়া একটি রাস্তার দৃশ্য সংরক্ষিত হয়েছে।
আশাবাদী রং, নাকি আরও অস্বস্তিকর দৃশ্য?
নিকেলের বর্ণনায় ছবিটির আশাবাদী আবহ ও রঙের পুরু প্রলেপের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। শিল্পীর কাজের গতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে সোথেবির ভাইস চেয়ারম্যান বলেন:
রং লাগানোর এই উন্মত্ত তাড়না ইঙ্গিত দেয়, তাঁর দেওয়ার মতো আরও অনেক কিছু ছিল; তিনি যেন তা ক্যানভাসে তুলে ধরতে ছুটছিলেন।
এটি ছবির রঙের প্রলেপ নিয়ে একটি ব্যাখ্যা, চিকিৎসাবিষয়ক মূল্যায়ন নয়। ১৮৯০ সালের ২৯ জুলাই, ৩৭ বছর বয়সে, বুকে গুলি করার দুই দিন পর ভ্যান গঘ মারা যান। তার কয়েক সপ্তাহ আগে আঁকা ছবিটি দর্শকেরা কীভাবে দেখবেন, তাঁর মৃত্যুর খবর তা প্রভাবিত করতে পারে।
শিল্পসমালোচক অ্যালিস্টার সুক আরও বিষণ্ন ব্যাখ্যা দেন। তিনি আকাশের গাঢ় নীল রং, একা পুরুষটির সঙ্গে নারীদের দূরত্ব এবং সমাধিফলক বা কফিনের মতো দেখতে কিছু অস্পষ্ট আকৃতির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তাঁর মতে, নীল পোশাক ও খড়ের টুপি পরা পুরুষটি ভ্যান গঘ নিজেও হতে পারেন।
চরিত্রগুলোর পরিচয় বা এসব অর্থ প্রতিষ্ঠিত সত্য নয়। নারীদের ও তাঁদের ছাতাগুলো জাপানি ছাপচিত্রের কথা মনে করায়, যা ভ্যান গঘ পছন্দ করতেন ও সংগ্রহ করতেন; তবে দৃশ্যটি জাপানি দর্শনার্থীদের সঙ্গে বাস্তব সাক্ষাতের প্রমাণ নয়। তাঁদের জাপানি পোশাক পরা বলে বর্ণনা করা এবং ছাতার ওপর জোর দেওয়া—এই দুই ব্যাখ্যায় ভিন্ন মাত্রার অনুমান রয়েছে। ছবিটির আবহ বা চরিত্রগুলোর পরিচয় নিয়ে ভ্যান গঘের কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা নেই।
ভ্যান গঘ পরিবার থেকে ব্যক্তিগত সংগ্রাহকদের কাছে
ভ্যান গঘের মৃত্যুর পর ছবিটি তাঁর ভাই থিওর কাছে যায়, এরপর থিওর বিধবা ইয়োহানা ভ্যান গঘ-বঙ্গারের কাছে, যিনি জো বঙ্গার নামেও পরিচিত। সংক্ষিপ্ত মালিকানা-ইতিহাসে পারিবারিক উত্তরাধিকারের অংশ হিসেবে তাঁদের ছেলে ভিনসেন্ট উইলেমের নামও রয়েছে। আরও বিস্তারিত বিবরণে বলা হয়, ১৯০৫ সালে জো এক ডিলারের মাধ্যমে ছবিটি ফরাসি রথসচাইল্ড পরিবারের সদস্য চতুর্থ প্রিন্স দ্য ওয়াগ্রামের কাছে বিক্রি করেন।
বিস্তারিত ইতিহাস অনুযায়ী, ১৯০৯ সালে বার্লিনের প্রকাশক স্যামুয়েল ফিশার ছবিটি কেনেন। তিনি এস. ফিশার ফেরলাগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ১৯৩৪ সালে তাঁর মৃত্যুর পর ছবিটি তাঁর মেয়ে ব্রিজিতের কাছে যায়। পরিবারটি ইহুদি পরিচয়ের কারণে নিপীড়নের শিকার হওয়ায়, পরবর্তী সময়ে কী পরিস্থিতিতে ছবিটি বিক্রি করা হয়েছিল, তা মালিকানা-ইতিহাস পর্যালোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সোথেবি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক গবেষণায় নিলামঘরটি নিশ্চিত হয়েছে যে ফিশার পরিবার সব সময়ই ছবিটি বিক্রি করার স্বাধীনতা ভোগ করেছিল। এটি নিলামঘরের ঘোষিত সিদ্ধান্ত; একে আদালতের রায়ের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়।
হেনরিয়েট ও মার্সেল কাপফেরার ১৯৩৬ সালে ছবিটি কেনেন। মার্সেল ফ্রান্সে রয়্যাল ডাচ শেলের ব্যবসার প্রধান ছিলেন। এরপর আরেক দফা বিক্রির পর ১৯৪৫ সালে ছবিটি হলিউডের গীতিকার ও চলচ্চিত্র প্রযোজক এবং ক্যাপিটল রেকর্ডসের সহপ্রতিষ্ঠাতা জর্জ "বাডি" ডি সিলভার কাছে পৌঁছায়।
নিউইয়র্কের সংগ্রাহক হ্যারিয়েট হ্যারিস-জোনাস ১৯৫৩ সালে ছবিটি কেনেন। তাঁর সংগ্রহে এতটাই আগ্রহ তৈরি হয়েছিল যে মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অব আর্ট তাঁর ফিফথ অ্যাভিনিউর অ্যাপার্টমেন্টে পৃষ্ঠপোষকদের জন্য পরিদর্শনের ব্যবস্থা করেছিল। ১৯৭৫ সালে ডিলার উইল্ডেনস্টাইনের কাছ থেকে ব্লাকিয়ের পরিবার ছবিটি কেনে। বর্তমান বিক্রির আগে পরিবারের দীর্ঘ মালিকানার অধ্যায় শুরু হয় তখনই।
সংগ্রহ ও এর আইনি ইতিহাস
নেলি আরিয়েতা দে ব্লাকিয়ের ২০২০ সালে এবং কার্লোস পেদ্রো ব্লাকিয়ের ২০২৩ সালে মারা যান। ছবিগুলো তাঁদের সন্তানদের কাছে যায়। আর্জেন্টিনার একটি চিনি ব্যবসা থেকে দম্পতির সম্পদ গড়ে উঠেছিল। এই বিক্রির মাধ্যমে এমন কিছু শিল্পকর্ম একত্র করা হচ্ছে, যেগুলো বেশির ভাগ সময় জনসাধারণের দৃষ্টির বাইরে ছিল।
পরিবারটির ইতিহাসে গুরুতর আইনি অভিযোগও রয়েছে। ১৯৭৬ সালে আর্জেন্টিনার সামরিক স্বৈরশাসনের সময় বামপন্থী কর্মীদের বেআইনিভাবে আটকে রাখার ২৯টি ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২০১২ সালে কার্লোস পেদ্রো ব্লাকিয়েরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। অভিযোগ ছিল, নিরাপত্তা বাহিনী তাঁর চিনিকল প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ করা ট্রাক ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের ধরে নিয়ে যায়; পরে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ ও নির্যাতন করা হয়। তিনি অন্যায় করার কথা অস্বীকার করেন এবং বিচার শুরুর আগেই মারা যান।
ছবিগুলো সরিয়ে নেওয়া নিয়ে শুল্কসংক্রান্ত আলাদা একটি বিরোধ ছিল। ২০২৩ সালে ভ্যান গঘের ছবিসহ শিল্পকর্ম লুক্সেমবার্গে রপ্তানি করার ঘটনায় আর্জেন্টিনার শুল্ক কর্মকর্তারা উত্তরাধিকারীদের জরিমানা করেন। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে জরিমানাটি মওকুফ করা হয়, ফলে নভেম্বরের নিলামের পথ খুলে যায়।
এগুলো পৃথক বিষয়: কার্লোস পেদ্রো ব্লাকিয়েরের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল স্বৈরশাসনের সময়কার ঘটনা নিয়ে; পরবর্তী শুল্ক-প্রক্রিয়া ছিল উত্তরাধিকারী ও রপ্তানি করা শিল্পকর্ম নিয়ে। কোনো বিষয়কেই ছবিটির আগের ইউরোপীয় মালিকানার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হিসেবে তুলে ধরা উচিত নয়।
লন্ডন থেকে নিউইয়র্কের পথে
সম্ভাব্য ক্রেতা ও জনসাধারণের সামনে সংগ্রহটি তুলে ধরার জন্য ধারাবাহিক প্রদর্শনীর অংশ হংকংয়ের এই প্রদর্শনী। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে লন্ডনে পাঁচটি কাজ উন্মোচন করা হয়; এর মধ্যে ছিল সেজানের Arlequin এবং মনের Le Jardin des Tuileries।
ঘোষিত প্রদর্শনী ও নিলামের সূচি:
- ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে: সংগ্রহের পাঁচটি কাজ লন্ডনে উন্মোচন।
- ৫ ও ৬ অক্টোবর: তাইপেতে প্রদর্শনী নির্ধারিত।
- ১৩ থেকে ১৫ অক্টোবর: হংকংয়ে প্রদর্শনী; উদ্বোধনী মঙ্গলবার শত শত মানুষ সারিতে দাঁড়ান।
- ৭ থেকে ১৭ নভেম্বর: নিউইয়র্কে প্রদর্শনী নির্ধারিত।
- ১৮ নভেম্বর: নিউইয়র্কে নিলাম।
তাইপে ও হংকংয়ে প্রদর্শনীর আয়োজন দেখায়, সোথেবি ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি পূর্ব এশিয়াতেও মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করছে। তবে বিজয়ী দরদাতা কোথায় থাকবেন, তা থেকে জানা যায় না।
সম্ভাব্য ক্রেতাদের প্রসঙ্গে হংকংয়ে ছবিটি উন্মোচনের সঙ্গে এ অঞ্চলের আগ্রহের যোগসূত্র টেনে নিকেল বলেন:
হংকংয়ে ছবিটি উন্মোচন থেকে বোঝা যায়, এশিয়ার সম্ভাবনাও অবশ্যই রয়েছে।
কোনো ক্রেতার পরিচয় এখনো জানা যায়নি। বিক্রির আগে ছবিটি দেখার পরবর্তী ঘোষিত সুযোগ হবে নিউইয়র্কের প্রদর্শনী।
নিলাম থেকে যা জানা যাবে
১৮ নভেম্বরের নিলামে বড় একটি ব্যক্তিগত সংগ্রহের আরও ১১টি কাজের সঙ্গে বিরল ভ্যান গঘের ছবিটির চাহিদাও যাচাই হবে। ১৮ কোটি ডলারের প্রত্যাশিত হাতুড়ি-দাম সংগ্রহটির ঘোষিত ৪৫ কোটি ডলারের মূল্যায়নের ৪০ শতাংশ; তবে সংগ্রহের মোট মূল্যায়নে ফি অন্তর্ভুক্ত কি না, তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। তাই ভ্যান গঘের ছবিটি আর্থিক দিক থেকে প্রধান আকর্ষণ হলেও, ওই অনুপাত কেবল আনুমানিক।
সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও ব্যতিক্রমী ছবির জন্য দরদাতাদের প্রতিযোগিতা চলতে পারে। তবু বিক্রয়-নিশ্চয়তা পাওয়া একটি ছবির ভালো দাম পাওয়া ওই ছবির চাহিদাই প্রমাণ করবে; পুরো শিল্পবাজার ভালো আছে, তা নয়।
নিলামে গৃহীত দর এবং ফিসহ প্রকাশিত মোট দাম জানা যাবে। তবে ক্রেতার পরিচয়, ছবিটি কোনো জাদুঘরে যাবে কি না, ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকবে, নাকি ভবিষ্যতে জনসাধারণের জন্য ধার দেওয়া হবে—এসব জানা নাও যেতে পারে।
আপাতত ছবিটির প্রত্যাবর্তন এমন এক সুযোগ এনে দিয়েছে, যা দামের পূর্বাভাস দিয়ে মাপা যায় না: ১৯৬৪ সালের পর জনসমক্ষে প্রদর্শিত না হওয়া একটি কাজ কাছ থেকে দেখার সুযোগ। হংকংয়ের ভিড় এবং দৃশ্যটির ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দেখায়, সম্ভাব্য রেকর্ডের বাইরেও এই প্রত্যাবর্তনের গুরুত্ব রয়েছে।
মূল তথ্য
- ২০২৬ সালের ১৩ অক্টোবর ভ্যান গঘের Chestnut Trees in Blossom দেখতে হংকংয়ে শত শত মানুষ সারিতে দাঁড়ান।
- ছবিটি ১৮৯০ সালের মে মাসে আঁকা; সর্বশেষ ১৯৬৪ সালে গুগেনহাইম জাদুঘরে জনসমক্ষে প্রদর্শিত হয়েছিল।
- সোথেবি ফি ছাড়া প্রায় ১৮ কোটি ডলার, আর ক্রেতার প্রিমিয়ামসহ আনুমানিক ২০ কোটি ৭০ লাখ ডলার দাম প্রত্যাশা করছে।
- ভ্যান গঘের বর্তমান নিলাম-রেকর্ড ১১ কোটি ৭২ লাখ ডলার, ফিসহ; ২০২২ সালে Orchard with Cypresses ছবিটির জন্য এ দাম উঠেছিল।
- ছবিটির জন্য অপ্রকাশিত অঙ্কে বিক্রয়-নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। এটি ১২টি কাজের একটি সংগ্রহের অংশ, যেখান থেকে প্রায় ৪৫ কোটি ডলার উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
- নিউইয়র্কে প্রদর্শনী ৭ থেকে ১৭ নভেম্বর নির্ধারিত; এরপর ১৮ নভেম্বর নিলাম হবে।
- বিজয়ী দরদাতা, চূড়ান্ত দাম এবং ভবিষ্যতে জনসাধারণ ছবিটি দেখতে পারবেন কি না, তা এখনো জানা যায়নি।






