বেতনের প্রতিশ্রুতি, পাসপোর্ট উধাও, দেশে ফেরার পথ নেই
ভারতের উত্তর প্রদেশের মুজাফফরনগরের তিন ব্যক্তি বলছেন, মাসে RM2,127.33 বেতনের চাকরির জন্য তাঁদের মালয়েশিয়ায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এরপর তাঁদের এক কোম্পানি থেকে আরেক কোম্পানিতে পাঠানো হয়, মজুরি দেওয়া হয়নি এবং পাসপোর্টের ওপর তাঁদের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেওয়া হয়। তাঁদের বর্ণনায় উঠে এসেছে ভারী মালপত্র বহন, ১৭ ঘণ্টা পর্যন্ত দীর্ঘ কর্মপালা এবং ভিন্ন জাতীয়তার পরিচয়ে ভারতীয় শ্রমিকদের চাকরিতে নিয়োগ দিতে জাল পরিচয়পত্র ব্যবহারের কথা।
সূচিপত্র
- বেতনের প্রতিশ্রুতি, পাসপোর্ট উধাও, দেশে ফেরার পথ নেই
- ভারী মাল বহন ও বারবার কর্মস্থল বদলের কথা শ্রমিকদের
- জাল পাসপোর্ট ও সম্মতি হিসেবে দেখানো রেকর্ডিং
- সতর্কবার্তা ও কথিত শোষণের ধারাবাহিকতা
- শোষণ কীভাবে অনথিভুক্ত অভিবাসনের দিকে ঠেলে দিতে পারে
- পাসপোর্ট, ঋণ ও সাহায্য চাওয়ার বাধা
- মানব পাচার মূল্যায়নে সরকারি নথিতে যা আছে
- বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের চর্চার কথা জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞদের
- নতুন পরিকল্পনা, তবে তাৎক্ষণিক প্রতিকার এখনো অনিশ্চিত
- মূল বিষয়গুলো
৩৭ বছর বয়সী রমজান বলছেন, ২০২৬ সালের ২৩ জানুয়ারি মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর রাতে ইশা নামের এক ভারতীয় নিয়োগকারী তাঁর পাসপোর্ট নিয়ে নেন। জোহরের একটি লজিস্টিকস কোম্পানিতে কথিত শোষণ থেকে পালিয়ে তিনি আত্মগোপনে যান। তিনি ইংরেজি বা মালয় ভাষা কোনোটিই জানেন না। তাঁর আশঙ্কা, কাগজপত্র ছাড়া কর্তৃপক্ষের কাছে গেলে সুরক্ষা পাওয়ার বদলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।
নিজের পরিস্থিতি বোঝাতে না পারার কারণে সাহায্য চাইতে তাঁর ভয় লাগে বলে রমজান জানিয়েছেন:
আমি ভয় পাচ্ছি, যদি অবৈধ অভিবাসী হিসেবে আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। হিন্দিতে আমি কীভাবে আমার পরিস্থিতি বোঝাব?
২৯ বছর বয়সী দানিস ও ৩৭ বছর বয়সী বাব্বর একই নিয়োগকারীকে ঘিরে একই রকম অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। বাদাম প্যাকেটজাত করার কাজ, ওয়ার্ক পারমিট, মালয়েশিয়ায় বসবাসের অনুমতি এবং মাসে প্রায় ৫০,০০০ ভারতীয় রুপির সমপরিমাণ বেতনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের ভাষ্য, বাস্তবে লজিস্টিকস, কৃষি ও অন্যান্য ব্যবসায় বিনা বেতনে কাজ করতে হয়েছে।
প্রতিবেদনে চিহ্নিত কোনো আদালতের রায়ে এসব অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। একটি কোম্পানি অন্যায় করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তা সত্ত্বেও, তাঁদের বর্ণনায় এমন কয়েকটি ঝুঁকির কথা রয়েছে, যেগুলো সরকারি সংস্থাগুলো আলাদাভাবে নথিভুক্ত করেছে: পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া, প্রতারণামূলক নিয়োগ, সম্মতি ছাড়া কর্মস্থল বদল, নিয়োগের জন্য ঋণ এবং অভিবাসন আইন প্রয়োগের ভয়।
মূল সমস্যা শুধু এই নয় যে শ্রমিকেরা নির্যাতনমূলক কর্মস্থল ছেড়ে যেতে পারেন কি না। তাঁরা চলে গেলে নিরাপদ আশ্রয়, বকেয়া মজুরি এবং দেশে ফেরার সুযোগ পাবেন কি না, নাকি সবার আগে অভিবাসন আইন ভঙ্গকারী হিসেবে বিবেচিত হবেন, সেটিও প্রশ্ন।
ভারী মাল বহন ও বারবার কর্মস্থল বদলের কথা শ্রমিকদের
দানিস বলছেন, তাঁরা কোনো সুরক্ষাসামগ্রী ছাড়াই ৩০ থেকে ৫০ কেজি ওজনের বাক্স বহন করতেন। তাঁদের বর্ণনায় দীর্ঘস্থায়ী পিঠব্যথা, পর্যাপ্ত খাবারের অভাব এবং মজুরি চাইলে বা পাসপোর্ট ফেরত চাইলে এক নিয়োগকর্তার কাছ থেকে অন্য নিয়োগকর্তার কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার কথা উঠে এসেছে।
২০২৬ সালের ২৩ জানুয়ারি কুয়ালালামপুরে পৌঁছেছেন বলে জানানো দানিস কাজের পরিস্থিতি বর্ণনা করেছেন এভাবে:
আমরা দীর্ঘস্থায়ী পিঠব্যথা সহ্য করেছি এবং দিনে এক বেলা খাবার খেয়ে বেঁচে থেকেছি, আর কাজ করেছি ১৭ ঘণ্টা পর্যন্ত। দাবি জানিয়েও কোনো মজুরি পাইনি; বরং আমাদের সম্মতি ছাড়াই এক নিয়োগকর্তার কাছ থেকে অন্য নিয়োগকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে,
তিনি বলছেন, এটি ছিল তাঁর ঋণবন্ধ শ্রমের দ্বিতীয় অভিজ্ঞতা। এর আগে কোভিড মহামারির সময় ভারতে একটি ইটভাটায় তিনি শোষণের শিকার হয়েছিলেন। ঋণের চাপ কাজে কাউকে এমনভাবে আটকে রাখলে তাকে ঋণবন্ধ শ্রম বলা হয়, যেখানে তিনি স্বাধীনভাবে কাজ ছেড়ে যেতে পারেন না। গন্তব্য দেশে পৌঁছানোর আগেই নিয়োগের জন্য নেওয়া ঋণ এমন চাপ তৈরি করতে পারে।
বাব্বর বলছেন, মালয়েশিয়ায় পাঁচ মাসে তাঁকে তিনবার কর্মস্থল বদল করা হয়। তিনি বড় অনলাইন শপিং প্ল্যাটফর্মের কাজে ব্যবহৃত একটি এক্সপ্রেস ডেলিভারি ব্যবসা, একটি ফলের পাইকারি কোম্পানি এবং বাণিজ্যিক যানবাহন সংযোজন ও রক্ষণাবেক্ষণের একটি ব্যবসায় কাজ করেছেন। তিন ব্যক্তির বর্ণনায়, তাঁদের প্রত্যেককে তিন থেকে পাঁচটি কোম্পানির মধ্যে স্থানান্তর করা হয়েছে।
কথিত এই স্থানান্তরগুলো গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নিয়োগকারী, কর্মস্থল পরিচালনাকারী ও প্রকৃত নিয়োগকর্তা আলাদা পক্ষ হলে দায় কার, তা শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে ছিল, তাঁদের কাগজপত্র কে রেখেছিল এবং তাঁদের মজুরি কে দিত, তা নির্ধারণ করা যেকোনো তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
জাল পাসপোর্ট ও সম্মতি হিসেবে দেখানো রেকর্ডিং
বাব্বর বলছেন, ফলের গুদামে এক নিয়োগকারী তাঁকে বাণিজ্যিক যানবাহনের প্রতিষ্ঠানে কাজে দেওয়ার আগে একটি জাল নেপালি পাসপোর্ট দেন। দানিসও বলছেন, একই কর্মস্থলে নিয়োগ দেওয়ার আগে তাঁকে একটি জাল নেপালি পাসপোর্ট দেওয়া হয়েছিল।
নিয়োগকারী তাঁকে যে ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন, তা বাব্বর এভাবে তুলে ধরেছেন:
সে আমাকে বলেছিল, সেখানে ভারতীয়দের কাজ করা নিষিদ্ধ, তাই জাল পাসপোর্ট দরকার,
এটি নিয়োগকারীর কথিত ব্যাখ্যা, কোনো আইনি নিষেধাজ্ঞার সত্যতা নিশ্চিত করার বক্তব্য নয়। শ্রমিকদের বর্ণনা থেকে নথিগুলো কে তৈরি করেছে বা গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের কেউ সেগুলো জাল বলে জানত কি না, তা প্রমাণিত হয় না।
বাব্বরের আরও অভিযোগ, শ্রমিকেরা সাহায্যের জন্য স্বজন বা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর মধ্যস্বত্বভোগীরা তাঁদের দিয়ে আগে থেকে লেখা বক্তব্য অনুযায়ী ভিডিও রেকর্ড করান। সেখানে তাঁদের বলতে বলা হয়, কর্মস্থল ও থাকার জায়গা নিরাপদ। এমন ভিডিও দেখে কর্মকর্তাদের কাছে সম্মতি দেওয়া হয়েছে বলে মনে হতে পারে, অথচ হুমকি বা নির্যাতনের বিষয়টি আড়ালে থেকে যেতে পারে।
ভারতের ঋণবন্ধ শ্রম নির্মূলবিষয়ক জাতীয় প্রচার কমিটির আহ্বায়ক নির্মল গোরানা বলছেন, এসব রেকর্ডিং তদন্তকে দুর্বল করতে পারে:
কারণ কর্তৃপক্ষ মনে করতে পারে শ্রমিকেরা নিরাপদে আছেন, যদিও বাস্তবে তা নয়
অভিযোগ সম্পর্কে যোগাযোগ করা এক কোম্পানি বলেছে, বিদেশি নাগরিকদের নিয়োগ দেওয়ার কোনো নথি তাদের কাছে নেই এবং তারা ভারতের হাইকমিশন ও শ্রম দপ্তরকে সহযোগিতা করেছে। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ নিয়োগ, মজুরি আত্মসাৎ, পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া এবং পাচারসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তারা প্রত্যাখ্যান করেছে।
কোম্পানিটি আরও বলেছে, সরকারি সংস্থাগুলো তাদের ব্যাখ্যা ও নথিতে সন্তুষ্ট হয়েছে। তবে এটি সরকারি পদক্ষেপ সম্পর্কে কোম্পানির নিজস্ব বক্তব্য, সব অভিযোগ থেকে তাদের অব্যাহতি দেওয়ার কোনো স্বাধীনভাবে নথিভুক্ত সিদ্ধান্ত নয়। শ্রমিকদের অভিযোগ ও কোম্পানির অস্বীকৃতির পর কর্মসংস্থানের নথি, নিয়োগের ব্যবস্থা এবং কাগজপত্র সামলানোর বিষয়গুলো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
সতর্কবার্তা ও কথিত শোষণের ধারাবাহিকতা
মালয়েশিয়ায় নিয়োগ ও সুরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা নিয়ে কয়েক বছরের প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা ও সরকারি সতর্কবার্তার পরিপ্রেক্ষিতে শ্রমিকদের এসব বর্ণনা এসেছে। তারিখগুলো আরও দেখায়, রমজান ও দানিসের মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর খবরের আগেই সরকারের প্রস্তাবিত পদক্ষেপের কাজ চলছিল।
- মার্চ থেকে আগস্ট ২০২২: মালয়েশিয়ায় শ্রমিকদের কীভাবে আইনি মর্যাদা হারাতে হয়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার এক গবেষণায় ৪০ জন অনথিভুক্ত অভিবাসী শ্রমিকের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।
- ১৭ অক্টোবর ২০২৪: পিলার ডোমিঙ্গো ও অন্দিকা ওয়াহাবের গবেষণা প্রকাশ করে ওডিআই; এতে কুয়ালালামপুর, সেলাঙ্গর ও সাবাহে মাঠপর্যায়ের কাজের তথ্য ছিল।
- ২০ ও ২১ নভেম্বর ২০২৫: ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের জন্য জোরপূর্বক শ্রমবিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনার খসড়া পর্যালোচনায় মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় একটি কর্মশালার আয়োজন করে।
- ২১ নভেম্বর ২০২৫: বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের চলমান শোষণ নিয়ে সতর্ক করেন জাতিসংঘের স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা।
- ২৩ জানুয়ারি ২০২৬: রমজান ও দানিস বলছেন, তাঁরা মালয়েশিয়ায় পৌঁছান। রমজানের দাবি, ওই রাতেই তাঁর পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয়।
- মার্চ ২০২৬: বাব্বর বলছেন, তাঁকে মালয়েশিয়ায় আনা হয়।
- ১ সেপ্টেম্বর: মালয়েশিয়ায় প্রায় পাঁচ মাস কাটানোর পর বাব্বর ভারতে ফিরেছেন বলে খবর। বিবরণে তাঁর মার্চ ২০২৬-এ আসার পর ফেরার কথা বলা হলেও, ১ সেপ্টেম্বর কোন বছরের, তা আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
ফেরার সময় বাব্বরের ঋণের পরিমাণ ছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে RM6,124, যা ওই বিবরণে ১৫০,০০০ ভারতীয় রুপির সমান; তাঁর সঙ্গে ছিল একটি জাল নেপালি পাসপোর্ট। তিনজনের মধ্যে কেবল একজনের দেশে ফেরার খবর পাওয়া গেছে। অন্য দুজনের জন্য কোনো শুনানির তারিখ, উদ্ধারের সময়সীমা বা দেশে ফেরার নিশ্চিত ব্যবস্থা উল্লেখ করা হয়নি।
শোষণ কীভাবে অনথিভুক্ত অভিবাসনের দিকে ঠেলে দিতে পারে
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার মালয়েশিয়াবিষয়ক এক গবেষণায় মার্চ থেকে আগস্ট ২০২২ পর্যন্ত সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে আট নারীসহ ৪০ জন অনথিভুক্ত শ্রমিকের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশের ১৪ জন, ইন্দোনেশিয়ার সাতজন এবং নেপালের ১৯ জন। গবেষকেরা আরও ১০ জন সংশ্লিষ্ট পক্ষের সাক্ষাৎকার নেন এবং দুটি ফোকাস গ্রুপ আলোচনা করেন।
অনথিভুক্ত হওয়ার আগে ৪০ জন অংশগ্রহণকারীই নিয়মিত পথে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন। নিয়মিত পথে প্রবেশের অর্থ এই নয় যে তাঁদের কাজের অনুমতি ছিল: তাঁদের প্রবেশের পথে ছিল কাজ-সংশ্লিষ্ট ভিসা, পর্যটক ভিসা ও শিক্ষার্থী ভিসা। তবু এই তথ্য সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে যে অনথিভুক্ত অবস্থার শুরু সব সময় অনিয়মিতভাবে সীমান্ত পার হওয়ার মধ্য দিয়ে হয়।
গবেষণার বিস্তারিত বিভাজনে দেখা যায়, ২৪টি ক্ষেত্রে শোষণ, অনৈতিক নিয়োগ বা অন্য অধিকার লঙ্ঘনের কারণে শ্রমিকেরা কাজ ছেড়েছেন। পুরো নমুনার ৬০ শতাংশ এবং নিয়োগকর্তা ছেড়ে অনথিভুক্ত হওয়া ২৬ জনের মধ্যে ২৪ জনের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেছে। ওই ২৬ জনের মধ্যে দুজন কাজ ছাড়ার প্রধান কারণ হিসেবে অন্য চাকরির কথা বলেছেন।
এক জায়গায় বিস্তৃত হিসাবে বলা হয়েছে, ২৬ জন শ্রমিক শোষণ থেকে পালিয়েছেন। তবে সারণি ও আরও নির্দিষ্ট ব্যাখ্যায় শোষণের কারণে চাকরি ছেড়েছেন ২৪ জন, আর অন্য চাকরির জন্য ছেড়েছেন দুজন। তুলনার জন্য বিস্তারিত বিভাজনটিই বেশি নির্ভুল ভিত্তি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়ার্ক পারমিট ও ভিসা নির্দিষ্ট নিয়োগকর্তা ও খাতের সঙ্গে যুক্ত; অনুমোদিত ব্যতিক্রম ছাড়া চাকরি বদলালে সাধারণত অভিবাসনের অনুমতি বাতিল হয়ে যায়। এতে তৈরি হয় এক ফাঁদ: থেকে গেলে নির্যাতন চলতে পারে, আর চলে গেলে আইনি মর্যাদা হারানোর ঝুঁকি থাকে।
প্রতিবেদনে অভিবাসন আইনের ১৫(৪) ধারায় ভিসার মেয়াদ পেরিয়ে থাকার জন্য শাস্তির কথাও বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সর্বোচ্চ RM10,000 জরিমানা, পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড। এসব শাস্তি অভিবাসন আইন ভঙ্গের জন্য; সাহায্য চাইছেন এমন কাউকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরাধী সাব্যস্ত করার বিধান নয়।
পাসপোর্ট, ঋণ ও সাহায্য চাওয়ার বাধা
আইওএমের নমুনায় প্রত্যেক শ্রমিকই জানিয়েছেন, নিয়োগকর্তা বা নিয়োগ সংস্থা তাঁদের পাসপোর্ট রেখে দিয়েছিল। ৪০ জনের মধ্যে ৩৬ জন বলেছেন, সমস্যা জানানো বা সাহায্য পাওয়ার কোনো পথ তাঁদের জানা ছিল না; চাকরি হারানো, গ্রেপ্তার বা আটক হওয়ার ভয় ছিল। ভাষাগত সমস্যা ও অভিবাসন-সংক্রান্ত মর্যাদা বাইরের লোকজনের কাছে সাহায্য চাওয়াও কঠিন করে তুলেছিল।
নমুনার অর্ধেক, অর্থাৎ ২০ জন শ্রমিক, বলেছেন অপর্যাপ্ত মজুরি, কর্তন বা মহামারির সময় কাজের ব্যাঘাতের কারণে তাঁরা মাসিক ঋণের কিস্তি দিতে পারেননি। নিয়োগ ও অভিবাসনের খরচ ছিল সর্বোচ্চ US$5,000। শোষণের শিকার হওয়া সত্ত্বেও মালয়েশিয়ায় থেকে যাওয়ার চাপের সঙ্গে এই ঋণের সম্পর্ক তুলে ধরেছে গবেষণাটি।
এই গবেষণার ফলকে জাতীয় পর্যায়ের ব্যাপকতার হিসাব হিসেবে বিবেচনা করা যায় না, কারণ এতে অল্পসংখ্যক অনথিভুক্ত শ্রমিককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তবে ভারতীয় শ্রমিকদের অভিযোগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মিলে যাওয়া প্রক্রিয়াগুলো এটি ব্যাখ্যা করে: পাসপোর্ট আটকে রাখলে চলে যাওয়ার স্বাধীনতা কমে, মজুরি না পেলে ঋণ শোধ করা যায় না, আর গ্রেপ্তারের ভয় অভিযোগ জানাতে নিরুৎসাহিত করে।
২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর প্রকাশিত মালয়েশিয়াবিষয়ক ওডিআইয়ের আরেকটি গবেষণাও ৭৮ জন সংশ্লিষ্ট পক্ষের সাক্ষাৎকার ও আলোচনার ভিত্তিতে একই ধরনের সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। পিলার ডোমিঙ্গো ও অন্দিকা ওয়াহাব কুয়ালালামপুর, সেলাঙ্গর ও সাবাহে মাঠপর্যায়ের কাজ করেন।
তাঁরা দেখতে পান, প্রভাবশালী গোষ্ঠীর লাভ হয় এমন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে সুরক্ষা আইন বাস্তবে দুর্বল হয়ে পড়ে। অভিবাসীরা প্রায়ই প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থার অভাবে বা প্রতিক্রিয়ার ভয়ে আনুষ্ঠানিক সুরক্ষা এড়িয়ে চলেন। গবেষণায় সমন্বিত নীতি, সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এনজিও ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতার সুপারিশ করা হয়। শ্রমিকদের প্রভাবিত করে এমন সিদ্ধান্তে তাঁদের আরও বেশি মত দেওয়ার সুযোগ রাখারও সুপারিশ করা হয়।
মানব পাচার মূল্যায়নে সরকারি নথিতে যা আছে
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ২০২৫ সালের মানব পাচার মূল্যায়নে মালয়েশিয়াকে টিয়ার ২-এ রাখা হয়েছে। এই শ্রেণিবিন্যাসের অর্থ, মানব পাচার নির্মূলের ন্যূনতম মানদণ্ড সরকার পুরোপুরি পূরণ করছে না, তবে এ লক্ষ্যে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর অর্থ এই নয় যে প্রত্যেক নিয়োগকর্তা বা নিয়োগ সংস্থা পাচারের সঙ্গে জড়িত।
মূল্যায়নে শনাক্ত ৬৩৫ সম্ভাব্য ভুক্তভোগীর মধ্যে ১৬০ জনকে নিশ্চিত মানব পাচারের শিকার হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১২৬ জন জোরপূর্বক শ্রমের শিকার হন, যা মোট নিশ্চিত ভুক্তভোগীর প্রায় ৭৯ শতাংশ। কর্তৃপক্ষ শ্রম পাচারের ১২২টি তদন্ত শুরু করে এবং শ্রম পাচারের অভিযোগে ৬৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে।
আগের প্রতিবেদনের সময়কালের সঙ্গে তুলনায় চিত্র মিশ্র। মানব পাচারের মোট তদন্ত ১৫৭ থেকে বেড়ে ১৮৮ হয়েছে, আর মামলা ১১৭ থেকে কমে ৭২ এবং দোষী সাব্যস্তের সংখ্যা ৪০ থেকে কমে ২৬ হয়েছে। শ্রম পাচারের মামলা ৭৭ থেকে কমে ৬৪ হয়েছে, যদিও জোরপূর্বক শ্রমের মামলায় দোষী সাব্যস্তের সংখ্যা ১৩ থেকে বেড়ে ১৬ হয়েছে। এই সংখ্যাগুলো ভিন্ন ভিন্ন মামলার গোষ্ঠী নিয়ে, তাই এগুলো দোষী সাব্যস্তের হার নয়।
মূল্যায়নে দুর্নীতি, ভুক্তভোগী শনাক্তে অসামঞ্জস্য, দোভাষীর ঘাটতি এবং সমন্বয়ের অভাবকে চলমান দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কর্মকর্তারা যথাযথভাবে শনাক্ত করতে ব্যর্থ হওয়ায় কিছু ভুক্তভোগীকে পাচারের ফলে সরাসরি সংঘটিত বেআইনি কাজের জন্য শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
আরেকটি বিবরণে বলা হয়েছে, ১ এপ্রিল ২০২৫ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত মূল্যায়ন সময়ে বেসরকারি কর্মসংস্থান সংস্থা আইন ১৯৮১-এর অধীনে কোনো নিয়োগ সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়নি। এই সময়কাল সংযুক্ত ২০২৫ সালের মূল্যায়নে উল্লিখিত বছরের পরেও বিস্তৃত এবং এখানে উপস্থাপিত সরকারি প্রতিবেদনের সঙ্গে এর সমন্বয় করা যায় না। তাই নিয়োগ সংস্থার বিরুদ্ধে মামলার দাবিটিকে আলাদাভাবে প্রকাশিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত, ২০২৫ সালের পরিসংখ্যানের অংশ হিসেবে নয়।
বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের চর্চার কথা জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞদের
২০২৫ সালের নভেম্বরের এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ-নিযুক্ত স্বাধীন বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেসের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া হাজারো শ্রমিক বাংলাদেশে আটকে আছেন অথবা মালয়েশিয়ায় শোষণের ঝুঁকিতে রয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ছিলেন সমসাময়িক দাসত্বের ধরনবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক তোমোয়া ওবোকাতা, অভিবাসীদের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক গেহাদ মাদি এবং ব্যবসা ও মানবাধিকারবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপের সদস্যরা। তাঁরা এমন তথ্যের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে নিয়োগ ফি সরকারি নির্ধারিত খরচের পাঁচ গুণেরও বেশি, পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া, চাকরির মিথ্যা প্রতিশ্রুতি এবং সম্মতি ছাড়া কাজ বদলে দেওয়ার অভিযোগ ছিল।
শ্রমিকদের দিয়ে এমন মিথ্যা ঘোষণায় সই করানো বা রেকর্ড করানোর খবরের কথাও তাঁরা উল্লেখ করেন, যেখানে বলা হতো, তাঁরা শুধু সরকারি নিয়োগ ফি দিয়েছেন। ওই ঘোষণা কর্মস্থলের নিরাপত্তা নয়, ফি-সংক্রান্ত ছিল। তবে এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে বাব্বরের অভিযোগের মিল রয়েছে: স্বেচ্ছায় দেওয়া বলে দেখানো কোনো বক্তব্য হয়তো চাপ দিয়ে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা স্বাধীন তদন্ত, ক্ষতিপূরণ, ঋণ মওকুফ এবং আরও জোরালো পরিদর্শনের আহ্বান জানান। শ্রমিকেরা যাতে নির্বিচারে গ্রেপ্তার, আটক বা বহিষ্কারের ঝুঁকি ছাড়া নির্যাতনের অভিযোগ জানাতে পারেন, সে জন্য শ্রম অধিকারবিষয়ক সেবাকে অভিবাসন আইন প্রয়োগের ব্যবস্থা থেকে আলাদা করারও প্রস্তাব দেন তাঁরা।
আলাদা করে প্রকাশিত আরেকটি ঘটনা সম্ভাব্য মানবিক মূল্য তুলে ধরে। বাংলাদেশি কৃষক শফিকুল ইসলাম মালয়েশিয়ায় নির্মাণশ্রমিকের চাকরির জন্য US$4,400 ঋণ নিয়েছিলেন, কিন্তু পৌঁছানোর পর পেত্রাজেহরা বেরহাদ তাঁকে ফেলে চলে যায় বলে অভিযোগ। দুই বছর কোনো আয় না থাকা সত্ত্বেও কোম্পানিটি ১,৫০০ বাংলাদেশিকে নিয়োগের অনুমোদন পেয়েছিল বলে খবর। চাকরিহীন ও ঋণের চাপে অসুস্থ হয়ে পড়েন ইসলাম; ২০২৪ সালের শুরুর দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
নতুন পরিকল্পনা, তবে তাৎক্ষণিক প্রতিকার এখনো অনিশ্চিত
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার জোরপূর্বক শ্রমবিষয়ক পরিকল্পনার হালনাগাদ তথ্যে ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের জন্য মালয়েশিয়ার জাতীয় কর্মপরিকল্পনা তৈরির কথা বলা হয়েছে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রথম পরিকল্পনার পর এটি নেওয়া হচ্ছে; লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে জোরপূর্বক শ্রম নির্মূল করা।
২০২৫ সালের ২০ ও ২১ নভেম্বর মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মশালায় নিয়োগ ব্যবস্থাপনা, আইন প্রয়োগ, ভুক্তভোগী সুরক্ষা এবং প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ বাড়ানোর প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হয়। উপদ্বীপীয় মালয়েশিয়া, সাবাহ ও সারাওয়াকজুড়ে সমন্বয়ের বিষয়ও এতে ছিল।
মন্ত্রণালয়ের নীতিবিষয়ক বিভাগের উপসচিব রাফেয়া বিনতি নাহার পরিকল্পনার প্রত্যাশিত মানদণ্ড ব্যাখ্যা করে বলেন:
২০২৬–২০৩০ সালের জন্য যে কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে, তা হতে হবে আগাম উদ্যোগী ও কার্যকর; ২০৩০ সালের মধ্যে জোরপূর্বক শ্রম নির্মূলের জাতীয় অঙ্গীকারও তাতে থাকতে হবে,
আইএলও এই উদ্যোগকে জোরপূর্বক শ্রমবিষয়ক কনভেনশন, ১৯৩০ এবং এর ২০১৪ সালের প্রটোকলের অধীনে মালয়েশিয়ার দায়বদ্ধতার সঙ্গে যুক্ত করেছে। বর্ণিত পর্যায়ে সংশোধিত খসড়াটি মন্ত্রিপরিষদে জমা দেওয়ার আগে মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর কাছে পাঠানোর কথা ছিল। হালনাগাদ তথ্যে চূড়ান্ত অনুমোদনের কোনো তারিখ দেওয়া হয়নি।
ভারতীয় শ্রমিকদের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন আরও নির্দিষ্ট: নিরাপদে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ, দোভাষী, পরিচয়পত্র, মজুরি এবং দেশে ফেরার ব্যবস্থা। ভারতের কনস্যুলার সহায়তা পোর্টাল ‘মাদাদ’-এর মাধ্যমে সাহায্য চাওয়ার পর ফেরার টিকিটের সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হলেও তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গোরানা ও বাব্বরের পরিবার।
ইশা ও নাদিম, তালিব, তাইয়্যেব এবং দিলশাদ নামে পরিচিত তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে মিরাট ও মুজাফফরনগরে পুলিশে অভিযোগ, যার মধ্যে একটি এফআইআরও রয়েছে, দায়ের করা হয়েছে বলে খবর। এফআইআর-এ কথিত অপরাধের তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করা হয়; এটি অপরাধ প্রমাণের সমান নয়। অভিযোগে যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁরা পলাতক রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
গোরানা বলছেন, ইশা ও অন্য নিয়োগকারীদের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় ঋণবন্ধ শ্রমে পাচারের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ থাকা ২০ জনেরও বেশি ভারতীয় শ্রমিকের সঙ্গে তাঁর সংস্থার যোগাযোগ রয়েছে। তাঁদের উদ্ধার, ক্ষতিপূরণ বা অভিযোগ নিষ্পত্তির কোনো নিশ্চিত সময়সূচি জানা যায়নি। নীতিগত প্রস্তাবগুলো শ্রমিকদের বর্ণিত অনেক ঝুঁকি মোকাবিলা করে, কিন্তু তাঁদের কাছে সেই সুরক্ষা পৌঁছেছে বলে তাঁদের বিবরণে প্রমাণ মেলে না।
মূল বিষয়গুলো
- তিন ভারতীয় শ্রমিকের অভিযোগ, মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলোতে তাঁদের বিনা বেতনে কাজ করানো হয়েছে, পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং সম্মতি ছাড়াই এক কোম্পানি থেকে অন্য কোম্পানিতে পাঠানো হয়েছে।
- বাব্বর ও দানিস বলছেন, তাঁদের জাল নেপালি পাসপোর্ট দেওয়া হয়েছিল। একটি কোম্পানি অন্যায় করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
- আইওএমের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৪০ জন অংশগ্রহণকারীই অনথিভুক্ত হওয়ার আগে নিয়মিত পথে প্রবেশ করেছিলেন; শোষণ বা অধিকার লঙ্ঘনের কারণে ২৪ জন নিয়োগকর্তাকে ছেড়ে যান।
- যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৫ সালের মূল্যায়নে মালয়েশিয়াকে টিয়ার ২-এ রাখা হয়েছে এবং জোরপূর্বক শ্রমের ১২৬ জন নিশ্চিত ভুক্তভোগীর কথা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
- শ্রমিকেরা নির্যাতনের অভিযোগ জানালে তাঁদের অভিবাসন আইনের শাস্তি থেকে সুরক্ষা, তদন্ত এবং ঋণ মওকুফের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের স্বাধীন বিশেষজ্ঞরা।
- মালয়েশিয়ার প্রস্তাবিত ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের জোরপূর্বক শ্রমবিষয়ক পরিকল্পনায় নিয়োগ নিয়ন্ত্রণ ও ভুক্তভোগীদের প্রতিকার জোরদারের লক্ষ্য রয়েছে; তবে শ্রমিকদের দেশে ফেরার ব্যবস্থা ও আইনি পরিণতি এখনো অমীমাংসিত।






