সাংবাদিকের ক্ষমা চাওয়ার পর হংকংয়ের চলচ্চিত্রশিল্পে যৌন হয়রানির অভিজ্ঞতা তুলে ধরলেন অ্যাঞ্জেলা ইউয়েন

পড়তে 12 মিনিট
Angela Yuen Details Sexual Harassment in Hong Kong Film Industry as Journalist Apologises

একটি সাক্ষাৎকার, আপত্তি এবং বিলম্বিত ক্ষমা

হংকংয়ের অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলা ইউয়েন তাঁর কর্মজীবনে বারবার যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন। এর মধ্যে ছিল শুটিংয়ের সময় অনিচ্ছাকৃত চুমু এবং Gamer Girls ছবির প্রচারমূলক সাক্ষাৎকারে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য। তাঁর ‘যে ক্ষমাগুলো কখনো আসবে না’ শীর্ষক প্রবন্ধের পর সাংস্কৃতিক সাংবাদিক ওং উইং-লুং, যিনি রেড আই নামে পরিচিত, অনুপযুক্ত কৌতুক করার জন্য এবং ইউয়েন আপত্তি জানানোর পরও ক্ষমা না চাওয়ার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চান।

সূচিপত্র
  1. একটি সাক্ষাৎকার, আপত্তি এবং বিলম্বিত ক্ষমা
  2. Gamer Girls-এর সাক্ষাৎকারে কী ঘটেছিল?
  3. ওংয়ের স্বীকারোক্তি এবং সাময়িকীটির স্পষ্টীকরণ
  4. সাক্ষাৎকারের বাইরের আচরণের কথাও জানালেন ইউয়েন
  5. আপত্তি জানালে কেন মূল্য দিতে হতে পারে
  6. অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন অন্য অভিনেতারাও
  7. গোপন সতর্কবার্তা ও প্রকাশ্য সমর্থন
  8. চেহারাকেন্দ্রিক ভাবমূর্তির বাইরে গড়ে ওঠা কর্মজীবন
  9. সময়রেখা ও অমীমাংসিত বিষয়
  10. মূল কথা

প্রায় ৩ হাজার চীনা অক্ষরের প্রবন্ধটি প্রথম প্রকাশিত হয় এপ্রিলে, সিটি ম্যাগাজিনে তাঁর কলামে। ২০২৬ সালের অক্টোবরে ইনস্টাগ্রামে এটি ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। মঙ্গলবার সকাল নাগাদ এতে ৪৬ হাজারের বেশি লাইক পড়ে এবং অন্য অভিনেতারাও সমর্থনের বার্তা দেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখাটি প্রকাশিত হয় ১২ অক্টোবর গভীর রাতে অথবা ১৩ অক্টোবরের প্রথম প্রহরে।

ইউয়েন দ্বিতীয়বার গোল্ডেন হর্সে সেরা অভিনেত্রীর মনোনয়ন পাওয়ার সময় তাঁর এই প্রকাশ ঘটে। এবার মনোনয়নটি হংকংয়ের চলচ্চিত্র 第四幕-এর জন্য। সাক্ষাৎকার, সামাজিক অনুষ্ঠান ও শুটিং সেটে নারীদের সঙ্গে আচরণের কথা তুলে ধরে তিনি যুক্তি দিয়েছেন, পেশাগত স্বীকৃতি পেলেও তাঁদের যৌন বস্তু হিসেবে দেখার প্রবণতা থেকে রেহাই মেলে না।

ওং স্বীকার করেছেন, তিনি অনুপযুক্ত মন্তব্য করেছিলেন এবং সাক্ষাৎকারটি ঠিকভাবে সামলাতে পারেননি। তাঁর ক্ষমা চাওয়াটি ওই সাক্ষাৎকারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে, ইউয়েনের অভিযোগ করা পরিচালক ও পুরুষ সহকর্মীদের পৃথক আচরণকে নয়; ইউয়েন তাঁদের নাম জানাননি। একটি সাংস্কৃতিক সাময়িকীও স্পষ্ট করেছে, ওংয়ের সঙ্গে তাদের চুক্তিভিত্তিক সম্পর্ক ২০২৫ সালেই শেষ হয়েছিল। ফলে তাঁকে সাময়িকীটির বর্তমান সম্পাদক হিসেবে বর্ণনা করার তথ্যটি সঠিক নয়।

Gamer Girls-এর সাক্ষাৎকারে কী ঘটেছিল?

ইউয়েন বলেন, তিনি এবং অন্য ছয় নারী সাক্ষাৎকারটির জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তাঁরা ছবিটি দেখেছিলেন এবং কোন বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলবেন, তা ভেবে রেখেছিলেন। কিন্তু সাংবাদিক শুরুতেই ক্যান্টনিজের এমন একটি অভিব্যক্তি ব্যবহার করেন, যা হোস্টেস ক্লাবে অতিথিদের সঙ্গে বসার সঙ্গে সম্পর্কিত। ইউয়েনের ভাষ্য, ওই মন্তব্য পেশাগত আলাপকে কল্পিত নাইটক্লাবের দৃশ্যে পরিণত করেছিল।

আপত্তি জানালে সাংবাদিক বলেন, তিনিই সেই পুরুষ উপস্থাপক, যিনি বিনোদন দিচ্ছেন। ইউয়েন বলেন, এতে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ আবহ দূর হয়নি। একজন প্রযোজক তাঁকে কথা বলা বন্ধ করতে বলেন। ইউয়েনও দাবি করেন, তিনি চুপ থাকুন অথবা ক্ষমা চান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সাংবাদিক চুপ থাকাকেই বেছে নেন এবং ক্ষমা না চেয়েই সাক্ষাৎকার চলতে থাকে।

বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকার চলতে থাকাটাই তাঁকে ভাবিয়েছিল। তিনি বলেন, নিজের প্রতিক্রিয়া চেপে রেখে আবার হাসিমুখে থাকতে হয়েছিল। মনে হচ্ছিল, তিনি অভদ্রতা করেছেন কি না, কিংবা সাক্ষাৎকারে ব্যাঘাত ঘটিয়েছেন কি না। তাঁর বর্ণনায় স্পষ্ট, কোনো ঘটনা আর সংঘাত ছাড়াই এগিয়ে যাওয়া আর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মনে সমস্যাটির সমাধান হয়েছে বলে অনুভব করা এক বিষয় নয়।

সাক্ষাৎকারের সময় ও সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। ইউয়েনের স্মৃতিচারণের বিবরণ দেওয়া প্রতিবেদনগুলো বলছে, সাক্ষাৎকারটি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে, ছবির উদ্বোধনী প্রদর্শনীর রাতে হয়েছিল এবং সেখানে সাত নারী ছিলেন। ওং বলেছেন, এটি আগের বছরের শেষ দিকে হয়েছিল, উপস্থিত ছিলেন দুই পরিচালক ও পাঁচ অভিনেত্রী। Gamer Girls ছবিতে পাঁচজন নারী প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন, তবে এতে সাক্ষাৎকারে উপস্থিত সবার ভূমিকা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না। তারিখের এই পার্থক্যের মীমাংসা হয়নি।

ওংয়ের স্বীকারোক্তি এবং সাময়িকীটির স্পষ্টীকরণ

রেড আই নামে লেখালেখি করা কলামলেখক ও চলচ্চিত্র সমালোচক ওং বলেন, আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎকার শুরুর আগে তিনি দুটি অনুপযুক্ত কৌতুক করেছিলেন। তিনি স্বীকার করেন, ইউয়েন তখনই অসন্তোষ জানিয়েছিলেন এবং কথোপকথন চালিয়ে নিতে অন্য সাক্ষাৎকারদাতাদের পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়েছিল।

প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনায় ওং মেনে নেন, তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর প্রতিক্রিয়া যথাযথ ছিল না:

আমি বুঝেছিলাম, ভুল কথা বলেছি। অন্য সাক্ষাৎকারদাতাদের পরিস্থিতি সামাল দিয়ে তবেই সাক্ষাৎকার শেষ করা সম্ভব হয়েছিল বলে আমার অনুশোচনা হয়েছে। সব সাক্ষাৎকারদাতার কাছে সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমা না চাওয়াটা ছিল পরিস্থিতি সামলানোর ব্যর্থতা।

তিনি বলেন, সমালোচনার বিরোধিতা করার কোনো ইচ্ছা তাঁর নেই এবং ইউয়েন ও অন্য অংশগ্রহণকারীদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে চান। অসতর্কভাবে কথা বলার অভ্যাসে গত কয়েক বছরে অন্য সাক্ষাৎকারদাতা ও সৃষ্টিশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও আহত হয়ে থাকতে পারেন বলে তিনি স্বীকার করেন।

তাঁর পেশাগত সংশ্লিষ্টতা নিয়ে আলাদা একটি সংশোধনী প্রয়োজন। কিছু প্রতিবেদন এবং তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইলের বর্ণনায় তাঁকে সাংস্কৃতিক সাময়িকী 藝文青-এর বর্তমান সম্পাদক বলা হয়েছিল। পরে সাময়িকীটি জানায়, ২০২৫ সালে রেড আইয়ের সঙ্গে তাদের চুক্তি বাতিল করা হয়েছিল। এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, ইউয়েনের অক্টোবরে করা পোস্টের জবাবে তাঁকে সরানো হয়নি; তার আগেই সম্পর্কের অবসান ঘটেছিল। চুক্তি বাতিলের কারণ জানায়নি সাময়িকীটি।

সাক্ষাৎকারের বাইরের আচরণের কথাও জানালেন ইউয়েন

যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য ও অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের বিস্তৃত অভিজ্ঞতার মধ্যে সাক্ষাৎকারটির কথা ছিল প্রথম উদাহরণ। ইউয়েন বলেন, এক পুরুষ পরিচালক তাঁর কাজ নিয়ে আলোচনা না করে এমনভাবে তাঁর চেহারা নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন, যেন মানুষ তাঁর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করতে চাইবে কি না সেটিই বিবেচ্য।

বিজ্ঞাপন

কর্মজীবনের শুরুর দিকে যাঁর জনপরিচিতি মূলত চেহারাকে ঘিরে ছিল, সেই অভিনেত্রী ইউয়েন পরিচালকের কথাটি স্মরণ করে বলেন:

আপনি সেই ধরনের নন, যাঁর সঙ্গে মানুষ [যৌন সম্পর্ক করতে] চাইবে; বরং ভালো বন্ধু হয়ে থাকতে চাইবে।

আরেক ঘটনায়, এক মাতাল পুরুষ সহকর্মী অশ্লীল জাপানি ভাষায় তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, তাঁর পুরুষাঙ্গ ইউয়েনের ভালো লাগে কি না। ইউয়েন জাপানি বুঝতেন এবং তাঁর ভাষ্য, নৈশভোজে উপস্থিত একমাত্র তিনিই কথাটির অর্থ বুঝেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি ক্ষমা চাইতে বলেন এবং ক্ষমা পান। তবে সহকর্মীকে জবাবদিহির আওতায় আনার চেষ্টার জন্য অন্যরা তাঁকে উপহাস করেছে বলেও জানান তিনি।

আরেক ঘটনায়, এক অভিজ্ঞ পুরুষ অভিনেতা বারবার কৌতুক করে বলতেন, ইউয়েন তাঁকে চুমু খেতে চান। ইউয়েন বলেন, শুটিংয়ের সময় তিনি কোনো আগাম আলোচনা ছাড়াই তাঁর গালে চুমু খান। প্রবন্ধটি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, দৃশ্যটিতে চুমুর বিষয়টি আগে থেকে সম্মত না হয়ে পরে যোগ করা হয়েছিল। ইউয়েন তাঁর নাম জানাননি।

পুরুষ অভিনেতারা ক্যামেরা ক্রেন দিয়ে ওপর থেকে অভিনেত্রীদের স্তন ধারণ করা হচ্ছে বলেও কৌতুক করেছিলেন বলে স্মরণ করেন ইউয়েন। ক্যামেরা ক্রেনের সাহায্যে ক্যামেরা সরানো যায় বা উঁচু জায়গা থেকে দৃশ্য ধারণ করা যায়। এর ব্যবহারের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া যৌন মন্তব্য নিয়েই তাঁর আপত্তি ছিল; এমন প্রতিটি দৃশ্যের উদ্দেশ্যই তা ছিল, এমন অভিযোগ তিনি করেননি।

আপত্তি জানালে কেন মূল্য দিতে হতে পারে

অনুপযুক্ত আচরণে কোনো নারী আপত্তি জানানোর পর কী ঘটে, ইউয়েনের প্রবন্ধে সেটিই গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর ভাষ্য, আপত্তিকে কৌতুক বুঝতে না পারা হিসেবে দেখা হতে পারে, অথচ যিনি মন্তব্যটি করেছেন, তাঁকে আর জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হয় না। তখন নিজের প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি সহকর্মীদের অস্বস্তিও সামলাতে হয় ওই নারীকে।

কথার ভঙ্গি স্বাভাবিক ও অনায়াস হলে আপত্তিকর ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা কঠিন হতে পারে বলে তিনি লিখেছেন:

এসব ঘটনা এত স্বাভাবিকভাবে ঘটে যে আপনি নিজেকেই প্রশ্ন করতে শুরু করেন, নৈতিক বিচারবোধও ঝাপসা হয়ে যায়। ঘটনা ঠিক কী ঘটেছে তা বুঝতেই অনেক চেষ্টা করতে হয়, তখনই আপত্তি জানানোর কথা তো বাদই দিলাম,

ইউয়েনের অভিজ্ঞতা এই ধারণাকেও প্রশ্ন করে যে, সঙ্গে সঙ্গে আপত্তি জানালেই জবাবদিহি নিশ্চিত হয়। তিনি বলেন, সাক্ষাৎকারের সময় কথা বললেও তখন কোনো ক্ষমা চাওয়া হয়নি। জাপানি ভাষায় করা মন্তব্যের ঘটনায় তিনি ক্ষমা পেয়েছিলেন, কিন্তু উপস্থিত অন্যদের উপহাসও সহ্য করতে হয়েছিল।

প্রকাশ্যে ঘটনা জানানোর পর নতুন ধরনের চাপ তৈরি হয় বলেও সতর্ক করেছেন ইউয়েন। নারীদের বিরুদ্ধে মনোযোগ পাওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠতে পারে, তাঁরা আগে কেন বাধা দেননি তা জানতে চাওয়া হতে পারে, কিংবা তাঁদের চরিত্র নিয়ে আক্রমণ করা হতে পারে। এ ধরনের প্রতিক্রিয়া ভীতিকর প্রভাব তৈরি করতে পারে; অর্থাৎ, কথা বলার সম্ভাব্য মূল্য দিতে হবে ভেবে অন্যরাও ঘটনা জানাতে নিরুৎসাহিত হন।

বিজ্ঞাপন

তাঁর বক্তব্য কেবল কেউ ক্ষমা চেয়েছেন কি না, তা নিয়ে নয়। নারীরা নিজেদের সীমারেখা নির্ধারণ করতে পারেন কি না এবং দোষের লক্ষ্যবস্তু না হয়েও তাঁদের পেশাগত উদ্বেগ গুরুত্ব পায় কি না, সেটিই মূল প্রশ্ন।

অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন অন্য অভিনেতারাও

হংকংয়ের টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রজগতের অন্যদের অভিজ্ঞতাও দেখায়, ইউয়েনের প্রবন্ধটি কেন অনেকের মনে সাড়া ফেলেছে। অভিজ্ঞ অভিনেত্রী তাম সিউ-ইং এর আগে পোশাক বদলানোর ঘরে পেছন থেকে কেউ তাঁকে জাপটে ধরেছিল বলে স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, পেছনে কে আছে তা দেখার আগেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘুরে তাঁকে চড় মেরেছিলেন। পরে স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, আলিঙ্গন করাকে তিনি স্বাগত জানান না।

টিভিবিতে যোগ দেওয়ার আগে, কুড়ির কোঠায় থাকার সময় কাস্টিং সাক্ষাৎকারে যাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন ন্যাটালি টং। তাঁর ভাষ্য, প্রযোজনা দলের এক সদস্য তাঁকে বারবার পিঠে হাত বুলিয়ে জিজ্ঞেস করছিলেন, তিনি চরিত্রটি চান কি না। তিনি সরে যান এবং মায়ের সঙ্গে পরামর্শ করার কথা বলে পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসেন।

ক্যাথি চাউকে এক অতিরিক্ত অভিনেতা হয়রানি করলে হস্তক্ষেপ করেছিলেন বলেও জানিয়েছেন অভিনেতা লি কা-তিং। এগুলো পৃথক ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ, কোনো যৌথ তদন্তের সিদ্ধান্ত নয়। তবে পোশাক বদলানোর ঘর, অডিশন ও শুটিংসহ বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের ঘটনা ছিল বলে এসব বর্ণনায় উঠে এসেছে।

আরেক বিতর্কের সূত্রপাত ২০০৮ সালে। তখন অভিনেত্রী ইউয়েন কিং-তান অভিযোগ করেছিলেন, টিভিবির এক পুরুষ অভিনয়শিল্পী জাদুর কৌশলকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে নারী সহকর্মীদের স্পর্শ করতেন। ওই আলোচনায় সোনিয়া কোক ও চ্যান সি-চিংয়ের নাম এসেছিল। পরবর্তী অভিযোগে তাভিয়া ইয়ুং ও শ্যারন চ্যানের নামও উল্লেখ করা হয়।

সে সময় জনমনে সন্দেহ গিয়ে পড়ে অভিনেতা চোই সি-কিনের ওপর। তিনি জবাবে বলেন, অকাট্য প্রমাণ ছাড়া তাঁকে উত্তর দিতে হবে না। এই সন্দেহকে প্রমাণিত পরিচয় হিসেবে দেখা উচিত নয়। বিতর্ক নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্তের কথা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

গোপন সতর্কবার্তা ও প্রকাশ্য সমর্থন

অভিনেত্রী মুন লাউ বলেছেন, শিল্পজগতের নারীরা ব্যক্তিগতভাবে এমন কিছু পুরুষের তালিকা একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে নেন, যাঁদের বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলে তাঁরা মনে করেন। নারী সহকর্মী ও বন্ধুদের কাছ থেকে তিনি শুনেছেন, আগে যথাযথ আলোচনা না করে শারীরিক আচরণ করায় তাঁরা অস্বস্তিতে পড়েছিলেন।

লাউ শিল্পীদের, তাঁদের বয়স বা চরিত্রের গুরুত্ব যা-ই হোক, শুটিংয়ের আগে আলোচনা করতে এবং অস্বস্তি হলে কথা বলতে আহ্বান জানান। তাঁর বর্ণিত গোপন সতর্কতামূলক তালিকাটি অভিনেত্রীদের মধ্যে প্রচলিত একটি অনানুষ্ঠানিক প্রথা; এটি প্রকাশিত তালিকা বা আনুষ্ঠানিক শাস্তিমূলক নথি নয়। এখানেও ওই তালিকার কারও নাম নিশ্চিত করা হয়নি।

বিজ্ঞাপন

এসব বর্ণনায় একই উদ্বেগের জবাবে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া উঠে এসেছে। কেউ তাৎক্ষণিকভাবে শারীরিক বাধা দিয়েছেন, কেউ সেখান থেকে চলে যাওয়ার পথ খুঁজেছেন, আবার কেউ পরে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। শুধু এই পার্থক্য দিয়ে কোনো ঘটনা স্বাগত ছিল কি না, তা নির্ধারণ করা যায় না। নারীরা কীভাবে বাধা দেবেন, তা নিয়ে একটিমাত্র প্রত্যাশিত ধরন চাপিয়ে দেওয়ার বিরোধিতা করেছে ইউয়েনের প্রবন্ধ।

তাঁর পোস্টে জেনিফার ইয়ু, কফি লাম, সেরিনি ও থেরেসা ফুসহ শিল্পীরা সমর্থনের মন্তব্য করেন। অভিনেতা চুং সুয়েট-ইং তাঁর 善男信女 ছবিটি নিয়ে ব্যবহৃত যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ প্রচারভাষারও সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য, ওই শব্দচয়ন মনোযোগ কাড়ার চেষ্টা ছিল এবং ছবিটি নিয়ে অর্থবহ আলোচনা করেনি।

ওং তাঁর সাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের লেখায় ছবিটি নিয়ে করা মন্তব্যের কথাও আলাদাভাবে উল্লেখ করে বলেন, সেগুলো তাঁর অনুতাপের আরেকটি উদাহরণ। চুংয়ের আপত্তি ছিল তাঁর অভিনয় কীভাবে প্রকাশ্যে উপস্থাপন করা হয়েছে তা নিয়ে; এটি Gamer Girls-এর সাক্ষাৎকার সম্পর্কে ইউয়েনের অভিযোগ থেকে পৃথক।

চেহারাকেন্দ্রিক ভাবমূর্তির বাইরে গড়ে ওঠা কর্মজীবন

ইউয়েন শা তাউ ককে বড় হয়েছেন এবং মডেল হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি হংকং ব্যাপ্টিস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে হিসাববিজ্ঞান পড়েছেন। ২০১৫ সালে ম্যাক্সিমসের একটি চন্দ্র নববর্ষের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান। ওই বছরই তিনি স্টারজ পিপলের সঙ্গে তিন বছরের চুক্তি করেন এবং ভিউটিভির ২০১৬ সালের প্রচারমূলক স্বল্পদৈর্ঘ্য ধারাবাহিক We I U-এর মাধ্যমে আরও পরিচিত হন।

ছোট চুল ও অনাড়ম্বর সাজে তাঁর এমন এক ভাবমূর্তি তৈরি হয়, যা তারুণ্য ও শিল্প-সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত ছিল। এই পরিচিতির পাশাপাশি এমন অবজ্ঞাসূচক ধারণাও ছিল যে তাঁর মূল্য মূলত চেহারার কারণে। পরে অভিনয়ের মাধ্যমে সেই ভাবমূর্তি ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।

২০১৭ সালের জুলাইয়ে স্টারজ পিপল চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগে মামলা করে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি ছিল, ইউয়েন নিজ উদ্যোগে কাজের ব্যবস্থা করেছিলেন; তারা আয় ও ক্ষতিপূরণ দাবি করে। ব্যক্তিগতভাবে কাজ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন ইউয়েন। আলোচনার পর বিরোধের অবসান হয় এবং ২০১৮ সালে তিনি ট্রিপল এস আর্টিস্ট ম্যানেজমেন্টে যোগ দেন। সমঝোতার শর্ত জানানো হয়নি।

The Narrow Road ছবিতে ক্যান্ডি চরিত্রে অভিনয়ের জন্য, যেখানে মহামারির সময়ে সংগ্রামরত এক একক মাকে দেখা যায়, ইউয়েন ৫৯তম গোল্ডেন হর্স অ্যাওয়ার্ডস ও ৪১তম হংকং ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডসে সেরা অভিনেত্রীর মনোনয়ন পান। পরে সিলভিয়া চ্যাংয়ের সঙ্গে অভিনীত 二十四味 ছবির জন্য ২০২৫ সালের নভেম্বরে নিউজিল্যান্ড এশিয়া প্যাসিফিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জেতেন তিনি।

জাপানেও কাজ করেছেন তিনি। এর মধ্যে ছিল আলোকচিত্রী কোটোরি কাওয়াশিমার সঙ্গে সহযোগিতা। তাইওয়ানে কাজের মধ্যে রয়েছে 山忌:黃衣小飛俠 চলচ্চিত্র এবং এরিক চৌয়ের সঙ্গে নাটক 來!金來號!। নাটকটি Itaewon Class-এর রূপান্তর। ২০২৬ সালে দ্বিতীয়বার গোল্ডেন হর্সে মনোনয়ন পাওয়ার সময় তাঁর এই অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে আসে। অর্থাৎ, তাঁর অভিনয়ের স্বীকৃতি বাড়তে থাকার প্রেক্ষাপটেই বিষয়টি সামনে এসেছে, কর্মজীবনের শুরুতে নয়।

সময়রেখা ও অমীমাংসিত বিষয়

ঘটনাগুলোর ক্রম গুরুত্বপূর্ণ। প্রবন্ধটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়ানোর কয়েক মাস আগেই লেখা হয়েছিল এবং জনবিতর্কের আগে 藝文青-এর সঙ্গে ওংয়ের সম্পর্ক শেষ হয়েছিল। তবে সাক্ষাৎকারের তারিখ নিয়ে মতভেদ রয়ে গেছে।

  • ২০১৫ থেকে ২০১৮: বিজ্ঞাপন ও ভিউটিভির মাধ্যমে পরিচিতি পান ইউয়েন; ম্যানেজমেন্ট চুক্তি নিয়ে বিরোধের মুখে পড়েন এবং পরে এজেন্সি বদলান।
  • ২০২২: The Narrow Road তাঁকে গোল্ডেন হর্সে সেরা অভিনেত্রীর প্রথম মনোনয়ন এনে দেয়; পরে হংকং ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডসেও স্বীকৃতি পান।
  • ২০২৫: 藝文青 জানায়, ওংয়ের সঙ্গে তাদের চুক্তি শেষ হয়েছে। নভেম্বরে নিউজিল্যান্ডের চলচ্চিত্র উৎসবে অভিনয়ের পুরস্কার জেতেন ইউয়েন।
  • ২০২৫ সালের শেষ দিকে অথবা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি: Gamer Girls-এর সাক্ষাৎকারের তারিখ নিয়ে ওং এবং ইউয়েনের স্মৃতিচারণের বিবরণে পার্থক্য রয়েছে।
  • এপ্রিল ২০২৬: ইউয়েনের প্রবন্ধটি প্রথম তাঁর সিটি ম্যাগাজিনের কলামে প্রকাশিত হয়।
  • ১২ থেকে ১৩ অক্টোবর ২০২৬: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবন্ধটি ছড়িয়ে পড়ে; এরপর ওং ক্ষমা চান এবং সাময়িকীটি স্পষ্টীকরণ দেয়।

ওং অনুপযুক্ত কৌতুক করা এবং সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমা না চাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। ইউয়েনের বর্ণনায় থাকা অন্য পুরুষদের নাম প্রকাশ করা হয়নি, তাঁদের প্রতিক্রিয়াও জানা যায়নি। এখানে আনুষ্ঠানিক তদন্ত, আইনি অভিযোগ, শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত বা শুনানির নির্ধারিত তারিখের কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই।

বিজ্ঞাপন

ওংয়ের ক্ষমা ইউয়েন গ্রহণ করেছেন কি না, তাও জানা যায়নি। তাঁর বক্তব্য ওই বিনিময়ের চেয়ে বিস্তৃত: যৌন মন্তব্য ও অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শকে নিয়মিত আচরণ বলে আর অজুহাত দেওয়া যাবে না এবং আপত্তি জানাতে গিয়ে নারীদের পেশাগত বা ব্যক্তিগত মূল্য দিতে হবে না।

মূল কথা

  • অ্যাঞ্জেলা ইউয়েন যৌন মন্তব্য, অনিচ্ছাকৃত চুমু এবং অনুপযুক্ত আচরণে আপত্তি জানানো নারীদের ওপর চাপের কথা জানিয়েছেন।
  • রেড আই নামে পরিচিত সাংবাদিক ওং উইং-লুং Gamer Girls-এর সাক্ষাৎকারে অনুপযুক্ত কৌতুক করার এবং সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমা না চাওয়ার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।
  • সাক্ষাৎকারটি ২০২৫ সালের শেষ দিকে, নাকি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে হয়েছিল, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে মতভেদ রয়েছে।
  • 藝文青 জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ওংয়ের সঙ্গে তাদের চুক্তি শেষ হয়; এতে তাঁকে সাময়িকীটির বর্তমান সম্পাদক বলা সংক্রান্ত তথ্য সংশোধিত হয়েছে।
  • ইউয়েনের প্রবন্ধটি এপ্রিলে প্রথম প্রকাশিত হয়; ২০২৬ সালের অক্টোবরে তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
  • অন্য অভিনেতারাও অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ ও শিল্পজগতের নারীদের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক সতর্কবার্তার কথা জানিয়েছেন।
  • কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত, নির্ধারিত শুনানি বা ওংয়ের ক্ষমা গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি।
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে