৫০৯ কোটি বাতের ব্যয় পর্যালোচনা থেকে দুটি বিরোধ সামনে এসেছে
৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের বলে উল্লেখ করা স্টেট অডিট অফিসের একটি চিঠিতে Thai PBS-এর নীতি বোর্ডকে পরিচালক ভানচাই তান্তিভায়াপিতাকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এবং অনুষ্ঠান-সংক্রান্ত চুক্তি ও উপস্থাপক-অতিথিদের অর্থ পরিশোধের বিষয়ে ৮৫,২২২,৯৩৫.৬৫ বাত ফেরত আদায়ের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। Thai PBS বলেছে, নিরীক্ষার ফলাফল সম্পর্কে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নোটিশ পায়নি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করে এমন তথ্য প্রকাশের প্রতিবাদ করেছে।
সূচিপত্র
- ৫০৯ কোটি বাতের ব্যয় পর্যালোচনা থেকে দুটি বিরোধ সামনে এসেছে
- নিরীক্ষার চিঠিতে কী চাওয়া হয়েছে
- ৮৫.২২ মিলিয়ন ও ২৩০.২০ মিলিয়ন বাতের অঙ্ক আলাদা কেন
- ক্রয় ও অর্থ পরিশোধের কোন নিয়ম প্রশ্নের মুখে?
- প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজর
- তথ্য প্রকাশের তদন্ত চায় Thai PBS
- সময়রেখা ও সময়সীমা নিয়ে মতভেদ
- অর্থ ফেরত ও অর্থায়নে প্রস্তাবিত পরিবর্তন
- সংস্কার পরিকল্পনার বাস্তব পরীক্ষা
- মূল বিষয়গুলো
ফেরত আদায়ের বিতর্কিত অঙ্কের মধ্যে রয়েছে ২০২৩ থেকে ২০২৫ অর্থবছরে অনুষ্ঠান প্রযোজনার চুক্তির জন্য ১৫.৮৪ মিলিয়ন বাত এবং ২০২৫ অর্থবছরে উপস্থাপক, সঞ্চালক, অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের অর্থ পরিশোধের জন্য ৬৯,৩৮২,৯৩৫.৬৫ বাত। বৃহত্তর পর্যালোচনায় ২০২২ থেকে ২০২৫ অর্থবছরে মোট ৫,০৯৪.৫৬ মিলিয়ন বাতের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এখন এই ঘটনায় দুটি পৃথক প্রশ্ন রয়েছে: সম্প্রচারমাধ্যমটি ক্রয় ও অর্থ পরিশোধের নিয়ম মেনেছিল কি না, এবং Thai PBS আনুষ্ঠানিকভাবে জবাব দেওয়ার আগেই নিরীক্ষার তথ্য অনিয়মিতভাবে প্রকাশ করা হয়েছিল কি না। অর্থ ফেরতের সুপারিশের খবর বা কর্মীদের পরিচয় প্রকাশ, কোনোটিই প্রমাণ করে না যে আদালত কাউকে দোষী সাব্যস্ত করেছে।
পরবর্তী এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তথ্য ফাঁসের অভিযোগ তদন্তে স্টেট অডিট অফিস একটি কমিটি গঠন করেছে। ২০২৬ সালের ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভা শেষ হওয়ার পর কমিটির কাজ শুরু হওয়ার কথা। এ বিষয়ে প্রতিবেদনগুলোতে তদন্তের কোনো ফলাফল জানানো হয়নি।
নিরীক্ষার চিঠিতে কী চাওয়া হয়েছে
৭ অক্টোবরের চিঠিটি অডিটর জেনারেলের কাছ থেকে Thai PBS নীতি বোর্ডের চেয়ারম্যানের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে বলে বর্ণনা করা হয়েছে। এতে আইন ও অভ্যন্তরীণ নিয়ম না মানার অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযোগের বিষয় হলো অনুষ্ঠান প্রযোজনায় একটি নির্দিষ্ট ক্রয়পদ্ধতির ব্যবহার এবং মানদণ্ড, পদ্ধতি, শর্ত ও হার নির্ধারণকারী নিয়ম ছাড়া সম্মানী দেওয়া।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিঠিতে বোর্ডকে নিজ ক্ষমতাবলে ভানচাইয়ের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে এবং উল্লিখিত ক্ষতিপূরণের অর্থ ফেরত আদায়ের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। আরও ১০ জন কর্মী বা অন্য স্টাফ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ করা হয়েছে। পরিচালক ও ওই ১০ কর্মী মিলিয়ে মোট ১১ জন; এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কিছু প্রতিবেদনে মাত্র ১০ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনগুলোতে কর্মীদের মামলাগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে: তিনজন অনুষ্ঠান-সংক্রান্ত ক্রয়ের সঙ্গে যুক্ত এবং সাতজন সম্মানী অনুমোদনের সঙ্গে যুক্ত। কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে কীভাবে ফেরত আদায় করা হবে, দায়ভার ভাগাভাগি হবে কি না, বা বোর্ড প্রস্তাবিত অঙ্কটি মেনে নিয়েছে কি না, সে বিষয়ে এগুলোতে কিছু প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
Thai PBS-এর প্রশাসনবিষয়ক উপপরিচালক পিসেট চিয়াসাক বলেছেন, প্রচারিত দাবিগুলো যাচাই করা সম্প্রচারমাধ্যমটির পক্ষে সম্ভব হয়নি, কারণ তারা কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন পায়নি। তাঁর বক্তব্য, নিরীক্ষার ফলাফলে ত্রুটি চিহ্নিত করে সংশোধনের সুপারিশ করা হয়; এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শাস্তি আরোপ বা আইনি দায় নির্ধারিত হয় না।
৮৫.২২ মিলিয়ন ও ২৩০.২০ মিলিয়ন বাতের অঙ্ক আলাদা কেন
নিরীক্ষার একটি বিস্তৃত বিবরণে ত্রুটিযুক্ত বলে বিবেচিত ব্যয় হিসেবে ২৩০.২০ মিলিয়ন বাতের কথা বলা হয়েছে। এই অঙ্কে একই ১৫.৮৪ মিলিয়ন বাতের প্রযোজনা চুক্তির পাশাপাশি ২০২৩ থেকে ২০২৫ অর্থবছরের ২১৪.৩৬ মিলিয়ন বাতের সম্মানী পরিশোধও রয়েছে।
প্রতিবেদনে ফেরত আদায়ের যে দাবি করা হয়েছে, তাতে সম্মানীর জন্য আরও সীমিত সময়কাল ধরা হয়েছে: শুধু ২০২৫ অর্থবছর, যার পরিমাণ প্রায় ৬৯.৩৮ মিলিয়ন বাত। তাই দুটি মোট অঙ্ককে একই দাবির বিনিমেয় হিসাব হিসেবে দেখা উচিত নয়। একটিতে প্রশ্নবিদ্ধ ব্যয়ের বৃহত্তর অংশের কথা বলা হয়েছে, অন্যটি ক্ষতিপূরণ হিসেবে ফেরত চাওয়া নির্দিষ্ট অঙ্ক।
প্রতিবেদনে দেওয়া অঙ্ক অনুযায়ী, ৮৫.২২ মিলিয়ন বাতের ফেরত দাবির প্রায় ৮১.৪% হলো সম্মানী। ফেরত চাওয়া অঙ্কটি পর্যালোচিত ৫,০৯৪.৫৬ মিলিয়ন বাতের প্রায় ১.৬৭%; অন্যদিকে বৃহত্তর ২৩০.২০ মিলিয়ন বাতের অঙ্কটি প্রায় ৪.৫২%।
এই তুলনাগুলো প্রশ্নবিদ্ধ ব্যয়ের আপেক্ষিক আকার দেখায়, প্রমাণিত দুর্নীতির পরিমাণ নয়। বৃহত্তর অঙ্কের যে বিবরণ দেওয়া হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, ওই বিষয়গুলোতে দুর্নীতিমূলক আচরণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ব্যয়ের নিয়ম না মানলে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা প্রয়োজন হতে পারে; কিন্তু তাতে প্রমাণ হয় না যে প্রতিটি অর্থ চুরি হয়েছে বা প্রত্যেক প্রাপক বেআইনিভাবে কাজ করেছেন।
ক্রয় ও অর্থ পরিশোধের কোন নিয়ম প্রশ্নের মুখে?
ক্রয়-সংক্রান্ত অভিযোগে ২০১৭ সালের সরকারি ক্রয় ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা আইনের উল্লেখ রয়েছে, যার মধ্যে ধারা ৫৬-এর প্রথম অনুচ্ছেদের উপধারা (২)(গ) রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূল প্রশ্ন হলো নির্দিষ্ট কিছু অনুষ্ঠান-সংক্রান্ত চুক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বিশেষ ক্রয়পদ্ধতিটি প্রযোজ্য ছিল কি না।
সহজভাবে বললে, আইননির্ধারিত শর্ত পূরণ হলে এই পদ্ধতিতে কোনো সংস্থা উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার বদলে নির্দিষ্ট সরবরাহকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। মূল বিষয় হলো, শর্তগুলো প্রযোজ্য ছিল কি না এবং যথাযথভাবে নথিবদ্ধ করা হয়েছিল কি না। নির্দিষ্ট কোনো প্রযোজককে বেছে নেওয়া নিজে থেকেই অন্যায়ের প্রমাণ নয়।
সম্মানীর বিষয়টি আলাদা। অভিযোগ হলো, উপস্থাপক, সঞ্চালক, অতিথি ও অনুষ্ঠানের অংশগ্রহণকারীদের পর্যাপ্তভাবে নির্ধারিত অভ্যন্তরীণ নিয়ম ছাড়াই অর্থ দেওয়া হয়েছে। এসব নিয়মে নির্ধারিত হয় কারা অর্থ পেতে পারেন, কে অনুমোদন দেবেন, কীভাবে হার নির্ধারিত হবে এবং কী নথিপত্র প্রয়োজন।
Thai PBS বলেছে, তাদের ক্রয় ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বচ্ছ এবং তারা দুর্নীতি বা অন্যায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে। ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, চুক্তিগুলো সরকারি ইলেকট্রনিক ক্রয়ব্যবস্থা—ই-জিপি—মেনে করা হয়েছে এবং অনুষ্ঠানগুলো প্রযোজনা ও সম্প্রচার করা হয়েছে। অনুষ্ঠান সরবরাহ করা এবং ইলেকট্রনিক ব্যবস্থা ব্যবহার করা প্রাসঙ্গিক তথ্য, তবে নির্বাচিত ক্রয়পদ্ধতি বা অর্থ পরিশোধের অনুমোদন সব আইনি শর্ত পূরণ করেছিল কি না, তা শুধু এ তথ্য দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না।
প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজর
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা চুক্তির বিবরণ অনুযায়ী, আলকা লিংক কোং লিমিটেড ২৮.০৬ মিলিয়ন বাতের নয়টি চুক্তি পেয়েছে। সাংবাদিক কারুনা বুয়াকামস্রির ৪৫% মালিকানা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কাজের মধ্যে ছিল আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে অনুষ্ঠান ফ্ল্যাশপয়েন্ট, যার প্রতি পর্বের প্রযোজনা ব্যয় ২৩০,০০০ বাত বলে জানানো হয়েছে, এবং তব জোটে উপস্থাপনার কাজ।
প্রযোজনার কাজের মূল্য যৌক্তিক—এ কথা বোঝাতে কারুনা লাইসেন্স ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংগ্রহের ব্যয়ের কথা বলেছেন। প্রতি পর্বের পারিশ্রমিক যৌক্তিক না অতিরিক্ত, তা স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠা করার মতো বিস্তারিত ব্যয়-তুলনা দেওয়া হয়নি।
চুক্তি-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে আরও দুটি প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে। কাফে ডাম কোং লিমিটেড ২৬.২৩ মিলিয়ন বাতের বেশি মূল্যের অন্তত ২৭টি প্রকল্প পেয়েছে। প্রবীণ সাংবাদিক সুথিচাই সে ইউন ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও বৃহত্তম শেয়ারহোল্ডার, তাঁর মালিকানা ৬৯% বলে উল্লেখ করা হয়েছে। খন খম খিত কোং লিমিটেড ২.২ মিলিয়ন বাতের অন্তত চারটি চুক্তি পেয়েছে; উপস্থাপক উইসুত খমওয়াচারাপং ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও ৫০% শেয়ারহোল্ডার বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
শেষের এই দুটি প্রতিষ্ঠানের উল্লেখিত অঙ্ক যোগ করলে প্রায় ২৮.৪৩ মিলিয়ন বাত হয়। এই চুক্তিগুলোর মোট অঙ্ককে প্রতিবেদনে উল্লিখিত ক্ষতিপূরণ দাবির সঙ্গে যোগ করা যাবে না: তালিকাভুক্ত প্রতিটি চুক্তি ১৫.৮৪ মিলিয়ন বাতের ক্রয়-সংক্রান্ত দাবির অন্তর্ভুক্ত, এমন প্রমাণ বিবরণগুলোতে নেই। কোনো প্রতিষ্ঠানের মালিকানা বা চুক্তি পাওয়াও অনুচিত প্রভাব, স্বার্থের সংঘাত বা বেআইনি আচরণ প্রমাণ করে না।
তথ্য প্রকাশের তদন্ত চায় Thai PBS
নিরীক্ষার বিস্তারিত ও নাম কীভাবে জনসমক্ষে এসেছে, তা খতিয়ে দেখতে Thai PBS স্টেট অডিট কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করেছে; কিছু ইংরেজি প্রতিবেদনে সংস্থাটির নাম ন্যাশনাল অডিট কমিটি বলা হয়েছে। আগের প্রতিবেদনগুলোতে আবেদন করার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছিল; পরবর্তী প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, ভানচাইয়ের পাঠানো চিঠিসহ আবেদনটি দাখিল করা হয়েছে।
সম্প্রচারমাধ্যমটি জাতীয় নিরীক্ষা আইনের ধারা ৩৫ এবং নিরীক্ষাধীন সংস্থার নিরীক্ষাপদ্ধতি বা মানদণ্ডের সঙ্গে অসংগত বলে বিবেচিত প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আপত্তি জানানোর অধিকার-সংক্রান্ত কমিশনের একটি প্রাসঙ্গিক ঘোষণার উল্লেখ করেছে। তথ্য প্রকাশের অভিযোগে ২০১৮ সালের স্টেট অডিটবিষয়ক অর্গানিক আইনের ধারা ১০৪-ও তোলা হয়েছে। ওই ধারা লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, তা নির্ধারিত হয়নি।
আবেদনে চারটি বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে:
- নিরীক্ষা প্রক্রিয়া চলার সময় তথ্য ও নাম প্রকাশ করা হয়েছিল কি না।
- কী ধরনের গোপনীয়তা ব্যবস্থা কার্যকর ছিল এবং আনুষ্ঠানিক নোটিশের আগে কীভাবে তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পৌঁছেছিল।
- কোনো তথ্য প্রকাশ ইচ্ছাকৃত কাজ বা অবহেলার ফলে হয়েছিল কি না এবং এর জন্য কে দায়ী।
- ভুল বোঝাবুঝি কীভাবে দূর করা যায় এবং Thai PBS ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষতির কী প্রতিকার করা যায়।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অধিকার প্রসঙ্গে পিসেট ১৯৯৭ সালের সরকারি তথ্য আইনও উল্লেখ করেছেন। তাঁর যুক্তি, আগেভাগে তথ্য প্রকাশের ফলে সুনাম ও কর্মীদের মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ উদ্বেগ ব্যাখ্যা করে প্রশাসনবিষয়ক উপপরিচালক বলেন:
"আগেভাগে তথ্য প্রকাশের ফলে কর্মীদের জবাব দেওয়ার সুযোগ পাওয়ার আগেই তাদের দোষী হিসেবে তুলে ধরার এবং তাদের মনোবল ক্ষুণ্ন করার ঝুঁকি রয়েছে," তিনি বলেন।
Thai PBS বলেছে, তারা নিরীক্ষার বিরোধিতা করে না এবং আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর উপযোগী সুপারিশ বিবেচনা করবে। তথ্য প্রকাশের অভিযোগ ব্যয়ের অভিযোগের নিষ্পত্তি করে না; একইভাবে ব্যয়ের অভিযোগ থেকেও তথ্য কে প্রকাশ করেছে তা প্রতিষ্ঠিত হয় না।
সময়রেখা ও সময়সীমা নিয়ে মতভেদ
প্রতিবেদনগুলোতে ব্যয়ের সময়কাল, চিঠিপত্র ও পরিকল্পিত তদন্ত-সংক্রান্ত পদক্ষেপের ধারাবাহিক বিবরণ রয়েছে। তবে নোটিশ পাওয়ার পর ব্যবস্থা সম্পন্ন করার জন্য কত সময় দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতভেদও রয়েছে।
- ২০২২ থেকে ২০২৫ অর্থবছর: বৃহত্তর ব্যয় পর্যালোচনায় ৫,০৯৪.৫৬ মিলিয়ন বাত অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- ২০২৩ থেকে ২০২৫ অর্থবছর: প্রশ্নবিদ্ধ অনুষ্ঠান-সংক্রান্ত ক্রয়ের মোট অঙ্ক ছিল ১৫.৮৪ মিলিয়ন বাত; সম্মানীর বিস্তৃত পর্যালোচনায় ছিল ২১৪.৩৬ মিলিয়ন বাত।
- ২০২৫ অর্থবছর: ৬৯,৩৮২,৯৩৫.৬৫ বাতের সম্মানী পরিশোধ প্রতিবেদনে উল্লিখিত ফেরত দাবির অংশ ছিল।
- ৭ অক্টোবর ২০২৬: অডিটর জেনারেলের প্রতিবেদিত চিঠির তারিখ; এটি Thai PBS নীতি বোর্ডের চেয়ারম্যানের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছিল।
- ৮ অক্টোবর ২০২৬: Thai PBS জানায়, তারা নিরীক্ষার ফলাফল সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক নোটিশ পায়নি।
- ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর ২০২৬: ব্যাংকের কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভা হওয়ার কথা ছিল; এরপর তথ্য প্রকাশের তদন্ত শুরু হওয়ার কথা বলে জানানো হয়।
ব্যবস্থা শুরু করার জন্য ৬০ দিনের সময়সীমার বিষয়ে প্রতিবেদনগুলো একমত। তবে তা সম্পন্ন করার সময়সীমা নিয়ে মতভেদ রয়েছে: চিঠির বিবরণ দেওয়া প্রতিবেদনগুলোতে ১২০ দিন, আর অন্য একটিতে নোটিশের পর ২৪০ দিনের কথা বলা হয়েছে।
আনুষ্ঠানিক নথি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই অমিলের মীমাংসা সম্ভব নয়। নোটিশ পাওয়ার তারিখও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সময়সীমা চিঠির তারিখ থেকে নয়, নোটিশ দেওয়ার সময় থেকে গণনা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। Thai PBS নোটিশ পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করায় কাজ সম্পন্ন করার কোনো নিশ্চিত ক্যালেন্ডার-সময়সীমা নেই। তথ্য প্রকাশ তদন্ত কমিটি কবে তাদের ফলাফল প্রকাশ করবে, সে তারিখও জানানো হয়নি।
অর্থ ফেরত ও অর্থায়নে প্রস্তাবিত পরিবর্তন
নিরীক্ষা নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি সম্প্রচারমাধ্যমটির জন্য নির্দিষ্ট তামাক ও অ্যালকোহল করের অর্থায়ন বদলে সাধারণ সরকারি বাজেট বরাদ্দ চালুর প্রস্তাব নিয়ে বিতর্ক চলছে। চারটি সংস্থাকে প্রভাবিত করবে এমন একটি প্যাকেজের অংশ হিসেবে সংশোধনীগুলো প্রস্তাব করা হয়েছে; প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমজাইথাই দলের আইনপ্রণেতারা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিচ্ছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, Thai PBS বছরে নির্দিষ্ট কর থেকে প্রায় ১.৯ বিলিয়ন থেকে ২ বিলিয়ন বাত পায়; বছরে এ অর্থের সর্বোচ্চ সীমা ২ বিলিয়ন বাত। পিসেট বলেছেন, অর্থটি আর্থিক শৃঙ্খলা ও ক্রয় আইন মেনে ব্যয় করা হয় এবং স্টেট অডিট অফিস ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা তা নিরীক্ষা করে। পরিচালনাকারী আইনের আওতায় সম্প্রচারমাধ্যমটিকে জাতীয় সংসদ ও সিনেটেও বার্ষিক কর্মসম্পাদন প্রতিবেদন জমা দিতে হয়।
অর্থায়ন পরিবর্তনের বিরোধীদের যুক্তি, প্রতি বছর বাজেট অনুমোদন বাধ্যতামূলক হলে সম্প্রচারমাধ্যমটি রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে পারে। সমর্থকেরা বর্তমান ব্যয়ের মূল্য ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। নিরীক্ষা নিয়ে বিরোধের সঙ্গে সরকারের অর্থায়ন প্রস্তাবের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন পিসেট। প্রতিবেদনগুলোতে দুটির মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৪ অর্থবছরে নিট ঘাটতি ছিল বছরে ১৫৫ মিলিয়ন থেকে ২৭৫ মিলিয়ন বাত; এরপর ২০২৫ অর্থবছরে ৬৯.০৫ মিলিয়ন বাত নিট উদ্বৃত্ত হয়েছে। অনুষ্ঠান প্রযোজনা ও স্বত্ব কেনার ব্যয় ২০২১ অর্থবছরের ১,০৮৫ মিলিয়ন বাত থেকে ২০২৫ অর্থবছরে ৮৫৮.৩৬ মিলিয়ন বাতে নেমেছে; ২২৬.৬৪ মিলিয়ন বাত বা প্রায় ২০.৯% কমেছে।
অবচয় ও পরিশোধন ব্যয়ও কমেছে বলে জানানো হয়েছে। উন্নত ফলাফলের কতটা পরিচালনাগত পরিবর্তন এবং কতটা হিসাবসংক্রান্ত ব্যয়ের কারণে এসেছে, পরিসংখ্যানগুলোতে তা আলাদা করা হয়নি। উদ্বৃত্ত থাকলেই নিয়ম মেনে চলার প্রশ্নের নিষ্পত্তি হয় না; একইভাবে নিরীক্ষার অভিযোগ থেকেও প্রমাণ হয় না যে ভিন্ন অর্থায়নব্যবস্থায় ভালো ফল আসবে।
সংস্কার পরিকল্পনার বাস্তব পরীক্ষা
ভানচাই ২০২৭ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত একটি সংস্কার কর্মসূচির প্রস্তাব করেছেন, যার প্রাথমিক ধাপ শুরু হবে ২০২৬ সালের অক্টোবরে। ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত পরিকল্পনায় রয়েছে একই কাজের পুনরাবৃত্তি কমানো, জনবল পর্যালোচনা, ১০টি প্রক্রিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরীক্ষামূলক ব্যবহার এবং বাজেট-সংক্রান্ত তথ্য আরও প্রকাশ করা।
২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৮ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রতিবেদিত পরিকল্পনায় রয়েছে ওয়ান কনটেন্ট ওয়ার্কফ্লোর বিস্তার—কনটেন্ট তৈরি ও বিতরণের সমন্বিত একটি প্রক্রিয়া—এবং এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং বা ইআরপি ব্যবস্থা চালু করা। ইআরপি সফটওয়্যার অর্থ, ক্রয় ও সম্পদ ব্যবস্থাপনার মতো কাজকে একটি অভিন্ন ব্যবস্থায় আনে। একই পর্যায়ে রয়েছে ওয়ান আর্কাইভ ও এআই প্ল্যাটফর্ম।
২০২৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শেষ পর্যায়ে সম্প্রচার ও গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা সংযুক্ত করা এবং জাতীয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ভিপা গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। এগুলো প্রস্তাবিত প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন; প্রশ্নবিদ্ধ ব্যয়ের সমাধান ইতিমধ্যে হয়েছে, তার প্রমাণ নয়।
বাস্তব পরীক্ষা হবে, এই সংস্কারগুলো স্পষ্ট সম্মানী-সংক্রান্ত নিয়ম, ক্রয়পদ্ধতি বেছে নেওয়ার নথিভুক্ত কারণ এবং অনুসরণযোগ্য অনুমোদন প্রক্রিয়া তৈরি করতে পারে কি না। নতুন অর্থ পরিশোধের নিয়ম কবে কার্যকর হবে, সাফল্য কীভাবে মাপা হবে বা অগ্রগতি কীভাবে প্রকাশ করা হবে, প্রতিবেদনগুলোতে তা নির্দিষ্ট করা হয়নি। আপাতত অমীমাংসিত বিষয়গুলো হলো আনুষ্ঠানিক নিরীক্ষা-ফলাফলের বিষয়ে বোর্ডের জবাব, ব্যক্তিগত দায় নির্ধারণ এবং তথ্য প্রকাশের তদন্তের ফলাফল।
মূল বিষয়গুলো
- প্রতিবেদিত নিরীক্ষা-চিঠিতে ৮৫,২২২,৯৩৫.৬৫ বাত ফেরত চাওয়া হয়েছে; এর মধ্যে অনুষ্ঠান-সংক্রান্ত ক্রয় ও ২০২৫ অর্থবছরের সম্মানী পরিশোধ রয়েছে।
- বৃহত্তর ২৩০.২০ মিলিয়ন বাতের অঙ্কে দীর্ঘ সময়কালের প্রশ্নবিদ্ধ ব্যয় রয়েছে; এটি ফেরত দাবির সমান নয়।
- প্রতিবেদনগুলোতে পরিচালক ও ১০ জন কর্মীর বিরুদ্ধে প্রস্তাবিত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে; আইনি দোষ প্রমাণিত হওয়ার কথা নয়।
- Thai PBS বলেছে, তারা আনুষ্ঠানিক নিরীক্ষা-ফলাফল পায়নি এবং তথ্য ও নাম প্রকাশের তদন্ত চেয়েছে।
- প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্টেট অডিট অফিস তথ্য প্রকাশের ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করেছে; ২০২৬ সালের ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর ব্যাংকের সভার পর কাজ শুরু হওয়ার কথা।
- নোটিশের পর ব্যবস্থা ১২০ নাকি ২৪০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে, তা নিয়ে প্রতিবেদনগুলোতে মতভেদ রয়েছে।
- অর্থায়নের পরিবর্তন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার পৃথক সিদ্ধান্ত; এগুলো বিতর্কিত নিরীক্ষা-ফলাফলের নিষ্পত্তি করে না।






