গোয়ায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির যোগ্য ৯৭ জন ভোটার সিদ্ধান্ত ও সফটওয়্যারের মধ্যে ব্যবধান তুলে ধরেছেন
গোয়ায় নির্বাচনী কর্মকর্তারা নথিপত্র যাচাই করে ৯৭ জন ভোটারকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির যোগ্য বলে পান। তাঁদের আগের বাদ পড়ার সিদ্ধান্ত পাল্টাতে প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার অ্যাকসেস চেয়ে সাত দিনে আটটি চিঠি পাঠানো হয়। ২০২৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) তালিকা প্রকাশিত হয়, কিন্তু তাঁদের নাম ছিল না। ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যাচাইয়ে দেখা যায়, ৯৭ জনই তখনও তালিকায় অনুপস্থিত।
সূচিপত্র
- গোয়ায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির যোগ্য ৯৭ জন ভোটার সিদ্ধান্ত ও সফটওয়্যারের মধ্যে ব্যবধান তুলে ধরেছেন
- টিসিএস কী তৈরি করেছে, আর এর আগে কী ছিল
- গোয়ার সংশোধনের আবেদন দিল্লি ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছেছিল
- উত্তর প্রদেশে বাদ দেওয়ার ফরমে কারণ ছিল না
- পারিবারিক তথ্য মেলালে কেন বিভ্রান্তিকর সতর্কসংকেত আসতে পারে
- পরিসর বড়, তবে মোট সংখ্যাগুলো ভিন্ন বিষয় মাপে
- ফরম ৬-এ পরিবর্তন ও কমিশনের ভেতরে আপত্তি
- কর্ণাটক ও আদালতের মামলা দেখায় অন্য সুরক্ষাও ঝুঁকিতে
- রাজনৈতিক অনুদান যাচাইয়ের কারণ, সংযোগের প্রমাণ নয়
- যে প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো মেলেনি
- মূল তথ্য
এই ঘটনাক্রম ভারতের নির্বাচনী সফটওয়্যার নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে একটি সুনির্দিষ্ট সমস্যা তুলে ধরেছে: কোনো কর্মকর্তা আইনসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেন, অথচ তা কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় ডিজিটাল অনুমতি তাঁর নাও থাকতে পারে। উত্তর প্রদেশে পৃথক এক তদন্তে দেখা গেছে, ভোটারদের বাদ দেওয়ার কারণ উল্লেখ না করেই ৮৫,৮৫৪টি বাদ দেওয়ার আবেদনে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর রয়েছে। চার কর্মকর্তা এমন একটি ব্যবস্থার কথা বলেছেন, যেখানে শুনানিতে ভোটারদের অনুমোদন না দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাদ দেওয়ার ফরম তৈরি হতো।
ইলেক্টোরাল রোলস নেটওয়ার্ক (ইআরওনেট) ২.০-এর প্রযুক্তি অংশীদার টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস) এখন জানতে চাওয়ার মুখে পড়েছে, প্ল্যাটফর্মটি কীভাবে ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) নির্দেশনা কার্যকর করে। বিতর্কে রয়েছে সফটওয়্যারের অনুমতি, স্বয়ংক্রিয় পারিবারিক তথ্য মেলানো, নিবন্ধন ফরমে পরিবর্তন এবং বাদ দেওয়ার আবেদন জনসমক্ষে দেখার সুযোগ। পাশাপাশি টাটা গ্রুপের প্রগ্রেসিভ ইলেক্টোরাল ট্রাস্টের রাজনৈতিক অনুদানও নজরে এসেছে।
রাজনৈতিক বিতর্কে কখনো কখনো যেসব বিষয় একাকার হয়ে যায়, সেগুলোর মধ্যে পার্থক্য করা জরুরি। সফটওয়্যারে কোনো সতর্কসংকেত দেখা গেলেই ভোটার অযোগ্য—এমন প্রমাণ হয় না। নাম বাদ দেওয়ার আবেদন মানেই নাম বাদ পড়ে যাওয়া নয়। কোনো প্রতিষ্ঠানের সরকারি চুক্তি ও রাজনৈতিক অনুদানও একা কোনো অনিয়ম প্রমাণ করে না। মূল প্রশ্ন হলো, সফটওয়্যার নির্বাচনী নিবন্ধন কর্মকর্তাদের কর্তৃত্ব এবং নাগরিকদের জন্য থাকা সুরক্ষাব্যবস্থা অক্ষুণ্ণ রাখে কি না।
টিসিএস কী তৈরি করেছে, আর এর আগে কী ছিল
টিসিএসের ২০২৪-২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে ইআরওনেট ২.০-কে কেন্দ্রীভূত ডেটাবেস, দৈনিক নির্বাহী ড্যাশবোর্ড এবং ১০ লাখ ৫০ হাজারের বেশি নির্বাচনী কর্মকর্তাকে সহায়তা করা অ্যাপ্লিকেশনসমৃদ্ধ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। কোম্পানির দাবি, ডেটা স্থানান্তরসহ সাত মাসের মধ্যে সারা দেশে এর কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
টিসিএস শুরু থেকে পুরো ভোটার নিবন্ধন ব্যবস্থা তৈরি করেছে—এমন দাবি থেকে ইতিহাসটি আরও জটিল। ইআরওনেট প্রথমে ইলেকট্রনিকস ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অব অ্যাডভান্সড কম্পিউটিং (সি-ড্যাক) তৈরি করেছিল। শেয়ারহোল্ডারদের প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে করা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকে টিসিএস ইআরওনেট ২.০ পরিচালনা করছে।
২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি চালু হওয়া ইসিআইনেট প্রায় ৪০টি বিদ্যমান অ্যাপ্লিকেশনকে একত্র করে। ইআরওনেট এতে নির্বাচনী নিবন্ধন-সংক্রান্ত অংশে পরিণত হয়। বুথ লেভেল অফিসার অ্যাপ মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করে, আর নিবন্ধন ব্যবস্থা নাম অন্তর্ভুক্তি, সংশোধন ও বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে সহায়তা করে।
কেন্দ্রীয় ডেটাবেস কর্মকর্তাদের একই ধরনের নথি ব্যবহার করে কাজ করতে সাহায্য করতে পারে। তবে এতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁদের আইনগত ক্ষমতা ডেটাবেস পরিচালনাকারীদের হাতে চলে যায় না। নির্বাচনী আইনের অধীনে নির্বাচনী নিবন্ধন কর্মকর্তারাই (ইআরও) নির্বাচনী এলাকার ভোটার তালিকার জন্য দায়ী থাকেন। তাঁরা আধা-বিচারিক দায়িত্ব পালন করেন; অর্থাৎ, তাঁদের প্রমাণ যাচাই করে ব্যক্তিগত মামলা নিষ্পত্তি করতে হয়, শুধু নির্দেশনা কার্যকর করলেই চলে না।
অ্যাকসেস সেটিংস কোনো কর্মকর্তাকে নাম সংশোধন করতে বাধা দিলে এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তখন আলাদাভাবে খুঁজে দেখতে হয়, সীমাবদ্ধতাটি কে নির্ধারণ করেছেন, কে অনুমোদন দিয়েছেন, কে তা বাস্তবায়ন করেছেন এবং কে তা তুলে দিতে পারতেন। প্রযুক্তি অংশীদার হিসেবে টিসিএসের ভূমিকা থেকে প্রমাণ হয় না যে বিতর্কিত প্রতিটি নিয়ম তার প্রকৌশলীরা তৈরি করেছেন বা প্রতিটি অনুমতি তারা এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছেন।
গোয়ার সংশোধনের আবেদন দিল্লি ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছেছিল
গোয়ার বিতর্কের সূত্রপাত ২৯ জানুয়ারির সুপ্রিম কোর্টের এক আদেশ থেকে। এতে যৌক্তিক অসংগতি চিহ্নিত ভোটারদের নাম সংক্ষিপ্ত কারণসহ প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট ভোটারদের নথি বা আপত্তি জমা দিতে এবং শুনানিতে অংশ নিতে ১০ দিন সময় দেওয়ার কথা ছিল। মামলাটি তামিলনাড়ু-সংক্রান্ত হলেও, এসআইআর চলছিল এমন সব জায়গায় আদেশটি মানা হবে বলে আদালত প্রত্যাশা করেছিল। ৩১ জানুয়ারি ইসিআই তা বাস্তবায়নে চিঠি দেয়।
গোয়ায় তালিকা প্রদর্শনের পর ৬৪৯ জন ভোটার সাড়া দেন। ইআরও ও সহকারী ইআরওরা ৯৭ জনকে অন্তর্ভুক্তির যোগ্য বলে পান। তাঁদের মধ্যে ৬৫ জন তালেইগাওয়ের; বাকিরা সেন্ট ক্রুজ, কামবারজুয়া, প্রিয়োল, মারগাও, বেনাউলিম ও ভেলিমের বাসিন্দা।
আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করা এবং নথি আবার আপলোড করার সুবিধা—এই কার্যাবলিগুলো ছিল না। নির্বাচনী দপ্তরকে সহায়তাকারী রাজ্য সংস্থা গোয়া ইলেকট্রনিকস লিমিটেড ১১ ফেব্রুয়ারি জানায়, ইসিআই ও টিসিএস কর্মকর্তাদের কাছে বারবার অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও এসব সুবিধা চালু হয়নি। ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আরও চিঠি পাঠানো হয়।
ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্তের জন্য গোয়ার মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা সঞ্জয় গোয়েল ইসিআইকে দায়ী করেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে সংশোধনের ব্যবস্থা না থাকার কথা উল্লেখ করেন:
অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্তটি তাদের ছিল। তবে ইআরও পর্যায়ে ভোটারদের আবার অন্তর্ভুক্ত করার কোনো ব্যবস্থা (ইসিআইনেটে) থাকতে হবে।
১৮ ফেব্রুয়ারি উপনির্বাচন কমিশনার সঞ্জয় কুমার তথ্যপ্রযুক্তির মহাপরিচালক সীমা খান্নাকে জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ব্যবস্থাটি বাধা দিতে পারে না:
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা বাধা দিতে পারে না।
প্রকাশিত বিবরণে চূড়ান্ত তালিকার আগে কার্যকর কোনো সংশোধনের তথ্য নেই। ব্যর্থতার কারণ ছিল প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, অনুমতি না দেওয়া, নাকি পদক্ষেপ না নেওয়ার নির্দেশ—তা এতে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ভোটাধিকার ছাড়াও এর প্রভাব রয়েছে: গোয়া মেডিক্লেইম স্কিমের সুবিধা কেবল রাজ্যের ভোটারদের জন্য, যার আওতায় ডায়ালাইসিস, অঙ্গ প্রতিস্থাপন ও কেমোথেরাপি রয়েছে।
উত্তর প্রদেশে বাদ দেওয়ার ফরমে কারণ ছিল না
উত্তর প্রদেশের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা ফরম ৭-এর ৪ লাখ ৩০ হাজারের বেশি আবেদন প্রকাশ করেন। আপত্তি জানানো বা ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য এই নির্ধারিত ফরম ব্যবহার করা হয়। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের ১৫ মার্চ থেকে ২ এপ্রিলের মধ্যে ইআরও ও সহকারী ইআরওদের নামে ৮৭,১২৭টি আবেদন জমা পড়ে।
এর মধ্যে ৮৫,৮৫৪টিতে, অর্থাৎ প্রায় ৯৮.৫ শতাংশে, কোনো কারণ উল্লেখ ছিল না। আরও ৬২টিতে শুধু অক্ষর লেখা ছিল, আর ১,২১১টিতে অনুপস্থিতি বা বাসস্থান পরিবর্তনের কথা বলা হয়। চার ইআরওর বর্ণনা অনুযায়ী, শুনানিতে কোনো ভোটারকে অনুমোদন না দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফরম ৭ তৈরি হতো এবং তাতে আগে থেকেই ডিজিটাল স্বাক্ষর যুক্ত থাকত।
সমস্যাটি শুধু একটি ঘর পূরণ না করার বিষয় নয়। মৃত্যুবরণ, একই ব্যক্তির একাধিক নাম, বয়স, নাগরিকত্ব বা বাসস্থান—কোন অভিযোগের জবাব দিতে হবে, তা কারণ থেকেই নাগরিক জানতে পারেন। কারণ না থাকলে আপত্তির বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানানো কঠিন হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই কার্যপদ্ধতিতে যে কর্মকর্তা সিদ্ধান্ত দেওয়ার কথা, তিনিই আপত্তি তৈরি করার অবস্থানে থাকেন; অথচ নির্বাচনী কর্তৃপক্ষেরই সেই আপত্তি যাচাই করার কথা।
তদন্তে আলাদাভাবে দেখা গেছে, নির্ধারিত শেষ সময়ের পর ব্যক্তিগত আপত্তিকারীদের ১,১০,৪৭৬টি আবেদন জমা পড়ে ও গ্রহণ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৩ লাখ ৪৩ হাজার ব্যক্তিগত আপত্তিকারী কারণ উল্লেখ করেছিলেন। প্রকাশের সময় ইসিআই ও উত্তর প্রদেশের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা নবদীপ রিনওয়াকে পাঠানো বিস্তারিত প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
অন্য কিছু প্রবণতাও খতিয়ে দেখা দরকার, তবে সেগুলোকে কারণের প্রমাণ হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। তারাবগঞ্জ ও পিলিভিতে নাম বাদ দেওয়ার প্রায় ৯০ শতাংশ আবেদন মুসলিম ভোটারদের বিরুদ্ধে ছিল। তারাবগঞ্জে একই বুথ ও একই তারিখের ১৮৮টি আপত্তি রেশমা নামের এক ব্যক্তির নামে জমা পড়ে। জনসমক্ষে প্রকাশিত তথ্যে আপত্তিকারীদের নাম ছাড়া অন্য পরিচয় ছিল না, ফলে কারা আবেদন করেছেন, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পারিবারিক তথ্য মেলালে কেন বিভ্রান্তিকর সতর্কসংকেত আসতে পারে
এসআইআর সফটওয়্যার বর্তমান ভোটারদের পুরোনো ভোটার তালিকার সঙ্গে যুক্ত করে, কখনো তাঁদের বাবা-মা বা দাদা-দাদির তথ্যের মাধ্যমে। যাঁদের তথ্য যুক্ত করা যায় না, তাঁদের ‘আনম্যাপড’ বলা হয়। নথিভুক্ত সম্পর্ক বা তথ্য প্রোগ্রাম করা নিয়মের বাইরে পড়লে অন্যদের ক্ষেত্রে যৌক্তিক অসংগতির সতর্কসংকেত দেখানো হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখিত নিয়মগুলোর মধ্যে রয়েছে: মা-বাবা ও সন্তানের বয়সের ব্যবধান ১৫ বছরের কম বা ৫০ বছরের বেশি হওয়া, দাদা-দাদি বা নানা-নানির সঙ্গে বয়সের ব্যবধান ৪০ বছরের কম হওয়া, ভাইবোনের জন্মের ব্যবধান নয় মাসের কম হওয়া এবং একজন বাবার সঙ্গে ছয়জনের বেশি সন্তান যুক্ত থাকা। নামের অমিলও যাচাইয়ের কারণ হতে পারে। প্রতিবেদনে নিয়মের সীমা বদলানোর কথাও বলা হয়েছে: পশ্চিমবঙ্গে শুরুর দিকে মা-বাবা ও সন্তানের বয়সের ব্যবধান ১৫ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে ধরা হতো; ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে নথিভুক্ত সংস্করণে সর্বোচ্চ সীমা ছিল ৫০ বছর।
সব ক্ষেত্রে ২০০২ সালের তালিকাকে ভিত্তি ধরা হয়নি। উত্তর প্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশসহ কয়েকটি রাজ্যের নির্দেশনায় ২০০৩ সাল ব্যবহার করা হয়; অন্য জায়গায় আরও পরের বছর নেওয়া হয়েছে। তামিলনাড়ুর ১৯৭টি নির্বাচনী এলাকায় ২০০২ এবং ৩৭টিতে ২০০৫ সালের তালিকা ব্যবহার করা হয়। তাই নির্ভুলতা নির্ভর করে সঠিক ভিত্তি নথি এবং তথ্য মেলানোর নিয়ম—দুটোর ওপরই।
পুরোনো পিডিএফ নথি কাঠামোবদ্ধ সিএসভি ডেটায় অসম্পূর্ণভাবে রূপান্তর করায় তথ্যের সংযোগে সমস্যা হয়। এ কারণে ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন দপ্তর আনম্যাপড ভোটারদের শুনানি স্থগিত করে। ২৯ ডিসেম্বর দপ্তর স্বীকার করে, মূল ডেটা নির্ভুলভাবে ডিজিটাইজ করা হয়নি। তুলনার আগে বাংলা নথির তথ্য মেশিনে প্রতিবর্ণীকরণ করে ইংরেজিতে রূপান্তর করা হয়েছিল।
এগুলো ত্রুটির সম্ভাব্য আলাদা উৎস: কাগজের নথি ভুলভাবে লেখা হতে পারে, লিপি বদলানোর সময় নামের রূপে অসংগতি দেখা দিতে পারে, কিংবা তথ্য মেলানোর কোনো নিয়ম প্রকৃত সম্পর্ককে বাতিল করতে পারে। শুধু সতর্কসংকেত দেখে এর মধ্যে কোনটি ঘটেছে, তা বোঝা যায় না। মায়ের সঙ্গে বয়সের ব্যবধান অবাস্তবভাবে বেশি দেখানোর পর নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেনকে পাঠানো নোটিশের যে বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে, তা দেখায় যোগ্যতা নির্ধারণের আগে মূল নথি যাচাই করা কেন জরুরি।
পরিসর বড়, তবে মোট সংখ্যাগুলো ভিন্ন বিষয় মাপে
উত্তর প্রদেশে শুরুতে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ১৫ কোটি ৪৪ লাখ। তালিকা যাচাইয়ের সময় ২ কোটি ৮৯ লাখ নাম অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত বা একাধিকবার থাকা ভোটারের তালিকায় ওঠে। এর বাইরে যৌক্তিক অসংগতি বা তথ্যের সংযোগ না থাকার কারণে ৩ কোটি ২৬ লাখ ভোটারকে চিহ্নিত করা হয়। ১০ এপ্রিল প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় ভোটার ছিলেন ১৩ কোটি ৪০ লাখ।
শুরুর ও চূড়ান্ত সংখ্যার পার্থক্য ২ কোটি ৪ লাখ, যা প্রাথমিক ভোটারসংখ্যার প্রায় ১৩.২ শতাংশ। এটি নিট পরিবর্তন, সম্পূর্ণভাবে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা নয়; সংশোধনের সময় নাম যোগ বা পুনর্বহালও হতে পারে। অনুপস্থিত ভোটারের তালিকা ও অসংগতি-চিহ্নিত ভোটারের সংখ্যা তাদের মধ্যে কতজনের মিল আছে তা না জেনে সরাসরি যোগ করা যায় না।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে ১ কোটি ৩১ লাখ ভোটার, অর্থাৎ ১৭.১১ শতাংশকে চিহ্নিত করা হয়। মধ্যপ্রদেশে এ সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৩৫ লাখ, অর্থাৎ ৪১.২২ শতাংশ। মধ্যপ্রদেশের হার পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ২.৪ গুণ। এই পার্থক্য রাজ্যভিত্তিক তথ্য ও পদ্ধতি খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে, তবে একা এর কারণ ব্যাখ্যা করে না।
জাতীয় পর্যায়ের হিসাবেও সমান সতর্কতা জরুরি। মূল মন্তব্যে ১৩ কোটির বেশি নাম বাদ দেওয়ার দাবি করা হয়েছে, আর সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও.পি. রাওয়াত প্রায় ১৪ কোটি ভোটার ভোটাধিকার হারিয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন। ২০২৬ সালের ১ মে জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টিয়ারদের এক চিঠিতে শুধু দ্বিতীয় ধাপেই প্রায় ৫ কোটি ২০ লাখ নাম বাদ যাওয়ার কথা বলা হয়। এসব সংখ্যা ভিন্ন পরিসর ও দাবিকে নির্দেশ করে; যোগ্য নাগরিকদের ভুলভাবে বাদ দেওয়ার সমন্বিত জাতীয় হিসাব এগুলো দেয় না।
ফরম ৬-এ পরিবর্তন ও কমিশনের ভেতরে আপত্তি
নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের আবেদনে ফরম ৬ ব্যবহার করা হয়। বিতর্কটি হলো, এসআইআর চলাকালে অনলাইন ফরমে নতুন শর্ত যোগ করা হয়েছিল কি না, অথচ ১৯৬০ সালের ভোটার নিবন্ধন বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হয়নি। মূল বিবরণে বলা হয়েছে, দুই নির্বাচন কমিশনার নথিভুক্ত করেছিলেন যে কেন্দ্রীয় সরকারের সংশোধনী প্রয়োজন ছিল, কিন্তু তা হয়নি।
২০২৬ সালের ১ অক্টোবর লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, অনলাইন ফরমটি বেআইনিভাবে বদলানো হয়েছে। কে ইসিআইকে ফরম বদলাতে নির্দেশ দিয়েছিল এবং কোম্পানিটির ওপর চাপ ছিল কি না, তা তিনি জানতে চান। কংগ্রেসের যোগাযোগবিষয়ক সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশের অভিযোগ, পরিবর্তনটি তরুণ ভোটারদের লক্ষ্য করে করা হয়েছে; এর জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে দায়ী করেন। এগুলো রাজনৈতিক অভিযোগ, প্রতিষ্ঠিত তথ্য নয়।
পৃথক প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশীর নির্বাচনী ব্যবস্থা ও অ্যাকসেস-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়ে অন্তত ১৪টি লিখিত আপত্তির কথা বলা হয়েছে। আপত্তির সময়কাল নিয়ে প্রতিবেদনগুলোতে ভিন্ন তথ্য রয়েছে: কোনোটি ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে, কোনোটি নভেম্বর থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত আপত্তির কথা বলেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্টে সান্ধুর আপত্তিতে ইআরও, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ওপর থাকা সীমাবদ্ধতার কথা বলা হয়। মে মাসে যোশী ডেটাবেস ধীরে ধীরে কেন্দ্রীভূত হওয়ার বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন। গোয়ার চিঠিপত্রের পাশাপাশি এসব আপত্তি দেখায়, ডিজিটাল অনুমতি কার হাতে থাকবে—এটি শুধু বিরোধী দলের অভিযোগ নয়, প্রাতিষ্ঠানিক কর্তৃত্বের প্রশ্ন।
কর্ণাটক ও আদালতের মামলা দেখায় অন্য সুরক্ষাও ঝুঁকিতে
কর্ণাটকের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের ১৬ জুন থেকে ৮ অক্টোবরের মধ্যে ফরম ৭-এর ১,১০,৬৫৪টি আবেদন জমা পড়ে। জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত পোর্টালে দেখা গেছে ৮১,৮২২টি। আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, সব আবেদন যাচাইয়ের জন্য প্রকাশ করা হবে। তা সত্ত্বেও প্রতিবেদনে উল্লেখিত মোট সংখ্যার চেয়ে ২৮,৮৩২টি আবেদন কম দেখা গেছে। এটি মোট সংখ্যার প্রায় ২৬.১ শতাংশ।
প্রকাশিত তথ্যের ঘাটতি থেকে মূল আবেদনগুলো অনিয়মপূর্ণ ছিল—এমন প্রমাণ হয় না। তবে তা নাগরিকদের সেগুলো যাচাই করতে বাধা দেয়। বিজয়পুরায় আটজন জীবিত ভোটার অভিযোগ করেন, তাঁদের মৃত দেখিয়ে নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা যায়, একই রকম নামের ভোটারদের বিরুদ্ধে প্রকৃত মৃত্যুসনদ ব্যবহার করা হয়েছিল। আপত্তিকারীদের মধ্যে বহিষ্কৃত বিজেপি বিধায়ক বসনগৌড়া পাটিল ইয়াতনালের অনুসারীরাও ছিলেন।
এই ঘটনা স্বয়ংক্রিয় তথ্য মেলানোর চেয়ে আলাদা একটি সমস্যা তুলে ধরে: প্রকৃত নথিও ভুল ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হতে পারে। তাই মৃত্যুসনদের সত্যতা যাচাই করাই যথেষ্ট নয়; সেটি সংশ্লিষ্ট ভোটারেরই কি না, তাও নিশ্চিত করতে হবে।
আদালতগুলো ব্যক্তিগত নোটিশ ও প্রক্রিয়াগত ক্ষমতা নিয়েও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। তেলেঙ্গানায় সমাজকর্মী এস. কিউ. মাসুদ ও ব্যবসায়ী সৈয়দ ওয়াহিদ উদ্দিন স্বয়ংক্রিয় নোটিশ এবং ইসিআইনেট ও ইআরওনেটের স্বচ্ছতা নিয়ে চ্যালেঞ্জ জানান। ইসিআই জানায়, বাবার নামের অমিলের কারণে মাসুদের নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। ১৫ সেপ্টেম্বরের শুনানির পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, বেঞ্চ তা জানতে চায়।
গোয়ায় বোম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি বাল্মীকি মেনেজেস ও অমিত জামসান্দেকর সালগাঁওকর পরিবারের নাম বাদ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য পরিবারটি ফরম ৮ জমা দিয়েছিল। বেঞ্চ বলে, সংশোধিত তালিকা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান ভোটার তালিকা বৈধ থাকে। ঠিকানা বদলানো ভোটারের কাছ থেকে এনুমারেশন ফরম চাওয়ার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত। এসব বিচারিক কার্যক্রমে প্রমাণ হয় না যে প্রতিটি স্বয়ংক্রিয় নোটিশ বা নাম বাদ দেওয়া বেআইনি।
রাজনৈতিক অনুদান যাচাইয়ের কারণ, সংযোগের প্রমাণ নয়
টাটা গ্রুপের প্রগ্রেসিভ ইলেক্টোরাল ট্রাস্ট ২০২৪-২৫ সালে ৯১৫ কোটি রুপি বিতরণ করে। এর মধ্যে বিজেপিকে ৭৫৭.৬ কোটি এবং কংগ্রেসকে ৭৭.৩ কোটি রুপি দেওয়া হয়। টাটা সন্স ট্রাস্টে ৩০৮ কোটি রুপি এবং টিসিএস ২১৭ কোটি রুপি দেয়।
ট্রাস্টের বিতরণ করা অর্থের প্রায় ৮২.৮ শতাংশ পেয়েছে বিজেপি। আরেকটি পৃথক হিসাবে বলা হয়েছে, সব ইলেক্টোরাল ট্রাস্ট মিলিয়ে বিজেপি পেয়েছে ৯৫৯ কোটি রুপি। এই মোট অঙ্কের বিপরীতে ৭৫৭.৬ কোটি রুপি প্রায় ৭৯ শতাংশ, ৮৩ শতাংশ নয়। হিসাব দুটি ভিন্ন তুলনা বোঝায়; একটির বদলে অন্যটি ব্যবহার করা উচিত নয়।
২০১৮-১৯ সালের জন্য মূল বিবরণে ট্রাস্টের বিতরণ করা অর্থ ৪৫৪ কোটি রুপি এবং বিজেপির প্রাপ্তি ৩৫৬ কোটি রুপি বলা হয়েছে। এই অঙ্কে অংশ দাঁড়ায় প্রায় ৭৮.৪ শতাংশ, উল্লেখিত আনুমানিক ৭৫ শতাংশ নয়। দুই সময়কালেই ট্রাস্টের বিতরণ করা অর্থের সবচেয়ে বড় অংশ পেয়েছে বিজেপি।
মূল মন্তব্যে আরও বলা হয়েছে, প্রায় ৪৪,০০০ কোটি রুপির ভর্তুকিতে টাটার দুটি সেমিকন্ডাক্টর ইউনিটের অনুমোদনের অল্প সময় পর, ২০২৪ সালের এপ্রিলে অনুদান দেওয়া হয়। শুধু সময়ের নৈকট্য থেকে ওই ভর্তুকি বা নির্বাচনী সফটওয়্যার চুক্তির সঙ্গে অনুদানের যোগসূত্র প্রমাণিত হয় না। অনুদানের বিনিময়ে সফটওয়্যার-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বা বিশেষ সুবিধা পাওয়া হয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
টাটা সন্সের নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধটিও আলাদা বিষয়। মূল বিবরণে বলা হয়েছে, এন. চন্দ্রশেখরন পদ ছাড়ার পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন এবং বিতর্কিত নির্ণায়ক ভোটের মাধ্যমে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে পুনর্নিয়োগ নিশ্চিত করেন। এতে ২০২৫ সালের অক্টোবরে চন্দ্রশেখরন, নোয়েল টাটা, অমিত শাহ এবং অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের এক বৈঠকের কথাও রয়েছে। কোনো বিবরণই পরবর্তী বোর্ড সিদ্ধান্তে সরকারের নির্দেশ বা নির্বাচনী সফটওয়্যারের সঙ্গে যোগসূত্র প্রমাণ করে না।
যে প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো মেলেনি
নথিভুক্ত ঘটনাক্রমে সফটওয়্যারের পরিবর্তন, অনুমতি নিয়ে বিরোধ এবং আইনগত সুরক্ষার বিষয়গুলো পাশাপাশি এসেছে:
- ২৪ জুন, ২০২৫: ইসিআই বিহারে এসআইআরের নির্দেশ দেয়।
- ২৭ অক্টোবর, ২০২৫: প্রায় ৫১ কোটি ভোটারকে অন্তর্ভুক্ত করে ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে দ্বিতীয় ধাপের নির্দেশ দেওয়া হয়।
- ডিসেম্বর ২০২৫: পশ্চিমবঙ্গের কর্মকর্তারা পুরোনো ভোটার তালিকা ডিজিটাইজ করা নিয়ে সমস্যার কথা নথিভুক্ত করেন।
- ২২-৩১ জানুয়ারি, ২০২৬: ইসিআইনেট চালু হয়, সুপ্রিম কোর্ট অসংগতির শুনানি নিয়ে নির্দেশ দেয় এবং ইসিআই তা বাস্তবায়নের নির্দেশনা পাঠায়।
- ফেব্রুয়ারি-এপ্রিল ২০২৬: গোয়ার চূড়ান্ত তালিকায় যোগ্য ৯৭ জন ভোটার বাদ পড়েন; উত্তর প্রদেশে ১০ এপ্রিলের চূড়ান্ত তালিকার আগে বিতর্কিত কর্মকর্তা-স্বাক্ষরিত বাদ দেওয়ার ফরম তৈরি হয়।
- মে-অক্টোবর ২০২৬: কার্যক্রম বিস্তৃত হয় এবং ফরম, নোটিশ ও তথ্য প্রকাশ নিয়ে চ্যালেঞ্জ চলতে থাকে।
কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি: পারিবারিক তথ্য মেলানোর বয়সসীমা কে অনুমোদন করেছেন; অনলাইন ফরম ৬-এর পরিবর্তনের অনুমতি কে দিয়েছেন; গোয়ায় সংশোধনের সুবিধা কেন ছিল না; এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি বাদ দেওয়ার ফরমে কর্মকর্তার কারণ-ভিত্তিক সিদ্ধান্ত অক্ষুণ্ণ ছিল কি না।
চুক্তি, পরিবর্তনের অনুরোধ, অ্যাকসেস রেকর্ড, পরীক্ষার ফলাফল ও সিস্টেম লগ থেকে ইসিআইয়ের নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং টিসিএসের বাস্তবায়ন-দায়িত্ব আলাদা করে বোঝা যেতে পারে। ত্রুটি শনাক্ত, ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে জানানো ও সংশোধন করা হয়েছিল কি না, তাও এসব নথিতে দেখা যেতে পারে। প্রকাশিত বিবরণে এসব নথি জনসমক্ষে প্রকাশের নির্ধারিত সময়সূচি বা সফটওয়্যারের স্বাধীন নিরীক্ষার কোনো অভিন্ন সময়সীমার কথা নেই।
পরীক্ষার মানদণ্ড সুনির্দিষ্ট: যেসব ভোটার বাদ পড়ার ঝুঁকিতে আছেন, তাঁদের প্রত্যেককে বোধগম্য কারণ জানাতে হবে এবং জবাব দেওয়ার কার্যকর সুযোগ দিতে হবে। অনুমোদিত প্রত্যেক কর্মকর্তার আইনসম্মত সিদ্ধান্ত নথিবদ্ধ ও কার্যকর করার সক্ষমতাও থাকতে হবে। গোয়ার ঘটনা দেখায়, কার্যকর সংশোধনের ব্যবস্থা ছাড়া শুনানির সুযোগ যথেষ্ট নয়।
মূল তথ্য
- গোয়ার কর্মকর্তারা ৯৭ জন ভোটারকে যোগ্য পান, কিন্তু ২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যাচাইয়ে দেখা যায়, তাঁদের নাম চূড়ান্ত এসআইআর তালিকায় ছিল না।
- উত্তর প্রদেশের প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণে কারণ ছাড়া কর্মকর্তাদের করা ৮৫,৮৫৪টি নাম বাদ দেওয়ার আবেদন পাওয়া গেছে।
- টিসিএস ইআরওনেট ২.০ পরিচালনা করে; আগের ইআরওনেট ব্যবস্থা তৈরি করেছিল সি-ড্যাক।
- পুরোনো ডেটার ভুল, তথ্য মেলানোর নিয়মে পরিবর্তন এবং সংশোধনের অনুমতি সীমিত থাকার বিষয়গুলো আলাদাভাবে খতিয়ে দেখা দরকার।
- কর্ণাটকের জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত পোর্টালে প্রতিবেদনে উল্লেখিত মোট সংখ্যার চেয়ে ফরম ৭-এর ২৮,৮৩২টি আবেদন কম দেখা গেছে।
- টাটার ইলেক্টোরাল ট্রাস্টের অনুদান যাচাই করা দরকার, তবে তা বিতর্কিত সফটওয়্যার সিদ্ধান্তের সঙ্গে যোগসূত্র প্রমাণ করে না।
- জাতীয় পর্যায়ে নাম বাদ যাওয়ার হিসাবগুলো ভিন্ন এবং যোগ্য ভোটারদের ভুলভাবে বাদ দেওয়ার যাচাই করা মোট সংখ্যা প্রতিষ্ঠা করে না।






