ইন্দোনেশিয়ার নিকেল শিল্পের সম্প্রসারণে চাপে ওয়েদা বে-র পানি, বন ও জীবিকা

পড়তে 17 মিনিট
Indonesia's Nickel Expansion Puts Weda Bay's Water, Forests and Livelihoods Under Strain

নতুন বিনিয়োগে হাজার কোটি ডলার, হালমাহেরায় বাড়ছে ব্যয়ের চাপ

ইন্দোনেশিয়ার ওয়েদা বে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে ১০.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের শিল্প সম্প্রসারণে নিকেল প্রক্রিয়াজাতকরণ, অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন ও ব্যাটারি নির্মাণ বাড়ছে। এতে এমন এক উপকূলীয় এলাকার ওপর চাপ বাড়ছে, যেখানে আগে থেকেই বন উজাড়, জলদূষণ ও বন্যার সমস্যা রয়েছে। ২০২৬ সালের ৮ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তো এই বিনিয়োগ প্যাকেজের উদ্বোধন করেন। এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রচারকর্মীরা আরও উন্নয়নের প্রভাব নিয়ে একটি স্বাধীন মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন।

সূচিপত্র
  1. নতুন বিনিয়োগে হাজার কোটি ডলার, হালমাহেরায় বাড়ছে ব্যয়ের চাপ
  2. রপ্তানি নিষেধাজ্ঞায় উপকূলের পরিবর্তন
  3. বাসিন্দাদের অভিজ্ঞতা ও বন মানচিত্রে যা উঠে এসেছে
  4. বাড়ি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে মাছ ধরা
  5. বন্যা ও পানির সরবরাহের ওপর বাড়তি চাপ
  6. স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে সতর্কতায় আরও বিস্তৃত তদন্ত প্রয়োজন
  7. কর্মসংস্থানের সঙ্গে বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয় ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
  8. কয়লানির্ভরতা পরিচ্ছন্ন জ্বালানির প্রতিশ্রুতিকে দুর্বল করছে
  9. জাতীয় রোডম্যাপ ও হালমাহেরার বাস্তব সীমাবদ্ধতা
  10. শিল্পোন্নয়নের খরচ কে বহন করছে?
  11. মূল বিষয়গুলো

ইন্দোনেশিয়া সরকারের ঘোষণায় নিশ্চিত করা হয়েছে, মোট ১০.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ১৮০ ট্রিলিয়ন রুপির বিনিয়োগে নিকেল-ভিত্তিক ১১টি ডাউনস্ট্রিম প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রবোও বলেন, চারটি শিল্প প্রকল্প বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করেছে এবং সাতটি নতুন প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হচ্ছে। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটানি রপ্তানি করা হয়েছে। বিনিয়োগ ও ডাউনস্ট্রিমিং মন্ত্রী এবং দানান্তারা-র প্রধান নির্বাহী রোসান পেরকাসা রোয়েসলানি জানান, সম্পন্ন চারটি প্রকল্পে বিনিয়োগ হয়েছে ৩.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করা চারটি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে PT Blue Sparking Energy-র মিক্সড হাইড্রক্সাইড প্রিসিপিটেট (MHP), PT REPT Batero Indonesia-র নিকেল ম্যাঙ্গানিজ কোবাল্ট (NMC) ও লিথিয়াম আয়রন ফসফেট (LFP) ব্যাটারি উপাদান, PT Pioneer Aluminium Industries-র ইলেক্ট্রোলাইটিক অ্যালুমিনিয়াম এবং PT XCMG Indonesia Manufacturing-র বৈদ্যুতিক ভারী যন্ত্রপাতির যন্ত্রাংশ।

নির্মাণকাজ শুরু করা সাতটি প্রকল্প হলো PT Guang Ching Nickel Cobalt, PT Inno Prima Material, PT Tinci Materials Indonesia, PT Weda Bay Aluminium, PT Bintang Karya Aluminium, PT Flat Solar Energy Indonesia এবং PT Foton Guangqing Motor Indonesia। রোসান বলেন, নতুন প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে নিকেল-ভিত্তিক ব্যাটারি উপাদান, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি সেপারেটর ও ইলেকট্রনিকস, অ্যালুমিনিয়াম পণ্য, বৈদ্যুতিক ভারী যন্ত্রপাতি এবং সৌরশক্তি শিল্পের জন্য ফটোভোল্টায়িক কাচ।

অর্থনৈতিক গুরুত্ব যথেষ্ট। ইন্দোনেশিয়ার বিনিয়োগমন্ত্রীর হিসাবে, পার্কটিতে প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার কর্মী কাজ করেন এবং নিকেল প্রক্রিয়াজাতকরণ উত্তর মালুকুর অর্থনীতির প্রায় অর্ধেক জুড়ে রয়েছে। সম্প্রসারণে যন্ত্রপাতি, ট্রাক, ব্যাটারি, সৌর কাচ ও রাসায়নিক পণ্যের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান রয়েছে; ফলে আকরিক প্রক্রিয়াজাতকরণের বাইরেও শিল্পের পরিসর বাড়ছে।

পরিবেশগত ঝুঁকিও বাস্তব। ২০২৫ সালের এক গবেষণায় ওয়েদা বে এলাকার ৪৬ জন বাসিন্দার মধ্যে প্রায় ৪৭ শতাংশের রক্তে পারদ গবেষকদের নির্ধারিত মানের চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। প্রায় ৩২ শতাংশের রক্তে আর্সেনিকও নির্ধারিত মান ছাড়িয়েছে। এসব ফলাফলের ভিত্তিতে আরও তদন্ত হওয়া উচিত, তবে এগুলো একা সংস্পর্শের উৎস বা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীতে এর ব্যাপকতা প্রমাণ করে না।

লেলিলেফ সাওয়াইয়ের ৬৪ বছর বয়সী জেলে আবদুল্লাহ আমবারের দোরগোড়ায় এসে পৌঁছেছে এই পরিবর্তন। বিদেশি মাছ ধরার জাহাজে কয়েক দশক কাজ করার পর তিনি ফিরে এসে তিনটি নৌকার বহর গড়েন। প্রতিটি নৌকা ১২ ঘণ্টার সফরে আধা টন পর্যন্ত স্কিপজ্যাক টুনা ও ম্যাকারেল ধরতে পারত। এখন তিনি শব্দদূষণ, মাছ ধরতে অসুবিধা, পানির অস্বস্তিকর অবস্থা এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাঁর পরিবারের বসবাসের এলাকায় দাম বেড়ে যাওয়ার কথা বলছেন।

বিজ্ঞাপন

রপ্তানি নিষেধাজ্ঞায় উপকূলের পরিবর্তন

ইন্দোনেশিয়ার ডাউনস্ট্রিমিং নীতির অর্থ হলো, কাঁচা আকরিক রপ্তানি না করে দেশে খনিজ প্রক্রিয়াজাত করা। ২০১৪ সালে নিকেল রপ্তানিতে আংশিক বিধিনিষেধ শুরু হয়; স্থানীয় শোধনাগার তৈরির অঙ্গীকার করা প্রতিষ্ঠানগুলো এর ব্যতিক্রম ছিল। ২০২০ সালে কাঁচা নিকেল আকরিকের রপ্তানিতে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়, যা গলনাগার ও ব্যাটারি উপাদান তৈরির কারখানায় বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়তা করে।

ইন্দোনেশিয়ান নিকেল ইন্ডাস্ট্রি ফোরামের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আকরিকের উৎপাদন ২০১৫ সালের ৭৮ লাখ টন থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ২৬ কোটি ৫০ লাখ টনে পৌঁছেছে, যা আগের পরিমাণের প্রায় ৩৪ গুণ। একই সময়ে শোধনাগারের সংখ্যা ছয় থেকে বেড়ে ৭৯ হয়েছে; আরও ৯০টি নির্মাণাধীন। প্রক্রিয়াজাত নিকেলের উৎপাদন ৩ লাখ ৬৮ হাজার টন থেকে বেড়ে ২২ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে। আকরিকের টনেজ ও প্রক্রিয়াজাত নিকেলের উৎপাদন আলাদা পরিমাপ; এগুলোকে একই অর্থে ব্যবহার করা উচিত নয়।

হালমাহেরা জুড়ে খনির ইজারাধীন এলাকা প্রায় ২ হাজার ৫৬০ বর্গকিলোমিটার, যা দ্বীপটির প্রায় এক-সপ্তমাংশ। ওয়েদা বে-র আশপাশে শিল্পকারখানা ১১ কিলোমিটার উপকূলজুড়ে ছড়িয়েছে। লেলিলেফ, কোবে, জেমাফ ও সাগেয়া এখন আবাসিক ডরমিটরি, হোস্টেল, ব্যস্ত সড়ক ও শিল্পাঞ্চলের আলোয় ভরা জনপদে পরিণত হয়েছে।

শিল্প পার্কটির শুরুর সময় নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য রয়েছে। একটি বিবরণে ২০১৮ সালে একটি প্রক্রিয়াজাতকরণ স্থাপনা চালুর কথা বলা হয়েছে। Climate Rights International-এর নথিতে বলা হয়েছে, নির্মাণ শুরু হয় ২০১৮ সালে এবং IWIP-এর কার্যক্রম শুরু হয় ২০২০ সালে। এই পার্থক্য বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে, তবে তারিখগুলো এক করে একটি উদ্বোধনের তারিখ বলা উচিত নয়।

  • ২০১৪: ইন্দোনেশিয়া কাঁচা নিকেল রপ্তানিতে আংশিক বিধিনিষেধ চালু করে।
  • ২০১৮: Climate Rights International-এর তথ্য অনুযায়ী, IWIP-এর নির্মাণ শুরু হয়।
  • ২০২০: নিকেল আকরিক রপ্তানিতে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়; CRI এই বছরকে IWIP-এর কার্যক্রম শুরুর সময় বলেছে।
  • ২১ জুলাই, ২০২৪: ওয়েদা বে-র আশপাশের জনপদে বড় বন্যা হয়।
  • ১২ জুন, ২০২৫: Bappenas ও WRI Indonesia জাতীয় নিকেল ডিকার্বনাইজেশন রোডম্যাপ চালু করে।
  • ৮ অক্টোবর, ২০২৬: প্রবোও নতুন শিল্প বিনিয়োগ প্যাকেজের উদ্বোধন করেন।

বাসিন্দাদের অভিজ্ঞতা ও বন মানচিত্রে যা উঠে এসেছে

Climate Rights International-এর ২০২৪ সালের জানুয়ারির Nickel Unearthed প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাঠপর্যায়ের গবেষণার ভিত্তিতে। গবেষকেরা ৪৫ জন বাসিন্দার সাক্ষাৎকার নেন, যাঁদের মধ্যে ৩৯ জন নিজেদের আদিবাসী বলে পরিচয় দেন: সাওয়াই জনগোষ্ঠীর ২০ জন এবং তোবেলো জনগোষ্ঠীর ১৯ জন।

University of California, Berkeley-এর AI Climate Initiative-এর সঙ্গে কাজ করে CRI অনুমান করেছে, হালমাহেরার নিকেল খনি ইজারাধীন এলাকার অন্তত ৫ হাজার ৩৩১ হেক্টর বন উজাড় হয়েছে। হারিয়ে যাওয়া বনভূমিতে আনুমানিক ২০ লাখ ৪০ হাজার টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য গ্যাস সঞ্চিত ছিল। এই পরিমাপে বিভিন্ন গ্রিনহাউস গ্যাসকে একটি সাধারণ মাপকাঠিতে প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

পরিবেশবিষয়ক সংস্থা Walhi-র নামে প্রচারিত পৃথক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলোর ওপরের দিকের খনন এলাকায় ৭ হাজার ১৬৭ হেক্টরের বেশি বন উজাড় হয়েছে। ২০১৬ সালে মধ্য হালমাহেরায় প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার হেক্টর বন ছিল; ২৬টি খনি অনুমতি রয়েছে ৫৭ হাজার ৬২৭ হেক্টর এলাকায়। এই পরিসংখ্যানের সীমানা ও মূল্যায়নের সময় CRI-এর বিশ্লেষণ থেকে আলাদা, তাই এগুলো একসঙ্গে যোগ করা যাবে না।

CRI জমি অধিগ্রহণে সম্মতি না নেওয়া, অপর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ও ভয় দেখানোর অভিযোগও নথিবদ্ধ করেছে। জেমাফের সাওয়াই কৃষক মাকলন লোবে বলেন, ২০১৮ সালে IWIP-এর প্রতিনিধিরা তাঁর গাছ কেটে দেন এবং জমিতে যাওয়ার পথ আটকে দেন। ৩৮ হেক্টরের সনদ থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তিনি মাত্র আট হেক্টরের জন্য ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন বলে জানান। এগুলো সাক্ষাৎকারে নথিভুক্ত অভিযোগ, আদালতের রায় নয়।

প্রতিবেদনে IWIP-এর শেয়ারধারী হিসেবে Tsingshan Holding Group, Huayou Cobalt ও Zhenshi Holding Group-এর নাম রয়েছে। এ ছাড়া সে সময় Eramet ও BASF এবং POSCO-র প্রস্তাবিত স্থাপনার কথাও আলোচিত হয়েছে। এগুলো ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বর্ণিত পরিকল্পনার নথি; পরবর্তী সময়ে সব স্থাপনার কাজ এগিয়েছে, তার নিশ্চিত প্রমাণ নয়।

বাড়ি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে মাছ ধরা

আবদুল্লাহর স্মৃতিতে এমন এক উপকূল আছে, যেখানে তীর থেকে কয়েক মিটার দূরেই মাছ পাওয়া যেত। তিনি বলেন, পণ্যবাহী জাহাজের চলাচলে পরিযায়ী মাছ দূরে সরে গেছে, আর নোঙরে প্রবাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে উজাড় পাহাড়ের লাল ও কমলা মাটি ধুয়ে উপসাগরে পড়ে।

CRI-এর ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩-এর সাক্ষাৎকারে জেমাফের সাওয়াই জেলে ম্যাক্স সিগোরো দূষিত পানি ও চলাচলে বাধার কারণে তাঁর কাজ কীভাবে বদলেছে, তা বলেন:

আগে আমরা মাছ ধরতে নৌকা বেয়ে তীরের কাছে যেতাম, এখন আরও দূরে যেতে হয়। আরও দূরে যাওয়া বিপজ্জনক, আর আমাদের জোয়ার-ভাটার হিসাব রাখতে হয়। খরচও বেশি।

পরিবেশগত প্রভাবের প্রক্রিয়া শুধু ওয়েদা বে-তে সীমাবদ্ধ নয়। ২০২৬ সালের ১২ জুন পূর্ব হালমাহেরার বুলি বে নিয়ে প্রকাশিত এক IPB University বিবৃতিতে মৎস্য ও সামুদ্রিক বিজ্ঞানের প্রভাষক ড. মেউতিয়া ইসমেত ব্যাখ্যা করেন, জমি পরিষ্কার করলে বৃষ্টির পানিতে উপরিভাগের মাটি সহজে উপকূলীয় পানিতে গিয়ে পড়ে।

পানিতে ভাসমান পলি সূর্যের আলো আটকে দেয় এবং জৈব পদার্থ পচে যাওয়ার সময় অক্সিজেনের মাত্রা কমাতে পারে। প্রবালের গায়ে পলি জমলে তাকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্যকারী শৈবালের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়; ফলে প্রবাল চাপে পড়তে পারে, বিবর্ণ হতে পারে এবং মারা যেতে পারে। সামুদ্রিক ঘাস ও ম্যানগ্রোভও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাঁর ব্যাখ্যায় উপকূলীয় খননের সঙ্গে সম্পর্কিত ঝুঁকিগুলো তুলে ধরা হয়েছে, তবে এটি ওয়েদা বে-র পানির অবস্থার পরিমাপ নয়।

মেউতিয়া আরও সতর্ক করেন, নিকেল, লোহা, ম্যাঙ্গানিজ ও ক্যাডমিয়ামের মতো ধাতু সামুদ্রিক প্রাণীর দেহে জমা হতে পারে এবং খাদ্যশৃঙ্খলে ছড়াতে পারে। তিনি পানি, পলি ও ধাতুর নিয়মিত পরীক্ষা, পলি নিয়ন্ত্রণ জোরদার, পুনরায় গাছ লাগানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে সহায়তার সুপারিশ করেন।

বিজ্ঞাপন

বন্যা ও পানির সরবরাহের ওপর বাড়তি চাপ

২০২৪ সালের জুলাইয়ের বন্যায় ১ হাজার ৭২৬ জন বাস্তুচ্যুত হন এবং একজনের মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। বাসিন্দাদের ধারণা, কোম্পানির কার্যক্রম ও বন উজাড়ে দুর্যোগটি আরও খারাপ হয়েছে। কোবের ৬৫ বছর বয়সী আদ্রিয়ান পাতাপাতা বলেন, খনির আগে থেকেই বন্যা হতো, তবে তা সাধারণত নদীর ধারের কয়েকটি এলাকায় সীমিত থাকত এবং পানি হাঁটুর ওপর উঠত না।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পানি বুক পর্যন্ত পৌঁছায়। এক আগস্টের বন্যায়, যার বছর উল্লেখ করা হয়নি, লাল ও কমলা কাদায় ছয় দিন তাঁর এলাকা ডুবে ছিল। তাঁর পরিবার ঘরের কড়িকাঠে অস্থায়ী মাচায় ঘুমায়। বারবার ডুবে যাওয়ায় তাঁর কোকো, কাসাভা ও কলাগাছ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ফলন কমে যায়।

সাগেয়ার বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, সাগেয়া হ্রদ এবং বোকি মারুরু গুহা ও ভূগর্ভস্থ নদীব্যবস্থায় পানি জোগানো বন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। Save Sagea-র মুখপাত্র মারদানি হারিদ বলেন, পাশের গ্রামগুলোর অবনতি থেকে বোঝা যায়, কেন এসব পানির উৎস রক্ষা করা দরকার। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সাগেয়া নদীতে ভারী ধাতুর দূষণের কথা জানানো হয়, যার সঙ্গে উজানে নিকেল কার্যক্রমের যোগসূত্র থাকার অভিযোগ রয়েছে। লেলিলেফে ভূগর্ভস্থ পানিতে লবণাক্ততার কথাও বলা হয়।

২০২৫ সালের Nexus3 Foundation-এর পরীক্ষার ওপর পরবর্তী প্রতিবেদনে আকে জিরা ও আকে সাগেয়া নদীতে নিরাপদ মাত্রার চেয়ে বেশি ক্রোমিয়াম ও নিকেল পাওয়া এবং উপসাগরের মাছের দেহে ২০০৭ সালের তুলনায় ২০ গুণ বেশি আর্সেনিক পাওয়ার কথা রয়েছে। এই তুলনা মাত্রা বেড়ে যাওয়ার খবর দেয়, তবে এতে একা প্রমাণ হয় না যে মাছের প্রতিটি নমুনা খাদ্যনিরাপত্তার সীমা ছাড়িয়েছে।

গবেষণায় আকে জিরার পানি মূল্যায়নের জন্য প্রথম শ্রেণির পানির মানদণ্ড ব্যবহার করা হয়েছিল, কারণ স্থানীয় জনগোষ্ঠী পানীয় ও পরিষ্কার পানির উৎস হিসেবে নদীটি ব্যবহার করে। ২০২৪ সালের ফলাফলে জৈব রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা (BOD5) ও রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা (COD) প্রথম শ্রেণির সীমা ছাড়িয়ে তৃতীয় শ্রেণির মানদণ্ডে ছিল। এ ধরনের পানি মিঠাপানির মাছ চাষ, গবাদিপশু পালন ও কৃষিজমিতে সেচের কাজে উপযোগী।

ইন্দোনেশিয়ার পরিবেশ মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালের জুলাইয়ে জানায়, PT Weda Bay Nickel ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার ৯৯ হেক্টর এলাকা উন্মুক্ত করেছে। এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৭৯১ হেক্টরের পানি ধরে রাখার ক্ষমতা কম বলে চিহ্নিত করা হয় এবং দ্রুত পুনর্বাসনের আহ্বান জানানো হয়। মন্ত্রণালয় আরও জানায়, PT Huafei Nickel Cobalt বছরে ৩৪ লাখ টনের বেশি বিপজ্জনক টেইলিংস উৎপাদন করে। টেইলিংস হলো প্রক্রিয়াজাতকরণের বর্জ্যাংশ; এগুলো উপরিভাগের পানির প্রবাহের কাছে সংরক্ষণ করা হলে বাঁধ বা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ব্যর্থ হওয়ার ক্ষেত্রে দূষিত পানি ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে।

স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে সতর্কতায় আরও বিস্তৃত তদন্ত প্রয়োজন

২০২৫ সালের Nexus3 Foundation ও Tadulako University-র গবেষণায় রক্তে পারদের জন্য প্রতি লিটারে ৯ মাইক্রোগ্রাম এবং আর্সেনিকের জন্য প্রতি লিটারে ১২ মাইক্রোগ্রামকে রেফারেন্স মান হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। ৪৬ জন উত্তরদাতার নমুনা সম্ভাব্য সংস্পর্শের প্রমাণ দেয়, যার ভিত্তিতে পরবর্তী তদন্ত দরকার; তবে এটি ওয়েদা বে-র সব বাসিন্দাকে প্রতিনিধিত্বকারী জরিপ নয়।

২০২৫ সালের ২৬ মে প্রকাশিত গবেষণাটির মাঠপর্যায়ের কাজ হয়েছিল ২০২৪ সালের জুলাইয়ে উত্তর মালুকুর মধ্য হালমাহেরায়, ওয়েদা বে-র আশপাশে। Nexus3 Foundation-এর সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, IWIP-এর কর্মী, জেলেদের পরিবার, কৃষক ও স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মীদের কাছ থেকে রক্তের নমুনা নেওয়া হয় এবং আর্সেনিক, পারদ, নিকেল, ক্যাডমিয়াম, থ্যালিয়াম ও সিসাসহ ছয়টি ধাতুর পরীক্ষা করা হয়। IWIP-তে কর্মরত নন এমন বাসিন্দাদের রক্তে পারদ ও আর্সেনিকের ঘনত্ব কর্মীদের তুলনায় বেশি ছিল। রক্তের নমুনা নেওয়ার আগের দুই দিনে গড়ে দুই থেকে ছয় বেলা সামুদ্রিক খাবার খাওয়ার কথা সাক্ষাৎকারে উঠে আসে।

Nexus3 ও Walhi North Maluku ওয়েদা বে-র জেলেদের ধরা মাছের ১৬টি নমুনাও দৈবচয়নে সংগ্রহ করে। সব নমুনার মাংসে পারদ ও আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়। পারদের মাত্রা প্রতি কেজিতে ০.০২ থেকে ০.২৮ মিলিগ্রাম ছিল; সর্বোচ্চ মাত্রাটি পাওয়া যায় বারাকুডায়। আর্সেনিকের মাত্রা ছিল প্রতি কেজিতে ০.৪৩ থেকে ৩.০৩ মিলিগ্রাম। জেমাফের এক জেলের ধরা সোরিহি মাছে আর্সেনিকের সর্বোচ্চ মাত্রা পাওয়া যায়। সারসংক্ষেপে মাছের জন্য WHO-র সীমা হিসেবে পারদ প্রতি কেজিতে ০.৫ মিলিগ্রাম এবং আর্সেনিক ২ মিলিগ্রামের কথা বলা হয়েছে: প্রতিবেদনে উল্লেখিত পারদের মাত্রা ওই সীমার নিচে ছিল, তবে আর্সেনিকের মাত্রা তা ছাড়িয়েছে।

ওয়েদা বে নিকেলের পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নে থাকা ২০০৭ সালের ভিত্তিমূলক তথ্যের সঙ্গে তুলনা করে দেখা যায়, ২০২৪ সালে মাছের দেহে মাপা আর্সেনিকের সর্বনিম্ন মাত্রাও আগের মাত্রার চেয়ে ২০ গুণ বেশি ছিল। Nexus3-এর দুটি মাছের নমুনার মধ্যে ক্রোমিয়ামের সর্বনিম্ন মাত্রা ২০০৭ সালের ভিত্তিমূলক তথ্যের সর্বোচ্চ মাত্রার চেয়ে ১৩ গুণ বেশি ছিল। সহজলভ্য সারসংক্ষেপে পূর্ণাঙ্গ গবেষণা, নমুনা সংগ্রহের বিস্তারিত পদ্ধতি বা রক্তের রেফারেন্স মান কীভাবে বাছাই করা হয়েছিল, তার ব্যাখ্যা নেই।

অন্যদিকে, লেলিলেফ ওয়াইবুলান স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নামে প্রকাশিত পরিসংখ্যানে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ৮১৩টি ঘটনা নথিবদ্ধ হয়েছে। পরিবেশের ধুলো ও শিল্পকারখানার নির্গমনকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তবে এই সংখ্যা থেকে শিল্পের কারণে সব বা কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা ঘটেছে বলে প্রমাণ হয় না।

বিজ্ঞাপন

CRI-এর ২০২৪ সালের জানুয়ারির প্রতিবেদনেও বাসিন্দাদের শ্বাসতন্ত্র ও ত্বকের সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ নথিভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিবেদনে স্বীকার করা হয়েছে, এসব অসুস্থতার সঙ্গে IWIP-এর কার্যক্রমের সরাসরি যোগসূত্র স্থাপনকারী গবেষণার অভাব রয়েছে। পার্ক বা সরকারের কাছ থেকে জনসাধারণের জন্য বায়ু ও পানির মানসংক্রান্ত তথ্য পাওয়াও সহজ ছিল না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

মেউতিয়ার একাডেমিক সতর্কতায় দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ মাত্রার ধাতুর সংস্পর্শে থাকার সম্ভাব্য পরিণতি হিসেবে ত্বক ও স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যা, কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া এবং ক্যানসারের ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে। এগুলো সম্ভাব্য স্বাস্থ্যপ্রভাব, হালমাহেরার বাসিন্দাদের রোগনির্ণয় নয়। সংস্পর্শের পথ, মাত্রা ও কারণ নির্ধারণে পরিবেশগত পরীক্ষা ও চিকিৎসাবিষয়ক মূল্যায়ন দরকার।

এই চাপ শুধু হালমাহেরায় সীমাবদ্ধ নয়। CRI-এর পৃথক প্রতিবেদন Busy Surviving: Women on Indonesia's Nickel Frontier-এ দক্ষিণ-পূর্ব ও মধ্য সুলাওয়েসির খনির কার্যক্রমের আশপাশে এবং ভাটির দিকে বসবাসকারী নারীদের ওপর স্বাস্থ্য, জীবিকা ও সংস্কৃতিগত অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রভাবের বিবরণ রয়েছে। এটি ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন নিকেল অঞ্চলের তুলনামূলক তথ্য, ওয়েদা বে-র নারীদের ওপর সরাসরি গবেষণা নয়।

কর্মসংস্থানের সঙ্গে বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয় ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

আম্বন ও মানাদোসহ ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কর্মীরা এখানে কাজ করতে এসেছেন। তবে মোট কর্মীর সংখ্যা থেকে আবাসন ও যাতায়াতের খরচ বাদে মজুরি কত থাকে, কাজের পরিবেশ কেমন, কিংবা আয়ের কতটা কাছের জনগোষ্ঠীর মধ্যে থেকে যায়, তা বোঝা যায় না।

Conflict Resolution Unit-এর এক বিবরণে IWIP-এর সাবেক কর্মী মিরনার (ছদ্মনাম) অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। তিনি মাসে প্রায় ৬০ লাখ রুপি আয়ের কথা বলেন; বেতন উপস্থিতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিল। কোম্পানির ডরমিটরির বাইরে ভাড়া কক্ষের মাসিক খরচ প্রায় ১৫ লাখ রুপি হতে পারে, যা অন্য খরচের আগে তাঁর বলা বেতনের এক-চতুর্থাংশ।

মিরনা কঠোর নিরাপত্তা, ড্রোনে নজরদারি, দর্শনার্থী ও চলাচলে বিধিনিষেধ এবং নিয়ম ভাঙলে বেতন থেকে অর্থ কাটার সম্ভাবনার কথা বলেন। তিনি দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, ছুটির দিনেও কাজ এবং প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ও ক্লান্তির খবরের কথাও জানান। এগুলো কর্মীর সাক্ষ্য; যাচাইকৃত দুর্ঘটনার তালিকা বা পার্কের প্রতিটি স্থাপনা সম্পর্কে স্বাধীন অনুসন্ধানের ফল নয়।

মিরনা বলেন, অসুস্থ অবস্থাতেও তিনি কাজ চালিয়ে গেছেন, কারণ অনুপস্থিত থাকলে আয় বন্ধ হয়ে যেত। পরে চিকিৎসার খরচ জাতীয় স্বাস্থ্যবিমা থেকে মেটানো হয়। বাসিন্দা ও কর্মীরা কোম্পানি কমপ্লেক্সের বাইরে কুয়োর ঘোলা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি, শিল্পকারখানার ধুলো এবং অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের কথাও বলেছেন।

ওয়েদা বে-র চারটি গ্রামের ৮০ হাজার ইন্দোনেশীয় কর্মী এবং চীন থেকে আসা কয়েক হাজার কর্মীর আগের হিসাবের সঙ্গে পার্কে প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার কর্মীর পরবর্তী হিসাবের পার্থক্য রয়েছে। সময় ও ভৌগোলিক আওতার ভিন্নতার কারণে কর্মীর সংখ্যা কত বেড়েছে, তা নির্ভরযোগ্যভাবে হিসাব করা যায় না।

বিজ্ঞাপন

কয়লানির্ভরতা পরিচ্ছন্ন জ্বালানির প্রতিশ্রুতিকে দুর্বল করছে

স্টেইনলেস স্টিল এবং কিছু বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারির রসায়নে নিকেল ব্যবহৃত হয়; এতে বেশি শক্তি সঞ্চয় ও দীর্ঘ দূরত্ব চালানোর সুবিধা মেলে। তাই ইন্দোনেশিয়ার সম্প্রসারণ শুধু বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারের জন্য নয়, একাধিক বাজারের জন্য। পরিবেশগত প্রভাব অনেকটাই নির্ভর করে আকরিক কীভাবে প্রক্রিয়াজাত করা হয় এবং সেই কাজে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ কী উৎস থেকে আসে তার ওপর।

Bappenas-এর ২০২৫ সালের জুনের এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, ইন্দোনেশিয়ায় নিকেল প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবহৃত বিদ্যুতের ৯৭ শতাংশ আসে কয়লা থেকে। ২০২৩ সালে শিল্পটি প্রায় ১০০ বিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছে। গবেষণায় প্রতি টন ব্যাটারি-গ্রেড নিকেল উৎপাদনে গড়ে ৯৩ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য নির্গমনের হিসাব দেওয়া হয়েছে।

ওয়েদা বে-র কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা নিয়ে প্রকাশিত হিসাব ভিন্ন। CRI-এর ২০২৪ সালের জানুয়ারির প্রতিবেদনে অন্তত পাঁচটি নির্মিত এবং শেষ পর্যন্ত ১২টি নির্মাণের পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে; মোট সক্ষমতা আনুমানিক ৩.৭৮ গিগাওয়াট। পরবর্তী প্রতিবেদনে ১১টি চালু ও তিনটি নির্মাণাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্রের কথা রয়েছে। একটি জোট Global Energy Monitor-এর তথ্য উদ্ধৃত করে মোট ৪ হাজার ৫৪০ মেগাওয়াট সক্ষমতার ১৪টি ইউনিটের কথা বলেছে। অন্য এক বিবরণে ছয় গিগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উল্লেখ আছে। এসব সংখ্যা ভিন্ন সময় বা সংজ্ঞার ভিত্তিতে করা; এগুলোকে যাচাইকৃত একটি মোট সক্ষমতা হিসেবে ধরা যায় না।

বিশ্বের নিকেল সরবরাহে ইন্দোনেশিয়ার অংশের হিসাবও বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন। একটি প্রাথমিক হিসাবে তা প্রায় ৪০ শতাংশ, CRI ২০২২ সালের বৈশ্বিক চাহিদার ৪৮ শতাংশ বলেছে, আর Bappenas-এর হিসাবে ইন্দোনেশিয়া সরবরাহ করে ৬০ শতাংশ। একই বছরের সমতুল্য পরিমাপ হিসেবে এই শতাংশগুলোকে ধরা উচিত নয়।

মূল সমস্যাটি অবশ্য স্পষ্ট: জনসাধারণের বিদ্যুৎ গ্রিডের বদলে কারখানায় বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য তৈরি নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্রই শিল্পটির বিদ্যুতের প্রধান উৎস। যানবাহন প্রযুক্তি পরিচ্ছন্ন হলেই খনিজ উৎপাদনও স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচ্ছন্ন হয় না।

জাতীয় রোডম্যাপ ও হালমাহেরার বাস্তব সীমাবদ্ধতা

Bappenas ও WRI Indonesia ২০২৫ সালের ১২ জুন জাতীয় ডিকার্বনাইজেশন রোডম্যাপ চালু করে। এর প্রণয়ন শুরু হয় ২০২৪ সালের গোড়ায়; এতে ৩০টির বেশি খনি ও গলনাগার কোম্পানি, ১৫টি মন্ত্রণালয় ও সংস্থা এবং শিক্ষাবিদেরা যুক্ত ছিলেন।

Bappenas-এর খাদ্য, প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশবিষয়ক উপমন্ত্রী লিওনার্দো এ. এ. টি. সাম্বোদো রোডম্যাপের লক্ষ্য তুলে ধরে বলেন:

এই রোডম্যাপের লক্ষ্য, ২০৪৫ সালের মধ্যে নিকেল শিল্পের নির্গমন ৮১ শতাংশ পর্যন্ত কমানো; যা ২০৬০ সালের আগে নেট জিরো নির্গমনে পৌঁছানোর ইন্দোনেশিয়ার অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

WRI Indonesia-এর হিসাবে, পদক্ষেপ না নিলে ২০৪৫ সালের মধ্যে নির্গমন ৮৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। রোডম্যাপে ৪৭.৩ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে উত্তর মালুকুতে সবুজ হাইড্রোজেনভিত্তিক ৫.১ গিগাওয়াট উৎপাদনের কথা রয়েছে। জীবাশ্ম জ্বালানির বদলে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করে সবুজ হাইড্রোজেন উৎপাদন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

কৌশলগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি ও উপকরণের দক্ষ ব্যবহার, জ্বালানি ও উপকরণের বিকল্প ব্যবহার এবং কম নির্গমনকারী বিদ্যুৎ। প্রস্তাবিত নীতির মধ্যে রয়েছে প্রতিযোগিতামূলক দামে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এবং জাতীয় সবুজ নিকেল মানদণ্ড। Bappenas-এর রোডম্যাপের লাইব্রেরি-তথ্যে অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, উচ্চ ব্যয় ও নিয়ন্ত্রক অনিশ্চয়তাকে বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সময়সীমা উদ্বোধনী বক্তব্যের চেয়ে আলাদা; উদ্বোধনী বক্তব্যে ২০২৫–২০৪৫ সালের জাতীয় পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছিল।

হালমাহেরার সীমাবদ্ধতা বিশেষ ধরনের। বছর উল্লেখ না করা ৬ জানুয়ারির WRI গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, এই অঞ্চলে বিদ্যুৎ গ্রিডের অবকাঠামো নেই এবং জলবিদ্যুতের জন্য উপযোগী বড় নদীও নেই; সৌর ও বায়ুশক্তি প্রকল্পের ক্ষেত্রেও জমির সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে জাতীয় বিদ্যুৎ মিশ্রণের ৬১ শতাংশ জলবিদ্যুৎ, ৩০ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ ও ৯ শতাংশ বায়ুবিদ্যুৎ—এমন বিবরণের সঙ্গে অঞ্চলটির বাস্তবতার সমন্বয় কঠিন।

IWIP জানিয়েছে, তারা দুই গিগাওয়াট পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা এবং ৫০০ মেগাওয়াট বায়ুবিদ্যুৎ স্থাপনের পরিকল্পনা করছে; লক্ষ্য বছরে ৪০ লাখ টন নির্গমন কমানো। ৪০ হাজার হেক্টরের বেশি নদী অববাহিকায় গাছ লাগানো, আকরিক পরিবহনে বৈদ্যুতিক ট্রাক ব্যবহার এবং বিপজ্জনক বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রস্তাবও রয়েছে। এগুলো কখন চালু হবে, তা স্পষ্ট নয়। স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা মানেই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নয়।

শিল্পোন্নয়নের খরচ কে বহন করছে?

ইন্দোনেশিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, নিকেল শিল্পে দেশে ৪৭.৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ এসেছে এবং ১ লাখ ৮০ হাজার ৬০০ কর্মসংস্থান হয়েছে। চীনা অর্থায়ন ও প্রযুক্তি দ্রুত শোধনাগার গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে, তবে বিনিয়োগ আকর্ষণে জনগণের মোট ব্যয় একত্র করে হিসাব করা হয়নি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে করছাড়ের মোট ব্যয় হবে ৫৬৪ ট্রিলিয়ন রুপি; ২০২১ সালে তা ছিল ২৯৩ ট্রিলিয়ন। এই হিসাব পুরো অর্থনীতির করছাড় নিয়ে, শুধু নিকেল শিল্পের নয়। বড় বিনিয়োগকারীরা ২০ বছর পর্যন্ত করছাড় পেতে পারেন; বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রতিষ্ঠানগুলো যন্ত্রপাতি আমদানি শুল্ক ও মূল্য সংযোজন করের ছাড় পেতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের এক গবেষণায় দেখা গেছে, রপ্তানি বিধিনিষেধের আগের সংস্করণ রপ্তানিতে দেশীয় মূল্য সংযোজন বাড়ালেও ছোট ও কম দক্ষ প্রতিষ্ঠানকেও আকৃষ্ট করেছে। উৎপাদিত নিকেলের বড় অংশই তৈরি ব্যাটারির বদলে স্টেইনলেস স্টিলের জন্য নিকেল পিগ আয়রন। ২০২৫ সাল থেকে ইন্দোনেশিয়ায় ১৫ শতাংশ বৈশ্বিক ন্যূনতম কর চালু হওয়ায় বড় বহুজাতিক কোম্পানির জন্য দীর্ঘ করছাড়ের মূল্য হিসাব করাও আরও জটিল হয়েছে।

বক্সাইট শিল্পে নিকেল সম্প্রসারণের পুনরাবৃত্তি কতটা কঠিন, তা দেখা যায়। ২০২৩ সালে কাঁচা আকরিক রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ার সময় শোধনাগারের সক্ষমতা ছিল বছরে প্রায় ১ কোটি ৩৯ লাখ টন; খনির উৎপাদন ছিল প্রায় ৩ কোটি টন, অর্থাৎ উত্তোলিত পরিমাণের অর্ধেকেরও কম। ২০৪০ সালের মধ্যে আরও ২৭টি খনিজ ও পণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণ দেশে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে; তবে পুঁজি, বিদ্যুৎ ও বাজারের পরিসর এখনও সীমাবদ্ধতা।

Koalisi Indonesia Timur-এর সমন্বয়ক মুহাম্মদ আল আমিন প্রবোওকে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের সঙ্গে দেখা করতে, স্বাধীন পরিবেশগত ও সামাজিক নিরীক্ষার নির্দেশ দিতে, কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে পরিবেশ পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করতে এবং পরিবেশের ওপর চাপ বাড়ায় এমন সম্প্রসারণের উপযুক্ততা প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত তা স্থগিত রাখতে আহ্বান জানিয়েছেন। খনির বিরোধিতা করার পর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাগেয়া ও কিয়া এলাকার ১৪ জন বাসিন্দাকে পুলিশ তলব করেছে বলে খবর রয়েছে। জোটের বক্তব্য, ভয়ভীতি ছাড়াই বাসিন্দাদের অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকতে হবে।

স্বাধীন নিরীক্ষা কিংবা IWIP-এর প্রতিশ্রুত পুনরুদ্ধার ও জ্বালানি স্থাপনা কবে সম্পন্ন হবে, তা জানানো হয়নি। আবদুল্লাহর কাছে প্রশ্ন হলো, খনি বন্ধ হলে তাঁর জনগোষ্ঠী তখনও জমি ও সমুদ্র থেকে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে কি না। কেন চলে যাওয়া কঠিন, তা তিনি এভাবে ব্যাখ্যা করেন:

আমাদের পূর্বপুরুষেরা এই জমি আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন। খনি বন্ধ হলে এখানে আমরা, অর্থাৎ আমরাই থেকে যাব।

মূল বিষয়গুলো

  • ২০২৬ সালের ৮ অক্টোবর প্রবোও ওয়েদা বে-তে ১০.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ১৮০ ট্রিলিয়ন রুপির ১১টি শিল্প প্রকল্পের উদ্বোধন করেন: চারটি বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করেছে এবং সাতটির নির্মাণ শুরু হয়েছে।
  • CRI ও UC Berkeley হালমাহেরার নিকেল খনি ইজারাধীন এলাকার অন্তত ৫ হাজার ৩৩১ হেক্টর বন উজাড়ের হিসাব করেছে।
  • পানি পরীক্ষা, রক্তের নমুনা ও শ্বাসতন্ত্রের রোগের পরিসংখ্যান আরও তদন্তের দাবি রাখে; তবে এগুলো একা প্রতিটি সংস্পর্শের উৎস বা অসুস্থতার কারণ প্রমাণ করে না।
  • Bappenas-এর লক্ষ্য, ২০৪৫ সালের মধ্যে নিকেল শিল্পের নির্গমন ৮১ শতাংশ পর্যন্ত কমানো।
  • IWIP-এর প্রস্তাবিত সৌর, বায়ু, পরিবেশ পুনরুদ্ধার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্থাপনাগুলোর চালুর তারিখ স্পষ্ট নয়।
  • বাসিন্দা ও প্রচারকর্মীরা স্বাধীন নিরীক্ষা, দূষণের তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ এবং ক্ষতিগ্রস্ত জীবিকা সুরক্ষার দাবি জানাচ্ছেন।
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে