২০২৭ সালে প্রযোজনা শুরুর প্রস্তুতি, ফিরছে পারিবারিক পুনর্মিলন
‘ক্রেজি রিচ এশিয়ানস’-এ ফিরছেন মিশেল ইয়ো, হেনরি গোল্ডিং, কনস্ট্যান্স উ ও রনি চিয়েং। ২০১৮ সালের ছবির পরের গল্প নিয়ে আট পর্বের একটি ড্রামা সিরিজের অনুমোদন দিয়েছে এইচবিও। ২০২৬ সালের ৮ অক্টোবর সিরিজটির অনুমোদনের ঘোষণা দেওয়া হয়, আর ২০২৭ সালে প্রযোজনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
সূচিপত্র
- ২০২৭ সালে প্রযোজনা শুরুর প্রস্তুতি, ফিরছে পারিবারিক পুনর্মিলন
- ফিরছেন র্যাচেল, নিক, এলেনর ও এডি
- আট পর্ব, তবে বই ধরে কাহিনির পরিকল্পনা নিশ্চিত নয়
- পরবর্তী পর্বের দায়িত্বে অ্যাডেল লিম
- চলচ্চিত্র সিক্যুয়েল থেকে টেলিভিশন প্রকল্প
- ফিরছে মূল সৃজনশীল দল
- স্বতন্ত্র পটভূমির বাণিজ্যিক সাফল্য
- এশীয় প্রতিনিধিত্বের মাইলফলকে ফেরা
- ঘোষণায় যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলেনি
- মূল বিষয়গুলো
উ, গোল্ডিং ও চিয়েং সিরিজের নিয়মিত অভিনয়শিল্পী হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। অস্কারজয়ী ইয়ো ফিরবেন পুনরাবৃত্ত চরিত্রে। প্রতি পর্বের দৈর্ঘ্য এক ঘণ্টা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে বছরের পর বছর ধরে নির্মাণাধীন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির সিক্যুয়েলের বদলে এই ফ্র্যাঞ্চাইজির গল্প টেলিভিশনে আরও দীর্ঘ পরিসরে চলবে।
মূল ছবির চিত্রনাট্যকারদের একজন অ্যাডেল লিম সিরিজটির শোরানার ও নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। ছবির পরিচালক জন এম. চু এবং উপন্যাসগুলোর লেখক কেভিন কোয়ানও নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে ফিরছেন। এইচবিও ও ওয়ার্নার ব্রাদার্স টেলিভিশন যৌথভাবে সিরিজটি প্রযোজনা করবে।
ঘোষণার মধ্য দিয়ে গল্পটি চলবে কি না, সেই মূল প্রশ্নের উত্তর মিলেছে। তবে দর্শকরা কবে এটি দেখতে পাবেন, তা জানা যায়নি। সম্প্রচারের তারিখ নিশ্চিত করা হয়নি, আর প্রযোজনার সময়সূচিকে মুক্তির সময়সূচি বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। চিত্রগ্রহণের স্থান, অন্য অভিনয়শিল্পীদের নাম এবং বিস্তারিত কাহিনিও এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
ফিরছেন র্যাচেল, নিক, এলেনর ও এডি
নিউইয়র্কের অর্থনীতির অধ্যাপক র্যাচেল চু চরিত্রে আবার অভিনয় করবেন উ। সিঙ্গাপুরে বেড়াতে গিয়ে প্রেমিকের পরিবারের বিপুল সম্পদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছিল। নিক ইয়ং চরিত্রে ফিরছেন গোল্ডিং। তার সুবিধাভোগী পারিবারিক পটভূমি তাদের প্রেমকে পারিবারিক আনুগত্য, সামাজিক প্রত্যাশা ও গ্রহণযোগ্যতার পরীক্ষায় ফেলে।
ছবির শেষে র্যাচেল ও নিকের বাগদান হয়। এর আগে নিকের মা এলেনরের আপত্তির মুখোমুখি হয়েছিলেন র্যাচেল। ইয়ো আবারও অভিনয় করবেন ইয়ং পরিবারের মাতৃকর্ত্রী এলেনর চরিত্রে, যার অনুমোদন মূল গল্পে ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হংকং থেকে আসা নিকের চাচাতো ভাই এডিসন, যিনি এডি চেং নামেও পরিচিত, সেই চরিত্রে ফিরছেন চিয়েং। সামাজিক মর্যাদা নিয়ে তার উদ্বেগ ছবির হাস্যরসের একটি উৎস ছিল।
অভিনয়শিল্পীদের ক্ষেত্রে ‘সিরিজের নিয়মিত’ ও ‘পুনরাবৃত্ত’—এই দুই পরিচয় ভিন্ন ধরনের অঙ্গীকার বোঝায়। সিরিজের নিয়মিত অভিনয়শিল্পীর সাধারণত প্রধান অভিনয়দলে ধারাবাহিক উপস্থিতি থাকে, আর পুনরাবৃত্ত অভিনয়শিল্পী নির্বাচিত পর্বগুলোতে হাজির হন। ইয়োর পুনরাবৃত্ত চরিত্রের মর্যাদা থেকে তিনি কয়টি পর্বে থাকবেন বা গল্পে এলেনরের প্রভাব কতটা হবে, তা জানা যায় না।
অ্যাকওয়াফিনা, জেমা চ্যান ও কেন জংয়ের ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। ঘোষণায় তাদের নাম না থাকা মানে এই নয় যে তাদের চরিত্রগুলো বাদ পড়েছে। ফিরতি অভিনয়শিল্পীদের তালিকাটি উল্লেখযোগ্য, তবে এখনো ছবির পুরো অভিনয়দলের পুনর্মিলন নিশ্চিত হয়নি।
আট পর্ব, তবে বই ধরে কাহিনির পরিকল্পনা নিশ্চিত নয়
সিরিজটি কোয়ানের ‘ক্রেজি রিচ এশিয়ানস’ উপন্যাসগুলো থেকে উপাদান নেবে এবং ছবির পরের ঘটনা নিয়ে এগোবে; র্যাচেল ও নিকের সম্পর্ক নতুন করে শুরু করবে না। ২০১৩ সালে ‘ক্রেজি রিচ এশিয়ানস’ দিয়ে ট্রিলজির শুরু। এরপর ২০১৫ সালে ‘চায়না রিচ গার্লফ্রেন্ড’ এবং ২০১৭ সালে ‘রিচ পিপল প্রবলেমস’ প্রকাশিত হয়।
টেলিভিশন রূপান্তরটি কতটা নির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত হয়েছে, তা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য রয়েছে। কোনো কোনো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুটি পরবর্তী উপন্যাসসহ পুরো ট্রিলজিই এর ভিত্তি। আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিরিজে ওই উপন্যাসগুলোর উপাদান থাকবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কোয়ানের বইয়ের সঙ্গে সিরিজটির সম্পর্কের ঘোষণা নিশ্চিত; তবে কোন উপন্যাস থেকে নির্দিষ্ট কোনো পর্বের কাহিনি নেওয়া হবে, সে বিষয়ে কোনো দাবি নিশ্চিত নয়।
এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ছবিতে প্রথম উপন্যাসের কাহিনি হুবহু অনুসরণ করা হয়নি। চু বলেছেন, ছবির জন্য করা পরিবর্তনগুলো পরের বইগুলো থেকে কাহিনি নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। ছবির গল্পের পর এগোতে হলে সিরিজটিকে চরিত্র ও সম্পর্কের সেই অবস্থার কথা মাথায় রাখতে হবে, যেখানে দর্শকরা তাদের শেষবার দেখেছেন—উপন্যাসগুলো থেকে অনুপ্রেরণা নিলেও।
অমীমাংসিত একটি সূত্র অ্যাস্ট্রিডকে ঘিরে, যার চরিত্রে অভিনয় করেছেন চ্যান। ছবির ক্রেডিট চলার সময়ের দৃশ্যে সাবেক বাগদত্তা চার্লির সঙ্গে তার পুনর্মিলন দেখানো হয়। চার্লির চরিত্রে ছিলেন হ্যারি শাম জুনিয়র। ওই দৃশ্য আরেকটি প্রেমের গল্পের ইঙ্গিত দিয়েছিল। তবে সেই গল্প বা সংশ্লিষ্ট অভিনয়শিল্পীদের ফেরার বিষয়টি সিরিজের জন্য নিশ্চিত করা হয়নি।
পরবর্তী পর্বের দায়িত্বে অ্যাডেল লিম
লিমকে নিয়োগ দেওয়ায় মূল ছবির অন্যতম চিত্রনাট্যকারই টেলিভিশন সংস্করণের দায়িত্ব পেলেন। শোরানার একটি সিরিজের চিত্রনাট্য ও সৃজনশীল দিকনির্দেশনা পরিচালনার পাশাপাশি প্রযোজনাও তদারক করেন। এটি একটি নির্দিষ্ট চিত্রনাট্য লেখার চেয়ে অনেক বিস্তৃত দায়িত্ব।
প্রকল্প ঘোষণার বিবৃতিতে লিম এই ফেরাকে পুনর্মিলন বলে বর্ণনা করেন এবং জানান, লেখকদের দল ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে:
এ যেন ‘ক্রেজি রিচ’ পরিবারের পুনর্মিলন!
আমাদের লেখকদের দল এখন পুরোদমে কাজ করছে, আর আমরা যা তৈরি করেছি তা সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার জন্য আর অপেক্ষা করতে পারছি না।
পরিকল্পিত চলচ্চিত্র সিক্যুয়েল নিয়ে বিরোধের পর লিমের এই ফেরা। প্রাথমিকভাবে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার ডলারের প্রস্তাব পাওয়ার পর তিনি ওই প্রকল্প ছেড়ে দেন বলে জানা যায়। অন্য চিত্রনাট্যকার পিটার চিয়ারেলিকে ৮ লাখ থেকে ১০ লাখ ডলারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে খবর প্রকাশিত হয়। এই অঙ্ক অনুযায়ী, তার প্রস্তাবটি লিমের প্রস্তাবের প্রায় সাত থেকে নয় গুণ ছিল।
লিমের বিদায়ের সময়কাল নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন বর্ণনা রয়েছে। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ২০১৮ সালের শেষ দিকে প্রকল্প ছাড়েন এবং ২০১৯ সালের শুরুতে আলোচনা হয়; আরেকটি প্রতিবেদনে ২০১৯ সালে বিরোধটি প্রকাশ্যে আসার কাছাকাছি সময়ে সিক্যুয়েল পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে লিমের চলে যাওয়ার কারণ হিসেবে কম পারিশ্রমিকের প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়টিতে প্রতিবেদনগুলো একমত। নতুন নিয়োগে সৃজনশীল নেতৃত্বে তার ফেরা নিশ্চিত হয়েছে, তবে এইচবিও সিরিজে তার পারিশ্রমিকের শর্ত প্রকাশ করা হয়নি।
চলচ্চিত্র সিক্যুয়েল থেকে টেলিভিশন প্রকল্প
মূল ছবির সাফল্যের পর প্রথমে ‘চায়না রিচ গার্লফ্রেন্ড’ উপন্যাসকে চলচ্চিত্রে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সেই সংস্করণের প্রযোজনা আর শুরু হয়নি। পারিশ্রমিক নিয়ে বিরোধ, চিত্রনাট্যকার বদল, কাজের সময়সূচির সংঘাত এবং ২০২৩ সালের চিত্রনাট্যকার ও অভিনয়শিল্পীদের ধর্মঘট—সব মিলিয়ে দীর্ঘ বিলম্ব হয়।
২০২২ সালে চিয়ারেলি প্রকল্প ছাড়ার পর সিক্যুয়েলের চিত্রনাট্য লেখার জন্য অ্যামি ওয়াংকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরই মধ্যে চু ‘ইন দ্য হাইটস’ ও ‘উইকড’ চলচ্চিত্রগুলোসহ অন্যান্য বড় প্রকল্পে ব্যস্ত ছিলেন। ২০২৫ সালের শুরুর দিকে টেলিভিশন সিরিজের খবর প্রকাশ্যে আসে; পরে ২০২৬ সালের অক্টোবরে আনুষ্ঠানিকভাবে সিরিজটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
ফ্র্যাঞ্চাইজিটির উন্নয়নের প্রধান ধাপগুলো:
- ২০১৩: কোয়ান ‘ক্রেজি রিচ এশিয়ানস’ প্রকাশ করেন।
- ২০১৫ ও ২০১৭: ‘চায়না রিচ গার্লফ্রেন্ড’ ও ‘রিচ পিপল প্রবলেমস’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে ট্রিলজি সম্পূর্ণ হয়।
- ২০১৮: উপন্যাসের চলচ্চিত্র রূপ মুক্তি পায় এবং বাণিজ্যিক সাফল্য পায়।
- ২০১৮ থেকে ২০১৯: লিমের বিদায় ও পারিশ্রমিক নিয়ে বিরোধ চলচ্চিত্র সিক্যুয়েলের পরিকল্পনায় বিঘ্ন ঘটায়।
- ২০২২: প্রস্তাবিত সিক্যুয়েলের চিত্রনাট্যকার হিসেবে ওয়াং যুক্ত হন।
- ২০২৩: শিল্প খাতের ধর্মঘটে বিলম্ব আরও বাড়ে।
- ২০২৫ সালের শুরু: টেলিভিশনে গল্প এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসে।
- ২০২৬ সালের ৮ অক্টোবর: এইচবিও সিরিজটির অনুমোদন ও ফিরতি তারকাদের নাম ঘোষণা করে।
- ২০২৭: প্রযোজনা শুরুর কথা রয়েছে।
সিরিজ অনুমোদন পাওয়া প্রাথমিক পর্যায়ের উন্নয়নকাজের চেয়ে বড় অঙ্গীকার। প্রাথমিক পর্যায়ে চিত্রনাট্য ও পরিকল্পনা তৈরি হতে পারে, কিন্তু অনুষ্ঠান প্রযোজনার সিদ্ধান্ত নাও আসতে পারে। সিরিজটির নির্দিষ্ট ধরন ও প্রধান অভিনয়শিল্পীরা নিশ্চিত হয়েছে। তবে শুধু এই অনুমোদনের অর্থ এই নয় যে চিত্রনাট্য সম্পূর্ণ হয়েছে, ২০২৭ সালের মধ্যে চিত্রগ্রহণ শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক হয়েছে কিংবা সম্প্রচারের সময়সূচি চূড়ান্ত হয়েছে।
ফিরছে মূল সৃজনশীল দল
লিম, চু ও কোয়ানের পাশাপাশি নির্বাহী প্রযোজকদের মধ্যে রয়েছেন নিনা জ্যাকবসন ও ব্র্যাড সিম্পসন। তাদের কালার ফোর্স কোম্পানি ছবিটি তৈরি ও প্রযোজনা করেছিল। লিম যুক্ত হচ্ছেন ১০০ টাইগার্সের মাধ্যমে, আর চু ফিরছেন ইলেকট্রিক সামওয়্যার নিয়ে।
এসকে গ্লোবাল এন্টারটেইনমেন্টের হয়ে ক্লো ড্যান ও জিনিন ট্যাং নির্বাহী প্রযোজনা করবেন। কোম্পানিটি ছবিটির অর্থায়নে সহায়তা করেছিল। ১০০ টাইগার্সের সঙ্গে যুক্ত নাইয়া চুকুকভ রিচার্ডস এবং রোজ লামও নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে থাকছেন। ফিরে আসা প্রতিষ্ঠানগুলো টেলিভিশন প্রকল্পটিকে মূল ছবির সৃজনশীল ও অর্থায়নকারী দলের সঙ্গে যুক্ত করছে।
ছবিটির প্রযোজক এবং নতুন সিরিজের প্রযোজক জ্যাকবসন ও সিম্পসন যৌথ বিবৃতিতে পরবর্তী পর্ব নিয়ে বলেন:
ছবিটি যেখানে শেষ হয়েছিল, সেখান থেকে গল্প এগিয়ে নেওয়া সিরিজটির জন্য এই অসাধারণ দলকে আবার একসঙ্গে করতে পেরে আমরা ভীষণ আনন্দিত।
চুও এই পুনর্মিলনকে স্বাগত জানিয়েছেন। মূল ছবির পরিচালক বলেন, মাঝের বছরগুলোতে অভিনয়শিল্পীরা আরও বড় ক্যারিয়ার গড়েছেন:
এরপর এই অভিনয়শিল্পীরা চলচ্চিত্র তারকা, সুপারহিরো, স্টেডিয়ামভর্তি দর্শকের সামনে পারফর্ম করা শিল্পী, এমনকি অস্কারজয়ীও হয়েছেন। তাই সবাইকে আবার একসঙ্গে করতে পারাটা ঘরে ফেরার মতো মনে হচ্ছে।
চুর নিশ্চিত দায়িত্ব নির্বাহী প্রযোজকের। ঘোষণায় তাকে কোনো পর্বের পরিচালক বলা হয়নি, আর পরিচালকদের তালিকাও প্রকাশ করা হয়নি।
স্বতন্ত্র পটভূমির বাণিজ্যিক সাফল্য
‘ক্রেজি রিচ এশিয়ানস’ বিশ্বজুড়ে ২৩ কোটি ৯০ লাখ ডলারের বেশি আয় করে। ছবিটির প্রযোজনা বাজেট ছিল বলে জানা যায় ৩ কোটি ডলার। অর্থাৎ বিশ্বব্যাপী টিকিট বিক্রির আয় প্রযোজনা বাজেটের প্রায় আট গুণ। এই তুলনা ছবিটির প্রেক্ষাগৃহে সাফল্যের ব্যাপ্তি দেখায়, মুনাফা নয়; কারণ বিপণন খরচ এবং টিকিট বিক্রির আয়ের যে অংশ প্রেক্ষাগৃহগুলো রাখে, সেগুলো আলাদা বিষয়।
বক্স অফিসের মোট আয় বিভিন্ন প্রতিবেদনে বিভিন্ন নির্ভুলতায় উল্লেখ করা হয়েছে: ২৩ কোটি ডলারের বেশি, ২৩ কোটি ৯০ লাখ ডলারের বেশি এবং প্রায় ২৪ কোটি ডলার। এগুলো মোটামুটি সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসাব, বড় কোনো মতবিরোধের প্রমাণ নয়। ছবিটি যুক্তরাষ্ট্রের বক্স অফিসে শীর্ষস্থানেও ছিল, দুটি গোল্ডেন গ্লোব মনোনয়ন পেয়েছিল এবং রটেন টমেটোসে সমালোচকদের অনুমোদনের হার ছিল বলে জানা যায় ৯১ শতাংশ। এই হার ইতিবাচক বলে বিবেচিত পর্যালোচনার অনুপাত বোঝায়, ১০০-এর মধ্যে গড় নম্বর ৯১ নয়।
সিঙ্গাপুরের পটভূমি ছবিটির আকর্ষণের অংশ ছিল। মেরিনা বে স্যান্ডস, নিউটন ফুড সেন্টার, র্যাফেলস হোটেল ও গার্ডেনস বাই দ্য বে ছবিতে দেখা গেছে। পরিচিত স্থানগুলোয় র্যাচেলের সঙ্গে সম্পদ ও পারিবারিক প্রত্যাশার পরিচয় ঘটে। ছবির অভিনয়দলে সিঙ্গাপুরের শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন পিয়ের পং, ফিওনা শি, ট্যান খেং হুয়া ও জ্যানিস কো।
টেলিভিশন সিরিজটির চিত্রগ্রহণের স্থান ঘোষণা করা হয়নি। ছবিতে সিঙ্গাপুরের পরিচিত স্থান ব্যবহার করা হয়েছে বলে নতুন প্রযোজনাও সেখানে ফিরবে, কিংবা আটটি পর্বই একই পটভূমিতে থাকবে—এমনটা নিশ্চিত হয় না।
এশীয় প্রতিনিধিত্বের মাইলফলকে ফেরা
২০১৮ সালের ছবিটি দুই দশকেরও বেশি সময় পর হলিউডের প্রথম বড় চলচ্চিত্র হিসেবে প্রশংসিত হয়, যার পুরো অভিনয়দল ছিল এশীয়। ছবিটির সাফল্যের সময়ে ‘হোয়াইটওয়াশিং’ নিয়ে জনপরিসরে বিতর্ক চলছিল। অন্য জাতিগত বা নৃগোষ্ঠীগত পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত চরিত্রে শ্বেতাঙ্গ অভিনয়শিল্পীদের নেওয়াকে হোয়াইটওয়াশিং বলা হয়। বড় প্রযোজনায় এশীয় অভিনয়শিল্পীদের সীমিত সুযোগ নিয়েও বিতর্ক ছিল।
নতুন সিরিজে সেই গল্পের কেন্দ্রে থাকা অভিনয়শিল্পীরা ফিরছেন। মূল ছবিকে ভিন্ন অভিনয়দল নিয়ে নতুন করে তৈরি করার মতো একটি ব্র্যান্ড হিসেবে দেখা হচ্ছে না। পারিশ্রমিক নিয়ে বিরোধ ফ্র্যাঞ্চাইজিটির ইতিহাসের অংশ হয়ে যাওয়ার পর লিমও আবার নেতৃত্বের ভূমিকায় ফিরছেন।
সিরিজটির ঘোষণাবিবৃতিতে উপন্যাসের লেখক ও নির্বাহী প্রযোজক কোয়ান দীর্ঘ পরিসরের এই বিন্যাসকে স্বাগত জানিয়েছেন:
এইচবিও সিরিজের বিস্তৃত পরিসরে আমার গল্প ও চরিত্রগুলোকে জীবন্ত হয়ে উঠতে দেখা স্বপ্নপূরণের মতো। অ্যাডেল, জন, নিনা, ব্র্যাড, আমাদের অসাধারণ লেখক দল ও কিংবদন্তিতুল্য অভিনয়শিল্পীরা যে জাদু তৈরি করবেন, তা দেখার জন্য আমি ভীষণ উচ্ছ্বসিত।
একটি চলচ্চিত্রের তুলনায় আটটি পর্বে বিস্তৃত পরিবার ও তাদের জটিল সম্পর্কগুলোকে আরও বেশি জায়গা দেওয়া যায়। পরের উপন্যাসগুলোর নির্দিষ্ট চরিত্র, স্থান বা ঘটনা নিয়ে সিরিজটি এই সুযোগ কাজে লাগাবে কি না, তা জানানো হয়নি।
ঘোষণায় যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলেনি
পরবর্তী স্পষ্ট মাইলফলক হলো ২০২৭ সালে প্রযোজনা শুরুর পরিকল্পনা। একটি প্রতিবেদনে ২০২৭ সালে মুক্তির কথাও বলা হয়েছে, তবে অন্য প্রতিবেদনগুলোতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে সম্প্রচারের তারিখ নিশ্চিত নয়। মুক্তির সময়সূচি ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ২০২৭ সালকে প্রযোজনার বছর হিসেবেই দেখা উচিত, দর্শকরা নিশ্চিতভাবে সে বছরই দেখবেন—এমন নয়।
প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্স ও ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারির একীভূতকরণ সম্পন্ন হওয়ার খবরের দুই দিন পর সিরিজটির অনুমোদন আসে। ফলে নতুন করপোরেট কাঠামোর অধীনে এইচবিওর প্রথম দিকের সিরিজ-সংক্রান্ত অঙ্গীকারগুলোর মধ্যে এটি পড়ে। সময়ের এই মিল ব্যবসায়িক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে, তবে একীভূতকরণের কারণেই সিরিজটি এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে—তা প্রমাণ করে না।
স্কাইড্যান্সের সরাসরি-ভোক্তা ব্যবসার দায়িত্বে থাকা নির্বাহী কেসি ব্লয়েস এক বিবৃতিতে তারকাদের ফেরাকে স্বাগত জানান। ওয়ার্নার ব্রাদার্স টেলিভিশন গ্রুপ ও ইউএস নেটওয়ার্কসের চেয়ারম্যান চ্যানিং ডাঙ্গিও টেলিভিশনের জন্য কোয়ানের গল্প রূপান্তরের বিষয়ে স্টুডিওর আগ্রহ নিশ্চিত করেন। তাদের বিবৃতিগুলো ঘোষিত অংশীদারত্বকে সমর্থন করে, তবে কাহিনি বা সময়সূচি নিয়ে নতুন তথ্য দেয় না।
দর্শকদের জন্য বিষয়টি স্পষ্ট: পরবর্তী পর্বের সিরিজ অনুমোদন হয়েছে, আট পর্বের পরিকল্পনা রয়েছে, চারজন তারকা ফিরছেন এবং লিমের নেতৃত্বে সৃজনশীল দল কাজ করছে। পুরো অভিনয়দল, রূপান্তরের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, চিত্রগ্রহণের স্থান ও সম্প্রচারের তারিখ এখনো ঘোষণা করা বাকি।
মূল বিষয়গুলো
- ২০২৬ সালের ৮ অক্টোবর এইচবিও ‘ক্রেজি রিচ এশিয়ানস’ নিয়ে আট পর্বের ড্রামা সিরিজের অনুমোদন দেয়।
- কনস্ট্যান্স উ, হেনরি গোল্ডিং ও রনি চিয়েং সিরিজের নিয়মিত অভিনয়শিল্পী হিসেবে ফিরছেন; মিশেল ইয়ো ফিরছেন পুনরাবৃত্ত চরিত্রে।
- অ্যাডেল লিম শোরানার ও নির্বাহী প্রযোজক। জন এম. চু ও কেভিন কোয়ানও নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে থাকছেন।
- ২০১৮ সালের ছবিতে র্যাচেল ও নিকের বাগদানের পর থেকে সিরিজটির গল্প এগোবে।
- ২০২৭ সালে প্রযোজনা শুরুর কথা রয়েছে, তবে সম্প্রচারের তারিখ নিশ্চিত করা হয়নি।
- অ্যাকওয়াফিনা, জেমা চ্যান ও কেন জংয়ের ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।
- ‘চায়না রিচ গার্লফ্রেন্ড’ ও ‘রিচ পিপল প্রবলেমস’ উপন্যাসের উপাদান ঠিক কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে এখনো স্পষ্টতা নেই।






