নিবন্ধিত প্রতিটি সেবাকেন্দ্র পরিদর্শনে দুই মাস
আটকে রাখা ও নির্যাতনের অভিযোগ এবং কাঞ্চনাবুরির একটি নার্সিং হোমের লাইসেন্স বাতিলের পর, বয়স্ক ব্যক্তি ও অন্যের ওপর নির্ভরশীলদের সেবাদানকারী নিবন্ধিত ১,২০৩টি সেবাকেন্দ্র পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে থাইল্যান্ড। দুই মাসের মধ্যে এ পরিদর্শন শেষ করতে হবে। এতে স্থাপনা, নিরাপত্তা ও সেবার মান খতিয়ে দেখা হবে; এর মধ্যে পরিচালকেরা তাঁদের আইনি এখতিয়ারের বাইরে মনোরোগ চিকিৎসা দিচ্ছেন কি না, তাও পরীক্ষা করা হবে।
সূচিপত্র
- নিবন্ধিত প্রতিটি সেবাকেন্দ্র পরিদর্শনে দুই মাস
- যেভাবে তদন্তের পরিধি বাড়ল
- ধারণক্ষমতার অনিয়মের পর কাঞ্চনাবুরির লাইসেন্স বাতিল
- আটকে রাখার অভিযোগ ও সেবাগ্রহীতার সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য
- ননথাবুরি পরিদর্শনে অতিরিক্ত স্থাপনার সন্ধান
- বিদ্যমান বিধিতে নির্যাতন থেকে সুরক্ষার বাধ্যবাধকতা
- লাইসেন্সধারী হোমেও মনোরোগ সেবার সীমা রয়েছে
- অপরাধভেদে শাস্তি ভিন্ন
- নিবন্ধনের মোট সংখ্যা ও তদারকি বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রয়োজন
- মূল বিষয়গুলো
দেশব্যাপী এ পদক্ষেপের আগে থা মুয়াং জেলার সোথর্নচাই নার্সিং হোম পরিদর্শন করা হয়। কর্মকর্তারা জানান, সেখানে আবেদনে উল্লেখ করা ৫০টির বিপরীতে ১২৯টি শয্যা ছিল। ননথাবুরির একটি সেবাকেন্দ্রও পরিদর্শন করা হয়; তদন্তে লাইসেন্স ছাড়া পরিচালিত আরও দুটি ভবনের সন্ধান মেলে।
উপসরকারি মুখপাত্র প্লয়থালাই লাকসামিসেংজান ২০২৬ সালের ১১ অক্টোবর জাতীয় পরিদর্শন কর্মসূচির বিস্তারিত জানান। জনস্বাস্থ্যমন্ত্রী পাট্টানা প্রমফাট স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা বিভাগ, এর কেন্দ্রীয় দপ্তর এবং ১২টি আঞ্চলিক সহায়তা কেন্দ্রকে প্রাদেশিক জনস্বাস্থ্য দপ্তরগুলোর সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেন।
পরিদর্শনে ২০১৬ সালের স্বাস্থ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আইন এবং ২০২০ সালে জারি করা মন্ত্রণালয়ের মানদণ্ড প্রয়োগ করা হবে। এসব বিধিতে শুধু ভবনের অবস্থা নয়, সেবাগ্রহীতাদের নিয়মিত মূল্যায়ন, নির্যাতন থেকে সুরক্ষা, উপযুক্ত কর্মী নিয়োগ এবং জরুরি অবস্থায় অন্যত্র পাঠানোর ব্যবস্থাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাৎক্ষণিক প্রশ্ন হলো, বাস্তবে দেওয়া সেবা এসব শর্ত এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না।
লাইসেন্সসংক্রান্ত ব্যবস্থা ও ফৌজদারি তদন্ত পৃথকভাবে এগোচ্ছে। কর্মকর্তারা কাঞ্চনাবুরি ও ননথাবুরিতে পরিচালনাগত অনিয়মের কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, পুলিশ নির্যাতন ও বেআইনি আটকে রাখার অভিযোগের প্রমাণ সংগ্রহ করছে। ব্যক্তি কর্মী বা পরিচালকদের বিরুদ্ধে অভিযোগকে ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়।
যেভাবে তদন্তের পরিধি বাড়ল
কাঞ্চনাবুরির একটি সেবাকেন্দ্র নিয়ে অভিযোগ থেকে শুরু হয়ে তদন্তের পরিধি ননথাবুরির সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে পৌঁছায়, এরপর দেশব্যাপী পরিদর্শনের নির্দেশ আসে। উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলো হলো:
- ৫ অক্টোবর, ২০২৬: সাবেক এক সেবাগ্রহীতা নির্যাতন ও আটকে রাখার অভিযোগ করার পর অপরাধ দমন বিভাগের কর্মকর্তারা থা মুয়াংয়ের সেবাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
- ৬ অক্টোবর: স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ বিভাগের কর্মকর্তারা কাঞ্চনাবুরির প্রতিষ্ঠান, এর লাইসেন্সের শর্ত এবং সেবাগ্রহীতাদের কল্যাণ খতিয়ে দেখেন।
- ৭ অক্টোবর: আগের দিনের পরিদর্শনের পর স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা বিভাগ কাঞ্চনাবুরির নার্সিং হোমের পরিচালন লাইসেন্স বাতিল করে।
- ৮ অক্টোবর: কর্মকর্তারা মুয়াং ননথাবুরি জেলার সোই রেওয়াদির বান সের্মসুক নার্সিং হোম এবং সংশ্লিষ্ট সেবাকেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেন।
- ১১ অক্টোবর: সরকার নিবন্ধিত বয়স্ক ও নির্ভরশীলদের সেবাদানকারী ১,২০৩টি কেন্দ্র দুই মাসের মধ্যে পরিদর্শনের নির্দেশের বিস্তারিত জানায়।
কর্মকর্তারা ৭ অক্টোবরই দেশব্যাপী পরিদর্শনের নির্দেশের কথা জানাচ্ছিলেন। ১১ অক্টোবরের ঘোষণায় নিবন্ধিত কেন্দ্রের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এবং পরিদর্শনের তিনটি ক্ষেত্র উল্লেখ করা হয়। শেষ করার নির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানানো হয়নি। তাই আরও নিশ্চিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত দুই মাসের নির্দেশকে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমায় রূপ দেওয়া উচিত নয়।
ধারণক্ষমতার অনিয়মের পর কাঞ্চনাবুরির লাইসেন্স বাতিল
স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা বিভাগের মহাপরিচালক ডা. পুওয়াদেত সুরাখোট ৬ অক্টোবর সোথর্নচাই নার্সিং হোম পরিদর্শন করেন এবং পরদিন লাইসেন্স বাতিলের নোটিশে সই করেন। কর্মকর্তারা নিম্নমানের স্থাপনা ও সেবা, অনুমোদনহীন মনোরোগ সেবা, বেআইনি আটকে রাখা এবং প্রয়োজনীয় বিস্তারিত ও নির্ভুল তথ্য না থাকা চিকিৎসা নথির কথা জানান।
পরিদর্শনে আবেদনে উল্লেখ করা ৫০টির বিপরীতে ১২৯টি শয্যা পাওয়া যায়। অর্থাৎ অতিরিক্ত শয্যা ছিল ৭৯টি, যা ঘোষিত সংখ্যার ২.৫৮ গুণ। ঘোষিত ১,৬০০ বর্গমিটারের বিপরীতে ব্যবহৃত হচ্ছিল প্রায় ৪,৩০০ বর্গমিটার, অর্থাৎ উল্লেখিত আয়তনের প্রায় ২.৬৯ গুণ। এই অসংগতিগুলো শুধু পৃথক কক্ষের অবস্থা নয়, বরং পরিচালনার পরিসর ও বিন্যাসের সঙ্গে সম্পর্কিত।
পুওয়াদেত বলেন, ব্যবসা ও ব্যবস্থাপনা—দুই লাইসেন্সের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে; দুটিই একই ব্যক্তির নামে ছিল। সরকারি খাত উন্নয়ন কমিশনের বিধি অনুযায়ী অনলাইনে লাইসেন্স নবায়ন করা হয়েছিল। বিভাগটি প্রতিবছর পরিদর্শন করলেও পরবর্তী নির্ধারিত পরিদর্শন ছিল নভেম্বরে।
মালিক পুলিশকে জানিয়েছিলেন, সর্বশেষ ৩ আগস্ট লাইসেন্স নবায়ন করা হয় এবং কেন্দ্রটি প্রতিবছর পরিদর্শনের আওতায় থাকে। সমাজকল্যাণ কর্মকর্তারা অনুমোদনের তারিখ হিসেবে ২৮ অক্টোবর, ২০২১ উল্লেখ করেন। মালিক বলেন, বর্তমান স্থানে হোমটি প্রায় ২০০৬ সাল থেকে চালু এবং ২০২১ সালে বয়স্ক ও নির্ভরশীলদের সেবাকেন্দ্রে রূপান্তরিত হয়।
পৃথক একটি করপোরেট নথি অনুযায়ী, সোথনচাই নার্সিং হোম কো. লিমিটেড ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ তারিখে নিবন্ধিত হয়; এর মূলধন ছিল ২০ লাখ বাত। সর্বশেষ জানানো আয় ছিল ৭৪ লাখ ৩০ হাজার বাত এবং নিট মুনাফা ৪ লাখ ৭৪ হাজার ১০২ বাত। কোম্পানির এই পরিসংখ্যান প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক সত্তার হিসাব; সেবাকেন্দ্রটির কার্যক্রম বা লাইসেন্সের আগের তারিখগুলোর সঙ্গে এগুলো গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়।
আটকে রাখার অভিযোগ ও সেবাগ্রহীতার সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য
কাঞ্চনাবুরির তদন্ত শুরু হয় সাবেক এক সেবাগ্রহীতার অভিযোগের পর। তিনি বলেন, তাঁর ছেলে ও পুত্রবধূ দুই বছরের বেশি সময় ধরে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাঁকে হোমে রেখেছিলেন। তিনি নির্যাতন, হুমকি ও জোর করে ওষুধ খাওয়ানোর অভিযোগ করেন এবং জানান, গোপনে বোনের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাহায্য চেয়েছিলেন। আত্মীয়রা তাঁর ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে চেয়েছিলেন—এ অভিযোগও এখনো অভিযোগ হিসেবেই রয়েছে।
পুলিশের পরিদর্শনের ছবিতে ঘুমানোর জায়গার চারপাশে লোহার শিক বা খাঁচা, বাইরে থেকে তালা দেওয়া কক্ষ, কাঁটাতার এবং স্থাপনার চারপাশে মজবুত স্টিলের কাঠামো দেখা যায়। তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ ও সাক্ষীদের বক্তব্য সংগ্রহ করছিলেন, কর্মী ও সেবাগ্রহীতাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন এবং বেআইনি আটকে রাখা ও দুর্ব্যবহারের সম্ভাব্য অভিযোগ বিবেচনা করছিলেন।
সেবাগ্রহীতার সংখ্যা ও তাঁদের শ্রেণিবিন্যাস নিয়ে প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য রয়েছে। পুলিশি পরিদর্শনের তথ্যে ১৯ জন কর্মীর তত্ত্বাবধানে ৯২ জন সেবাগ্রহীতার কথা বলা হয়—তাঁদের মধ্যে ৭৫ জন পুরুষ ও ১৭ জন নারী। স্বাস্থ্য পরিদর্শনের পৃথক প্রতিবেদনে প্রায় ১০০ জনের কথা বলা হয়, যাঁদের মধ্যে ৯২ জন মনোরোগী। পরের আরেকটি প্রতিবেদনে ১০০ জনের বেশি অন্য রোগীর কথা বলা হয়, যাঁদের ৯০ জনের বেশি মনোরোগী এবং অধিকাংশের বয়স ১৮ থেকে ৫৯ বছর। আরেকটি প্রতিবেদনে মনোরোগীর সংখ্যা প্রায় ৯০ বলা হয়।
এই সংখ্যাগুলোকে একটি যাচাইকৃত মোট সংখ্যা হিসেবে ধরা যায় না। এগুলো ভিন্ন সময় বা ভিন্ন গোষ্ঠীকে নির্দেশ করতে পারে, তবে এ পার্থক্যের ব্যাখ্যা জানানো হয়নি। এ তথ্যগুলো আরও দেখায় যে তদন্তটি শুধু বয়স্কদের সেবা নিয়ে নয়: প্রতিবেদন অনুযায়ী, মনোরোগ সেবা পাওয়া অনেকেই কর্মক্ষম বয়সের প্রাপ্তবয়স্ক।
মালিকের ছেলে তিরাপোপ রংসিসুকানন বলেন, সেবাগ্রহীতারা যাতে নিজেদের বা অন্যদের ক্ষতি করতে না পারেন, সে জন্য তিনি তালাবদ্ধ ধাতব কাঠামোর নকশা করেছিলেন। মূল্যায়ন ও চিকিৎসা নথি পর্যালোচনায় ঘাটতির দায় তিনি নেবেন বলেও জানান। তিনি আরও বলেন, পাঁচজন সেবাগ্রহীতা চলে গেছেন; তাঁদের মধ্যে একই পরিবারের তিনজন ছিলেন।
মালিক বলেন, সহিংস আচরণের প্রবণতা আছে বলে বিবেচিত সেবাগ্রহীতাদের জন্যই শিকযুক্ত কক্ষ রাখা হয়েছিল। তবে এ ব্যাখ্যা দিয়ে আটকে রাখার ব্যবস্থা আইনসম্মত বা চিকিৎসাগতভাবে উপযুক্ত ছিল কি না, তা নির্ধারিত হয় না। কর্তৃপক্ষ লাইসেন্স থাকার বিষয়টিকে প্রতিটি পদ্ধতি অনুমোদিত হওয়ার প্রমাণ হিসেবে না ধরে, ব্যক্তিভেদে অবস্থা ও চিকিৎসার নথি খতিয়ে দেখছিল।
ননথাবুরি পরিদর্শনে অতিরিক্ত স্থাপনার সন্ধান
৮ অক্টোবর সোই রেওয়াদি ২২-এ পরিদর্শন শুরু হয়, যখন খবর পাওয়া যায় যে বান সের্মসুক নার্সিং হোমে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ কর্মী ছাড়াই ৮১ জনের বেশি মনোরোগী রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপমহাপরিচালক ডা. সিরিসাক থিতিদিলোক্রাত স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক, প্রাদেশিক কর্মকর্তা, পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে পরিদর্শনে নেতৃত্ব দেন।
স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা কেন্দ্র ৪-এর পরিচালক সুফাচাই সিংহো প্রথমে বলেন, লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানটির নয়টি শয্যার অনুমতি ছিল, যদিও প্রাথমিক তথ্যে ধারণক্ষমতা ৮১ বলে জানা গিয়েছিল। কর্মকর্তারা লাইসেন্সের বৈধতা, সেবার শর্ত, শয্যার সংখ্যা এবং সংশ্লিষ্ট অন্য ভবন আছে কি না, তা যাচাই করছিলেন।
পরিদর্শনের পরবর্তী একটি প্রতিবেদনে তিনটি স্থাপনার কথা বলা হয়। মূল একতলা ভবনে ১৪টি শয্যা ছিল এবং সেখানে ১১ জনের সেবা দেওয়া হচ্ছিল, যদিও অনুমোদন ছিল নয়টি শয্যার। কর্মকর্তারা জানান, স্থাপনা, নিরাপত্তা ও সেবার মানদণ্ডে ভবনটি উত্তীর্ণ হয়নি।
সংলগ্ন তিনতলা ভবনটিতে অনুমোদিত পরিচালনার বাইরে ৬৬টি শয্যা ছিল এবং সেখানে ৫৯ জন মনোরোগী ছিলেন। প্রায় ২০০ মিটার দূরে থাকা আলাদা দোতলা বাড়িটিতে ১৯টি শয্যা ছিল এবং সেখানে ১৪ জন মনোরোগী ছিলেন। কর্মকর্তারা বলেন, অতিরিক্ত এই দুই ভবনের কোনোটিরই স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার লাইসেন্স ছিল না।
প্রাথমিকভাবে ৮১ জনের ধারণক্ষমতার উল্লেখ, ৮১ জনের বেশি মনোরোগীর প্রতিবেদন এবং পরে ভবনভিত্তিক যে সংখ্যা দেওয়া হয়, সেগুলো একে অন্যের সঙ্গে মেলে না। পরবর্তী প্রতিবেদনে দুইটি লাইসেন্সবিহীন ভবনে ৭৩ জন মনোরোগীর কথা বলা হয়েছে; মূল স্থাপনায় ছিলেন আরও ১১ জন। এসব সংখ্যা আগের অনুমানের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত, তা ব্যাখ্যা করা হয়নি।
সেবাগ্রহীতারা শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা, চলাচলে বাধা, নির্যাতন এবং পর্যাপ্ত ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগ করেন। একজন বলেন, সেখানে যাওয়ার সময় তাঁকে বেঁধে রাখা হয়েছিল, তবে নির্যাতন করা হয়নি। ২০২৩ সাল থেকে সেখানে থাকার কথা জানানো আরেকজন নির্যাতন এবং ডায়াবেটিসের অবনতি হলে ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, তাঁর বাবা-মা ওষুধ সরবরাহ করতেন, আর হোমে দিনে তিন বেলা খাবার দেওয়া হতো।
অভিযোগের মধ্যে খাবার না দেওয়া এবং সিঁড়ির পাশে লুকিয়ে রাখা বাঁধনসামগ্রীর কথাও ছিল। প্রাথমিক পরিদর্শন প্রতিবেদনে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। পরে কর্মকর্তারা লাইসেন্স ও মানদণ্ড লঙ্ঘনের কথা জানান, আইনি ব্যবস্থার জন্য প্রমাণ সংগ্রহ করেন এবং সাময়িকভাবে বন্ধ বা লাইসেন্স বাতিলের বিষয়টি বিবেচনার প্রস্তুতি নেন। কোনো ফৌজদারি মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়নি।
বিদ্যমান বিধিতে নির্যাতন থেকে সুরক্ষার বাধ্যবাধকতা
বয়স্ক ব্যক্তিবিষয়ক বিভাগের ওয়েবসাইটে রাখা স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা বিভাগের সেবাকেন্দ্রবিষয়ক নথি-তে লাইসেন্সসংক্রান্ত তথ্য, ২০১৬ সালের আইন এবং ২০২০ সালের মন্ত্রণালয়ের বিধিমালা একত্র করা হয়েছে। এতে নিয়ন্ত্রিত ব্যবসার পরিধি বিস্তৃতভাবে সংজ্ঞায়িত: স্বাস্থ্য সমস্যায় থাকা বয়স্ক বা নির্ভরশীল ব্যক্তিদের দিনের কার্যক্রম, দৈনন্দিন কাজে সহায়তা, আবাসন, পুনর্বাসন ও সহায়ক সেবা এর আওতায় পড়ে।
চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান-সংক্রান্ত আইনের আওতায় পরিচালিত চিকিৎসাকেন্দ্রের ভেতরে দেওয়া সেবা এ সংজ্ঞার বাইরে। এ পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সেবাকেন্দ্র পরিচালনার অনুমতি থাকলেই মনোরোগ চিকিৎসাকেন্দ্র চালানোর অনুমতি পাওয়া যায় না।
২০২০ সালের সেবার মানদণ্ড অনুযায়ী, কাউকে ভর্তি করার সময় তাঁর পরিচর্যার প্রয়োজন ও যোগাযোগের সক্ষমতা মূল্যায়ন করতে হবে। এরপর প্রতি তিন মাসে পুনর্মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানবিক মর্যাদার প্রতি সম্মান নিশ্চিত করতে এবং শারীরিক, মানসিক, আর্থিক ও অন্যান্য নির্যাতন—যৌন নির্যাতনসহ—প্রতিরোধে ব্যবস্থাও রাখতে হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বয়স্ক ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষা বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি আবাসন বা রাতের কার্যক্রম রয়েছে—এমন কেন্দ্রে রাতেও সেবাগ্রহীতাদের পর্যবেক্ষণের জন্য উপযুক্ত, কার্যকর ও পর্যাপ্ত কর্মী থাকতে হবে। জরুরি অবস্থায় অন্যত্র পাঠানোর ব্যবস্থাও আবশ্যক।
রাতযাপন ও সহায়ক চিকিৎসাসেবার নির্দিষ্ট শ্রেণির ক্ষেত্রে, চিকিৎসকের পরিকল্পনা অনুযায়ী বিভিন্ন পেশার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। এ ছাড়া প্রতি সেবাদানকারীর বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচজন সেবাগ্রহীতা রাখার শর্ত রয়েছে। এই অনুপাত ওই নির্দিষ্ট শ্রেণির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের জন্য এটি সর্বজনীন নিয়ম নয়।
এসব বিধির পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা, প্রবেশ ও বের হওয়ার উপযোগী পথ, অ্যালার্ম, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম, প্রাথমিক চিকিৎসার উপকরণ এবং সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার ব্যবস্থাও পরিদর্শকদের যাচাই করতে হবে। ভবনে প্রাথমিক সরঞ্জাম থাকলেও সেবাগ্রহীতাদের যথাযথ মূল্যায়ন, সুরক্ষা বা যোগ্য কর্মীদের পরিচর্যা নিশ্চিত না হলে সেবার মানদণ্ড পূরণ হয় না।
লাইসেন্সধারী হোমেও মনোরোগ সেবার সীমা রয়েছে
কাঞ্চনাবুরির প্রাথমিক পরিদর্শনে কর্মকর্তারা বলেন, বয়স্ক বা নির্ভরশীলদের সেবাকেন্দ্রে অনুমোদিত সবুজ শ্রেণিতে থাকা মনোরোগীদের পরিচর্যা করা যেতে পারে। কর্মকর্তাদের ব্যাখ্যায়, এ পর্যায়ে তীব্র উত্তেজনা, গুরুতর অস্থিরতা বা অন্যকে আঘাত করার ঝুঁকি থাকে না। এ সীমার বাইরে থাকা রোগীদের যথাযথ লাইসেন্সধারী চিকিৎসা বা মনোরোগ প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করতে হবে।
অর্থাৎ, মনোরোগের রোগনির্ণয় রয়েছে—এ কারণে প্রত্যেক সেবাগ্রহীতার উপস্থিতিই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষিদ্ধ, এমন নয়। আইনি প্রশ্ন নির্ভর করে ব্যক্তির অবস্থা, দেওয়া সেবার ধরন এবং সেই সেবার জন্য চিকিৎসাসংক্রান্ত অনুমোদন ও বিশেষজ্ঞ কর্মী প্রয়োজন কি না, তার ওপর।
মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালক ডা. কিত্তিসাক আকসর্নওং বলেন, আচরণ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন রয়েছে—এমন কিছু আক্রমণাত্মক বা তীব্রভাবে উত্তেজিত রোগীর জন্য মজবুত দরজা ও নিরাপদ অভ্যন্তরসহ বিশেষ আইসোলেশন কক্ষ প্রয়োজন। তিনি বলেন, খাঁচায় বিছানা ঘিরে রাখা বা অস্বাভাবিক উপসর্গ নেই—এমন মনোরোগীদের খাঁচায় রাখা প্রচলিত চিকিৎসাপদ্ধতি নয় এবং তা করা যাবে না।
স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা বিভাগের উপমহাপরিচালক আখম প্রাদিতসুয়ানও বলেন, নার্সিং হোম বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র নয়। সেখানে আবাসিক মনোরোগ চিকিৎসক ও নার্স না থাকলে গুরুতর উপসর্গ বা বিশেষ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন রয়েছে—এমন মনোরোগীদের ভর্তি করা উচিত নয়।
কাঞ্চনাবুরি থেকে স্থানান্তরের আগে মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগ প্রত্যেকের অবস্থা আলাদাভাবে মূল্যায়নের পরিকল্পনা করে। ননথাবুরিতে পরিচালকদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। যাঁদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি, তাঁদের উপযুক্ত সেবার ব্যবস্থা করতে মানসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় এবং প্রাদেশিক স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়ার কথা ছিল। স্থানান্তরিত মানুষের চূড়ান্ত সংখ্যা জানানো হয়নি।
অপরাধভেদে শাস্তি ভিন্ন
সরকার ২০১৬ সালের স্বাস্থ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আইনে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ৫০ হাজার বাত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের কথা জানিয়েছে। সরকারি নথিতে ধারা ১২ লঙ্ঘনের জন্য ধারা ৪২-এ এ শাস্তির উল্লেখ আছে। তাই সেবার মানদণ্ডের প্রতিটি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে একই শাস্তি প্রযোজ্য—এমন ধরে নেওয়া উচিত নয়।
লাইসেন্সবিহীন চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে মনোরোগ চিকিৎসা দিলে ১৯৯৮ সালের চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান-সংক্রান্ত আইনে আলাদা শাস্তি হতে পারে: সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, ১ লাখ বাত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড। ইংরেজি প্রতিবেদনে আইনটিকে ‘মেডিকেল ফ্যাসিলিটিজ অ্যাক্ট’ বা ‘স্যানাটোরিয়াম অ্যাক্ট’ বলা হয়েছে; থাই ভাষার প্রতিবেদনে একই ১৯৯৮ সালের আইনকে শনাক্ত করা হয়েছে।
এগুলো সর্বোচ্চ শাস্তি; ইতিমধ্যে আরোপ করা দণ্ড নয়। লাইসেন্স বাতিল, সংশোধনের নির্দেশ ও সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ করা নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা। নির্যাতন বা বেআইনি আটকে রাখার অভিযোগের জন্য পৃথক তদন্ত এবং ফৌজদারি মামলা করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।
নিবন্ধনের মোট সংখ্যা ও তদারকি বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রয়োজন
সরকার বর্তমানে ১,২০৩টি নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানকে পরিদর্শনের লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছে; এর আগে সংখ্যাটি প্রায় ১,২০০ বলে জানানো হয়েছিল। পরিকল্পিত পরিদর্শনের পরিধি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পুওয়াদেত বলেন:
ডিএইচএসএস দেশজুড়ে নিবন্ধিত ১,২০০টি বয়স্ক সেবাকেন্দ্রের মান পরিদর্শন করবে এবং আগামী দুই মাসের মধ্যে যাচাই শেষ করবে,
সরকারি লাইসেন্সসংক্রান্ত নথিতে ভিন্ন একটি মোট সংখ্যা—৯২৭—দেওয়া হয়েছে; শ্রেণিভিত্তিক সংখ্যা পাঁচ, ১৭ ও ৯০৫। একই নথির আরেকটি সারিতে চার, ১৬ ও ৮৮৮ উল্লেখ রয়েছে, যেগুলোর যোগফল ৯০৮। নথিতে এই অভ্যন্তরীণ অসংগতির সমাধান নেই; অক্টোবরের ১,২০৩টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করার মতো নির্দিষ্ট তারিখও দেওয়া হয়নি।
৯২৭ ও ১,২০৩-এর পার্থক্য ২৭৬টি প্রতিষ্ঠান। তবে তারিখ ও সংজ্ঞার মিল না থাকায় একে পরিমাপ করা প্রবৃদ্ধি বলা যায় না। নথিতে প্রদেশভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের তালিকাও রয়েছে; এতে প্রতিষ্ঠানের শ্রেণি, ফোন নম্বর ও অনুমোদনের তারিখ দেওয়া আছে, যা দিয়ে পরিচালকের লাইসেন্সসংক্রান্ত নথিভুক্ত তথ্য যাচাই করা সম্ভব।
সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক নিরাপত্তামন্ত্রী নিকর্ন সোমক্লাং ৬ অক্টোবর কাঞ্চনাবুরি সফরে সহকারী মন্ত্রী চানোক চান্থাথং ও কল্যাণ সংস্থাগুলোকে দায়িত্ব দেন। সরকারি ও বেসরকারি—উভয় ধরনের সেবাকেন্দ্রের তদারকি পর্যালোচনার জন্য মন্ত্রণালয় বিষয়টি বয়স্ক ব্যক্তিবিষয়ক জাতীয় কমিটির সামনে তোলার পরিকল্পনা করে।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজরদারি ও তথ্য বিনিময়ে সহায়তার জন্য নিরুন সেবা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আরও উন্নত করার প্রস্তাবও মন্ত্রণালয় দেয়। কমিটির বৈঠকের তারিখ বা বাস্তবায়নের সময়সীমা জানানো হয়নি। সেবাগ্রহীতার চূড়ান্ত সংখ্যা, স্থানান্তর সম্পন্ন হয়েছে কি না, ফৌজদারি অভিযোগ আনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত এবং জাতীয় পরিদর্শনের ফল—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো বাকি।
লাইসেন্সবিহীন বা নিম্নমানের সেবাকেন্দ্রের বিষয়ে স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা বিভাগ বা নিজ প্রদেশের জনস্বাস্থ্য দপ্তরে অভিযোগ করা যায়। অধিকার লঙ্ঘন, অবহেলা, সহিংসতা বা অনুপযুক্ত সেবা নিয়ে উদ্বেগ থাকলে সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের বিনা মূল্যের ১৩০০ হটলাইনে যেকোনো সময়, ২৪ ঘণ্টা অভিযোগ জানানো যায়।
মূল বিষয়গুলো
- নিবন্ধিত বয়স্ক ও নির্ভরশীলদের সেবাদানকারী ১,২০৩টি কেন্দ্র দুই মাসের মধ্যে পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে থাইল্যান্ড।
- কাঞ্চনাবুরির পরিদর্শকেরা ঘোষিত ৫০টির বিপরীতে ১২৯টি শয্যা পান; এরপর ৭ অক্টোবর, ২০২৬ লাইসেন্স বাতিল করা হয়।
- ননথাবুরির তদন্তে লাইসেন্সধারী স্থাপনায় অনুমোদনের অতিরিক্ত শয্যা এবং আরও দুটি লাইসেন্সবিহীন সেবাকেন্দ্রের সন্ধান মেলে।
- ২০২০ সালের বিধিতে প্রতি তিন মাসে মূল্যায়ন, নির্যাতন থেকে সুরক্ষা, রাতে উপযুক্ত কর্মী এবং জরুরি অবস্থায় অন্যত্র পাঠানোর ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক।
- মনোরোগ সেবা অনুমোদিত সীমার মধ্যে রাখতে হবে; গুরুতর রোগীদের যথাযথ লাইসেন্সধারী চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে নিতে হবে।
- প্রতিবেদনগুলোতে সেবাগ্রহীতার সংখ্যা ভিন্ন; আটকে রাখা ও নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশের তদন্ত লাইসেন্সসংক্রান্ত ব্যবস্থার থেকে পৃথক।
- অধিকার ও কল্যাণসংক্রান্ত উদ্বেগ যেকোনো সময় বিনা মূল্যের ১৩০০ হটলাইনে জানানো যায়।






