মৃত্যুঝুঁকির এই উত্তরাধিকার শিশুদের ওপরই সবচেয়ে বেশি আঘাত হানে
জাতিসংঘের আফগানিস্তান সহায়তা মিশন (UNAMA) বলছে, আফগানিস্তানে বিস্ফোরক ঝুঁকিতে হতাহতদের প্রায় ৮০ শতাংশই শিশু। অবিস্ফোরিত গোলাবারুদের কারণে হতাহতের সংখ্যায় দেশটি বিশ্বে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। চার দশকের বেশি সময়ের সংঘাতে রেখে যাওয়া স্থলমাইন ও গোলাবারুদে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা দূষিত হয়ে থাকায় এই হুমকি এখনো বিদ্যমান বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
সূচিপত্র
- মৃত্যুঝুঁকির এই উত্তরাধিকার শিশুদের ওপরই সবচেয়ে বেশি আঘাত হানে
- তৃতীয় স্থানের অবস্থান কী প্রমাণ করে, আর কী করে না
- শিশুদের হতাহতের দুটি হিসাব, দুটিরই সীমাবদ্ধতা রয়েছে
- লড়াই কমলেও বিপদ কেন কাটেনি
- অপসারণ, সচেতনতা ও বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের সেবায় অর্থায়ন প্রয়োজন
- UNAMA-র তাৎক্ষণিক পরামর্শ: সন্দেহজনক বস্তু স্পর্শ করবেন না
- প্রতিবেদনের সময়রেখা এবং যে তথ্যগুলো এখনো অজানা
- মূল বিষয়গুলো
হতাহতদের মধ্যে শিশুদের এই অংশের অর্থ, এসব ঝুঁকিতে নিহত বা আহত প্রতি পাঁচজনের প্রায় চারজনই শিশু। UNAMA জানিয়েছে, খেলার সময় অনেক শিশু অবিস্ফোরিত গোলাবারুদের মুখোমুখি হয়, ফলে শৈশবের স্বাভাবিক একটি কাজ প্রাণঘাতী ঘটনায় পরিণত হতে পারে। বিস্ফোরক অবশিষ্টাংশ অপসারণকারী সংস্থাগুলোকে সহায়তা দিতে জনসচেতনতা, কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা এবং আর্থিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তরের (OCHA) নামে উদ্ধৃত পৃথক এক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত অবিস্ফোরিত গোলাবারুদে হতাহতদের ৭৮ শতাংশ শিশু। এ সংখ্যা UNAMA-র হিসাবের কাছাকাছি হলেও, দুটিকে একই পরিমাপ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না: UNAMA-র প্রায় ৮০ শতাংশের হিসাবের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি, অন্যদিকে OCHA-র হিসাবটি নির্দিষ্ট আট মাসের।
দুটি সতর্কবার্তাই বিপদের ব্যাপকতা স্পষ্ট করে। তবে বৈশ্বিক তালিকায় আফগানিস্তানের অবস্থান কতটা নির্ভুল, তা কম নিশ্চিত। UNAMA-র বক্তব্যের সঙ্গে কোনো অন্তর্নিহিত উপাত্ত, তুলনার সময়কাল বা হতাহতের সমর্থনকারী মোট সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। আর তালিকাটি মোট হতাহতের সংখ্যা, নাকি শুধু মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে, তা নিয়েও প্রতিবেদনগুলোর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
তৃতীয় স্থানের অবস্থান কী প্রমাণ করে, আর কী করে না
বেশির ভাগ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ বা যুদ্ধের বিস্ফোরক অবশিষ্টাংশে হতাহতের সংখ্যায় আফগানিস্তান বিশ্বে তৃতীয়। একটিতে অবস্থানটিকে মৃত্যুর সংখ্যার বিচারে তৃতীয় বলা হয়েছে। এ দুটি ভিন্ন পরিমাপ: হতাহতের হিসাবে সাধারণত নিহত ও আহত উভয়ই অন্তর্ভুক্ত, আর মৃত্যুর হিসাবে শুধু নিহতদের গণনা করা হয়।
৪ এপ্রিল ২০২৬, নিউইয়র্কে দুপুরের ব্রিফিংয়ে UNAMA-র মাইন অ্যাকশন বিভাগের প্রধান নিক পন্ডের দেওয়া জাতিসংঘের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিস্ফোরক অস্ত্রে হতাহতের হারে আফগানিস্তান বিশ্বে তৃতীয় সর্বোচ্চ। এতে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ জন নিহত বা আহত হন এবং প্রতিদিন অন্তত একজন হতাহত হন বলে জানানো হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, হতাহতের ৯০ শতাংশের কারণ অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ ও পরিত্যক্ত অস্ত্র। তবে এই অবস্থান নির্ধারণে ব্যবহৃত উপাত্ত, প্রতিবেদনকাল বা দেশভিত্তিক হতাহতের মোট সংখ্যা চিহ্নিত করা হয়নি।
পরিবার ও স্বাস্থ্যসেবার ওপর বোঝা মূল্যায়নে এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। শুধু মৃত্যুর ভিত্তিতে করা তালিকায় আহত হয়ে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত হবেন না। অন্তর্নিহিত পরিসংখ্যান ও প্রতিবেদনকাল না থাকায়, মাসিক হার থেকে তুলনার সময়কালে আফগানিস্তানে মোট হতাহতের সংখ্যা কিংবা তালিকার অন্য দেশগুলোর সঙ্গে ব্যবধান নির্ণয় করা যায় না।
তবু UNAMA-র সতর্কবার্তায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট দাবি রয়েছে: হতাহতদের প্রায় ৮০ শতাংশ শিশু। বয়স, লিঙ্গ, প্রদেশ বা বিস্ফোরক অস্ত্রের ধরন অনুযায়ী এ অংশের কোনো বিভাজন বিবৃতিতে নেই। আগের কোনো সময়ের তুলনায় এই হার বেড়েছে না কমেছে, তাও এতে প্রতিষ্ঠিত হয় না।
তাই এ থেকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়, তা পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যানগত মূল্যায়নের চেয়ে সীমিত। UNAMA আফগানিস্তানকে সর্বাধিক হতাহতের বোঝা রয়েছে এমন দেশগুলোর মধ্যে রেখেছে এবং বলেছে, ভুক্তভোগীদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠই শিশু। তবে আন্তর্জাতিক তুলনাটি কীভাবে করা হয়েছে, প্রকাশিত সতর্কবার্তায় তা ব্যাখ্যা করা হয়নি।
শিশুদের হতাহতের দুটি হিসাব, দুটিরই সীমাবদ্ধতা রয়েছে
OCHA-র নামে উদ্ধৃত ৭৮ শতাংশের হিসাবটি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়ের। ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের OCHA-র একটি বিবৃতি থেকে এ তথ্য উদ্ধৃত করা হয়েছে। এতে অবিস্ফোরিত গোলাবারুদে হতাহতের কথা বলা হয়েছে, বিস্ফোরক ঝুঁকির সব ধরনের শিকারকে নয়। হতাহতের সংখ্যা কীভাবে গণনা করা হয়েছে, নিহত ও আহতদের কীভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে—এসব সংজ্ঞা দেওয়া OCHA-র মূল বিবৃতি বা উপাত্ত সরবরাহ করা প্রতিবেদনে পুনরুৎপাদন করা হয়নি। সংস্থাটি মাইন ও অবিস্ফোরিত অস্ত্রকে বেসামরিক মানুষের, বিশেষ করে দূষিত এলাকায় খেলতে থাকা বা চলাচল করা শিশুদের জন্য প্রতিদিনের বিপদ বলে বর্ণনা করেছে। সামরিক তৎপরতা কমে যাওয়ার পরও থেকে যাওয়া বিস্ফোরক উপকরণের সঙ্গে চলমান হতাহতের যোগসূত্র টেনেছে সতর্কবার্তাটি।
৭৮ শতাংশ ও প্রায় ৮০ শতাংশের পার্থক্য দুই শতাংশ পয়েন্ট। এই সামান্য ব্যবধান সময়ের সঙ্গে পরিবর্তনের প্রমাণ নয়। শিশুদের হতাহতের অংশ বাড়ছে না কমছে, তা নির্ধারণে এই সংখ্যাগুলো ব্যবহার করার আগে প্রতিবেদনকাল ও গণনার শ্রেণিগুলো একই হতে হবে।
সেভ দ্য চিলড্রেন পৃথকভাবে জানিয়েছে, আগের একটি পর্যবেক্ষণকালে মাইন ও অবিস্ফোরিত গোলাবারুদে অন্তত ৩৩৮ শিশু নিহত বা আহত হয়েছে। প্রতিবেদনে ওই সময়কালের তারিখ উল্লেখ নেই। তাই এ সংখ্যাকে নির্ভরযোগ্য মাসিক গড়ে রূপান্তর করা যায় না, বা OCHA-র সতর্কবার্তায় অন্তর্ভুক্ত আট মাসের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা যায় না।
এ সংখ্যায় নিহত ও আহতদের একসঙ্গে গণনা করা হয়েছে; এটি শুধু মৃত্যুর সংখ্যা নয়। সব হিসাব একসঙ্গে বিবেচনা করলে শিশুদের ওপর বড় ধরনের বোঝা দেখা যায়, তবে জাতীয় প্রবণতা বা চলতি বছরের মোট সংখ্যা নির্ণয়ের মতো তথ্য এতে নেই।
লড়াই কমলেও বিপদ কেন কাটেনি
স্থলমাইন ও অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ একই ধরনের নয়, তবে দুটিই ঝুঁকির কারণ। স্থলমাইন এমনভাবে তৈরি করা হয়, যাতে কোনো কিছুর সংস্পর্শে বা উপস্থিতিতে, প্রায়ই মানুষের সংস্পর্শে, বিস্ফোরিত হয়। অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ হলো ব্যবহারের সময় বিস্ফোরিত না হওয়া অস্ত্র, যা পরে আরও বিপজ্জনক হয়ে থাকতে পারে। সংঘাতের পর পড়ে থাকা বিস্ফোরক উপকরণের জন্য ‘যুদ্ধের বিস্ফোরক অবশিষ্টাংশ’ একটি বিস্তৃত পরিভাষা।
সতর্কবার্তাগুলোতে আবাসিক এলাকা, কৃষিজমি ও জনসাধারণের ব্যবহার করা অন্যান্য স্থানে বিস্ফোরক দূষণের কথা বলা হয়েছে। ফলে বিপদটি শুধু যেখানে এখনো লড়াই চলছে, সেখানেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের মধ্যেও রয়েছে। এসব এলাকায় খেলার সময় বা যাতায়াতের পথে শিশুরা বিপজ্জনক বস্তুর মুখোমুখি হতে পারে।
সামরিক অভিযান কমে গেলেও মাটিতে পড়ে থাকা গোলাবারুদ নিরাপদ হয়ে যায় না। এ কারণেই সক্রিয় লড়াই শেষ হওয়া এলাকাতেও বিস্ফোরক অপসারণ জরুরি: হুমকিটি শুধু বর্তমান সংঘাতের সঙ্গে নয়, বিস্ফোরক অস্ত্রের অব্যাহত উপস্থিতির সঙ্গে জড়িত।
চার দশকের বেশি সময়ের সংঘাতের কারণে দূষণ ছড়িয়েছে বলে UNAMA জানিয়েছে। বর্তমানে কত জমি ক্ষতিগ্রস্ত, সবচেয়ে বেশি দূষিত প্রদেশগুলোর তালিকা বা এলাকাগুলোকে নিরাপদ করার সময়সূচি—এসবের কোনো হিসাব তাদের বার্তায় নেই। সতর্কবার্তাটি চলমান বিপদের কথা জানায়, তবে অপসারণের পূর্ণ কাজের পরিমাণ মাপে না।
অপসারণ, সচেতনতা ও বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের সেবায় অর্থায়ন প্রয়োজন
স্থলমাইন ও অন্যান্য বিস্ফোরক অবশিষ্টাংশ অপসারণকারী সংস্থাগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে UNAMA। এসব দল প্রতিদিন অপসারণকাজ করে এবং আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকার ঝুঁকি সম্পর্কে মানুষকে জানাতে প্রচারাভিযানও চালায়।
অপসারণ ও জনসচেতনতা সমস্যার ভিন্ন দুটি দিক মোকাবিলা করে। একটি বিস্ফোরক বস্তু সরালে সেই নির্দিষ্ট ঝুঁকিটি দূর হয়। দূষিত এলাকা পরিষ্কারের অপেক্ষায় থাকাকালে সন্দেহজনক বস্তু এড়িয়ে চলতে মানুষকে শেখানো ঝুঁকির মুখে পড়া কমাতে পারে। আরও হতাহত ঠেকাতে দুটি কাজই জরুরি বলে UNAMA-র সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে।
মাইন অপসারণ ও নিরাপত্তাবিষয়ক শিক্ষায় বড় ধরনের অর্থায়ন ঘাটতির কথাও OCHA সতর্ক করেছে। কত অর্থ প্রয়োজন, এরই মধ্যে কত অর্থ পাওয়া গেছে বা অর্থের অভাবে কতগুলো অপসারণ কার্যক্রম পিছিয়ে গেছে—প্রতিবেদনে তা বলা হয়নি। তাই অর্থায়ন অপর্যাপ্ত, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়; তবে ঘাটতির পরিমাণ নির্ণয় করা যায় না।
জাতিসংঘের আহ্বানে ভুক্তভোগীদের সহায়তা ও পুনর্বাসন সেবাও রয়েছে। পরবর্তী বিস্ফোরণ ঠেকানো থেকে এই প্রয়োজন আলাদা: তাৎক্ষণিক জরুরি পরিস্থিতির পরও বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও ধারাবাহিক সেবার প্রয়োজন হতে পারে। পুনর্বাসনের আহ্বান স্বীকার করে যে প্রাণহানির পাশাপাশি আহত হওয়াও মানবিক ক্ষতির অংশ। তবে সেবার সক্ষমতা বা অপূর্ণ চিকিৎসার চাহিদা নিয়ে কোনো সংখ্যা দেওয়া হয়নি।
UNAMA-র তাৎক্ষণিক পরামর্শ: সন্দেহজনক বস্তু স্পর্শ করবেন না
অপরিচিত বা সন্দেহজনক বস্তু এড়িয়ে চলতে এবং দ্রুত জানাতে মানুষকে পরামর্শ দিয়েছে UNAMA। মিশনের জনসাধারণের উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় দুটি ফোন নম্বর—স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য একটি এবং আওয়াজ কেন্দ্রে যোগাযোগের জন্য একটি—উল্লেখ করা হয়েছে:
“অপরিচিত বা সন্দেহজনক কোনো বস্তু দেখলে কখনোই সেটি স্পর্শ করবেন না। 0708606060 নম্বরে ফোন করে অবিলম্বে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে জানান, অথবা 410 নম্বরে আওয়াজ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন,” বিবৃতিতে বলা হয়েছে।
নির্দেশনাটি স্পষ্ট: বস্তুটি ধরবেন না, দূরে থাকুন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান। এতে জনসাধারণকে গোলাবারুদ শনাক্ত করতে, সরাতে বা নিরাপদ করার চেষ্টা করতে বলা হয়নি। সতর্কবার্তাটি সংস্পর্শ এড়ানো ও অবস্থান জানানোর ওপর জোর দেয়।
UNAMA যে পরিস্থিতির কথা বলেছে, যেখানে খেলার সময় বিস্ফোরক উপকরণের মুখোমুখি হয়ে শিশুরা আহত বা নিহত হয়, সেখানে জনসচেতনতা বিশেষভাবে জরুরি। কোনো অপরিচিত বস্তু বিপজ্জনক হতে পারে, এ ধারণা মানুষকে দিতে পারে তথ্য। আর বিস্ফোরক দূষণ মোকাবিলা করবে অপসারণকারী দলগুলো।
সম্প্রদায় ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে সহযোগিতারও আহ্বান জানিয়েছে UNAMA। সন্দেহজনক ঝুঁকির কথা জানানো সেই প্রচেষ্টার একটি অংশ, তবে জানানো মানেই কোনো এলাকা পরিষ্কার হয়েছে, এমন নয়। বিস্ফোরক অস্ত্র শনাক্ত ও অপসারণে প্রশিক্ষিত সংস্থাগুলো প্রয়োজন—আর্থিক সহায়তার আহ্বানটি তাদের কাজের জন্যই।
প্রতিবেদনের সময়রেখা এবং যে তথ্যগুলো এখনো অজানা
সতর্কবার্তাগুলো ভিন্ন ভিন্ন সময়কাল নিয়ে, তাই সেগুলো সেই ক্রমানুসারেই দেখা উচিত। UNAMA-র বার্তা নিয়ে তারিখসহ প্রতিবেদনে প্রকাশের সময় ১১ অক্টোবর ২০২৬ বলা হয়েছে। অন্যদিকে, ৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের সরকারি বিবৃতিতেও তৃতীয় স্থানের অবস্থান এবং শিশুদের প্রায় ৮০ শতাংশ হতাহত হওয়ার কথা রয়েছে। OCHA-র নামে উদ্ধৃত শিশুদের হতাহতের পৃথক হিসাবটি ওই বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়ের; এটি ৭ অক্টোবরের বিবৃতিতে জানানো হয়।
- আগের একটি পর্যবেক্ষণকাল, তারিখ উল্লেখ নেই: মাইন ও অবিস্ফোরিত গোলাবারুদে অন্তত ৩৩৮ শিশু নিহত বা আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে সেভ দ্য চিলড্রেন।
- ৪ এপ্রিল ২০২৬: নিক পন্ডের দেওয়া জাতিসংঘের বিবৃতিতে বিস্ফোরক অস্ত্রে হতাহতের হারে আফগানিস্তানকে বিশ্বে তৃতীয় বলা হয়; এতে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ জন নিহত বা আহত হওয়া এবং হতাহতদের প্রায় ৮০ শতাংশ শিশু হওয়ার কথা রয়েছে।
- জানুয়ারি থেকে আগস্ট ২০২৬: OCHA-র নামে ৭ অক্টোবর উদ্ধৃত সতর্কবার্তা অনুযায়ী, অবিস্ফোরিত গোলাবারুদে হতাহতদের ৭৮ শতাংশ শিশু।
- ১১ অক্টোবর ২০২৬: তারিখসহ একটি প্রতিবেদনে UNAMA-র সতর্কবার্তা প্রকাশিত হয়; তাতে আফগানিস্তানকে বিশ্বে তৃতীয় এবং হতাহতদের প্রায় ৮০ শতাংশ শিশু বলা হয়েছে।
এই ধারাবাহিকতা প্রতিবেদনের সময়রেখা, হতাহতের সংখ্যা বাড়া বা কমার প্রমাণ নয়। আগের পর্যবেক্ষণকালটি নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা যায় না, আর UNAMA-র হিসাবের জন্য নির্দিষ্ট সময়কাল উল্লেখ নেই। কোনো সতর্কবার্তাতেই নতুন পরিসংখ্যান প্রকাশের তারিখ দেওয়া হয়নি।
আরও যে তথ্যগুলো অমীমাংসিত, তার মধ্যে রয়েছে বৈশ্বিক অবস্থানের পেছনের উপাত্ত ও তুলনার সময়কাল, ওই সময়ে নিহত ও আহত মানুষের মোট সংখ্যা, অর্থায়নের ঘাটতির পরিমাণ এবং এখনো কত জমি পরিষ্কার করা দরকার। UNAMA-র মাসে প্রায় ৫০ জন হতাহতের হিসাবটি একটি হার, নির্দিষ্ট সময়কালের মোট সংখ্যা নয়। নতুন কোনো অর্থায়নের অঙ্গীকার, অপসারণকাজ শেষের সময়সীমা বা নির্ধারিত সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করা হয়নি। জাতিসংঘের ঘোষিত তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকারগুলো হলো অপসারণকাজে অর্থায়ন, নিরাপত্তাবিষয়ক শিক্ষা এবং ভুক্তভোগীদের সহায়তা।
মূল বিষয়গুলো
- UNAMA বলছে, আফগানিস্তানে বিস্ফোরক ঝুঁকিতে হতাহতদের প্রায় ৮০ শতাংশ শিশু।
- ৪ এপ্রিল ২০২৬-এর জাতিসংঘের বিবৃতিতে বিস্ফোরক অস্ত্রে হতাহতের হারে আফগানিস্তানকে বিশ্বে তৃতীয় বলা হয়েছে। এতে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ জন নিহত বা আহত হওয়ার কথা রয়েছে, তবে এই অবস্থানের পক্ষে কোনো উপাত্ত, তুলনার সময়কাল বা হতাহতের মোট সংখ্যা দেওয়া হয়নি।
- OCHA-র নামে ৭ অক্টোবর উদ্ধৃত পৃথক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত অবিস্ফোরিত গোলাবারুদে হতাহতদের ৭৮ শতাংশ শিশু। সরবরাহ করা সূত্রগুলোতে মূল বিবৃতি ও হতাহতের সংখ্যা গণনার সংজ্ঞা ছিল না।
- সেভ দ্য চিলড্রেনের হিসাবে, আগের একটি অনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণকালে অন্তত ৩৩৮ শিশু নিহত বা আহত হয়েছে।
- বিস্ফোরক অপসারণ, জনসাধারণের নিরাপত্তাবিষয়ক শিক্ষা, ভুক্তভোগীদের সহায়তা ও পুনর্বাসনের জন্য সহায়তা চাইছে জাতিসংঘ।
- সন্দেহজনক বস্তু স্পর্শ না করে 0708606060 নম্বরে অথবা 410 নম্বরে আওয়াজ কেন্দ্রে যোগাযোগ করে তা জানানোর পরামর্শ দিয়েছে UNAMA।






