বছরের পর বছর সীমিত ব্যয়ের পর পুনরুদ্ধারের অর্থ ফেরতের নির্দেশ
২০০৭ সালের তায়ান তেল ছড়ানোর ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী দুটি সংগঠনকে কোরিয়া কমিউনিটি চেস্টে প্রায় ২৮৫.২ বিলিয়ন ওন ফেরত দিতে নির্দেশ দিয়েছে সিউলের একটি আদালত। আদালত বলেছে, তাদের আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পগুলো থমকে ছিল, আর ব্যয় করা অর্থের বেশির ভাগই গেছে বেতন ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ে।
সূচিপত্র
- বছরের পর বছর সীমিত ব্যয়ের পর পুনরুদ্ধারের অর্থ ফেরতের নির্দেশ
- ফেরতের অঙ্কে কেন পার্থক্য
- ২০০৭ সালের তেল ছড়ানো থেকে ২০১৮ সালের অর্থ বরাদ্দ
- ভিন্ন উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সেবায় দুটি সংগঠন
- ব্যয়ের পরিসংখ্যানে যা দেখা যায়
- মামলার আগেই নিরীক্ষায় অনিয়ম ধরা পড়ে
- প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতায় আদালতের নজর
- মধ্যস্থতার চেষ্টা ব্যর্থ, আপিলের পথে সমবায়
- নতুন ব্যবস্থাপনা কাঠামোর দাবি বাসিন্দাদের
- মূল বিষয়গুলো
প্রধান বিচারক নাম ইন-সুর নেতৃত্বে সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের সিভিল ডিভিশন ৩১-এর ২০২৬ সালের ১ অক্টোবরের রায়ে ওয়েস্ট কোস্ট অ্যাসোসিয়েশন ফাউন্ডেশন এবং হেবেই সোশ্যাল কো-অপারেটিভের বিরুদ্ধে দাতব্য সংস্থাটির করা মামলায় আংশিক রায় দেওয়া হয়। সমবায়টি আপিল করার ইচ্ছা জানিয়েছে।
রায়ের বিস্তারিত বিবরণ অনুযায়ী, সমবায়টিকে ১৮৫,০৭৪,৪৪৮,৭১৫ ওন এবং বিলম্বে পরিশোধের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ফাউন্ডেশনকে ১,৫৫২,২৫০,৫২৯ ওন ও বিলম্বে পরিশোধের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এ ছাড়া সমুদ্র ও মৎস্যমন্ত্রী অনুমোদন দিলে আরও ৯৮.৬ বিলিয়ন ওন ফেরত দিতে হবে। মূল অর্থের এই অঙ্কগুলো মিলিয়ে মোট ২৮৫,২২৬,৬৯৯,২৪৪ ওন হয়।
আদালতের মূল পর্যবেক্ষণ ছিল না যে পুরো তহবিল উধাও হয়ে গেছে। বরং আদালতের সিদ্ধান্ত, যে জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল, সংগঠনগুলো তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হচ্ছিল। ২০২১ সালের শেষ নাগাদ ফাউন্ডেশন তার বরাদ্দের মাত্র ৪.৪ শতাংশ এবং সমবায়টি প্রায় ৭.৮ শতাংশ ব্যয় করেছিল। এই ব্যয়ের বেশির ভাগই সংগঠনগুলোর নিজেদের পেছনে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের জন্য এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ: ব্যাংক হিসাবে বিপুল অর্থ অবশিষ্ট থাকলেই কোনো সংগঠন প্রতিশ্রুত সহায়তা দিতে পারবে, তা প্রমাণ হয় না। তহবিলের ব্যবস্থাপনা ও প্রকল্প পরিকল্পনা নির্ধারিত উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারবে কি না, রায়ে সে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। তবে সব অর্থ ফেরত পাওয়ার আগে আরও আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ বাকি রয়েছে।
ফেরতের অঙ্কে কেন পার্থক্য
বিভিন্ন প্রতিবেদনে ফেরতের মোট অঙ্ক প্রায় ২৮০ বিলিয়ন ওন, ২৮৫ বিলিয়ন ওন বা ২৮৩.৬৭৪ বিলিয়ন ওন বলা হয়েছে। অর্থ পরিশোধের বিস্তারিত শর্তে এই পার্থক্যের একটি কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ২৮৩.৬৭৪ বিলিয়ন ওনের অঙ্কটি সমবায়ের প্রায় ১৮৫.০৭৪ বিলিয়ন ওন ফেরতের সঙ্গে ফাউন্ডেশনের ৯৮.৬ বিলিয়ন ওনের মূল সম্পদ যোগ করে হিসাব করা হয়েছে, কিন্তু ফাউন্ডেশনের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ১.৫৫২ বিলিয়ন ওন পরিশোধের অঙ্কটি এতে অন্তর্ভুক্ত নয়।
মূল সম্পদ হলো ফাউন্ডেশনের স্থায়ী আর্থিক ভিত্তির অংশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষিত সম্পদ। এ ক্ষেত্রে আদালত বলেছে, তদারককারী মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া ফাউন্ডেশন ওই অংশ বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারবে না।
তাই ফাউন্ডেশনকে ৯৮.৬ বিলিয়ন ওনের মূল সম্পদ হস্তান্তরের অনুমতি এবং অর্থটিকে মূল সম্পদ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ না রাখার জন্য গঠনতন্ত্র সংশোধনের অনুমোদন চেয়ে আবেদন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই অংশের অর্থ পরিশোধ এসব অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল। এই শর্তের কারণেই তহবিল পুনরুদ্ধারের পক্ষে আদালত মূল যুক্তিগুলো গ্রহণ করলেও রায়টি দাতব্য সংস্থাটির জন্য আংশিক বিজয় হয়েছে।
বেশির ভাগ প্রতিবেদনে ফাউন্ডেশনের মোট ফেরতযোগ্য অর্থ প্রায় ১০০.১ বিলিয়ন ওন বলা হয়েছে। একটি ইংরেজি প্রতিবেদনে এর বদলে প্রায় ১১০ বিলিয়ন ওন উল্লেখ করা হয়েছে, যা আদালতের বিস্তারিত নির্দেশের সঙ্গে মেলে না। প্রতিবেদনে উল্লেখিত অঙ্কগুলো মূল অর্থের; আদালত নির্ধারিত বিলম্বে পরিশোধের ক্ষতিপূরণও শেষ পর্যন্ত মোট দায়ের সঙ্গে যুক্ত হবে।
২০০৭ সালের তেল ছড়ানো থেকে ২০১৮ সালের অর্থ বরাদ্দ
২০০৭ সালের ৭ ডিসেম্বর দক্ষিণ চুংচং প্রদেশের তায়ান কাউন্টির উপকূলে একটি ক্রেনবাহী জাহাজের সঙ্গে ট্যাংকার হেবেই স্পিরিটের সংঘর্ষে দুর্ঘটনাটি ঘটে। বেশির ভাগ প্রতিবেদনে তেল নিঃসরণের পরিমাণ ১২,৫৪৭ কিলোলিটার বা ১২.৫৪৭ মিলিয়ন লিটার বলা হয়েছে। আরেকটি প্রতিবেদনে ১০,৯০০ টন বলা হয়েছে। প্রথমটি আয়তন, দ্বিতীয়টি ভরের একক; তেলের ঘনত্বের তথ্য ছাড়া এ দুটির সরাসরি তুলনা করা যায় না।
জাহাজগুলোর পরিচয় নিয়েও প্রতিবেদনে পার্থক্য রয়েছে। বেশির ভাগ প্রতিবেদনে ক্রেনবাহী জাহাজটির সঙ্গে স্যামসাং হেভি ইন্ডাস্ট্রিজের সম্পৃক্ততার কথা বলা হয়েছে এবং ট্যাংকারটিকে চীনা পতাকাবাহী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। আরেকটি প্রতিবেদনে ট্যাংকারটিকে হংকংয়ে নিবন্ধিত এবং ক্রেনবাহী জাহাজটিকে স্যামসাং সিঅ্যান্ডটি-সংশ্লিষ্ট স্যামসাং নম্বর ১ বলা হয়েছে। তহবিল পুনরুদ্ধারসংক্রান্ত মামলায় নিষ্পত্তি হওয়া প্রশ্নে এসব পার্থক্যের কোনো প্রভাব নেই।
অর্থায়ন চুক্তি সম্পর্কে প্রচলিত বিবরণ অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের প্রতিনিধিত্বকারী ১১টি গোষ্ঠীর সঙ্গে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্যামসাং হেভি ইন্ডাস্ট্রিজের ২৯০ বিলিয়ন ওন দেওয়ার সমঝোতা হয়। কোরিয়া কমিউনিটি চেস্টের মাধ্যমে এই অর্থ দেওয়ার কথা ছিল। আলাদা একটি প্রতিবেদনে ২০১৩ সালের নভেম্বরে ৩৬০ বিলিয়ন ওনের আগের একটি অঙ্গীকারের কথা বলা হয়েছে। ওই আগের অঙ্কটির সঙ্গে পরবর্তী চুক্তির সম্পর্ক কী, তা প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি।
পরবর্তী অনুদানের বিস্তারিত বিবরণে ২০১৮ সালে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে দেওয়া মোট অর্থ প্রায় ৩০৬.৭ বিলিয়ন ওন বলা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০৪.২ বিলিয়ন ওন ফাউন্ডেশনকে এবং ২০২.৪ বিলিয়ন ওন সমবায়কে দেওয়া হয়। округ করা এই বরাদ্দগুলোর যোগফল ৩০৬.৬ বিলিয়ন ওন, যা প্রতিবেদনে উল্লেখিত округ করা মোট অঙ্কের চেয়ে সামান্য কম।
কিছু প্রতিবেদনে ২০১৬ সালের সমঝোতাকেই অনুদান হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে বিস্তারিত প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে অর্থ দেওয়া ও বণ্টনের সময় ২০১৮ সাল বলা হয়েছে। সংগঠনগুলো ২০১৬ সালে, নাকি ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তা নিয়েও প্রতিবেদনে মতভেদ রয়েছে। তবে উভয় সংগঠনই ২০১৮ সালের নভেম্বরে বরাদ্দের অর্থ পেয়েছিল—এ বিষয়ে প্রতিবেদনগুলো একমত।
ভিন্ন উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সেবায় দুটি সংগঠন
হেবেই সোশ্যাল কো-অপারেটিভ গঠিত হয়েছিল তায়ান, সোসান, সছন ও তাংজিনের বিভিন্ন গোষ্ঠীকে নিয়ে। ওয়েস্ট কোস্ট অ্যাসোসিয়েশন ফাউন্ডেশনে ছিল বোরিয়ং, সিনান, ইয়ংগোয়াং, হংসং, কুনসান, বুয়ান ও মুয়ানের গোষ্ঠীগুলো। ফলে এই তহবিল শুধু তায়ান নয়, বেশ কয়েকটি উপকূলীয় এলাকার জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ ছিল।
অর্থের উদ্দেশ্য ছিল বাসিন্দাদের কল্যাণ, জনগোষ্ঠীর পুনরুদ্ধার এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহায়তা করা। বিরোধটিকে নিখোঁজ পরিচ্ছন্নতা তহবিল হিসেবে বর্ণনা করা হলেও এটি কেবল তাৎক্ষণিকভাবে তেল অপসারণের বাজেট ছিল না। তেল ছড়ানোর ঘটনার প্রায় ১১ বছর পর সংগঠনগুলো বরাদ্দ পায়।
সমবায়ের ভাষ্য, পরিচর্যা কেন্দ্র পরিচালনা এবং ঝিনুকের পোনা ছাড়ার মতো প্রকল্প তারা চালিয়ে গেছে। তাদের আরও দাবি, প্রায় ১৮০ বিলিয়ন ওন নগদ সম্পদ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রাখা হয়েছে। এগুলো তাদের কর্মকাণ্ড ও আর্থিক অবস্থার নিজস্ব বিবরণ; আদালত তাদের ব্যবস্থাপনাকে যথাযথ বলে মেনে নিয়েছে, এমন কোনো সিদ্ধান্ত নয়।
দুটি সংগঠনের ভৌগোলিক পরিসর বিকল্প ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রস্তাবের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। তায়ানকে কেন্দ্র করে কোনো পরিকল্পনা করা হলে, যে অন্য জনগোষ্ঠীগুলোর জন্য অর্থ বরাদ্দ হয়েছিল, তাদের স্বার্থও তাতে বিবেচনা করতে হবে।
ব্যয়ের পরিসংখ্যানে যা দেখা যায়
২০২১ সালের শেষ নাগাদ ফাউন্ডেশন তার প্রায় ১০৪.২ বিলিয়ন ওনের বরাদ্দ থেকে ৪.৬ বিলিয়ন ওন ব্যয় করেছিল। এই ব্যয়ের মধ্যে ৩ বিলিয়ন ওন গেছে বেতন ও অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক পরিচালন ব্যয়ে। округ করা এই অঙ্ক ধরে পরিচালন ব্যয় মোট ব্যয়ের প্রায় ৬৫ শতাংশ; অন্যান্য খাতে ব্যয় হয়েছে ১.৬ বিলিয়ন ওন।
সমবায়টি তার প্রায় ২০২.৪ বিলিয়ন ওনের বরাদ্দ থেকে ১৫.৮ বিলিয়ন ওন ব্যয় করেছিল। বেশির ভাগ প্রতিবেদনে এর পরিচালন ব্যয় ৯.৪ বিলিয়ন ওন বা মোট ব্যয়ের প্রায় ৫৯ শতাংশ বলা হয়েছে। আরেকটি প্রতিবেদনে ৯.৮ বিলিয়ন ওন উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যয়ের হারও প্রতিবেদনে ভিন্নভাবে округ করা হয়েছে: ৭.৭ বা ৭.৮ শতাংশ।
দুটি সংগঠন মিলিয়ে ২০২১ সালে ২০.৪ বিলিয়ন ওন ব্যয় হয়েছে বলে সাধারণত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে; এর মধ্যে ১২.৪ বিলিয়ন ওন গেছে পরিচালন ব্যয়ে। অর্থাৎ নথিভুক্ত ব্যয়ের প্রায় ৬১ শতাংশ প্রতিষ্ঠানগুলো সচল রাখতে ব্যয় হয়েছে। এটি মোট ব্যয়ের অংশ, পুরো অনুদান তহবিলের ৬১ শতাংশ খরচ হয়ে গেছে—এমন দাবি নয়।
পরবর্তী পরিসংখ্যানে ব্যয় বাড়লেও একই ভারসাম্যহীনতা দেখা যায়। আইনপ্রণেতা লিম হো-সন সমুদ্র ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের যে তথ্য পেয়েছেন, তাতে ২০২২ সালের শেষ নাগাদ সমবায়ের ব্যয় ছিল ২২.৬ বিলিয়ন ওন, অর্থাৎ বরাদ্দের ১১.২ শতাংশ। প্রকল্পে ৯.৭ বিলিয়ন ওনের বিপরীতে পরিচালন ব্যয় ছিল ১২.৯ বিলিয়ন ওন।
২০২১ সালের শেষের তুলনায় সমবায়ের ক্রমপুঞ্জীভূত ব্যয় ৬.৮ বিলিয়ন ওন বেড়েছিল। তা সত্ত্বেও প্রকল্প ব্যয়ের চেয়ে পরিচালন ব্যয় ৩.২ বিলিয়ন ওন বেশি ছিল। দুটি সংগঠনের সম্মিলিত ব্যয় ৩০৬.৭ বিলিয়ন ওনের মধ্যে ২৮.৮ বিলিয়ন ওন, অর্থাৎ প্রায় ৯.৪ শতাংশ বলে জানানো হয়েছিল; তবে প্রতিবেদনে হারটি ৯.৫ শতাংশ округ করা হয়।
মামলার আগেই নিরীক্ষায় অনিয়ম ধরা পড়ে
২০২১ সালের দিকে জনগোষ্ঠীর আপত্তি সামনে আসে। বোরিয়ংয়ের বাসিন্দাদের একটি তদন্ত কমিটি ফাউন্ডেশনের পরিচালকদের বেতন ও নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলে, সংগঠনটি বিলুপ্ত করার দাবি জানায় এবং নেতৃত্বের পদত্যাগ চায়। ২০২২ সালে তারা ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের পর্যাপ্ত মতামত না নিয়ে প্রকল্প চালানো হচ্ছে কি না, তা তদন্তের জন্য সমুদ্র ও মৎস্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করে।
মন্ত্রণালয় নথিপত্র যাচাই ও সরেজমিন অনুসন্ধান চালায়, তবে ফাউন্ডেশন সহযোগিতা না করায় একটি পরিদর্শন ব্যাহত হয়। নিরীক্ষা ও তদন্তে ভ্রমণ ব্যয়ে অনিয়ম, অপ্রয়োজনীয় ঋণ নেওয়া এবং সমবায়ের প্রতিনিধিদের সাধারণ সভা গঠনে বিলম্বের বিষয়গুলো উঠে আসে।
নিরীক্ষা ও পরিদর্শন বোর্ড ২০২২ সালে সমবায়টির সরেজমিন নিরীক্ষা চালায়। এতে প্রকল্প বাস্তবায়ন কাঠামোর সমস্যা, কার্যকর সংশোধনী পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থতার বিষয় শনাক্ত করা হয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার পরিকল্পনা করার আহ্বান জানানো হয়।
আগের নিরীক্ষার ফলাফলের একটি বিবরণে বলা হয়েছে, মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া ছয় কর্মকর্তাকে নয় মাসে ২৩৭.৩৩ মিলিয়ন ওন বেতন দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া সভার ভাতা হিসেবে অনিয়মিতভাবে দেওয়া হয়েছিল ৫১ মিলিয়ন ওন। এসব অর্থ ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
আলাদাভাবে, ফাউন্ডেশনের চেয়ার ও মহাসচিবের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক অপরাধের কঠোর শাস্তি আইনসহ বিভিন্ন আইনে আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। অভিযোগ গঠন মানেই দোষী সাব্যস্ত হওয়া নয়। বরাদ্দের অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া দেওয়ানি মামলাটি ওই ফৌজদারি মামলা থেকে পৃথক।
প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতায় আদালতের নজর
দাতব্য সংস্থাটি ২০২৩ সালের আগস্টে দুই সংগঠনকে জানায় যে তাদের অব্যয়িত বরাদ্দ ফেরত নেওয়া হবে। সংগঠনগুলো এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলে সংস্থাটি দেওয়ানি মামলা করে। চুক্তির যে ধারাগুলোর ভিত্তিতে মামলা করা হয়, সেগুলো হলো বরাদ্দ চুক্তির ৬ অনুচ্ছেদের ২ নম্বর দফার ৬ ও ৭ উপদফা। এতে প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়া বা উদ্দেশ্য অর্জনে অক্ষমতা এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন বা বাজেট খরচে গুরুতর সমস্যার কথা বলা হয়েছে।
২০১৮ সালের ৫ নভেম্বর তারিখের অনুদানের আবেদনপত্রে আরও বলা হয়, অব্যয়িত অর্থ কমিউনিটি চেস্টের অভ্যন্তরীণ বিধি অনুযায়ী সাধারণ দাতব্য অনুদানে রূপান্তরে স্যামসাং হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ সম্মত হয়েছিল। তবে রায়কে নতুন কোনো বণ্টন পরিকল্পনার ঘোষণা হিসেবে পড়া উচিত নয়। বিকল্প কোনো চূড়ান্ত কর্মসূচির কথা উল্লেখ করা হয়নি।
সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের সিভিল ডিভিশন ৩১ ব্যাখ্যা করেছে, ফাউন্ডেশন তার নির্ধারিত কাজ শেষ করার চেয়ে কর্মীদের ব্যয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিচালিত হয়েছে বলে মনে হয়:
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পগুলো শেষ করার বদলে, বরাদ্দের অর্থ থেকে অর্জিত সুদের মতো আয় কর্মীদের বেতনসহ ব্যয় মেটাতে ব্যবহার করে ফাউন্ডেশনটি পরিচালিত হয়েছে বলে মনে হয়।
একই আদালত বলেছে, সমবায়ের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করেছে:
অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণে সমবায়ের প্রতিনিধিদের সাধারণ সভা কার্যকর থাকতে পারেনি। সদর দপ্তর ও শাখাগুলোর মধ্যে এবং সদর দপ্তরের ভেতরের গুরুতর দ্বন্দ্বের ফলে প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।
প্রকল্প পরিকল্পনাগুলো তহবিলের পরিমাণের তুলনায় অপর্যাপ্ত বলেও আদালত মনে করেছে। আদালতের যুক্তি ছিল চুক্তির উদ্দেশ্য অর্জনে সংগঠনগুলোর সক্ষমতা নিয়ে; তাদের সব অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে, এমন সিদ্ধান্ত দেওয়ার প্রয়োজন ছিল না।
মধ্যস্থতার চেষ্টা ব্যর্থ, আপিলের পথে সমবায়
সমবায়ের চেয়ার গুক উং-বক আপিলের ইচ্ছা জানিয়েছেন এবং সমবায় তহবিল আত্মসাৎ বা অন্য খাতে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার যুক্তি, ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের বছরের পর বছরের প্রচেষ্টায় অর্থটি সংগ্রহ করা হয়েছিল। সংগঠনটির সমালোচিত সমস্যাগুলো সমাধানের কথাও তিনি বলেছেন।
সমবায়ের দাবি, মামলা চলার কারণে কিছু কাজে বিলম্ব হয়েছে। আদালত অবশ্য বলেছে, কাজ থেমে যাওয়ার মৌলিক কারণ ছিল সমবায়ের অভ্যন্তরীণ অবস্থা। প্রকল্প নির্বাচন কমিটির সভা করতে ব্যর্থতা, সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন পরিকল্পনার অভাব এবং শাখাগুলো ভাগ করার আলোচনা—এসবকে ওই সমস্যার প্রমাণ হিসেবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
রায়ের আগে আদালত নিয়োগ করা পরিচালক এবং সমবায়ের গঠনতন্ত্র সংশোধনের মাধ্যমে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেয়। সমবায় জানায়, প্রতিনিধিদের সাধারণ সভাসহ অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার কারণে দ্রুত প্রস্তাব গ্রহণ করা কঠিন। ২৩ জুলাই মধ্যস্থতা ব্যর্থ হয়।
বিরোধটির অগ্রগতির প্রধান তারিখগুলো হলো:
- ৭ ডিসেম্বর, ২০০৭: তায়ানের উপকূলে তেল ছড়ানোর ঘটনা ঘটে।
- ফেব্রুয়ারি, ২০১৬: স্যামসাং হেভি ইন্ডাস্ট্রিজের সঙ্গে বাসিন্দাদের ১১টি গোষ্ঠীর ২৯০ বিলিয়ন ওনের চুক্তির খবর প্রকাশিত হয়।
- নভেম্বর, ২০১৮: দুটি সংগঠন বরাদ্দ পায়।
- ২০২১ ও ২০২২: জনগোষ্ঠীর অভিযোগ এবং সরকারি নিরীক্ষায় ব্যবস্থাপনা ও ব্যয় খতিয়ে দেখা হয়।
- আগস্ট, ২০২৩: কমিউনিটি চেস্ট সংগঠনগুলোকে অর্থ ফেরত নেওয়ার কথা জানায়।
- ডিসেম্বর, ২০২৩: একটি প্রতিবেদনে দেওয়ানি মামলা দায়েরের কথা বলা হয়।
- ২৩ জুলাই, ২০২৬: মধ্যস্থতা ব্যর্থ হয়।
- ১ অক্টোবর, ২০২৬: আদালত রায় দেয়।
- ৬ অক্টোবর, ২০২৬: তায়ান কাউন্টি কাউন্সিলের সাবেক এক চেয়ার ফেরত আসা অর্থের সরকারি ব্যবস্থাপনার প্রস্তাব দেন।
রায়ের নোটিশ পাওয়ার পর আপিল দায়ের করতে সমবায়ের হাতে দুই সপ্তাহ সময় রয়েছে। নোটিশ পাওয়ার তারিখ বা আপিল শুনানির দিন উল্লেখ করা হয়নি। তাই সমবায়ের ঘোষণাটি আপিল করার ইচ্ছার কথা জানায়; আপিল ইতিমধ্যে দায়ের করা হয়েছে, তা নিশ্চিত করে না।
নতুন ব্যবস্থাপনা কাঠামোর দাবি বাসিন্দাদের
তায়ান কাউন্টি কাউন্সিলের সাবেক চেয়ার কিম জিন-কোয়ন ৬ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারি তহবিল কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। তার প্রস্তাব অনুযায়ী, কমিটিতে থাকবে কমিউনিটি চেস্ট, তায়ান কাউন্টি, কাউন্টি কাউন্সিল, দক্ষিণ চুংচং প্রদেশ, সমুদ্র ও মৎস্য মন্ত্রণালয়, ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা এবং বিশেষজ্ঞরা।
ফেরত আসা মূল অর্থ ও সুদ সংরক্ষণ, জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের অগ্রাধিকার, বাসিন্দাদের অংশগ্রহণ, বহিরাগত নিরীক্ষা এবং তথ্য প্রকাশের মানদণ্ড নিয়ে কমিটিতে আলোচনা হবে। আনুষ্ঠানিক আলোচনা ব্যর্থ হলে বা বিলম্বিত হলে তায়ান থেকে কমিউনিটি চেস্ট পর্যন্ত প্রায় ১৬০ কিলোমিটার হাঁটার কথা বলেছেন কিম। স্যামসাংয়ের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের দাবিতে ২০১২ সালে সিউল পর্যন্ত পদযাত্রা এবং বারবার প্রণাম করার ঘটনাও তিনি স্মরণ করেন।
আলাদা একটি প্রতিবেদনে দক্ষিণ চুংচংয়ের গভর্নর পার্ক সু-হিয়নের নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে, তিনি বাসিন্দাদের নিয়ন্ত্রণের পক্ষে এবং প্রাদেশিক হস্তক্ষেপ ও মধ্যস্থতার ব্যাপারে আগ্রহী। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তহবিল ব্যয়ের ওপর প্রদেশটির সরাসরি কর্তৃত্ব নেই। তাই হস্তক্ষেপে আগ্রহ প্রকাশ করাকে আর্থিক নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তরের অনুমোদন হিসেবে দেখা যাবে না।
এখনও যে বিষয়গুলো অমীমাংসিত রয়েছে, সেগুলো হলো সমবায় আপিল করবে কি না, ফাউন্ডেশনের মূল সম্পদ হস্তান্তরে মন্ত্রণালয় অনুমতি দেবে কি না, অর্থ কবে বাস্তবে ফেরত পাওয়া যাবে এবং বিতর্কিত ব্যবস্থাপনার বদলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিবেদনে উল্লেখিত কোনো প্রস্তাবই চূড়ান্ত ব্যয় পরিকল্পনা নয়। রায় ঘোষণার সময় উপস্থিত বাসিন্দারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন, আরও আইনি প্রক্রিয়ায় সহায়তা পাওয়ার অপেক্ষা দীর্ঘ হবে।
মূল বিষয়গুলো
- বিস্তারিত নির্দেশে বিলম্বে পরিশোধের ক্ষতিপূরণসহ মূল অর্থের পরিমাণ প্রায় ২৮৫.২৩ বিলিয়ন ওন।
- ফাউন্ডেশনের ৯৮.৬ বিলিয়ন ওনের মূল সম্পদ ফেরত দিতে মন্ত্রীর অনুমোদন প্রয়োজন।
- ২০২১ সালের শেষ নাগাদ সংগঠন দুটি তাদের বরাদ্দের মাত্র ৪.৪ ও প্রায় ৭.৮ শতাংশ ব্যয় করেছিল।
- ওই বছর তাদের নথিভুক্ত সম্মিলিত ব্যয়ের প্রায় ৬১ শতাংশ ছিল পরিচালন ব্যয়।
- অপর্যাপ্ত প্রকল্প পরিকল্পনা ও অভ্যন্তরীণ পরিচালনার সমস্যাকে অর্থ ফেরত নেওয়ার যথেষ্ট কারণ বলে আদালত মনে করেছে।
- সমবায় আপিলের পরিকল্পনা করেছে, তবে আপিল শুনানির তারিখ উল্লেখ করা হয়নি।
- সরকারি ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের প্রস্তাব এসেছে; বিকল্প বণ্টন পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়নি।






