বিপুল উপস্থিতিতে গতি এলেও ভোগান্তিও তৈরি
২০২৬ সালের ১১ অক্টোবর ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টির তাইপেই মেয়র প্রার্থী পুমা শেনের সঙ্গে ঝংশান ও দাতোং জেলায় reportedly ২,০০০-এর বেশি যানবাহন চলেছে। তাঁর প্রথম তাইপেই ‘ওশান কারেন্ট’ প্রচারমিছিলটি ব্যাপক সমর্থনের পাশাপাশি যানজট নিয়ে অভিযোগ, প্রচারে বিতর্কিত উপস্থিতি এবং স্থানীয় নীতির পাঁচটি প্রস্তাব সামনে এনেছে।
সূচিপত্র
- বিপুল উপস্থিতিতে গতি এলেও ভোগান্তিও তৈরি
- রওনার পার্ক থেকে বাওআন মন্দির
- উপস্থিতির হিসাব থেকে কী বোঝা যায়
- যানজটের অভিযোগে সরাসরি ক্ষমা
- সমর্থকদের জন্য ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অভিযোগ
- বহিষ্কৃত কাউন্সিলরের বহর নিয়ে বিরোধ
- দুই জেলার জন্য পাঁচটি প্রস্তাব
- পুরোনো বাড়ি ও কাছাকাছি সেবাযত্ন
- চারটি বিতর্কের প্রস্তাব, আয়োজন এখনো অনিশ্চিত
- নভেম্বরের ভোটের আগে প্রতীকী প্রত্যাবর্তন
- মূল বিষয়গুলো
সন্ধ্যা ৬টার কিছু পর শেনের প্রচারসহকারী চৌ শুয়ান যানবাহনের সংখ্যাটি জানান। তিনি ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের হিসাবের কথা উল্লেখ করেন। প্রার্থীর আনুষ্ঠানিক ইউটিউব সম্প্রচারে একসঙ্গে ৬০ হাজারের বেশি দর্শক হয়েছিল বলে জানা গেছে। গন্তব্য দালংদং বাওআন মন্দিরে আকাশ থেকে ধারণ করা ভিডিওতে মন্দিরের ভেতরে ও আশপাশে ভিড় দেখা যায়; উপস্থিতির সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছিল বলে দাবি করা হয়।
এই সংখ্যাগুলো অংশগ্রহণের ভিন্ন ভিন্ন পরিমাপ, একক কোনো যাচাইকৃত মোট সংখ্যা নয়। একটি যানবাহনে একাধিক ব্যক্তি থাকতে পারেন, দর্শকদের সবাই তাইপেইয়ের ভোটার নাও হতে পারেন, আর অনলাইনে দেখা কেউ সরাসরিও উপস্থিত থাকতে পারেন। মন্দিরের ভিড়ের হিসাবের সঙ্গে গণনা-পদ্ধতির কোনো বিবরণ দেওয়া হয়নি।
বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে মিছিলটি রওনা হয়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে মন্দিরে পৌঁছায়, নির্ধারিত সময়ের প্রায় আধা ঘণ্টা পরে। পথে তাইপেই মেইন স্টেশনে যাওয়ার চেষ্টা করা এক শিক্ষার্থী যানজটে আটকে পড়ার অভিযোগ করেন এবং হুয়ালিয়েনগামী সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের ট্রেন ধরতে না পারার আশঙ্কা জানান। শেন নিজে থ্রেডসে ক্ষমা চেয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেন।
সন্ধ্যার কর্মসূচি শুধু প্রচারমিছিলেই সীমাবদ্ধ ছিল না। শেন রাতের সময় সমন্বয়, সাংস্কৃতিক পথ, ক্রীড়া সুবিধা, পুরোনো বাড়ি মেরামত এবং প্রবীণদের যত্ন নিয়ে প্রস্তাব দেন। এদিকে ক্ষমতাসীন কুওমিনতাংয়ের মেয়র চিয়াং ওয়ান-আনের সঙ্গে টেলিভিশন বিতর্কের আলোচনা ১২ অক্টোবর চালিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। তাইওয়ানের স্থানীয় নির্বাচন হওয়ার কথা ২৮ নভেম্বর।
রওনার পার্ক থেকে বাওআন মন্দির
অধিকাংশ বিবরণে বলা হয়েছে, মিছিলটি দাতোং জেলার ইয়ানপিং নর্থ রোডের ৪ নম্বর অংশে অবস্থিত দিহুয়া পয়োনিষ্কাশন শোধনাগারের সঙ্গে যুক্ত বিনোদন ও ক্রীড়া পার্ক থেকে শুরু হয়। বিকেল ৫টার আগে সমর্থকেরা জড়ো হন; কেউ কেউ প্রায় ৩টার দিকে পৌঁছান। কাছের একটি পথচারী সেতুতেও ভিড় ছড়িয়ে পড়ে। অংশগ্রহণকারীরা প্রচারের ফিতা, পতাকা, গং ও ঢোল নিয়ে আসেন।
শুরুর স্থান নিয়ে বিবরণে মতভেদ রয়েছে। একটিতে চিয়াং ওয়েই-শুই স্মৃতি উদ্যানের কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, বিস্তারিত পথের বিবরণে পয়োনিষ্কাশন শোধনাগারের বিনোদন পার্কের নাম আছে। প্রকাশিত কোনো আনুষ্ঠানিক পথনির্দেশ দিয়ে এ অসংগতি মেটানো হয়নি।
শেনের সঙ্গে সামনের দিকে ছিলেন আইনপ্রণেতা ওয়াং শি-চিয়েন, যিনি তাঁর প্রচার সদর দপ্তরের উপপ্রধান। তাইপেই সিটি কাউন্সিলর ইয়েন জুও-ফাং ও লিন লিয়াং-চুন এবং কাউন্সিল প্রার্থী লাই চুন-হান ও লিন জি-ইয়াংও তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
মিছিলের পথ ছিল চাংজি স্ট্রিট, চেংদে রোড, নানজিং ওয়েস্ট রোড, লিয়াংঝৌ স্ট্রিট, জিনঝৌ স্ট্রিট, জিলিন রোড, লিনসেন নর্থ রোড, চংকিং নর্থ রোড ও জিউছুয়ান স্ট্রিট হয়ে হামি স্ট্রিটের বাওআন মন্দিরের কাছে। সড়কের পাশে সমর্থকেরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ান। কেউ কেউ শেনের কাছে যেতে ফুটপাত ছেড়ে রাস্তায়ও নেমে আসেন।
বিবরণ অনুযায়ী, বিকেলের জমায়েত যেভাবে সন্ধ্যার নীতিবিষয়ক কর্মসূচিতে গড়ায়, তার ধারাবাহিকতা হলো:
- ১০ অক্টোবর: ওয়ানহুয়া জেলার গুয়াংঝাও মন্দিরে বিতর্ক নিয়ে শেন ও চিয়াংয়ের সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়।
- ১১ অক্টোবর, বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট: প্রথম ‘ওশান কারেন্ট’ প্রচারমিছিল দাতোং থেকে রওনা হয়।
- সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটের দিকে: বাওআন মন্দিরে পৌঁছানোর নির্ধারিত সময়।
- সন্ধ্যা ৭টার দিকে: শেন পৌঁছে ধূপ দিতে মন্দিরে প্রবেশ করেন; প্রায় ২০ মিনিট পর বক্তব্যস্থলের দিকে যান।
- রাত ৮টা ৩০ মিনিট: পরের একটি বিবরণে তাঁর পাঁচটি জেলা-ভিত্তিক নীতিপ্রস্তাব উপস্থাপনের সময় হিসেবে এটি উল্লেখ করা হয়েছে।
- ১২ অক্টোবর: টেলিভিশন বিতর্কের আয়োজন নিয়ে আলোচনায় প্রচার প্রতিনিধিদের অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
- ২৮ নভেম্বর: তাইওয়ানের স্থানীয় নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল।
উপস্থিতির হিসাব থেকে কী বোঝা যায়
মিছিলটি কয়েকশ মিটারজুড়ে বিস্তৃত ছিল। একটি বিবরণে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট একটি স্থান অতিক্রম করতে সামনের ও পেছনের অংশের মধ্যে প্রায় ১৫ মিনিটের ব্যবধান ছিল। আরেকটিতে বলা হয়েছে, পুরো যানবহরকে রওনার স্থান ছাড়তে প্রায় ১৫ মিনিট লেগেছিল। যানবাহন বারবার গতি কমিয়েছিল বলে কোনো বিবরণ থেকেই সঠিক দূরত্ব নির্ধারণ করা যায় না।
২,০০০ যানবাহনের বিবরণেও তারতম্য রয়েছে। চৌয়ের বক্তব্যে মোটরসাইকেল ও ধীরগতির যানবাহনের কথা ছিল; অন্য প্রতিবেদনে শুধু মোটরসাইকেল বা অনুসারী যানবাহনের কথা আরও সাধারণভাবে বলা হয়েছে। গাড়ি, স্কুটার ও সাইকেল—সবই অংশ নিয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়। সতর্কভাবে বললে, প্রচার শিবির ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের হিসাবে ২,০০০-এর বেশি যানবাহনের কথা জানিয়েছে, তবে বিস্তারিত বিভাজন প্রকাশ করেনি।
অনলাইনেও ব্যাপক সাড়া পড়ে। গভীর রাতে শেনের থ্রেডস পোস্ট আধা ঘণ্টারও কম সময়ে ৩০ হাজারের বেশি লাইক পায়; আরেক অংশগ্রহণকারীর ভিডিওতে লাইক পড়ে ১০ হাজারের বেশি। এগুলো মনোযোগের পৃথক পরিমাপ, ভিড় বা সরাসরি সম্প্রচারের দর্শকসংখ্যার সঙ্গে যোগ করা উচিত নয়।
চেন পদবির এক বাসিন্দা বলেন, চার বছর আগে তিনি চিয়াংকে ভোট দিয়েছিলেন, কিন্তু এখন শেনকে সমর্থন করার ইচ্ছা রয়েছে। এই বক্তব্য একজনের মত পরিবর্তনের উদাহরণ; তাইপেইয়ের ভোটারদের মধ্যে বৃহত্তর পরিবর্তনের প্রমাণ নয়। প্রচারমিছিল অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহ দেখিয়েছে, শহরজুড়ে ভোটারদের মনোভাব পরিমাপ করেনি।
যানজটের অভিযোগে সরাসরি ক্ষমা
যানজটে ভোগান্তির সবচেয়ে স্পষ্ট বিবরণটি আসে তাইপেই মেইন স্টেশনে গিয়ে পড়াশোনার জন্য হুয়ালিয়েনে ফেরার পথে থাকা এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে। থ্রেডসে এক পোস্টে শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, দুটি লেনের কোনোটিই ব্যবহার করা যাচ্ছিল না। বিকেল ৫টা ৩৩ মিনিটে একই মোড়ে ১০ মিনিট ধরে আটকে থাকার কথাও জানান।
এক ঘণ্টা আগে রওনা হলেও সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের ট্রেন ধরতে পারবেন কি না, তা নিয়ে শিক্ষার্থী উদ্বিগ্ন ছিলেন। যানজট না থাকলে যাত্রাটিতে সাধারণত প্রায় ৩০ মিনিট লাগে। আরেকটি বিবরণে বলা হয়েছে, প্রচারমিছিলের যানজটে পড়ার সময় শিক্ষার্থী বাসে ছিলেন।
ডিপিপির মেয়র প্রার্থী শেন সরাসরি অভিযোগের জবাব দেন। চীনা ভাষা থেকে অনূদিত তাঁর ক্ষমাপ্রার্থনাটি ছিল:
ভোগান্তি সৃষ্টি করার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। দলকে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও উন্নতি করতে বলব।
পরে শিক্ষার্থী জানান, তিনি নিরাপদে পৌঁছেছেন এবং খোঁজ নেওয়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান। সমর্থকেরাও ক্ষমা চান; কেউ কেউ ট্রেনের টিকিট পরিবর্তনের খরচে সহায়তার প্রস্তাব দেন। পরবর্তী হালনাগাদে যাত্রীর গন্তব্যে পৌঁছানোর কথা নিশ্চিত হয়, তবে প্রচারমিছিলের কারণে যাত্রায় কতটা সময় বেড়েছিল, তা নির্দিষ্ট করা হয়নি।
শেনের জবাবে ভোগান্তির কথা স্বীকার করা হলেও নির্দিষ্ট কোনো সমাধান ঘোষণা করা হয়নি। ভবিষ্যৎ প্রচারমিছিলের জন্য সংশোধিত যান চলাচল পরিকল্পনা, লেন ব্যবহারের ব্যবস্থা বা সময়সূচির কথাও জানানো হয়নি। অংশগ্রহণের সুযোগ বজায় রেখে যারা কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন না, তাদের জন্য রাস্তাঘাট চলাচলযোগ্য রাখার বাস্তব চ্যালেঞ্জটি প্রচার শিবিরের সামনে রয়ে গেছে।
সমর্থকদের জন্য ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অভিযোগ
কর্মসূচির আগে শেনের পক্ষ থেকে পথে পাঁচটি সহায়তা পয়েন্টের নির্দেশনা প্রচার করা হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা পতাকা ও ফিতা নিতে পারতেন। মন্দিরের অনুষ্ঠানস্থলে এসব সামগ্রী বিতরণ করার কথা ছিল না। সরবরাহসামগ্রী, একটি চিকিৎসাকেন্দ্র এবং চিকিৎসাসেবায় স্বেচ্ছাসেবকদের ব্যবস্থাও পরিকল্পনায় ছিল। পানি পান করা এবং অসুস্থ বোধ করলে সহায়তা নেওয়ার কথাও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।
বক্তব্যস্থলে প্রবেশের দরজা বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে খোলার কথা ছিল। হামি স্ট্রিটে সারি শুরু হয়ে বাওআন মন্দিরের বিপরীত দিকের একটি প্রবেশপথ দিয়ে ঢোকার ব্যবস্থা রাখা হয়। LINE-এ সংরক্ষিত স্থান পাওয়া ব্যক্তিদের আলাদা নির্ধারিত স্থানে নিবন্ধন করতে বলা হয়।
এসব ব্যবস্থা সত্ত্বেও মিছিল চলাকালে সম্ভাব্য নিরাপত্তা লঙ্ঘনের কথা প্রতিবেদনে উঠে আসে। কয়েকজন অংশগ্রহণকারী যথাযথভাবে হেলমেট না পরে মোটরসাইকেল চালিয়েছেন বলে বলা হয়। যানবহর যাওয়ার সময় আতশবাজিও ফোটানো হয়। অন্য বিবরণে সমর্থকদের রাস্তায় নেমে আসা এবং ভিড়ের সঙ্গে কথা বলতে সামনের যানটির গতি কমানোর কথা বলা হয়েছে।
কোনো আঘাত, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তদন্তের ফল বা শাস্তির কথা নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। তাই এসব ঘটনার খবরকে নিশ্চিত আইনি লঙ্ঘন থেকে আলাদা করে দেখা উচিত। তবে যানজটের পাশাপাশি আয়োজকদের মোকাবিলা করার মতো নির্দিষ্ট বিষয় এগুলো সামনে এনেছে: পথচারী ও যানবাহনের চলাচল আলাদা রাখা, হেলমেট ব্যবহার এবং চলমান মিছিলের কাছে আতশবাজি নিয়ন্ত্রণ।
বহিষ্কৃত কাউন্সিলরের বহর নিয়ে বিরোধ
তাইপেই সিটি কাউন্সিলর চেন ই-চুনকে ঘিরে আরেকটি বিতর্ক তৈরি হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, তাঁর দল প্রচারপতাকা নিয়ে মিছিলের পেছনে যোগ দেয়। কয়েকটি পতাকায় শেনের সমর্থনের ইঙ্গিতবাহী বক্তব্য ছিল। অথচ শেনের দলের পক্ষ থেকে প্রচারের ভেস্ট খুলে ফেলার অনুরোধ করা হয়েছিল।
সহকারী ব্যয়ের দাবি ও ঘুষের অভিযোগসংক্রান্ত এক মামলায় প্রথম আদালতে তাঁকে সাত বছর ১০ মাসের কারাদণ্ড দেওয়ার পর ডিপিপির শৃঙ্খলা কমিটি চেনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছিল বলে জানা গেছে। পরে দলীয় নিয়ম লঙ্ঘন করে পুনর্নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তাঁকে বহিষ্কার করা হয়।
রায়টির অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ: প্রথম আদালতের সাজাকে চূড়ান্ত রায় হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়। আপিলের ফল বা পরবর্তী আদালতের কোনো সিদ্ধান্তের উল্লেখ পাওয়া যায়নি, আর প্রচারমিছিল নিয়ে বিরোধের বিবরণে আদালতের কোনো নথিও উদ্ধৃত করা হয়নি।
শেনের সঙ্গে চেনের ছবি ও দলীয় প্রতীক থাকা প্রচারসামগ্রী সরিয়ে ফেলতে ডিপিপির তাইপেই শাখা আনুষ্ঠানিক নোটিশও পাঠিয়েছিল বলে জানা গেছে। চেন বলেন, সমর্থকেরাই নিজ উদ্যোগে প্রচারসামগ্রীগুলো টাঙিয়েছিলেন। শেনের কিছু সমর্থক অনুষ্ঠানে তাঁর বহর যোগ দেওয়ার বিরোধিতা করেন; তবে মিছিল চলাকালে কোনো সমাধানের খবর পাওয়া যায়নি।
প্রচারমিছিলে অংশ নেওয়া মানেই সমর্থন জানানো নয়। চেনের প্রচারের পোশাক সরিয়ে নিতে শেনের দলের অনুরোধের খবর থেকে বোঝা যায়, ভোটারদের কাছে চেনের উপস্থিতি কীভাবে তুলে ধরা হচ্ছিল, তা নিয়ে মতবিরোধ ছিল।
দুই জেলার জন্য পাঁচটি প্রস্তাব
বাওআন মন্দিরে শেন তাঁর পাঁচটি প্রস্তাবকে ঝংশান ও দাতোংয়ের বাসিন্দাদের চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করেন। তিনি বলেন, দুই জেলায় মিলিয়ে জনসংখ্যা ৩ লাখ ৩০ হাজার, যার ২৫ শতাংশের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি। এই মোট জনসংখ্যার ২৫ শতাংশ হিসাব করলে প্রবীণ বাসিন্দার সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৮২ হাজার ৫০০। তবে জনসংখ্যার তথ্যগুলো প্রার্থী নিজে উপস্থাপন করেছেন; কোনো প্রকাশিত উপাত্তের সঙ্গে যুক্ত করেননি।
শেন আরও বলেন, দাতোংয়ের ৩৫ শতাংশ বাড়ির বয়স ৫০ বছরের বেশি এবং ঝংশানের জনসংখ্যার ৫৪ শতাংশ নারী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বাসিন্দাদের উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে পর্যাপ্ত আবর্জনার পাত্র না থাকা, ইঁদুর, পরোক্ষ ধূমপান, বাণিজ্যিক এলাকার অবনতি, জননিরাপত্তা এবং পুরোনো ভবন।
প্রথম প্রস্তাবে রাতের সময়ের জন্য একজন মেয়র বা সমন্বয়ক নিয়োগ, বাণিজ্যিক এলাকা ও আবাসিক এলাকার মধ্যে আলোচনার ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা নিরীক্ষার কথা বলা হয়। এর লক্ষ্য রাতের কর্মকাণ্ড ও আশপাশের বাসিন্দাদের ওপর তার প্রভাব সমন্বয়ের জন্য নির্দিষ্ট দায়িত্ব তৈরি করা। পদটির ক্ষমতা, বাজেট বা নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পর্কে শেন বিস্তারিত জানাননি।
দ্বিতীয় প্রস্তাবের লক্ষ্য হাঁটার পথ ও পরিবেশবান্ধব পরিবহনের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক গন্তব্যগুলোকে যুক্ত করা। শেন ছিফেং স্ট্রিট, দাদাওচেং, ইয়ানসান নাইট মার্কেট, দালংদং, তাইপেই এক্সপো পার্ক এবং মেইজি সেতুর নাম উল্লেখ করেন। তাঁর যুক্তি, আলাদা আলাদা আকর্ষণ হিসেবে নয়, এগুলোকে পরস্পর যুক্ত একটি নেটওয়ার্ক হিসেবে পরিচালনা করা উচিত। ছিফেং স্ট্রিটের আশপাশে বাড়িভাড়া বাড়া এবং দোকানপাট চলে যাওয়ার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
তৃতীয় প্রস্তাবটি ছিল ইউয়ানশান ক্রীড়াকেন্দ্র নির্মাণ। সেখানে বাস্কেটবল, ফুটবল, ব্যাডমিন্টন, ভলিবল, সাঁতার, শরীরচর্চা, অভিযোজিত ক্রীড়া এবং নতুন ধরনের খেলাধুলার জন্য জায়গা রাখার কথা বলা হয়। একদিকে এক্সপো পার্কের অব্যবহৃত জমি, অন্যদিকে জনাকীর্ণ ক্রীড়া সুবিধার তুলনা করেন শেন। তবে নির্মাণ বাজেট, সময়সীমা বা বিস্তারিত স্থান পরিকল্পনা দেননি।
পুরোনো বাড়ি ও কাছাকাছি সেবাযত্ন
চতুর্থ প্রস্তাবে দাতোংকে পুরোনো বাড়ি মেরামতে বাসিন্দাদের সহায়তার জন্য ভ্রাম্যমাণ সেবাদলের প্রদর্শনী এলাকা করার কথা বলা হয়। শেন একটি একক যোগাযোগকেন্দ্র, সক্রিয়ভাবে বাড়ি পরিদর্শন এবং নগর সরকারের অতিরিক্ত অর্থায়নের বর্ণনা দেন। এতে বাসিন্দাদের আলাদা আলাদা কর্মসূচির মধ্যে ঘুরতে না দিয়ে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সম্পদ একত্র করার কথা রয়েছে।
উদাহরণের মধ্যে ছিল দেয়ালের বাইরের অংশ আংশিক মেরামত, সাইনবোর্ড এবং পানির ও বিদ্যুতের পাইপ। লক্ষ্য ছিল বড় পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে বিদ্যমান বাড়ির ব্যবহারযোগ্য আয়ু বাড়ানো ও নিরাপত্তা উন্নত করা। কারা এই সহায়তা পাবেন, ভর্তুকির পরিমাণ কত হবে বা কর্মসূচি কবে শুরু হবে, তা নির্দিষ্ট করা হয়নি।
পঞ্চম প্রস্তাবে কমিউনিটিভিত্তিক সেবাকেন্দ্র, বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসাসেবা এবং ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য স্থানগুলো আরও ব্যবহারবান্ধব করার নকশাকেন্দ্র জোরদারের কথা বলা হয়। শেনের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রবীণ বাসিন্দারা পরিচিত এলাকায় থেকে ব্যবহারিক সহায়তা পেতে পারেন।
আবাসন ও সেবাযত্নের পরিকল্পনা মিলিয়ে শেনের বর্ণিত জনসংখ্যার বয়স-গঠনের প্রতি সাড়া দেওয়া হয়েছে। বাস্তবায়নের জন্য এখনো অঘোষিত কিছু বিষয়ে বিস্তারিত প্রয়োজন, যেমন কর্মী নিয়োগ, বিদ্যমান সেবার সঙ্গে সমন্বয় এবং বাসিন্দারা কীভাবে সহায়তার যোগ্য হবেন। সন্ধ্যার কর্মসূচিতে প্রচারের অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরা হয়েছে, অর্থায়ন-নির্ধারিত বাস্তবায়ন কর্মসূচি নয়।
চারটি বিতর্কের প্রস্তাব, আয়োজন এখনো অনিশ্চিত
রওনা হওয়ার আগে শেন আবারও চারটি টেলিভিশন বিতর্কের অনুরোধ জানান। তাঁর যুক্তি, একটি অনুষ্ঠানে প্রার্থীদের সাত-আটটি বিষয় খুব সংক্ষেপে আলোচনা করতে হতে পারে। আলাদা বিতর্ক হলে প্রতি পর্বে এক বা দুটি বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া এবং প্রার্থীদের মধ্যে প্রশ্নোত্তরের সুযোগ রাখা সম্ভব।
সম্ভাব্য বিষয় হিসেবে তিনি পরিবহন এবং সংশান বিমানবন্দর স্থানান্তরের নাম বলেন। বিমানবন্দরের প্রসঙ্গটি বিতর্কের সম্ভাব্য বিষয়ের উদাহরণ ছিল; এ অনুষ্ঠানে কোনো আলোচ্যসূচি চূড়ান্ত হয়নি, কিংবা স্থানান্তরের বিস্তারিত পরিকল্পনাও উপস্থাপন করা হয়নি।
চিয়াং বলেন, বিতর্কের আয়োজনের জন্য টিভিবিএসকে নীতিগতভাবে দুই প্রচার শিবিরই সম্মতি দিয়েছে এবং সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করেছে। তিনি শেনের প্রতিনিধিদের ১২ অক্টোবরের সমন্বয় বৈঠকে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান। তাঁর যুক্তি, বিতর্কের সংখ্যা নিয়ে প্রচারের কথা বলার চেয়ে বাস্তবে বিতর্ক আয়োজন করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
আগের সন্ধ্যায় তাঁদের সংক্ষিপ্ত কথোপকথন নিয়েও দুই প্রার্থী ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন। শেন বলেন, তিনি চারটি বিতর্কের কথা বোঝাতে চেয়েছিলেন, আর চিয়াং এক আঙুল তুলেছিলেন। চিয়াংয়ের প্রচার শিবিরের ভাষ্য, ওই ইঙ্গিতটি একটি বিতর্কে সম্মতির নয়, বরং সোমবারের সমন্বয় বৈঠকের কথা বলছিল। শেন নিশ্চিত করেন, তাঁর কর্মীরা বৈঠকে যাবেন।
বিতর্কের সংখ্যা, তারিখ, বিষয় এবং প্রশ্নোত্তরের ধরন চূড়ান্ত হয়নি। আলাদাভাবে, আইনসভার সাবেক স্পিকার ইউ শি-কুনের মন্তব্যে চিয়াংয়ের পারিবারিক পটভূমি নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গ উঠলে শেন বলেন, প্রতিপক্ষের পরিবার বিতর্কের আওতার বাইরে; প্রচারের মনোযোগ নীতির ওপর থাকা উচিত।
নভেম্বরের ভোটের আগে প্রতীকী প্রত্যাবর্তন
বাওআন মন্দির শেনের প্রচারে ব্যক্তিগত গুরুত্ব বহন করে। তিনি বলেন, সেখানেই প্রথমবার প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গভীর রাতের থ্রেডস পোস্টে তিনি লেখেন, তাইপেইতে ঐক্যের আহ্বান জানানো একটি প্ল্যাকার্ড দেখে আবেগাপ্লুত হয়েছিলেন, পরে সমর্থকদের স্লোগান শুনে হেসেছেন। কেউ আসবে না বলে আগে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও উপস্থিতি যে দুইজনের বেশি হয়েছে, তা নিয়েও তিনি রসিকতা করেন।
কাওশিউং থেকে উত্তরে আসা এক অংশগ্রহণকারী রাস্তার পাশে সমর্থকদের পতাকা নাড়ানো, উল্লাস এবং বহর যাওয়ার সময় লাফানোর ভিডিও শেয়ার করেন। অনলাইনে কেউ কেউ পরিবেশটির সঙ্গে ২০০৪ সালের ‘হ্যান্ড ইন হ্যান্ড’ সমাবেশ এবং চেন শুই-বিয়েনের সময়কার নির্বাচনী প্রচারের দৃশ্যের তুলনা করেন। এসব তুলনা সমর্থকদের স্মৃতি ও প্রতিক্রিয়ার প্রকাশ; ভিড়ের আকার নিয়ে পরিমাপভিত্তিক কোনো ঐতিহাসিক ক্রমতালিকা নয়।
তাইওয়ানে ২৮ নভেম্বরের নির্বাচনে মেয়র,县 magistrate, কাউন্সিলর এবং গ্রাম বা ওয়ার্ডপ্রধানসহ নয় ধরনের পদে ১১ হাজার ৫১ জন স্থানীয় কর্মকর্তা নির্বাচিত হওয়ার কথা ছিল। তাইপেইয়ের নির্বাচনে শেনের প্রথম প্রচারমিছিল দৃশ্যমান উৎসাহ এবং জেলাভিত্তিক বিস্তারিত কর্মসূচি সামনে এনেছে; একই সঙ্গে যানজট, নিরাপত্তা ও প্রচার-পরিচিতি নিয়ে এমন কিছু সমস্যা প্রকাশ করেছে, যেগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ প্রয়োজন।
মূল বিষয়গুলো
- ১১ অক্টোবর শেনের প্রচারমিছিল ঝংশান ও দাতোং ঘুরে দালংদং বাওআন মন্দিরে শেষ হয়।
- প্রচারসহকারী ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের হিসাবে অনুসারী যানবাহনের সংখ্যা ২,০০০ ছাড়ানোর কথা জানান; যানবাহনের ধরনভিত্তিক বিভাজন প্রকাশ করা হয়নি।
- আনুষ্ঠানিক ইউটিউব সরাসরি সম্প্রচারে একসঙ্গে দর্শকসংখ্যা ৬০ হাজার ছাড়িয়েছিল বলে জানা গেছে।
- হুয়ালিয়েনগামী ট্রেন ধরতে যাওয়ার সময় বিলম্বিত এক শিক্ষার্থীর কাছে শেন ক্ষমা চান। পরে শিক্ষার্থী নিরাপদে পৌঁছানোর কথা জানান।
- পাঁচটি প্রস্তাবে ছিল রাতের সময় সমন্বয়, সাংস্কৃতিক পথ, ইউয়ানশান ক্রীড়াকেন্দ্র, পুরোনো বাড়ি মেরামত এবং কমিউনিটিভিত্তিক সেবাযত্ন।
- নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং বহিষ্কৃত কাউন্সিলর চেন ই-চুনের প্রচারে উপস্থিতি নিয়ে বিরোধের কথা প্রতিবেদনে উঠে আসে।
- বিতর্কের আয়োজন নিয়ে সমন্বয় বৈঠক ১২ অক্টোবর হওয়ার কথা ছিল; সংখ্যা ও ধরন তখনো অনির্ধারিত।
- তাইওয়ানের স্থানীয় নির্বাচন ২৮ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে হওয়ার কথা ছিল।






