৪.৯৯ ট্রিলিয়ন রুপির ব্যয় পরিকল্পনায় চলতি ব্যয়ের দিকে ঝোঁক
শ্রীলঙ্কার ২০২৭ সালের বরাদ্দ বিল অনুযায়ী, সরকারের ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে ৪,৯৯২,৭৭৩,৩৮৮,০০০ রুপি। চলতি ব্যয় প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বাড়লেও মূলধনি ব্যয় কমছে ৫.৪ শতাংশ। প্রস্তাবিত মোট ব্যয়ের বড় অংশ তাই সম্পদ ও উন্নয়ন প্রকল্পে বিনিয়োগের বদলে সরকারের নিয়মিত ব্যয়ের দিকে যাচ্ছে।
সূচিপত্র
- ৪.৯৯ ট্রিলিয়ন রুপির ব্যয় পরিকল্পনায় চলতি ব্যয়ের দিকে ঝোঁক
- বড় বাজেট, তবে মূলধনি ব্যয় কম
- সবচেয়ে বড় বরাদ্দ কোথায় যাচ্ছে
- বিনিয়োগের অংশে পরিবহন খাত এগিয়ে
- স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়লেও চলতি ব্যয়ই বেশি
- প্রাদেশিক বরাদ্দ ও জনপ্রশাসন আলাদা
- ভূমি নিয়ে বিরোধের মধ্যে নিরাপত্তা ব্যয় বাড়ছে
- ঋণগ্রহণের সীমা কেন ঘাটতি নয়
- ভোট ২০ নভেম্বর ও ১৪ ডিসেম্বর নির্ধারিত
- মূল বিষয়গুলো
সরকারি বরাদ্দ বিলে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলতি ব্যয় ধরা হয়েছে ৩,২৪০.২৪২৩৮৮ বিলিয়ন রুপি এবং মূলধনি ব্যয় ১,৭৫২.৫৩১ বিলিয়ন রুপি। এই অঙ্ক দুটি মোট ব্যয়ের যথাক্রমে প্রায় ৬৪.৯ শতাংশ ও ৩৫.১ শতাংশ।
শ্রমমন্ত্রী এবং অর্থ ও পরিকল্পনা উপমন্ত্রী ড. অনিল জয়ন্ত ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর বিলটি সংসদে উপস্থাপন করেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করা প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েক ১২ নভেম্বর বাজেট বক্তৃতা দেবেন বলে নির্ধারিত রয়েছে। ওই বক্তৃতার মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় পাঠ শুরু হবে এবং সরকারের বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরা হবে।
বিলে ৩,৮০০ বিলিয়ন রুপির ঋণগ্রহণসীমাও রাখা হয়েছে। মেয়াদপূর্তিতে পরিশোধযোগ্য ঋণ প্রতিস্থাপনের জন্য নেওয়া ঋণও এই অঙ্কের অন্তর্ভুক্ত। তাই বার্ষিক বাজেট ঘাটতি মেটাতে নতুন অর্থায়নের প্রয়োজনীয় পরিমাণ হিসেবে এটিকে দেখা ঠিক হবে না।
প্রস্তাবজুড়ে এই পার্থক্যগুলো গুরুত্বপূর্ণ: কোনো মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ মানেই তার বিনিয়োগ বাজেট নয়, ঋণগ্রহণের সীমা ঘাটতির হিসাব নয়, আর বিলটি এখনো অনুমোদিত ব্যয় আইন নয়। সংসদে এর নীতিমালা নিয়ে বিতর্ক, মন্ত্রণালয়গুলোর বরাদ্দ পর্যালোচনা এবং বিলটি পাসের জন্য ভোট হওয়া বাকি।
সরকারের প্রথম পাঠসংক্রান্ত ঘোষণায় মোট ব্যয়ের সুনির্দিষ্ট অঙ্ক নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ২০২৭ সালে ব্যয় ও ঋণগ্রহণের আইনি কাঠামো হিসেবে বিলটির পরিচয় দেওয়া হয়েছে।
বড় বাজেট, তবে মূলধনি ব্যয় কম
২০২৬ সালে মোট ব্যয় প্রায় ৪,৫৪৫ বিলিয়ন রুপি থেকে বেড়ে ২০২৭ সালে প্রায় ৪,৯৯২.৮ বিলিয়ন রুপি হবে বলে জানানো হয়েছে। এই অঙ্ক ধরে বৃদ্ধি প্রায় ৪৪৭.৮ বিলিয়ন রুপি, বা ৯.৯ শতাংশ। ২০২৬ সালের মোট অঙ্কটি পূর্ণসংখ্যায় গোল করা হওয়ায় তুলনাটি আনুমানিক।
মোট বরাদ্দ বাড়লেও চলতি ব্যয় প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বাড়ার বিপরীতে মূলধনি ব্যয় কমছে ৫.৪ শতাংশ। চলতি ব্যয়ের মধ্যে সাধারণত বেতন, সরবরাহ, রক্ষণাবেক্ষণ ও হস্তান্তরের মতো নিয়মিত খরচ থাকে। মূলধনি ব্যয়ে সাধারণত এমন সম্পদ ও উন্নয়নকাজে অর্থায়ন করা হয়, যার সুফল চলতি বছরের পরও অব্যাহত থাকে।
দুই ধরনের ব্যয়ের উদ্দেশ্য আলাদা। চলতি ব্যয়ে সরকারি পরিষেবা পরিচালনা করা যায়, আর মূলধনি ব্যয়ে নির্মাণ, সরঞ্জাম ও অন্যান্য বিনিয়োগের খরচ মেটানো যায়। তবে কোনো একটি খাতের বরাদ্দ দিয়েই পরিষেবার উন্নতি হবে কি না, তা নিশ্চিত হয় না; কী কেনা হচ্ছে এবং পরিকল্পিত ব্যয় বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তার ওপরও ফল নির্ভর করে।
প্রতিবেদিত মূলধনি বরাদ্দের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বাজেট উপস্থাপনার অঙ্কের পার্থক্য রয়েছে, কিন্তু বিকল্প কোনো অঙ্ক বা সমন্বিত হিসাব দেওয়া হয়নি। ১২ নভেম্বরের বক্তৃতা এখনো নির্ধারিত থাকায় কোন উপস্থাপনার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে, তাও স্পষ্ট নয়। তাই বিলের ১,৭৫২.৫৩১ বিলিয়ন রুপিই উল্লেখিত অঙ্ক; বিভিন্ন বাজেট নথির সমন্বিত মোট নয়।
সবচেয়ে বড় বরাদ্দ কোথায় যাচ্ছে
অর্থ, পরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় সবচেয়ে বড় বরাদ্দ পেয়েছে বলে জানানো হয়েছে; এর পরিমাণ প্রায় ৮৫৬.৮ বিলিয়ন রুপি। অন্য একটি হিসাবে অঙ্কটি ৮৫৬.৯ বিলিয়ন রুপি। এই সামান্য পার্থক্যকে একমত হওয়া সুনির্দিষ্ট অঙ্ক হিসেবে না ধরে প্রতিবেদনে থাকা অসংগতি হিসেবেই রাখা উচিত।
সরকারি তফসিলে ১০২ নম্বর শিরোনামের অধীনে অর্থ, পরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নমন্ত্রীর জন্য তুলনামূলকভাবে সীমিত হিসাব দেওয়া হয়েছে। পরিচালন কার্যক্রমে চলতি খাতে ২৩৩.২৬৫৩৪ বিলিয়ন এবং মূলধনি খাতে ৩৫.৪৫৮৫ বিলিয়ন রুপি বরাদ্দ রয়েছে। উন্নয়ন কার্যক্রমে চলতি খাতে ১২ মিলিয়ন এবং মূলধনি খাতে ৯.০২ বিলিয়ন রুপি বরাদ্দ। এই খাতগুলোর মোট প্রায় ২৭৭.৭৫৬ বিলিয়ন রুপি। তাই ১০২ নম্বর শিরোনামের অঙ্ককে মন্ত্রণালয়ের বৃহত্তর প্রতিবেদিত বরাদ্দের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়।
অন্য বড় বরাদ্দগুলো অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাইরের ব্যয়ের পরিসর তুলে ধরে। সরকারি তফসিলে প্রাদেশিক পরিষদগুলোর জন্য ৬৫৯.৯৫ বিলিয়ন রুপি রাখা হয়েছে। জনপ্রশাসন, প্রাদেশিক পরিষদ ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ৬৫১ বিলিয়ন রুপি। স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যম পেয়েছে প্রায় ৫৯০.৫ বিলিয়ন রুপি; এরপর পরিবহন, মহাসড়ক ও নগর উন্নয়ন খাতে ৫০০ বিলিয়ন রুপি।
প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ ৪৫৮ বিলিয়ন রুপি। শিক্ষা, উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় ৩২৮ বিলিয়ন রুপি। কৃষি, পশুপালন, ভূমি ও সেচ খাতে বরাদ্দ ২১৮ বিলিয়ন রুপি বলে জানানো হয়েছে। এই অঙ্কগুলো প্রস্তাবিত বরাদ্দ; সম্পন্ন ব্যয় বা পরিষেবা প্রদানের পরিমাপক পরিবর্তন নয়।
বিনিয়োগের অংশে পরিবহন খাত এগিয়ে
বিলে বিস্তারিত দেওয়া খাতগুলোর মধ্যে পরিবহন, মহাসড়ক ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের বিনিয়োগের ধরন সবচেয়ে স্পষ্ট। মোট ৫০০ বিলিয়ন রুপির মধ্যে ৪৩২ বিলিয়ন মূলধনি ব্যয় এবং ৬৮ বিলিয়ন চলতি ব্যয়।
মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের ৮৬.৪ শতাংশই মূলধনি ব্যয়। এর ৪৩২ বিলিয়ন রুপি পুরো বিলের ১,৭৫২.৫৩১ বিলিয়ন রুপির মূলধনি বরাদ্দের প্রায় ২৪.৭ শতাংশ। অর্থাৎ প্রস্তাবিত সরকারি মূলধনি ব্যয়ের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই মন্ত্রণালয়ের জন্য রাখা হয়েছে।
জাতীয় পর্যায়ে মূলধনি ব্যয় কমলেও সব মন্ত্রণালয়ে সমান হারে কাটছাঁট হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না; এই কেন্দ্রীভবন তা বুঝতে সাহায্য করে। মোট মূলধনি ব্যয় কমার পরও পরিবহন খাতে বড় বিনিয়োগ বরাদ্দ রয়েছে। তবে কোন নির্দিষ্ট প্রকল্প এগোবে, নির্মাণের সময়সূচি কী হবে বা বরাদ্দে কী পরিবর্তন এসেছে, তা এই অঙ্কগুলো থেকে জানা যায় না।
কৃষি, জ্বালানি ও আবাসন খাতেও চলতি ব্যয়ের চেয়ে মূলধনি ব্যয় বেশি বলে জানানো হয়েছে। এসব খাতের সুনির্দিষ্ট শ্রেণিভিত্তিক অঙ্ক এখানে দেওয়া নেই, তাই পরিবহন খাতের মতো একই ভিত্তিতে তাদের বিনিয়োগের অংশ হিসাব করা যায় না।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়লেও চলতি ব্যয়ই বেশি
স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যম মন্ত্রণালয় চলতি খাতে ৪৭০.৪৯৯৯৯৮ বিলিয়ন এবং মূলধনি খাতে ১২০ বিলিয়ন রুপি পেয়েছে; মোট বরাদ্দ প্রায় ৫৯০.৫ বিলিয়ন রুপি। এর প্রায় ৭৯.৭ শতাংশ চলতি ব্যয় এবং ২০.৩ শতাংশ মূলধনি ব্যয়।
২০২৬ সালে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ছিল ৫১৪ বিলিয়ন রুপি বলে জানানো হয়েছে। সে তুলনায় প্রস্তাবিত মোট বরাদ্দ প্রায় ৭৬.৫ বিলিয়ন রুপি বেশি, অর্থাৎ ১৪.৯ শতাংশ বৃদ্ধি। এই তুলনায় আগের বছরের প্রতিবেদিত অঙ্ক ও ২০২৭ সালের মন্ত্রণালয়ের মোট বরাদ্দ ব্যবহার করা হয়েছে; বৃদ্ধির কত অংশ নির্দিষ্ট হাসপাতাল, কর্মসূচি বা গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে যাবে, তা এতে বোঝা যায় না।
শিক্ষা, উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় চলতি খাতে ২৫০ বিলিয়ন এবং মূলধনি খাতে ৭৮ বিলিয়ন রুপি বরাদ্দ রয়েছে। মোট ৩২৮ বিলিয়ন রুপি, যা ২০২৬ সালের প্রতিবেদিত ৩০১ বিলিয়ন রুপির তুলনায় ২৭ বিলিয়ন বেশি; বৃদ্ধি প্রায় ৯ শতাংশ।
শিক্ষা খাতের বরাদ্দের প্রায় ২৩.৮ শতাংশ মূলধনি ব্যয়। ফলে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা, দুই খাতেই ২০২৬ সালের প্রতিবেদিত বরাদ্দের চেয়ে ২০২৭ সালের প্রস্তাবিত মোট বরাদ্দ বেশি; তবে ২০২৭ সালের অর্থায়নের বেশির ভাগই নিয়মিত ব্যয়ের জন্য। শ্রেণিভিত্তিক অঙ্ক থেকে জনবল, সরঞ্জাম কেনা বা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বরাদ্দের বণ্টন জানা যায় না।
প্রাদেশিক বরাদ্দ ও জনপ্রশাসন আলাদা
বিলে প্রাদেশিক পরিষদগুলোকে জনপ্রশাসন, প্রাদেশিক পরিষদ ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা করে দেখানো হয়েছে। প্রাদেশিক পরিষদগুলো চলতি খাতে ৫৭৪.৯৫ বিলিয়ন এবং মূলধনি খাতে ৮৫ বিলিয়ন রুপি পেয়েছে; মোট ৬৫৯.৯৫ বিলিয়ন রুপি। জনপ্রশাসন খাতে চলতি ব্যয় ৬০৮ বিলিয়ন এবং মূলধনি ব্যয় ৪৩ বিলিয়ন রুপি; মোট ৬৫১ বিলিয়ন রুপি।
দুটি বরাদ্দ মিলিয়ে ১,৩১০.৯৫ বিলিয়ন রুপি, যা প্রস্তাবিত মোট ব্যয়ের প্রায় ২৬.৩ শতাংশ। উভয় খাতেই চলতি ব্যয়ের অংশ বেশি: প্রাদেশিক পরিষদগুলোর ক্ষেত্রে প্রায় ৮৭.১ শতাংশ এবং জনপ্রশাসনের ক্ষেত্রে ৯৩.৪ শতাংশ।
বরাদ্দ দুটি আলাদা রাখা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মন্ত্রণালয়ের নামে প্রাদেশিক পরিষদের উল্লেখ থাকলেও তার বরাদ্দকে পৃথক প্রাদেশিক অর্থায়ন খাতগুলোর বিকল্প হিসেবে ধরা যায় না। তাদের মোট পরিসর বোঝাতে বরাদ্দ দুটি যোগ করা যেতে পারে, তবে পাঠককে জানাতে হবে যে এগুলো পৃথক বরাদ্দ।
সংসদের বাজেট প্রক্রিয়ার নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সংবিধানের ১৫৪আর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রাদেশিক অর্থায়নের সুপারিশে অর্থ কমিশনের ভূমিকা রয়েছে। কমিশন জনসংখ্যা, আয় ও প্রদেশগুলোর মধ্যকার বৈষম্য বিবেচনায় নেয়। তবে সামগ্রিক প্রাদেশিক বরাদ্দ থেকে একা বোঝা যায় না, এসব বিবেচনা প্রতিটি প্রদেশের অর্থায়নে কীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
ভূমি নিয়ে বিরোধের মধ্যে নিরাপত্তা ব্যয় বাড়ছে
প্রতিরক্ষা খাতে চলতি ব্যয় ৩৮৮ বিলিয়ন এবং মূলধনি ব্যয় ৭০ বিলিয়ন রুপি। মোট ৪৫৮ বিলিয়ন রুপি ২০২৬ সালের প্রতিবেদিত ৪৫৫ বিলিয়ন রুপির তুলনায় ৩ বিলিয়ন বেশি; বৃদ্ধি প্রায় ০.৭ শতাংশ। প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা বাজেটের প্রায় ৮৪.৭ শতাংশ চলতি ব্যয়।
জননিরাপত্তা ও সংসদবিষয়ক খাতে ২৩০.৫ বিলিয়ন রুপি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। প্রতিরক্ষা খাতের সঙ্গে মিলিয়ে মোট ৬৮৮.৫ বিলিয়ন রুপি, যা প্রস্তাবিত মোট ব্যয়ের প্রায় ১৩.৮ শতাংশ। এই সম্মিলিত বরাদ্দ শিক্ষা খাতের ৩২৮ বিলিয়ন রুপির প্রায় ২.১ গুণ; তবে দুই খাতের কাজ আলাদা, আর নিরাপত্তা খাতের মধ্যে সংসদবিষয়ক দায়িত্বও রয়েছে।
জননিরাপত্তা খাতের তুলনায় প্রতিবেদনে অমিল রয়েছে। একটি হিসাবে বরাদ্দ ১৯৩ বিলিয়ন থেকে বেড়ে ২৩০.৫ বিলিয়ন রুপি হয়েছে, অর্থাৎ প্রায় ১৯.৪ শতাংশ বৃদ্ধি। অন্য হিসাবে ১৮৩ বিলিয়ন থেকে গোল করা ২৩০ বিলিয়ন রুপিতে বেড়েছে, অর্থাৎ প্রায় ২৫.৭ শতাংশ বৃদ্ধি। শুরুর অঙ্ক আলাদা হওয়ায় নিশ্চিতভাবে একটি প্রবৃদ্ধির হার বলা যাচ্ছে না।
প্রতিরক্ষা বরাদ্দ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন উত্তরে সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী অরুণা জয়শেকারা ২০২৬ সালের জুলাইয়ে সংসদকে জানান, ভালিকামাম উত্তর উচ্চনিরাপত্তা অঞ্চলের ভেতরের ১,৬৬১ একর জমি ছেড়ে দেওয়ার বদলে স্থায়ীভাবে অধিগ্রহণ করা হবে। মাইলিড্ডির জমির মালিকেরা টানা ২৩ সপ্তাহ ধরে সাপ্তাহিক বিক্ষোভ করেছেন বলে খবর রয়েছে।
সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যসংখ্যা কমানোর সরকারি অঙ্গীকারের পরও সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ অব্যাহত রয়েছে বলেও প্রতিবেদন রয়েছে। বাজেটের মোট অঙ্ক থেকে জনবলের লক্ষ্যমাত্রা বা বিতর্কিত জমির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যয় জানা যায় না। তাই এসব বিষয়কে বরাদ্দের অঙ্ক থেকে সরাসরি বোঝা যায় এমন তথ্য থেকে আলাদা করে দেখা উচিত।
ঋণগ্রহণের সীমা কেন ঘাটতি নয়
বিলে বলা হয়েছে, এর বিধানের আওতায় অনুমোদিত ঋণের বকেয়া স্থিতি ২০২৭ সালের কোনো সময়ে বা অর্থবছরের শেষে ৩,৮০০ বিলিয়ন রুপির বেশি হতে পারবে না। এটি বিলের আওতায় ঋণগ্রহণের আইনি সীমা; বার্ষিক ঘাটতি ৩,৮০০ বিলিয়ন রুপি হবে, এমন ঘোষণা নয়।
নির্দিষ্ট সময়ে ব্যয় ও রাজস্বের ব্যবধান হলো ঘাটতি। মেয়াদপূর্তিতে পরিশোধযোগ্য ঋণ প্রতিস্থাপনেও ঋণ নেওয়া হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, পুরোনো ঋণ শোধে নতুন ঋণ নিলে ঋণগ্রহণের অনুমোদন লাগে, যদিও তা নতুন ব্যয়ের জন্য একই পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থায়ন বোঝায় না।
এই পার্থক্য না বুঝলে ঋণসীমাকে ঘাটতি অথবা শ্রীলঙ্কার মোট সরকারি ঋণের পরিমাণ হিসেবে ভুল পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। ঋণসংক্রান্ত বিধান এবং ব্যয়ের মোট অঙ্ক আলাদা প্রশ্নের উত্তর দেয়; এগুলো একা রাজস্বের প্রয়োজন বা চূড়ান্ত অর্থায়ন ঘাটতি নির্ধারণ করতে পারে না।
দিসানায়েক যে পুরো কর প্যাকেজ ঘোষণা করবেন, বরাদ্দগুলোতে তার বিস্তারিতও নেই। প্রতিবেদনে প্রেসিডেন্টের বরাদ্দ ২০২৬ সালের ৮.২ বিলিয়ন থেকে বেড়ে ১১.২ বিলিয়ন রুপি হয়েছে বলা হলেও তুলনাটির ভাষা স্পষ্ট নয়। প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্দ ৮৯৮ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ১.০২ বিলিয়ন রুপি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এসব তুলনামূলক ছোট বরাদ্দ রাজস্ব ও অর্থায়নের বৃহত্তর প্রশ্নের উত্তর দেয় না।
ভোট ২০ নভেম্বর ও ১৪ ডিসেম্বর নির্ধারিত
সংসদের বাজেট কর্মসূচিতে দ্বিতীয় পাঠের বিতর্কের জন্য সাত দিন এবং কমিটি পর্যায়ের জন্য ১৯ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রক্রিয়ায় প্রথমে বাজেটের নীতিমালা বিবেচনা করা হবে, এরপর মন্ত্রণালয়ভিত্তিক ব্যয়ের খাত পর্যালোচনা হবে এবং সবশেষে চূড়ান্ত ভোট হবে।
- ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: বিলের পরিপূরক অংশসহ গেজেটের অংশের তারিখ; এটি ২১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়।
- ৭ অক্টোবর, ২০২৬: অনিল জয়ন্ত প্রথম পাঠের জন্য বিলটি উপস্থাপন করেন।
- ১২ নভেম্বর, ২০২৬: দিসানায়েকের বাজেট বক্তৃতা দেওয়ার দিন নির্ধারিত।
- ১৩ থেকে ২০ নভেম্বর, ২০২৬: বিতর্কের জন্য নির্ধারিত সাত দিন; দ্বিতীয় পাঠের ভোট ২০ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় হওয়ার কথা।
- ২১ নভেম্বর থেকে ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৬: কমিটিতে বিতর্কের জন্য নির্ধারিত ১৯ দিন; তৃতীয় পাঠের ভোট ১৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় হওয়ার কথা।
- ১ জানুয়ারি, ২০২৭: প্রস্তাবিত আইনের আওতাধীন অর্থবছর শুরু।
সংসদের কর্মসূচির একটি স্থানে দ্বিতীয় পাঠের ভোটের তারিখ ২০ নভেম্বর, ২০২৫ ছাপা হয়েছে। বাকি সময়সূচিতে ২০২৬ সাল উল্লেখ রয়েছে এবং সরকারের প্রথম পাঠের ঘোষণায় ২০২৬ সালের নভেম্বরের সময়সূচি নিশ্চিত করা হয়েছে। ওই একক তারিখটি কর্মসূচির অন্য অংশের সঙ্গে অসংগত।
বাজেট বিতর্কের সময় সংসদের বৈঠক সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়ার কথা। শনিবার বৈঠক হবে, তবে রোববার ও সরকারি ছুটির দিন বাদ থাকবে। কর্মসূচিতে বিতর্কের জন্য সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সময় রাখা হয়েছে।
সংসদের বর্ণিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী, বিল উত্থাপন হলো প্রথম পাঠ, আর বাজেট বক্তৃতার মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় পাঠ শুরু হয়। ওই পর্যায়ে অনুমোদন পেলে ব্যয়ের খাতগুলো খতিয়ে দেখতে বিলটি পুরো সংসদ নিয়ে গঠিত কমিটিতে যায়। সংশোধনীসহ বা সংশোধনী ছাড়া চূড়ান্ত অনুমোদন হলে পরের বছরের বরাদ্দ কার্যকর করার অনুমতি মেলে।
সংসদের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে সরকারি অর্থের ওপর নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হয়েছে; আর ১৫০ অনুচ্ছেদে সমন্বিত তহবিল থেকে অর্থ উত্তোলনের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, বরাদ্দ বিল প্রত্যাখ্যাত হলে ৪৮(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মন্ত্রিসভা ভেঙে যায়। তাই নির্ধারিত ভোটগুলো ব্যয়ের অনুমোদনের পাশাপাশি সরকারের টিকে থাকার বিষয়েও সিদ্ধান্ত।
মূল বিষয়গুলো
- ২০২৭ সালের জন্য প্রস্তাবিত মোট ব্যয় ৪,৯৯২.৭৭৩৩৮৮ বিলিয়ন রুপি।
- চলতি ব্যয় ৩,২৪০.২৪২৩৮৮ বিলিয়ন রুপি, যা প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বাড়ছে; মূলধনি ব্যয় ৫.৪ শতাংশ কমে ১,৭৫২.৫৩১ বিলিয়ন রুপি হচ্ছে।
- পরিবহন খাতে মূলধনি বরাদ্দ ৪৩২ বিলিয়ন রুপি, যা জাতীয় মূলধনি বরাদ্দের প্রায় এক-চতুর্থাংশ।
- প্রতিরক্ষা ও জননিরাপত্তা খাতে সম্মিলিত বরাদ্দ ৬৮৮.৫ বিলিয়ন রুপি বলে জানানো হয়েছে; প্রস্তাবিত ব্যয়ের প্রায় ১৩.৮ শতাংশ।
- ৩,৮০০ বিলিয়ন রুপির ঋণগ্রহণসীমায় পুনঃঅর্থায়ন অন্তর্ভুক্ত; এটি বার্ষিক ঘাটতি নয়।
- বাজেট বক্তৃতা ১২ নভেম্বর, ২০২৬ নির্ধারিত; এরপর ২০ নভেম্বর ও ১৪ ডিসেম্বর ভোট হওয়ার কথা।
- সংসদে বিতর্ক, সম্ভাব্য সংশোধনী ও অনুমোদনের ওপর বিলটির কার্যকারিতা নির্ভর করছে।






