দুই দিনে ওয়াং মানইউর দুই শিরোপা
১১ অক্টোবর ২০২৬ বেইজিংয়ে ডব্লিউটিটি চায়না স্ম্যাশের নারী এককের শিরোপা ধরে রাখেন ওয়াং মানইউ। ফাইনালে জাপানের হিতোমি সাতোকে ৪-০ ব্যবধানে হারান তিনি। এর এক দিন আগে কুয়াই মানের সঙ্গে নারী দ্বৈতের শিরোপাও সফলভাবে ধরে রেখেছিলেন ওয়াং। ১১-২, ১১-৮, ১১-৩, ১১-৯ গেমে জয়ের মধ্য দিয়ে টানা দ্বিতীয়বার চায়না স্ম্যাশে দুই শিরোপাই জিতলেন তিনি। এটি ডব্লিউটিটি গ্র্যান্ড স্ম্যাশে তাঁর চতুর্থ একক শিরোপাও।
সূচিপত্র
- দুই দিনে ওয়াং মানইউর দুই শিরোপা
- ফাইনালে যেভাবে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখলেন ওয়াং
- দ্বিতীয় গেমে কেন আলাদা নিয়ম কার্যকর হলো
- হেরেও নতুন মাইলফলক সাতোর
- নির্ণায়ক জয়ের আগে কঠিন পথ
- আগে এল দ্বৈতের শিরোপা ধরে রাখার পালা
- সাত গেমের ফাইনালে ঘুরে দাঁড়ালেন মাতসুশিমা
- সেমিফাইনালে শেষ হলো ঝোউয়ের সেরা গ্র্যান্ড স্ম্যাশ অভিযান
- তিন দলের মধ্যে পাঁচ শিরোপা ভাগ
- মূল বিষয়গুলো
পুরুষ এককের শিরোপা জিতেছেন জাপানের সোরা মাতসুশিমা। ৩-২ গেমে পিছিয়ে পড়ার পর ঘুরে দাঁড়িয়ে সাত গেমের লড়াইয়ে চাইনিজ তাইপের লিন ইউন-জুকে হারান তিনি। টুর্নামেন্টের পাঁচ শিরোপার মধ্যে চীন জিতেছে দুটি; ২০২৫ সালে জিতেছিল পাঁচটিই। পুরুষ দ্বৈত ও মিশ্র দ্বৈত, দুই বিভাগেই শিরোপা জিতেছে দক্ষিণ কোরিয়া। দুই জয়ী জুটিতেই ছিলেন লিম জং-হুন।
টুর্নামেন্টটি ১ থেকে ১১ অক্টোবর বেইজিংয়ের শিজিংশান জেলার শৌগাং পার্কে অনুষ্ঠিত হয়। মূল পর্ব শুরু হয় ৪ অক্টোবর। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির চায়না স্ম্যাশের ফলাফলের হালনাগাদ তালিকায় প্রতিদিনের ফল, ওয়াংয়ের দুই শিরোপা ধরে রাখার তথ্য এবং চূড়ান্ত শিরোপা তালিকা রয়েছে।
নারী এককের ফাইনালটি শুধু বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ও প্রথমবার গ্র্যান্ড স্ম্যাশ ফাইনালে ওঠা এক খেলোয়াড়ের লড়াই ছিল না। তিন মাস আগে ডব্লিউটিটি ইউনাইটেড স্টেটস স্ম্যাশে ওয়াংকে ৩-০ গেমে হারিয়েছিলেন সাতো। বেইজিংয়ের ফাইনালে নামার আগে সাতোর বিপক্ষে ওয়াংয়ের জয়-হারের রেকর্ড ছিল ৬-১, তবে সাম্প্রতিক সেই হার এবারের লড়াইয়ে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছিল।
ফাইনালে যেভাবে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখলেন ওয়াং
শুরুতেই বড় ব্যবধানে এগিয়ে প্রথম গেম ১১-২ ব্যবধানে জেতেন ওয়াং। সাতোর রক্ষণাত্মক চপের বিপক্ষে বারবার আক্রমণ চালিয়ে চাপ বজায় রাখেন তিনি। টেবিল পেরিয়ে ফিরে আসা বলের স্পিনের সঙ্গেও মানিয়ে নেন।
চপাররা এমন শট খেলেন, যাতে বলে ব্যাকস্পিন তৈরি হয়; প্রায়ই টেবিলের বেশ পেছন থেকে আক্রমণ ফিরিয়ে দেন তাঁরা। এতে আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়কে ধৈর্য ধরে পয়েন্ট গড়তে হয়, কারণ একটি জোরালো শটেই র্যালি শেষ হওয়ার নিশ্চয়তা থাকে না। বারবার ভুল না করে আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতাই ছিল ওয়াংয়ের জয়ের অন্যতম চাবিকাঠি।
দ্বিতীয় গেমে সার্ভের ধরন বদলান সাতো। চতুর্থ গেমের আগে এটিই ছিল সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ গেম। এক্সপেডাইট ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার সময় ওয়াং ৯-৮ ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। এরপর টানা দুই পয়েন্ট জিতে ১১-৮ ব্যবধানে গেমটি নেন তিনি। তৃতীয় গেম ১১-৩ ব্যবধানে জিতে শিরোপা থেকে আর মাত্র এক গেম দূরে চলে যান ওয়াং।
শেষ গেমে সাতোর হাতে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ ছিল কম। পরপর ফোরহ্যান্ড আক্রমণে ১১-৯ ব্যবধানে গেমটি জিতে ফাইনাল শেষ করেন ওয়াং। চার গেমে ওয়াংয়ের পয়েন্ট ছিল ৪৪, সাতোর ২২—প্রতিপক্ষের দ্বিগুণ। তবে শেষ গেমে ব্যবধান ছিল মাত্র দুই পয়েন্ট, যা দেখায় শুরুতে যতটা সহজ মনে হয়েছিল, শেষটা ততটা স্বচ্ছন্দ ছিল না।
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ও শীর্ষ বাছাই ওয়াং পরে বলেন, ফল তাঁর নিজের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে:
"আমি ভাবিনি স্কোর ৪-০ হবে। ম্যাচে আমার মনোভাব স্থির ছিল এবং দৃঢ়তার সঙ্গে কৌশল বাস্তবায়ন করেছি," বলেন ওয়াং।
দ্বিতীয় গেমে কেন আলাদা নিয়ম কার্যকর হলো
ফাইনালের একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল এক্সপেডাইট ব্যবস্থা। দীর্ঘ র্যালি ও রক্ষণাত্মক খেলার কারণে পয়েন্ট ধীরে বাড়লে কোনো গেম যেন অনির্দিষ্টকাল ধরে না চলে, সে জন্য এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
এই ম্যাচে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী, ১০ মিনিট পার হওয়ার পরও খেলোয়াড়দের মোট পয়েন্ট ১৮ না হলে ব্যবস্থা কার্যকর হয়। আইটিটিএফ স্ট্যাটিউটস ২০২৫-এর ৪৩–৪৪ পৃষ্ঠায় টেবিল টেনিসের নিয়মাবলি-র ২.১৫.১ ও ২.১৫.২ ধারায় বলা হয়েছে, ১০ মিনিট খেলার পর অথবা দুই খেলোয়াড় বা জুটি চাইলে যেকোনো সময় এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে; তবে অন্তত ১৮ পয়েন্ট হয়ে গেলে তা চালু হবে না। দ্বিতীয় গেমে ৯-৮ স্কোরের সময় ওয়াং ও সাতোর মোট পয়েন্ট ছিল ১৭। ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার পর স্বাভাবিক নিয়মে পরপর দুইবার সার্ভ করার বদলে প্রতি পয়েন্টের পর সার্ভ বদলেছে।
এই ব্যবস্থায় সার্ভকারী খেলোয়াড় পরপর কতবার বল ফেরাতে পারবেন, তারও সীমা আছে; নির্দিষ্ট সীমা পেরোলে রিসিভার পয়েন্ট পান। ম্যাচের বিবরণে সার্ভকারীকে ১৩টি শটের মধ্যে পয়েন্ট জিততে হবে বলা হলেও, ২.১৫.৪ ধারার আরও নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী, র্যালিতে ১৩ বার সঠিকভাবে বল ফেরানোর পর পয়েন্ট পাবেন রিসিভার খেলোয়াড় বা জুটি। এতে কৌশলগত ভারসাম্য বদলে যায়, কারণ বল খেলায় ধরে রাখাই রিসিভারের পয়েন্ট জেতার পথ হতে পারে। ২.১৫.৬ ধারা অনুযায়ী, একবার চালু হলে ম্যাচ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই ব্যবস্থা কার্যকর থাকে।
ওয়াং বলেন, এই নিয়মের জন্য তিনি পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলেন এবং কৌশল বাস্তবায়নে দৃঢ় ও ধৈর্যশীল ছিলেন। দ্বিতীয় গেমে সেই প্রস্তুতির সুফল দেখা যায়: স্কোরের লড়াই যখন হাড্ডাহাড্ডি, তখন নিয়মে পরিবর্তন আসে; তবে সাতোকে সমতা ফেরানোর সুযোগ না দিয়ে বাকি দুই পয়েন্টই জিতে নেন ওয়াং।
হেরেও নতুন মাইলফলক সাতোর
ডব্লিউটিটি গ্র্যান্ড স্ম্যাশের নারী এককের ফাইনালে ওঠা প্রথম চপার হলেন সাতো। ফলে ফাইনালে হারলেও তাঁর খেলার ধরন ঘিরে একটি মাইলফলক অর্জনের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেছেন তিনি।
দ্বিতীয় রাউন্ডে চীনের লিউ জিলিংকে ৩-০ গেমে হারান সাতো। কোয়ার্টার ফাইনালে বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসা ঝু সিবিংকে হারান ৪-১ ব্যবধানে। ঝুর বিপক্ষে দ্বিতীয় গেম হারলেও পরের তিনটি গেম জিতে এগিয়ে যান তিনি।
১০ অক্টোবরের সেমিফাইনালে চীনের চেন শিংতং প্রথম গেম জেতেন ১১-২ ব্যবধানে। এরপর ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে টানা চার গেম জিতে ফাইনালে ওঠেন সাতো। গেমগুলোর স্কোর ছিল ১১-৮, ১১-৭, ১১-৯ ও ১১-৮।
এই ফলগুলো দেখায়, শুধু মুখোমুখি লড়াইয়ের অতীত রেকর্ড দিয়ে ওয়াংয়ের জয় ব্যাখ্যা করা যায় না। বেইজিংয়ে চীনের একাধিক খেলোয়াড়কে হারিয়েছিলেন সাতো; আগের দেখায়ও তিনি সরাসরি তিন গেমে ওয়াংকে হারান। ফাইনালে ওয়াং সেই সাম্প্রতিক ফল উল্টে দেন এবং রক্ষণাত্মক র্যালিকে দীর্ঘস্থায়ী চাপে পরিণত হতে দেননি।
নির্ণায়ক জয়ের আগে কঠিন পথ
ফাইনালে সরাসরি জিতলেও এককে ওয়াংয়ের অভিযানজুড়ে ছিল বেশ কঠিন একটি ম্যাচ। ৪ অক্টোবর ওয়াং অ্যামিকে ৩-০ গেমে হারিয়ে শুরু করেন তিনি। এরপর ৬ অক্টোবর ভারতের মনিকা বাত্রাকে হারান ৩-১ ব্যবধানে।
৮ অক্টোবর শি শুংইয়াওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচটি গড়ায় শেষ পর্যন্ত। প্রথম গেম ৮-১১ ব্যবধানে হেরে পরের দুটি ১১-৭ ও ১১-৮ ব্যবধানে জেতেন ওয়াং। চতুর্থ গেম ১৪-১৬ ব্যবধানে হারার পর নির্ণায়ক গেম ১১-৭ ব্যবধানে জিতে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন।
এরপর কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল মিলিয়ে খেলা ১৩ গেমের ১২টিই জিতেছেন তিনি। কোয়ার্টার ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার শিন ইউ-বিনকে ৪-০, সেমিফাইনালে জাপানের মিওয়া হারিমোতোকে ৪-১ এবং ফাইনালে সাতোকে ৪-০ গেমে হারিয়ে শিরোপা জেতেন ওয়াং।
ওয়াং বলেন, চাপ সামলে কঠিন পরিস্থিতি পার হওয়ায় এই শিরোপাটি তাঁর কাছে বিশেষ অর্থবহ। আশপাশের মানুষদের সমর্থনের কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উল্লেখ করেন তিনি। এককের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বলেন:
"এশিয়ান গেমসের পর পাওয়া ছন্দ নিয়েই চায়না স্ম্যাশে খেলতে এসেছিলাম। এই সময়ে নানা কঠিন পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি। কোচ ও সতীর্থদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ; তাঁদের সহায়তায় ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে পেরেছি," বলেন ওয়াং।
আগে এল দ্বৈতের শিরোপা ধরে রাখার পালা
১০ অক্টোবর নারী দ্বৈতের শিরোপা জেতেন ওয়াং ও কুয়াই। ফাইনালে জাপানের মিওয়া হারিমোতো ও হিনা হায়াতাকে ৩-১ গেমে হারান তাঁরা। প্রথম গেম ১৩-১১ ও দ্বিতীয়টি ১১-২ ব্যবধানে জেতার পর তৃতীয় গেম ৯-১১ ব্যবধানে হারেন। শেষ গেম ১১-৭ ব্যবধানে জিতে ম্যাচ শেষ করেন তাঁরা।
ফাইনালে ওঠার পথে লিউ ইয়াংজি ও ওয়ান ইউয়ানকে ৩-০, কোয়ার্টার ফাইনালে গাও ইউশিন ও শিয়াং জুনলিনকে ৩-০ এবং সেমিফাইনালে চেন ই ও লি ইয়েইওয়েইকে ৩-১ গেমে হারান তাঁরা। কয়েকটি গেমে অতিরিক্ত পয়েন্টের লড়াই হয়েছে; কোয়ার্টার ফাইনালের একটি গেম তাঁরা জেতেন ১৫-১৩ ব্যবধানে।
নারী দ্বৈতের চার সেমিফাইনালিস্টের তিনজনই ছিল চীনের। ওয়াং ইদি ও জিয়াং ইয়িইয়ি অন্য সেমিফাইনালে হারিমোতো ও হায়াতার কাছে হেরে যান। ফলে জাপানি জুটির বিপক্ষে শিরোপা ধরে রাখার দায়িত্ব পড়ে ওয়াং ও কুয়াইয়ের ওপর।
দুই শিরোপা ধরে রাখার পর ওয়াং তাঁর শারীরিক সক্ষমতা উন্নয়ন দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। টুর্নামেন্টে মানসিক ও শারীরিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়লেও দলটি দীর্ঘ সময় প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাওয়ার মতো সুস্থ অবস্থা বজায় রাখতে সহায়তা করেছে বলে জানান তিনি। দর্শকদের উৎসাহের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে চীনের দলকে সমর্থন অব্যাহত রাখার আহ্বানও জানান।
তাঁর সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহ বুঝতে এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ: ক্লান্তির কথা বলা মানে তিনি চোট পেয়েছেন বা খেলতে অক্ষম ছিলেন, এমন নয়। বরং দুই বিভাগেই শেষ পর্যন্ত এগিয়ে যাওয়ার চাপ এবং সফলভাবে শেষ করতে যে সমর্থন পেয়েছেন, সে কথাই বলেছেন তিনি।
সাত গেমের ফাইনালে ঘুরে দাঁড়ালেন মাতসুশিমা
টুর্নামেন্টের প্রতিবেদনে বিশ্ব এক নম্বর হিসেবে পরিচিত মাতসুশিমা পুরুষ এককের ফাইনালে প্রথম দুটি গেম জেতেন ১১-৭ ও ১১-৯ ব্যবধানে। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন লিন। টানা তিন গেম ১১-৭, ১১-৮ ও ১১-৫ ব্যবধানে জিতে শিরোপা থেকে এক গেম দূরে চলে যান তিনি।
ষষ্ঠ গেম ১১-৭ এবং নির্ণায়ক গেম ১১-৯ ব্যবধানে জিতে জবাব দেন মাতসুশিমা। তাঁর দিক থেকে পুরো গেমের স্কোর ছিল ১১-৭, ১১-৯, ৭-১১, ৮-১১, ৫-১১, ১১-৭, ১১-৯।
টেবিল টেনিসে ম্যাচের ফল মোট পয়েন্টের বদলে গেমের সংখ্যায় নির্ধারিত হয়, এই ফল তা-ই মনে করিয়ে দেয়। ফাইনালে মাতসুশিমার ৬২ পয়েন্টের বিপরীতে লিনের পয়েন্ট ছিল ৬৫। তবু মাতসুশিমা চারটি গেম জিতেছেন, লিন জিতেছেন তিনটি। লিনের জেতা কয়েকটি গেমে ব্যবধান বেশি থাকলেও নির্ণায়ক গেমে হার সেই ব্যবধান পুষিয়ে দিতে পারেনি।
১১ অক্টোবর ফাইনালের আগেই দুই খেলোয়াড় সেমিফাইনাল খেলেছিলেন। মাতসুশিমা চীনের ঝোউ কিয়াহাওকে ৪-২ এবং লিন ব্রাজিলের হুগো কালদেরানোকে ৪-৩ গেমে হারান। কালদেরানোর বিপক্ষে প্রথম দুই গেম হারার পর ঘুরে দাঁড়িয়ে সপ্তম গেম ১১-৫ ব্যবধানে জেতেন লিন। এরপর আরেকটি পূর্ণদৈর্ঘ্যের ম্যাচ খেলতে ফেরেন তিনি।
সেমিফাইনালে শেষ হলো ঝোউয়ের সেরা গ্র্যান্ড স্ম্যাশ অভিযান
পুরুষ এককে চীনের একমাত্র সেমিফাইনালিস্ট ছিলেন ঝোউ। গ্র্যান্ড স্ম্যাশে প্রথমবার এই পর্যায়ে ওঠেন তিনি। মাতসুশিমার কাছে থামার আগে কয়েকটি ম্যাচে পিছিয়ে থেকেও ঘুরে দাঁড়ান।
দ্বিতীয় রাউন্ডে শিয়াং পেংয়ের বিপক্ষে প্রথম দুই গেম হারার পর টানা তিনটি গেম জেতেন ঝোউ; এর মধ্যে নির্ণায়ক গেমটি জেতেন ১৩-১১ ব্যবধানে। শেষ ষোলোয় জাপানের তোমোকাজু হারিমোতোকে ১১-৯, ১১-৮ ও ১১-৯ ব্যবধানে হারিয়ে ৩-০ গেমে জয় পান তিনি।
কোয়ার্টার ফাইনালে ২-১ গেমে পিছিয়ে পড়ার পর ঘুরে দাঁড়িয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার জাং উ-জিনকে ৪-২ ব্যবধানে হারান ঝোউ। পঞ্চম গেম ১৪-১২ ব্যবধানে জিতে এগিয়ে যান তিনি। ষষ্ঠ গেম ১১-৬ ব্যবধানে জিতে জয় সম্পন্ন করেন।
সেমিফাইনালেও শুরুতে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রথম দুই গেম ১১-৬ ও ১১-৯ ব্যবধানে জেতেন মাতসুশিমা। জবাবে ঝোউ ১২-১০ ও ১১-৭ ব্যবধানে জিতে সমতা ফেরান। তবে এবার আর ঘুরে দাঁড়ানো সম্পূর্ণ হয়নি; পরের দুই গেম ১১-৭ ও ১১-৫ ব্যবধানে জিতে নেন মাতসুশিমা।
খেলা শুরুর আগেই চীনের পুরুষ এককের দল চোটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। আইওসির ফলাফলের তালিকায় চোটের কারণে ওয়াং চুকিন ও লিন শিদোংয়ের একক থেকে নাম প্রত্যাহারের তথ্য রয়েছে। মিশ্র দ্বৈত থেকে ওয়াং চুকিন ও সান ইংশার, লিন শিদোং ও কুয়াই মানের এবং পুরুষ দ্বৈত থেকে লিন শিদোং ও হুয়াং ইউঝেংয়ের নাম প্রত্যাহারের কথাও সেখানে উল্লেখ আছে।
তিন দলের মধ্যে পাঁচ শিরোপা ভাগ
পাঁচটি ইভেন্টের মধ্যে ৪০ শতাংশ শিরোপা জিতেছে চীন। ২০২৫ সালে পাঁচটি শিরোপাই জিতেছিল তারা। দুই জয়েই ছিলেন ওয়াং; নারী দ্বৈতের শিরোপায় তাঁর সঙ্গে ছিলেন কুয়াই। এই তুলনা এবারের টুর্নামেন্টের ফল তুলে ধরে, তবে খেলোয়াড়দের নাম প্রত্যাহার এবং আলাদা আলাদা ম্যাচের ফল বিবেচনায় নিলে একে প্রতিটি দলের সামগ্রিক শক্তির পূর্ণাঙ্গ মাপকাঠি বলা যায় না।
চীনের সমান দুটি শিরোপা জিতেছে দক্ষিণ কোরিয়া। ওহ জুন-সুংয়ের সঙ্গে পুরুষ দ্বৈত এবং শিন ইউ-বিনের সঙ্গে মিশ্র দ্বৈত জিতেছেন লিম জং-হুন। মিশ্র দ্বৈতের ফাইনালে লিন ইউন-জু ও চেং ই-চিংয়ের কাছে ২-১ গেমে পিছিয়ে পড়েও লিম ও শিন ৩-২ ব্যবধানে জেতেন। গেমগুলোর স্কোর ছিল ১২-১৪, ১১-৯, ১৬-১৮, ১৩-১১ ও ১১-৮।
কোয়ার্টার ফাইনালেই শেষ হয় চীনের মিশ্র দ্বৈতের অভিযান। সেখানে হুয়াং ইউঝেং ও চেন ই ৩-২ গেমে মাতসুশিমা ও মিওয়া হারিমোতোর কাছে হেরে যান। পুরুষ দ্বৈতে ওয়েন রুইবো ও ইউয়ান লিসেন সেমিফাইনালে ওঠেন, তবে ফ্রান্সের লেব্রান ভ্রাতৃদ্বয়ের কাছে ৩-১ গেমে হারেন।
শেষ তিন দিনের উল্লেখযোগ্য ফল ছিল:
- ৯ অক্টোবর: লিম জং-হুন ও শিন ইউ-বিন মিশ্র দ্বৈত জেতেন; ওয়াং ও কুয়াই নারী দ্বৈতের ফাইনালে ওঠেন।
- ১০ অক্টোবর: ওয়াং ও কুয়াই নারী দ্বৈতের শিরোপা ধরে রাখেন; ওয়াং ও সাতো নারী এককের ফাইনালে ওঠেন।
- ১১ অক্টোবর: ওয়াং নারী এককের শিরোপা ধরে রাখেন। সেমিফাইনালে ঝোউকে হারিয়ে মাতসুশিমা পুরুষ একক জেতেন।
পাঁচ বিভাগের চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ হয়েছে। ওয়াং, মাতসুশিমা বা অন্য চ্যাম্পিয়নদের পরবর্তী টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ কিংবা চোট পাওয়া চীনা খেলোয়াড়দের ফেরার তারিখ সম্পর্কে ফলাফলের তালিকায় কিছু জানানো হয়নি।
মূল বিষয়গুলো
- হিতোমি সাতোকে ৪-০ গেমে হারিয়ে চায়না স্ম্যাশের নারী এককের শিরোপা ধরে রেখেছেন ওয়াং মানইউ।
- মিওয়া হারিমোতো ও হিনা হায়াতাকে ৩-১ গেমে হারিয়ে কুয়াই মানের সঙ্গে নারী দ্বৈতের শিরোপাও ধরে রেখেছেন ওয়াং।
- টানা দ্বিতীয় বছর চায়না স্ম্যাশের দুই বিভাগেই জিতেছেন ওয়াং।
- ডব্লিউটিটি গ্র্যান্ড স্ম্যাশের নারী এককের ফাইনালে ওঠা প্রথম চপার হয়েছেন সাতো।
- পুরুষ এককের ফাইনালে ৩-২ গেমে পিছিয়ে থেকেও লিন ইউন-জুকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়েছেন সোরা মাতসুশিমা।
- গ্র্যান্ড স্ম্যাশে পুরুষ এককের সেমিফাইনালে প্রথমবার উঠেছেন ঝোউ কিয়াহাও।
- চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া দুটি করে শিরোপা জিতেছে; পুরুষ এককের শিরোপা গেছে জাপানের কাছে।






