মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের পর এনটিএর সংস্কার নিয়ে প্রশ্ন
ভারতের ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) ২০২৬ সালের ৩ মে NEET UG পরীক্ষা নেয়। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের মধ্যে ১২ মে পরীক্ষাটি বাতিল করা হয়। পাঁচ মাস পর এক সংসদীয় কমিটি এজেন্সির আইনি জবাবদিহি থেকে শুরু করে প্রশ্ন নির্বাচন, পরীক্ষাকেন্দ্রে অর্থায়ন এবং দেরিতে আসা পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে আচরণ—সব ক্ষেত্রেই পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে।
সূচিপত্র
- মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের পর এনটিএর সংস্কার নিয়ে প্রশ্ন
- কেন সংসদের কাছে জবাবদিহি চায় কমিটি
- কর্মী ও মামলার সংখ্যা কী দেখায়
- আগাম প্রশ্ন জানার সুযোগ কমাতে প্রশ্নব্যাংক
- কম্পিউটারে পরীক্ষা নিতে সরকারি অবকাঠামো দরকার
- দেরিতে আসা, যানজট ও নিরবচ্ছিন্ন পরীক্ষার সময়
- NEET-এ যোগ্যতা ও কাঠামো বদলের সম্ভাবনা
- ন্যায্যতা, ঠিকাদার ও পরীক্ষার্থীদের প্রতিকার
- বিতর্কিত দাবি, সিদ্ধান্ত এখনো বাকি
- মূল বিষয়গুলো
রাজ্যসভার সদস্য মুকুল ওয়াসনিকের নেতৃত্বাধীন শিক্ষা, নারী, শিশু, যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ২০২৬ সালের ৯ অক্টোবর রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে ‘ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) সংস্কার ও শক্তিশালীকরণ’ শিরোনামে তাদের ৩৮২তম প্রতিবেদন জমা দেয়। ৪৪ পৃষ্ঠার এই নথিতে ৩৫টি পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ রয়েছে। প্রতিবেদনটি লোকসভার স্পিকারের কাছেও পাঠানো হয়।
এনটিএর বিস্তৃতি থেকেই এর গুরুত্ব বোঝা যায়। ২০১৮ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে সংস্থাটি ২৭০টির বেশি পরীক্ষা নিয়েছে, যেখানে পরীক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সংখ্যা ৬ কোটি ৬০ লাখের বেশি। চিকিৎসা, প্রকৌশল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাসহ প্রতিবছর প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ পরীক্ষার্থী এর পরীক্ষায় অংশ নেন। এই সংখ্যা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের হিসাব, স্বতন্ত্র ব্যক্তির সংখ্যা নয়।
NEET UG ২০২৪-এর বিতর্কের পর নেওয়া সংস্কারগুলো কমিটি স্বীকার করেছে। তবে তাদের মতে, ২০২৬ সালে পরীক্ষা বাতিলের ঘটনা দেখিয়েছে যে প্রক্রিয়াগত ও প্রাতিষ্ঠানিক আরও পরিবর্তন দরকার। প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বিতর্কের জেরে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ হয় এবং তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন।
কমিটির প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে সংসদীয় তদারকি জোরদার, স্থায়ী বিশেষজ্ঞ কর্মী নিয়োগ, বড় প্রশ্নব্যাংক তৈরি এবং সরকারি পরীক্ষাকেন্দ্রে বিনিয়োগ। প্রশাসনিক কারণে পরীক্ষা বাতিল হলে ক্ষতিপূরণ এবং অভিযোগের স্বাধীন তদন্তসহ পরীক্ষার্থীদের ওপর এর প্রভাব নিয়েও প্রস্তাবে আলোচনা করা হয়েছে। এগুলোর বেশির ভাগই নতুন পরীক্ষাবিধি নয়, সুপারিশ।
কেন সংসদের কাছে জবাবদিহি চায় কমিটি
এনটিএ ১৮৬০ সালের সোসাইটিজ রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টের অধীনে নিবন্ধিত একটি সোসাইটি; সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত কোনো বিধিবদ্ধ সংস্থা নয়। কমিটির মতে, তাই কোনো বিধিবদ্ধ সংস্থার মতো সরাসরি সংসদের কাছে জবাবদিহি করতে হয় না এনটিএকে, আর সংস্থাটি সংসদে বার্ষিক প্রতিবেদনও পেশ করে না।
দুই কক্ষের কাছেই এজেন্সিকে জবাবদিহির আওতায় আনতে শিক্ষা বিভাগকে উপযুক্ত সংসদীয় কাঠামো তৈরির আহ্বান জানিয়েছে কমিটি। তাদের যুক্তি, এনটিএর হাতে থাকা সম্পদ এবং জবাবদিহির ব্যবস্থা—দুটিই সংস্থাটিকে দেওয়া দায়িত্বের ব্যাপকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত।
ওয়াসনিকের নেতৃত্বাধীন কমিটি প্রতিবেদনে সুপারিশটি এভাবে তুলে ধরেছে:
এনটিএর সংসদের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে শিক্ষা বিভাগ উপযুক্ত সংসদীয় কাঠামো চালু করতে পারে।
জনপরীক্ষা (অসাধু উপায় প্রতিরোধ) আইন, ২০২৪-এর আওতায় দায়ের, তদন্ত ও বিচারের মুখোমুখি হওয়া মামলাগুলোর বিষয়ে সংসদে বার্ষিক প্রতিবেদন দেওয়ারও সুপারিশ করেছে কমিটি। এতে অভিযোগ, তদন্ত ও বিচার—এই বিষয়গুলো আলাদা করে বোঝা যাবে; প্রতিটি অভিযোগকে অন্যায়ের প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা হবে না।
এনটিএর বাইরে একটি স্বাধীন ব্যবস্থার মাধ্যমে পরীক্ষার নিরাপত্তা নিরীক্ষা, পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ তদন্ত এবং সরাসরি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে। সংসদে প্রতিবেদন এবং স্বাধীন তদারকির উদ্দেশ্য আলাদা: একটির মাধ্যমে জনসমক্ষে জবাবদিহি নিশ্চিত হবে, অন্যটি সংস্থার নিজস্ব অভিযোগ ব্যবস্থার বাইরে থেকে কার্যক্রমের ব্যর্থতা খতিয়ে দেখবে।
কর্মী ও মামলার সংখ্যা কী দেখায়
এনটিএর অনুমোদিত ৩৯টি পদের মধ্যে মাত্র ২৩টিতে কর্মকর্তা ছিলেন; ১৬টি পদ শূন্য ছিল। অর্থাৎ প্রায় ৫৯ শতাংশ পদ পূরণ ছিল এবং ৪১ শতাংশ শূন্য। প্রতিবেদনগুলোর বর্ণনায় অমিল রয়েছে: একটিতে ৪১ শতাংশ পদ পূরণের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু ৩৯টির মধ্যে ২৩টি পদ পূরণের হিসাবের সঙ্গে তা মেলে না।
কর্মরত কর্মকর্তারা প্রেষণে দায়িত্ব পালন করছিলেন; অর্থাৎ অন্য সরকারি সংস্থা থেকে সাময়িকভাবে তাদের এখানে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সাইকোমেট্রিক্স, পরীক্ষা নিরাপত্তা, ডিজিটাল অবকাঠামো, ডেটা বিশ্লেষণ এবং পরীক্ষা পরিচালনায় দক্ষ এনটিএর স্থায়ী বিশেষজ্ঞ নিয়োগ চায় কমিটি। সাইকোমেট্রিক্স হলো পরীক্ষার মাধ্যমে জ্ঞান বা দক্ষতা কীভাবে পরিমাপ করা হয় তা নিয়ে অধ্যয়ন; এর মধ্যে প্রশ্নের ফল নির্ভরযোগ্য ও ন্যায্য কি না, সেটিও রয়েছে।
কমিটির মতে, কেন্দ্রীয় স্টাফিং স্কিমের আওতায় থাকা ১৬টি পদ জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বকে সহায়তা করবে, বিশেষজ্ঞ দক্ষতার বিকল্প হবে না। অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ারও বিরোধিতা করেছে তারা। উদাহরণ হিসেবে ২০২৪ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মহাপরিচালকের পদে নিয়োগের কথা উল্লেখ করেছে কমিটি।
এনটিএর আইনি কাজের চাপ ছিল উল্লেখযোগ্য। ২০২৪-২৫ সালের নথিতে দেখা যায়, সংস্থাটি ৪৭৪টি মামলার পক্ষ ছিল, যার মধ্যে ৩৫৬টি NEET UG ২০২৪-সংক্রান্ত। মোট মামলার প্রায় ৭৫ শতাংশ। এতে বোঝা যায়, একটি পরীক্ষার বিতর্কই সংস্থাটির মামলার বড় অংশজুড়ে ছিল; তবে প্রতিটি মামলায় এনটিএ দোষী ছিল, তা এই সংখ্যা প্রমাণ করে না।
উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির পরীক্ষা আয়োজনের ওপর আবার মনোযোগ দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে কমিটি। তারা উল্লেখ করেছে, রাধাকৃষ্ণন কমিটি বাড়তি প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা তৈরির আগে নয়, বরং পরে এনটিএকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিলেও সংস্থাটি নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া অব্যাহত রেখেছিল।
আগাম প্রশ্ন জানার সুযোগ কমাতে প্রশ্নব্যাংক
প্রশ্নপত্রের সুরক্ষায় কমিটির প্রধান প্রস্তাব বড়, বৈচিত্র্যময় ও নিয়মিত হালনাগাদ করা একটি প্রশ্নব্যাংক। বারবার পরিচিত প্রশ্নসেট ব্যবহার বা প্রতিবছর পুরো প্রশ্নপত্র নতুন করে তৈরি করার বদলে, ডিজিটাল সরঞ্জামের সাহায্যে অনেক বড় প্রশ্নভান্ডার থেকে চূড়ান্ত প্রশ্নপত্র তৈরি করবে এনটিএ।
এর লক্ষ্য হলো আলাদা প্রশ্ন তৈরি এবং চূড়ান্ত পরীক্ষায় কোন প্রশ্ন থাকবে—এই তথ্যকে আলাদা রাখা। প্রশ্ন তৈরিতে অবদান রাখা ব্যক্তিরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে জানতে পারবেন না, পরীক্ষার্থীরা কোন প্রশ্নের মুখোমুখি হবেন। পরীক্ষা ঘনিয়ে এলে চূড়ান্ত প্রশ্নপত্র তৈরি করবেন এবং যাচাইকৃত সীমিতসংখ্যক বিশেষজ্ঞ তা পর্যালোচনা করবেন।
বর্তমান ব্যবস্থার ঝুঁকি সম্পর্কে কমিটি বলেছে:
দীর্ঘমেয়াদে প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো প্রশ্নব্যাংকে বিনিয়োগ। একই প্রশ্নসেট বারবার ব্যবহার বা প্রতিবছর পরীক্ষকদের দিয়ে নতুন প্রশ্নপত্র তৈরি করানোর চর্চা পরীক্ষা প্রক্রিয়ার সততার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউটস অব টেকনোলজি, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউটস অব ম্যানেজমেন্ট এবং অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউটস অব মেডিকেল সায়েন্সেসের বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তৈরি ও অনুবাদে অবদান রাখবেন। তাদের সততা এবং স্বার্থের সংঘাত—যেমন বেসরকারি কোচিং সেন্টারের মালিকানা বা সেখানে শিক্ষকতা, কিংবা পরিবারের কোনো সদস্যের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ—যাচাই করা হবে।
পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত প্রশ্নপত্র যাচাই করা বিশেষজ্ঞদের কঠোরভাবে বিচ্ছিন্ন রাখারও প্রস্তাব দিয়েছে কমিটি। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ সাইবার নিরাপত্তা দল এবং সন্দেহজনক উত্তর-প্যাটার্ন শনাক্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সরঞ্জাম ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছে। এ ধরনের প্যাটার্ন তদন্তের সূত্র হবে, প্রতারণার স্বয়ংক্রিয় প্রমাণ নয়।
কম্পিউটারে পরীক্ষা নিতে সরকারি অবকাঠামো দরকার
কাগজে নেওয়া NEET UG কম্পিউটারভিত্তিক করার পক্ষে মত দিয়েছে কমিটি; একই সঙ্গে বেসরকারি পরীক্ষাকেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর কথা বলেছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র ছাপানো ও কেন্দ্রে পাঠানোর দরকার হবে না। ফলে পরীক্ষা ঘনিয়ে এলে চূড়ান্ত প্রশ্নপত্র তৈরি করা সম্ভব হবে।
এই পরিবর্তনে প্রশ্নপত্র ফাঁসের একটি পথ বন্ধ হবে। তবে নিরাপদ ডিজিটাল ব্যবস্থা, বিশ্বস্ত কর্মী এবং নির্ভরযোগ্য পরীক্ষাকেন্দ্রের প্রয়োজন থেকেই যাবে। তাই বিশেষ করে ছোট শহর ও গ্রামাঞ্চলে সরকারি মালিকানাধীন ও পরিচালিত কেন্দ্রে বিনিয়োগের সঙ্গে এই পরিবর্তনকে যুক্ত করেছে কমিটি।
উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ১,০০০টি নিরাপদ সরকারি কম্পিউটারভিত্তিক পরীক্ষাকেন্দ্র চালুর জন্য স্পষ্ট ও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সময়সূচি চেয়েছে তারা। পরীক্ষা নেওয়ার শর্তে স্কুল ও কলেজের তথ্যপ্রযুক্তি ল্যাবেও অর্থায়নে এনটিএর সহায়তা করা উচিত; প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি কেন্দ্র থাকতে হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেন্দ্র সরকার পরের বছর থেকে NEET UG কম্পিউটারে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল; ২০২৬ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রেক্ষাপটে এর অর্থ ২০২৭ সাল। কমিটির অবস্থান ছিল আরও শর্তসাপেক্ষ: এই পরিবর্তনের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য অবকাঠামো বিনিয়োগ এবং ডিজিটাল সুবিধায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার জাতীয় কৌশল থাকতে হবে।
বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি, জেলাভিত্তিক কেন্দ্রের সংখ্যা এবং কম্পিউটারে অভ্যস্ত নন এমন পরীক্ষার্থীদের জন্য ব্যবস্থা নির্দিষ্ট করা হয়নি। সরকারি কেন্দ্র ও মডেল পরীক্ষার জন্য এনটিএর জমা থাকা উদ্বৃত্ত অর্থ ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে কমিটি। কংগ্রেসের মুখপাত্র জয়রাম রমেশ এই উদ্বৃত্তের পরিমাণ ৫৯০ কোটি রুপি বলে উল্লেখ করেন এবং অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থী ও অবকাঠামোতে খরচ না করে তা মেয়াদি আমানতে রাখা হয়েছে।
দেরিতে আসা, যানজট ও নিরবচ্ছিন্ন পরীক্ষার সময়
কয়েক মিনিট দেরিতে আসা পরীক্ষার্থীদের বিলম্বের কারণ উল্লেখ করে অঙ্গীকারনামায় সই করার পর পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করেছে কমিটি। তারা পরীক্ষার বাকি সময়টুকুই পাবেন; কোনো পরিস্থিতিতেই অতিরিক্ত সময় দেওয়া হবে না।
কিছু ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাদ দেওয়ার বদলে নথিভুক্ত প্রক্রিয়ায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেবে এই সুপারিশ। প্রকৃত কারণে দেরি হতে পারে—এটি স্বীকার করেও সবার জন্য একই সময়ে পরীক্ষা শেষ হওয়ার নিয়ম বজায় রাখবে প্রস্তাবটি। তবে প্রবেশের সর্বশেষ সময় বা ভর্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সব নিরাপত্তা শর্ত এতে নির্দিষ্ট করা হয়নি।
পরীক্ষার্থীরা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় যেন প্রশাসনিক কাজে বাধা না পান, সে জন্য স্বাক্ষর ও যাচাইয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পরীক্ষার আগে বা পরে আলাদা ১৫ মিনিটের সময় রাখার সুপারিশ করেছে কমিটি।
এড়ানো সম্ভব এমন যাতায়াতজনিত বিঘ্ন কমাতে জনপরীক্ষা (অসাধু উপায় প্রতিরোধ) আইন, ২০২৪ সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে তারা। এতে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার দিনে মিছিল, শোভাযাত্রা ও জনসমাবেশের অনুমতি না দেওয়ার ক্ষমতা পাবে জেলা প্রশাসন। যান চলাচল ও আইনশৃঙ্খলার ব্যবস্থা আগেই করতে হবে।
এর আগে এনটিএ পরীক্ষার্থীদের আগেভাগে আসা এবং এ ধরনের আয়োজনের কথা মাথায় রেখে পরিকল্পনা করার পরামর্শ দিয়েছিল। কমিটির প্রস্তাবে বিঘ্ন ঠেকানোর দায়িত্ব পরীক্ষার্থীদের একার ওপর না রেখে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ওপর আরও দায়িত্ব দেওয়া হবে। প্রস্তাবিত সংশোধনী কবে আনা হবে বা এ নিয়ে ভোট হবে, তার কোনো তারিখ দেওয়া হয়নি।
NEET-এ যোগ্যতা ও কাঠামো বদলের সম্ভাবনা
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে পরামর্শ করে NEET UG-সহ গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় যুক্তিসংগত বয়স ও প্রচেষ্টার সীমা নির্ধারণের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বলেছে কমিটি। সম্ভাব্য ব্যতিক্রম হিসেবে ইউজিসি নেটের কথা উল্লেখ করেছে তারা।
কমিটির ভাষ্য অনুযায়ী, NEET UG-তে বর্তমানে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রচেষ্টার কোনো সীমা বা কার্যকর সর্বোচ্চ বয়স নেই। ৭০ বছরের বেশি বয়সীদের অংশগ্রহণের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে কোনো নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ বয়স বা প্রচেষ্টার সংখ্যা বেঁধে দেওয়া হয়নি। তাই সীমা খতিয়ে দেখার সুপারিশকে ইতিমধ্যে কার্যকর যোগ্যতার নিয়ম হিসেবে দেখা উচিত নয়।
দুই ধাপের পরীক্ষা চালুর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখার প্রস্তাব দিয়েছে কমিটি: চিকিৎসা শিক্ষার বিভিন্ন ধারার জন্য একটি সাধারণ প্রাথমিক পরীক্ষা, এরপর বিভিন্ন কোর্সের জন্য বিশেষায়িত মূল পরীক্ষা। তাদের যুক্তি, নার্সিং বা আয়ুষে ভর্তিচ্ছুদের এমবিবিএস আসনে আগ্রহীদের থেকে আলাদাভাবে পরীক্ষা নিয়ে মেধাক্রম নির্ধারণ করা যেতে পারে। আয়ুষ বলতে আয়ুর্বেদ ও হোমিওপ্যাথিসহ ভারতের চিকিৎসাপদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোকে বোঝায়।
কমিটির মতে, একটিমাত্র NEET UG পরীক্ষায় ২২ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী এবং একাধিক ভর্তি-পথ সামলাতে হয়। বছরভিত্তিক যোগ্যতার নম্বরসীমাও পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছে তারা, যাতে উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীর সংখ্যা উপলভ্য আসনের সঙ্গে আরও ভালোভাবে মেলে। পরীক্ষায় যোগ্য হওয়া আর ভর্তি নিশ্চিত হওয়া এক নয়, কারণ আসনসংখ্যা সীমিত।
ন্যায্যতা, ঠিকাদার ও পরীক্ষার্থীদের প্রতিকার
রাজ্য, লিঙ্গ, শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষার মাধ্যম এবং সামাজিক শ্রেণিভিত্তিক পরীক্ষার ফল প্রতিবছর নিরীক্ষার সুপারিশ করেছে কমিটি। তারা বলেছে, রাজ্যভিত্তিক নিবন্ধনের তথ্য এনটিএর কাছে আছে, কিন্তু সেই পরীক্ষার্থীদের কতজন সফল হয়েছেন, সে বিষয়ে সমতুল্য তথ্য নেই।
শুধু নিবন্ধনের তথ্য দিয়ে পরীক্ষার বিভিন্ন ধাপে অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন গোষ্ঠীর সুযোগ তুলনীয় কি না, বোঝা যায় না। এনটিএর বার্ষিক প্রতিবেদনে ফল নিরীক্ষা প্রকাশ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিলে ফল কী হবে তা আগাম ধরে না নিয়েই এই তুলনা করা সম্ভব হবে।
কালো তালিকাভুক্ত পরীক্ষাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের একটি প্রস্তাবিত জাতীয় নিবন্ধনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, তালিকাভুক্তির কারণ এবং দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের নাম থাকবে। পরীক্ষাসেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো যাচাইয়ে এটি অভিন্ন তথ্যভান্ডার হিসেবে কাজ করবে। রমেশের অভিযোগ, এক রাজ্যে কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান অন্য রাজ্যে সরকারি চুক্তি পেতে থাকে।
প্রশাসনিক কারণে পরীক্ষা বাতিল হলে ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনাসহ পরীক্ষার্থীদের প্রতি এনটিএর দায়িত্ব নির্ধারণেরও প্রস্তাব দিয়েছে কমিটি। অভিযোগ নিষ্পত্তির নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং স্বাধীন অভিযোগ ব্যবস্থার আহ্বান জানানো হয়েছে। ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বা বাধ্যতামূলক সময়সীমা নির্দিষ্ট করা হয়নি।
বেসরকারি কোচিংও কমিটির উদ্বেগের বিষয় ছিল। তারা বলেছে, ২ লাখ থেকে ৫ লাখ রুপি ফি সচ্ছল পরিবারের পক্ষে দেওয়া সম্ভব; একই সঙ্গে সতর্ক করেছে, পরীক্ষাব্যবস্থা ধারণাগত বোঝাপড়ার চেয়ে প্রশ্নের ধরনে অভ্যস্ত হওয়াকে বেশি পুরস্কৃত করে। ফি-সংক্রান্ত স্বচ্ছতা, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বিধিমালা এবং এনটিএর সঙ্গে জনসাধারণের আরও ধারাবাহিক যোগাযোগের সুপারিশ করেছে কমিটি।
বিতর্কিত দাবি, সিদ্ধান্ত এখনো বাকি
উচ্চশিক্ষা বিভাগ কমিটিকে জানিয়েছে, ২০১৭ সালে এনটিএ গঠনের পর থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সংস্থার কোনো পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি। কিছু কমিটি সদস্য এ দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। পরীক্ষার অনিয়ম নিয়ে তদন্তের তথ্য জনসমক্ষে আরও প্রকাশের সুপারিশ করেছে কমিটি।
১১ অক্টোবর কংগ্রেসের মুখপাত্র জয়রাম রমেশ এনটিএ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে “গুরুতর অদক্ষতা ও অনিয়মের” অভিযোগ তোলেন। তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের নয়টি পরিচিত ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। এই দুই ধরনের ঘটনাকে একসঙ্গে উল্লেখ করাকে নয়টি প্রমাণিত প্রশ্নপত্র ফাঁসের যাচাইকৃত সংখ্যা হিসেবে দেখা উচিত নয়। এ দাবির সময়কাল ২০২৫ সালে শেষ হয়েছে, যা ২০২৬ সালের মে মাসে পরীক্ষা বাতিলের ঘটনা থেকে আলাদা।
ঘটনা ও পরবর্তী প্রস্তাবগুলোর ধারাবাহিকতা:
- ৩ মে, ২০২৬: এনটিএ NEET UG পরীক্ষা নেয়।
- ১২ মে, ২০২৬: প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের মধ্যে পরীক্ষা বাতিল করা হয়।
- ৯ অক্টোবর, ২০২৬: ওয়াসনিকের কমিটি এনটিএ সংস্কারবিষয়ক প্রতিবেদন পেশ করে।
- ১১ অক্টোবর, ২০২৬: অতীতের ফাঁস ও অনিয়ম নিয়ে মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করে কংগ্রেস।
- ২০২৭: প্রতিবেদন অনুযায়ী, NEET UG কম্পিউটারে নেওয়ার ঘোষিত বছর; বিস্তারিত বাস্তবায়ন পরিকল্পনা জানানো হয়নি।
কমিটির প্রস্তাবগুলো প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের জন্য বাস্তব সুরক্ষাকে যুক্ত করেছে। প্রশ্নব্যাংক ও ডিজিটাল পরীক্ষা প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনার সমস্যা মোকাবিলা করবে; স্থায়ী কর্মী ও স্বাধীন নিরীক্ষা ব্যবস্থাপনার সমস্যা; আর সরকারি কেন্দ্র ও ফল নিরীক্ষা প্রবেশাধিকার ও ন্যায্যতার প্রশ্ন। আইন প্রণয়নের সময়সূচি, কার্যকর হওয়া বয়স বা প্রচেষ্টার সীমা, ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা কিংবা বিকল্প পরীক্ষার তারিখ কিছুই জানানো হয়নি। পরবর্তী পদক্ষেপ পরিকল্পনার ক্ষেত্রে এই পার্থক্যগুলো গুরুত্বপূর্ণ।
মূল বিষয়গুলো
- NEET UG ২০২৬ নেওয়া হয় ৩ মে; প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ১২ মে তা বাতিল করা হয়।
- সংসদীয় কমিটি ৯ অক্টোবর, ২০২৬-এ ৩৫টি পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ পেশ করে।
- সংসদের দুই কক্ষের কাছে জবাবদিহি এবং নিরাপত্তা ও অভিযোগ নিয়ে স্বাধীন তদারকির প্রস্তাব দিয়েছে কমিটি।
- এনটিএর অনুমোদিত ৩৯টি পদের মধ্যে মাত্র ২৩টিতে কর্মকর্তা ছিলেন; প্রায় ৪১ শতাংশ পদ শূন্য ছিল।
- প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে বড় প্রশ্নব্যাংক, স্থায়ী বিশেষজ্ঞ এবং ১,০০০টি নিরাপদ সরকারি কম্পিউটারভিত্তিক পরীক্ষাকেন্দ্র।
- দেরিতে আসা পরীক্ষার্থীরা শুধু পরীক্ষার বাকি সময়টুকু পাবেন; প্রশাসনিক যাচাইয়ের জন্য আলাদা ১৫ মিনিট রাখা হবে।
- বয়স ও প্রচেষ্টার সীমা, দুই ধাপের পরীক্ষা এবং পরীক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ এখনো প্রস্তাব; নতুন নিশ্চিত নিয়ম নয়।






