চার জয়ে মঙ্গোলিয়ার প্রথম সোনা
৩০ সেপ্টেম্বর জাপানের আয়চি-নাগোয়ায় পুরুষদের অনূর্ধ্ব-৬৬ কেজি জুডোর ফাইনালে উজবেকিস্তানের আবদুরাখিম নুতফুল্লোয়েভকে হারিয়ে ২০২৬ এশিয়ান গেমসে মঙ্গোলিয়ার প্রথম সোনার পদক জেতেন ইয়োল্ক কাজিরবিয়েক। প্রতিপক্ষকে চেপে ধরে ইপ্পনে তাঁর জয় ২০১৪ সালের পর এশিয়ান গেমসে জুডোর শিরোপার জন্য মঙ্গোলিয়ার অপেক্ষার অবসান ঘটায়।
সূচিপত্র
আন্তর্জাতিক জুডো ফেডারেশনের অ্যাথলেটের আনুষ্ঠানিক প্রোফাইলে ওই তারিখে ২০তম এশিয়ান গেমসে কাজিরবিয়েকের প্রথম স্থান অর্জনের তথ্য রয়েছে। প্রথম রাউন্ডে ওয়াকওভার পাওয়ার পর চারটি জয়ের মধ্য দিয়ে আসে এই ফল। শিরোপার পথে তাঁর সামনে ছিলেন আফগানিস্তান, তাজিকিস্তান, কাজাখস্তান ও উজবেকিস্তানের প্রতিপক্ষরা।
নারীদের অনূর্ধ্ব-৪৮ কেজি বিভাগে নারান্তসেতসেগ গানবাতারও ব্রোঞ্জ জিতে মঙ্গোলিয়ার পদকসংখ্যায় যোগ করেন। সেমিফাইনালে জাপানের মিৎসুকি কন্দোর কাছে হারের পর তিনি ভারতের অস্মিতা দেকে পরাজিত করেন। মঙ্গোলিয়ার আরও দুই জুডোকা পদকের কাছাকাছি গিয়েছিলেন: নারীদের অনূর্ধ্ব-৫২ কেজি বিভাগে উরানজায়া বায়ানমুনখ পঞ্চম হন, আর পুরুষদের অনূর্ধ্ব-৬০ কেজি ইভেন্টে আরিউনবোল্ড এনখতাইভান সপ্তম স্থান পান।
কাজিরবিয়েকের সোনা তাঁকে এশিয়ান গেমসে শিরোপাজয়ী মঙ্গোলিয়ার অষ্টম জুডোকায় পরিণত করে। ২০২৬ সালের আগের দুটি প্রতিযোগিতায় পদক না পাওয়ার পর বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের ব্রোঞ্জজয়ী এই ক্রীড়াবিদ মহাদেশীয় আসরের মঞ্চে শীর্ষে উঠলেন।
২০ জনের প্রতিযোগিতায় শিরোপার পথ
পুরুষদের অনূর্ধ্ব-৬৬ কেজি বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ২০ জন। প্রথম রাউন্ডে ওয়াকওভার পাওয়ার পর কাজিরবিয়েক শেষ ষোলোয় আফগানিস্তানের হিকমাতুল্লাহ রহমানিকে হারান। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে তাজিকিস্তানের নুরালি এমোমালি এবং সেমিফাইনালে কাজাখস্তানের গুসমান কিরগিজবায়েভকে পরাজিত করেন। প্রতিযোগিতা-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে তাঁদের দুজনকেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের রৌপ্যপদকজয়ী বলা হয়েছে।
জুডোটিভির প্রতিযোগিতার রেকর্ডে ৩০ সেপ্টেম্বর এশিয়ান গেমসে তাঁর চারটি লড়াইয়ের তথ্য রয়েছে, যার মধ্যে নুতফুল্লোয়েভের বিপক্ষে ফাইনালও অন্তর্ভুক্ত। শিরোপার পথটি এই রেকর্ডে স্পষ্ট: এক দিনে চারটি লড়াই এবং ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন হওয়া।
ফাইনালে প্রতিপক্ষকে চেপে ধরে ইপ্পনে সোনা নিশ্চিত করেন কাজিরবিয়েক। জুডোতে ইপ্পন হলো এমন নির্ণায়ক স্কোর, যা সঙ্গে সঙ্গে লড়াই শেষ করে দেয়। নির্দিষ্ট মানের থ্রো, প্রতিপক্ষকে নিরবচ্ছিন্নভাবে ধরে রাখা অথবা আত্মসমর্পণে বাধ্য করলে ইপ্পন দেওয়া হতে পারে। ফলে তাঁর জয়ী কৌশলেই ফাইনালের নিষ্পত্তি হয়; স্কোরে সামান্য ব্যবধানের ওপর ফল নির্ভর করেনি।
ফাইনালটি কতক্ষণ স্থায়ী হয়েছিল বা কোন কৌশলে প্রতিপক্ষকে ধরে রাখা হয়েছিল, প্রতিবেদনে তা বলা হয়নি। সেখানে জয়ের নির্ণায়ক পদ্ধতি হিসেবে প্রতিপক্ষকে চেপে ধরার কথা বলা হয়েছে; এরপর নাগোয়ায় পদক বিতরণী অনুষ্ঠানে বাজে মঙ্গোলিয়ার জাতীয় সংগীত।
বিশ্ব ব্রোঞ্জের পর দুই আসরে পদকহীনতা
হাঙ্গেরিতে ২০২৫ সালের বিশ্ব সিনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ জয়ের বড় অর্জন নিয়েই এশিয়ান গেমসে এসেছিলেন কাজিরবিয়েক। আইজেএফের তালিকায় ওই ফলের তারিখ ১৩ জুন ২০২৫। পরে ফেডারেশনের এক প্রতিবেদনে ওই আসরকে তাঁর প্রথম বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এরপরের ফলগুলো দেখায়, এশিয়ান গেমসের শিরোপার আগে তাঁর একটানা পদক জয়ের ধারা ছিল না। ২০২৬ সালের ১৬ এপ্রিল এশিয়ান সিনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে তিনি সপ্তম হন এবং ১৯ জুন উলানবাটার গ্র্যান্ড স্লামে পঞ্চম স্থান পান। নাগোয়ায় আরেকটি সুযোগ কাজে লাগিয়ে সোনা জেতেন তিনি।
এই প্রতিযোগিতাগুলোর ধারাবাহিকতা প্রেক্ষাপট বুঝতে সহায়ক, যদিও প্রতিদ্বন্দ্বীদের মান ও প্রতিযোগিতার ধরন এক নয়। মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়নশিপে সপ্তম এবং গ্র্যান্ড স্লামে পঞ্চম হওয়ার পর এশিয়ান গেমসে প্রথম হন তিনি। ফলগুলো প্রতিযোগিতায় অবস্থানের পরিবর্তন দেখায়, তবে প্রস্তুতি বা কৌশলে কী বদলেছিল, তা ব্যাখ্যা করার মতো প্রমাণ একা এগুলো দেয় না।
সংক্ষিপ্ত সময়রেখায় শিরোপাটির ধারাবাহিকতা:
- ১৩ জুন ২০২৫: প্রথম বিশ্ব সিনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ জেতেন কাজিরবিয়েক।
- ১৬ এপ্রিল ২০২৬: এশিয়ান সিনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে সপ্তম হন।
- ১৯ জুন ২০২৬: উলানবাটার গ্র্যান্ড স্লামে পঞ্চম হন।
- ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬: এশিয়ান গেমসে পুরুষদের অনূর্ধ্ব-৬৬ কেজি শিরোপা জেতেন।
- ১ অক্টোবর ২০২৬: মঙ্গোলিয়ার এক সোনা ও চার ব্রোঞ্জ পদক জয়ের খবর প্রকাশিত হয়।
- ১১ অক্টোবর ২০২৬: আইজেএফের র্যাঙ্কিংয়ে অনূর্ধ্ব-৬৬ কেজি বিভাগে ৫৭৮ পয়েন্ট নিয়ে তাঁর অবস্থান ৭৬তম।
১১ অক্টোবরের র্যাঙ্কিংটি পরবর্তী সময়ের চিত্র, এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়ার আগের অবস্থান নয়। আইজেএফ ও জুডোটিভি তাঁকে অনূর্ধ্ব-৬০ কেজি র্যাঙ্কিংয়েও তালিকাভুক্ত করেছে, যেখানে তাঁর অবস্থান ছিল ৫৫তম। এই দুই বিভাগের আলাদা রেকর্ডকে নাগোয়ায় যে ওজন বিভাগে তিনি জিতেছেন, তার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়।
সাম্বো সোনার পর নারান্তসেতসেগের জুডো ব্রোঞ্জ
জুডো প্রতিযোগিতার প্রথম দিনে নারান্তসেতসেগ গানবাতারের ব্রোঞ্জ মঙ্গোলিয়াকে দ্বিতীয় পদক এনে দেয়। পুল ‘এ’-তে শীর্ষ বাছাই হিসেবে প্রথম রাউন্ডে ওয়াকওভার পান তিনি। কোয়ার্টার ফাইনালে তাজিকিস্তানের এক প্রতিপক্ষকে হারানোর পর সেমিফাইনালে মিৎসুকি কন্দোর কাছে পরাজিত হন।
এরপর ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে ওয়াজা-আরিতে অস্মিতা দেকে হারান তিনি। ওয়াজা-আরি ইপ্পনের চেয়ে কম স্কোর। প্রতিপক্ষ সমতা না আনতে পারলে বা নির্ণায়ক স্কোর করতে না পারলে এক ওয়াজা-আরিতেই লড়াইয়ের ফল নির্ধারিত হতে পারে। জয়ী স্কোরটি কোন কৌশলে এসেছিল, ফলাফল-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে তা উল্লেখ নেই।
নারান্তসেতসেগের এই পদকে দুটি খেলায় এশিয়ান গেমসে তাঁর সাফল্যের রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ হলো। ২০১৮ সালে জাকার্তা গেমসে সাম্বোতে সোনা জয়ের আট বছর পর জাপানে জুডোর পদকজয়ী হলেন তিনি। সাম্বো ও জুডো—দুই খেলাতেই গ্র্যাপলিং বা ধরে লড়াই করার বিষয় রয়েছে, তবে নিয়ম আলাদা; তাই দুটি পদকই স্বতন্ত্র প্রতিযোগিতামূলক অর্জন।
তাঁর ব্রোঞ্জ সেদিন জুডোতে মঙ্গোলিয়ার সাফল্যের ধরনটিও স্পষ্ট করে। গেমসে প্রতিনিধিদলের প্রথম সোনা জেতেন কাজিরবিয়েক; আলাদা ওজন বিভাগে আরেকটি পদক জেতেন নারান্তসেতসেগ। ১ অক্টোবরের পদক তালিকায় মঙ্গোলিয়ার মোট পাঁচটি পদকের মধ্যে দুটি তাঁদের জুডো থেকে আসে।
পদকের লড়াইয়ে পঞ্চম ও সপ্তম
নারীদের অনূর্ধ্ব-৫২ কেজি সেমিফাইনালে উজবেকিস্তানের সিতা কাদাম্বোভার মুখোমুখি হন উরানজায়া বায়ানমুনখ। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো লড়াইয়ে তিনি হেরে যান। এর আগে কাদাম্বোভা দুটি পেনাল্টি পাওয়ায় উরানজায়া এগিয়ে ছিলেন।
উরানজায়ার ওই ব্যবধান কোনো কৌশলগত স্কোর থেকে এসেছিল কি না, কিংবা চূড়ান্ত স্কোর কীভাবে হয়েছিল, প্রতিবেদনে তা বলা হয়নি। জুডোতে পেনাল্টি ও কৌশলগত স্কোর আলাদা বিষয়; তাই শুধু দুটি পেনাল্টির তথ্য দিয়ে ম্যাচের পুরো পরিস্থিতি বোঝা যায় না। তাঁর চূড়ান্ত অবস্থান ছিল পঞ্চম, তবে ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ের বিস্তারিত দেওয়া হয়নি।
বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের রৌপ্যপদকজয়ী আরিউনবোল্ড এনখতাইভান পুরুষদের অনূর্ধ্ব-৬০ কেজি কোয়ার্টার ফাইনালে কাজাখস্তানের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন ইয়েলদোস স্মেতভের কাছে হেরে যান। প্রতিপক্ষকে চেপে ধরে ইপ্পনে জেতেন স্মেতভ। এরপর রিপেশাজে তাজিকিস্তানের লোইক কুদবুদিনভের কাছে হেরে সপ্তম হন আরিউনবোল্ড।
রিপেশাজ এমন একটি সুযোগ, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী পরাজিত প্রতিযোগীরা ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে ওঠার আরেকটি সুযোগ পান। দ্বিতীয় হারের পর সেই সুযোগ হারান আরিউনবোল্ড। তাঁর ফল এবং উরানজায়ার পঞ্চম স্থান দেখায়, মঙ্গোলিয়ার চার জুডোকা নিজেদের ইভেন্টের পরের ধাপগুলোতে উঠেছিলেন, যদিও শেষ পর্যন্ত পদক জেতেন শুধু কাজিরবিয়েক ও নারান্তসেতসেগ।
গ্রামীণ শৈশব থেকে বিশ্বমঞ্চে
আইজেএফের ২০২৫ সালের জুনের প্রোফাইল, যা লিখেছেন নিকোলাস মেসনার, তাতে কাজিরবিয়েকের শুরু সম্পর্কে বলা হয়েছে যে তাঁর বাড়ি উলানবাটার থেকে প্রায় ২৩০ কিলোমিটার উত্তরে দারখানের কাছাকাছি এলাকায়। ফেডারেশনের বর্ণনায় দারখানের জনসংখ্যা ৯০ হাজারের কম, আর তাঁর পরিবারকে ওই এলাকার আশপাশের গ্রামীণ জনপদের বাসিন্দা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এক বন্ধুর উৎসাহে ১৩ বছর বয়সে জুডো শুরু করেন কাজিরবিয়েক। গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ শিবিরে আইজেএফ ও মঙ্গোলিয়ার জাতীয় ফেডারেশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁর দেখা হয় এবং তিনি জুডোগি—জুডোর পোশাক—উপহার পান। মেসনার সে সফরে ঐতিহ্যবাহী গের তাঁবু ও গবাদিপশুর কাছের ঘাসের ওপর শিশুদের প্রশিক্ষণ নিতে দেখার কথা লিখেছেন।
২০২৫ সালের বিশ্ব ব্রোঞ্জ জয়ের পর আইজেএফকে কাজিরবিয়েক তাঁর প্রথম চ্যাম্পিয়নশিপের অর্জন সম্পর্কে বলেছিলেন:
এটা কল্পনাও করতে পারছি না। এটাই আমার প্রথম বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ, আর আমি পদক জিতেছি। মনে হচ্ছে স্বপ্নের মধ্যে আছি।
এই বক্তব্য তাঁর বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের অভিজ্ঞতা নিয়ে, এশিয়ান গেমসের ফাইনাল সম্পর্কে নয়। এশিয়ান গেমসের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার এক বছরেরও বেশি আগে নিজের প্রথম বড় আন্তর্জাতিক পদককে তিনি কীভাবে দেখেছিলেন, তা এতে উঠে এসেছে।
মঙ্গোলিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও মঙ্গোলিয়ান জুডো অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খালতমাগিন বাতুলগা গ্রামীণ এলাকার শিশুদের সহায়তায় সফরের সঙ্গে কাজিরবিয়েকের অগ্রগতির যোগসূত্র তুলে ধরেন। ২০২৪ সালে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ও অলিম্পিকের রৌপ্যপদকজয়ী হওয়া বায়াসানখু বাভুদর্জকেও তিনি ওই উদ্যোগের সময় পরিচিত আরেকজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ব্যক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে ওই সহায়তার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বাতুলগা বলেন:
তরুণদের ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ করে দেওয়া আমার স্বপ্ন ছিল, এখনও আছে।
একই আইজেএফ প্রতিবেদনে বিশ্ব ব্রোঞ্জ পদকের লড়াই শেষে চোট পাওয়া ব্রাজিলের মিশেল অগুস্তোকে কাজিরবিয়েকের সাহায্য করার কথাও রয়েছে। প্রতিপক্ষকে সাহায্য করার কারণ ব্যাখ্যা করে কাজিরবিয়েক বলেন:
প্রতিযোগিতা প্রতিযোগিতাই, আমরা যোদ্ধা। কিন্তু লড়াই শেষ হলে আমরা একই পরিবারের সদস্য।
ঐতিহাসিক মাইলফলকের হিসাব সতর্কতার সঙ্গে দেখা দরকার
এশিয়ান গেমসে মঙ্গোলিয়ার অষ্টম জুডো চ্যাম্পিয়ন হিসেবে কাজিরবিয়েকের অবস্থানের পক্ষে এর আগে শিরোপাজয়ী সাতজনের একটি তালিকা রয়েছে: খ. বোল্ডবাতার, খ. এরদেন-ওদ, দি. নিয়ামখু, খ. সাগানবাতার, এন. তুভশিনবায়ার, এম. উরান্তসেতসেগ ও দি. তুমুরখুইলেগ। ২০১৪ সালে সর্বশেষ এশিয়ান গেমসের জুডো সোনা জয়ের পর মঙ্গোলিয়ার যে ১২ বছরের বিরতি ছিল, তাঁর শিরোপায় তার অবসান ঘটে।
তবে মঙ্গোলিয়ার বৃহত্তর জাতীয় মাইলফলকটি কীভাবে বর্ণনা করা হবে, তা নিয়ে প্রতিবেদনগুলোর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এক প্রতিবেদনে তাঁকে এশিয়ান গেমসে সোনা জয়ী মঙ্গোলিয়ার ২৮তম অ্যাথলেট বলা হয়েছে। অন্যটিতে তাঁর জয়কে মঙ্গোলিয়ার ২৭তম এশিয়ান গেমসের সোনা বলা হয়েছে। বক্তব্য দুটি ভিন্ন বিষয়—অ্যাথলেটের সংখ্যা ও পদকের সংখ্যা—গণনা করে। সংখ্যাগুলোর মিল খুঁজে বের করার মতো পূর্ণাঙ্গ ঐতিহাসিক তালিকা কোনোটিতেই নেই।
তাঁর বয়সের তথ্যেও অমিল রয়েছে। আইজেএফ ও জুডোটিভির প্রোফাইলে বয়স ২৫, আর একটি প্রতিযোগিতা-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে তাঁকে ২৬ বছর বয়সী বলা হয়েছে। রেকর্ডগুলোতে জন্মতারিখ নেই, তাই এ তথ্য থেকে অমিলের নিষ্পত্তি করা যায় না।
এই দুই বিতর্কিত তথ্যের চেয়ে মূল ফলটি বেশি নির্ভরযোগ্যভাবে নথিবদ্ধ: আইজেএফের রেকর্ড অনুযায়ী ৩০ সেপ্টেম্বর পুরুষদের অনূর্ধ্ব-৬৬ কেজি ইভেন্টে তিনি প্রথম হন। তাই ঐতিহাসিক অ্যাথলেটের সংখ্যা ও তাঁর সঠিক বয়সকে নিশ্চিত চ্যাম্পিয়নশিপের ফল থেকে আলাদা করে দেখা উচিত।
পাঁচ পদক নিয়ে ২৬তম স্থানে মঙ্গোলিয়া
১ অক্টোবরের মধ্যে পদক তালিকায় এক সোনা ও চার ব্রোঞ্জ নিয়ে মঙ্গোলিয়াকে ২৬তম স্থানে দেখানো হয়। জুডোর দুটি পদকের পাশাপাশি সড়ক সাইক্লিংয়ের মাস স্টার্টে সাইক্লিস্ট এস. জামবালজামৎস, পুরুষদের ৫৫ কেজি বিভাগে বক্সার খ. বিলগুনসাইখান এবং মোবাইল লেজেন্ডস: ব্যাং ব্যাং এস্পোর্টস দল মঙ্গোলিয়ার হয়ে পদক জেতেন।
অর্থাৎ মঙ্গোলিয়ার পাঁচটি পদকের মধ্যে দুটি, বা ওই ঘোষিত মোটের ৪০ শতাংশ, আসে জুডো থেকে; একমাত্র সোনাটিও এ বিভাগ থেকেই। প্রতিনিধিদলের অবস্থানে এটি বড় অবদান, যদিও পদক তালিকাটি গেমসের একপর্যায়ের চিত্র, চূড়ান্ত জাতীয় ফল নয়।
একই তালিকা-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ৪০টি দেশ পদক জিতেছে এবং ২৬টি দেশ অন্তত একটি সোনা পেয়েছে। ১৫১টি সোনাসহ মোট ২৭৭ পদক নিয়ে শীর্ষে ছিল চীন, আর স্বাগতিক জাপানের পদকসংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ২০০-তে। মঙ্গোলিয়ার পাঁচটি পদক তুলনায় অনেক কম হলেও কাজিরবিয়েকের শিরোপা দেশটিকে চ্যাম্পিয়ন পাওয়া প্রতিনিধিদলগুলোর মধ্যে স্থান দেয়।
প্রাথমিক ফলাফলের প্রতিবেদনে নারান্তসেতসেগের পদককে মঙ্গোলিয়ার তৃতীয় ব্রোঞ্জ বলা হয়েছিল। অন্যদিকে ১ অক্টোবরের তালিকায় বিভিন্ন খেলায় চারটি ব্রোঞ্জের কথা রয়েছে। ব্রোঞ্জ পদকগুলো ঠিক কোন ক্রমে জিতেছিল, তা নিশ্চিত নয়; তাই পরবর্তী সময়ের মোট সংখ্যা দিয়ে পদক বিতরণী অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতা পুনর্গঠন করা উচিত নয়।
কাজিরবিয়েকের পরবর্তী প্রতিযোগিতার তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। ৩০ সেপ্টেম্বরের শিরোপাটিই তাঁর নিশ্চিত অর্জন, যার পক্ষে রয়েছে আনুষ্ঠানিক ফলাফল ও প্রতিযোগিতার রেকর্ড। পরবর্তী র্যাঙ্কিং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর অবস্থানের আলাদা একটি মাপকাঠি।
মূল তথ্য
- ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এশিয়ান গেমসে মঙ্গোলিয়ার প্রথম সোনা জেতেন ইয়োল্ক কাজিরবিয়েক।
- পুরুষদের অনূর্ধ্ব-৬৬ কেজি ফাইনালে প্রতিপক্ষকে চেপে ধরে ইপ্পনে আবদুরাখিম নুতফুল্লোয়েভকে হারান তিনি।
- এই শিরোপায় এশিয়ান গেমসের জুডো সোনার জন্য মঙ্গোলিয়ার ঘোষিত ১২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটে।
- নারীদের অনূর্ধ্ব-৪৮ কেজি বিভাগে ব্রোঞ্জ জেতেন নারান্তসেতসেগ গানবাতার; ২০১৮ সালের সাম্বো সোনার সঙ্গে যুক্ত হলো এই পদক।
- উরানজায়া বায়ানমুনখ পঞ্চম এবং আরিউনবোল্ড এনখতাইভান সপ্তম হন।
- ১ অক্টোবরের হিসাবে এক সোনা ও চার ব্রোঞ্জ নিয়ে মঙ্গোলিয়ার অবস্থান ছিল ২৬তম।
- কাজিরবিয়েকের বয়স এবং মঙ্গোলিয়ার ঐতিহাসিক সোনার মাইলফলকের ক্রমিক সংখ্যা নিয়ে প্রতিবেদনগুলোর তথ্য এক নয়।






