বড় ব্যবধানে এগিয়ে, তবে ভোট গণনা এখনো শেষ হয়নি
১১ অক্টোবর ২০২৬ গভীর রাতে থাইল্যান্ডের সামাজিক নিরাপত্তা বোর্ডের বীমাকৃত কর্মীদের সাতটি এবং নিয়োগকর্তাদের সাতটি আসনের সব কটিতেই এগিয়ে ছিল প্রগ্রেসিভ সোশ্যাল সিকিউরিটি টিম। রাত ২৩:১৩টায় সামাজিক নিরাপত্তা দপ্তরের ড্যাশবোর্ডে দেশজুড়ে প্রার্থীদের পক্ষে ১,০০৭,৪২২টি ভোট গণনার তথ্য দেখানো হয়। গণনার অগ্রগতি ছিল বীমাকৃত কর্মীদের ক্ষেত্রে ৪০.৩৬% এবং নিয়োগকর্তাদের ক্ষেত্রে ৪৬.৮৬%।
সূচিপত্র
- বড় ব্যবধানে এগিয়ে, তবে ভোট গণনা এখনো শেষ হয়নি
- বীমাকৃত কর্মীদের আসনে কারা এগিয়ে ছিলেন?
- নিয়োগকর্তাদের আসনেও শীর্ষ সাতটি দলের দখলে
- ভোটার উপস্থিতি চার গুণেরও বেশি বেড়েছে
- সন্ধ্যায় ভোট গণনা যেভাবে এগোয়
- অনুপস্থিত তথ্য ও পুনর্গণনার দাবি নিয়ে যাচাই
- পর্যবেক্ষকেরা যা দেখেছেন এবং আংশিক অবৈধ ব্যালটের গণনা
- ভুল কেন্দ্র ও যোগ্যতার রেকর্ডে ভুলে ভোগান্তি
- ১৪টি আসন দলটির সংস্কার পরিকল্পনাকে শক্তিশালী করবে
- সুবিধা ও ফল প্রত্যয়নই পরবর্তী পরীক্ষা
- মূল তথ্য
নির্বাচন সমন্বয় কেন্দ্র রাত ২৩:২০টায় এ তথ্য জানায়। ফল তখনো অনানুষ্ঠানিক ছিল; দুই গোষ্ঠীরই অর্ধেকের বেশি ভোট গণনা বাকি ছিল। ২১ সদস্যের বোর্ডে ১৪ জন প্রতিনিধি নির্বাচিত হন। ফলে তহবিলের সুবিধা, বিনিয়োগ ও প্রশাসনসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে এ নির্বাচনের ফল গুরুত্বপূর্ণ।
বীমাকৃত কর্মীদের আসনে ০৪২ নম্বর প্রার্থী থানাপং চুয়ামুয়াংফান ১৩২,০১৯ ভোট পেয়ে এগিয়ে ছিলেন। নিয়োগকর্তাদের পক্ষে ০৬৪ নম্বর সারারিন রুয়েংপানিয়াওয়ুত পেয়েছিলেন ১,৭৯৪ ভোট। দুই গোষ্ঠীতেই সপ্তম প্রার্থী অষ্টমের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিলেন। তবে এই ব্যবধান বা নির্বাচনের রাতে দলের দেওয়া বক্তব্য কোনোটিই প্রত্যয়িত ফল ছিল না।
ভোটার উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। নির্বাচন কমিটির সভাপতি এবং শ্রম মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব পুলিশ লেফটেন্যান্ট কর্নেল ওয়ান্নাপং খোতচারাক জানান, প্রাথমিক হিসাবে অন্তত ৬৭০,০০০ বীমাকৃত কর্মী এবং ৮,৯৬৫ জন নিয়োগকর্তা ভোট দিয়েছেন। সব মিলিয়ে ভোটার অন্তত ৬৭৮,৯৬৫ জন, যেখানে ২০২৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর প্রথম নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলেন ১৫৮,৩৩৫ জন।
ভোটার আর প্রার্থীদের পাওয়া ভোটের পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। ড্যাশবোর্ডের ১,০০৭,৪২২ সংখ্যাটি প্রার্থীদের হিসাবে জমা হওয়া ভোটের, ভোটকেন্দ্রে আসা মানুষের সংখ্যা নয়। তাই ২০২৩ সালের ভোটার উপস্থিতির সঙ্গে এ সংখ্যার সরাসরি তুলনা করা যায় না। ভোটাররা একাধিক প্রার্থীকে সমর্থন করতে পারেন; ফলে প্রার্থীদের ভোটসংখ্যা এবং ভোটার উপস্থিতি ভিন্ন বিষয় পরিমাপ করে।
বীমাকৃত কর্মীদের আসনে কারা এগিয়ে ছিলেন?
রাত ২৩:১৩টার হিসাবে এগিয়ে থাকা বীমাকৃত কর্মীদের সাত প্রার্থীই প্রগ্রেসিভ সোশ্যাল সিকিউরিটি টিমের ছিলেন। তাঁদের ভোটসংখ্যা কাছাকাছি ছিল: ১২৩,০৩১ থেকে ১৩২,০১৯-এর মধ্যে। পরের তিন প্রার্থীর প্রত্যেকেই পেয়েছিলেন ৫,০০০-এর কম ভোট।
- ০৪২ নম্বর, থানাপং চুয়ামুয়াংফান: ১৩২,০১৯ ভোট।
- ০৪৩ নম্বর, নারিথা ফোখাইয়ানান: ১৩১,৬৬৬ ভোট।
- ০৪১ নম্বর, রুয়েংরিত লাওংকিত: ১৩০,৬৭৮ ভোট।
- ০৪৪ নম্বর, সুতসারুম থাম্মাবুসাদি: ১৩০,২২৮ ভোট।
- ০৪৬ নম্বর, প্রাথানা ফোদি: ১২৮,০০৭ ভোট।
- ০৪৭ নম্বর, ফনথিপ মংইয়াই: ১২৬,১৪৮ ভোট।
- ০৩৮ নম্বর, লাকসামি সুওয়ান্নাফাকদি: ১২৩,০৩১ ভোট।
অষ্টম স্থানে থাকা ০০৫ নম্বর প্রার্থী চাতুরং ফ্রাইসিং পেয়েছিলেন ৪,৯৮৯ ভোট। ০০২ নম্বর বুন আরায়াফন পেয়েছিলেন ৪,৭৩৮ এবং ০০৭ নম্বর অরানং নিথিরাক পেয়েছিলেন ৪,৭২২ ভোট।
সপ্তম ও অষ্টম প্রার্থীর ব্যবধান ছিল ১১৮,০৪২ ভোট। ওই মুহূর্তে দলের এগিয়ে থাকার মাত্রা বোঝায় এই ব্যবধান, চূড়ান্ত ফলের পূর্বাভাস নয়। ভোট গণনা, সংশোধন এবং কেন্দ্রের নথি যাচাই তখনো বাকি ছিল।
নিয়োগকর্তাদের আসনেও শীর্ষ সাতটি দলের দখলে
নিয়োগকর্তাদের আলাদা নির্বাচনেও শীর্ষ সাতটি স্থান দখল করেছিল একই দল। তাঁদের এগিয়ে থাকা প্রার্থীদের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ৯৮। প্রথমে ছিলেন সারারিন, আর সপ্তম স্থানে ফাত্থারানিত সিচানদন।
- ০৬৪ নম্বর, সারারিন রুয়েংপানিয়াওয়ুত: ১,৭৯৪ ভোট।
- ০৬৫ নম্বর, রত্তানাসিত সুফাফন: ১,৭৮৪ ভোট।
- ০৬৩ নম্বর, কৃষাদা আথিত চিন্তাকানন: ১,৭৭৫ ভোট।
- ০৬৬ নম্বর, কৃষউইত হারিমথেপাথিপ: ১,৭৬৭ ভোট।
- ০৬৭ নম্বর, সুখোথাই হাত্তারাত: ১,৭৬৪ ভোট।
- ০৬২ নম্বর, আদিসন কোয়েতমংখোন: ১,৭৬৩ ভোট।
- ০৬৮ নম্বর, ফাত্থারানিত সিচানদন: ১,৬৯৬ ভোট।
অষ্টম স্থানে থাকা ০২০ নম্বর সুরাচিত ওংখামহেং পেয়েছিলেন ২২৭ ভোট। তাঁর পর ০১৯ নম্বর আথায়ুত লিয়াওয়ানিত পেয়েছিলেন ২১৮ এবং ০১৮ নম্বর নামচাই একফাত্থাফানিত পেয়েছিলেন ২১৪ ভোট। সপ্তম প্রার্থীর সঙ্গে অষ্টমের ব্যবধান ছিল ১,৪৬৯ ভোট।
নিয়োগকর্তা ও বীমাকৃত কর্মীদের প্রতিনিধিরা আলাদাভাবে নির্বাচিত হন। তাঁদের ভোটসংখ্যাকে একক তালিকার ক্রম হিসেবে দেখা উচিত নয়, কারণ প্রতিটি গোষ্ঠী নিজেদের সাতজন প্রতিনিধি বেছে নেয়।
ভোটার উপস্থিতি চার গুণেরও বেশি বেড়েছে
২০২৩ সালের নির্বাচনে ১৫৬,৮৭০ জন বীমাকৃত কর্মী এবং ১,৪৬৫ জন নিয়োগকর্তা ভোট দিয়েছিলেন। এই সংখ্যার সঙ্গে ওয়ান্নাপংয়ের ২০২৬ সালের প্রাথমিক হিসাব তুলনা করলে বীমাকৃত কর্মীদের উপস্থিতি প্রায় ৩২৭% এবং নিয়োগকর্তাদের উপস্থিতি ৫১২% বেড়েছে। সম্মিলিত ভোটার উপস্থিতি ২০২৩ সালের মোট সংখ্যার প্রায় ৪.২৯ গুণ, অর্থাৎ প্রায় ৩২৯% বেশি।
প্রাথমিক মোট ভোটারসংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। একটি প্রতিবেদনে ৬৭৯,০০০-এর বেশি ভোটারের কথা বলা হয়; একই সঙ্গে বলা হয়, বীমাকৃত কর্মী ৬৭০,০০০-এর বেশি এবং নিয়োগকর্তা ৯,০০০-এর বেশি। এসব হিসাব চূড়ান্ত ছিল না, আর প্রতিবেদনের ভাষায় সব ক্ষেত্রে স্পষ্ট নয় যে শিরোনামে দেওয়া মোট সংখ্যায় দুই গোষ্ঠীই অন্তর্ভুক্ত কি না। আলাদাভাবে জানানো ৬৭০,০০০ ও ৮,৯৬৫ সংখ্যাই তুলনার সবচেয়ে স্পষ্ট ভিত্তি।
দিনের শুরুতে সামাজিক নিরাপত্তা দপ্তরের মহাসচিব চিরাপা বুনিয়ারাত জানান, ভোটার উপস্থিতি ৩০০,০০০ ছাড়িয়েছে। তিনি ধারণা করেছিলেন, উপস্থিতি আগের নির্বাচনের প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। পরের হিসাবগুলো ছিল অনেক বেশি। ভোট গণনা চলাকালে পাওয়া ক্রমাগত হালনাগাদ হিসাব এগুলো; দেশজুড়ে চূড়ান্ত মোট সংখ্যা নয়।
ওয়ান্নাপংয়ের ধারণা, যোগ্য ভোটারদের আগাম ভোট দেওয়ার ইচ্ছা নিবন্ধন না করেও ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকায় উপস্থিতি বেড়েছে। পছন্দের ভোটকেন্দ্র বেছে নিতে নিবন্ধন করা যেত; নিবন্ধন না করলে কর্মস্থলের ভিত্তিতে কেন্দ্র নির্ধারণ করা হতো।
যোগ্য ভোটারদের বড় জমায়েত পরিচালনার চাপও বাড়িয়েছিল। কর্মকর্তারা সি রাচায় প্রায় ২৬০,০০০ এবং সামুত প্রাকানে ২০০,০০০ যোগ্য ভোটারের কথা জানান। অন্য একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, সিলম কমপ্লেক্স, জেজে মল এবং সামুত প্রাকানের প্রতিটিতে ২০০,০০০-এর বেশি ভোটার ছিলেন। যোগ্য ভোটারের সংখ্যা আর প্রকৃত উপস্থিতি এক বিষয় নয়। স্থানীয় উপস্থিতি নিয়ে এসব দাবিরও এখনো নিশ্চিতকরণ প্রয়োজন।
সন্ধ্যায় ভোট গণনা যেভাবে এগোয়
সকাল ০৮:০০টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে দেশজুড়ে ১৬:০০টায় শেষ হয়। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা নিয়ে প্রতিবেদনে সামান্য পার্থক্য রয়েছে: একটি হিসাবে মোট কেন্দ্র ৫,২৩৩টি, আর ওয়ান্নাপংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী ৫,২৩৩টির বেশি। কর্মকর্তারা জানান, সব কেন্দ্র খোলা হয়েছিল এবং ভোট শেষ হওয়ার পরই গণনা শুরু হয়।
- ১৭:৩৫টায় ড্যাশবোর্ডের প্রাথমিক ফলে বীমাকৃত কর্মীদের আসনে প্রগ্রেসিভ দলের প্রার্থীরা এগিয়ে ছিলেন। নিয়োগকর্তাদের প্রার্থী ০৬২, ০৬৩ ও ০৬৪ প্রত্যেকে ৫০ ভোট এবং ০৬৫ থেকে ০৬৮ নম্বর প্রার্থীরা প্রত্যেকে ৪০ ভোট পেয়েছিলেন।
- সন্ধ্যার শুরুর দিকে ড্যাশবোর্ডে ত্রুটি দেখা দেয়। কর্মকর্তারা জানান, ১৮:৩০টায় আবার এতে প্রবেশ করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
- ১৯:৪৬টায় ড্যাশবোর্ডে ৬০,৬৬৭টি প্রার্থীর ভোট গণনার তথ্য দেখা যায়। দুই নির্বাচনেই দলটি তখনো এগিয়ে ছিল।
- ২১:১৫টায় সুতসারুম ব্যাং খে এলাকায় সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং জানান, গণনা প্রায় ১৫% থেকে ২০% সম্পন্ন হয়েছে।
- ২২:০০টায় ড্যাশবোর্ডে ৫২৩,৪৭০টি প্রার্থীর ভোট দেখা যায়। বীমাকৃত কর্মীদের ক্ষেত্রে গণনার অগ্রগতি ছিল ২৭.৩৩% এবং নিয়োগকর্তাদের ক্ষেত্রে ৩৪.৬৮%।
- ২৩:১৩টায় প্রদর্শিত মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ১,০০৭,৪২২-এ; দুই গোষ্ঠীতে গণনার অগ্রগতি যথাক্রমে ৪০.৩৬% ও ৪৬.৮৬%।
২২:০০টা থেকে ২৩:১৩টার মধ্যে প্রদর্শিত ভোটসংখ্যা ৪৮৩,৯৫২ বেড়েছিল। এতে বোঝা যায়, জানানো মোট সংখ্যা কত দ্রুত বদলাচ্ছিল; অতিরিক্ত কতজন ভোট দিয়েছেন, তা নয়। ভোট গ্রহণ এরই মধ্যে শেষ হয়েছিল।
কর্মকর্তারা প্রথমে রাত ১৮:০০টার দিকে ফল দেখা যেতে পারে এবং ২০:০০টার দিকে অনানুষ্ঠানিক চিত্র পাওয়া যেতে পারে বলে আলোচনা করেছিলেন। কোনোটিই পূর্ণাঙ্গ গণনা শেষ হওয়ার নিশ্চয়তা ছিল না। ওয়ান্নাপং ব্যাখ্যা করেন, কেন্দ্রগুলোর কাজ শেষ করে ফল পাঠানোর ওপর হালনাগাদের সময় নির্ভর করছে। ইয়ালার ক্রং পিনাং জেলার কেন্দ্রসহ ছোট কেন্দ্রগুলো বড় কেন্দ্রের আগে গণনা শেষ করছিল।
অনুপস্থিত তথ্য ও পুনর্গণনার দাবি নিয়ে যাচাই
সহযোগী অধ্যাপক ও ০৪৪ নম্বর প্রার্থী সুতসারুম সামুত প্রাকানের ব্যাং ফ্লি রাট বামরুং স্কুলের ফল নিয়ে নির্দিষ্ট উদ্বেগ জানান। তাঁর ভাষ্য, ৮২ নম্বর কেন্দ্রে ৫০ জন ভোটার থাকলেও ০৩৮ নম্বর প্রার্থী লাকসামির পক্ষে কোনো ভোট নথিভুক্ত হয়নি, কারণ কর্মকর্তারা তাঁর ভোটসংখ্যা না লিখেই চলে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে এ বাদ পড়া ঘটেনি।
তিনি আরও জানান, ৯৫ নম্বর কেন্দ্রে তাঁর নিজের প্রার্থিতার পক্ষে কোনো ভোট দেখানো হয়নি। দলের অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণে বলা হয়, সেখানে আরও কয়েকজন প্রার্থীর ভোটের তথ্য ছিল না এবং ৯৪ নম্বর কেন্দ্রে ফলের শিট প্রদর্শন করা হয়নি। দলের ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মকর্তারা ততক্ষণে চলে গিয়েছিলেন; ফলে স্বেচ্ছাসেবকেরা সঙ্গে সঙ্গে আপত্তি জানাতে বা নথি সম্পর্কে ব্যাখ্যা চাইতে পারেননি।
দলটি রাতচাবুরির একটি কেন্দ্রেও ভুলের অভিযোগ করেছে। সুতসারুম বলেন, ভোট কম দেখা যাওয়ায় স্বেচ্ছাসেবকেরা পুনর্গণনার অনুরোধ করেন এবং ফনথিপের ভোট এক থেকে বেড়ে ৮০ হয়। তাতে ৭৯ ভোট সংশোধন হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিটির চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত দিয়ে দাবিটি তখনো সমর্থিত হয়নি।
এগুলো ভোট গণনা ও নথিভুক্তকরণ নিয়ে নির্দিষ্ট অভিযোগ, জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নয়। গণনার শিটে তথ্য পরস্পর মিলে যাওয়ার প্রশ্নে কর্মকর্তাদের কাছে ওঠা উদ্বেগ থেকেও এগুলো আলাদা। ওয়ান্নাপং ও চিরাপা জানান, তাঁদের ব্রিফিংয়ের সময় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তাঁরা পাননি; জানানো হলে তদন্ত করবেন।
চিরাপা বলেন, অনানুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন, কারণ তথ্য প্রবেশে ভুল, যেমন বাড়তি একটি শূন্য, প্রদর্শিত মোট সংখ্যাকে বিকৃত করতে পারে। তাঁর ব্যাখ্যা থেকে বোঝা যায়, ড্যাশবোর্ডে বড় ব্যবধান দেখা গেলেও তা প্রত্যয়িত ফল থেকে আলাদা করে দেখা জরুরি।
পর্যবেক্ষকেরা যা দেখেছেন এবং আংশিক অবৈধ ব্যালটের গণনা
ননথাবুরির টেলিযোগাযোগ কেন্দ্রে ১৬:০০টায় ভোট শেষ হওয়ার পর ৩৩টি কেন্দ্রে গণনা শুরু হয়। পর্যবেক্ষক হিসেবে ২০ জনেরও কম মানুষ উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়। কর্মীরা ব্যালটকে চার ভাগে ভাগ করেন: বৈধ, অবৈধ, আংশিক অবৈধ এবং পছন্দ না জানানোর ব্যালট।
আংশিক অবৈধ ব্যালটের সব ভোট স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হতো না। কর্মীরা ব্যাখ্যা করেন, যেসব প্রার্থীর নাম প্রত্যাহার করা হয়েছিল, তাঁদের পক্ষে দেওয়া ভোট গণনা হবে না; অন্য প্রার্থীদের পক্ষে দেওয়া ভোট গণনা হবে। ওই কেন্দ্রে প্রত্যাহার করা প্রার্থীদের নম্বর ছিল ২৭, ২৯, ৩৪, ৩৭, ৪৫, ৬১, ৯৫ ও ১১০।
প্রক্রিয়ায় একজন কর্মকর্তা উচ্চস্বরে পছন্দের প্রার্থীর নাম বলতেন, আরেকজন গণনার শিটে দাগ দিতেন এবং তৃতীয়জন ফলের শিটে তা লিখতেন। পুলিশ ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করে। পরে জানানো মোট ফলের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করতে এসব আলাদা নথি ব্যবহার করার কথা ছিল।
বীমাকৃত সদস্য নন, এমন ২৯ বছর বয়সী পর্যবেক্ষক নাথি গণনাস্থলকে গাদাগাদি ও ব্যস্ত বলে বর্ণনা করেন। তাঁর আশঙ্কা, জায়গা সীমিত হওয়ায় ভুল হতে পারে। তিনি বলেন, বন্যা ও বৃষ্টির কারণে কেন্দ্রটি সরানো হয়েছিল বলে কর্মীরা তাঁকে জানিয়েছিলেন। তাঁর উদ্বেগ ছিল ভুলের ঝুঁকি নিয়ে; সেখানে ভুল ঘটেছে, এমন প্রমাণ নয়।
ওয়ান্নাপং দেশজুড়ে কার্যক্রম সুশৃঙ্খল ছিল বলে জানান; যানজটই ছিল প্রধান বাধা এবং আবহাওয়ার কারণে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেনি। তবে স্থানীয় বিবরণে বন্যা, কেন্দ্র স্থানান্তর এবং যাতায়াতের অসুবিধার কথা এসেছে। জাতীয় পর্যায়ে কার্যক্রম নির্বিঘ্ন থাকার মূল্যায়ন মানে এই নয় যে সব কেন্দ্রে একই পরিস্থিতি ছিল।
ভুল কেন্দ্র ও যোগ্যতার রেকর্ডে ভুলে ভোগান্তি
চিরাপা নির্ধারিত ভোটকেন্দ্র নিয়ে বিভ্রান্তিকে সাধারণ সমস্যাগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত করেন। কিছু ভোটার যাত্রা শুরুর আগে বার্তা বা সামাজিক নিরাপত্তা দপ্তরের ওয়েবসাইট দেখেননি। অন্য যেসব সমস্যার কথা জানা গেছে, তার মধ্যে ছিল চাঁদা জমার রেকর্ড, ভোটারের ক্রমিক নম্বরে অমিল এবং ভোটার যোগ্য নন বলে জানতে পারা।
একটি ঘটনায় একজনের রেকর্ডে ভুল করে দেখানো হয়েছিল যে তিনি আগেই ভোট দিয়েছেন। চিরাপা বলেন, যোগ্যতা যাচাইয়ের সময় এক কর্মকর্তা ভুল করে ভোটদানের অবস্থা নির্বাচন করেছিলেন। ব্যালটের স্টাব পরীক্ষা করে দেখা যায়, তাতে কোনো স্বাক্ষর নেই। রেকর্ড সংশোধনের পর ওই ব্যক্তিকে ভোট দিতে দেওয়া হয়। এ বিবরণটি প্রশাসনিক ভুলের; ভোটারের পরিচয় ধারণ করে কেউ ভোট দিয়েছেন, এমন নিশ্চিত ঘটনা নয়।
তিনি স্বীকার করেন, প্রার্থীর নাম যোগ বা প্রত্যাহার হওয়ার পরও কিছু কেন্দ্রে পুরোনো তালিকা ছাপানো হয়েছিল, যা নম্বর নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। কর্মকর্তারা বলেন, সমস্যাগুলো সমাধান করা হয়েছে। তাঁরা জানান, কোনো ব্যালট ছেঁড়া হয়নি এবং প্রার্থীর নম্বর হাতে লেখা স্মারক নিয়ে ভোটারদের প্রবেশের বিষয়ে অমীমাংসিত কোনো অভিযোগও ছিল না।
ভোটকেন্দ্র নির্ধারণের কাজের ব্যাপ্তি ও জটিলতার একটি উদাহরণ নাখন রাতচাসিমা। সামাজিক নিরাপত্তা দপ্তর প্রদেশের ৩২টি জেলায় ১৪৭টি কেন্দ্র স্থাপন করে; এর মধ্যে ৫৩টি ছিল কোরাত চাচাই হলে। প্রদেশের মোট কেন্দ্রের প্রায় ৩৬% ছিল এক স্থানে।
আগাম নিবন্ধন না করা যোগ্য বীমাকৃত কর্মীরা নির্ধারিত নিয়ম মেনে চাচাই হলে ভোট দিতে পারতেন। আগাম নিবন্ধনকারীদের পাঠানো হয়েছিল সেন্ট্রাল কোরাত শপিং সেন্টারে। ভোটাররা থাইআইডি ডিজিটাল পরিচয় অ্যাপ ব্যবহার করে দপ্তরের অনলাইন ব্যবস্থায় যোগ্যতা ও নির্ধারিত কেন্দ্র যাচাই করতে পারতেন।
১৪টি আসন দলটির সংস্কার পরিকল্পনাকে শক্তিশালী করবে
সুতসারুম বলেন, আগে বোর্ডের ২১টি আসনের মধ্যে ছয়টি ছিল তাঁদের দলের দখলে। নির্বাচিত ১৪টি আসনই পেলে বোর্ডে তাদের সদস্যসংখ্যা হবে দুই-তৃতীয়াংশ, যেখানে আগে ছিল প্রায় ২৯%। আসনগুলো তখনো নিশ্চিত না হলেও তিনি এ সম্ভাবনাকে দলের সংস্কার কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট সমর্থন হিসেবে তুলে ধরেন।
দলের প্রস্তাব ছিল, দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম সাত দিনের মধ্যে বোর্ডের কার্যবিবরণী প্রকাশ এবং সভার সরাসরি সম্প্রচার শুরু করা। তাদের ঘোষিত কর্মসূচিতে ছিল বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি প্রকল্পের নিরীক্ষা, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার প্রসার, কেয়ার (CARE) নামের পেনশন গণনার প্রস্তাব এবং সরকারের চাঁদা বকেয়া নিয়ে আরও স্বচ্ছ প্রতিবেদন।
ব্যয়ের ক্ষেত্রে দলটি প্রশাসনিক বাজেট চাঁদার আয়সীমার ৩%-এ বেঁধে দেওয়ার প্রস্তাব করে; বিদ্যমান সীমা ১০% বলে জানানো হয়েছিল। তারা প্রযুক্তি বাজেট ১.৫ বিলিয়ন বাত থেকে কমিয়ে সর্বোচ্চ ৩০০ মিলিয়ন বাত করার প্রস্তাবও দেয়, অর্থাৎ কমপক্ষে ৮০% হ্রাস। সম্ভব হলে সরকারি যৌথ ব্যবস্থা ব্যবহারের কথাও বলে। এগুলো ছিল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, অনুমোদিত বাজেট নয়।
সুতসারুমের ভাষ্য, প্রশাসনিক ব্যয় বছরে ৫ বিলিয়ন বাত ছাড়িয়েছে। তিনি জিরো বাজেটিংয়ের পক্ষে মত দেন। এই পদ্ধতিতে আগের বরাদ্দ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বহাল না রেখে শুরু থেকে ব্যয় পর্যালোচনা করতে হয় এবং প্রতিটি কার্যক্রমের খরচের যৌক্তিকতা দেখাতে হয়।
দলের আগের কাজের কৃতিত্ব দিয়ে তিনি বলেন, শিশু, বেকারত্ব, পেনশন ও আক্কেলদাঁতের চিকিৎসাসংক্রান্ত উন্নতিসহ প্রায় ১.২ মিলিয়ন মানুষ সুবিধা পেয়েছেন। দলের প্রতিটি নীতিগত পরিবর্তনে তাদের অবদানের এই হিসাব তাঁর দাবি; এটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সংখ্যা নয়।
নিয়োগকর্তা প্রার্থী সারারিন বলেন, তিনি স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা এবং তহবিলের স্থায়িত্ব ও বীমাকৃত সদস্যদের সুবিধা সমর্থনকারী বিনিয়োগ চান। সুতসারুম আরও বলেন, শ্রমমন্ত্রী জুলাপুন অমর্নভিওয়াতের সঙ্গে কাজ করতে দল প্রস্তুত।
সুবিধা ও ফল প্রত্যয়নই পরবর্তী পরীক্ষা
নীতিগত দাবি নির্বাচনী ব্যয়ের প্রস্তাবেই সীমাবদ্ধ ছিল না। নাখন রাতচাসিমায় সামাজিক নিরাপত্তা আইনের ৩৩ ধারার আওতাভুক্ত ৩৭ বছর বয়সী বীমাকৃত কর্মী থানাসাক নিয়ামসন উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও দাঁতের চিকিৎসার কভারেজের দাবি জানান। তিনি বার্ষিক দাঁতের চিকিৎসার ভাতা ৯০০ বাত বলে উল্লেখ করেন এবং নতুন বোর্ডকে তা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
"দাঁতের চিকিৎসার ভাতা বছরে বর্তমানে ৯০০ বাত। বীমাকৃত কর্মীরা যাতে প্রয়োজনীয় সেবা পান, সে জন্য ভাতাটি বাড়ানোর বিষয়টি বোর্ডের বিবেচনা করা উচিত," বলেন থানাসাক।
পিপলস পার্টির নেতা ও দলীয় তালিকার সংসদ সদস্য নাত্থাফং রুয়েংপানিয়াওয়ুত ১৪:০০টায় ব্যাংককের তালিং চান জেলার মহন্নোফারাম স্কুলে নিয়োগকর্তা হিসেবে ভোট দেন। তিনি ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান, কারণ চাঁদার অর্থ কীভাবে ব্যয় হবে তা নির্ধারণে বোর্ডের ভূমিকা রয়েছে। তবে তিনি বলেন, তাঁর দল কোনো প্রার্থী দেয়নি এবং নির্বাচনের ফল জানাতে কেন্দ্রও খুলবে না। পেচাবুরিতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ভোটারদের সহায়তা করতেও তিনি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
নতুন প্রতিনিধিরা দায়িত্ব নেওয়ার আগে কেন্দ্রের ফল প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। কর্মকর্তারা জানান, ফল প্রত্যয়নের জন্য ব্যালট বাক্সের সিল পরীক্ষা এবং প্রার্থীদের যোগ্যতা নতুন করে যাচাইও প্রয়োজন। পরবর্তী প্রক্রিয়ায় শ্রমমন্ত্রীর কাছে মনোনয়নের জন্য জমা দেওয়া এবং রয়্যাল গেজেটে প্রকাশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
চিরাপা ২০২৬ সালের শেষ হওয়ার আগেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য জানিয়েছেন। আগের নির্বাচনের প্রায় ৭০ দিনের প্রক্রিয়ার সঙ্গে তুলনায় তাঁর বক্তব্য নিয়ে প্রতিবেদনে মতভেদ রয়েছে: একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটার উপস্থিতি বেড়েছে বলে এবার বেশি সময় লাগতে পারে; অন্যটিতে বলা হয়, তাঁর আশা সময় আগের চেয়ে বেশি লাগবে না। তিনি জানান, ফল প্রত্যয়নের জন্য আইনে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। আগের বোর্ড তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছিল।
বিজয়ীদের ঘোষণার পর সাত দিনের মধ্যে আপত্তি জানানো যাবে। চিরাপা বলেন, আপত্তি বিবেচনার জন্য ৩০ দিন সময় থাকবে; প্রয়োজন হলে আরও ৩০ দিন বাড়ানো যেতে পারে। সামাজিক নিরাপত্তা দপ্তর ১২ অক্টোবর আরেকটি গণনা-বিষয়ক ব্রিফিংয়ের সময় নির্ধারণ করেছে। চূড়ান্ত ভোটার উপস্থিতি, প্রত্যয়িত বিজয়ীদের নাম এবং বিতর্কিত কেন্দ্রের নথি নিয়ে তদন্তের ফল তখনো বাকি ছিল।
মূল তথ্য
- ১১ অক্টোবর ২০২৬ রাত ২৩:১৩টায় বীমাকৃত কর্মীদের সাতটি এবং নিয়োগকর্তাদের সাতটি আসনের সব কটিতেই এগিয়ে ছিল প্রগ্রেসিভ সোশ্যাল সিকিউরিটি টিম।
- ড্যাশবোর্ডে ১,০০৭,৪২২টি প্রার্থীর ভোট দেখানো হয়েছিল, স্বতন্ত্র ভোটারের সংখ্যা নয়।
- গণনার অগ্রগতি ছিল বীমাকৃত কর্মীদের ক্ষেত্রে ৪০.৩৬% এবং নিয়োগকর্তাদের ক্ষেত্রে ৪৬.৮৬%।
- প্রাথমিক হিসাবে অন্তত ৬৭৮,৯৬৫ জনের ভোটার উপস্থিতি ২০২৩ সালের মোট সংখ্যার প্রায় ৪.২৯ গুণ।
- সামুত প্রাকানে ভোট নথিভুক্তকরণ নিয়ে দলটি উদ্বেগ জানায় এবং রাতচাবুরিতে পুনর্গণনার পর সংশোধনের কথা জানায়।
- প্রস্তাবিত সংস্কারের মধ্যে ছিল সভার কার্যবিবরণী প্রকাশ, ব্যয় পর্যালোচনা এবং পেনশন ও স্বাস্থ্যনীতিতে পরিবর্তন।
- কর্মকর্তারা বছরের শেষ নাগাদ ফল প্রত্যয়নের লক্ষ্য জানিয়েছেন এবং ১২ অক্টোবর আরেকটি ব্রিফিংয়ের সময় নির্ধারণ করেছেন।






