চার রোগী, দুই থেকে চার বছরের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ
জাপানের একটি ক্লিনিক্যাল গবেষণায় গুরুতর সার্ভাইক্যাল স্পাইনাল কর্ডে আঘাত পাওয়া চার পুরুষের শরীরে প্রতিস্থাপিত নিউরাল প্রোজেনিটর কোষের কারণে দুই থেকে চার বছর ধরে কোনো টিউমার বা বিরূপ ঘটনা দেখা যায়নি। প্রত্যেক রোগীর ক্ষতিগ্রস্ত স্পাইনাল কর্ডে ইনডিউসড প্লুরিপোটেন্ট স্টেম সেল বা iPSC থেকে তৈরি ২০ লাখ কোষ ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া হয়। পরে তাঁদের দুজন স্পাইনাল কর্ডের অক্ষমতার সবচেয়ে গুরুতর শ্রেণি থেকে এমন শ্রেণিতে উন্নীত হন, যা আঘাতের নিচের অংশে কিছু নড়াচড়া ফিরে আসার ইঙ্গিত দেয়।
সূচিপত্র
- চার রোগী, দুই থেকে চার বছরের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ
- কারা প্রতিস্থাপন পেয়েছিলেন?
- কোষ কীভাবে প্রস্তুত ও প্রয়োগ করা হয়েছিল
- নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে কী দেখা গেছে
- ইমেজিংয়ে অস্বাভাবিক বৃদ্ধির লক্ষণ মেলেনি
- নড়াচড়া ও দৈনন্দিন স্বনির্ভরতায় কী পরিবর্তন হয়েছিল?
- রেজিস্ট্রির রোগীদের সঙ্গে পুনরুদ্ধারের তুলনা
- যা এখনো প্রমাণিত নয়
- প্রকাশনার সময়রেখা ও পরবর্তী পদক্ষেপ
- মূল বিষয়গুলো
২০২৬ সালের ২১ জুলাই নেচার মেডিসিনে প্রকাশিত গবেষণাটির ফলাফল থেকে বোঝা যায়, সতর্কভাবে বাছাই করা ছোট একটি রোগীদলের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নিরাপত্তা-পরিসরে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা সম্ভব। তবে কোষগুলোই যে উন্নতির কারণ, তা প্রমাণিত হয়নি। পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ছিলেন মাত্র চারজন; এলোমেলোভাবে নির্ধারিত কোনো তুলনামূলক দল ছিল না এবং প্রতিস্থাপিত কোষগুলো টিকে ছিল বা স্পাইনাল কর্ডের কার্যকর অংশে পরিণত হয়েছিল—এমন প্রত্যক্ষ প্রমাণও পাওয়া যায়নি।
কেইও ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল ও মুরায়ামা মেডিকেল সেন্টার আঘাতের পরপর কয়েক সপ্তাহের সাবঅ্যাকিউট পর্যায়ে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের নিয়ে গবেষণাটি পরিচালনা করে। আহত মানুষের স্পাইনাল কর্ডে iPSC থেকে তৈরি নিউরাল স্টেম/প্রোজেনিটর কোষ প্রতিস্থাপনের প্রথম ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা ছিল এটি। মূল লক্ষ্য ছিল নিরাপত্তা যাচাই; স্নায়বিক পুনরুদ্ধারকে মূল্যায়ন করা হয়েছিল অনুসন্ধানমূলক ফলাফল হিসেবে।
এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ: কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঠেকানো সম্ভাব্য চিকিৎসার পথে একটি অপরিহার্য ধাপ, কিন্তু প্রতিস্থাপনের ফলে কার্যক্ষমতা ফিরেছে প্রমাণ করতে আরও পরীক্ষা দরকার। ফলাফলগুলো পদ্ধতিটির ক্লিনিক্যাল মূল্যায়ন চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে, তবে কার্যকর চিকিৎসা নিয়মিত ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত—এমন সিদ্ধান্তের পক্ষে নয়।
কারা প্রতিস্থাপন পেয়েছিলেন?
২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের নভেম্বরের মধ্যে সাতজনকে যাচাই-বাছাই করা হয়; তাঁদের মধ্যে চারজন প্রতিস্থাপনের শর্ত পূরণ করেন। চারজনই পুরুষ, বয়স ২৬ থেকে ৬৬ বছর। তাঁদের ঘাড়ের C4 থেকে C6 স্তরে আঘাত ছিল। প্রত্যেকের ক্ষেত্রে আমেরিকান স্পাইনাল ইনজুরি অ্যাসোসিয়েশন ইমপেয়ারমেন্ট স্কেলের A গ্রেড, যা AIS A নামে পরিচিত, প্রতিস্থাপনের দিন আবারও নিশ্চিত করা হয়।
AIS A বলতে বোঝায়, স্পাইনাল কর্ডের আঘাতের শ্রেণিবিন্যাসে ব্যবহৃত সবচেয়ে নিচের স্যাক্রাল অংশগুলোতে পরীক্ষায় কোনো সংবেদনশীল বা মোটর কার্যক্ষমতা ধরা পড়ে না। এটি চিকিৎসাগতভাবে সম্পূর্ণ আঘাত বোঝায়, স্পাইনাল কর্ড শারীরিকভাবে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে—এমন নয়। নিবন্ধিত প্রোটোকলে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতা বা একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত স্থানের আঘাত বাদ দেওয়া হয়েছিল।
প্রোটোকলে ঘাড়ের C3/C4 থেকে বুকের T10 অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত আঘাতের সুযোগ ছিল এবং ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী নারী-পুরুষ উভয়েই অংশ নিতে পারতেন। ফলে বাস্তব অংশগ্রহণকারীরা যোগ্যতার শর্তে অনুমোদিত গোষ্ঠীর তুলনায় সীমিত ছিলেন। এই চার পুরুষের ফলাফল থেকে সব ধরনের স্পাইনাল কর্ডের আঘাতে নিরাপত্তা বা উপকারিতা প্রতিষ্ঠা করা যায় না।
রোগীদের স্নায়বিক অবস্থা স্থিতিশীল হওয়া এবং অস্ত্রোপচার, ইমিউনোসাপ্রেশন ও বারবার মূল্যায়ন করানোর সক্ষমতাও দরকার ছিল। সক্রিয় সংক্রমণ, গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যকারিতায় বড় সমস্যা এবং গুরুতর শ্বাসকষ্ট বাদ দেওয়ার কারণগুলোর মধ্যে ছিল। তীব্র পর্যায়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে স্পাইনাল কর্ড স্থিতিশীল করার পর সম্ভাব্য অংশগ্রহণকারীদের মূল্যায়নের জন্য কেইও ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কোষ কীভাবে প্রস্তুত ও প্রয়োগ করা হয়েছিল
ইনডিউসড প্লুরিপোটেন্ট স্টেম সেল হলো প্রাপ্তবয়স্ক কোষ, যেগুলোকে এমন অবস্থায় পুনঃপ্রোগ্রাম করা হয় যে সেগুলো থেকে অনেক ধরনের কোষ তৈরি হতে পারে। প্রতিস্থাপনে ব্যবহার করা হয়েছিল নিউরাল প্রোজেনিটর কোষ, যেগুলো স্নায়ুকোষ ও গ্লিয়া নামে পরিচিত সহায়ক কোষে পরিণত হওয়ার ক্ষেত্রে বেশি সীমাবদ্ধ। এই পদ্ধতির লক্ষ্য ছিল অপরিণত iPSC প্রতিস্থাপন না করে ক্ষতিগ্রস্ত স্নায়ু টিস্যুর মেরামতে সহায়ক হতে পারে—এমন কোষ প্রবেশ করানো।
শুরুর কোষ-লাইন YZWJs513 নেওয়া হয়েছিল একজন সুস্থ ব্যক্তির দান করা নাভিরজ্জুর রক্ত থেকে। কিয়োটো ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর iPS সেল রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাপ্লিকেশন গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিসের শর্তে এটি তৈরি করে। ওসাকা ন্যাশনাল হাসপাতাল নিউরাল প্রোজেনিটর কোষ উৎপাদন করে; ব্যবহারের আগে সেগুলো পূর্বনির্ধারিত মানের শর্ত পূরণ করে।
সংরক্ষণ ও কেইওতে পাঠানোর জন্য কোষগুলো হিমায়িত করা হয়। প্রতিস্থাপনের চার দিন আগে সেগুলো গলিয়ে কালচার করা হয়। নচ সংকেতপ্রবাহ দমনে কোষগুলোকে ২৪ ঘণ্টা গামা সিক্রেটেজ ইনহিবিটর দিয়েও চিকিৎসা করা হয়; কোষের বিকাশ নিয়ন্ত্রণে এই সংকেতপ্রবাহ ভূমিকা রাখে। কোষগুলোকে কৃত্রিম সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইডে মেশানোর আগে কালচার তরল ও ইনহিবিটর সরিয়ে ফেলা হয়।
প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীর স্পাইনাল কর্ডের ক্ষতস্থানের কেন্দ্রে ২০ লাখ কোষ একবারে ইনজেকশন দেওয়া হয়। জাপানের জাতীয় স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থার আওতায় প্রচলিত পুনর্বাসন চলতে থাকে। প্রতিস্থাপনের পাশাপাশি পুনর্বাসন ও স্বাভাবিক পুনরুদ্ধারও চলায়, পরবর্তী কার্যগত পরিবর্তনগুলো শুধু কোষের কারণে হয়েছে বলে নির্ধারণ করা যায় না।
নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে কী দেখা গেছে
চারজন অংশগ্রহণকারীই প্রাথমিক ৫২ সপ্তাহের গবেষণা সম্পন্ন করেন। গবেষকেরা ৮৪টি বিরূপ ঘটনা নথিবদ্ধ করেন, যেখানে একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটলে প্রতিবার আলাদা করে গণনা করা হয়েছে। শিরোনামের মূল ফলাফলটি বুঝতে এই মোট সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ: গবেষণায় চিকিৎসাজনিত সমস্যা একেবারেই ছিল না, এমন বলা হয়নি। বরং প্রতিস্থাপিত কোষের কারণে কোনো বিরূপ ঘটনা ঘটেছে বলে দেখা যায়নি।
একটি ঘটনা গুরুতর বিরূপ ঘটনার সংজ্ঞা পূরণ করে: রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা সাময়িকভাবে প্রতি লিটারে ৬ মিলিইকুইভ্যালেন্টে ওঠে। অংশগ্রহণকারীর কোনো উপসর্গ ছিল না, মাত্রাটি নিজে থেকেই স্বাভাবিক হয় এবং গবেষকেরা ঘটনাটিকে প্রকৃত শারীরিক অস্বাভাবিকতার বদলে রক্তের নমুনা সংগ্রহজনিত ত্রুটির সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করেন।
অস্ত্রোপচারের সঙ্গে সম্পর্কিত দুটি মাঝারি মাত্রার ঘটনা ছিল: ওপরের শ্বাসনালিতে নিঃসরণ বেড়ে যাওয়া এবং সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড চুইয়ে পড়া। দাতা কোষের বিরুদ্ধে রোগপ্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া দমনে ব্যবহৃত ওষুধ ট্যাক্রোলিমাসের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বিবেচিত হয় আরও ২২টি মৃদু বা মাঝারি ঘটনা। চারজনেরই ম্যাগনেশিয়ামের মাত্রা কমে যাওয়া ও মূত্রনালির সংক্রমণ হয়। স্পাইনাল কর্ডে আঘাতের পর মূত্রনালির সংক্রমণ সাধারণ ঘটনা হলেও, ট্যাক্রোলিমাসের কোনো ভূমিকা ছিল না—তা নিশ্চিতভাবে বাদ দেওয়া যায়নি।
প্রতিস্থাপনের আগের দিন ট্যাক্রোলিমাস শুরু হয়, ছয় মাস চালু থাকে এবং নবম মাসের মধ্যে বন্ধ করা হয়। ফলে ফলাফলে ইমিউনোসাপ্রেশনের সময়কাল এবং তা শেষ হওয়ার পরের দীর্ঘ সময়—দুটিই অন্তর্ভুক্ত, যখন দেরিতে কোনো সমস্যা দেখা দিতে পারত।
ইমেজিংয়ে অস্বাভাবিক বৃদ্ধির লক্ষণ মেলেনি
প্লুরিপোটেন্ট স্টেম সেল থেকে তৈরি চিকিৎসার বড় উদ্বেগ হলো, অনাকাঙ্ক্ষিত কোষ অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে পারে বা টিউমার তৈরি করতে পারে। সন্দেহজনক পরিবর্তন খুঁজতে গবেষকেরা বারবার ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং বা MRI করেন এবং ২৪তম সপ্তাহে পুরো শরীরের PET স্ক্যান করেন। PET-এ তেজস্ক্রিয় ট্রেসারের শোষণ মাপা হয়, যা অস্বাভাবিক বিপাকীয় কার্যকলাপের স্থান শনাক্ত করতে সহায়তা করতে পারে।
প্রথম বছরে MRI বা PET—কোনোটিতেই স্পাইনাল কর্ডে কোষের অস্বাভাবিক বিস্তারের ইঙ্গিত মেলেনি। পরবর্তী ইমেজিংয়েও গ্রাফটের কারণে হয়েছে বলে বিবেচিত কোনো টিউমার বা অন্য অস্বাভাবিকতার লক্ষণ দেখা যায়নি। কয়েকজন রোগীর ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী মায়েলোম্যালেশিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিবর্তন দেখা যায়; অর্থাৎ স্পাইনাল কর্ডের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত বা নরম হয়ে যাওয়া। গবেষকেরা এটিকে মূল আঘাতের স্বাভাবিক পরিণতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করেন।
প্রথম রোগীর ক্ষেত্রে চার বছর, দ্বিতীয় রোগীর ক্ষেত্রে তিন বছর, তৃতীয় রোগীর ক্ষেত্রে আড়াই বছর এবং চতুর্থ রোগীর ক্ষেত্রে দুই বছর ফলো-আপ করা হয়। দেরিতে গুরুতর কোনো বিরূপ ঘটনা বা ক্রমাগত স্নায়বিক অবনতি শনাক্ত হয়নি। পর্যবেক্ষণের সময়কালে নিরাপত্তার পক্ষে এসব ফলাফল প্রমাণ দেয়, তবে বিরল জটিলতা বাদ দেওয়ার জন্য চারজন রোগী যথেষ্ট নয়।
নড়াচড়া ও দৈনন্দিন স্বনির্ভরতায় কী পরিবর্তন হয়েছিল?
প্রাথমিক গবেষণার সময় চারজনেরই মোটর কার্যক্ষমতা ও স্বনির্ভরতার মূল্যায়নে উন্নতি হয়। স্পাইনাল কর্ড ইনজুরির স্নায়বিক শ্রেণিবিন্যাসের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী মোটর স্কোর ০ থেকে ১০০-এর মধ্যে পেশির কার্যক্ষমতা মাপে। শুরুর অবস্থা থেকে ৫২তম সপ্তাহে জানানো মূল্যায়ন পর্যন্ত মধ্যম উন্নতি ছিল ১৩ পয়েন্ট; ব্যক্তিভেদে উন্নতি ১০ থেকে ৪০ পয়েন্টের মধ্যে ছিল।
প্রতিস্থাপনের পর প্রথম ১২ সপ্তাহে মোটর স্কোর সবচেয়ে দ্রুত বাড়ে; এরপর প্রথম বছরের বাকি সময়ে অধিকাংশ অংশগ্রহণকারীর ক্ষেত্রে উন্নতি ধীর হয়। হালকা স্পর্শ ও পিনপ্রিক দিয়ে সংবেদনশীলতার পরীক্ষাতেও উন্নতি দেখা যায়। এসব মাপ পর্যবেক্ষিত পুনরুদ্ধারের বর্ণনা দেয়, কিন্তু এর কারণ ব্যাখ্যা করে না।
দুই অংশগ্রহণকারীর AIS শ্রেণি বদলায়: একজন A থেকে C এবং অন্যজন A থেকে D-তে উন্নীত হন। দুটি শ্রেণিই মোটর কার্যক্ষমতা আংশিক অক্ষত থাকা আঘাত বোঝায়, যেখানে আঘাতের স্তরের নিচে স্বেচ্ছায় নড়াচড়া করা যায়। D গ্রেডের জন্য ওই স্তরের নিচে পরীক্ষিত পেশিগুলোর তুলনামূলক বেশি অংশে মাধ্যাকর্ষণের বিরুদ্ধে নড়াচড়া করার মতো শক্তি থাকতে হয়। শুধু AIS শ্রেণির উন্নতি থেকে স্বাধীনভাবে হাঁটার মতো নির্দিষ্ট সক্ষমতা প্রমাণিত হয় না।
দৈনন্দিন কাজের মূল্যায়নকারী স্পাইনাল কর্ড ইন্ডিপেনডেন্স মেজার III-তেও সব অংশগ্রহণকারীর স্কোর বেড়েছে। প্রথম বছরের পর মোটর কার্যক্ষমতা ও AIS শ্রেণি মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল। দুই অংশগ্রহণকারীর স্বনির্ভরতার স্কোরে পরে সামান্য পতন দেখা যায়; এর কারণ ছিল সুবিধার জন্য বেছে নেওয়া মূত্রাশয় ব্যবস্থাপনার পরিবর্তন, স্নায়বিক অবনতি নয়।
রেজিস্ট্রির রোগীদের সঙ্গে পুনরুদ্ধারের তুলনা
পরিবর্তনগুলোকে প্রেক্ষাপটে দেখতে গবেষকেরা ফুকুওকার স্পাইনাল ইনজুরিজ সেন্টারের জাপান সিঙ্গল সেন্টার স্টাডি ফর স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি ডেটাবেইস ব্যবহার করেন। ২০১৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি ৯৮৬ জনের মধ্যে তাঁরা ৫২ জনকে শনাক্ত করেন, যাঁরা পরীক্ষার যোগ্যতার শর্ত পূরণ করেছিলেন। এটি ছিল অতীতের তথ্যের ভিত্তিতে তুলনা; প্রতিস্থাপন নেওয়া রোগীদের পাশাপাশি কোনো নিয়ন্ত্রণ দলকে এই গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
প্রতিটি মূল্যায়নে যাঁদের মাপজোকের তথ্য পাওয়া গিয়েছিল, তাঁদের নিয়ে রেজিস্ট্রি বিশ্লেষণে মোটর স্কোরের মধ্যম উন্নতি ছিল ২৪তম সপ্তাহে ৫ পয়েন্ট এবং ৫২তম সপ্তাহে ৭ পয়েন্ট। প্রতিস্থাপন নেওয়া দলের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট উন্নতি ছিল ৭ ও ১৩ পয়েন্ট। ৫২তম সপ্তাহে প্রতিস্থাপন নেওয়া দলের মধ্যম উন্নতি রেজিস্ট্রির হিসাবের চেয়ে তাই ৬ পয়েন্ট বেশি ছিল।
ফলো-আপের মাপজোক না থাকায় রেজিস্ট্রির হিসাব বদলে যায়। প্রত্যেক রোগীর সর্বশেষ নথিবদ্ধ ফল পরবর্তী সময়ের জন্য ধরে রাখা বিশ্লেষণে দুই মূল্যায়নেই মধ্যম উন্নতি ছিল ৪ পয়েন্ট। এই পদ্ধতিতে পরবর্তী মাপজোক নেই এমন রোগীদের অন্তর্ভুক্ত রাখা যায়, তবে ধরে নেওয়া হয় তাঁদের সর্বশেষ মাপা অবস্থা অপরিবর্তিত ছিল।
প্রতিস্থাপন নেওয়া চারজনের মধ্যে দুজন, অর্থাৎ ৫০ শতাংশ, AIS C বা তার বেশি শ্রেণিতে পৌঁছান। রেজিস্ট্রিতে ৫২তম সপ্তাহে যাঁদের তথ্য পাওয়া গিয়েছিল, তাঁদের ২৫ জনের মধ্যে ৩ জনের ক্ষেত্রে, অর্থাৎ ১২ শতাংশের ক্ষেত্রে এই ফল দেখা যায়। সর্বশেষ ফল ধরে রাখা বিশ্লেষণে ৫২ জনের মধ্যে ৮ জন, অর্থাৎ ১৫.৪ শতাংশ, এই পর্যায়ে পৌঁছান। পার্থক্যটি আশাব্যঞ্জক, তবে প্রতিস্থাপন নেওয়া প্রতিটি রোগীর হিসাবেই হার ২৫ শতাংশ পয়েন্ট করে বদলে যায়। রোগীর সংখ্যা কম, রেজিস্ট্রির তথ্য অসম্পূর্ণ এবং রোগী বাছাইয়ের পার্থক্যের কারণে প্রতিস্থাপন প্রচলিত চিকিৎসার চেয়ে ভালো ফল দিয়েছে—এমন নির্ভরযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
যা এখনো প্রমাণিত নয়
গবেষণাটি ছিল ওপেন-লেবেল; অর্থাৎ রোগী ও চিকিৎসক জানতেন যে চিকিৎসাটি দেওয়া হয়েছে, এবং অন্তর্ভুক্ত সবাই এটি পেয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা নেওয়া একটি তুলনামূলক দলে এলোমেলোভাবে রোগী বণ্টন না থাকায় প্রতিস্থাপনের প্রভাবকে স্বতঃস্ফূর্ত পুনরুদ্ধার, পুনর্বাসন বা চিকিৎসার অন্যান্য দিক থেকে নির্ভরযোগ্যভাবে আলাদা করা যায় না। লেখকেরা স্পষ্টভাবে বলেছেন, উন্নতির কারণ প্রতিস্থাপন—এমন বলা যায় না।
গবেষকেরা গ্রাফট টিকে থাকা, বিভিন্ন ধরনের নিউরাল কোষে পরিণত হওয়া বা রোগীর বিদ্যমান স্নায়ু-সংযোগের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ তৈরির প্রত্যক্ষ প্রমাণও দিতে পারেননি। স্থিতিশীল ইমেজিং এবং ট্যাক্রোলিমাস বন্ধের পর অবনতি না হওয়া গ্রাফট টিকে থাকার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, কিন্তু কোষগুলো টিকে ছিল বা পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রেখেছে—তার প্রমাণ নয়।
রোগপ্রতিরোধ-সংক্রান্ত পরীক্ষায় দাতার সঙ্গে মিলের মাত্রা ও স্নায়বিক ফলাফলের মধ্যে স্পষ্ট সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। পরীক্ষা করা ছয়টি প্রধান হিউম্যান লিউকোসাইট অ্যান্টিজেন স্থানে দুই রোগীর সঙ্গে দাতার সব ভ্যারিয়েন্ট মিলেছিল, অন্য দুই রোগীর ক্ষেত্রে মিল ছিল খুবই সীমিত। প্রত্যাখ্যানের লক্ষণ শনাক্ত হয়নি, তবে ভবিষ্যতে প্রতিস্থাপন নেওয়া রোগীদের কতটা মিল থাকা দরকার, তা নির্ধারণের জন্য চারটি পর্যবেক্ষণ যথেষ্ট নয়।
ব্যথা ও পেশির শক্তভাবও পর্যবেক্ষণ করা হয়। সব অংশগ্রহণকারীর কিছু ব্যথা ছিল, তবে ব্যবহৃত সংখ্যাভিত্তিক স্কেলে কারও স্থায়ী ব্যথার মাত্রা ৫ বা তার বেশি হয়নি; মুখে খাওয়ার ওষুধে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে ছিল। ৫২তম সপ্তাহে তিনজনের গোড়ালিতে মৃদু স্প্যাস্টিসিটি ছিল; কারও বেশি মাত্রার স্প্যাস্টিসিটি বা আক্রমণাত্মক চিকিৎসার প্রয়োজন হয়নি। পরবর্তী মূল্যায়নে স্নায়ুজনিত ব্যথা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে, এমন দেখা যায়নি।
প্রকাশনার সময়রেখা ও পরবর্তী পদক্ষেপ
গবেষণাটির নেতৃত্বে ছিলেন কেইও ইউনিভার্সিটি রিজেনারেটিভ মেডিসিন রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক ও অধ্যাপক হিদেয়ুকি ওকানো এবং কেইওর অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ার মাসায়া নাকামুরা। কেইওর ২৭ জুলাইয়ের বিবৃতিতে প্রাথমিক ক্লিনিক্যাল ফলাফল ও পরবর্তী নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ একত্র করা হয়েছে এবং পদ্ধতিটির আরও উন্নয়নে সমর্থন জানানো হয়েছে।
UMIN ট্রায়াল রেকর্ডে, পরিচিতি UMIN000035074, আঘাতের ১৪ থেকে ২৮ দিন পর প্রতিস্থাপন, এক বছর পর্যন্ত বিরূপ ঘটনাকে প্রাথমিক ফলাফল এবং কার্যকারিতাকে গৌণ ফলাফল হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল। রেকর্ডে রোগী নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে বলে উল্লেখ আছে। এর প্রশাসনিক তারিখ ও প্রকাশনার অবস্থা পরবর্তী গবেষণাপত্রের তথ্য থেকে আলাদা করে দেখা দরকার:
- ১ ডিসেম্বর ২০২০: রেজিস্ট্রিতে গবেষণার তথ্য প্রকাশ করা হয়।
- ডিসেম্বর ২০২১ থেকে নভেম্বর ২০২৩: সাতজন সম্ভাব্য অংশগ্রহণকারীকে যাচাই করা হয় এবং চারজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- ৩০ নভেম্বর ২০২৪: রেজিস্ট্রিতে সর্বশেষ ফলো-আপের তারিখ হিসেবে উল্লেখ আছে।
- ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫: রেজিস্ট্রিতে বিশ্লেষণ শেষ হওয়ার তারিখ হিসেবে উল্লেখ আছে।
- ২১ জুলাই ২০২৬: সম্মিলিত ফলাফল নেচার মেডিসিনে অনলাইনে প্রকাশিত হয়।
- ২৭ জুলাই ২০২৬: কেইও ফলাফল নিয়ে বিবৃতি প্রকাশ করে।
২০২৫ সালের অক্টোবরে সর্বশেষ সংশোধিত রেজিস্ট্রি সংস্করণে ফলাফল এখনো অপ্রকাশিত বলে উল্লেখ আছে এবং কোনো ফলাফল দেওয়া হয়নি। তাই এতে ২০২৬ সালের জুলাইয়ের প্রকাশনা বা গবেষণাপত্রে জানানো পূর্ণ ফলো-আপের সময়কাল প্রতিফলিত হয়নি। গবেষণাপত্রে UMIN000050104 এবং jRCTa031190228 নিবন্ধন নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছে।
এই নথিগুলোতে নতুন পরীক্ষার তারিখ, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্ত বা নিয়মিত চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহারের সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি। পরবর্তী বৈজ্ঞানিক কাজ হলো আরও রোগীর ক্ষেত্রে উপকারিতা আরও নির্ভরযোগ্যভাবে যাচাই করা, একই সঙ্গে দেরিতে দেখা দিতে পারে এমন নিরাপত্তা-সমস্যা পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাওয়া এবং গ্রাফট টিকে আছে ও কার্যকর কি না তা মূল্যায়নের উপায় খুঁজে বের করা।
মূল বিষয়গুলো
- সম্পূর্ণ সার্ভাইক্যাল স্পাইনাল কর্ডে আঘাত পাওয়া চার পুরুষের প্রত্যেককে iPSC থেকে তৈরি ২০ লাখ নিউরাল প্রোজেনিটর কোষ দেওয়া হয়।
- দুই থেকে চার বছরের ফলো-আপে কোনো টিউমার বা প্রতিস্থাপিত কোষের কারণে হয়েছে বলে বিবেচিত বিরূপ ঘটনা শনাক্ত হয়নি।
- গবেষণায় ৮৪টি বিরূপ ঘটনা নথিবদ্ধ হয়েছে; এর মধ্যে অস্ত্রোপচার ও ইমিউনোসাপ্রেশনের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্যাও ছিল।
- ৫২তম সপ্তাহে মোটর স্কোরের মধ্যম উন্নতি ছিল ১৩ পয়েন্ট; দুজন রোগী AIS A থেকে C বা D-তে উন্নীত হন।
- পুনরুদ্ধারের হার অতীতের রেজিস্ট্রি-তুলনার চেয়ে বেশি ছিল, তবে প্রতিস্থাপনই এই উন্নতির কারণ—গবেষণাটি তা প্রমাণ করতে পারে না।
- গ্রাফট টিকে থাকা ও কার্যকারিতা প্রত্যক্ষভাবে প্রমাণিত হয়নি; আরও ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা দরকার।






