ছয় দিনে আয় ৪৫.৪৫ মিলিয়ন হংকং ডলার, নতুন রেকর্ড
২০০১ সালের টেলিভিশন নাটকের পর লুইস কু ও রেমন্ড লামের পর্দার পুনর্মিলনী চলচ্চিত্র ব্যাক টু দ্য পাস্ট ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত হংকং ও ম্যাকাওয়ে আয় করেছে ৪৫,৪৫৪,৭৪২ হংকং ডলার। এর মধ্যে শুধু হংকং থেকেই এসেছে ৪২,৮০৩,৯৩১ হংকং ডলার। এই ছয় দিনেই হংকংয়ের চলচ্চিত্র এবং চীনা ভাষার চলচ্চিত্র—উভয় ক্ষেত্রেই উদ্বোধনী সপ্তাহের নতুন রেকর্ড গড়েছে ছবিটি।
সূচিপত্র
- ছয় দিনে আয় ৪৫.৪৫ মিলিয়ন হংকং ডলার, নতুন রেকর্ড
- ২০০১ সালের টেলিভিশন-সাফল্য ঘিরে পুনর্মিলনী
- উদ্বোধনী দিনের আয় কতটা এগিয়ে ছিল?
- সাত দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই সাপ্তাহিক রেকর্ড
- তারিখ ও হিসাবের সংজ্ঞা কেন গুরুত্বপূর্ণ
- সংকুচিত বাজারে রেকর্ড উদ্বোধন
- স্থানীয় চলচ্চিত্র ও সিনেমা হলের ওপর চাপ
- প্রাথমিক ফলাফল থেকে এখনো যা জানা যায় না
- মূল বিষয়গুলো
হংকং মোশন পিকচার ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন ও হংকং থিয়েটার্স অ্যাসোসিয়েশনের অধীন প্রতিষ্ঠান হংকং বক্স অফিস লিমিটেড ৬ জানুয়ারি প্রকাশিত উদ্বোধনী সপ্তাহের বিবৃতিতে এই সাফল্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। প্রতিষ্ঠানটির তুলনামূলক হিসাবে, স্থানীয় সিনেমার সাম্প্রতিক দুই মানদণ্ড ‘এ গিল্টি কনশিয়েন্স’ ও ‘দ্য লাস্ট ড্যান্স’-কে ছাড়িয়ে গেছে ছবিটি।
এর আগে মুক্তির প্রথম দিনেই আরেকটি রেকর্ড গড়েছিল ছবিটি। ৩১ ডিসেম্বর হংকং ও ম্যাকাও মিলিয়ে ‘ব্যাক টু দ্য পাস্ট’ আয় করে ১১,৫৩৮,৭৩৪ হংকং ডলার, যার মধ্যে হংকংয়ের আয় ছিল ১০,৯১৬,৯৬২ হংকং ডলার। হংকংয়ের চলচ্চিত্র ও চীনা ভাষার চলচ্চিত্রের মধ্যে এটি হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় উদ্বোধনী দিনের আয়। সব চলচ্চিত্রের তালিকায় ছবিটি ছিল দ্বিতীয়, এর আগে ছিল ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’।
বছরের শেষ দিনে মুক্তি পাওয়ায় এই সাফল্য আরও উল্লেখযোগ্য। এমন এক বছরে ছবিটি মুক্তি পেয়েছে, যখন সিনেমার আয় ব্যাপকভাবে কমেছে। উদ্বোধনী আয়ের জোরে এটি ২০২৫ সালের হংকংয়ের চলচ্চিত্র তালিকায় সপ্তম স্থানে উঠেছে, যদিও এর শুরুর দিকের প্রদর্শনীর প্রায় পুরোটাই ছিল ২০২৬ সালে। এ ব্যবধান ছবিটির জোরালো সূচনাকে সেই দুর্বল বার্ষিক বাজার থেকে আলাদা করে, যেখানে ছবিটি মুক্তি পেয়েছে।
২০০১ সালের টেলিভিশন-সাফল্য ঘিরে পুনর্মিলনী
‘ব্যাক টু দ্য পাস্ট’ এগিয়ে নিয়ে গেছে ‘এ স্টেপ ইনটু দ্য পাস্ট’-এর গল্প, যে জনপ্রিয় টেলিভিশন নাটকে ২০০১ সালে প্রথম জুটি বেঁধেছিলেন কু ও লাম। তাঁদের চরিত্রের সম্পর্ক, যার ভিত্তি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর বন্ধন, এই পুনর্মিলনীর কেন্দ্রবিন্দু। ধারাবাহিকের বাইরেও অভিনেতাদের বন্ধুত্ব থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছে ছবিটি; প্রায় ২৫ বছর ধরে টিকে আছে এই সম্পর্ক।
প্রধান চরিত্রে ফিরেছেন কু, পাশাপাশি তিনি প্রধান প্রযোজকের দায়িত্বও পালন করেছেন। নিজের চরিত্রে ফিরেছেন লাম। তাঁর সঙ্গে আছেন জেসিকা সুয়ান, সোনিজা কোক ও জয়েস ট্যাং—টেলিভিশন প্রযোজনাটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত একদল অভিনয়শিল্পী।
গল্পে প্রাচীন যুগের সঙ্গে আধুনিক সময়ভ্রমণের মেলবন্ধন ঘটেছে। কু অভিনয় করেছেন এক আধুনিক পুলিশ কর্মকর্তার ভূমিকায়, যাঁর যাত্রা তাঁকে নিয়ে যায় ছিন রাজবংশের জগতে। লাম অভিনয় করেছেন সম্রাটের চরিত্রে, আর নতুন দ্বন্দ্বে রয়েছে একজন প্রতিদ্বন্দ্বী সময়ভ্রমণকারী। সম্পূর্ণ নতুন অভিনয়শিল্পী ও প্রেক্ষাপট হাজির না করে, পরিচিত টেলিভিশন-সম্পর্ককে বড় পরিসরের অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চারে রূপ দিয়েছে ছবিটি।
পরিচালনা করেছেন ঙ ইউন ফাই ও জ্যাক লাই। প্রধান অর্থদাতাদের মধ্যে রয়েছে ওয়ান কুল ফিল্ম প্রোডাকশন ও হুয়াসে পিকচার্স। দৃশ্যপ্রভাব দলটি ঙ পরিচালিত ও কু অভিনীত ২০২২ সালের কল্পবিজ্ঞান চলচ্চিত্র ‘ওয়ারিয়র্স অব ফিউচার’-এও কাজ করেছিল।
এই যোগসূত্রগুলো প্রযোজনাটিকে দুটি স্বতন্ত্র শক্তি দিয়েছে: টেলিভিশন ধারাবাহিকের সূত্রে পাওয়া পরিচিতি এবং উচ্চাভিলাষী দৃশ্যপ্রভাব তৈরির অভিজ্ঞতা। বক্স অফিসের পরিসংখ্যান বলছে, পুনর্মিলনীটি শুরুতেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ দর্শক-ব্যয় আকর্ষণ করেছে। তবে এই ব্যয়ের কতটা এসেছে পুরোনো দর্শক, তরুণ দর্শক কিংবা একাধিকবার ছবি দেখতে আসা ব্যক্তিদের কাছ থেকে, তা এই পরিসংখ্যান দিয়ে বোঝা যায় না।
উদ্বোধনী দিনের আয় কতটা এগিয়ে ছিল?
উদ্বোধনী দিনের সুনির্দিষ্ট আয় রয়েছে হংকং বক্স অফিস লিমিটেডের ২ জানুয়ারি প্রকাশিত ২০২৫ সালের বাজার প্রতিবেদনে। প্রতিষ্ঠানটির সারণিতে হংকংয়ের আয় এবং হংকং-ম্যাকাও মিলিত বাজারের আয় আলাদা করে দেখানো হয়েছে। রেকর্ড তুলনার ক্ষেত্রে এই পার্থক্যটি জরুরি।
দুই অঞ্চল মিলিয়ে ‘ব্যাক টু দ্য পাস্ট’-এর উদ্বোধনী দিনের আয় ‘দ্য লাস্ট ড্যান্স’-এর ৭,৪৬৩,২৪৭ হংকং ডলারের চেয়ে ৪,০৭৫,৪৮৭ হংকং ডলার বেশি, অর্থাৎ প্রায় ৫৪.৬ শতাংশ বেশি। হংকংয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রের তুলনামূলক তালিকায় পরের ছবি ‘কোল্ড ওয়ার ২’-এর উদ্বোধনী আয় ছিল ৫,৪৫৩,২২৫ হংকং ডলার।
চীনা ভাষার চলচ্চিত্রের উদ্বোধনী আয় তালিকায় রয়েছে ‘নে ঝা ২’; হংকং ও ম্যাকাও মিলিয়ে ছবিটি আয় করেছিল ৬,৬৭৪,১৯১ হংকং ডলার। ‘ব্যাক টু দ্য পাস্ট’ ওই অঙ্ককে প্রায় ৭২.৯ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। তুলনাগুলো দেখায়, নতুন রেকর্ডটি আগের উদ্বোধনী আয়কে সামান্য ছাড়িয়ে যাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না।
সামগ্রিক রেকর্ডটি এখনো ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এর দখলে। ২০১৯ সালের এপ্রিলে মুক্তির প্রথম দিনে হংকং ও ম্যাকাও মিলিয়ে ছবিটি আয় করেছিল ২০,৯৮৬,৬০৪ হংকং ডলার। ‘ব্যাক টু দ্য পাস্ট’-এর ১১,৫৩৮,৭৩৪ হংকং ডলার ছিল ওই অঙ্কের প্রায় ৫৫ শতাংশ। তবে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’-এর ১০,৪৭৮,৪১৯ হংকং ডলারের উদ্বোধনী আয়কে ছাড়িয়ে গেছে ছবিটি।
এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ: ‘ব্যাক টু দ্য পাস্ট’ হংকংয়ের চলচ্চিত্র ও চীনা ভাষার চলচ্চিত্রের মধ্যে রেকর্ড গড়েছে, তবে সব চলচ্চিত্রের মধ্যে সর্বোচ্চ উদ্বোধনী দিনের আয়ের রেকর্ড নয়। শুধু হংকংয়ের হিসাবেও একই অবস্থান রয়েছে: ছবিটির ১০,৯১৬,৯৬২ হংকং ডলার ‘এন্ডগেম’-এর ২০,৮৭৫,৫১৪ হংকং ডলারের পেছনে, তবে ‘ইনফিনিটি ওয়ার’-এর ১০,৩৭১,৫৩৯ হংকং ডলারের চেয়ে এগিয়ে।
সাত দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই সাপ্তাহিক রেকর্ড
৬ জানুয়ারির ঘোষণায় আয়টিকে উদ্বোধনী সপ্তাহের রেকর্ড বলা হয়েছে, যদিও উল্লিখিত সময়সীমা—৩১ ডিসেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারি—মোট ছয়টি দিন। তাই এই সাফল্যকে সাতটি পূর্ণ দিনের মোট আয় হিসেবে নয়, বরং ওই সময়ের মধ্যে অর্জিত আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী সপ্তাহের মানদণ্ড হিসেবে বোঝা উচিত।
হংকং ও ম্যাকাও মিলিয়ে ‘ব্যাক টু দ্য পাস্ট’-এর ৪৫,৪৫৪,৭৪২ হংকং ডলার ‘এ গিল্টি কনশিয়েন্স’-এর ৪৩,৪৭০,২৩০ হংকং ডলারকে ১,৯৮৪,৫১২ হংকং ডলার বা প্রায় ৪.৬ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। আনুষ্ঠানিক তুলনায় ৩৮,৮৭৩,২৭১ হংকং ডলার আয় নিয়ে তৃতীয় স্থানে ছিল ‘দ্য লাস্ট ড্যান্স’।
শুধু হংকংয়ের পরিসংখ্যানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল আরও হাড্ডাহাড্ডি। ‘ব্যাক টু দ্য পাস্ট’ আয় করেছে ৪২,৮০৩,৯৩১ হংকং ডলার, আর ‘এ গিল্টি কনশিয়েন্স’-এর আয় ছিল ৪১,৫০৮,৮৩৭ হংকং ডলার। ব্যবধান ১,২৯৫,০৯৪ হংকং ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৩.১ শতাংশ। ‘দ্য লাস্ট ড্যান্স’-এর সংশ্লিষ্ট আয় ছিল ৩৭,০২২,৯৩১ হংকং ডলার।
হংকংয়ের মোট আয়কে সম্মিলিত অঙ্ক থেকে বাদ দিলে ‘ব্যাক টু দ্য পাস্ট’-এর ম্যাকাওয়ের আয় দাঁড়ায় ২,৬৫০,৮১১ হংকং ডলার। মোট আয়ের প্রায় ৫.৮ শতাংশ এসেছে ম্যাকাও থেকে। বেশির ভাগ আয় হংকং থেকে এলেও, ম্যাকাওয়ের অবদান ব্যাখ্যা করে কেন সম্মিলিত বাজারে ‘এ গিল্টি কনশিয়েন্স’-এর সঙ্গে ব্যবধান বেশি।
আগের একটি উদ্বোধনী সপ্তাহান্তের হিসাবে হংকং ও ম্যাকাও মিলিয়ে ছবিটির আয় ছিল ৪২.৩৬ মিলিয়ন হংকং ডলার। ওই হিসাবের সময়সীমা ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত জমা হওয়া আয়ের চেয়ে আগের; তাই একই সময়সীমার আরেকটি হিসাব হিসেবে একে দেখা উচিত নয়। মূল ভূখণ্ড চীনে উদ্বোধনী সপ্তাহান্তে ৭৮.৬ মিলিয়ন ইউয়ান আয়ের হিসাবও প্রকাশিত হয়েছিল, যা হংকং-ম্যাকাওয়ের রেকর্ড থেকে আলাদা।
তারিখ ও হিসাবের সংজ্ঞা কেন গুরুত্বপূর্ণ
বছরের পালাবদলের সময় ছবিটি মুক্তি পাওয়ায় কয়েকটি কাছাকাছি অঙ্ক তৈরি হয়েছে, তবে প্রতিটি অঙ্ক আলাদা প্রশ্নের উত্তর দেয়। উদ্বোধনী দিনের হিসাব মুক্তির দিনকার আয় মাপে। বার্ষিক তালিকায় ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত হিসাবভুক্ত আয় থাকে। আর ৫ জানুয়ারির অঙ্কে দুই বছরজুড়ে চলা প্রাথমিক প্রদর্শনীর আয় ধরা হয়েছে।
ঘটনার ধারাবাহিকতা:
- ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫: ‘ব্যাক টু দ্য পাস্ট’ মুক্তি পায়; ওই দিন হংকং ও ম্যাকাও মিলিয়ে আয় করে ১১,৫৩৮,৭৩৪ হংকং ডলার।
- ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫: বার্ষিক তালিকার জন্য দুই অঞ্চল মিলিয়ে ছবিটির জমাকৃত আয় দাঁড়ায় ১১,৭২২,৮০৪ হংকং ডলার; এর মধ্যে হংকংয়ের আয় ১১,০৯৪,৫৯২ হংকং ডলার।
- ২ জানুয়ারি ২০২৬: হংকং বক্স অফিস লিমিটেড বার্ষিক বাজার প্রতিবেদন প্রকাশ করে এবং উদ্বোধনী দিনের রেকর্ড নিশ্চিত করে।
- ৫ জানুয়ারি ২০২৬: হংকং ও ম্যাকাও মিলিয়ে জমাকৃত আয় দাঁড়ায় ৪৫,৪৫৪,৭৪২ হংকং ডলার।
- ৬ জানুয়ারি ২০২৬: প্রতিষ্ঠানটি উদ্বোধনী সপ্তাহের রেকর্ড ঘোষণা করে।
বার্ষিক জমাকৃত আয় উদ্বোধনী দিনের সম্মিলিত অঙ্কের চেয়ে ১৮৪,০৭০ হংকং ডলার বেশি। বার্ষিক তালিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অঙ্কে প্রিভিউ প্রদর্শনীর আয়ও রয়েছে। তাই ১১.৫৪ মিলিয়ন হংকং ডলারের উদ্বোধনী দিনের রেকর্ডের বদলে ১১.৭২ মিলিয়ন হংকং ডলারের জমাকৃত আয় ব্যবহার করা উচিত নয়।
উদ্বোধনী আয়ের গোল করা অঙ্ক নিয়েও প্রতিবেদনগুলোতে পার্থক্য রয়েছে। একটিতে হংকং ও ম্যাকাও মিলিয়ে প্রায় ১১.৭২ মিলিয়ন হংকং ডলার এবং হংকংয়ে ১০.৯২ মিলিয়ন হংকং ডলার বলা হয়েছে; এতে সম্মিলিত জমাকৃত আয় ও হংকংয়ের উদ্বোধনী দিনের আয় একসঙ্গে মিশেছে। আনুষ্ঠানিক সারণিতে এই হিসাবগুলো আলাদা করে সুনির্দিষ্ট অঙ্ক দেওয়া হয়েছে।
এ কারণেই ছবিটি ২০২৫ সালের বার্ষিক তালিকায় হংকংয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রের মধ্যে সপ্তম স্থানে থেকেও অল্প সময়ের মধ্যে ওই বছরের স্থানীয় শীর্ষ ছবির চেয়ে বেশি আয় করতে পেরেছে। জানুয়ারিতে সংগৃহীত আয় ২০২৫ সালের অবস্থানের সঙ্গে যোগ করা যায় না।
সংকুচিত বাজারে রেকর্ড উদ্বোধন
বার্ষিক বাজার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে হংকং ও ম্যাকাও মিলিয়ে সিনেমার আয় ছিল ১,২০৮,০৫৭,২২৫ হংকং ডলার; ২০২৪ সালে যা ছিল ১,৪২১,৪৩৬,৫২৬ হংকং ডলার। অর্থাৎ আয় কমেছে ১৫.০১ শতাংশ, বা প্রায় ২১৩.৩৮ মিলিয়ন হংকং ডলার।
শুধু হংকংয়ে পতন আরও বেশি: আয় ১,৩৪৩,৫৭৩,৩৪৮ হংকং ডলার থেকে কমে হয়েছে ১,১৩১,৪৭৮,৬৯৫ হংকং ডলার। ১৫.৭৯ শতাংশের এই পতনের পরিমাণ প্রায় ২১২.০৯ মিলিয়ন হংকং ডলার। শিল্পের পরিসংখ্যান নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালেই সম্মিলিত বাজার প্রায় ৬ শতাংশ কমেছিল।
তাই ‘ব্যাক টু দ্য পাস্ট’-এর উদ্বোধনী সাফল্য একটি ছবির জোরালো ফল, সিনেমার ব্যয় পুনরুদ্ধারের প্রমাণ নয়। ছবিটির প্রথম ছয় দিনের আয় দুই বছরের মধ্যে পড়েছে এবং তা একটি ছবিরই হিসাব। অন্যদিকে, বার্ষিক পতনের হিসাব পুরো একটি ক্যালেন্ডার বছরের সব চলচ্চিত্রের আয় নিয়ে।
জাপানি অ্যানিমেশন ‘ডেমন স্লেয়ার: কিমেৎসু নো ইয়াইবা দ্য মুভি: ইনফিনিটি ক্যাসল’ ২০২৫ সালের বাজারে শীর্ষে ছিল। হংকং ও ম্যাকাও মিলিয়ে এর আয় ১০৮,৬১০,৯৩০ হংকং ডলার, যার মধ্যে হংকংয়ের আয় ৯৭,৬০০,৯৩৬ হংকং ডলার। দুই অঞ্চল মিলিয়ে ৭২,৪৯৩,১১৪ হংকং ডলার আয় করে দ্বিতীয় ছিল ‘এফ১’; আর ‘জুটোপিয়া ২’-এর আয় ছিল ৭০,৬৭৬,৯২৮ হংকং ডলার।
সব চলচ্চিত্র মিলিয়ে বার্ষিক সেরা দশে হংকংয়ে নির্মিত কোনো ছবি জায়গা পায়নি। স্থানীয় ছবির মধ্যে শীর্ষে থাকা অ্যানিমেশন ‘অ্যানাদার ওয়ার্ল্ড’ হংকং ও ম্যাকাও মিলিয়ে ১৫,৩৬২,২৪৯ হংকং ডলার এবং শুধু হংকংয়ে ১৫,১১৫,১৭৮ হংকং ডলার আয় করেছে। ২০২৫ সালের হিসাবে ‘ব্যাক টু দ্য পাস্ট’-এর হংকংয়ে প্রথম ছয় দিনের আয় ‘অ্যানাদার ওয়ার্ল্ড’-এর হংকংয়ের আয়ের প্রায় ২.৮ গুণ, যদিও তুলনা করা সময়সীমা এক নয়।
স্থানীয় চলচ্চিত্র ও সিনেমা হলের ওপর চাপ
স্থানীয় ছবির সঙ্গে বাজারের শীর্ষ ছবিগুলোর ব্যবধান পুনর্মিলনীটির উদ্বোধনী আয়ের বাণিজ্যিক গুরুত্ব বাড়িয়েছে। দেশীয় প্রযোজনার তালিকায় শীর্ষে থাকা ‘অ্যানাদার ওয়ার্ল্ড’ হংকংয়ে ১৫ মিলিয়ন হংকং ডলারের সামান্য বেশি আয় করেছে, যেখানে আমদানি করা ছবির শীর্ষটির আয় প্রায় ৯৮ মিলিয়ন হংকং ডলার।
তবে টিকিট বিক্রির বাইরেও স্বীকৃতি পেয়েছে ‘অ্যানাদার ওয়ার্ল্ড’। টমি ঙ কাই চুং পরিচালিত ছবিটি হংকংয়ের সর্বোচ্চ আয় করা অ্যানিমেশন হয়েছে, অ্যানেসি উৎসবের নির্বাচনে জায়গা পেয়েছে এবং নভেম্বরে সেরা অ্যানিমেশনের জন্য গোল্ডেন হর্স পুরস্কার জিতেছে। এর সাফল্য দেখায়, শৈল্পিক স্বীকৃতি ও বার্ষিক বাণিজ্যিক সাফল্য ভিন্ন গল্প বলতে পারে।
২০২৫ সালে হংকংয়ে ১০ মিলিয়ন হংকং ডলারের বেশি আয় করা স্থানীয় ছবির সংখ্যা নিয়েও বিবরণে অসংগতি রয়েছে। প্রতিবেদনগুলোতে সাতটি বলা হলেও আনুষ্ঠানিক বার্ষিক সারণিতে আটটি ছবির নাম রয়েছে। ‘অ্যানাদার ওয়ার্ল্ড’ ও ‘ব্যাক টু দ্য পাস্ট’-এর পাশাপাশি তালিকায় আছে ‘দ্য ওয়ে উই টক’, ‘পেগ ও’ মাই হার্ট’, ‘হিট এন ফান’, ‘সন্স অব দ্য নিয়ন নাইট’, ‘মাই বেস্ট বেট’ ও ‘গোল্ডেন বয়’। ‘গোল্ডেন বয়’-এর হংকংয়ের আয় ছিল ৯,৭৯৩,৯৩৫ হংকং ডলার, যা নির্ধারিত সীমার নিচে। তাই সারণি অনুযায়ী, শুধু হংকংয়ে এ সীমা পেরিয়েছে সাতটি ছবি; হংকং ও ম্যাকাও মিলিয়ে ১০ মিলিয়ন হংকং ডলারের বেশি আয় করেছে আটটি ছবি।
সিনেমা হলের নেটওয়ার্কও চাপের মধ্যে ছিল। ২০২৫ সালে প্রায় ১০টি সিনেমা হল বন্ধ হওয়ার খবর পাওয়া যায়, যার মধ্যে ছিল গোল্ডেন হারভেস্ট চেইনের বিদায়। মূল ভূখণ্ড চীনের অপারেটর বেস্টার ফিল্ম বাজারে প্রবেশ করে এবং গোল্ডেন হারভেস্টের সাবেক তিনটি হলের দায়িত্ব নেয়।
হংকং থিয়েটার্স অ্যাসোসিয়েশনের নামে প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত হংকংয়ে চালু সিনেমা হল ছিল ৫৩টি; পর্দা ২৭১টি এবং আসন ৩৯,৩৮৮টি। বড় কোনো ছবির উদ্বোধন এই নেটওয়ার্কে আয় আনতে পারে, তবে শুধু টিকিট বিক্রির অঙ্ক দিয়ে পৃথক হলগুলোর লাভজনকতা বোঝা যায় না।
প্রাথমিক ফলাফল থেকে এখনো যা জানা যায় না
৬ জানুয়ারির ঘোষণায় হংকং বক্স অফিস লিমিটেড বলেছে, ছবিটির আয় আরও বাড়তে পারে। তবে বিবৃতিতে চূড়ান্ত কোনো পূর্বাভাস বা প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শন শেষ হওয়ার সময়সীমা দেওয়া হয়নি।
এই প্রাথমিক পরিসংখ্যানের সঙ্গে চূড়ান্ত আয়ের অঙ্ক, প্রযোজনার বাজেট বা মুনাফার হিসাব নেই। বক্স অফিসের আয় টিকিট থেকে সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ জানায়; সিনেমা হলের অংশ, পরিবেশনা-সংক্রান্ত চুক্তি ও অন্যান্য খরচ বাদে প্রযোজকদের হাতে কত থাকে, তা নয়। তাই রেকর্ডগুলো দর্শকদের ব্যয়ের প্রমাণ, অর্থদাতাদের আর্থিক মুনাফার নয়।
এখন দেখার বিষয়, উদ্বোধনী উত্থানের পর ছবিটি কতটা দর্শক টানতে পারে। আগের উদ্বোধনী সপ্তাহের শীর্ষ ছবিগুলোর তুলনায় এর ব্যবধান, আগের উদ্বোধনী দিনের রেকর্ডের তুলনায় ব্যবধানের চেয়ে অনেক কম। তাই শেষ পর্যন্ত ‘এ গিল্টি কনশিয়েন্স’ বা ‘দ্য লাস্ট ড্যান্স’-এর পূর্ণ প্রদর্শনীকালীন আয়ের সঙ্গে তুলনা করতে হলে দর্শক উপস্থিতি ধরে রাখতে পারা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
আপাতত নিশ্চিত উপসংহারটি সীমিত হলেও তাৎপর্যপূর্ণ: ২০০১ সালের একটি টেলিভিশন নাটক ঘিরে তৈরি পুনর্মিলনী চলচ্চিত্রটি হংকংয়ের সিনেমার জন্য কঠিন সময়ে উদ্বোধনী আয়ের ইতিহাস গড়েছে। এই সাফল্য একটি ছবির বাইরেও ছড়িয়েছে কি না, তা বোঝার জন্য পরবর্তী বাজারের পরিসংখ্যান প্রয়োজন; শুধু প্রথম ছয় দিনের সাড়া যথেষ্ট নয়।
মূল বিষয়গুলো
- লুইস কু, রেমন্ড লাম ও টেলিভিশন নাটকের অন্য অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে ‘ব্যাক টু দ্য পাস্ট’ মুক্তি পায় ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর।
- উদ্বোধনী দিনে হংকং ও ম্যাকাও মিলিয়ে আয় হয় ১১,৫৩৮,৭৩৪ হংকং ডলার; হংকংয়ের চলচ্চিত্র ও চীনা ভাষার চলচ্চিত্রের মধ্যে এটি রেকর্ড।
- সব চলচ্চিত্রের উদ্বোধনী দিনের তালিকায় ছবিটি দ্বিতীয়; এর আগে রয়েছে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’।
- ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দুই অঞ্চল মিলিয়ে আয় দাঁড়ায় ৪৫,৪৫৪,৭৪২ হংকং ডলারে; এর মধ্যে হংকংয়ের আয় ৪২,৮০৩,৯৩১ হংকং ডলার।
- ছয় ক্যালেন্ডার দিনেই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী সপ্তাহের রেকর্ড গড়ে ‘এ গিল্টি কনশিয়েন্স’-কে ছাড়িয়ে যায় ছবিটি।
- ২০২৫ সালে হংকং ও ম্যাকাওয়ে সিনেমার আয় ১৫.০১ শতাংশ কমেছে; শুধু হংকংয়ে কমেছে ১৫.৭৯ শতাংশ।
- প্রাথমিক ঘোষণাগুলোতে চূড়ান্ত আয়ের পূর্বাভাস বা মুনাফার অঙ্ক নেই।






