১৫ অক্টোবর মুক্তির আগে জোরালো অগ্রিম বিক্রি
নির্ধারিত ২০২৬ সালের ১৫ অক্টোবর মুক্তির আগে রজনীকান্তের ‘জেলার ২’-এর বিশ্বজুড়ে অগ্রিম টিকিট বিক্রি ২০ কোটি রুপি ছাড়িয়েছে বলে খবর, যার বড় অংশ এসেছে বিদেশের বাজার থেকে। ১১ অক্টোবরের কাছাকাছি প্রকাশিত হিসাবগুলোতে বিক্রির অঙ্ক ২০.৫০ কোটি রুপির বেশি থেকে ২২.৩২ কোটি রুপির মধ্যে। ভারতে বুকিং এখনো ধাপে ধাপে শুরু হচ্ছে।
সূচিপত্র
- ১৫ অক্টোবর মুক্তির আগে জোরালো অগ্রিম বিক্রি
- যেভাবে ধাপে ধাপে শুরু হচ্ছে বুকিং
- বিশ্বব্যাপী বিক্রির অঙ্কে কেন সতর্কতা জরুরি
- প্রাথমিক বিক্রিতে এগিয়ে বিদেশের বাজার
- তামিলনাড়ু এগিয়ে, কেরালার হিসাবে অমিল
- টিকিটের হিসাবে দেশের অভ্যন্তরে অসম সূচনা
- ‘জেলার’ ও ‘কুলি’র সঙ্গে তুলনা থেকে কী বোঝা যায়
- বাড়তি টিকিটের দাম ও নতুন ছবি গড়ছে মুক্তির প্রথম সপ্তাহ
- ফিরে এসেছে আগের দল, ক্যামিও নিয়ে অনিশ্চয়তা
- মূল তথ্য
বিদেশে সবচেয়ে জোরালো চাহিদার খবর এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। দেশের ভেতরে বিক্রি মূলত তামিলনাড়ুতে কেন্দ্রীভূত। একটি ট্র্যাকিং হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যটিতে ৩.৭৩ কোটি রুপির টিকিট বিক্রি হয়েছে এবং ৭১টি শো হাউসফুল। ওই হিসাবে শুধু চেন্নাই থেকেই এসেছে ১.৭৪ কোটি রুপি; ৪১৬টি শোতে আসন পূর্ণতার হার ৫৯ শতাংশ।
এই পরিসংখ্যান ২০২৩ সালের ‘জেলার’ ছবির সিক্যুয়েল, নেলসন দিলীপকুমারের পরিচালনায় নির্মিত ছবিটি ঘিরে আগাম আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়। তবে এগুলো এখনো রেকর্ডসংখ্যক উদ্বোধনী আয়ের প্রমাণ নয়। প্রকাশিত মোট অঙ্কগুলো ভিন্ন ভিন্ন সময়ের বুকিংয়ের হিসাব ধরে তৈরি। কিছু বিদেশি হিসাবেও শুধু উদ্বোধনী দিনের টিকিট নয়, প্রিমিয়ার শো এবং একাধিক দিনের টিকিট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ: অগ্রিম মোট বিক্রি হলো কোনো প্রদর্শনীর আগে বিক্রি হওয়া টিকিটের মূল্য, ছবিটির শেষ পর্যন্ত বক্স অফিস আয় নয়। বিশ্বজুড়ে অগ্রিম বিক্রির অঙ্ককে উদ্বোধনী দিনের আয়ের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা যায় না, যদি না উভয় হিসাবেই একই বাজার ও প্রদর্শনী অন্তর্ভুক্ত থাকে।
নির্মাতারা বিক্রির প্রকাশিত অঙ্কগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেননি। কয়েকটি প্রতিবেদনের ভেতরেও পরিসংখ্যানে অমিল রয়েছে। তাই বিদেশে জোরালো চাহিদার সামগ্রিক চিত্রটি নির্দিষ্ট কোনো একক বিশ্বব্যাপী অঙ্কের চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য। মুক্তির চার দিন আগে বুকিংয়ের বাকি সময়ে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিক্রির ভারসাম্য বদলে যেতে পারে।
যেভাবে ধাপে ধাপে শুরু হচ্ছে বুকিং
সব জায়গায় একসঙ্গে টিকিট বিক্রি শুরু হয়নি। প্রথমে বিদেশের কয়েকটি নির্বাচিত বাজারে বুকিং চালু হয়, পরে ভারতে এবং তার পর কেরালায়। এই ধাপে ধাপে বুকিং চালুর কারণেই একেক সময়ের হিসাবে ভিন্ন অঙ্ক দেখা যাচ্ছে এবং প্রাথমিক অভ্যন্তরীণ বিক্রির হিসাব পুরো বাজারের চিত্র তুলে ধরছে না।
প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো ঘটছে এসব তারিখে:
- ৯ অক্টোবর: বিদেশের কয়েকটি নির্বাচিত বাজারে অগ্রিম বুকিং শুরু হয়।
- ১০ অক্টোবর: ভারতে বুকিং শুরু হয়; রাজ্য ও সিনেমা হলভেদে টিকিটের প্রাপ্যতা ভিন্ন ছিল।
- ১১ অক্টোবর: সকালে কেরালায় বুকিং শুরু হয়। বিশ্বব্যাপী বিক্রির হিসাব ২০ কোটি রুপি ছাড়ায়।
- ১৫ অক্টোবর: ‘জেলার ২’ স্ট্যান্ডার্ড ও আইম্যাক্স সংস্করণে বিশ্বজুড়ে মুক্তি পাওয়ার কথা।
- ১৬ অক্টোবর: ভারতের কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বী ছবি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা রয়েছে।
- ২১ অক্টোবর: অন্ধ্র প্রদেশে টিকিটের দাম সাময়িক বাড়ানোর ঘোষিত মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।
প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২০ কোটি রুপি বিক্রির যে বিবরণ দেওয়া হয়েছে, তা বুকিং শুরুর প্রাথমিক জোয়ারকে বোঝায়। একে সব অঞ্চলে একই সময়ের বিক্রি হিসেবে দেখা উচিত নয়, কারণ ভারতে বুকিং শুরুর এক দিন আগেই বিদেশের কিছু সিনেমা হলে টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছিল।
বিশ্বব্যাপী বিক্রির অঙ্কে কেন সতর্কতা জরুরি
প্রাথমিক হিসাবগুলোতে বিশ্বজুড়ে টিকিট বিক্রি ২০ কোটি রুপির বেশি, বিদেশে বুকিং প্রায় ২০ লাখ ডলার এবং ভারতে বিক্রি ৪ কোটি রুপির বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আরেকটি ট্র্যাকিং হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী বিক্রি ২০.৫০ কোটি রুপির বেশি, বিদেশে ১৭ কোটি রুপির বেশি এবং ভারতে ৪.৪১ কোটি রুপি।
শেষের দুটি অঙ্ক যোগ করলে মোট ২০.৫০ কোটি নয়, ২১.৪১ কোটি রুপির বেশি হয়। তবে বিশ্বব্যাপী অঙ্কটি একটি সীমা ছাড়ানোর হিসাব হিসেবে দেওয়া হয়েছে, তাই এটি সরাসরি বিরোধ নাও হতে পারে। তা সত্ত্বেও, আঞ্চলিক অঙ্কগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে ২০.৫০ কোটি রুপিকে নির্ভুল মোট হিসাব হিসেবে ধরা যায় না।
আরেকটি হিসাবে বিশ্বব্যাপী বুকিং ২২.৩২ কোটি রুপি; এর মধ্যে দেশের ভেতরে ৫.৩২ কোটি এবং বিদেশে ১৭ কোটি রুপির বেশি। তবে ওই হিসাবের অভ্যন্তরীণ বিভাজনে মেলানো কঠিন: একই সূত্রে তামিল সংস্করণের বিক্রি ৫.৪৯ কোটি রুপি বলা হয়েছে, যা হিন্দি সংস্করণের বিক্রি যোগ করার আগেই ভারতে মোট বিক্রির ঘোষিত অঙ্ককে ছাড়িয়ে যায়।
এই অসামঞ্জস্যের কারণে সব হিসাব মিলিয়ে একটি নির্ভুল মোট নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। তথ্য হালনাগাদের সময়, অঞ্চল ও প্রদর্শনীর তারিখে পার্থক্য কিছু অমিলের ব্যাখ্যা হতে পারে, কিন্তু কোন ক্ষেত্রে কোন কারণ প্রযোজ্য, তা নিশ্চিত করার মতো বিভাজন প্রকাশিত হয়নি। পরিসংখ্যানগুলো ২০ কোটি রুপির বেশি বুকিংয়ের খবর সমর্থন করে, তবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা চূড়ান্ত মোট অঙ্ক নয়।
প্রাথমিক বিক্রিতে এগিয়ে বিদেশের বাজার
বিদেশে বুকিংয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের হিসাব প্রকাশিত হয়েছে: ১০ লাখ ডলারের বেশি, প্রায় ২০ লাখ ডলার এবং রুপির হিসাবে ১৭ কোটি রুপির বেশি। আরও আগের একটি হিসাবে বিদেশে বিক্রি ১১ কোটি রুপির বেশি বলা হয়েছে। এগুলোকে আলাদা সময়ের হিসাব হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত, একই অঙ্কের বিনিময়-মুদ্রাভিত্তিক রূপ হিসেবে নয়।
বিদেশি বাজারের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে সবচেয়ে বড় অবদানকারী বলা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপের কয়েকটি অঞ্চলেও টিকিট বিক্রি হয়েছে। ফলে প্রাথমিক বিক্রির চিত্রে উত্তর আমেরিকা গুরুত্বপূর্ণ, যদিও দেশভিত্তিক বিস্তারিত হিসাব না থাকায় এর সুনির্দিষ্ট অংশ নির্ধারণ করা যাচ্ছে না।
বিশ্বব্যাপী ২২.৩২ কোটি রুপির হিসাবের মধ্যে বিদেশের অংশ ১৭ কোটি রুপি ধরলে আন্তর্জাতিক বিক্রি মোটের প্রায় ৭৬ শতাংশ হয়। এই হিসাব বিদেশে চাহিদার সম্ভাব্য মাত্রা বোঝায়, তবে এটি আনুমানিক; কারণ বিদেশের অঙ্কটি ১৭ কোটি রুপির বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং মূল মোট হিসাবও নিশ্চিত নয়।
হিসাবের আওতা নিয়েও মতভেদ রয়েছে। একটি সূত্রে ২০.৫০ কোটি রুপির বেশি বিক্রিকে বিশ্বজুড়ে উদ্বোধনী দিনের অগ্রিম বুকিং বলা হয়েছে। আরেকটি সূত্র বলছে, বিদেশের বুকিংয়ে একাধিক দিনের শো ও প্রিমিয়ার প্রদর্শনী রয়েছে। এই শ্রেণিগুলোর হিসাব আলাদা না করা পর্যন্ত ১৫ অক্টোবরের জন্য নির্দিষ্ট করে কত টিকিট বিক্রি হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক মোট অঙ্ক থেকে জানা যাবে না।
তামিলনাড়ু এগিয়ে, কেরালার হিসাবে অমিল
ভারতে অগ্রিম বিক্রির হিসাব ৪ কোটি রুপির বেশি, ৪.৪১ কোটি এবং ৫.৩২ কোটি রুপি বলে প্রকাশিত হয়েছে। আলাদা করে উদ্বোধনী দিনের অভ্যন্তরীণ বুকিংয়ের অঙ্ক একটি প্রাথমিক হিসাবে ৩.৫৩ কোটি রুপির বেশি এবং অন্যটিতে ৩.৮৪ কোটি রুপি। এগুলো সব দিনের বুকিংয়ের হিসাব থেকে আলাদা।
প্রাথমিক হিসাবটিতে দেশের অভ্যন্তরীণ বিক্রির প্রায় ৯০ শতাংশ তামিলনাড়ু থেকে এসেছে। আরও বিস্তারিত একটি হিসাবে, দেশজুড়ে ৪.৪১ কোটি রুপির মধ্যে রাজ্যটির বিক্রি ৩.৭৩ কোটি, অর্থাৎ প্রায় ৮৪.৬ শতাংশ। আরেকটি সূত্রে ভারতের মোট ৫.৩২ কোটি রুপির বিপরীতে তামিলনাড়ুর বিক্রি ৫.০৫ কোটি, যা প্রায় ৯৫ শতাংশ। সময়ের হিসাব না মিলিয়ে এই ভিন্ন অনুপাতকে ধারাবাহিক প্রবণতা হিসেবে দেখা উচিত নয়।
চেন্নাইয়ের হিসাবও ১.৬৩ কোটি, ১.৭৪ কোটি এবং ২.৫০ কোটি রুপির মধ্যে ভিন্ন। ভারতের ৪.৪১ কোটি রুপির হিসাবটিতে চেন্নাইয়ের ১.৭৪ কোটি দেশজুড়ে ট্র্যাক করা বিক্রির প্রায় ৩৯ শতাংশ। এতে দেখা যায়, প্রাথমিক বিক্রি একটি শহরে কতটা কেন্দ্রীভূত।
কেরালায় পার্থক্য আরও বড়। একটি ট্র্যাকিং হিসাবে ৬৩৬টি শোতে বিক্রি ৪০.৫২ লাখ রুপি। বক্স অফিস ট্র্যাকার এবি জর্জ ১১ অক্টোবর সকাল ১১টা ১৩ মিনিটে জানান, কেরালায় বুকিং শুরুর প্রথম ঘণ্টার মধ্যেই বিক্রি প্রায় ১.৫০ কোটি রুপির কাছাকাছি পৌঁছেছে। ছোট অঙ্কটির তুলনায় এটি প্রায় ৩.৭ গুণ, তবে দুই হিসাবের আওতা ও প্রদর্শনীর তারিখ জানা যায়নি। কর্ণাটকের হিসাব কাছাকাছি: একটি সূত্রে ২৬.৯৮ লাখ এবং অন্যটিতে ২৫.৯৬ লাখ রুপি।
টিকিটের হিসাবে দেশের অভ্যন্তরে অসম সূচনা
দেশের অভ্যন্তরের একটি হিসাব অনুযায়ী, ২,৩৫৩টি শোতে প্রায় ২.৩৮ লাখ টিকিট বিক্রি হয়েছে; গড় আসন পূর্ণতার হার ২৭ শতাংশ। সকালের শোগুলোতে এই হার ৩৪ শতাংশ বলে জানানো হয়েছে। চেন্নাইয়ের ৫৯ শতাংশ আসন পূর্ণতার হার দেশজুড়ে ট্র্যাক করা গড়ের দ্বিগুণেরও বেশি। বেঙ্গালুরুর ক্ষেত্রেও ৫৯ শতাংশ পূর্ণতার কথা জানানো হয়েছে।
এই পরিসংখ্যান নির্দিষ্ট সময়ে তালিকাভুক্ত শোগুলোতে বিক্রি হওয়া টিকিটের চিত্র তুলে ধরে। এর অর্থ এই নয় যে মুক্তির দিনও একই অনুপাতে আসন খালি থাকবে। আরও টিকিট বিক্রি হতে পারে, আর ছবি মুক্তির আগে সিনেমা হলগুলোতে শোর সংখ্যাও বাড়তে পারে।
অন্য একটি হিসাবে ২,৬৭৪টি স্ক্রিনে ২.৯ লাখের বেশি টিকিট বিক্রির কথা বলা হয়েছে। স্ক্রিন ও শো এক জিনিস নয়: একটি স্ক্রিনে দিনে একাধিক শো হতে পারে। এককটি স্পষ্ট না করা পর্যন্ত এই অঙ্ককে আগের ২,৩৫৩টি শোর হিসাবের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা যাবে না।
ভাষাভিত্তিক হিসাবও নির্দিষ্ট সময়ের তথ্যের ওপর নির্ভরশীল। একটি সূত্রে ভারতে নথিভুক্ত সব বুকিং তামিল সংস্করণের বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আরেকটিতে ১৮টি শোতে হিন্দি সংস্করণের ৩৮৪টি টিকিট থেকে ৭৭ হাজার রুপি বিক্রির কথা বলা হয়েছে। মুক্তির কাছাকাছি সময়ে তেলুগু, মালয়ালম ও হিন্দি সংস্করণের বুকিং বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তাই প্রাথমিক মোট অঙ্ক থেকে সব সংস্করণের চাহিদা নির্ধারণ করা যায় না।
‘জেলার’ ও ‘কুলি’র সঙ্গে তুলনা থেকে কী বোঝা যায়
মূল ‘জেলার’ ছবিটি তুলনার জন্য সহায়ক, তবে অগ্রিম বুকিংয়ের হিসাব তুলতে সতর্কতা দরকার। একটি সূত্রে ২০২৩ সালের ছবিটির বিশ্বব্যাপী উদ্বোধনী দিনের অগ্রিম বুকিং ১৮.৫০ কোটি রুপির বেশি বলা হয়েছে; এর মধ্যে বিদেশ থেকে প্রায় ১১ কোটি রুপি। এই হিসাবের সঙ্গে তুলনা করলে সিক্যুয়েলের বিশ্বব্যাপী ২০.৫০ কোটি রুপির বেশি এবং বিদেশে ১৭ কোটি রুপির বেশি বিক্রির খবর প্রাথমিক আন্তর্জাতিক বিক্রি জোরালো হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
তবে একই সূত্রে মূল ছবিটির অভ্যন্তরীণ অগ্রিম বুকিং ১৮.২৪ কোটি রুপি বলা হয়েছে। এর সঙ্গে বিদেশের প্রায় ১১ কোটি রুপি যোগ করলে মোট প্রায় ২৯.২৪ কোটি হয়, যা উদ্ধৃত বিশ্বব্যাপী অঙ্কের সঙ্গে মেলে না, যদি তিনটি হিসাবই একই সময়ের হয়। তাই সিক্যুয়েলটি বিশ্বব্যাপী মূল ছবিকে ছাড়িয়ে গেছে, এমন দাবি অভিন্ন হিসাবের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত নয়।
অভ্যন্তরীণ বিক্রির তুলনায় সীমাবদ্ধতা তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট। ‘জেলার’-এর অগ্রিম বিক্রি ১৮.২৪ কোটি রুপি; ৭,৪৬১টি ট্র্যাক করা শোতে ৮.৭৭ লাখ টিকিট বিক্রির কথা জানানো হয়েছে। সিক্যুয়েলের ৪.৪১ কোটি রুপির হিসাবটি ২,৩৫৩টি শোতে ২.৩৮ লাখ টিকিটের। এটি মূল ছবির অগ্রিম আয়ের প্রায় ২৪ শতাংশ; তালিকাভুক্ত শোর সংখ্যাও অনেক কম, আর বুকিং এখনো বাড়ছে।
‘জেলার’-এর চূড়ান্ত বিশ্বব্যাপী আয় ৬০৬ কোটি রুপির বেশি বলে জানানো হয়েছে; এর মধ্যে ভারতে ৪০৯ কোটি এবং বিদেশে ১৯৬ কোটি রুপির বেশি। এটি পুরো সময়ের আয়, অগ্রিম বিক্রির মানদণ্ড নয়। বিদেশি বাজারে ‘কুলি’র সঙ্গেও তুলনা করা হয়েছে, তবে ছবিটির বিদেশে উদ্বোধনী আয় হিসেবে উল্লেখ করা ৮৭৫ লাখ ডলার অগ্রিম বিক্রির সমতুল্য নয়। কোনো তুলনাই এখনো রেকর্ডের দাবি নিশ্চিত করে না।
বাড়তি টিকিটের দাম ও নতুন ছবি গড়ছে মুক্তির প্রথম সপ্তাহ
খবরে বলা হয়েছে, অন্ধ্র প্রদেশে ১৫ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ‘জেলার ২’-এর টিকিটের দাম সাময়িকভাবে বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে; প্রতিদিন পাঁচটি শোর ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হবে। একক পর্দার সিনেমা হলগুলো নিয়মিত দামের চেয়ে ৫০ রুপি বেশি এবং মাল্টিপ্লেক্সগুলো ৭৫ রুপি বেশি নিতে পারবে।
খবরে আরও বলা হয়েছে, অন্ধ্র প্রদেশে ছবিটির পরিবেশক সিতারা এন্টারটেইনমেন্টস এ আবেদন করেছিল। রাজ্যে সিনেমার টিকিটের অনুমোদিত দাম সরকার নির্ধারণ করে, তাই নির্ধারিত সীমার বেশি দাম নিতে সরকারি অনুমতি লাগে। প্রতিবেদনে অনুমোদনের কথা থাকলেও শর্ত নিশ্চিত করে এমন প্রকাশিত সরকারি আদেশ এখানে দেওয়া হয়নি।
দর্শকসংখ্যা না বাড়লেও বেশি দামে মোট আয় বাড়তে পারে। তাই উদ্বোধনী বিক্রি মূল্যায়নে টিকিটের সংখ্যাও গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে ভিন্ন দামের বাজারগুলোর মধ্যে তুলনা করার সময়।
‘জেলার ২’ মুক্তির পর প্রেক্ষাগৃহে মাত্র এক দিন কাটিয়ে ১৬ অক্টোবর আসছে বিজয় দেবেরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা অভিনীত ‘রণবালি’। অন্ধ্র প্রদেশ ও তেলেঙ্গানায় নিয়মিত দামেই ছবিটি চলবে বলে আশা করা হচ্ছে; এর প্রযোজনা সংস্থা দাম বাড়ানোর আবেদন করার খবর অস্বীকার করেছে। রাজকুমার রাও ও ওয়ামিকা গাব্বি অভিনীত ‘প্রহার: দ্য আনটোল্ড স্টোরি অব উজ্জ্বল নিকম’ এবং ইয়ামি গৌতম অভিনীত ‘নয়ি নভেলি’ও ১৬ অক্টোবর মুক্তির কথা রয়েছে। পর্দা পাওয়ার ওপর এসব ছবির প্রভাব এখনো পরিমাপ করা হয়নি।
ফিরে এসেছে আগের দল, ক্যামিও নিয়ে অনিশ্চয়তা
লেখক ও পরিচালক হিসেবে ফিরেছেন নেলসন দিলীপকুমার। সান পিকচার্সের ব্যানারে প্রযোজনা করছেন কালানিধি মারান। রজনীকান্ত আবারও অভিনয় করছেন টাইগার মুথুভেল পান্ডিয়ান চরিত্রে, যিনি গল্পের কেন্দ্রে থাকা অবসরপ্রাপ্ত কারারক্ষী। ফিরে আসা অভিনয়শিল্পীদের তালিকায় রয়েছেন রম্যা কৃষ্ণন, যোগী বাবু, মিরনা ও রিথভিক।
নতুন করে যুক্ত হওয়া শিল্পীদের মধ্যে রয়েছেন এস. জে. সূর্য, মিঠুন চক্রবর্তী, বিদ্যা বালান, সুরাজ ভেঞ্জারামুডু, আন্না রাজন ও যতীন সারনা। ক্যামিওর বিবরণে আরও বেশি অমিল রয়েছে। কিছু সূত্রে মামুট্টি ও শিবা রাজকুমারের নাম বলা হয়েছে; অন্যগুলোতে সংশ্লিষ্ট শিল্পীদের তালিকায় মোহনলাল, জ্যাকি শ্রফ ও বিজয় সেতুপতিকেও রাখা হয়েছে।
হৃতিক রোশনের সম্ভাব্য উপস্থিতি এখনো নিশ্চিত নয়। কিছু সূত্রে তাঁকে ক্যামিও চরিত্রে অভিনয়শিল্পী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, আবার অন্যগুলোতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ট্রেলারে ছায়ামূর্তি দেখে তৈরি হওয়া জল্পনা নির্মাতারা নিশ্চিত করেননি। তাই তাঁর অংশগ্রহণ বা ক্যামিওতে থাকা শিল্পীদের পূর্ণ তালিকাকে চূড়ান্ত বলে তুলে ধরা এখনই ঠিক হবে না।
সুরকার অনিরুদ্ধ রবিচন্দর। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কারিগরি দলে আছেন চিত্রগ্রাহক বিজয় কার্তিক কান্নান, সম্পাদক আর. নির্মল, শিল্প নির্দেশক ডিআরকে. কিরণ এবং অ্যাকশন পরিচালক চেতন ডি’সুজা। শব্দ নিয়ে কাজ করছেন সুরেন জি. ও এস. আলাগিয়াকুথান।
খবরে বলা হয়েছে, ছবিটি কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র সনদ বোর্ডের ইউএ ১৬+ সনদ পেয়েছে এবং এর দৈর্ঘ্য দুই ঘণ্টা ৪৫ মিনিট। ১৫ অক্টোবরের নির্ধারিত মুক্তি, দেশের অভ্যন্তরে বুকিং বৃদ্ধি এবং অন্ধ্র প্রদেশে ২১ অক্টোবর বাড়তি টিকিটের দাম শেষ হওয়ার কথা—এগুলোই সামনে নজর রাখার মতো নির্দিষ্ট তারিখ। রেকর্ড নিয়ে বিচার করার আগে বিক্রির সমন্বিত হিসাব এখনো প্রয়োজন।
মূল তথ্য
- নির্ধারিত ২০২৬ সালের ১৫ অক্টোবর মুক্তির আগে ‘জেলার ২’-এর বিশ্বব্যাপী অগ্রিম বিক্রি ২০ কোটি রুপি ছাড়িয়েছে বলে খবর।
- বিশ্বব্যাপী বিক্রির হিসাব ২০.৫০ কোটি রুপির বেশি থেকে ২২.৩২ কোটি রুপির মধ্যে, তবে কয়েকটি বিভাজিত হিসাবে অমিল রয়েছে।
- বিদেশে চাহিদার শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র। কিছু আন্তর্জাতিক হিসাবে প্রিমিয়ার ও একাধিক দিনের প্রদর্শনী অন্তর্ভুক্ত।
- ভারতের প্রাথমিক বিক্রিতে তামিলনাড়ু এগিয়ে; কেরালার হিসাব ৪০.৫২ লাখ থেকে প্রায় ১.৫০ কোটি রুপি।
- অন্ধ্র প্রদেশে ১৫ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত একক পর্দায় ৫০ এবং মাল্টিপ্লেক্সে ৭৫ রুপি বাড়তি নেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে খবর।
- বিভিন্ন ভাষার সংস্করণে বুকিং এখনো বাড়ছে, আর হৃতিক রোশনের ক্যামিওর খবর নিশ্চিত নয়।
- রেকর্ড উদ্বোধনী আয় বা অগ্রিম বুকিংয়ের দাবি এখনো কোনো নিশ্চিত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ তুলনায় প্রতিষ্ঠিত হয়নি।






