কারাদণ্ড থেকে মৃত্যুদণ্ডে উন্নীত করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল
শ্রীলঙ্কার অভিবাসী শ্রমিক আনোজন শিবারাসার ওপর আরোপিত মৃত্যুদণ্ড বাতিলের আবেদন সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা হয়েছে। দুই দেশের আইনজীবীদের পরামর্শের পর আবেদনটি জমা দেওয়া হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবেদনটি রোববার, ১১ অক্টোবর দাখিল করা হয়েছে; এর মধ্যে দুটিতে তারিখ হিসেবে স্পষ্টভাবে ১১ অক্টোবর ২০২৬ উল্লেখ করা হয়েছে।
সূচিপত্র
- কারাদণ্ড থেকে মৃত্যুদণ্ডে উন্নীত করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল
- ফেসবুকের কথোপকথন যেভাবে মৃত্যুদণ্ডের মামলায় রূপ নিল
- আইনি ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের ধারাবাহিকতা
- সুপ্রিম কোর্টের আপিলটি কারা প্রস্তুত করেছেন?
- সুপ্রিম কোর্টের পর্যালোচনায় কী নির্ধারিত হতে পারে
- আদালতের বাইরেও ক্ষমার প্রচেষ্টা
- কারাগারে যোগাযোগ ও পরিবারের আবেদন
- যাতায়াত বিঘ্ন ও বৃহত্তর প্রেক্ষাপট
- মূল বিষয়গুলো
শ্রীলঙ্কার পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের কালমুনাইয়ের ২৪ বছর বয়সী শিবারাসাকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননাকর বলে বিবেচিত একটি ফেসবুক পোস্টের জন্য প্রথমে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে রাষ্ট্রপক্ষ শরিয়াহ আইনে বিচারপ্রক্রিয়ার আবেদন করে এবং আপিল আদালত কারাদণ্ডের বদলে মৃত্যুদণ্ড দেন।
শ্রীলঙ্কার একটি সফররত প্রতিনিধিদলের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনার পর সৌদি আইনজীবী দল সর্বশেষ আপিলটি দাখিল করে। রিয়াদে শ্রীলঙ্কা দূতাবাস রাষ্ট্রদূত ও. এল. আমির আজওয়াদের নেতৃত্বে কাজটি সমন্বয় করে। এই আবেদন দণ্ড বাতিলের প্রচেষ্টায় নতুন এক ধাপ; তবে প্রতিবেদনগুলোতে সুপ্রিম কোর্টের কোনো সিদ্ধান্ত বা শুনানির তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
আইনি প্রচেষ্টার পাশাপাশি ক্ষমার আবেদন, আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান এবং কারাগারে শিবারাসার কল্যাণ নিয়ে উদ্বেগও জানানো হচ্ছে। সৌদি রাজধানীতে হামলার পর নির্ধারিত ফিরতি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় সফররত আইনজীবী দলের সদস্যরা রিয়াদে আটকা পড়েছেন বলেও খবর প্রকাশিত হয়েছে।
আপিল ও ক্ষমার আবেদনের মধ্যে পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। আপিলের মাধ্যমে আদালতের কাছে বিচারিক রায়কে চ্যালেঞ্জ করা হয়। মানবিক কারণে ক্ষমার আবেদন করা হয় আলাদা কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে। আপিল দাখিল বা ক্ষমার আবেদন, কোনোটিই মৃত্যুদণ্ড বাতিল হয়েছে বলে প্রমাণ করে না।
ফেসবুকের কথোপকথন যেভাবে মৃত্যুদণ্ডের মামলায় রূপ নিল
খবরে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারের সময় শিবারাসা সৌদি আরবে এক বছরেরও কম সময় ধরে ছিলেন। ২ জুলাই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। হিন্দু তীর্থযাত্রীদের সঙ্গে থাকা একটি পথকুকুরকে এক ব্যক্তি লাথি মারছেন—এমন ভাইরাল ভিডিওকে ঘিরে অনলাইনে বিতর্কের সূত্রপাত।
কথোপকথনের সময় এক হিন্দু দেবতাকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের জবাবে তিনি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তিনি ফেসবুক পোস্টটি মুছে দিয়ে ক্ষমা চেয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। স্ক্রিনশটগুলো তার নিয়োগকর্তার কাছে পাঠানো হয় এবং সেখান থেকে সৌদি কর্তৃপক্ষের হাতে যায় বলে জানা গেছে।
আল-আহসা ফৌজদারি আদালত প্রথমে দেশটির সাইবার অপরাধ আইনে তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা করেন। এ দণ্ড কমানোর জন্য তার পক্ষে করা আপিল খারিজ হয়।
১৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ নিজেই আপিল করে শরিয়াহ আইনে বিচারের আবেদন জানায়। সেই আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পর মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একটি বিবরণে বলা হয়েছে, আদালত অভিযোগটিকে ‘হদ’ অপরাধ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে; ইসলামী আইনে এ শ্রেণির অপরাধের জন্য নির্ধারিত শাস্তি রয়েছে। তবে রায়ের কপি না থাকায় এই শ্রেণিবিভাগের পেছনের সুনির্দিষ্ট আইনি যুক্তি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
ঘটনার এই ধারাবাহিকতা মামলার কেন্দ্রীয় বিষয়: রাষ্ট্রপক্ষ আগের রায়কে চ্যালেঞ্জ করার পর সুপ্রিম কোর্টে এখন এমন এক শাস্তির প্রশ্ন উঠেছে, যা অনেক বেশি কঠোর হয়েছে। পোস্টটির লেখা, পূর্ণাঙ্গ রায় এবং সর্বশেষ আপিলের বিস্তারিত যুক্তি এসব বিবরণে প্রকাশ করা হয়নি।
আইনি ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের ধারাবাহিকতা
গ্রেপ্তার থেকে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন দাখিল পর্যন্ত মামলার ঘটনাক্রম তুলে ধরেছে এই সময়রেখা। অধিকাংশ প্রতিবেদনে জুলাই ও সেপ্টেম্বরের তারিখ উল্লেখ করা হলেও বছর বলা হয়নি; তবে আবেদন দাখিলের দুটি প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে ১১ অক্টোবর ২০২৬ উল্লেখ করা হয়েছে।
- ২ জুলাই: ফেসবুকের কথোপকথনের পর শিবারাসাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
- প্রাথমিক বিচার: আল-আহসা ফৌজদারি আদালত তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ৩০ লাখ রিয়াল জরিমানা করেন।
- ১৭ সেপ্টেম্বর: রাষ্ট্রপক্ষ শরিয়াহ আইনে বিচারের আবেদন জানায়; এরপর মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
- ২১ সেপ্টেম্বর: তার পরিবার শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এবং সরকারি সহায়তার আশ্বাস পায়।
- ২৪ সেপ্টেম্বর: ছয় সংসদ সদস্য সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল-সৌদের কাছে ক্ষমার আবেদন জানিয়ে চিঠি লেখেন।
- ১০ অক্টোবর: আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টে আপিল সেদিন দাখিল হওয়ার কথা বলে আত্মীয়দের জানানো হয়েছিল।
- ১১ অক্টোবর: পরবর্তী প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, আপিলটি দাখিল হয়েছে; দুটিতে ২০২৬ সাল উল্লেখ করা হয়।
১০ অক্টোবরের প্রতিবেদনে আবেদন দাখিলের প্রত্যাশার কথা বলা হয়েছিল, দাখিল সম্পন্ন হওয়ার কথা নয়। পরবর্তী প্রতিবেদনগুলোতে প্রকৃত দাখিলের তারিখ ১১ অক্টোবর বলা হয়েছে। এই পার্থক্যের ব্যাখ্যা তারা দেয়নি; তাই এটিকে দুটি পৃথক আপিল দাখিলের প্রমাণ হিসেবে ধরা উচিত নয়।
সুপ্রিম কোর্টের আপিলটি কারা প্রস্তুত করেছেন?
স্থানীয় আইনজীবীদের আপিল প্রস্তুতিতে সহায়তা করতে শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধিদল সৌদি আরব সফর করে। দলের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের মধ্যে ছিলেন প্রেসিডেন্টস কাউন্সেল উপুল কুমারাপেরুমা, প্রেসিডেন্টস কাউন্সেল ফয়জার মুস্তাফা এবং অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল আসাদ নাওয়াওয়ি। শ্রীলঙ্কায় আইনজীবীদের জন্য ‘প্রেসিডেন্টস কাউন্সেল’ একটি জ্যেষ্ঠ পেশাগত পদবি।
প্রতিবেদনগুলোতে চতুর্থ একজন আইনজীবীর নামও রয়েছে; কোথাও হাফিল পারিস, হাফিল ফারিস বা ফারিস ফজল আবদুল হাফিল মোহামেদ লেখা হয়েছে। নাওয়াওয়ির নাম কোথাও আজাদ নাভাভি, কোথাও আজার্ড নাভাভি হিসেবে এসেছে; মুস্তাফার নামও ফাইজার মুস্তাফা লেখা হয়েছে। বানানের এই পার্থক্যকে প্রতিনিধিদলে অতিরিক্ত সদস্য থাকার প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়।
রিয়াদে দূতাবাসের মাধ্যমে আলোচনা সমন্বয় করেন রাষ্ট্রদূত আজওয়াদ। প্রতিবেদনে মোহামেদ রিয়াজদিন সিলমির নামও রয়েছে। তাকে মুস্তাফার সমন্বয়কারী সচিব হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে এবং তিনি এ প্রচেষ্টায় অংশ নেন।
জেদ্দায় কনস্যুলার প্রতিনিধির পরিচয় নিয়েও প্রতিবেদনে অমিল রয়েছে। কিছু প্রতিবেদনে বিচারক মোহামেদ লাফিরকে কনসাল জেনারেল বলা হয়েছে; অন্য একটি প্রতিবেদনে তাকে ডেপুটি কনসাল হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। অন্য প্রতিবেদনগুলোতে নাম এসেছে বিচারপতি মোহামেদ লাবা, বিচারক এম. ডি. মোহামেদ বা বিচারক এম. টি. মোহামেদ। তাই ওই প্রতিনিধির সঠিক নাম ও পদবি স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
কাজের বিভাজন সম্পর্কে প্রতিবেদনগুলোতে তুলনামূলকভাবে বেশি মিল রয়েছে: শ্রীলঙ্কার বিশেষজ্ঞরা আইনি আবেদন প্রস্তুতিতে সহায়তা করেছেন, সৌদি আইনজীবীরা তা দাখিল করেছেন এবং কূটনৈতিক কর্মকর্তারা প্রক্রিয়াটি সমন্বয় করেছেন। কোন আইনজীবী কী যুক্তি তৈরি করেছেন, কোনো প্রতিবেদনে তা জানানো হয়নি।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যালোচনায় কী নির্ধারিত হতে পারে
সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্টকে দেশটির সর্বোচ্চ বিচারিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এটি মূলত আইনি ও প্রক্রিয়াগত ভিত্তিতে নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করে। বাস্তবে, সংশ্লিষ্ট আইন সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে কি না এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার আবশ্যক ধাপগুলো অনুসরণ করা হয়েছে কি না—সেদিকে নজর দেওয়া হয়।
এই বর্ণনা থেকে শিবারাসার আপিলে উত্থাপিত যুক্তিগুলো জানা যায় না। আইনজীবীদের দাখিল করা আবেদন না দেখে তারা নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণগত বিষয়, অপরাধের শ্রেণিবিভাগ বা তার ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি কীভাবে বিবেচনা করা হয়েছে—এসব চ্যালেঞ্জ করেছেন বলে দাবি করা অকালপক্ব হবে।
আবেদনে মৃত্যুদণ্ড বাতিল বা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। কোনো শুনানি, রায় দেওয়ার সময়সীমা বা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তারিখ প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ নেই। আবেদন দাখিলের ফলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত হয়েছে কি না, তাও নিশ্চিত নয়।
এই অনুত্তরিত বিষয়গুলোই প্রক্রিয়াগত অগ্রগতি ও চূড়ান্ত ফলের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে। আপিল দাখিল হয়েছে, কিন্তু প্রতিকার মঞ্জুর করে কোনো সিদ্ধান্তের খবর পাওয়া যায়নি।
আদালতের বাইরেও ক্ষমার প্রচেষ্টা
তামিল ভাষাভাষী সংখ্যালঘু রাজনৈতিক দলের ছয় সংসদ সদস্য ২৪ সেপ্টেম্বর সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল-সৌদকে চিঠি লিখে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তাদের আবেদনে বলা হয়, ইসলামকে ইচ্ছাকৃতভাবে অসম্মান করা শিবারাসার স্বভাব নয়।
সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের একজন জীবান থোন্ডামান বিদেশে কর্মরত ব্যক্তিদের স্থানীয় আইন ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার বাধ্যবাধকতা স্বীকার করেন। তবে তিনি দণ্ডের আনুপাতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন:
আমি মনে করি না, ধর্ম অবমাননার জন্য কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া উচিত।
সৌদি আরবের মিত্র দেশ, যেমন ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চাইতে শ্রীলঙ্কার প্রতি আহ্বান জানান থোন্ডামান। বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মানো গণেশনও আলাদাভাবে প্রেসিডেন্ট দিসানায়েককে আহ্বান জানান, যেন তিনি মানবিক সমাধানের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কাছে হস্তক্ষেপ করতে বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিতা হেরাথ শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টকে জানান, দণ্ড বাতিলের জন্য সৌদি আরবে দুটি আইনি দলের সঙ্গে কর্মকর্তারা কাজ করছেন। তিনি আরও বলেন, দিসানায়েকের পক্ষ থেকে ক্ষমার আবেদন নিয়ে একটি সংসদীয় প্রতিনিধিদলের রিয়াদ সফরের কথা রয়েছে। সেই সফর হয়েছে কি না, প্রতিবেদনগুলোতে তা নিশ্চিত করা হয়নি।
ধর্মীয় সংগঠনগুলো সরকারকে আরও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, আর নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলো দণ্ডের বিরুদ্ধে আবেদন শুরু করেছে। এসব প্রচেষ্টার লক্ষ্য কূটনৈতিক মনোযোগ বাড়ানো; তবে ক্ষমার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কোনো সিদ্ধান্তের খবর পাওয়া যায়নি।
কারাগারে যোগাযোগ ও পরিবারের আবেদন
সুপ্রিম কোর্টে আপিল দাখিলের আগে রাষ্ট্রদূত আজওয়াদ দাম্মাম কেন্দ্রীয় কারাগারে শিবারাসার সঙ্গে দেখা করেন। দূতাবাসের বিবৃতি উদ্ধৃত করে করা এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রদূত তার প্রয়োজন ও উদ্বেগের কথা শোনেন এবং শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় কনস্যুলার ও আইনি সহায়তার আশ্বাস দেন।
খবরে বলা হয়েছে, সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ দিতে আজওয়াদ শিবারাসাকে তার ব্যক্তিগত টেলিফোন নম্বর দেন। পরিবার জানিয়েছিল, ২৮ সেপ্টেম্বরের পর থেকে তারা তার বিষয়ে কোনো খবর পায়নি—এ প্রেক্ষাপটে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
হেরাথ পার্লামেন্টকে বলেন, এক সহবন্দির সঙ্গে ঝগড়ায় আঘাত পাওয়ার পর শিবারাসাকে অন্য একটি সেলে স্থানান্তর করা হয়। এরপর তার চিকিৎসা মূল্যায়ন করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো বিবরণ নেই।
তার মা, রাসামানিকাম যোগালক্ষ্মী, ক্ষমা এবং ছেলেকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানান:
আমার ছেলের করা ভুলের জন্য আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি। দয়া করে তাকে ক্ষমা করুন এবং আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিন।
২১ সেপ্টেম্বর দিসানায়েকের সঙ্গে পরিবারের বৈঠকের পর সরকার ক্ষমার উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় এবং আইনি ব্যয় বহনের প্রস্তাব করে। এসব আশ্বাস পরিবারের আইনজীবী পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করে, তবে সৌদি আদালত কী রায় দেবেন তা নির্ধারণ করে না।
যাতায়াত বিঘ্ন ও বৃহত্তর প্রেক্ষাপট
সৌদি রাজধানীতে সাম্প্রতিক হামলার পর নির্ধারিত ফিরতি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় সফররত শ্রীলঙ্কার আইনজীবীরা রিয়াদে আটকা পড়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। একটি প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা বলা হয়েছে, অন্যগুলোতে শুধু হামলার উল্লেখ রয়েছে। ফ্লাইট বাতিলের আরও তথ্য বা নতুন যাত্রার তারিখ জানানো হয়নি।
তবে এই বিঘ্নের মধ্যেও আপিল দাখিলের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে খবর রয়েছে। এটি বিচারিক সময়সূচি থেকে আলাদা একটি বিষয়; সুপ্রিম কোর্টে আপিল বিবেচনায় এ কারণে বিলম্ব হয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ প্রতিবেদনগুলোতে নেই।
বৃহৎ অভিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্যও মামলাটির তাৎপর্য রয়েছে। শ্রীলঙ্কার দূতাবাসের বরাতে এক হিসাব অনুযায়ী, সৌদি আরবে বসবাস ও কর্মরত শ্রীলঙ্কানদের সংখ্যা ২ লাখ ৪৫ হাজারের বেশি।
একটি প্রতিবেদনে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা ২০২৫ সালে অন্তত ৩৫৬ এবং ২০২৪ সালে ৩৪৫ বলা হয়েছে; অর্থাৎ ১১টি বা প্রায় ৩.২ শতাংশ বৃদ্ধি। মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার সম্পর্কে এই জাতীয় পরিসংখ্যান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে, তবে শিবারাসার ব্যক্তিগত মামলার ফল কী হবে তা নির্দেশ করে না।
অনলাইনে বক্তব্য দেওয়া নিয়ে আরেকটি মামলা দেখায়, মৃত্যুদণ্ড বাতিল হওয়া আর মুক্তি পাওয়া এক বিষয় নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্যের জন্য অবসরপ্রাপ্ত সৌদি শিক্ষক মোহাম্মদ আল ঘামদিকে ২০২৩ সালে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। মানবাধিকার সংগঠনের বরাত দেওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরে সেই রায় বাতিল করে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তার মামলা দেখায়, সাজা পরিবর্তিত হলেও দীর্ঘ কারাদণ্ড বহাল থাকতে পারে; তবে শিবারাসার আপিলে তা বাধ্যতামূলক আইনি নজির হিসেবে প্রযোজ্য হবে, এমনটা এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় না।
মূল বিষয়গুলো
- শিবারাসার মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল ১১ অক্টোবর দাখিল হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে; দুটি প্রতিবেদনে ২০২৬ সাল উল্লেখ করা হয়েছে।
- রাষ্ট্রপক্ষ শরিয়াহ আইনে বিচারের আবেদন জানানোর আগে তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ৩০ লাখ রিয়াল জরিমানা করা হয়েছিল।
- রিয়াদে শ্রীলঙ্কা দূতাবাসের সমন্বয়ে শ্রীলঙ্কা ও সৌদি আরবের আইনজীবীরা আপিলটি প্রস্তুত করেন।
- আদালতে আপিলের পাশাপাশি সংসদ সদস্যরা ক্ষমা ও আন্তর্জাতিক সহায়তার উদ্যোগ নিচ্ছেন।
- রিয়াদে হামলার পর ফিরতি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় সফররত আইনজীবী দল আটকা পড়েছে বলে খবর রয়েছে।
- সুপ্রিম কোর্টের কোনো রায়, শুনানির তারিখ বা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময়সূচি জানানো হয়নি।






