কেন সম্পদ করের পথে জাকার্তা
কয়লা ও নিকেলের ওপর রপ্তানি শুল্ক এবং আকস্মিক মুনাফা কর আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটির অর্থনীতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি রূপান্তরকে শক্তি জোগানো খনিজ সম্পদসমৃদ্ধ দ্বীপরাষ্ট্রটির সম্পদ ব্যবস্থাপনায় এটি বড় ধরনের পরিবর্তন। জাকার্তায় এক সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী পুরবায়া ইউধি সাদেওয়া নীতিটির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রাষ্ট্রীয় ভর্তুকির ক্রমবর্ধমান ব্যয় জাতীয় বাজেটের ওপর যে চাপ তৈরি করছে, তার সরাসরি জবাব হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সময়টি বেছে নেওয়া হয়েছে ভেবেচিন্তেই। বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য বাড়ছে। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস, এ বছর সামগ্রিক পণ্যমূল্য ১৬ শতাংশ বাড়বে; কয়লা ও নিকেলের দাম বাড়তে পারে যথাক্রমে ২০ ও ১২ শতাংশ। তাপবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত কয়লার সবচেয়ে বড় রপ্তানিকারক এবং বৈশ্বিক নিকেল সরবরাহে প্রভাবশালী দেশ ইন্দোনেশিয়ার কর্মকর্তাদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের এই মূল্যবৃদ্ধি রাজস্ব আয়ের এক বিরল সুযোগ তৈরি করেছে, যা হাতছাড়া করা উচিত নয়।
সূচিপত্র
কোনো যুদ্ধ, সরবরাহে বিঘ্ন বা ভূরাজনৈতিক সংকটের মতো প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণের বাইরের পরিস্থিতিতে অস্বাভাবিক মুনাফা হলে সরকার যে অতিরিক্ত কর আরোপ করে, সেটিই আকস্মিক মুনাফা কর। এ ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে, কয়লার দাম বাড়িয়েছে এবং উৎপাদকদের বিপুল মুনাফার সুযোগ করে দিয়েছে। এসব মুনাফা পুরোপুরি বেসরকারি খনি কোম্পানিগুলোর হাতে যেতে না দিয়ে জাকার্তা এর একটি অংশ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে নিতে চায়, যাতে জ্বালানি ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসে ভর্তুকির চাপ কমানো যায়। পুরবায়া বলেছেন, এই রাজস্ব রাষ্ট্রীয় ভর্তুকির ক্রমবর্ধমান ঘাটতি মেটানোর জন্য যথেষ্ট হবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, করের নির্দিষ্ট হার নিয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, "হ্যাঁ, রপ্তানি শুল্ক ও আকস্মিক মুনাফা কর থাকবে, তবে এ বিষয়ে এখনো ইএসডিএমের সঙ্গে সমন্বয় চলছে। আমার কথা হলো, আমি শুধু রাজস্ব গ্রহণ করি।" সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম উল্লেখযোগ্য সম্পদ কর সংস্কার এটি, যা ইন্দোনেশিয়ার পণ্য রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিন ধরে চলা ন্যূনতম হস্তক্ষেপের নীতি থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
শুল্ক শূন্য থাকার কারণে প্রয়োগে ঘাটতি
কর আরোপের বড় ঘোষণার আড়ালে রয়েছে একটি কাঠামোগত সমস্যা, যা বছরের পর বছর ধরে ইন্দোনেশিয়ার শুল্ক বিভাগকে ভুগিয়েছে। কয়লা ও নিকেলের ওপর বর্তমানে কোনো রপ্তানি শুল্ক নেই। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এই নিয়ন্ত্রক শূন্যতার সুযোগ নিয়ে ব্যাপকভাবে পণ্যের ঘোষিত মূল্য কম দেখানো এবং চোরাচালান চলছে। রপ্তানি কর না থাকায় ইন্দোনেশিয়ার জলসীমা ছাড়ার আগে খনিজ চালান পরিদর্শনের আইনগত ক্ষমতা শুল্ক ও আবগারি বিভাগের নেই। পণ্যগুলো সামান্য সরকারি নজরদারিতে বন্দর ছেড়ে যায়। এতে রপ্তানিকারকেরা শুল্কের নথিতে কৃত্রিমভাবে কম দাম দেখাতে পারেন এবং সম্ভাব্য কোটি কোটি ডলারের রাজস্ব থেকে রাষ্ট্রীয় কোষাগার বঞ্চিত হয়।
সমস্যাটির ব্যাপকতা নিয়ে অর্থমন্ত্রী পুরবায়া রাখঢাক করেননি। তিনি ব্যাখ্যা করেন, শুল্ক না থাকায় অনেক দেরি হয়ে যাওয়ার আগে পর্যন্ত শুল্ক কর্তৃপক্ষ কার্যত অন্ধকারে থাকে।
কর শূন্য হওয়ায় কোনো রপ্তানি শুল্ক নেই, তাই পণ্য জাহাজে তোলার আগে শুল্ক বিভাগ তা পরিদর্শন করতে পারে না। ফলে পণ্যের মূল্য কম দেখানোর ঘটনা সেখানে ব্যাপক।
অর্থমন্ত্রীর পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় কোষাগারের দায়িত্বেও থাকা পুরবায়া স্পষ্ট করেছেন, রাজস্বের এই ফাঁকফোকর বন্ধ করা বৈশ্বিক মূল্যবৃদ্ধি থেকে বাড়তি মুনাফা আদায়ের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। রপ্তানি শুল্ক চালু হলে শুল্ক কর্মকর্তারা পণ্য ছাড়ার আগে চালান পরীক্ষা করতে পারবেন, ঘোষিত মূল্যের সঙ্গে স্পট মার্কেটের দর মিলিয়ে দেখতে পারবেন এবং সন্দেহজনক চালান আটকে দিতে পারবেন। পুরবায়া বলেন, "আমি রপ্তানি শুল্ক চালুর অনুরোধ করেছি, যাতে পণ্য ছাড়ার আগে শুল্ক বিভাগ তা পরিদর্শন করতে পারে।" তিনি আরও বলেন, "এভাবে পণ্যের মূল্য কম দেখানো বা চোরাচালানের কারণে রাজস্ব ফাঁকি নিয়ন্ত্রণ করতে পারব।" তাই প্রস্তাবিত কাঠামোর দুটি উদ্দেশ্য রয়েছে: নতুন রাজস্ব আয় এবং দীর্ঘদিন ধরে ইন্দোনেশিয়ার পণ্য রপ্তানি থেকে রাজস্ব আদায় বাধাগ্রস্ত করা দুর্বল সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সংস্কার।
প্রেসিডেন্টের অনুমোদন, কারিগরি কাজে বিলম্ব
প্রেসিডেন্ট প্রাবোয়ো সুবিয়ান্তো কর পরিকল্পনার মূল কাঠামো আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করেছেন। এর ফলে নীতিটি বড় ধরনের রাজনৈতিক সমর্থন পেয়েছে, না হলে যা হয়তো নিয়মিত একটি রাজস্ব প্রস্তাব হিসেবেই থেকে যেত। মন্ত্রীদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রশাসন প্রথমে ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে দ্রুত পরিকল্পনাটি চালুর লক্ষ্য নিয়েছিল। এই সময়সীমার ঘোষণায় বৈশ্বিক বাণিজ্য বাজারে তাৎক্ষণিক আলোড়ন তৈরি হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, কয়লা রপ্তানি শুল্ক ধাপে ধাপে বাড়তে পারে; বাজারের অস্থিরতার ওপর নির্ভর করে হার হতে পারে ৫, ৮ ও ১১ শতাংশ। তবে বাস্তবায়নের তোড়জোড়ে আমলাতান্ত্রিক বাধা এসেছে, ফলে সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করতে হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী বাহলিল লাহাদালিয়া মার্চের শেষ দিকে নিশ্চিত করেন, ১ এপ্রিলের সময়সীমা মানা সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, নীতিটির কারিগরি কাঠামো চূড়ান্ত করতে কর্মকর্তাদের আরও সময় প্রয়োজন। এক সংবাদ সম্মেলনে বাহলিল বলেন, "আমরা অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কারিগরি দিকগুলো আরও পরিমার্জন করছি। তাই আগে প্রস্তাব করা ১ এপ্রিলের সময়সীমার মধ্যে করটি কার্যকর করা হবে না।" হিসাবের পদ্ধতি, মূল্যসীমা এবং নিকেল পিগ আয়রন, ফেরোনিকেল, নিকেল ম্যাট ও মিশ্র হাইড্রক্সাইড প্রিসিপিটেটের মতো বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত নিকেল পণ্যে ঠিক কীভাবে শুল্ক আরোপ হবে, এসব অমীমাংসিত প্রশ্নের কারণে বিলম্ব হচ্ছে। তবে পরিকল্পনা পিছিয়ে গেলেও পুরবায়া ইঙ্গিত দিয়েছেন, বৈশ্বিক দাম অস্বাভাবিকভাবে বেশি থাকলে সরকার সময়সূচি এগিয়ে আনতে পারে। তিনি স্বীকার করেছেন, খনি কোম্পানিগুলো এর বিরোধিতা করবে; তবে কয়লার দাম বেশি থাকলে রাজস্বের চাপ বাড়ার ক্ষেত্রে প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারবে। খনি কোম্পানিগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, "তারা অবশ্যই রাজি হবে না।"
সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় বৈশ্বিক বাজার
আসন্ন শুল্কের খবর আন্তর্জাতিক পণ্যের বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। ঘোষণার পর লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে নিকেলের ফিউচার দর সর্বোচ্চ ২.৭ শতাংশ বেড়ে শেষ পর্যন্ত ২.১ শতাংশ বেড়ে প্রতি টন ১৭ হাজার ৩১০ ডলারে স্থির হয়। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, ইন্দোনেশিয়ায় ব্যবসার খরচ বাড়লে ব্যাটারি নির্মাতা ও স্টেইনলেস স্টিল উৎপাদকদের জন্য বৈশ্বিক সরবরাহ সংকুচিত হবে। এসব প্রতিষ্ঠান ইন্দোনেশিয়ার কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে। জ্বালানি খাতের ক্ষেত্রে সময়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আইসিই নিউক্যাসলের কয়লা চুক্তির দাম প্রতি টন প্রায় ১৩৬.৫০ ডলারের কাছাকাছি রয়েছে। এতে জাকার্তার উদ্বেগ বেড়েছে, যদিও একই কারণে খনি কোম্পানিগুলোর মুনাফার হারও বেড়েছে।
খনি শিল্প নতুন রাজস্ব বোঝার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ২০২৫ সাল এমনিতেই পুরো খাতের জন্য কঠিন ছিল। জাতীয় কয়লা উৎপাদন ৫.৫ শতাংশ কমেছে, আর রপ্তানি মূল্য প্রায় ২০ শতাংশ পড়ে ২৪.৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। এতে রাজস্বে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, সরকার এখন উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানোর বদলে কর আরোপ করে তা পূরণ করতে চায়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পূর্বাভাস, শুধু কয়লা শুল্ক থেকেই রাষ্ট্রীয় কোষাগারে অতিরিক্ত ২৫ ট্রিলিয়ন রুপিয়াহ, অর্থাৎ প্রায় ১.৫৮ বিলিয়ন ডলার, আসতে পারে। তবে শিল্প খাতের নির্বাহীরা বলছেন, নতুন কর বিনিয়োগ ও উৎপাদন আরও কমিয়ে দিতে পারে, এমন সময়ে যখন বৈশ্বিক ক্রেতারা এরই মধ্যে সরবরাহ সংকটের মুখে। মন্ত্রী বাহলিল ক্ষতি কিছুটা কমানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেছেন, বৈশ্বিক দাম স্থিতিশীল থাকলে সরকার উৎপাদনের ওপর কঠোর কোটা কিছুটা শিথিল করতে পারে। অর্থাৎ, নতুন করব্যবস্থা মেনে নেওয়ার বিনিময়ে উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানোর সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
আগে অভ্যন্তরীণ চাহিদা: কোটা ও বাজারে সরবরাহের বাধ্যবাধকতা
রাজস্ব হিসাবকে আরও জটিল করে তুলেছে প্রেসিডেন্ট প্রাবোয়োর ক্রমবর্ধমান সম্পদ জাতীয়তাবাদ। মার্চের মাঝামাঝি এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন, রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার আগে সব কয়লা উৎপাদন দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তাঁর ভাষ্য, একই নীতি অপরিশোধিত পাম তেলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। মন্ত্রিসভাকে প্রাবোয়ো বলেন, "তারা ব্যবসা করতে পারে, তবে মালিকানা ইন্দোনেশীয় জাতির।" বিদেশি বাজারের জন্য লাগামহীন সম্পদ আহরণের যুগ থেকে সরে আসার স্পষ্ট ইঙ্গিত এটি। এই দর্শন ইতিমধ্যেই অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহের বাধ্যবাধকতা বা ডিএমওর মাধ্যমে বাস্তব নীতিতে রূপ নিয়েছে। এই নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় কয়লা উৎপাদকদের উৎপাদনের একটি অংশ স্থানীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে, বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সংস্থা পেরুসাহান লিস্ত্রিক নেগারায়, আন্তর্জাতিক বাজারদরের চেয়ে অনেক কম এবং সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করতে হয়।
দেশীয় চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি কার্যকর করতে মন্ত্রী বাহলিল বার্ষিক পরিচালন অনুমতিপত্র ‘কাজের পরিকল্পনা ও বাজেট’ বা আরকেএবি ব্যবহার করছেন। এই অনুমতিপত্রে উৎপাদনের কোটা নির্ধারণ করা হয়। ২০২৬ সালের জন্য সরকার কয়লা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৬০০ মিলিয়ন মেট্রিক টন করেছে, যা ২০২৫ সালের ৭৯০ মিলিয়ন টনের চেয়ে অনেক কম। মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত মাত্র ৩৯০ মিলিয়ন টনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যা ইঙ্গিত করে, পুরো লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না-ও হতে পারে। নিকেলের ক্ষেত্রেও কোটা কমানো হয়েছে। খনির অনুমতি দেওয়া হয়েছে ১৫০ মিলিয়ন টনের, আর চূড়ান্ত সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫০ থেকে ২৭০ মিলিয়ন টনের মধ্যে। আরকেএবি কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হলে, অভ্যন্তরীণ সরবরাহের অঙ্গীকার পূরণে ব্যর্থ খনিগুলোর রপ্তানি অনুমতি পুরোপুরি আটকে দেওয়া হবে। নতুন অগ্রাধিকারের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট কোনো দ্ব্যর্থতা রাখেননি: সব কয়লা উৎপাদনকে আগে জাতীয় স্বার্থে কাজে লাগাতে হবে। তাঁর কথায়, পাম তেলের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য।
পরিশোধন শিল্পের স্বপ্ন ও বিনিয়োগকারীদের প্রণোদনা
কাঁচামাল রপ্তানি নিয়ে কঠোর অবস্থান সত্ত্বেও জাকার্তার দাবি, কর আরোপের উদ্যোগে পরিশোধনভিত্তিক শিল্পায়নের কৌশল ব্যাহত হবে না। শুধু আকরিক উত্তোলনের বাইরে বাড়তি মূল্য সংযোজনের লক্ষ্য নিয়ে ইন্দোনেশিয়া কয়েক বছর ধরে নিকেল প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তুলছে। বৈদ্যুতিক গাড়ির বিপ্লবের জন্য ব্যাটারিতে ব্যবহারযোগ্য পণ্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় দেশীয় কাঁচামালের বেশি ব্যবহার করে এমন কোম্পানিগুলোকে প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টি সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। এর উদ্দেশ্য, নতুন করের কারণে ব্যাটারির সরবরাহ শৃঙ্খলে বিনিয়োগকারীরা যেন নিরুৎসাহিত না হন। প্রক্রিয়াজাত পণ্য থেকে আরও বেশি অর্থনৈতিক মূল্য আহরণের লক্ষ্যে নিকেলের বেঞ্চমার্ক খনিজ মূল্য, যা এইচপিএম নামে পরিচিত, বাড়ানোর বিষয়টিও কর্মকর্তারা পর্যালোচনা করছেন।
বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে প্রশাসন বালিতে একটি বিশেষ আর্থিক অঞ্চল বা আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্র গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। অর্থমন্ত্রী পুরবায়া বলেছেন, ওই অঞ্চলে সম্পদ বিনিয়োগকারী বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা কর প্রণোদনা, এমনকি শূন্য শতাংশ করহারও পেতে পারেন, যদি সেই অর্থ ইন্দোনেশিয়ার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করে। প্রস্তাবিত বালি কেন্দ্র সম্পর্কে পুরবায়া বলেন, "অনুরোধ করা হলে আমি শূন্য শতাংশ দিতে পারি।" তিনি আরও বলেন, "অর্থ বিশেষ আর্থিক অঞ্চলে প্রবেশ করলে শূন্য করও গ্রহণযোগ্য।" মন্ত্রীর মতে, সরকারি সিকিউরিটিজে বিদেশি বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বাড়িয়ে এ অর্থপ্রবাহ বন্ড বাজারকে সহায়তা করতে পারে। কাঁচামাল রপ্তানিতে কর আরোপ এবং পরিশোধন শিল্পের উৎপাদক ও আর্থিক খাতের বিনিয়োগকারীদের প্রণোদনা দেওয়ার এই দ্বিমুখী কৌশল থেকে বোঝা যায়, জাকার্তা দীর্ঘমেয়াদি শিল্পায়নের উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে তাৎক্ষণিক রাজস্বের প্রয়োজনের ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে।
মূল বিষয়গুলো
- রাষ্ট্রীয় ভর্তুকির বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে এবং বাজেট ঘাটতি কমাতে কয়লা ও নিকেল রপ্তানিতে শুল্ক এবং আকস্মিক মুনাফা কর আরোপের পরিকল্পনা করছে ইন্দোনেশিয়া।
- বর্তমানে শুল্ক শূন্য থাকায় পণ্যের মূল্য কম দেখানো ও চোরাচালানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। রপ্তানির আগে খনিজ পণ্য পরিদর্শনের ক্ষমতা শুল্ক কর্তৃপক্ষকে দেওয়াই এই নীতির লক্ষ্য।
- প্রেসিডেন্ট প্রাবোয়ো সুবিয়ান্তো শুল্ক কাঠামো অনুমোদন করেছেন, তবে কারিগরি দিক চূড়ান্ত করতে কর কার্যকরের সময় ২০২৬ সালের ১ এপ্রিলের প্রাথমিক লক্ষ্যের পরে পিছিয়েছে।
- বাজারদরের ওপর নির্ভর করে কয়লার প্রস্তাবিত শুল্কের হার ৫ থেকে ১১ শতাংশ। এ থেকে ২৫ ট্রিলিয়ন রুপিয়াহ (১.৫৮ বিলিয়ন ডলার) রাজস্ব আসতে পারে।
- সরকার উৎপাদনের কোটা কঠোর করছে এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহের বাধ্যবাধকতা কার্যকর করছে, যাতে রপ্তানির পরিমাণের চেয়ে স্থানীয় জ্বালানির চাহিদা অগ্রাধিকার পায়।
- কর্মকর্তাদের দাবি, কর আরোপের উদ্যোগে ব্যাটারি শিল্পের পরিশোধনভিত্তিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে না। দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহারকারী উৎপাদকদের জন্য প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।






