লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির আগুনের ঝুঁকি ঠেকাতে কঠোর নতুন বিধিনিষেধ
২০২৬ সালের ২৪ এপ্রিল থেকে জাপানে যাতায়াতকারী বিমানযাত্রীদের বিশ্বের অন্যতম কঠোর পোর্টেবল ব্যাটারি বিধিনিষেধের মুখে পড়তে হবে। ওই দিন দেশটির ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় উড়োজাহাজে পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহারে সার্বিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করবে। নতুন নীতিতে ফ্লাইট চলাকালে স্মার্টফোন, ট্যাবলেট বা অন্য ইলেকট্রনিক যন্ত্র চার্জ দিতে পোর্টেবল চার্জার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি, বিমানের আসনের বিদ্যুৎ সকেট বা ইউএসবি পোর্টে পাওয়ার ব্যাংক লাগানোও নিষিদ্ধ।
সূচিপত্র
বিধিনিষেধ শুধু ব্যবহারের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়। প্রত্যেক যাত্রী হাতব্যাগে সর্বোচ্চ দুটি পাওয়ার ব্যাংক বহন করতে পারবেন, এবং প্রতিটির ধারণক্ষমতা হতে হবে সর্বোচ্চ ১৬০ ওয়াট-আওয়ার। নিয়ম ভাঙলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা ১০ লাখ ইয়েন পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে, যা প্রায় ৬,৩০০ মার্কিন ডলারের সমান।
নীতিতে এই বড় পরিবর্তন জাপানের আকাশসীমায় চলাচলকারী সব বাণিজ্যিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। টোকিও হানেদা ও নারিতা বিমানবন্দরের মতো কেন্দ্র দিয়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক ট্রানজিট যাত্রীরাও এর আওতায় পড়বেন। ১৪ এপ্রিল মন্ত্রণালয় পরিবর্তনের ঘোষণা দেয়। ফলে আকাশে চলার সময় চার্জ দেওয়ার সুযোগ ছাড়া ভ্রমণের নতুন বাস্তবতার জন্য প্রস্তুতি নিতে যাত্রীরা মাত্র ১০ দিন সময় পাচ্ছেন।
ব্যাটারিতে আগুন লাগার ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি
উড়োজাহাজে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় এই বিধিনিষেধ জরুরি হয়ে পড়েছে। জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটিতে মোবাইল ব্যাটারিসংশ্লিষ্ট ১২৩টি দুর্ঘটনা ঘটে, যা ২০২০ সালের তুলনায় ১৬০ শতাংশ বেশি। এসব ঘটনায় কোনো যন্ত্র থেকে ধোঁয়া বের হওয়া থেকে শুরু করে ‘থার্মাল রানঅ্যাওয়ে’র মতো গুরুতর পরিস্থিতিও রয়েছে। এ অবস্থায় ব্যাটারির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়তে থাকে এবং আগুন বা বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।
স্মার্টফোন থেকে শুরু করে হাতে বহনযোগ্য গেমিং কনসোল পর্যন্ত প্রায় সব আধুনিক পোর্টেবল ইলেকট্রনিক যন্ত্রে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহৃত হয়। স্বাভাবিক অবস্থায় এগুলো সাধারণত নিরাপদ হলেও ক্ষতিগ্রস্ত, অতিরিক্ত গরম বা ত্রুটিপূর্ণভাবে তৈরি হলে অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। ব্যাটারির ভেতরে তাপ উৎপাদন সেই তাপ বের করে দেওয়ার ক্ষমতাকে ছাড়িয়ে গেলে ‘থার্মাল রানঅ্যাওয়ে’ ঘটে। এতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দ্রুত বাড়তে থাকা প্রতিক্রিয়ায় দাহ্য গ্যাস ও প্রচণ্ড তাপ নির্গত হয়।
বিমানের সীমিত জায়গার কেবিনে এ ধরনের ঘটনার বিশেষ ঝুঁকি নিয়ে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দক্ষিণ কোরিয়ায় টারম্যাকে এয়ার বুসানের একটি উড়োজাহাজে আগুন লেগে সেটি ধ্বংস হয়। আগুনের উৎস পাওয়ার ব্যাংক বলে সন্দেহ করা হয়। এ ঘটনা এশিয়াজুড়ে বিধিনিষেধ পর্যালোচনার প্রেরণা জোগায়। একইভাবে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক যাত্রীর পোর্টেবল চার্জার অতিরিক্ত গরম হয়ে আগুন ধরলে মিউনিখ থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসগামী লুফথানসার একটি ফ্লাইট সল্ট লেক সিটিতে অবতরণ করতে বাধ্য হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) তথ্য থেকে এই নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের বৈশ্বিক ব্যাপ্তি বোঝা যায়। ২০০৬ সাল থেকে উড়োজাহাজে লিথিয়াম ব্যাটারিসংশ্লিষ্ট ৭১৭টি ঘটনার তথ্য সংস্থাটি নথিভুক্ত করেছে। শুধু ২০২৫ সালেই ৯৭টি ঘটনার খবর পাওয়া গেছে, যা ২০১৪ সালের তুলনায় ৯৩ শতাংশ বেশি। এসব ঘটনার প্রায় ৪০ শতাংশে পোর্টেবল ব্যাটারি প্যাক জড়িত ছিল।
আইসিএওর মানদণ্ডের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের সামঞ্জস্য
জাপানের নিয়মে এই পরিবর্তন এসেছে ২০২৬ সালের মার্চে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) গৃহীত নির্দেশিকা অনুসরণ করে। ব্যাটারির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এটি সমন্বিত বৈশ্বিক পদক্ষেপের প্রতিফলন। জাতিসংঘের এই বিশেষায়িত সংস্থাটি ১৯৩টি সদস্য দেশের জন্য মানদণ্ড নির্ধারণ করে। পোর্টেবল চার্জার থেকে আগুন লাগার ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় সংস্থাটি বিপজ্জনক পণ্যসংক্রান্ত বিধি সংশোধন করেছে।
নতুন নিয়মে জাপান সেই দেশ ও অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান তালিকায় যুক্ত হলো, যেখানে পাওয়ার ব্যাংকের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। এয়ার বুসানের ঘটনার পর কোরিয়ান এয়ার ও এশিয়ানা এয়ারলাইনসসহ দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান বিমান সংস্থাগুলো একই ধরনের বিধিনিষেধ চালু করে। তাইওয়ানের ইভা এয়ার ও চায়না এয়ারলাইনস ফ্লাইটে পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহার ও চার্জ দেওয়া নিষিদ্ধ করেছে। থাই এয়ারওয়েজ, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস ও মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে।
হংকংয়ের বেসামরিক বিমান চলাচল বিভাগ তাৎক্ষণিক বিধিনিষেধ আরোপ করে। এতে ছেড়ে যাওয়া প্রতিটি ফ্লাইটের যাত্রী সর্বোচ্চ দুটি পাওয়ার ব্যাংক বহন করতে পারবেন এবং ফ্লাইটে সেগুলো চার্জ দেওয়া নিষিদ্ধ। ক্যাথে প্যাসিফিক এয়ারওয়েজ তাদের পুরো নেটওয়ার্কে এসব ব্যবস্থা কার্যকর করেছে। ইউরোপের বিমান সংস্থাগুলোও এই প্রবণতায় যোগ দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রথম বড় বিমান সংস্থা হিসেবে লুফথানসা ফ্লাইটে পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে, তবে অনুমোদিত চিকিৎসা-যন্ত্রের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিমান সংস্থাগুলোও বিধিনিষেধ কঠোর করেছে। সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইনস এখন যাত্রীপ্রতি একটি পাওয়ার ব্যাংক বহনের অনুমতি দেয়, তবে সেটি হাতের নাগালে রাখতে হবে, ওভারহেড বিনে রাখা যাবে না। ২০২৬ সালের মে থেকে আমেরিকান এয়ারলাইনস অনুমোদিত যন্ত্রের সংখ্যা চারটি থেকে কমিয়ে দুটি করেছে। ডেল্টা ও ইউনাইটেডও একই ধরনের দুই যন্ত্রের সীমা চালু করেছে এবং যাত্রীর চোখের সামনে রাখার শর্ত দিয়েছে।
হাতব্যাগের নতুন বিধিনিষেধ মেনে চলা
আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য পাওয়ার ব্যাংকের কারিগরি বৈশিষ্ট্য বোঝা জরুরি হয়ে উঠেছে। জাপানের বিধিতে উল্লেখ করা ১৬০ ওয়াট-আওয়ার সীমা ব্যাটারির শক্তি ধারণক্ষমতা বোঝায়। অ্যাম্পিয়ার-আওয়ারে নির্ধারিত ধারণক্ষমতাকে ভোল্টে নির্ধারিত ভোল্টেজ দিয়ে গুণ করে এটি হিসাব করা হয়। বেশির ভাগ সাধারণ স্মার্টফোন পাওয়ার ব্যাংকের ধারণক্ষমতা এই সীমার অনেক নিচে; সাধারণত ১০,০০০ থেকে ৩০,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার-আওয়ারের মধ্যে, অর্থাৎ প্রায় ৩৭ থেকে ১১১ ওয়াট-আওয়ার। তবে ল্যাপটপ চার্জ দেওয়ার বড় পাওয়ার ব্যাংকের ক্ষমতা সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
যাত্রীদের যন্ত্রে ছাপানো ওয়াট-আওয়ারের মান যাচাই করা উচিত। মানটি উল্লেখ না থাকলে সূত্র ব্যবহার করে হিসাব করা যায়: মিলিঅ্যাম্পিয়ার-আওয়ারকে ভোল্টেজ দিয়ে গুণ করে ১,০০০ দিয়ে ভাগ করতে হবে। দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্য বা মান উল্লেখ নেই, এমন যন্ত্র নিরাপত্তাকর্মীরা পরিবহনের অনুমতি না-ও দিতে পারেন।
জাপান এয়ারলাইনস যাত্রীদের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে: পাওয়ার ব্যাংক কখনোই চেক-ইন করা লাগেজে রাখা যাবে না। এই নিয়ম বৈশ্বিক বিমান চলাচলের মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সংস্থাটি যন্ত্র ওভারহেড কম্পার্টমেন্টে না রেখে আসনের পকেটে বা সামনের আসনের নিচে থাকা ব্যাগে রাখার পরামর্শও দিয়েছে। হাতের নাগালে রাখার এই শর্তে কোনো যন্ত্র অতিরিক্ত গরম হলে কেবিন ক্রুরা দ্রুত তা শনাক্ত করে ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
পেশাদার ক্যামেরার সরঞ্জাম বা চিকিৎসা-যন্ত্রের জন্য উচ্চক্ষমতার অতিরিক্ত ব্যাটারি বহনকারী যাত্রীদের যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত, কারণ অতিরিক্ত বিধিনিষেধ থাকতে পারে। জাপান এয়ারলাইনস জানিয়েছে, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার নিয়মে অনুমোদিত ক্ষমতার সীমা আরও কমে ১০০ ওয়াট-আওয়ার হতে পারে।
আধুনিক যাত্রীদের জন্য বাস্তব প্রভাব
ফ্লাইটে চার্জ দেওয়ার সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ হওয়ায় সব সময় সংযুক্ত থাকার অভ্যাস গড়ে তোলা যাত্রীদের বড় ধরনের সমন্বয় করতে হবে। দীর্ঘপাল্লার ফ্লাইটে কাজ করতে অভ্যস্ত ব্যবসায়িক যাত্রী, হাতে বহনযোগ্য গেমিং কনসোল চালাতে আগ্রহী গেমার এবং বিনোদনের জন্য ফোনের ওপর নির্ভরশীল পর্যটকদের এখন বিমানে ওঠার আগেই যন্ত্র পুরোপুরি চার্জ দিতে হবে, অথবা উড়োজাহাজে কয়েক ঘণ্টা থাকার সময় ব্যাটারি সাশ্রয় করতে হবে।
টোকিও হানেদা বিমানবন্দরে যাত্রীদের প্রতিক্রিয়ায় অসুবিধা ও নিরাপত্তা-উদ্বেগের মধ্যে ভারসাম্যের বিষয়টি উঠে আসে। এক যাত্রী নতুন নিয়মের অসুবিধার কথা স্বীকার করলেও এর প্রয়োজনীয়তা মেনে নেন।
ফ্লাইটে আমার যন্ত্রগুলো চার্জ দিতে না পারাটা অসুবিধার, কিন্তু আগুনের ঘটনা ঘটেছে বলে এ ক্ষেত্রে কিছু করার নেই।
আরেক যাত্রী পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে ব্যবহারিকভাবে মানিয়ে নেওয়ার কথা বলেন। তিনি জানান, আগে ব্যবসায়িক সফরে মোবাইল ব্যাটারির ওপর নির্ভর করতেন, তবে এখন বিমানে ওঠার আগেই সব যন্ত্র চার্জ দিয়ে নেবেন।
ট্রানজিট যাত্রীরা বিশেষ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বেন, কারণ জাপানের বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া সব ফ্লাইটে, সংযোগকারী ফ্লাইটসহ, বিধিনিষেধ প্রযোজ্য। নিউইয়র্ক থেকে টোকিও হয়ে ব্যাংককগামী কোনো যাত্রীকে যাত্রার দ্বিতীয় অংশে পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না, যদিও প্রথম অংশে তাঁর যাত্রার বিমান সংস্থা তা ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে থাকে। ফলে যাত্রাপথের প্রতিটি অংশের নিয়ম আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে।
নিয়ম কার্যকর ও যাত্রীদের সচেতন করা
২৪ এপ্রিলের সময়সীমার আগে জাপানি কর্তৃপক্ষ জনসচেতনতামূলক প্রচারাভিযান দ্রুত শুরু করেছে। টোকিও হানেদা বিমানবন্দরে জাপানের নির্ধারিত ফ্লাইট পরিচালনাকারী বিমান সংস্থাগুলোর সমিতির ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট ও স্থলকর্মীরা যাত্রীদের ব্যাখ্যামূলক লিফলেট বিতরণ করেছেন। এতে বিধিনিষেধ স্পষ্ট করা হয়েছে এবং নতুন নিরাপত্তা নিয়ম মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিমান সংস্থাগুলোর চেক-ইন কাউন্টারে এখন পোর্টেবল চার্জার ব্যবহারের নিয়ম নিয়ে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত সংখ্যক পাওয়ার ব্যাংক শনাক্ত করতে নিরাপত্তা তল্লাশির প্রক্রিয়াও পরিবর্তন করা হয়েছে। দুইটির সীমা বা ১৬০ ওয়াট-আওয়ারের ধারণক্ষমতার সীমা অতিক্রম করা যন্ত্র জব্দ করার ক্ষমতা বিমানবন্দরের কর্মীদের দেওয়া হয়েছে।
আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে যন্ত্র জব্দ করাই শেষ পদক্ষেপ নয়। প্রথমবার নিয়ম ভাঙলে সতর্ক করা হতে পারে, তবে বারবার বা গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জাপানের বেসামরিক বিমান চলাচল আইনে মামলা হতে পারে। সম্ভাব্য দুই বছরের কারাদণ্ড ও বড় অঙ্কের জরিমানা থেকে বোঝা যায়, ব্যাটারির নিরাপত্তাকে সরকার অন্যান্য বিমান চলাচল-সংক্রান্ত নিরাপত্তা হুমকির মতোই গুরুত্ব দিচ্ছে।
বিদেশি বিমান সংস্থায় জাপানে আসা যাত্রীদের মনে রাখা উচিত, নিয়ম নির্ধারিত হয় ফ্লাইট কোথা থেকে ছাড়ছে তার ভিত্তিতে, বিমান সংস্থার জাতীয়তার ভিত্তিতে নয়। টোকিও থেকে ছাড়া কোনো মার্কিন বিমান সংস্থার ফ্লাইটে জাপানের নিয়ম প্রযোজ্য হবে, আর একই ফ্লাইট লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে ছাড়লে এফএএর নির্দেশিকা মানতে হবে। তবে বেশির ভাগ বড় বিমান সংস্থা বিশ্বজুড়ে তাদের নীতি একরকম করছে।
মূল বিষয়গুলো
- ২০২৬ সালের ২৪ এপ্রিল থেকে জাপানের বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া বা সেখানে অবতরণকারী সব ফ্লাইটে পোর্টেবল পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহার ও চার্জ দেওয়া নিষিদ্ধ; ট্রানজিট যাত্রীরাও এর আওতায় থাকবেন
- প্রত্যেক যাত্রী সর্বোচ্চ দুটি পাওয়ার ব্যাংক বহন করতে পারবেন, প্রতিটির ধারণক্ষমতা সর্বোচ্চ ১৬০ ওয়াট-আওয়ার; যন্ত্রগুলো হাতের নাগালে হাতব্যাগে রাখতে হবে, ওভারহেড বিনে নয়
- নিয়ম ভাঙলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা ১০ লাখ ইয়েন জরিমানা হতে পারে, যা প্রায় ৬,৩০০ মার্কিন ডলার
- ২০২৬ সালের মার্চে গৃহীত আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার মানদণ্ড অনুসরণ করে এসব নিয়ম করা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, হংকং, তাইওয়ান এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের প্রধান বিমান সংস্থাগুলোর অনুরূপ বিধিনিষেধের সঙ্গেও এগুলো সামঞ্জস্যপূর্ণ
- বিমানে ওঠার আগে যন্ত্র চার্জ দিন, ব্যাটারির ওয়াট-আওয়ারের মান যাচাই করুন এবং ফ্লাইটে চার্জ দেওয়ার সুযোগ না থাকায় দীর্ঘ যাত্রার জন্য বিকল্প বিনোদনের ব্যবস্থা রাখুন






