দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নতুন অর্থনৈতিক বিন্যাস
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক কাঠামোতে ঐতিহাসিক অবস্থান অর্জনের দ্বারপ্রান্তে ভিয়েতনাম। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে ক্রয়ক্ষমতার সমতার ভিত্তিতে দেশটি এই অঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির স্থান দখল করবে। এতে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক শক্তি থাইল্যান্ডকে পেছনে ফেলে ইন্দোনেশিয়ার পরেই নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করবে ভিয়েতনাম। এই পূর্বাভাস কেবল পরিসংখ্যানগত মাইলফলকের ইঙ্গিত নয়। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় জাতি সংস্থার (আসিয়ান) ভেতরে অর্থনৈতিক প্রভাবের মৌলিক পুনর্বিন্যাসেরও বার্তা দেয়। কয়েক দশকের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি ভিয়েতনামকে যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি থেকে উৎপাদন ও রপ্তানির শক্তিকেন্দ্রে রূপান্তরিত করেছে।
সূচিপত্র
আইএমএফের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ক্রয়ক্ষমতার সমতার ভিত্তিতে ভিয়েতনামের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ২০২৬ সালে ২.০২৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। এই অঙ্কে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন ও সিঙ্গাপুরকে ছাড়িয়ে যাবে দেশটি। ৫.২৩০ ট্রিলিয়ন ডলারের পূর্বাভাসিত অর্থনীতি নিয়ে কেবল ইন্দোনেশিয়াই ভিয়েতনামের চেয়ে বড় থাকবে। এর ফলে ক্রয়ক্ষমতার হিসাবে ২ ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করা মাত্র দুটি আসিয়ান দেশের একটি হবে ভিয়েতনাম, আর বিশ্বের অন্যতম গতিশীল অঞ্চলে বড় অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে এর অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে।
ক্রয়ক্ষমতার সমতা কীভাবে বুঝবেন
আইএমএফের বিশ্লেষণে ক্রয়ক্ষমতার সমতা বা পিপিপি ব্যবহার করা হয়েছে। সাধারণ পাঠকের কাছে এই মাপকাঠি প্রায়ই বিভ্রান্তিকর মনে হলেও প্রকৃত অর্থনৈতিক সক্ষমতা বুঝতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেয়। নামমাত্র জিডিপিতে বর্তমান বিনিময় হারে স্থানীয় মুদ্রাকে ডলারে রূপান্তর করা হয়। অন্যদিকে, পিপিপি বিভিন্ন দেশের জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্তরের পার্থক্য সমন্বয় করে। বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক তুলনা কর্মসূচির আওতায় বিকশিত এই পদ্ধতিতে বিভিন্ন অর্থনীতিতে একই পণ্যঝুড়ি কিনতে কত অর্থ লাগে, তা হিসাব করা হয়।
হো চি মিন সিটি ব্যাংকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ অনুষদের প্রধান ড. নগুয়েন আন ভু বলেন, এই পদ্ধতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির আকার আরও নির্ভুলভাবে বোঝা যায়। বিশ্লেষকেরা পিপিপি ব্যবহার করলে তাঁরা বিবেচনায় নেন যে হংকংয়ের তুলনায় হ্যানয়ে এক ডলারে বেশি পণ্য কেনা যায়, কিংবা উন্নত অর্থনীতির তুলনায় উদীয়মান বাজারে স্থানীয় পরিষেবা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অংশ নেয় না এমন পণ্যের দাম অনেক কম। কম জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে ভিয়েতনামের মতো উন্নয়নশীল দেশের অভ্যন্তরীণ ক্রয়ক্ষমতা নামমাত্র ডলারের অঙ্কে যা মনে হয়, তার চেয়ে বেশি। তাই এই সমন্বয় উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বিশেষভাবে সুবিধা দেয়।
নীতিনির্ধারক ও বিনিয়োগকারী—উভয়ের জন্যই এই পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। নামমাত্র জিডিপি থেকে বোঝা যায়, কোনো দেশের আমদানি কেনা বা বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা কতটা। অন্যদিকে, পিপিপিভিত্তিক হিসাব কোনো অর্থনীতি নাগরিকদের জন্য বাস্তবে কত পণ্য ও সেবা উৎপাদন করে, তা ভালোভাবে তুলে ধরে। ভিয়েতনামের ক্ষেত্রে পিপিপিতে ২ ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করা মানে হলো, দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজার যথেষ্ট গভীর এবং উৎপাদনক্ষমতা নামমাত্র জিডিপিতে অনেক বড় অর্থনীতির সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো।
বদলে যাচ্ছে আসিয়ানের অর্থনৈতিক চিত্র
আইএমএফের পূর্বাভাসে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ছয়টি বড় অর্থনীতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে: ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩১ সালের মধ্যে দেশগুলো স্পষ্টভাবে বিভিন্ন স্তরে ভাগ হয়ে যাবে। আঞ্চলিক অর্থনীতির প্রধান শক্তি হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার আধিপত্য বজায় থাকবে, আর ভিয়েতনাম দৃঢ়ভাবে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসবে। পাঁচ বছরের পূর্বাভাসের সময়জুড়ে এই দুই শীর্ষ দেশের সঙ্গে বাকি চার দেশের ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
ভিয়েতনামের অগ্রযাত্রায় বিশেষ গতি দেখা যাচ্ছে। ২০৩১ সাল নাগাদ দেশটির পিপিপিভিত্তিক জিডিপি থাইল্যান্ডের চেয়ে ৫০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হবে বলে আশা করা হচ্ছে, ফলে র্যাঙ্কিংয়ে বেশ ব্যবধান তৈরি হবে। মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনের সঙ্গেও ব্যবধান একইভাবে বাড়বে। উন্নত অর্থনীতি হওয়া সত্ত্বেও মোট আকারের হিসাবে সিঙ্গাপুর আরও পিছিয়ে পড়বে। মাথাপিছু আয়ে নগররাষ্ট্রটি শীর্ষে থাকলেও, ভিয়েতনামের ১০ কোটি নাগরিকের তুলনায় এর জনসংখ্যা কম হওয়ায় মোট অর্থনৈতিক উৎপাদনও সীমিত।
এই পুনর্বিন্যাসে অঞ্চলজুড়ে প্রবৃদ্ধির ভিন্ন প্রবণতা প্রতিফলিত হয়েছে। উৎপাদন কার্যক্রম চীন থেকে সরে আসা, শক্তিশালী প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ এবং তরুণ জনসংখ্যার কারণে ভিয়েতনামের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে প্রতিবেশীদের ছাড়িয়ে গেছে। অন্য আসিয়ান সদস্যরা যখন স্থবিরতা বা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মুখে পড়েছে, ভিয়েতনাম তখন তুলনামূলক স্থিতিশীল ঊর্ধ্বমুখী গতি ধরে রেখেছে। আঞ্চলিক র্যাঙ্কিংয়ে পূর্বাভাসিত উত্থানের জন্য এই পরিস্থিতিই সহায়ক হয়েছে।
থাইল্যান্ডের সঙ্গে ব্যবধান কমে আসছে
থাইল্যান্ডের সঙ্গে তুলনার বিশেষ ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। দুই দশক আগে এই প্রতিবেশী দুই দেশের অর্থনীতির ব্যবধানকে অতিক্রম করা অসম্ভব বলে মনে হতো। ২০০৬ সালে থাইল্যান্ডের নামমাত্র জিডিপি ছিল ২২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি, আর ভিয়েতনামের ছিল মাত্র ৬৬ বিলিয়ন ডলার। থাই অর্থনীতি ভিয়েতনামের তিন গুণেরও বেশি বড় ছিল, যা দেশটির আগের শিল্পায়ন, পর্যটন অবকাঠামো এবং প্রতিষ্ঠিত উৎপাদনভিত্তির প্রতিফলন।
২০২৪ সালের মধ্যে এই ব্যবধান প্রায় ঘুচে যায়। থাইল্যান্ডের নামমাত্র জিডিপি প্রায় ৫৩০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায় এবং পিপিপিভিত্তিক জিডিপি হয় ১.৭৭০ ট্রিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, ভিয়েতনামের নামমাত্র জিডিপি প্রায় ৪৮০ বিলিয়ন ডলার এবং পিপিপিভিত্তিক জিডিপি ১.৬৫০ ট্রিলিয়ন ডলারে ওঠে। ক্রয়ক্ষমতার হিসাবে এই উলটপালট আধুনিক এশিয়ার ইতিহাসে অর্থনৈতিক ব্যবধান কমে আসার সবচেয়ে নাটকীয় ঘটনাগুলোর একটি। একসময় ইন্দোনেশিয়ার পরেই অঞ্চলের অবিসংবাদিত দ্বিতীয় অর্থনৈতিক শক্তি ছিল থাইল্যান্ড। এখন এমন এক দেশের কাছে সেই স্থান হারানোর মুখে, যে দেশকে একসময় থাইল্যান্ড অনেক পেছনে ফেলে রেখেছিল।
এই পরিবর্তন সম্পর্কে ড. নগুয়েন আন ভুর মূল্যায়ন সরল। তাঁর মতে, এই পূর্বাভাস ভিয়েতনামের ধারাবাহিক অর্থনৈতিক সাফল্যের স্বীকৃতি।
২০২৬-৩১ সময়কালে পিপিপির হিসাবে ভিয়েতনাম থাইল্যান্ডকে ছাড়িয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হবে—আইএমএফের এই পূর্বাভাস যুক্তিসংগত। ঐতিহাসিকভাবে থাইল্যান্ডের অর্থনীতি ভিয়েতনামের চেয়ে অনেক বড় ছিল। তবে দীর্ঘ সময় ধরে ভিয়েতনামের প্রবৃদ্ধি বেশি থাকায় ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
মাথাপিছু আয়ের বাস্তবতা
তবে মোট অর্থনীতির আকার কেবল আংশিক চিত্র তুলে ধরে। ড. ভু সতর্ক করে বলেন, মোট উৎপাদনে থাইল্যান্ডকে ছাড়িয়ে যাওয়ার অর্থ উন্নয়ন বা জীবনযাত্রার মানেও দেশটিকে ছাড়িয়ে যাওয়া নয়। অর্থনীতিবিদেরা যখন মাথাপিছু জিডিপি হিসাব করেন, তখন থাইল্যান্ডের ব্যবধান বেশ ভালোই থাকে। ২০২৪ সালে থাইল্যান্ডের নামমাত্র মাথাপিছু জিডিপি ছিল প্রায় ৭,৩৫০ ডলার, যেখানে ভিয়েতনামের ছিল ৪,৭২০ ডলার। পিপিপি-সমন্বিত হিসাবেও একই ব্যবধান দেখা যায়: থাইল্যান্ডের ২৪,৭১০ ডলারের বিপরীতে ভিয়েতনামের ১৬,৩৮৫ ডলার।
এই পার্থক্যের প্রধান কারণ জনসংখ্যা। থাইল্যান্ডের ৭ কোটির বিপরীতে ভিয়েতনামের জনসংখ্যা ১০ কোটির বেশি। পার্থক্যটি বোঝাতে ড. ভু একটি পরিবারের উদাহরণ দেন।
এটি এমন দুই পরিবারের মতো, যাদের আয় সমান, কিন্তু সদস্যসংখ্যা আলাদা। ছোট পরিবারটির জীবনযাত্রার মান বেশি হবে।
ভিয়েতনামের সামনে এখনকার চ্যালেঞ্জ হলো, নতুন এই অর্থনৈতিক শক্তিকে বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কাজে লাগানো। এই রূপান্তরের জন্য শুধু উৎপাদন বাড়ানোর চেয়ে ভিন্ন নীতিগত অগ্রাধিকার প্রয়োজন।
ভিয়েতনামের অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের চালক
বিভিন্ন কারণে ভিয়েতনামের প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে অন্যদের ছাড়িয়ে গেছে। বহুজাতিক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চীনের বাইরে সরবরাহব্যবস্থা ছড়িয়ে দিতে ‘চায়না প্লাস ওয়ান’ কৌশল গ্রহণ করেছে। এর প্রধান সুবিধাভোগীদের একটি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে ভিয়েতনাম। স্যামসাং, অ্যাপলের সরবরাহকারী এবং অসংখ্য ইলেকট্রনিকস প্রস্তুতকারক ভিয়েতনামের শিল্পাঞ্চলে বড় আকারের কার্যক্রম গড়ে তুলেছে। সঙ্গে এসেছে পুঁজি, প্রযুক্তি ও রপ্তানি আয়।
উৎপাদন, আবাসন ও অবকাঠামো খাতে ধারাবাহিকভাবে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে। বিনিয়োগে অস্থিরতার মুখে পড়া কিছু আঞ্চলিক দেশের বিপরীতে ভিয়েতনাম তুলনামূলক স্থিতিশীল বিনিয়োগপ্রবাহ বজায় রেখেছে। এর পেছনে রয়েছে ট্রান্স-প্যাসিফিক অংশীদারত্বের জন্য সমন্বিত ও প্রগতিশীল চুক্তি এবং আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বসহ বিভিন্ন বাণিজ্য চুক্তি। এসব চুক্তির ফলে জাপান, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বড় বাজারগুলোতে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার পাওয়া যায়।
দেশীয় কারণও ভূমিকা রাখছে। থাইল্যান্ড বা সিঙ্গাপুরের মতো বয়স্ক জনসংখ্যার সমাজের তুলনায় ভিয়েতনামের জনসংখ্যা তরুণ। কর্মশক্তির সম্প্রসারণের মাধ্যমে তা জনমিতিক সুবিধা দিচ্ছে। দ্রুত নগরায়ণের ফলে হো চি মিন সিটি ও হ্যানয় বড় মহানগর কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে, যেখানে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। মহাসড়ক, বন্দর ও ডিজিটাল অবকাঠামোতে সরকারি বিনিয়োগে পরিবহন ও সরবরাহব্যয় কমেছে এবং যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হয়েছে। তবে আমলাতান্ত্রিক অদক্ষতা ও দুর্নীতি এখনো দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগের বিষয়।
শিরোনামের বাইরের উন্নয়ন
আইএমএফের পূর্বাভাস আশাব্যঞ্জক হলেও, জাতীয় সাফল্য পরিমাপের জটিলতা তুলে ধরে। পিপিপির হিসাবে দ্বিতীয় স্থানে ভিয়েতনামের উত্থান বড় উৎপাদন ও ভোগকেন্দ্র হিসেবে দেশটির আবির্ভাব নিশ্চিত করে। তবে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে মাথাপিছু আয়ের ব্যবধান মনে করিয়ে দেয়, মোট জিডিপি অর্জনের চেয়ে সম্ভাবনারই বেশি প্রতিফলন।
আসন্ন বছরগুলোতে ভিয়েতনামের সামনে চ্যালেঞ্জ হবে অর্থনীতির আকারকে উন্নত মানে রূপান্তরিত করা। অর্থনীতি মোট আকারে বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশটিকে সেই মধ্যম আয়ের ফাঁদের ঝুঁকিও মোকাবিলা করতে হবে, যেখানে অনেক উন্নয়নশীল দেশ আটকে গেছে। প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে কম খরচের সংযোজনশিল্পের বাইরে গিয়ে উচ্চমূল্য সংযোজনকারী উৎপাদন, সেবা ও উদ্ভাবনের দিকে অগ্রসর হতে হবে। ভিয়েতনাম দক্ষিণ কোরিয়ার মতো উন্নত অর্থনীতির পথে এগোবে, নাকি বর্তমান উন্নয়নস্তরেই থেমে যাবে—তা নির্ধারণ করবে শিক্ষার মান, গবেষণা ও উন্নয়নে ব্যয় এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা।
আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে ভিয়েতনামের উত্থান আসিয়ানের ভেতরে প্রভাবের পুনর্বণ্টন ঘটাচ্ছে। অর্থনৈতিক উপস্থিতি বাড়লে কূটনৈতিক প্রভাব, সামরিক বাজেট এবং যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জাপানের মতো বড় শক্তির কাছে অংশীদার হিসেবে আকর্ষণও বাড়ে। এই পূর্বাভাস ইঙ্গিত দেয়, আঞ্চলিক ফোরামগুলোতে ভিয়েতনামের কণ্ঠস্বর শিগগিরই আরও জোরালো হবে। তবে উত্তরের অনেক বড় প্রতিবেশীকে ক্ষুব্ধ করা বা দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় সহযোগিতার নাজুক ভারসাম্য বিঘ্নিত করা এড়াতে দেশটি সতর্ক থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মূল কথা
- আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে ক্রয়ক্ষমতার সমতার হিসাবে ভিয়েতনাম দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হবে। এ ক্ষেত্রে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন ও সিঙ্গাপুরকে ছাড়িয়ে যাবে দেশটি।
- ভিয়েতনামের পিপিপিভিত্তিক জিডিপি ২০২৬ সালে ২.০২৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস করা হয়েছে। ২০৩১ সালের মধ্যে থাইল্যান্ডের চেয়ে ব্যবধান ৫০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হবে।
- ৫.২৩০ ট্রিলিয়ন ডলারের পূর্বাভাসিত পিপিপি অর্থনীতি নিয়ে ইন্দোনেশিয়া আঞ্চলিক অর্থনীতির শীর্ষে থাকবে। তবে ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতির তুলনায় ভিয়েতনামের আপেক্ষিক ব্যবধান ৩৯ শতাংশ থেকে ৪৬ শতাংশে কমে আসবে।
- মোট উৎপাদনে থাইল্যান্ডকে ছাড়িয়ে গেলেও ভিয়েতনামের মাথাপিছু জিডিপি কম থাকবে: নামমাত্র হিসাবে প্রায় ৪,৭২০ ডলার এবং পিপিপিতে ১৬,৩৮৫ ডলার। থাইল্যান্ডের ক্ষেত্রে এই অঙ্ক যথাক্রমে ৭,৩৫০ ও ২৪,৭১০ ডলার।
- ক্রয়ক্ষমতার সমতার হিসাব স্থানীয় মূল্যস্তরের পার্থক্য সমন্বয় করে। ফলে নামমাত্র জিডিপির তুলনায় অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সক্ষমতা আরও নির্ভুলভাবে বোঝা যায়।
- গত দুই দশকের ধারাবাহিক উচ্চ প্রবৃদ্ধিই এই পরিবর্তনের প্রতিফলন। ২০০৬ সালে থাইল্যান্ডের এক-তৃতীয়াংশ আকারের অর্থনীতি থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে পিপিপির হিসাবে এই অঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হতে যাচ্ছে ভিয়েতনাম।






