একাডেমিক কঠোরতার ছায়ায় ডিজিটাল ভোগ
সিউলের হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো এক বিস্তৃত জরিপে ডিজিটাল মিডিয়া ব্যবহারের উল্লেখযোগ্য চিত্র উঠে এসেছে। প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের ৯৫.৪ শতাংশ শিক্ষার্থী নিয়মিত ইউটিউব ব্যবহার করে এবং সপ্তাহে গড়ে ১০.৮ ঘণ্টা ভিডিও দেখে। সিউল ইনস্টিটিউটের পরিচালিত এ গবেষণায় ২০২৪ সালের আগস্টে ৫০০ শিক্ষার্থীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এতে দেখা যায়, বিশ্বের অন্যতম কঠিন শিক্ষাব্যবস্থায় পড়াশোনার পাশাপাশি একটি প্রজন্ম শৈশব থেকেই অনলাইন কনটেন্টে নিমগ্ন।
সূচিপত্র
গবেষণার ফল এসেছে এমন সময়ে, যখন জাতীয় পর্যায়ের বৃহত্তর তথ্য-উপাত্তে দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণ কোরিয়ার কিশোর-কিশোরীরা প্রতিদিন তিন ঘণ্টার বেশি সময় অনলাইন ভিডিও দেখে এবং স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিওর প্ল্যাটফর্মগুলো দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে। সিউলের গবেষণায় যুক্ত গবেষকেরা অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, এতে কিশোর-কিশোরীদের গুরুত্বপূর্ণ বিকাশ ব্যাহত হতে পারে; বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা যখন ডিজিটাল মাধ্যমে সময় কাটানোর পাশাপাশি প্রায়ই রাত গভীর পর্যন্ত চলা বেসরকারি শিক্ষার সময়সূচি সামলায়।
প্ল্যাটফর্ম পছন্দ ও লিঙ্গভেদে পার্থক্য
সিউলের হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারে ইউটিউব সবার শীর্ষে। এরপর রয়েছে ইনস্টাগ্রাম, ৮৫.৭ শতাংশ; টিকটক, ৪৮.৯ শতাংশ; এবং এক্স (সাবেক টুইটার), ২১.৪ শতাংশ। তবে প্ল্যাটফর্ম ও লিঙ্গভেদে সময় ব্যয়ের ধরনে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। এতে ডিজিটাল কনটেন্টের সঙ্গে ছাত্র ও ছাত্রীরা কীভাবে যুক্ত হয়, তার স্বতন্ত্র প্রবণতা ফুটে ওঠে।
ইউটিউব সবচেয়ে বেশি মানুষের মনোযোগ পেলেও ইনস্টাগ্রামেও সপ্তাহে উল্লেখযোগ্য সময় কাটায় শিক্ষার্থীরা; ছবি শেয়ারের এই প্ল্যাটফর্মে তাদের গড় সময় ৭.৫ ঘণ্টা। তথ্য-উপাত্তে লিঙ্গভেদে পার্থক্য স্পষ্ট: ছাত্রীরা ইনস্টাগ্রামে সপ্তাহে ৮.৮ ঘণ্টা কাটায়, যেখানে ছাত্রদের ক্ষেত্রে তা ৬.৪ ঘণ্টা। এক্সে ছাত্রীরা সপ্তাহে ১.২ ঘণ্টা দেয়, যা ছাত্রদের বলা ৩০ মিনিটের দ্বিগুণেরও বেশি। এসব পার্থক্য সামাজিক যোগাযোগের ভিন্ন ধরন প্রতিফলিত করতে পারে। গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ছাত্রীরা যোগাযোগনির্ভর অ্যাপের দিকে বেশি ঝোঁকে, আর ছাত্ররা আকৃষ্ট হয় গেমিং কনটেন্টে।
জরিপে সাবস্ক্রিপশনের ধরনও দেখা হয়েছে। এতে দেখা যায়, প্রায় ৫১ শতাংশ উত্তরদাতা ১০ থেকে ৫০টি ইউটিউব চ্যানেল অনুসরণ করে, আর ৩৫.৪ শতাংশের সাবস্ক্রাইব করা চ্যানেলের সংখ্যা ১০টির কম। এতে নিষ্ক্রিয়ভাবে ভিডিও দেখার বদলে নির্দিষ্ট আগ্রহ ঘিরে কনটেন্ট বেছে নেওয়ার প্রবণতা বোঝা যায়।
শৈশব থেকেই ডিজিটালে নিমগ্ন
সিউলের শিক্ষার্থীরা যে বয়সে প্রথম ডিজিটাল প্রযুক্তির সংস্পর্শে আসে, তা সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলোর একটি। উত্তরদাতারা জানিয়েছে, গড়ে ১০ বছর বয়সে তারা প্রথম স্মার্টফোন পায় এবং ৯.৯ বছর বয়সে প্রথম ইউটিউব বা টিকটক ভিডিও দেখে। অন্য কারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট প্রথম দেখার বয়স সাধারণত ১২.৭ বছর। এর কিছু পরে তারা নিজস্ব অ্যাকাউন্ট খোলে (১৩.৮ বছর) এবং কনটেন্ট আপলোড করে (১৩.৯ বছর)।
এর অর্থ, হাইস্কুলের প্রথম বর্ষে ওঠার আগেই অধিকাংশ শিক্ষার্থী সক্রিয় ডিজিটাল ভোক্তা হিসেবে ছয় থেকে সাত বছর পার করে। শৈশবের বিকাশে প্রযুক্তির এই স্বাভাবিক মিশে যাওয়া মনোযোগ ধরে রাখার সময়কাল এবং আন্তব্যক্তিক যোগাযোগের দক্ষতাসহ জ্ঞানীয় ও সামাজিক বিকাশ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
স্মার্টফোন ব্যবহারে স্কুলগুলোর নীতি একেক রকম। জরিপে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মাত্র ১ শতাংশ এমন স্কুলে পড়ে, যেখানে ফোন পুরোপুরি নিষিদ্ধ। প্রায় অর্ধেক (৪৮.৯ শতাংশ) ফোন সঙ্গে রাখে, তবে শ্রেণিকক্ষে ব্যবহারে বিধিনিষেধ রয়েছে। আর ৪৬.১ শতাংশ শিক্ষার্থী সকালে ফোন জমা দেয় এবং স্কুল শেষে তা ফেরত নেয়। অল্প কিছু শিক্ষার্থী (৩.৮ শতাংশ) কোনো বিধিনিষেধ ছাড়াই ফোন ব্যবহার করতে পারে; ১.২ শতাংশ অনুমতি নিয়ে ফোন সঙ্গে রাখলেও এর ব্যবহার সীমিত।
একাডেমিক চাপের প্রেক্ষাপট
ব্যাপক ইউটিউব ব্যবহারের এই চিত্র এমন এক শিক্ষাসংস্কৃতির মধ্যে দেখা যাচ্ছে, যেখানে প্রতিযোগিতা তীব্র এবং সহায়ক শিক্ষায় ব্যক্তিগত বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য। সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা থেকে এমন সময়সূচির কথা জানা যায়, যা বিনোদনের জন্য অবসর সময় আছে কি না, সে ধারণাকেই চ্যালেঞ্জ করে।
সিউলের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রস্থল তেচি-দং এলাকার শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা একই সময়ে সর্বোচ্চ নয়টি আলাদা টিউশন প্রতিষ্ঠানে পড়ে; মাসে খরচ হয় ৪০ লাখ থেকে ৫০ লাখ ওন (২,৭০০ থেকে ৩,৪০০ ডলার)। সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির দন্তচিকিৎসাবিদ্যার এক শিক্ষার্থী জানান, রাত ১০টা পর্যন্ত একাডেমিতে ক্লাস করার পর তিনি ভোর ৪টা পর্যন্ত পড়ার কক্ষে থাকেন। ফলে স্কুল শুরু হওয়ার আগে ঘুমানোর সময় পান প্রায় দুই ঘণ্টা।
এই প্রেক্ষাপট ইঙ্গিত করে, ইউটিউব দেখার বেশির ভাগ সময় হয়তো পড়াশোনার বদলে যাতায়াতের পথে, খাবারের বিরতিতে কিংবা রাতের শেষে বিশ্রাম নেওয়ার সময় কাটে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্ল্যাটফর্মটি দুই ধরনের কাজেই ব্যবহৃত হয়: দেশজুড়ে দেখার পছন্দে গেমিং কনটেন্টের আধিপত্য (৬৩.৯ শতাংশ) থাকলেও বিনোদনের পাশাপাশি শিক্ষামূলক কনটেন্টও জনপ্রিয়। কোরিয়ান “আমার সঙ্গে পড়ুন” ভিডিও বিপুল দর্শক টানে। কনটেন্ট নির্মাতারা আট ঘণ্টার পড়ার সেশন সম্প্রচার করেন, যা একই ধরনের একাডেমিক চাপের মুখে থাকা দর্শকদের অনুপ্রেরণা ও ভার্চুয়াল সঙ্গ জোগায়।
দক্ষিণ কোরিয়ার বেসরকারি শিক্ষা খাতে হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের পরিবারের আর্থিক বোঝা সবচেয়ে বেশি। প্রতি শিক্ষার্থীর পেছনে পরিবারগুলো মাসে গড়ে ৭ লাখ ৯৩ হাজার ওন ব্যয় করে। প্রথম বর্ষের হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য খরচ সবচেয়ে বেশি, মাসে ৮ লাখ ৬ হাজার ওন। এ সময় তারা স্কুলের ফলাফল ও কলেজে ভর্তির সক্ষমতা যাচাই পরীক্ষা (সিএসএটি), দুটিরই প্রস্তুতি নেয়।
স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ও ঘুমের ঘাটতি
কোরিয়ার স্কুলবয়সী শিশুদের স্মার্টফোন আসক্তি নিয়ে পর্যালোচিত গবেষণায় অতিরিক্ত ডিভাইস ব্যবহারের সঙ্গে ঘুমের মানের উদ্বেগজনক সম্পর্ক পাওয়া গেছে। কোরিয়ান শিশু ও কিশোর প্যানেল জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে এক গবেষণায় দেখা গেছে, স্মার্টফোন আসক্তির উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের ঘুমের মান খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা কম ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের তুলনায় ১.৫৯ গুণ বেশি। সম্ভাব্য ঝুঁকি ও উচ্চ ঝুঁকির দলে থাকা শিশুদের ঘুমের সময় কম হওয়ার সম্ভাবনা যথাক্রমে ১.৪৪ ও ২.২৫ গুণ বেশি।
স্মার্টফোন আসক্তির প্রবণতা পরিমাপক স্কেল ব্যবহার করে ৪,০০০-এর বেশি শিক্ষার্থীর ওপর চালানো এই গবেষণায় ব্যবহারের মাত্রার সঙ্গে ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। প্রতিদিন দুই ঘণ্টার বেশি ফোন ব্যবহার ঘুমের মান খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায়; আর এক ঘণ্টার বেশি ব্যবহার ঘুমের সময় কমে যাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। ছাত্রীরা বিশেষভাবে ঝুঁকিতে থাকতে পারে। কম ঝুঁকির ছাত্রীদের তুলনায় উচ্চ ঝুঁকির ছাত্রীদের ঘুমের মান খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা ৩.৪৪ গুণ এবং অপর্যাপ্ত ঘুমের ঝুঁকি ২.৫১ গুণ বেশি।
বিভিন্ন কারণে ঘুম ব্যাহত হয়। রাতে দেরি করে স্মার্টফোন ব্যবহার করলে নীল আলোর সংস্পর্শ ও মানসিক উত্তেজনার কারণে শরীরের স্বাভাবিক দিন-রাতের ছন্দে ব্যাঘাত ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাপ, বিশেষ করে বার্তা আদান-প্রদান ও ছবি-ভিডিওকে গুরুত্ব দেওয়া অ্যাপগুলো, মানসিকভাবে ব্যস্ত রাখে এবং ঘুম আসতে দেরি করায়। সিউল ইনস্টিটিউটের গবেষকেরা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন, কৈশোর মস্তিষ্ক ও সামাজিক দক্ষতা বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এসব সক্ষমতা ডিজিটাল মাধ্যমের বদলে সরাসরি মেলামেশা ও বাস্তব জীবনের নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে।
স্বল্পদৈর্ঘ্য কনটেন্টের দিকে ঝোঁক
সিউলের গবেষণায় সপ্তাহে মোট ব্যবহারের সময়ে ইউটিউবের আধিপত্যের কথা এলেও জাতীয় পর্যায়ের বৃহত্তর জরিপে স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিওর দিকে উল্লেখযোগ্য ঝোঁক দেখা যায়। কোরিয়া প্রেস ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, এখন কোরিয়ার ৪৯.১ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রতিদিন স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও দেখে। ২০২২ সালে এই হার ছিল মাত্র ০.২ শতাংশ।
প্রচলিত ইউটিউবকে ছাড়িয়ে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত প্ল্যাটফর্ম হয়েছে ইনস্টাগ্রাম রিলস। শিক্ষার্থীদের ৩৭.২ শতাংশ এটি ব্যবহার করে, যেখানে ইউটিউবের ক্ষেত্রে হার ৩৫.৮ শতাংশ। ইউটিউব শর্টসের হার ১৬.৫ শতাংশ, আর টিকটকের ৮ শতাংশ। সাধারণত ৬০ সেকেন্ডের কম দৈর্ঘ্যের এই ছোট ছোট কনটেন্টের দিকে ঝোঁক দেখার ধরনকে দীর্ঘক্ষণ মনোযোগ দেওয়া থেকে দ্রুত এক বিষয় ছেড়ে অন্য বিষয়ে যাওয়ার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এতে জ্ঞানীয় বিকাশ ও গভীরভাবে শেখার সক্ষমতা প্রভাবিত হতে পারে।
কনটেন্টের পছন্দে একাডেমিক চাপ ও বাস্তবতা থেকে দূরে থাকার আকাঙ্ক্ষার টানাপোড়েন ফুটে ওঠে। গেমিং ভিডিও সবচেয়ে জনপ্রিয় (৬৩.৯ শতাংশ), এরপর রয়েছে সংগীত ও নাচের পরিবেশনা (৫০.৬ শতাংশ) এবং রান্নার কনটেন্ট (৪০.৬ শতাংশ)। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী (৩০.৩ শতাংশ) নিজেদের ভিডিও আপলোড করেছে। এতে তারা নিষ্ক্রিয় দর্শক থেকে কনটেন্ট নির্মাতায় পরিণত হয়েছে, যদিও ব্যবহারকারীদের তৈরি এসব কনটেন্টের মান ও শিক্ষামূল্য ব্যাপকভাবে ভিন্ন।
বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের করণীয়
সিউল ইনস্টিটিউটের গবেষকেরা শিক্ষার্থীদের এমন পরিবেশে আরও বেশি সময় কাটানোর সুপারিশ করেছেন, যেখানে সামনাসামনি কথা বলা ও শারীরিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ রয়েছে। তাঁদের অনুসন্ধান বলছে, স্কুলের বর্তমান স্মার্টফোন নীতিগুলো মূলত বিধিনিষেধের দিকে নজর দেয়, শিক্ষা দেওয়ার দিকে নয়। ফলে ডিজিটাল সুস্থতার দক্ষতা শেখার মৌলিক প্রয়োজনটি হয়তো যথাযথভাবে মেটানো হচ্ছে না।
ইউটিউবকে শেখার একটি কার্যকর উপকরণ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত ব্যবহার কমানো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। প্ল্যাটফর্মটিতে গণিত থেকে ভাষাশিক্ষা পর্যন্ত নানা বিষয়ে মূল্যবান শিক্ষামূলক চ্যানেল রয়েছে, যা অনেক সময় শ্রেণিকক্ষের কঠোর পাঠদানের পরিপূরক ব্যাখ্যা দেয়। তবে কনটেন্ট সুপারিশের অ্যালগরিদম বিনোদনের একের পর এক ভিডিও দেখার দিকে টেনে নিতে পারে; এতে বিশ্রাম বা পড়াশোনার জন্য রাখা সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যায়।
ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গবেষণায় দেখা যায়, যেসব শিশু মা-বাবার সঙ্গে কম সময় কথা বলে, তাদের মধ্যে সমস্যাজনক স্মার্টফোন ব্যবহার ও এর সঙ্গে সম্পর্কিত ঘুমের সমস্যার হার বেশি। পরিবারের আয়ের সঙ্গে বেসরকারি শিক্ষায় ব্যয়ের সম্পর্কও জোরালো: উচ্চ আয়ের পরিবারগুলো নিম্ন আয়ের পরিবারের তুলনায় ৩.৪ গুণ বেশি ব্যয় করে। আর্থসামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে ডিজিটাল কনটেন্ট দেখা হয়তো অবসরের অল্প কয়েকটি সহজলভ্য কাজের একটি, তবে এর স্বাস্থ্যগত প্রভাব সবার ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে।
মূল তথ্য
- সিউলের হাইস্কুলের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের ৯৫.৪% শিক্ষার্থী ইউটিউব ব্যবহার করে; প্ল্যাটফর্মটিতে তারা সপ্তাহে গড়ে ১০.৮ ঘণ্টা কাটায়
- শিক্ষার্থীরা গড়ে ১০ বছর বয়সে প্রথম স্মার্টফোন পায় এবং ৯.৯ বছর বয়সে ভিডিও প্ল্যাটফর্মের সংস্পর্শে আসে
- হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের পেছনে বেসরকারি শিক্ষায় মাসে গড়ে ৭ লাখ ৯৩ হাজার ওন ব্যয় হয়; তেচি-দংয়ের মতো নিবিড় শিক্ষার এলাকায় কেউ কেউ ৪০-৫০ লাখ ওন পর্যন্ত ব্যয় করে
- গবেষণায় স্মার্টফোন আসক্তির সঙ্গে ঘুমের মান খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা ১.৫৯ গুণ এবং স্বল্প সময় ঘুমানোর ঝুঁকি ২.২৫ গুণ বেড়ে যাওয়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে
- প্রতিদিন স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও দেখার হার ২০২২ সালের ০.২% থেকে বেড়ে এখন ৪৯.১%; ব্যবহারের ঘনত্বে ইনস্টাগ্রাম রিলস এখন ইউটিউবকে ছাড়িয়ে গেছে
- লিঙ্গভেদে পার্থক্যে দেখা যায়, ছাত্রীরা ইনস্টাগ্রামে সপ্তাহে ৮.৮ ঘণ্টা কাটায়, যেখানে ছাত্রদের ক্ষেত্রে তা ৬.৪ ঘণ্টা; ঘুমের ব্যাঘাতের ঝুঁকিও ছাত্রীদের বেশি
- স্কুলভেদে নীতি ভিন্ন: ৪৮.৯% শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে বিধিনিষেধসহ ফোন সঙ্গে রাখে এবং ৪৬.১% স্কুলে এসে ফোন জমা দেয়






