বাণিজ্য প্রবাহে ঐতিহাসিক উলটপালট
বছরের পর বছর ধরে ভারত ও চীনের মধ্যে ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশের প্রবাহ ছিল অনুমিত ধারায়। ভারতীয় কারখানাগুলো চীনা সরবরাহকারীদের কাছ থেকে উন্নত যন্ত্রাংশ আমদানি করত, সেগুলো জুড়ে তৈরি পণ্য বানাত এবং বৈশ্বিক বাজারে পাঠাত। একমুখী সেই প্রবাহ হঠাৎ দ্বিমুখী পথে পরিণত হয়েছে। চলতি অর্থবছরে অ্যাপলকে পণ্য সরবরাহকারী ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো রেকর্ড ২.৫ বিলিয়ন ডলারের যন্ত্রাংশ ও উপ-অ্যাসেম্বলি চীনে রপ্তানি করেছে। পূর্বাভাস বলছে, অর্থবছর শেষ নাগাদ এর পরিমাণ ৩.৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। ২০২৫ অর্থবছরে মাত্র ৯২০ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি এবং এর আগের বছরগুলোতে প্রায় নগণ্য পরিমাণের তুলনায় এটি নাটকীয় বৃদ্ধি।
সূচিপত্র
এই উল্লম্ফন নিছক পরিসংখ্যানগত ব্যতিক্রম নয়। বৈশ্বিক ইলেকট্রনিকস সরবরাহ শৃঙ্খল কীভাবে কাজ করে, তাতে কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে এটি। ভারতীয় কারখানাগুলো এখন প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড অ্যাসেম্বলি, যন্ত্রের বাইরের কাঠামো, নমনীয় পিসিবিএ এবং পরিবাহী গ্রাফাইট বোতামের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ আবার চীনে পাঠাচ্ছে। এসব যন্ত্রাংশ সরাসরি উৎপাদন লাইনে যাচ্ছে, যেখানে বিশ্বের বৃহত্তম ভোক্তা ইলেকট্রনিকস কোম্পানির জন্য যন্ত্র তৈরি হয়। এই অগ্রগতি বৈশ্বিক উৎপাদনে ভারতের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিনের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করছে। আগে তৈরি পণ্য চূড়ান্তভাবে সংযোজনের কেন্দ্র হিসেবে দেখা হলেও, এখন বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলে আরও গভীরভাবে অংশ নিচ্ছে দেশটি। সরবরাহ শৃঙ্খলের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে অবগত এক শিল্প নির্বাহীর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ২০২১ সালে অ্যাপল যখন চীন থেকে ভারতে আইফোন উৎপাদন সরানো শুরু করে, তখন এত দ্রুত রপ্তানি বৃদ্ধির কথা কল্পনাও করা যেত না। নীতিগত প্রণোদনা, করপোরেট কৌশল ও বিনিয়োগের প্রবাহ যখন প্রযুক্তির উন্নয়নে কাজে লাগে, কেবল সস্তা শ্রমের সুবিধা নিতে নয়, তখন উৎপাদন সক্ষমতা কত দ্রুত বদলাতে পারে, এই রূপান্তর তারই প্রমাণ।
চূড়ান্ত সংযোজন থেকে যন্ত্রাংশ উৎপাদনে
এই পরিবর্তনের গুরুত্ব বুঝতে হলে ভারতের আগের উৎপাদন মডেলের সীমাবদ্ধতাগুলো জানা দরকার। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশটির ইলেকট্রনিকস খাতের প্রবৃদ্ধি মূলত চূড়ান্ত সংযোজনের ওপর নির্ভরশীল ছিল। উৎপাদন-সংযুক্ত প্রণোদনা (পিএলআই) প্রকল্প বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোকে আকৃষ্ট করে স্মার্টফোন উৎপাদন বাড়াতে সফল হলেও, এর আড়ালে একটি স্থায়ী দুর্বলতা থেকে যায়। স্থানীয়ভাবে সংযোজিত মূল্য মোটেরামুটি ১৫ থেকে ২০ শতাংশে আটকে ছিল, কারণ উৎপাদকরা বেশির ভাগ যন্ত্রাংশ, উপকরণ ও উপ-অ্যাসেম্বলি আমদানি করতেন, যার অধিকাংশই আসত চীন থেকে।
এই নির্ভরতা ঝুঁকি তৈরি করেছিল। ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও পরিবহনগত বাধার কারণে সরবরাহ শৃঙ্খল ঝুঁকির মুখে ছিল। ভারতের উৎপাদন কার্যক্রম থেকে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মূল্যের বড় অংশই অন্যত্র চলে যেত। ২০২৫ সালে চালু হওয়া ইলেকট্রনিকস যন্ত্রাংশ উৎপাদন প্রকল্প (ইসিএমএস) ঠিক এই ঘাটতি পূরণের জন্য নেওয়া হয়। যন্ত্রাংশ, উপকরণ ও উৎপাদন সরঞ্জামের দেশীয় উৎপাদনে প্রণোদনা দিয়ে এই উদ্যোগের লক্ষ্য, ভারতকে সংযোজন কেন্দ্র থেকে পূর্ণাঙ্গ সমন্বিত উৎপাদন ব্যবস্থায় রূপান্তর করা।
ইলেকট্রনিকস উৎপাদনে মূল্য সৃষ্টির মূল ভিত্তি যন্ত্রাংশ। সার্কিট বোর্ড, ডিসপ্লে মডিউল, সংযোগকারী এবং ব্যাটারি সেলের মতো উপকরণ মোট পণ্যমূল্যের উল্লেখযোগ্য অংশ জুড়ে থাকে। এসব উপকরণের ওপর নিয়ন্ত্রণ খরচের দক্ষতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও স্থিতিস্থাপকতা নির্ধারণ করে। ইসিএমএসের আওতায় যন্ত্রাংশ উৎপাদনের বিস্তার এই বাস্তবতারই প্রতিফলন। অনুমোদিত প্রকল্পগুলো ভোক্তা ইলেকট্রনিকস থেকে শুরু করে গাড়ি ও কৌশলগত খাত পর্যন্ত বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে আছে। গুরুত্বপূর্ণ উপকরণের উৎপাদন দেশে স্থাপন করে ভারত আমদানিনির্ভরতা কমাচ্ছে এবং সরবরাহ শৃঙ্খল সংক্ষিপ্ত করছে।
পরিবর্তনে অ্যাপল ইকোসিস্টেমের ভূমিকা
চীনে রপ্তানির এই উল্লম্ফনে কয়েকটি বড় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ভূমিকা রেখেছে। ফক্সকন, টাটা ইলেকট্রনিকস, টাটার মালিকানাধীন পেগাট্রন টেকনোলজি ইন্ডিয়া, মাদারসন গ্রুপ, সালকম্প, টিআরআইএল বেঙ্গালুরু এবং ইউঝান টেকনোলজির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো চালানে অবদান রেখেছে। এসব প্রতিষ্ঠান একেবারে শুরু থেকে যান্ত্রিক আবরণ তৈরি করে, যার মধ্যে আইফোন ও অ্যাপলের অন্যান্য যন্ত্রের খোলসও রয়েছে। রপ্তানি করা যন্ত্রাংশগুলো হারমোনাইজড সিস্টেম নামকরণের তিনটি কোডের আওতায় পড়ে এবং ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে এর গতি বেড়েছে।
ভারতের যন্ত্রাংশ রপ্তানি শুধু চীনেই সীমাবদ্ধ নয়। অ্যাপলের উৎপাদন নেটওয়ার্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ভিয়েতনামেও সরবরাহকারীরা যন্ত্রাংশ পাঠাতে শুরু করেছে। এই বহুমুখী প্রবাহের ইঙ্গিত, ভারত কেবল প্রান্তিক সংযোজন কেন্দ্র নয়, বরং এশিয়ার ইলেকট্রনিকস সরবরাহ শৃঙ্খলে একটি কেন্দ্রীয় সংযোগস্থল হয়ে উঠছে। একাধিক উৎপাদন কেন্দ্রে স্থানীয় মূল্য সংযোজন বাড়ানোর পাশাপাশি কোনো একটি দেশের ওপর নির্ভরতা কমানোর অ্যাপলের বৃহত্তর কৌশলের সঙ্গেও এই অগ্রগতি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
নীতি আয়োগের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অমিতাভ কান্ত এই পরিবর্তনের পেছনে নীতিগত সাফল্যের কথা তুলে ধরে বলেন, অগ্রগতি প্রাথমিক পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে গেছে।
অ্যাপল ইকোসিস্টেম চীনে যন্ত্রাংশ ও উপ-অ্যাসেম্বলি রপ্তানি শুরু করেছে। স্মার্টফোন পিএলআই প্রকল্পের পরিকল্পনা যখন প্রথম করা হয়েছিল, তখন এটি কল্পনাতীত ছিল।
স্মার্টফোন পিএলআই কর্মসূচির আওতায় অ্যাপল পাঁচ বছরে ভারতে ৭০ বিলিয়ন ডলারের আইফোন তৈরি করেছে। এর মধ্যে ৫১ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ মোটের প্রায় ৭৩ শতাংশ, রপ্তানি করা হয়েছে। ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোন উৎপাদক দেশে পরিণত হয়েছে এবং সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে শীর্ষ স্মার্টফোন রপ্তানিকারক হিসেবে চীনকে ছাড়িয়ে গেছে।
নীতিকাঠামো ও কৌশলগত প্রণোদনা
ইলেকট্রনিকস খাতে ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষার ভিত্তি তিন অংশের নীতিকাঠামো। পিএলআই প্রকল্প তৈরি পণ্যের উৎপাদন বাড়িয়েছে। সেমিকন্ডাক্টর উদ্যোগের লক্ষ্য চিপ তৈরি ও প্যাকেজিংয়ে উৎপাদনের আগের ধাপগুলোর সক্ষমতা গড়ে তোলা। ইসিএমএস যন্ত্রাংশ ও উপকরণে মনোযোগ দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী স্তরটি পূরণ করছে। এই মধ্যবর্তী স্তর ব্যবস্থাটিকে বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের বদলে সমন্বিত ইকোসিস্টেম হিসেবে কাজ করতে সাহায্য করে।
সরকার ইসিএমএসের আওতায় সাতটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে এবং ৫৫.৩২ বিলিয়ন রুপি (৬২৬ মিলিয়ন ডলার) অনুদান দিয়েছে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে স্মার্টফোন, পরিধানযোগ্য যন্ত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জামে ব্যবহৃত ক্যামেরা মডিউল, বহুস্তরবিশিষ্ট প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড এবং উন্নত উচ্চ-ঘনত্বের পিসিবির স্থানীয় উৎপাদন গড়ে উঠবে। নতুন উৎপাদন সক্ষমতার দেশীয় প্রভাব তুলে ধরে ইলেকট্রনিকস ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন:
দেশের মোট পিসিবি চাহিদার ২০% এবং ক্যামেরা মডিউল উপ-অ্যাসেম্বলির ১৫% এই [সাতটি] কারখানার উৎপাদন থেকে পূরণ হবে। এসব কারখানার মোট উৎপাদনের প্রায় ৬০% রপ্তানি করা হবে।
শিল্প খাতের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের ইলেকট্রনিকস যন্ত্রাংশের বাজার ১৫০ বিলিয়ন ডলারে এবং সামগ্রিক ইলেকট্রনিকস বাজার ৫০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এই লক্ষ্য অর্জনে দক্ষতা ও প্রযুক্তিতে ধারাবাহিক বিনিয়োগ প্রয়োজন। যন্ত্রাংশ উৎপাদনে উপকরণবিজ্ঞান, সূক্ষ্ম প্রকৌশল, প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ ও স্বয়ংক্রিয়করণে দক্ষতা দরকার। এই খাতের বিস্তারে উচ্চতর কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন হাজার হাজার সরাসরি কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে, যা উন্নত নকশা ও গবেষণা কার্যক্রমের ভিত্তি গড়ে তুলছে।
বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যে পথ চলা
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা বাড়ার সময়েই ভারতের উৎপাদন খাতের উত্থান ঘটছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনা পণ্যে ১২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। এতে সরবরাহকারীরা উৎপাদনের স্থান বৈচিত্র্যময় করার জন্য তড়িঘড়ি শুরু করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে চাহিদা কমে যাওয়া এবং অতিরিক্ত মজুতের উদ্বেগে চীনা ইলেকট্রনিকস যন্ত্রাংশ নির্মাতারা চুক্তি আলোচনার সময় ভারতীয় কোম্পানিগুলোকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় দিচ্ছেন।
এই বাণিজ্য পরিস্থিতি ‘চায়না প্লাস ওয়ান’ কৌশলকে ত্বরান্বিত করেছে। এ কৌশলে বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলো ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি কমাতে বিকল্প উৎপাদন কেন্দ্র খোঁজে। ভারত এই পরিবর্তনের সুফল পেয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে শীর্ষ স্মার্টফোন রপ্তানিকারক হিসেবে ভারত চীনকে ছাড়িয়ে যায়। আগে চীনা উৎপাদকদের কাছ থেকে আসা যুক্তরাষ্ট্রের চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ পূরণ করেছে ভারত। ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রের স্মার্টফোন আমদানি প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে, আর চীন থেকে আমদানি কমেছে প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার।
এই অগ্রগতি সত্ত্বেও সম্পর্কটি জটিল রয়ে গেছে। বৈশ্বিক ইলেকট্রনিকস রপ্তানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নিয়ে চীন এখনো আধিপত্য ধরে রেখেছে। ভারতও চীন থেকে বিপুল পরিমাণে আমদানি করে। ২০২৬ অর্থবছরে ইলেকট্রনিকস আমদানি ছিল ১১৬ বিলিয়ন ডলার, যেখানে রপ্তানি ছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলার। ভারতে উৎপাদিত ইলেকট্রনিকস পণ্যে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের প্রায় ৭৫ শতাংশ আসে চীনা সরবরাহকারীদের কাছ থেকে। এই স্থায়ী বাণিজ্য ঘাটতি দেখায়, রপ্তানি সক্ষমতা বাড়লেও ভারত নিজের উৎপাদন লাইনের জন্য চীনা উপকরণের ওপর নির্ভরশীল।
স্বনির্ভরতার পথে চ্যালেঞ্জ
উৎপাদনে স্বনির্ভরতার পথ এখনো দীর্ঘ। চীনে ২.৫ বিলিয়ন ডলারের যন্ত্রাংশ রপ্তানি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলেও, ২০২৫ অর্থবছরে ভারতের আমদানি করা ৩৬.৮ বিলিয়ন ডলারের ইলেকট্রনিকস যন্ত্রাংশের তুলনায় তা অনেক কম। এর প্রায় ৪০ শতাংশ এসেছে চীন থেকে এবং ১৬ শতাংশের বেশি হংকং থেকে। ২০২৬ অর্থবছরে মোট ১১৬ বিলিয়ন ডলারের ইলেকট্রনিকস আমদানি বিদেশি প্রযুক্তির ওপর অব্যাহত নির্ভরতার চিত্র তুলে ধরে।
বিদেশ থেকে পণ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডসের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করে মান নিয়ন্ত্রণ আদেশ জারি এবং যন্ত্রাংশে আমদানি শুল্ক বাড়ানোর ফলে স্থানীয় উৎপাদন উৎসাহিত হয়েছে। তবে এই রূপান্তরে সময় লাগবে। অনুমোদিত সাতটি ইসিএমএস প্রকল্প দেশে যন্ত্রাংশের ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার বৃহত্তর উদ্যোগের কেবল শুরু। ইলেকট্রনিকস যন্ত্রাংশ উৎপাদন প্রকল্পে স্থানীয় ও বৈশ্বিক কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে ২৪৯টি আবেদন এসেছে। প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ ১.১৫ ট্রিলিয়ন রুপি (প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলার), যা ভারতের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে বেসরকারি খাতের প্রবল আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়।
প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রও বদলাচ্ছে। ভারতীয় যন্ত্রাংশ নির্মাতারা উৎপাদন বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত চীনা সরবরাহকারীদের মূল্যচাপের মুখে পড়ছেন। শুল্কের চাপে চাহিদা কমে যাওয়ায় বাজারের অংশ ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে চীনা সরবরাহকারীরা। সস্তা উপকরণ সংগ্রহের সুযোগ এবং দেশীয় সক্ষমতা গড়ে তোলার কৌশলগত লক্ষ্য, এই দুইয়ের মধ্যে ভারতীয় নির্মাতাদের ভারসাম্য রাখতে হবে। প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপ নির্ভর করছে, সেমিকন্ডাক্টর ও উন্নত ডিসপ্লের মতো বেশি মূল্য সংযোজিত ও জটিল যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রেও ভারত স্মার্টফোন সংযোজনের সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করতে পারে কি না, তার ওপর।
মূল বিষয়গুলো
- ২০২৬ অর্থবছরে ভারতীয় সরবরাহকারীরা অ্যাপলের ২.৫ বিলিয়ন ডলারের যন্ত্রাংশ চীনে রপ্তানি করেছে। অর্থবছর শেষ নাগাদ তা ৩.৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে, যা ২০২৫ অর্থবছরের ৯২০ মিলিয়ন ডলারের চেয়ে বেশি
- ফক্সকন, টাটা ইলেকট্রনিকস ও পেগাট্রনের মতো বড় সরবরাহকারীরা প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড অ্যাসেম্বলি, যান্ত্রিক যন্ত্রাংশ ও বাইরের কাঠামো চীনা কারখানার পাশাপাশি ভিয়েতনামেও পাঠাচ্ছে
- এই উল্লম্ফনের পেছনে রয়েছে উৎপাদন-সংযুক্ত প্রণোদনা প্রকল্প এবং ইলেকট্রনিকস যন্ত্রাংশ উৎপাদন প্রকল্প। দেশীয় মূল্য সংযোজন ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য এসব প্রকল্পের
- ২০২৫ সালের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রে শীর্ষ স্মার্টফোন রপ্তানিকারক হিসেবে ভারত চীনকে ছাড়িয়ে যায়। আগে চীনা উৎপাদকদের কাছ থেকে আসা মার্কিন চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ পূরণ করছে ভারত
- রপ্তানি বাড়লেও ২০২৬ অর্থবছরে ভারত ১১৬ বিলিয়ন ডলারের ইলেকট্রনিকস আমদানি করেছে, যেখানে রপ্তানি ছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলার। যন্ত্রাংশের প্রায় ৭৫ শতাংশ এখনো চীন থেকে আসে
- বাণিজ্যযুদ্ধের চাপ ও চীনা পণ্যের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের চাহিদা কমে যাওয়ায় চীনা সরবরাহকারীরা ভারতীয় নির্মাতাদের ৫ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় দিচ্ছেন






